সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সাবেক মহাব্যবস্থাপক রেজাউল করিম রবু আর নেই।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় তিনি মারা যান। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জানাজা শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
রাজশাহীর এক সংস্কৃতিমনা পরিবারে জন্ম নেওয়া রেজাউল করিমের কর্মজীবনজুড়ে দেশের টেলিভিশন, সংগীত ও সংস্কৃতি অঙ্গনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে অনুষ্ঠান নির্মাণের পাশাপাশি প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
তার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধ। সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগ থেকে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রে যোগ দেন। সেখানে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী মানুষের মনোবল বাড়াতে ভূমিকা রাখেন।
স্বাধীনতা সংগ্রামে তার অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিও রয়েছে। ২০১৬ সালের ১৬ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের ১০৮ জন শব্দসৈনিককে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ওই গেজেটে রাজশাহী জেলার তালিকায় ‘মো. রেজাউল করিম (রবু)’ নামে তার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বাংলাদেশের টেলিভিশন সম্প্রচার ও অনুষ্ঠান নির্মাণের ইতিহাসেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে রেজাউল করিমের। বিটিভিতে দীর্ঘ কর্মজীবনে অনুষ্ঠান প্রযোজনার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে বিটিভির মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে অবসরে যান।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বিটিভির বেশ কিছু দর্শকপ্রিয় ও কালজয়ী অনুষ্ঠানের নেপথ্যেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার।
বিটিভি থেকে অবসরের পর রেজাউল করিম রবু বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠান, সংস্কৃতিভিত্তিক আয়োজন ও উৎসবকেন্দ্রিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন নতুন ধারার অনুষ্ঠান নির্মাণে ভূমিকা রাখেন তিনি।
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের টেলিভিশন, সংগীত ও সংস্কৃতি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী ও সংস্কৃতিজনেরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
সান নিউজ/ রাব্বি