মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার পশ্চিম দেওভোগ থেকে পূর্ব দেওভোগের জেলা পরিষদ সংলগ্ন প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ সরকারি খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে। একসময়ের প্রশস্ত ও সচল এই খাল বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে সংকুচিত হয়ে পড়ায় স্বাভাবিক পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পশ্চিম দেওভোগ, পূর্ব দেওভোগ, জেলা পরিষদ এলাকা, শাহী মসজিদ সংলগ্ন সড়কসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় ১০ হাজারে বাসিন্দা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৩০ ফুট প্রশস্ত খালের বিভিন্ন অংশ বছরের পর বছর ধরে প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। কোথাও খাল ভরাট করে ভবন, দোকান ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে, আবার কোথাও খালের সীমানা সংকুচিত করে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হওয়ায় সড়ক, বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ছে।
বাসিন্দাদের ভাষ্য, এই খালটি শুধু একটি জলাধার নয়, বরং শহরের গুরুত্বপূর্ণ পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অংশ। খালটির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় জলাবদ্ধতার পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ, মশার উপদ্রব এবং ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় সড়কেরও দ্রুত ক্ষয় হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
পশ্চিম দেওভোগ এলাকার বাসিন্দা এম. তাহসিন রায়হান বলেন, মুন্সীগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র জেলা পরিষদ এলাকা থেকে দেওভোগ শাহী মসজিদ পর্যন্ত বিস্তৃত এই খালটি একসময় শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপ্রবাহের পথ ছিল। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে খালের বিভিন্ন অংশ অবৈধভাবে দখল করে ভরাট করা হয়েছে। অনেক বাড়ির মালিক কোনো অনুমতি ছাড়াই খালের অংশ দখল করেছেন। এতে খালের স্বাভাবিক প্রস্থ কমে গেছে এবং পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
পূর্ব দেওভোগ এলাকার বাসিন্দা শরফুউদ্দিন আহমেদ সুমন বলেন, পূর্ব ও পশ্চিম দেওভোগ এলাকার সরকারি খালটি সম্পূর্ণ খনন করা এখন সময়ের দাবি। অনেক জায়গায় দখল হওয়ায় পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত দখলমুক্ত করে পুনঃখনন করা হলে এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা অনেকটাই দূর হবে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, খাল রক্ষায় কার্যকর নজরদারির অভাব এবং দীর্ঘদিন ধরে দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়েছে। তারা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং খালের সম্পূর্ণ পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সরকারি খাল দখল করতে না পারে, সে জন্য স্থায়ী নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নগর পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে খাল ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ। এগুলো দখল ও ভরাটের কারণে শুধু জলাবদ্ধতাই নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলাও কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই অবিলম্বে খাল উদ্ধার করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা না হলে ভবিষ্যতে মুন্সীগঞ্জ শহরে জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার প্রধান পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। খুব শিগগিরই পৌরসভার টাউন প্ল্যানিং শাখা ও প্রকৌশল শাখার মাধ্যমে তদন্ত পরিচালনা করা হবে। তদন্তে সরকারি খাল দখলের সত্যতা পাওয়া গেলে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে- এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বর্ষা মৌসুমে জনদুর্ভোগ লাঘব এবং শহরের স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। তাদের মতে, সরকারি খাল দখলমুক্ত করে পুনঃখনন করা গেলে শুধু পশ্চিম ও পূর্ব দেওভোগ নয়, আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকাও দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে।
সান নিউজ/ জামান