সারাদেশ

রাঙামাটিতে ২২৫ হেক্টর আবাদি জমিতে বিষাক্ত তামাক চাষ

এম.কামাল উদ্দিন, রাঙামাটি : রাঙামাটিতে দিন দিন বাড়ছে ক্ষতিকারক তামাক চাষ। আর এসব ক্ষতিকারক তামাক চাষ করা হচ্ছে প্রশাসনের নাকের ডগায়। দেশি-বিদেশি সিগারেট কোম্পানিগুলো বেশি মুনাফার লোভ দেখিয়ে তামাক চাষে আগ্রহী করছে তুলেছেন এখানকার চাষিদের। তামাক চাষের জন্য মোটা অংকের অগ্রিম টাকা দেওয়ায় তামাক চাষের দিকে ঝুঁকছেন চাষিরা।

জেলার প্রত্যন্ত উপজেলা বাঘাইছড়ি, বরকল, লংগদু ও জুরাছড়িসহ বিভিন্ন উপজেলাগুলোতে ব্যাপক হারে তামাক চাষ বাড়ছে। তামাক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর জেনেও এ চাষ করছেন চাষিরা।

রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটিতে প্রায় ২২৫ হেক্টর আবাদি জমিতে বিষাক্ত তামাক চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে জেলার বৃহত্তর উপজেলা বাঘাইছড়িতে ৭৫ হেক্টর, বরকলে ৫০ হেক্টর, লংগদুতে ৫০ হেক্টর এবং জুরাছড়িতে ৫০ হেক্টর আবাদি জমিতে তামাক চাষ করা হয়েছে। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলার দুর্গম এলাকায় কিছু সংখ্যক তামাক চাষ করা হয়েছে। এসব উপজেলাগুলোতে সিগারেট কোম্পানি আবুল খায়ের ট্যোবাকো, ঢাকা ট্যোবাকো এবং ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো কোম্পানি লিমিটেট অতিরিক্ত মুনাফার লোভ দেখিয়ে চাষিদের দিয়ে এ চাষ করানো হচ্ছে।

বরকল উপজেলার তামাক চাষি মিলন জানান, জমিতে খাদ্যশস্য রোপণ করে খুব বেশি লাভবান হতে পারেন না। প্রত্যন্ত অঞ্চল হওয়ায় যোগাযোগের কারণে বেশিভাগ খাদ্যশস্য বেচা-বিক্রি হয় না। ফলে লোকসান গুনতে হয় আমাদেরকে। সব কিছু মিলিয়ে আমরা মনে করি তামাক চাষ লাভজনক।

বাঘাইছড়ি উপজেলার আব্দুল খালেক তামাক চাষি জানান, প্রতি এক একর জমিতে তামাক চাষে বীজ, সার, কীটনাশক ও পরিচর্যাসহ মোট ব্যয় হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা সহজ শর্তে ব্যয় করেন সিগারেট কোম্পানিগুলো। এ কারণে চাষিরা তামাক চাষের দিকে ঝুঁকছেন। এতে লাভ হচ্ছে দ্বিগুন তাই আবাদি জমিগুলোতে সবাই তামাক চাষ করছে।

তিনি আরও জানান, তামাক বিক্রি করতে আমাদের কোন হাট-বাজারে যেতে হয় না। সিগারেট কোম্পানিগুলো এসে আমাদের কাছ থেকে তাদের নিজ খরচে তামাক ক্রয় করে নিয়ে যান। ফলে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে তাদের ৫০ ভাগের ও বেশি লাভ থাকে বলে তিনি জানান।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর জেনেও উপজেলাগুলোতে তামাক চাষের দিকে ঝুঁকছেন। এতে তারা নিজেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অপরদেরও ক্ষতি করছে। এছাড়াও ফসলী জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। ফলে রাঙামাটিতে পরিবেশ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। মাঠ পর্যায়ে কৃষি-কর্মকর্তাদের প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ না থাকায় তামাক চাষ ব্যাপক হারে বেড়েছে।

এ বিষয়ে রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণের উপ-পরিচালক কৃষ্ণ প্রসাদ মল্লিক মুঠোফোনে জানান, তামাক চাষ ক্ষতিকর কম-বেশি সবাই জানে। তবুও চাষিরা বিভিন্ন সিগারেট কোম্পানির সহযোগিতার কারণে তামাক চাষ করে যাচ্ছে। তবে আগের তুলনায় ইতিমধ্যে তামাক চাষ কিছুটা কমে আসছে। গত বছর এ জেলাতে তামাক চাষ হয়েছিল ৩০০ হেক্টর জমিতে এবার ২২৫ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে। কারণ, তামাকের বিকল্প ফসল হিসেবে কিছু ফসল বাছাই করা হয়েছে। বিশেষ করে, লংগদুতে তরমুজ চাষ, বাঘাইছড়িতে বাদাম চাষ এবং জুরাছড়িতে শাক-সবজির পাশাপাশি বাদাম চাষও করা হচ্ছে। আমরা বিকল্প ফসল হিসেবে চাষিদের এসব চাষ করতে আগ্রহী করছি এবং তারাও আস্তে আস্তে এসব ফসলের দিকে ঝুঁকছে চাষিরা। এভাবে যদি চাষিদের তামাকের বিকল্প ফসলের চাষে আগ্রহী করা যায়, তাহলে রাঙামাটিতে যে তামাকের আগ্রাসন তা অনেকাংশে কমে আসবে।

এলাকাবাসীরা বলছেন, তামাক চাষের কারণে এলাকায় সকল ধরনের তরিতরকারি ও মৌসমী সবজির উপর প্রভাব পড়েছে। রাঙামাটিতে আগে সবজি একদম সস্তা ছিল। আর এখন সবজি বাজার আগুন। বেড়েছে সকল প্রকাল প্রকার সবজির দাম। এর একমাত্র কারণ হলো তামাক চাষ। এ ব্যাপারে সরকারিভাবে কঠিন উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি।

এ ব্যাপারে জানতে বাঘাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি ও লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফোন করা হলে তারা কেউ ফোন রিসিভ করেনি। তাই তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সান নিউজ/কেটি

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

নারীর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, গ্রেপ্তার ৩

মুন্সীগঞ্জে এক নারীর অজ্ঞাতে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ ক...

রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার না হলে নতুন শাসকও শেখ হাসিনা হয়ে উঠবেন: নাহিদ

রাষ্ট্রকাঠামোর মৌলিক সংস্কার না হলে ক্ষমতায় যিনিই...

চাইলেই রাখতে পারতেন টাকা, সততার পথ বেছে নিলেন অটোচালক

অটোরিকশায় যাত্রীর ফেলে যাওয়া টাকাসহ ব্যাগ পেয়ে তা...

মেহজাবীনের সঙ্গে তুলনা প্রসঙ্গে যা বললেন তটিনী

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনী অল্প সময়ের ক্যারিয়ারেই দর্শক...

মুন্সীগঞ্জে পাঁচ শতাধিক মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিক...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা