ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে নতুন একটি অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, উয়েফার মহাসচিব থাকাকালে এক নারী কর্মীর সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসার পর ওই কর্মীকে অর্থ দিয়ে সংস্থা থেকে বিদায় দেওয়া হয়েছিল।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইনফান্তিনো। তার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।
দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উয়েফার এক নারী কর্মী ইনফান্তিনোর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে তাকে ছয় অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়। পাশাপাশি তার এমবিএ পড়ার খরচও বহন করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, ওই সময় ইনফান্তিনো বিবাহিত ছিলেন এবং চার সন্তানের বাবা ছিলেন। সম্পর্ক চলাকালীন ওই জুনিয়র কর্মীকে ব্যবস্থাপনা পদে উন্নীত করা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উয়েফার তৎকালীন সভাপতি মিশেল প্লাতিনি বিষয়টি নিয়ে ইনফান্তিনোর কাছে জানতে চেয়েছিলেন। এরপর ওই নারী কর্মী বড় অঙ্কের অর্থ নিয়ে উয়েফা ছেড়ে যান।
উয়েফার বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে উয়েফার এক মুখপাত্র দ্য টেলিগ্রাফকে জানান, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীকে বিদায়ী অর্থ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি স্থানীয় একটি বিজনেস স্কুলে এমবিএ কোর্সের ফিও পরিশোধ করা হয়েছিল।
উয়েফার পক্ষ থেকে বলা হয়, সে সময়কার নিয়ম অনুযায়ীই এসব অর্থ প্রদান করা হয়েছিল। ২০১৬ সাল থেকে সংস্থাটি কর্মীসংক্রান্ত নীতিমালা আরও কঠোর করেছে বলেও জানানো হয়।
ফিফার পাল্টা দাবি
ফিফার এক মুখপাত্র টেলিগ্রাফকে বলেন, জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে অনুচিত আচরণ বা নিয়ম ভঙ্গের কোনো অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
ফিফার পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, উয়েফা বা ফিফার কোনো কর্মী কখনো ইনফান্তিনোর আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেননি। কর্মীদের বিদায়ী সুবিধা বা ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত নিয়ম মেনেই এবং যথাযথ অনুমোদনের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে।
আগেও সমালোচনার মুখে ইনফান্তিনো
নতুন এই অভিযোগ এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ফিফা সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনো নানা সমালোচনার মুখে রয়েছেন। বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের অংশীদারত্ব বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠেছে।
ইনফান্তিনো উয়েফায় প্রায় ১৬ বছর কাজ করেছেন। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ফিফার সভাপতি নির্বাচিত হন এবং এরপর থেকে এই পদে রয়েছেন। ২০০১ সালে লিনা আল আশকারকে বিয়ে করেন তিনি। লেবানন ফুটবল ফেডারেশনে কাজ করার সময় তাদের পরিচয় হয়েছিল।
সান নিউজ/ হুমায়রা