পঞ্চগড় পৌরসভায় খোলাবাজারে খাদ্যশস্য বিক্রি (ওএমএস) চাল ও আটা বিতরণকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা ও ডিলারকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত চাল-আটা দিতে রাজি না হওয়ায় এক ডিলার ও তাঁর পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওএমএস কার্যক্রমের আওতায় নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকার ভর্তুকিমূল্যে চাল ও আটা সরবরাহ করে। এর অংশ হিসেবে প্রতিদিন ৫৫৫ কেজি চাল ও ৫৫০ কেজি আটা বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা ১১১ জন নির্দিষ্ট সুবিধাভোগীর মধ্যে বিতরণের নিয়ম রয়েছে।
পঞ্চগড় পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ওএমএস ডিলার মো. একরামুল হক মুন্না জানান, লটারির মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় তিনি ডিলার নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর দাবি, মজুত থাকা পর্যন্ত নিয়ম অনুযায়ী সাধারণ মানুষের মধ্যে খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয় এবং কাউকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, গত ১৭ অক্টোবর সকাল ৯টায় ডিলার তদারকি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বিক্রয় কার্যক্রম শুরু হয়। লোকসমাগম বেশি থাকায় এবং বরাদ্দ অনুযায়ী প্রত্যেককে ৪ কেজি চাল ও ৪ কেজি আটা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু স্থানীয় কিছু ব্যক্তি চাহিদার চেয়ে বেশি চাল-আটা দাবি করেন। অতিরিক্ত চাল দিতে রাজি না হওয়ায় তারা বিক্রয় কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে বিক্রয়কেন্দ্রের ২৫ হাজার ২২৪ টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি ও তাঁর পরিবার চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় কয়েকজন প্রকৃত সুবিধাভোগী জানান, তাঁরা নিয়মিত ওএমএস থেকে চাল-আটা পেয়ে আসছেন এবং কখনোই খালি হাতে ফেরেননি। তবে নিম্ন আয়ের মানুষের সংখ্যা বিবেচনায় সরকারের কাছে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, বিক্রয়ের একপর্যায়ে ইসলামপুর গ্রামের মো. আশরাফুল ইসলামকে ৪ কেজি চাল ও ৪ কেজি আটা দেওয়া হলে তিনি ৫ কেজি করে দাবি করেন। নিয়ম মেনে তা দেওয়া সম্ভব নয় জানালে তিনি তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম রাসেলকে জানানো হলে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা ঘটনাস্থলে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং নিজেদের পছন্দমতো ভিডিও ধারণ করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। পরবর্তীতে এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা জাকারিয়া আহমেদ জানান, তিনি একটি অভিযোগ পেয়েছেন এবং বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অনিয়ম বা অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং তদন্তে কোন প্রকার অভিযোগ প্রমাণিত না হলে ডিলার ব্যবস্থা চলমান।
ওএমএস কার্যক্রমে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে নির্ধারিত বরাদ্দের খাদ্যশস্য সঠিকভাবে পৌঁছানো এবং বিতরণ কার্যক্রমে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন সচেতন মহল।
সাননউিজ/বান্না