ছবি: সংগৃহিত
আন্তর্জাতিক

ফ্রান্সের ভয়াবহ দাবানলে সৃষ্টি বিরল মেঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের ভয়াবহ দাবানল সৃষ্টি করেছে বিরল ধরনের বজ্রগর্ভ মেঘ, যা বজ্রপাতের মাধ্যমে মূল আগুনের বাইরে নতুন নতুন স্থানে দাবানল ছড়িয়ে দিচ্ছে। ফরাসি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এই বিরল প্রাকৃতিক ঘটনা আগুন নিয়ন্ত্রণে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘পাইরোকিউমুলোনিম্বাস’ নামের এই মেঘ দাবানলের তীব্র তাপ, ধোঁয়া ও আর্দ্র বাতাস দ্রুত ওপরে উঠে তৈরি হয়, যা পরে নিজেই শক্তিশালী বাতাস, বজ্রপাত ও অনিশ্চিত আবহাওয়ার জন্ম দেয়—ফলে দাবানল কেবল বিদ্যমান আবহাওয়ায় নয়, নিজের সৃষ্ট আবহাওয়াতেও আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। ফ্রান্সের জাতীয় অগ্নিনির্বাপক ফেডারেশন জানিয়েছে, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে এমন মেঘের ঘটনা নথিভুক্ত হলো, যদিও অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে এর আগে এমন ঘটনা দেখা গেছে।

গত ২২ জুলাই ফ্রান্সের সাওমোস এলাকার কাছে শুরু হওয়া এই দাবানল ইতিমধ্যে প্রায় ৪২০ বর্গকিলোমিটার বনাঞ্চল পুড়িয়ে দিয়েছে এবং ২৪০টির বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করেছে। নিরাপত্তার কারণে গিরন্দ অঞ্চলের প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মেঘের ভেতরে বরফকণার সংঘর্ষে তৈরি হওয়া বৈদ্যুতিক চার্জ থেকেই বজ্রপাত সৃষ্টি হয়, যা মূল আগুনের বাইরে নতুন এলাকায় দাবানল ছড়াতে পারে। এছাড়া এই মেঘ থেকে সৃষ্ট দিক পরিবর্তনকারী প্রবল বাতাস আগুনকে দ্রুত ছড়িয়ে দেয় এবং অনেক সময় ‘ফায়ার হোয়ার্ল’ তৈরি করে, যা অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে তাপপ্রবাহ ও খরা বাড়ছে, যা দাবানলের ঝুঁকিও বাড়িয়ে তুলছে। এই ধরনের মেঘের ঘটনা এখনও বিরল হলেও উষ্ণ-শুষ্ক আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আরও ঘন ঘন দেখা যেতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।

সূত্র: এপি

সান নিউজ/ তালহা

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক
লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা