ইতালির স্কুলগুলোতে মুখ ঢাকা বোরকা ও নেকাব নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ডানপন্থী সরকারের এই পদক্ষেপে মুসলিম সমাজের একটি ক্ষুদ্র অংশকে অন্যায়ভাবে নিশানা করা হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
গত রোববার (স্থানীয় সময়) নিজের জাতীয়তাবাদী কনজারভেটিভ ‘ব্রাদার্স অব ইতালি’ (FdI) দলের একটি সমাবেশে বোরকা নিষিদ্ধের এই প্রস্তাবটি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। নারী স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ যেন ঐতিহ্য বা সংস্কৃতির দোহাই দিয়ে তরুণীদের মুখ ঢেকে রাখতে বাধ্য না করতে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ জন নারী পুরো মুখ ঢাকা পোশাক পরে থাকেন।
তবে মিলানের আল-ওয়াহিদ মসজিদের ইমাম ইয়াহিয়া পাল্লাভিনি মনে করেন, এটি একটি ‘কৃত্রিম সমস্যা’। খুব অল্প সংখ্যক মানুষের ব্যবহৃত একটি পোশাককে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মনে ইসলামের একটি ভুল ও বিকৃত ধারণা তৈরি করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, মিলানের ৫০০০-এর বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করা মুল্লাইকা লওরা এনরিেলো এই প্রস্তাবকে ‘অমানবিক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, কর্মজীবনে তিনি কখনো কোনো শিক্ষার্থীকে মুখ ঢাকা পোশাকে স্কুলে আসতে দেখেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৭ সালের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখেই এই রাজনৈতিক চাল চেলেছেন মেলোনি। দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষক লোরেনসো কাস্তেল্লানি জানান, অভিবাসন ও নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোকে কাজে লাগিয়ে নিজের দক্ষিণপন্থী ভোটারদের কাছে টানতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে ডানপন্থী রাজনীতিক রবার্তো ভান্নাকির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার মুখে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতেই মেলোনির এই উদ্যোগ।
আইনি দিক থেকে এই ডিক্রির কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, পার্লামেন্টে এর যৌক্তিকতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা নিয়ে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।
সান নিউজ/রাজীব