শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহাবস্থানের দীর্ঘ ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতিফলন। সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাইবোনেরা যেন নিরাপদে, নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে তাঁদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি একটি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
এর আওতায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ এবং স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানির বিষয়ে সতর্ক নজরদারি এবং যেকোনো অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৫৫টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি নিয়োজিত থাকবে। এর মধ্যে সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ৫১টি, ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের ৩ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ৪টি পূজামণ্ডপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গত ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা সহায়তা এবং জরুরিভাবে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য বিজিবি প্রস্তুত থাকবে।
আশংকাজনক ভাবে মাদকাসক্তের সংখ্যা বাড়ছে
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় এখন নেশাখোর ও মাদকসক্তের সংখ্যা বাড়ছে। কৃতী সন্তানদের কৃত্বিত্ব বিলুপ্ত হতে চলেছে সময়ের নষ্ট ছেলেদের অশুভ তৎপরতায়। দরিদ্র পিতার ঘাম ঝড়ানো টাকায় পড়ালেখা অথবা ব্যবসা করতে যাওয়া তরুণ তাজা যুবকটি একদিন নেশার কবলে পড়ে নিশ্চিত ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পরিবার পরিজন থেকে দূরে সরে গিয়ে সেই যুবক একদিন হয়ে যাচ্ছে অসামাজিক পথভ্রষ্ট মানুষ। ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ সকল প্রকার অসামাজিক কার্যকলাপে থাকছে তার অবাধ বিচরণ। নেশার টাকা যোগাড় করতে সে পারে না, এমন কোনো কাজ নেই যে সে করে না। সামাজিকতা রক্ষার জন্য পরিবারের সদস্যরা জোর চেষ্টা চালাই এই পথ থেকে তাকে নিবৃত্ত করার জন্য। চারিদিকে বেষ্টিত ভারতীয় সীমান্ত , এই উপজেলায় সীমান্তর ওপার থেকে আসা মদ, গাঁজা, আফিম, ফেনসিডিল, ঘুমের বড়ি, প্যাথেডিন ট্যাবলেট, ইনজেকশন, অ্যালকোহল এবং মরণ নেশা হেরোইন, বাবাসহ সকল প্রকার মাদক দ্রব্য পাওয়া যায়।
মাদক ব্যবসায়ীরা অতি কৌশলে মাদক বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। ফুলবাড়ী থানার আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মাদক সেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদেরকে গ্রেফতার করলেও তারা আইনের ফাক ফোকড়ে বের হয়ে এসে আবার ও মাদক ব্যবসা করছে। সমাজ থেকে মাদক নির্মূল কোনোভাবে সম্ভব না হলেও মাদক নিমূর্লে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তা না হলে এই সমাজের যুবকেরা ধ্বংসের পথে চলে যাবে। জুলাই ও আগস্ট অভ্যূত্থানের পর দেশে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ না থাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা এক ধাপ এগিয়ে গেছে এই কাজে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কম বেশি অভিযান চালালেও মাদক বিক্রি বন্ধ নেই।
দেড় লক্ষ টাকার মাদক আটক
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) কর্তৃক মালিক বিহীন ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট অচিন্তপুর ও আমড়া সীমান্ত এলাকা থেকে আটক করেন।
গত শনিবার ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) এর অধীনস্ত অচিন্তপুর বিওপি এবং আমড়া বিওপি কর্তৃক মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মালিকবিহীন ১৫০০ পিস ভারতীয় নেশাজাতীয় ও ট্যাবলেট ও ,৮১ পিস ইনজেকশন আটক করতে সক্ষম হয়। আটককৃত মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান মালামালের সিজার মূল্য ১,৩২,১৫০ টাকা।
এ বিষয়ে ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামান (পিএসসি) এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, বিজিবি নিয়মিত টহল যোদ্দার করার ফলে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান শূন্যের কোঠায় এসেছে। পাশাপাশি চোরাচালান দমনে এবং সীমান্ত রক্ষায় বিজিবি নিরলসভাবে কাজ করছে।
সাননিউজ/বান্না