আন্তর্জাতিক

অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব গণভোটে প্রত্যাখ্যান করেছেন সুইজারল্যান্ডের ভোটাররা   

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডানপন্থি সুইস পিপলস পার্টি (এসভিপি-ইউডিসি) সমর্থিত সুইজারল্যান্ডে জনসংখ্যা এক কোটির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব গণভোটে প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির ভোটাররা।

রোববার (১৫ই জুন) অনুষ্ঠিত গণভোটে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হয়।

গণভোটের আগে পরিচালিত বিভিন্ন জরিপে দেখা গিয়েছিল, প্রস্তাবটির বিরোধীরা সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি পাস হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

ইইউর সদস্য না হলেও সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে জোটটির ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ইইউ দেশটির সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। ইউডিসি প্রস্তাবিত উদ্যোগটির লক্ষ্য ছিল ২০৫০ সালের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের স্থায়ী জনসংখ্যা এক কোটির বেশি হতে না দেওয়া। বর্তমানে দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৯৫ লাখ।

সুইজারল্যান্ডে বিদেশি নাগরিকদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশেরও বেশি। ইউডিসির দাবি ছিল, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ না করলে অবকাঠামো, আবাসন এবং জনসেবার ওপর চাপ আরও বাড়বে।

গণভোটের আগে সুইস সরকার, পার্লামেন্ট, প্রধান রাজনৈতিক দল, শ্রমিক সংগঠন এবং ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো প্রস্তাবটির বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েছিল।

গ্রিন পার্টি ফলাফলকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, ইউডিসির ‘বিশৃঙ্খলাপূর্ণ উদ্যোগ’ স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।

গণভোটে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৫৯ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর গড় প্রায় ৪৯ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি।

জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক পাসকাল সিয়ারিনি বলেন, প্রচারণা অত্যন্ত তীব্র হওয়ায় ভোটার উপস্থিতি বেশি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তার মতে, এটি শুধু অভিবাসননীতি নয়, সুইজারল্যান্ডের ইউরোপনীতি নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোট ছিল।

প্রস্তাবটি পাস হলে এবং ২০৫০ সালের আগে জনসংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়ে গেলে সুইজারল্যান্ডকে দুই বছরের মধ্যে ইইউর সঙ্গে মানুষের অবাধ চলাচল সংক্রান্ত চুক্তি বাতিল করতে হতো। এছাড়া আশ্রয় ও নিরাপত্তা বিষয়ক আরও কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তিও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারত।

পার্লামেন্টে ইউডিসির দলনেতা টমাস অ্যাশি একই মত প্রকাশ করেছেন। তার ভাষায়, ৪৫ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট একটি খুব শক্তিশালী বার্তা, যা দেখায় যে সুইস জনগণের বড় একটি অংশ বর্তমান ধরণের অভিবাসন অব্যাহত থাকুক, তা চায় না।

সুইজারল্যান্ডে পুরুষদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার ব্যবস্থা রয়েছে। ২০০৯ সালে বিবেকগত কারণে সামরিক সেবা এড়িয়ে বেসামরিক সেবায় যোগদানের নিয়ম শিথিল করার পর থেকে এই বিকল্প বেছে নেওয়া মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সরকারের মতে, এই প্রবণতা এখন সামরিক বাহিনীর জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

ইউরোপজুড়ে সামরিক সক্ষমতা জোরদারের প্রেক্ষাপটে সুইস সরকার এই পদক্ষেপের পক্ষে ছিল। তবে বামপন্থি দলগুলো এর বিরোধিতা করে বলেছে, এতে সামরিক সেবার বিকল্প হিসেবে বেসামরিক সেবার ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়তে পারে।

সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস

সান নিউজ/ জামান

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

৩ নভেম্বরের মহাসমাবেশ সফল করতে রংপুরে মাদ্রাসা শিক্ষকদের প্রস্তুতি সভা

সারাদেশের স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবিতে আগামী ৩ নভেম্বর ঢাক...

স্কুলের গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই স্কুলের ৪টি গাছ কেটে ফেলা...

অটিজম-ডাউন সিনড্রোম চিকিৎসায় সাড়া ফেলেছেন ডা. মুছা

একটি শিশু যখন কথা বলতে পারে না, নিজের পায়ে হাঁটতে...

মুন্সীগঞ্জে ৩ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জের পদ্মা সেতু উত্তর থানার খানবাড়ি বাসস্ট...

নারীর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, গ্রেপ্তার ৩

মুন্সীগঞ্জে এক নারীর অজ্ঞাতে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ ক...

নরসিংদীর বড় বাজারে প্রকাশ্যে বাজির রমরমা বেচাকেনা

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নরসিংদীর ঐতিহ্যবাহী বড় বাজারে প্রকাশ্যে চড়া দামে...

দানা বাঁধছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত

বঙ্গোপসাগর এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে ইতোমধ্...

ফিটনেসবিহীন বাস বন্ধ ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্রদলের স্মারকলিপি

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন...

সবজি আনতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নারীর মৃত্যু, মেয়ে আহত

নোয়াখালীর সেনবাগে বাড়ির পাশের খেত থেকে সবজি আনতে গ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা