নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। এর প্রতিবাদে পুরো দেশজুড়ে বড় ধরনের আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ইতালি প্রশাসন।
দেশটির বড় বড় শহরগুলোতে হাজার হাজার পুলিশ, সেনা ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। আকাশপথে নজরদারি চালাতে ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন। কিছুদিন আগে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতার ঘটনা ঘটায় প্রশাসন এবার আগে থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
রোম ও মিলানের মতো প্রধান শহরগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাজধানী রোমে প্রায় দেড় হাজার নিরাপত্তাকর্মী মাঠে নামানো হচ্ছে। অন্যদিকে, মিলান শহরকে সুরক্ষিত রাখতে পুলিশ, মিউনিসিপ্যাল কর্মী এবং সেনা মিলিয়ে প্রায় এক হাজার আটশ সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মিলান ছাড়াও বোলোনিয়া, জেনোয়া ও তুরিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতেও নানা কর্মসূচি পালিত হওয়ার কথা রয়েছে। সামগ্রিকভাবে পুরো দেশজুড়ে ত্রিশটির বেশি জমায়েত, মিছিল ও ধর্মঘটের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রযুক্তির সাহায্য ও কড়া নজরদারি : অনুমোদিত কর্মসূচিগুলোর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়া জমায়েতগুলো নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ছক কষেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ড্রোনের মাধ্যমে ওপর থেকে পুরো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হবে। জনবহুল এলাকা এবং রেলস্টেশনগুলোতে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে।
এক নজরে ইতালির আন্দোলন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি
-
মূল কারণ : জীবনযাত্রার খরচ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। -
নিরাপত্তা প্রস্তুতি : রাজধানী রোমে ১,৫০০ এবং মিলানে ১,৮০০ সহ হাজার হাজার পুলিশ, সেনা ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন। -
নজরদারি ব্যবস্থা : আকাশপথে ড্রোন পর্যবেক্ষণ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিশেষ সাইবার নজরদারি। -
বিশেষ সতর্কতা : মিলানের ডুওমো চত্বরসহ বেশ কয়েকটি ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা ও পথ এড়িয়ে চলার নির্দেশ। -
প্রশাসনের কঠোর বার্তা : শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও জনজীবন বিপর্যস্ত করা বা সহিংসতা বরদাশত করা হবে না।
এদিকে, পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর উসকানি দিয়ে টিকটক, টেলিগ্রাম ও ইনস্টাগ্রামের মতো মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন নির্দেশনা ছড়িয়ে পড়ায় প্রশাসনের উদ্বেগ বেড়েছে। সাইবার নিরাপত্তা বিভাগ ও বিশেষ অপারেশন দল যৌথভাবে অনলাইন মাধ্যমগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে।
মিলানের কেন্দ্রস্থল ডুওমো চত্বর এবং আশপাশের ব্যস্ত বাণিজ্যিক রাস্তাগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন মিশনের পক্ষ থেকেও নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং নির্দিষ্ট কিছু এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইউরোপে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা : ইতালির পাশাপাশি ফ্রান্স ও বেলজিয়ামের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেশগুলোতে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে সংশ্লিষ্ট সরকার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই দেশগুলোতে অবস্থিত দূতাবাসগুলো সার্বিক পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে এবং প্রবাসীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে। গোলযোগপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশাবলী কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সহিংসতার তীব্র নিন্দা জর্জিয়া মেলোনির : আগের বিক্ষোভগুলোতে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কিছু বিশৃঙ্খলাকারী গোষ্ঠী আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা ও অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
সাধারণ শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণভাবে দাবি দাওয়া তুলে ধরার গণতান্ত্রিক অধিকার সবারই রয়েছে। তবে সরকারি সম্পত্তিতে ভাঙচুর চালানো কিংবা জনজীবন বিপর্যস্ত করার অধিকার কাউকে দেওয়া হবে না।
এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির পেছনে রাজনৈতিক দলগুলোর নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে প্রশাসন। জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামাল দিয়ে জনজীবন স্বাভাবিক রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই এখন ইতালির সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সান নিউজ / রাজীব