ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ইকামাতেদ্বীন মডেল কামিল মাদ্রাসার ১৯ জন প্যাটার্ন বহির্ভূত শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিধিবহির্ভূতভাবে প্রায় দেড় কোটি টাকা অতিরিক্ত উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উত্তোলিত ১ কোটি ৪৪ লাখ ৪৮ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।
সোমবার (৩ আগস্ট) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন বেসরকারি মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও পুনর্বিবেচনা, গ্রেড পরিবর্তন, বাতিল ও স্থগিত সংক্রান্ত কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়। পরে গত ১৬ জুলাই অনুষ্ঠিত এমপিও বাছাই ও অনুমোদন কমিটির সভায় ইকামাতেদ্বীন মডেল কামিল মাদ্রাসার ১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় ফাজিল ও কামিল স্তরের ওই শিক্ষক-কর্মচারীদের ইনডেক্স কর্তনের পাশাপাশি তাদের নামে অতিরিক্ত উত্তোলিত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পৃথক চিঠিতে সংশ্লিষ্টদের এক মাসের মধ্যে নির্ধারিত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে ট্রেজারি চালানের মূল কপি বা সত্যায়িত অনুলিপি অধিদপ্তরে জমা দিতে বলা হয়েছে।
অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারীর কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ ফেরত নেওয়া হবে। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৪১ টাকা ফেরত দিতে হবে প্রভাষক (ইসলামের ইতিহাস) মো. ফারুক হোসেনকে। এছাড়া প্রভাষক (বাংলা) মো. কুদরাতুর রহমান ও প্রভাষক (ইংরেজি) ফকরুল ইসলামকে ১৮ লাখ ১ হাজার ১০২ টাকা করে ফেরত দিতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত উত্তোলিত অর্থ জমা না দিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি (পিডিআর) আইনের বিধান অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মামলা দায়ের করা হবে।
এ সিদ্ধান্তের অনুলিপি কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, মাদ্রাসার সভাপতি ও অধ্যক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সান নিউজ/ হুমায়রা