ছবি: সান নিউজ
সারাদেশ
স্হানীয় প্রশাসনের নীরব ভূমিকা: 

মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটে সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ

মুন্সীগঞ্জ  প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল সংলগ্ন ধলেশ্বরী নদীর পাড়ের সরকারি জায়গা দখল করে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশ্যে স্থাপনা নির্মাণ চললেও কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা নিয়ে ভয়ে মুখ খুলতে চাইছেন না স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। এতে সরকারি জায়গা দখল করে নদীর পাড়ে স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার হাটলক্ষীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনালের পশ্চিম পাশে ফাঁকা জায়গায় নদীর পাড় ঘেঁষে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে। এর আগে ২০২৪ সালে ওই এলাকায় থাকা অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দিয়েছিল বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি উন্মুক্ত থাকায় শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মব্যস্ততা শেষে সেখানে গিয়ে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ ও স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতেন। কিন্তু নতুন করে স্থাপনা নির্মাণ শুরু হওয়ায় সেই পরিবেশও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

কার স্বার্থে বা কার অনুমতিতে সরকারি জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ হচ্ছে—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ নির্মাণকাজের সঙ্গে বাল্কহেড জাহাজ মালিক সমিতির সংশ্লিষ্টতার কথা বললেও সমিতির পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়েছে।

বাল্কহেড মালিক সমিতির সহ-সভাপতি আ: জব্বার বলেন, এখানে আমাদের একটি ঘর ছিল। সরকার সেটি ভেঙে দেওয়ার পর আমরা অন্য জায়গায় অফিস ভাড়া নিয়েছি। আমিও শুনেছি এখানে দোকান নির্মাণ হচ্ছে। কারা দোকান নির্মাণ করছে, তা আমরা জানি না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, লঞ্চঘাটের নদীর পাড়ে আগেও স্থাপনা ছিল। সরকার সেগুলো ভেঙে দিয়েছে। এখন আবার এখানে নতুন করে স্থাপনা তৈরি হচ্ছে। এটি স্থাপনা হয়ে গেলে দেখাদেখি আরও অনেকে নতুন করে জায়গা দখল করে স্থাপনা করবে। কিন্তু কে কী বলবে, কারও সাহস নেই।

মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, যেখানে স্থাপনা হচ্ছে, সেখানে আমাদেরও কিছু জায়গা পড়েছে। তবে জায়গাটি মূলত বিআইডব্লিউটিএর। আমরা লোক পাঠিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, জায়গাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের। আমি তাদের বিষয়টি জানিয়েছি। তাদের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা চাইলে আমরা সহযোগিতা করব।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি জায়গায় একবার অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হলে, পরবর্তীতে অন্যরাও উৎসাহিত হয়ে নদীর পাড় দখলে নামতে পারে। এতে- একদিকে যেমন সরকারি সম্পত্তি বেদখল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে নদীর পাড়ের পরিবেশ ও সৌন্দর্যও নষ্ট হবে। ধলেশ্বরী নদীর পাড়ে অবৈধ দখল ঠেকাতে এবং সরকারি জায়গা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সান নিউজ/ জামান

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

নারীর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, গ্রেপ্তার ৩

মুন্সীগঞ্জে এক নারীর অজ্ঞাতে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ ক...

রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার না হলে নতুন শাসকও শেখ হাসিনা হয়ে উঠবেন: নাহিদ

রাষ্ট্রকাঠামোর মৌলিক সংস্কার না হলে ক্ষমতায় যিনিই...

চাইলেই রাখতে পারতেন টাকা, সততার পথ বেছে নিলেন অটোচালক

অটোরিকশায় যাত্রীর ফেলে যাওয়া টাকাসহ ব্যাগ পেয়ে তা...

মেহজাবীনের সঙ্গে তুলনা প্রসঙ্গে যা বললেন তটিনী

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনী অল্প সময়ের ক্যারিয়ারেই দর্শক...

নলকূপ বসানোর সময় মাটি থেকে গ্যাস বের হয়ে আগুন জ্বলে উঠলো

কক্সবাজারের উখিয়ায় নলকূপ (টিউবওয়েল) বসানোর জন্য মা...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা