চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে ওঠা আর্সেনালকে হারিয়ে ক্লাবের ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় জয়ের দেখা পেয়েছে ফ্লিটউড টাউন। হাইবারি স্টেডিয়ামে নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর পেনাল্টি শুটআউটে ৫-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় ইংলিশ ফুটবলের চতুর্থ স্তরের দলটি।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে ইএফএল কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লিগ টুতে খেলা ফ্লিটউড।
ম্যাচের শুরু থেকেই আর্সেনালকে চাপে রাখার চেষ্টা করে ফ্লিটউড। ফুটবল লিগ কাঠামোয় গানারদের চেয়ে ৮৪ ধাপ পিছিয়ে থাকা দলটি ২১ মিনিটে অ্যারন লুপালো-বির গোলে এগিয়ে যায়। এতে অপ্রত্যাশিত চাপে পড়ে মিকেল আরতেতার দল।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে ফিরে সমতা ফেরায় আর্সেনাল। ভিক্টর ইয়োকেরেসের গোলে ১-১ ব্যবধানে ফিরে আসে ম্যাচ। এরপর একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় গানাররা।
ম্যাচের ৮৬ মিনিটে আরও বিপাকে পড়ে আর্সেনাল। হ্যারিসন নিলের ওপর ম্যাক্স ডাউম্যানের শক্ত ট্যাকলের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ডাউম্যানকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। ফলে বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় আর্সেনালকে।
নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তেও জয়ের সুযোগ পেয়েছিল গানাররা। বেন হোয়াইট ও মার্টিন ওডেগার্ডের দুটি বিপজ্জনক শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ফ্লিটউডের গোলরক্ষক জে লিঞ্চ। তাঁর দৃঢ়তায় ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে।
সেখানেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন লিঞ্চ। ব্রুনো গিমারেসের পেনাল্টি আটকে দিয়ে আর্সেনালকে চাপে ফেলে দেন তিনি। পরে কনর হগি জয়সূচক পেনাল্টিতে বল জালে পাঠালে উল্লাসে ফেটে পড়ে হাইবারি স্টেডিয়াম।
ঐতিহাসিক এই জয়ের পর আনন্দে মাঠে নেমে আসেন ফ্লিটউডের সমর্থকেরা। ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়ায়ও ছিল উচ্ছ্বাসের ছাপ। অন্যদিকে, আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন দলটির কোচ ম্যাট ললর।
এদিকে, বুধবার চেলসি ও লিভারপুলের মধ্যকার ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ইএফএল কাপের কোয়ার্টার ফাইনালের ড্র অনুষ্ঠিত হবে। ওই ড্রয়ের মাধ্যমেই জানা যাবে, শেষ আটে ফ্লিটউড টাউনের প্রতিপক্ষ কোন দল।
সান নিউজ/ রাব্বি