জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সকালটা শুরু হলো স্মৃতিচারণ আর শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে। আর বিকেলে অপেক্ষা করছে রাজপথ কাঁপানো শোভাযাত্রা। একই দিনে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা ও দলীয় কর্মসূচির দুই রূপ দেখছে রাজধানী। দুটোর কেন্দ্রেই আছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সমাধির পাশে স্তব্ধ কিছুক্ষণ
আজ শনিবার সকাল সাড়ে আটটার কাছাকাছি সময়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে জিয়া উদ্যানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি আসে এরপর। সঙ্গীদের থেকে আলাদা হয়ে খানিকক্ষণ একা, নিঃশব্দে সমাধির সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন তারেক রহমান। ওই সময় চারপাশে বিরাজ করছিল গভীর নীরবতা।
পরে নেতাদের সঙ্গে ফাতেহা পাঠে অংশ নেন তিনি। বিশেষ মোনাজাতে প্রয়াত দুই নেতার আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। শেষে সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এই কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সরকার ও দলের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন:
- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী
- অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
- সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন
- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান
- চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি
আরও কয়েকজন নেতাও তখন সেখানে হাজির ছিলেন।
জিয়া উদ্যানের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী রওনা দেন বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামের দিকে। সেখানে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ তিনি পৌঁছান।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব শাহরিয়ার পামির জানান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবং সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে এ আয়োজন সাজানো হয়েছে। অনুষ্ঠানের বিশেষ প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) তিন হাজার ক্যাডেট। তাদের সঙ্গে আছেন বাংলাদেশ স্কাউটসের পাঁচ শ সদস্য।
গ্যালারিতে ছিল নানা পর্যায়ের অতিথির সমাবেশ। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, মন্ত্রিসভার সদস্যরা, সংসদ সদস্যরা এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূতদের উপস্থিতিও অনুষ্ঠানকে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মাত্রা।
বিকেলে নয়াপল্টনে জনস্রোতের প্রস্তুতি
দিনের দ্বিতীয় বড় আকর্ষণ বিএনপির বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। বিকেল তিনটায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে এটি যাত্রা শুরু করার কথা। সবচেয়ে বড় চমক হলো, শোভাযাত্রায় পায়ে হেঁটে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।
দলীয় সূত্র ও মহাসচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, নয়াপল্টন থেকে শুরু করে শোভাযাত্রাটি রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে শেষ হবে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে। রুহুল কবির রিজভী জানান, পথের ক্রম হবে এমন:
1. নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে যাত্রা
2. কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে দিয়ে অতিক্রম
3. হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় পার হওয়া
4. বাংলামোটর হয়ে ফার্মগেট
5. সবশেষে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সমাপ্তি
প্রধানমন্ত্রী নিজে মিছিলে হাঁটবেন, এই খবরে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দলীয় সারিতে চাঙ্গাভাব দেখা যাচ্ছে। শোভাযাত্রাকে সফল করতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির পাশাপাশি দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন প্রস্তুতি সেরে রেখেছে।
সকালের নীরব শ্রদ্ধা থেকে বিকেলের উচ্ছ্বসিত জনসমাবেশ, এক দিনেই দুই ভিন্ন সুরে সেজেছে ৭ নভেম্বর। এখন সবার চোখ নয়াপল্টনের দিকে।
সান নিউজ / রাজীব