এক বছরের ব্যবধানে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে। গত বছর এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬২.৫৭ শতাংশ। তবে চলতি বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৪.৮৪ শতাংশে। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ৭২৪ জন। এ ছাড়া এবার বোর্ডের ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ রেজা আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।
এ সময় তিনি জানান, যথাযথ যাচাই-বাছাই, পর্যালোচনা ও মূল্যায়নের ভিত্তিতেই এবারের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধার প্রতিফলন ঘটেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ৩৫০টি কলেজ থেকে মোট ৫৭ হাজার ৯১২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে ছাত্র ২৬ হাজার ৭৫৫ জন এবং ছাত্রী ৩১ হাজার ১৫৭ জন।
এবার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন মোট ২৫ হাজার ৯৭০ জন। সে হিসাবে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৪.৮৪ শতাংশ। অন্যদিকে, জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ৯৫০ জন শিক্ষার্থী।
তবে গত বছরের ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করলে বরিশাল বোর্ডের চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২৫ সালে এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬২.৫৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ হাজার ৬৭৪ জন শিক্ষার্থী। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১৭.৭৩ শতাংশ পয়েন্ট। পাশাপাশি জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাও কমেছে ৭২৪ জন।
সার্বিকভাবে এবারের ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই সূচকেই পিছিয়ে পড়েছে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড। বিশেষ করে ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে না পারায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান ও ফলাফল নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সান নিউজ/ রাব্বি