বর্তমান ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত তরুণদের একজন স্পেনের লামিন ইয়ামাল। অসাধারণ ড্রিবলিং, গতি ও প্রতিভা দিয়ে অল্প বয়সেই বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করেছেন তিনি। তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক সংগ্রামী মায়ের ত্যাগ, ভালোবাসা এবং অদম্য লড়াইয়ের গল্প।
লামিন ইয়ামালের মা শিলা এবানার জন্ম আফ্রিকার নিরক্ষীয় গিনির বাতা শহরে। উন্নত জীবনের আশায় তিনি স্পেনে পাড়ি জমান। নতুন দেশে শুরু থেকেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। সংসার চালাতে কখনো রেস্তোরাঁয় ওয়েট্রেস, আবার কখনো ফাস্টফুড রেস্তোরাঁয় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন তিনি।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে মা হন শিলা। ২০০৭ সালের ১৩ জুলাই জন্ম নেয় তার ছেলে লামিন ইয়ামাল নাসরাউই এবানা।
তবে পারিবারিক জীবনে সুখ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ইয়ামালের বয়স যখন মাত্র তিন বছর, তখন তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর ছেলেকে নিয়ে স্পেনের গ্রানোলার্সে নতুন করে জীবন শুরু করেন শিলা। সীমিত আয়ের ছোট্ট একটি বাসায় বসবাস করলেও কখনো ছেলেকে অভাবের কষ্ট অনুভব করতে দেননি। নিজের সব সংগ্রাম আড়াল করে সন্তানের স্বপ্ন পূরণেই নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন তিনি।
জীবিকার তাগিদে রেস্তোরাঁয় কাজ করার সময় এক স্থানীয় ফুটবল ক্লাবের কোঅর্ডিনেটরের পরিবারের সঙ্গে পরিচয় হয় শিলার। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরেই ফুটবলে প্রথম বড় সুযোগ পান ইয়ামাল। পরে তিনি বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। সেখান থেকেই শুরু হয় বিশ্ব ফুটবলের নতুন এক তারকার উত্থান।
এক সাক্ষাৎকারে মায়ের অবদানের কথা স্মরণ করে ইয়ামাল বলেন, “আমার মা কখনো আমাকে দারিদ্র্যের অন্ধকার দেখাননি। তিনি সব সময় জীবনের সুন্দর দিকটাই দেখিয়েছেন।”
আজ লামিন ইয়ামাল মাঠে নিজের নৈপুণ্যে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন। তবে তার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন কোনো ট্রফি নয়, বরং মায়ের মুখের হাসি। ইয়ামাল বিশ্বাস করেন, একজন মায়ের ত্যাগ, ভালোবাসা ও সংগ্রামের ঋণ কোনো সাফল্য দিয়েই শোধ করা সম্ভব নয়।
সূত্র: টাউন এন্ড কান্ট্রি
সান নিউজ/ জামান