'জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদরা একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। বিশেষ কোনো শক্তি বা গোষ্ঠীর সংকীর্ণ এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য তারা জীবন দেননি বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকালে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির উদ্যোগে ‘শহীদ স্মরণ সমাবেশে’ তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের এই অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করতে যারা এটিকে ‘পেটেন্ট’ করার চেষ্টা করছেন, তারা এই অভ্যুত্থানের আত্মাকে ধারণ করতে পারেননি।
গত দুই বছরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য, চাকরিচ্যুতি এবং কর্মহীনতা আরও বেড়েছে। মানুষের জীবন-জীবিকা এখনো নিরাপদ হয়নি। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো চালু হলেও শ্রমিকদের জন্য এখনো জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়নি। বিদেশ-নির্ভর জ্বালানি নীতির কারণেই দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট ঘনীভূত হয়েছে। এসব অভিযোগ তুলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এছাড়াও সাইফুল হক ভারতের বাংলাদেশ নীতির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ভারতের বাংলাদেশ নীতির পরাজয় ঘটলেও সেখান থেকে দেশটির নীতিনির্ধারকেরা কোনো শিক্ষা গ্রহণ করেননি।
তিনি আরও বলেন মোদি সরকার একদিকে ভ্রাতৃত্বের বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশকে চাপে রাখতে ‘হাসিনা কার্ড’ ব্যবহার শুরু করেছে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি মাহমুদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী ও আকবর খান। প্রধান বক্তা ছিলেন রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আবু হাসান টিপু। এছাড়া বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাশিদা বেগম, সাইফুল ইসলাম, মুন্সিগঞ্জ জেলা কমিটির সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ শিমুল, মীর রেজাউল আলম, নৌপরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাস্টার আনিসুর রহমানসহ জেলা কমিটির নেতারা।
সমাবেশে বহ্নিশিখা জামালী বলেন, নির্বাচিত সরকার দেশের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস পার হলেও মানুষের জীবন, বিশেষ করে নারীদের জীবন এখনো নিরাপদ হয়নি। নারীর অধিকার ও মর্যাদাবিরোধী অপতৎপরতা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
আবু হাসান টিপু বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি শহীদ হলেও তারা এখনো সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত ও নির্যাতিত।
সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদ হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ত্যাগ স্বীকার করলেও গত দুই বছরে সেই আন্দোলনের সুফল মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ আত্মসাৎ করেছে।
তিনি বলেন, জনগণের অধিকার, ইনসাফ ও মুক্তি নিশ্চিত করতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি তার আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে।
সমাবেশের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারায়ণগঞ্জে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির দুই শহীদ বদিউজ্জামাল ও আবদুল লতিফসহ গণঅভ্যুত্থানে নিহত সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা।
সান নিউজ/ জামান