ব্রাজিলের তারকাখচিত ফুটবল দলকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার দারুণ একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর্থিক হিসাব-নিকাশ আর খরচের বিশাল পাহাড়ের কাছে হার মেনেছে সেই স্বপ্ন। ফলে ভিনিসিউস জুনিয়র, রদ্রিগোরা ঢাকা হয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও এই ফিফা উইন্ডোয় তাদের আর পা রাখা হয়নি।
গতকাল ৩ অক্টোবর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারতের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলেছে ব্রাজিল । তারপর সরাসরি ঢাকায় আসার কথা ছিল কার্লো আনচেলত্তির দলের। কিন্তু ব্রাজিলের মতো বিশ্বখ্যাত ফুটবল ব্র্যান্ডকে মাঠে নামাতে যে বিশাল অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হয়, তা সামলানো বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিকভাবে বেশ কঠিন ছিল। মোটা অঙ্কের অ্যাপিয়ারেন্স ফি, চার্টার্ড ফ্লাইটের আকাশচুম্বী খরচ এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনার বাজেট জোগাড় করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বাফুফে শেষ পর্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দিতে পারেনি। ফলে ভারতের মাটি থেকেই নিজেদের এই দফার এশিয়া সফর শেষ করে ব্রাজিল।
অবশ্য বিশ্বজুড়ে ব্রাজিলের এই প্রীতি ম্যাচগুলো কেবল ৯০ মিনিটের কোনো সাধারণ খেলা নয়, এগুলো রীতিমতো একেকটি বিশাল বাণিজ্যিক উৎসব। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত খেলা ৪৭টি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের প্রায় ৯২ শতাংশই ঘরের বাইরে গিয়ে খেলেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। যেখানে ইউরোপের বড় দলগুলো উয়েফা নেশনস লিগ বা ইউরোর বাছাইপর্ব নিয়ে ব্যস্ত থাকে, সেখানে দক্ষিণ আমেরিকার পরাশক্তি ব্রাজিল দেশের বাইরে ম্যাচ খেলে কোটি কোটি টাকা আয়ের সুযোগ লুফে নেয়।
ভারত কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো এই ম্যাচগুলোকে কেবল খেলা হিসেবে দেখে না, বরং একে পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা করার বড় সুযোগ হিসেবে নেয়। যেমনটা দেখা গেছে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে, যেখানে সরকারের উদ্যোগে হওয়া এই ম্যাচগুলো স্থানীয় ব্যবসা, হোটেল এবং পর্যটন খাতে ব্যাপক জোয়ার এনেছিল। কলকাতার ম্যাচটির ক্ষেত্রেও বিশাল বাজেটের একটি বড় অংশ গেছে সিবিএফ-এর পকেটে এবং যাতায়াতে।
বাংলাদেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে আফসোস থাকতেই পারে যে, চোখের সামনে বিশ্বফুটবলের এমন রাজসিক স্কোয়াডকে খেলতে দেখার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেল। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলের এই নির্মম ও নিখাদ বাণিজ্যিক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে, বিশাল অঙ্কের ব্যয়ের কথা চিন্তা করে এই মুহূর্তে ‘না’ বলা ছাড়া বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সামনে বোধহয় আর কোনো বাস্তবসম্মত পথ খোলা ছিল না।
সান নিউজ/রাজীব