মিয়ানমারের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজস্ব মাতৃভূমিতে দ্রুত ও স্থায়ীভাবে নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ব সংস্থা জাতিসংঘের কাছে আরও জোরালো ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা ও সংকট উত্তরণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও শক্ত সংহতি গড়ে তোলার ওপরও বিশেষ জোর দেন তিনি।
আজ শনিবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ‘জোনটা ইন্টারন্যাশনাল, ডিস্ট্রিক্ট ২৫’ এবং দেশের বিভিন্ন ‘জোনটা ক্লাব’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত জমকালো জাতিসংঘ দিবস উদযাপনের বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
এক নজরে জাতিসংঘের অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বার্তা
মূল দাবি: মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের জোরালো ও দৃশ্যমান হস্তক্ষেপ। প্রধান উপলক্ষ: রাজধানী ঢাকায় ‘জোনটা ইন্টারন্যাশনাল, ডিস্ট্রিক্ট ২৫’ এবং দেশীয় জোনটা ক্লাবগুলোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত জাতিসংঘ দিবস উদ্যাপন। নেতৃত্ব ও অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বহুপাক্ষিক কূটনীতি জোরদার এবং জাতিসংঘের তিন স্তম্ভ—উন্নয়ন, শান্তি ও মানবাধিকারের প্রতি অটল প্রতিশ্রুতির পুনর্ব্যক্ত। অর্থনৈতিক কূটনীতি: এলডিসি থেকে উত্তরণের পথে সাশ্রয়ী অর্থায়ন, আধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বিশ্ববাজারে নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশাধিকারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব। নারীর ক্ষমতায়ন: শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশি নারীদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা এবং ডিজিটাল হয়রানি রোধ ও সমান সুযোগ সৃষ্টির তাগিদ।
অনুষ্ঠানে বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং একটি সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক বৈশ্বিক সমাজ গঠনের জন্য শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।
একই সঙ্গে জাতিসংঘের মূল চালিকাশক্তি—উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, শান্তি রক্ষা ও নিরাপত্তা এবং মানবাধিকার সংরক্ষণের নীতিতে বাংলাদেশ তার অটল অবস্থান পুনরায় ব্যক্ত করেছে। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও শান্তিরক্ষী প্রেরণের দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরে তিনি জানান, বৈশ্বিক শান্তি কার্যক্রমে বাংলাদেশ সবসময় নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে পাশে রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সার্বিক সভাপতিত্বে (সম্প্রতি) সমাপ্ত হওয়া জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকার কথা স্মরণ করেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সংলাপের পরিবেশ সৃষ্টি, পারস্পরিক ঐকমত্য তৈরি এবং সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারে বাংলাদেশ অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে।
জাতিসংঘের নির্ধারিত ‘টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা ২০৩০’ বাস্তবায়নে দেশের অব্যাহত প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে সফলভাবে উত্তরণের এই সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর জন্য বিশ্ববাজারের অবাধ প্রবেশাধিকার, সুলভ মূল্যে অর্থায়ন প্রাপ্তি, আধুনিক প্রযুক্তির হস্তান্তর এবং নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।
নারীদের ক্ষমতায়ন ও সুরক্ষার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশি নারী সদস্যদের অনন্য অবদান ও সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ ছাড়া সমাজে বিদ্যমান লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণ, ডিজিটাল স্পেসে নারীদের হয়রানি রোধ এবং সব ক্ষেত্রে সমান সুযোগ পাওয়ার পথকে সুগম করতে সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেন তিনি।
জাতিসংঘ সমর্থিত ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ এজেন্ডাকে আরও বেগবান করতে সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিশেষ সংলাপের মতো যুগোপযোগী উদ্যোগগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
সান নিউজ / রাজীব