রাজনীতি

বস্তিতে বারবার অগ্নিকাণ্ড, দুর্ঘটনা নাকি উদ্দেশ্যমূলক : ন্যাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর বিভিন্ন বস্তিতে কয়েকদিন পর পরই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এসব অগ্নিকাণ্ড নিছক দুর্ঘটনা, নাকি উদ্দেশ্যমূলক তা তদন্ত করে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)।

সোমবার (২১ ডিসেম্বর) সংগঠনটির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি করেন।

ন্যাপ নেতৃবৃন্দ বলেন, আগুন পিছু ছাড়ছে না অসহায় বস্তিবাসীর। গত ১ মাসে রাজধানীতে ছোট-বড় ৫/৬টি বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আর এই অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব হয়েছেন হাজারও মানুষ। সব হারিয়ে বস্তিবাসীরা যখন কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে তখন আবারো সব পুড়িয়ে ছারখার করে দেয় আগুন। ক্ষুধার আগুন নেভাতে গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে বস্তিতে বারবার সর্বগ্রাসী আগুনে পুড়ে নিঃস্ব হতে হচ্ছে তাদের। যার দায় কেউ নেয় না।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, কয়েকদিন পর পর বস্তিতে এসব অগ্নিকাণ্ড নিছক দুর্ঘটনা, নাকি উদ্দেশ্যমূলক তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। সাধারণত বস্তিগুলো সরকার বা ব্যক্তি মালিকানাধীন পরিত্যক্ত জমিতে গড়ে ওঠে। অনেক সময় ভূমি মালিক জমি খালি করার জন্য বস্তিতে আগুন লাগিয়ে দেন। এমন ঘটনা পূর্বেও ঘটেছে। তাই সরকারের উচিত তদন্ত করে অগ্নিকাণ্ডের রহস্য বের করা। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের সহায়তায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, অর্থাৎ সিটি করপোরেশনকে এগিয়ে আসতে হবে।

প্রভাবশালীরা বস্তি উচ্ছেদ করতে অনেক সময়ই কৌশল হিসেবে আগুন ধরিয়ে দেয়। অথচ দেশের জিডিপিতে তাদের ভূমিকাও কম নয়। যখন পুড়ছে না, তখনো বস্তির জীবন এক যুদ্ধ। বাংলাদেশিদের প্রাণশক্তির পরিচয় পেতে গুলশান-বনানীতে গিয়ে লাভ নেই, যেতে হবে বস্তিতে বস্তিতে। বড় বস্তি মানে বারবার আগুনে পোড়ার ইতিহাস এবং বারবার আগুনকে পরাজিত করে আবার জীবনের খুঁটি মাটিতে পোঁতার ইতিহাস।

সারা বছরই ঘুরেফিরে বিভিন্ন বস্তিতে আগুন লাগার খবর আসে। লাগাতার ও পালাক্রমে আগুন লাগার কিংবা লাগানোর রহস্যভেদ করার কোনো কর্তৃপক্ষ খুঁজে পাওয়া যায় না। যা রাষ্ট্রে ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

ন্যাপের বিবৃতিতে বলা হয়, সমাজের প্রভাশালী, ভূমিদস্যু আর লুটেরা শ্রেণিরাই সরকারি জায়গায় বস্তি বসিয়ে ভাড়া তুলে আরও ধনবান হন। বস্তির লোককে জিম্মি করে রাজনৈতিক প্রতাপ দেখান। মৌলিক অধিকারের মুখে ছাই মেখে সরকারি সংস্থার বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি তাদের কিনতে হয় বাজারমূল্যের চাইতে বেশি হারে। যেহেতু সেসব তাদের অবৈধ পথে পেতে হয়। বস্তিনির্ভর অর্থনীতির শেষ দৃশ্যে আসে আগুন। হানাদারদের পোড়ামাটি নীতি বাস্তবায়নের অবাধ ক্ষেত্রও এই বস্তি। আগুন দিয়ে মানুষগুলোকে তাড়িয়ে সেই পোড়া মাটিতে বহুতল ভবন নির্মাণের পাঁয়তারা চলে। আমরা কেবল আগুনটা দেখি, আগুন ধরার আগের ও পরের এই তেলেসমাতিটা সবার চোখে পড়ে না।

সান নিউজ/এম/এস

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

মুন্সীগঞ্জে পাঁচ শতাধিক মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিক...

নলকূপ বসানোর সময় মাটি থেকে গ্যাস বের হয়ে আগুন জ্বলে উঠলো

কক্সবাজারের উখিয়ায় নলকূপ (টিউবওয়েল) বসানোর জন্য মা...

মুন্সীগঞ্জে ৯০০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের আমঘাটা গ্রাম থে...

ক্ষমতা ধরে রাখার অগ্নিপরীক্ষায় নেতানিয়াহু, চোখ নেসেটের ১২০ আসনে

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেন...

রাশমিকাকে নিয়ে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বিতর্কে বিজয়ের ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও

কফি উইথ করণ’ অনুষ্ঠানে রাশমিকা মান্দানার সঙ্গে আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযো...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা