মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে থানা থেকে অটোরিকশা ছাড়িয়ে নিতে পাঁচ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। দাবি করা টাকা না পেয়ে চোরাই মালামাল কেনাবেচার মামলায় বাবা ও ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা দাবি, মারধর, মুঠোফোন ও সিসিটিভির হার্ডডিস্ক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সফিউদ্দিন আহমেদ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মো. শাহজাহান শেখের মেয়ে সায়মা আক্তার।
লিখিত বক্তব্যে সায়মা জানান, গত ১৯ অক্টোবর বালিগাঁও বাজারের ভ্যানচালক শাহীন দুটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তাঁর বাবার কাছে বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরে ৩০ হাজার টাকায় অটোরিকশা দুটি কেনার সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে ২৫ হাজার টাকা ১৯ অক্টোবর এবং বাকি পাঁচ হাজার টাকা ২২ অক্টোবর পরিশোধ করেন তাঁর বাবা।
সায়মার অভিযোগ, ২২ অক্টোবর কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাঁদের গ্যারেজে গিয়ে দুটি অটোরিকশা নিয়ে যান। এ সময় তাঁর ভাইকে মারধর করা হয় এবং গ্যারেজের সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে হার্ডডিস্ক নিয়ে যান পুলিশ সদস্যরা।
পরে অটোরিকশা ছাড়িয়ে নিতে তাঁর বাবা মো. শাহজাহান শেখ ও ভাই মো. শামীম শেখ থানায় গেলে উপপরিদর্শক ওসমান আলীসহ আরও দুজন পুলিশ সদস্য পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন সায়মা। একপর্যায়ে তাঁর বাবা ৫০ হাজার টাকা দিতে রাজি হন। এ সময় তাঁর ভাই গোপনে পুলিশের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথোপকথন মুঠোফোনে ধারণ করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে পুলিশ সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁদের কাছ থেকে তিনটি মুঠোফোন নিয়ে যান বলে দাবি করেন তিনি।
পরিবারের অভিযোগ, ওই রাতেই বাবা-ছেলেকে থানায় আটকে রাখা হয়। পরে তাঁদের চোরাই বাইসাইকেল কেনাবেচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এর আগে ২৩ অক্টোবর টঙ্গীবাড়ি থানা-পুলিশ জানায়, চোরাই বাইসাইকেল ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে শাহজাহান শেখ ও তাঁর বড় ছেলে শামীম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের গ্যারেজ থেকে ৪২টি বাইসাইকেল ও দুটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।
তবে সায়মার দাবি, উদ্ধার করা সাইকেলগুলো তাঁর বাবা বিভিন্ন সময়ে কিনে মেরামতের জন্য রেখেছিলেন। এগুলো তাঁর বাবার বৈধ ব্যবসার অংশ। মামলায় তাঁর ভাইকে বাবার ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত দেখিয়ে জড়ানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সায়মা তাঁর বাবা ও ভাইয়ের কাছ থেকে নেওয়া তিনটি মুঠোফোন, সিসিটিভির হার্ডডিস্ক এবং জব্দ করা সাইকেল ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান।
টাকা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বালিগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. কামাল হোসেন খান।
অভিযোগের বিষয়ে এসআই ওসমান আলী বলেন, কে টাকা চেয়েছে, সে বিষয়ে তিনি জানেন না। তাঁকে অযথা জড়ানো হচ্ছে।
মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. কামরান হোসেন বলেন, মামলার বিষয়টি তদন্তাধীন। পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিষয়টিও আমলে নেওয়া হয়েছে। তদন্তে কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাননউিজ/বান্না