সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দুইবার ফোন করেছিলেন। ফোনে তিনি হুথিদের ওপর বিমান হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনুরোধ জানান। তবে সে সময় ট্রাম্প ওই অনুরোধে সাড়া দেননি।
তবে হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার পর এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম CNN। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে হুথিদের হামলার পর ওয়াশিংটন বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
CNN জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবকাশ কাটানোর স্থান ক্যাম্প ডেভিড থেকে হঠাৎ করে হোয়াইট হাউজে ফিরে আসেন। এর আগে তিনি অবকাশস্থলে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মার্কিন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।
CNN-এর জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক অ্যালেক্স প্লিটসাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানান, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র হুথিদের ওপর হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন দূতাবাস ও বিভিন্ন অবকাঠামোতে পাল্টা হামলার আশঙ্কা নিয়েও আলোচনা হয়। এর পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে সতর্কতা জারি করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। বৈঠক শেষে ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে ফিরে আসেন বলেও জানান তিনি।
এর আগে ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে অনাগ্রহী ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে বিপুল ব্যয়ের পর নতুন করে আরেকটি সামরিক সংঘাতে জড়ানো নিয়ে ওয়াশিংটনের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। পাশাপাশি নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে নতুন কোনো সামরিক সংঘাতের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও আলোচনা রয়েছে।
এদিকে গত সপ্তাহে হুথিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি আলোচনা হয়েছিল। ওই আলোচনায় হুথিরা লোহিত সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো জাহাজে হামলা না চালানোর বিষয়ে আশ্বস্ত করেছিল বলে জানা গেছে। হুথিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার পেছনে এটিও একটি কারণ ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সান নিউজ/ রাব্বি