মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার বৈখর অনির্বাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করা হলেও সংস্কার হয়নি বিদ্যালয়ের মাঠ ও প্রাঙ্গণ। মাঠ নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জমে থাকে পানি, সৃষ্টি হয় কাদা। এতে বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিশু শিক্ষার্থীর খেলাধুলা, প্যারেড ও স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়া মাঠের প্রবেশপথের সামনে থাকা পুরোনো জরাজীর্ণ ভবনটিও চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এ অবস্থায় মাঠে মাটি ভরাট, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং পুরোনো ভবনটি অপসারণের দাবি জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীরা।
সমস্যা সমাধানে গত ১৬ সেপ্টেম্বর মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত আবেদন করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। আবেদনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক কার্যক্রমের স্বার্থে সামনের পুরোনো জরাজীর্ণ টিনশেড ভবনটি অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী ও ছয়জন শিক্ষক রয়েছেন। বিদ্যালয়টির পড়াশোনার মান ভালো এবং বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা সফলতার সঙ্গে অংশগ্রহণ করে আসছে। ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তবে সামনের পুরোনো ভবনটি অপসারণ করা হলে সেখানে একটি সুন্দর মাঠ তৈরি করা সম্ভব হবে এবং নতুন ভবনে শ্রেণি কার্যক্রমও আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা যাবে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি মাঠ সংস্কার করা হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বাইরের কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে। কিন্তু মাঠে পর্যাপ্ত মাটি না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে থাকে। ফলে শিশুদের খেলাধুলা ও প্যারেডের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নেই। কাদাপানির কারণে বিদ্যালয়ের ভেতরে চলাচলেও দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের।
একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, মাঠে পানি জমে থাকায় আমরা খেলতে পারি না। বৃষ্টির পর মাঠ কাদায় ভরে যায়। মাঠটি ঠিক করে দিলে আমরা নিয়মিত খেলাধুলা করতে পারব।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাহান চোকদার বলেন, নতুন ভবন হলেও মাঠের সমস্যা রয়ে গেছে। মাঠ নিচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি জমে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, প্যারেড ও চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। মাঠে মাটি ভরাট করে সংস্কার করা জরুরি। পাশাপাশি পুরোনো ভবনটি সরিয়ে দিলে শিক্ষার্থীদের চলাচলও সহজ হবে।
বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মো. আলী মর্তুজা বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অনেক। কিন্তু মাঠ নিচু, ফলে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা ও প্যারেড করতে পারে না। মাঠে মাটি ভরাট করে দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। আমরাও কিছু মাটি ভরাট করেছি। একই সঙ্গে মাঠের প্রবেশপথের সামনে থাকা পুরোনো ভবনটিও জরুরি ভিত্তিতে একপাশে সরিয়ে দিলে সামাজিক কর্মকান্ড পরিচালনা করা যাবে।
একাধিক অভিভাবক জানান, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা মুন্সীগঞ্জের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের পরও মাঠের মতো মৌলিক সুবিধা অবহেলিত থাকা দুঃখজনক। একটি বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন শুধু ভবন নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়; শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল, খেলাধুলা ও শারীরিক বিকাশের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।
অভিভাবকদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগ ও কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে বিদ্যালয়ের মাঠ ও পুরোনো ভবনের অবস্থা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। দ্রুত মাটি ভরাট, পানি নিষ্কাশন এবং ঝুঁকি যাচাই করে পুরোনো ভবনটি অপসারণ করা হলে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমবে এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশ আরও উন্নত হবে।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার রুজিনা আক্তার বলেন, সদর উপজেলার জরাজীর্ণ বিল্ডিং বিষয় আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানিয়েছি। আর ভরাটের বিষয় আমি ইউএনও সাথে সমন্বয় করবো।
সাননিউজ/বান্না