আসামে বন্যায় এ অব্ধি রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে পৌঁছেছে ৬৮ জনে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
এ বন্যায় উপদ্রুত জেলার সংখ্যাও ১৬টি থেকে নেমে এসেছে ৬টিতে। গতকাল আসাম রাজ্য সরকারের দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএসডিএমএ) থেকে দেওয়া সর্বশেষ বুলেটিনের মাধ্যমে এসব তথ্য জানা যায় ।
বন্যার কবলে বর্তমানে যে ৬টি জেলা রয়েছে, সেগুলো হলো—শিবাসগড়, গোলাঘাট, চারাইদেও, জোরহাট এবং কামরূপ (মেট্রোপলিটন)। বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, এই ৬ জেলায় ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৪৯৫ জন বর্তমানে পানিবন্দি আছেন কিংবা কোনো না কোনোভাবে বন্যা দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এই ছয় জেলার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে চারাইদেও। এএসডিএমএ’র বুলেটিন থেকে জানা গেছে, চারাইদেও জেলার বিভিন্ন তহসিলে (উপজেলা) বর্তমানে পানিবন্দি আছেন বা বন্যা দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১ লাখ ৮৮ হাজার ৪০৪ জন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা শিবাসগড়ে এই সংখ্যা ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৬১ জন এবং জোরহাটে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় আছেন ৭৪ হাজার ৪৫৮ জন।
বন্যায় উপদ্রুত মানুষের সংখ্যা অবশ্য গত ২ দিনে কমেছে। কারণ এর আগে এর আগে গত ২৬ জুলাই রোববার যে বুলেটিন প্রকাশ করেছিল এএসডিএমএ, সেখানে বন্যায় পানিবন্দি বা ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছিল ৫ লাখ ২৪ হাজার জন।
আসামের বন্যা উপদ্রুতদের আশ্রয় দিতে মোট ৯০টি আশ্রয়শিবির খুলেছিল রাজ্য সরকার।। সেই সঙ্গে খোলা হয়েছিল ৯৪টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র। আশ্রয়শিবির এবং ত্রাণবিতরণ কেন্দ্রগুলো খোলা আছে। ৯০টি আশ্রয়শিবিরে বর্তমানে আশ্রিত অবস্থায় আছেন ২৮ হাজার ৬৯৫ জন।
দুর্গম উপদ্রুত এলাকাগুলোতে লোকজনকে উদ্ধার অভিযানও অব্যাহত আছে। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন উদ্ধারকারী বাহিনী এনডিআরএফ, রাজ্য সরকারের উদ্ধারকারী বাহিনী এসডিআরএফ এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মীদের নেতৃত্বে চলছে এই তৎপরতা।
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের জেরে আসামের নদনদীগুলোর পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় চলতি জুলাইরে মাঝামাঝি থেকে বন্যা শুরু হয় আসামের ১৬টি জেলায়।
এসডিএমএ’র তথ্য অনুযায়ী, বন্যার গত প্রায় দু’সপ্তাহে ভেসে গেছে ২৬ হাজার ৬৭৯টি গবাদি পশু।এখনও আসামের মোট ৩৭ হাজার ১৩৯ দশমিক ৫২ হেক্টর কৃষিজমির ফসল বন্যার পানির নিচে আছে।
সান নিউজ/ হুমায়রা