📰 এক নজরে : ৫০ বছর ধরে পানি ছুঁয়েও দেখেননি ওয়ারেন বাফেট!
অবিশ্বাস্য তথ্য: গত ৫০ বছর ধরে এক ফোঁটাও পানি পান করেননি ৯৬ বছর বয়সী এই ধনকুবের।
দৈনিক রুটিন: প্রতিদিন অন্তত ৫ ক্যান (১২ আউন্স করে) চেরি কোক পান করা তার নিত্যদিনের অভ্যাস।
ডিনারের মজার ঘটনা: হেজ ফান্ড ম্যানেজার বিল অ্যাকম্যানের বাসায় ডিনারে গিয়ে পানি বা স্পার্কলিং ওয়াটারের প্রস্তাব বিনয়ের সঙ্গে ফিরিয়ে দিয়ে বাফেট জানান, তিনি দীর্ঘকাল ধরে পানি খান না।
নিজের উক্তি: ২০১৫ সালে তিনি রসিকতা করে বলেছিলেন, তার শরীরের এক-চতুর্থাংশ জুড়েই রয়েছে কোকা-কোলা!
বিশ্বজুড়ে সুস্বাস্থ্য, ডায়েট এবং প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি পানের হাজারো পরামর্শ চিকিৎসকরা দিয়ে থাকেন। কিন্তু সেই প্রচলিত সব ধারণাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ও বিনিয়োগ গুরু ওয়ারেন বাফেট। ৯৬ বছর বয়সে এসেও এই প্রবীণ ধনকুবেরের জীবনযাপন রীতিমতো অবাক করার মতো।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এক অবিশ্বাস্য তথ্য ফাঁস হয়েছে—গত প্রায় অর্ধশুগা বা ৫০ বছর ধরে নাকি এক ফোঁটাও পানি পান করেননি তিনি! পানির বদলে তার নিত্যদিনের একমাত্র ভরসা সোডা বা কোকা-কোলা।
কোকের প্রেমে মজে থাকা এক জীবন : বিনিয়োগের দুনিয়ায় কিংবদন্তি হলেও খাদ্যাভ্যাসের দিক দিয়ে ওয়ারেন বাফেট বেশ বোহেমিয়ান। ফাস্ট ফুড, রিফাইন্ড সুগার এবং নানা পদের মিষ্টির প্রতি তার আজন্ম দুর্বলতা রয়েছে। জানা গেছে, জীবনের দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে তিনি নিয়মিত পেপসি পানের অভ্যাস বজায় রেখেছিলেন।
তবে দীর্ঘ সেই যুগ পেরিয়ে ১৯৮৬ সালে এসে তিনি পেপসি ছেড়ে পুরোপুরি ঝুঁকে পড়েন ‘চেরি কোক’-এর প্রতি। এমনকি তার মালিকানাধীন বিখ্যাত বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ‘বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে’-এর প্রাতিষ্ঠানিক ও অফিশিয়াল পানীয় হিসেবেও এই বিশেষ ড্রিংকটিকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন তিনি।
বিল অ্যাকম্যানের ডিনারে ঘটে যাওয়া মজার ঘটনা : সম্প্রতি হেজ ফান্ড খাতের অন্যতম বিখ্যাত বিলিয়নেয়ার বিল অ্যাকম্যান ‘ইকুইটি মেটস ইনভেস্টিং’ নামের একটি জনপ্রিয় পডকাস্টে বাফেটকে নিয়ে এক দারুণ ও কৌতূহলোদ্দীপক স্মৃতিচারণ করেন।
কিছুদিন আগের কথা, তিনি নিজ বাসভবনে ওয়ারেন বাফেটকে একান্তে রাতের খাবারের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। অতিথির খাদ্যাভ্যাস ও পছন্দের কথা আগে থেকেই মাথায় রেখে অ্যাকম্যান তার বাড়িতে পর্যাপ্ত চেরি কোক স্টক করে রেখেছিলেন।
ডিনারের একপর্যায়ে বাফেটকে সাধারণ ফিল্টার করা পানি কিংবা স্পার্কলিং ওয়াটার অফার করেন স্বাগতিক অ্যাকম্যান। কিন্তু বিনয়ের সঙ্গে সেই প্রস্তাব সরাসরি ফিরিয়ে দেন বাফেট। বিষয়টি বেশ কৌতূহলোদ্দীপক ঠেকায় অ্যাকম্যান সরাসরি তাকে প্রশ্ন করেন, তিনি কি আদতে কোনো দিন পানি পান করেন না? এর উত্তরে বাফেট এক প্রকার চমকে দেওয়ার মতো কথা বলে জানান, "বিল, আমি বিগত ৪৮ মানে প্রায় ৫০ বছর ধরে মুখে পানি তুলিনি!"
শরীরের এক-চতুর্থাংশই কোকা-কোলা! : নিজের অদ্ভুত ও চমকপ্রদ এই ডায়েট চার্ট নিয়ে বাফেটের কোনো রাখঢাক নেই। এর আগে ২০১৫ সালে প্রভাবশালী ম্যাগাজিন ‘ফরচুন’-কে দেওয়া এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে তিনি রসিকতা করে বলেছিলেন, তার নিজের শরীরের প্রায় চার ভাগের এক ভাগ জুড়েই রয়েছে কোকা-কোলা!
সেসময় তিনি আরও খোলসা করে জানান, তার দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণের হিসাবের বড় একটা অংশ আসে এই সোডা থেকে। প্রতিদিন গড়ে তিনি প্রায় ২,৭০০ ক্যালরির খাবার খেয়ে থাকেন, যার প্রায় ২৫ শতাংশই আসে সরাসরি কোকা-কোলা থেকে। প্রতিদিন অন্তত ১২ আউন্সের অন্তত পাঁচ ক্যান কোক না হলে তার দিন চলে না।
চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং পুষ্টিবিদদের সমস্ত স্বাস্থ্যবিধিকে সম্পূর্ণ তুচ্ছ করে ৯৬ বছর বয়সেও এমন অবিশ্বাস্য ও অদ্ভুত জীবনযাত্রার মধ্য দিয়ে দিব্যি বেঁচে থাকা এবং কর্মক্ষম থাকার বিষয়টি বিশ্বজুড়ে রীতিমতো বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।
সান নিউজ / রাজীব