সারাদেশ

নদীভাঙন রোধ ও রাস্তা মেরামতের দাবিতে আল্টিমেটাম

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারের জুড়ীতে জুড়ী-ফুলতলা-বটুলী স্থলবন্দর রাস্তা মেরামত ও পূর্ব বটুলী গ্রামের রাস্তা নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছে পূর্ব বটুলী এলাকাবাসী। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় অনুষ্টিত মানববন্ধনে বক্তারা ১৫দিনের মধ্যে রাস্তা মেরামতের কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে স্থলবন্দর রাস্তা বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বটুলী আনোয়ারুল উলুম ইবতেদায়ী মাদ্রাসার সভাপতি আব্দুুস ছামাদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন-স্থানীয় ইউপি সদস্য মঈন উদ্দিন, এম এ মতিন মতি, আমির হোসেন, আবু হানিফ, ইয়াকুব আলী, আসুক মিয়া, মকবুল মিয়া, মদরিছ আলী, বদরুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, বটুলী চেক পোস্টের নিকট থেকে পূর্ব বটুলী গ্রামের রাস্তাটি দীর্ঘদিন থেকে নদী ভাঙ্গন কবলিত। রাঘনা ছড়া নদীটি পশ্চিম দিকে ভেঙ্গে ভেঙ্গে বাংলাদেশের বেশ কিছু অভ্যন্তরে ঢুকে বিশাল বাঁক নেয়ায় ছড়ার পূর্ব দিকের মূল অংশ ভরাট হয়ে ভারতীয় ভূখন্ডের সাথে মিশে যাচ্ছে।
অপরদিকে নতুন বাঁক নেয়া অংশের ভাঙ্গনে পূর্ব বটুলী গ্রামের একমাত্র রাস্তায় ইবতেদায়ী মাদ্রাসার সামনের অংশ ৩/৪শত ফুট নদীতে বিলীন হয়ে মাদ্রাসার সীমানা দেয়ালে লেগে গেছে। যে কোন সময় এ দেয়াল ও রাস্তার অপর অংশে ভাঙ্গন দেখা দিতে পারে। রাস্তার এ অংশটি ভেঙ্গে পায়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় স্থানীয়রা মাদ্রাসার এক পাশের সীমানা দেয়ালের কিছু অংশ ভেঙ্গে মাদ্রাসা আঙ্গিনার ভিতর দিয়ে চলাচল করছেন।

বিকল্প কোন রাস্তা না থাকায় এ এলাকার প্রায় ২শত পরিবারের প্রায় ৬শত মানুষ অমানুষিক দুর্ভোগে পড়েছেন। পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র টহল কাজে বিঘœ ঘটছে। নদী ভাঙ্গন রোধে ২০১৬ সালে ফুলতলা ইউপি চেয়ারম্যান ফয়াজ আলী বল্লী গেড়ে ও স্থানীয়রা গড় দিয়ে ভাঙ্গন প্রতিহতের চেষ্টা করেন। কিছু দিন পর সেগুলো নদীতে দেবে যায়। ২০১৯ ও ২০২০ সালে ফুলতলা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুক আহমদ দুই কিস্তিতে ভাঙ্গন রোধে পাকা দেয়াল তৈরি করেন। কিছু দিন পর সেটিও নদী ভাঙ্গনে ধসে যায়। অতিদ্রæত এ ছড়াটি মুল পথে ফিরিয়ে না নিলে পুরো গ্রামটি নদীতে বিলীন হয়ে ভারতের অংশে মিশে যাবার আশঙ্কা রয়েছে।

অপরদিকে ফুলতলা-বটুলী ৬ কিলোমিটার রাস্তা মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। দ্বিগুণ ভাড়া দিলেও কোন যানবাহন, অ্যাম্বুল্যান্স খুব সহজে এ এলাকায় যেতে চায়না। ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে জুড়ী-ফুলতলা-বটুলী স্থলবন্দর রাস্তা মেরামত কাজের মেয়াদ এক বছর আগে শেষ হয়ে গেলেও ঠিকাদার এখনও ফুলতলা-বটুলী ৬ কিলোমিটার অংশে কাজ শুরু করেননি। রাস্তার এক পাশে কিছু ড্রেন করে ফেলে রেখেছেন। যে কারণে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁচেছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙ্গে যাচ্ছে, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। এখন লাফ দেয়া ছাড়া আর কিছু করার নেই। তাই আগামী ১৫ দিনের আল্টিমেটাম দিলাম। এ সময়ের মধ্যে নদী ভাঙ্গন রোধ ও রাস্তা মেরামতের দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বটুলী স্থলবন্দর রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হবে। আমাদের বুকের ওপর দিয়ে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করছে, অথচ আমাদের জীবন নিয়ে পুতুল খেলা হচ্ছে। রাস্তার কারণে কোন এলাকার মানুষ আত্মসম্মান বোধ ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষা করে চলতে না পারলে এটা কোন সভ্য সমাজ মেনে নিবে না।

সান নিউজ/এসকেডি/এনকে

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

বোয়ালমারীতে  মহিলা কলেজের গভার্নিং বডির সভাপতি হলেন ইউএনও 

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের পুনর্গঠিত অ্যাডহক...

মোংলায় গাঁজাসহ ব্যবসায়ী আটক, ১ বছরের জেল ও অর্থদন্ড 

মোংলায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৭শ ৮০ গ্রাম গাঁজাসহ ওমর ফারুক খাঁন (৩৫) নামে এক যু...

কিশোরগঞ্জের আমিনুল হক সাদীর অনুপ্রেরণার সাফল্যগাথা

কিশোরগঞ্জের একজন সাধারণ বেকার তরুণ থেকে জাতীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক হিসে...

মাদকের তথ্য দেওয়ায় তরুণীকে গণধর্ষণের হুমকি, থানায় অভিযোগ

ঢাকার আশুলিয়ায় মাদকের কারবার ও অস্ত্রের তথ্য পুলিশকে জানানোর জেরে এক তরুণীকে...

সম্মানি ভাতা বাড়ালো বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের

বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদে...

টানা পাঁচ মেডেনে পাঁচ উইকেট, গ্রিভসের বিশ্বরেকর্ড

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অবিশ্বাস্য বোলিং নৈপুণ্যে ইতিহাস গড়ে...

২৯ দিন পর ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত কুকুর উদ্ধার

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের ২৯ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা...

আসামের বন্যায় মৃত বেড়ে ৬৮

আসামে বন্যায় এ অব্ধি রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে পৌঁছেছে...

ইরান শান্তি সংলাপে আগ্রহী, দাবি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ফের যুক্তরাষ্ট্র...

অতিরিক্ত চিন্তা থেকেই কি বুকে ব্যথা?

বয়স একটু বাড়তে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মাথায় এসে জড় হতে থাকে রাজ্যের সব...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা