বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। কাজের প্রয়োজনে যেমন ফোন ব্যবহার বাড়ছে, তেমনি অপ্রয়োজনীয় স্ক্রলিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় কাটানোর প্রবণতাও বাড়ছে। এমনকি পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে থাকলেও অনেকেই ব্যস্ত থাকেন নিজেদের ফোনে। ফলে কমছে পারস্পরিক যোগাযোগ, বাড়ছে মানসিক চাপ এবং সময়ের অপচয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকা মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য উপকারী। ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার কমাতে কয়েকটি সহজ অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।
অ্যাপ ব্যবহার
ফোন ব্যবহারের সময় পর্যবেক্ষণ করতে বিভিন্ন স্ক্রিন টাইম বা ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে। এসব অ্যাপ কোন অ্যাপে কত সময় ব্যয় করছেন, তার বিস্তারিত তথ্য দেখায়। এতে নিজের অজান্তে কতটা সময় নষ্ট হচ্ছে, তা সহজেই বোঝা যায় এবং ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।
অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহার
ঘুম থেকে ওঠার জন্য ফোনের অ্যালার্ম ব্যবহার করলে অনেকেই সকালে উঠেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ইমেইল দেখতে শুরু করেন। এ অভ্যাস এড়াতে আলাদা একটি অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহার করা ভালো। পাশাপাশি রাতে ফোন অন্য কক্ষে চার্জে রেখে সকালে নির্দিষ্ট সময়ের আগে ফোন না ধরার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।
হঠাৎ করে ব্যবহার বন্ধ করুন
কিছু বিশেষজ্ঞ কয়েক দিনের জন্য ফোন ব্যবহার থেকে বিরতি নেওয়ার পরামর্শ দেন। এতে ফোনের প্রতি নির্ভরশীলতা কমে এবং নতুন স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে ওঠে। পরে ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় কাজের জন্য সীমিতভাবে ফোন ব্যবহার শুরু করা যেতে পারে।
ডু নট ডিস্টার্ব
প্রায় সব স্মার্টফোনেই 'ডু নট ডিস্টার্ব' সুবিধা রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কল, মেসেজ ও অন্যান্য নোটিফিকেশন বন্ধ রেখে গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা বিশ্রামের সময় মনোযোগ ধরে রাখা সম্ভব।
প্রযুক্তিমুক্ত সময়
প্রতিদিন বা সপ্তাহে নির্দিষ্ট কিছু সময় সম্পূর্ণ প্রযুক্তিমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। সে সময় হাঁটাহাঁটি, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা কিংবা অন্য কোনো অফলাইন কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারেন। এতে মানসিক চাপও কমবে।
অ্যালার্ট বন্ধ করুন
বারবার নোটিফিকেশনের শব্দ মনোযোগ নষ্ট করে এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে ফোন হাতে নিতে বাধ্য করে। তাই প্রয়োজন ছাড়া বিভিন্ন অ্যাপের অ্যালার্ট বন্ধ রাখলে ফোন ব্যবহারের প্রবণতা অনেকটাই কমে আসে।
শখের কোনো কাজ
বই পড়া, ব্যায়াম করা, বাগান করা, পোষা প্রাণীর সঙ্গে সময় কাটানো বা বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার মতো অভ্যাস ফোন থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে। বাস্তব জীবনের এসব অভিজ্ঞতা মানসিক প্রশান্তিও বাড়ায়।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা ফোন ছাড়া থাকলে মানসিক চাপ কমে, মনোযোগ বৃদ্ধি পায় এবং দৈনন্দিন কাজে উৎপাদনশীলতা বাড়ে।
এক ঘণ্টা মোবাইল ছাড়া থাকলে ইতিবাচক যেসব পরিবর্তন ঘটতে পারে
- মস্তিষ্ক কিছুটা বিশ্রাম পায় এবং অযথা তথ্যের চাপ কমে।
- পড়াশোনা বা কাজে মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।
- নতুন চিন্তা ও সৃষ্টিশীলতার বিকাশ ঘটে।
- মানসিক শান্তি ও আত্মসংযোগ বাড়ে।
- পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত মোবাইল নির্ভরতা শুধু সময়ই নষ্ট করে না, এটি ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এই প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। তাই প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি সচেতনভাবে এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সান নিউজ/ তালহা