বিশেষ সংবাদ

বিশেষ সংবাদ

বাণিজ্য

দেশের অর্থনীতিতে সম্ভাবনার হাতছানি পাদুকা শিল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনা মহামারীতে গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে স্থবিরতা বিরাজ করছে। তারপরও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে আশাবাদী হয়ে উঠেছে বিশ্ব। বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন শুরু হওয়ায় পুনরায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নিত্য অপরিহার্য পণ্য ছাড়া প্রায় সব ধরনের পণ্যের চাহিদা ব্যাপক হারে কমেছে।

এর মধ্যেও দেশের অন্যতম প্রধান রফতানিখাত আশার আলো দেখাচ্ছে সম্ভাবনাময় নন-লেদার পাদুকা শিল্প। এক্ষেত্রে লেদার বা চামড়াবিহীন পাদুকাতেই সম্ভাবনার দ্যুতি দেখা যাচ্ছে বেশি।রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিশ্ববাজারে ২৭ কোটি ৭১ লাখ ৩০ হাজার ডলারের নন-লেদার ফুটওয়্যার রফতানি করেছে বাংলাদেশ।

এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রফতানি হয় ২৭ কোটি ১৫ লাখ ডলারের। এ হিসাবে গত অর্থবছর শেষে পণ্যের রফতানি প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। চলমান ২০২১-২১ অর্থবছরেও প্রথম ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) নন-লেদার ফুটওয়্যার পণ্যের রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, নন-লেদার ফুটওয়্যারের প্রধান ১০ রফতানি গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে স্পেন, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, ইতালি, জার্মানি, পোল্যান্ড ও মরক্কো।

এ বিষয়ে লেদারগুডস এন্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এলএফএমইএবি) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুল মোমেন ভুঁইয়া বলেন, বিশ্বব্যাপী এ্যাথলেটিক পণ্যের চাহিদা সব সময়ই ভালো, বিশেষ করে ফুটওয়্যারের। আমাদের এখানে খুব বেশি উৎপাদন ক্ষেত্র ছিল না, এখন কিছু হচ্ছে। নন-লেদারের সম্ভাবনা অনেক বেশি।

বিশ্বের ফুটওয়্যার বাজারের ৭০ বা প্রায় ৮০ শতাংশই নন-লেদার ফুটওয়্যারের। সিনথেটিক সুজের চাহিদা সব সময়ই ছিল। এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে এ পণ্যের চাহিদা আরও বাড়ছে। নন-লেদার ফুটওয়্যারের বড় সমস্যা কাঁচামাল। এজন্য চীনের ওপরই নির্ভর করতে হয়। নন-লেদার ফুটওয়্যার লেদার ফুটওয়্যারের জন্য কোনও হুমকি নয়, কারণ লেদার ফুটওয়্যারের একটা চাহিদা সব সময়ই থাকবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এখন ফুটওয়্যার পণ্যে নন-লেদারের চাহিদায় ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ফুটওয়্যার পণ্যের ফ্যাশন, স্থায়িত্ব, রঙ—সব কিছুই চান ভোক্তারা। এটা চামড়াজাতে সম্ভব না হলেও নন-লেদারে সম্ভব হচ্ছে। আবার চামড়াজাত ফুটওয়্যারের দামও বেশি। নন-লেদারে পণ্যের বৈচিত্র্য বেশি। দামও জনসাধারণে সামর্থ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়া চামড়াজাত পাদুকায় হাঁটার আরাম তুলনামূলক কম।

এ কারণে ভোক্তারাও এখন দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মিল রেখে নন-লেদার ফুটওয়্যার ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছেন। যেমন কেউ হাঁটার জন্য এক ধরনের নন-লেদার ফুটওয়্যার আবার অন্য কাজের জন্য আরেক ধরনের পাদুকা ব্যবহার করছেন। নন-লেদার ফুটওয়্যার প্রস্তুত ও রফতানিকারকরা বলছেন, বিশ্বের অনেক দেশেই এখন ৮৫ শতাংশের বেশি মানুষ নন-লেদার ফুটওয়্যার বা স্নিকার ব্যবহার করছে।

দামি চামড়াজাত পাদুকার চাহিদাও এখন কমে গিয়েছে। এর বিপরীতে গোটা বিশ্বেই নন-লেদার ফুটওয়্যারের বাজার বড় হচ্ছে। এ সুযোগটা বাংলাদেশ এখন কেবল কাজে লাগাতে শুরু করেছে। তবে এক্ষেত্রে আমাদের মূলত চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বাংলাদেশে নন-লেদার ফুটওয়্যার খাতে বড় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ম্যাফ সুজ লিমিটেড (টিকে গ্রুপ), ফরচুন সুজ লিমিটেড ইত্যাদি।

ম্যাফ সুজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসনাত মো. আবু ওবায়দা বলেন, সার্বিকভাবে ফুটওয়্যার ব্যবহারে চাহিদায় অনেক বৈচিত্র্য দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের সিনথেটিক নন-লেদার ফুটওয়্যারে কোনও অভিজ্ঞতা ছিল না। এখন ধীরে ধীরে হচ্ছে। বাংলাদেশে এখন নন-লেদার ফুটওয়্যার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান আছে ২৫-২৬টি।

নন-লেদার ফুটওয়্যারের বিষয়ে সরকারের সমর্থন প্রয়োজন। বিশেষ করে নন-লেদার ফুটওয়্যারের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প গড়ে তুলতে প্রণোদনার মাধ্যমে সরকারের বিশেষ সমর্থন খুবই প্রয়োজন এ পণ্যের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে।

ফরচুন ফুটওয়্যারের কর্ণধার চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের কারখানায় উৎপাদিত প্রধান পণ্য হলো স্নিকার বা নন-লেদার ফুটওয়্যার। পণ্যটিতে চামড়ার ব্যবহার একেবারেই নেই বলা যাবে না। অনেক ক্ষেত্রেই মিশ্রণ দেখা যায়। বিশ্ববাজারে এ পণ্যের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। অন্যদিকে লেদার ফুটওয়্যারের চাহিদা কমছে।

আবার লেদার ফুটওয়্যারে আমরা প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পেরে উঠি না। কারণ ভারত ও পাকিস্তানে চামড়ার দাম অনেক কম। এ পণ্যের প্রধান চ্যালেঞ্জ সার্বিক ভৌত অবকাঠামো। সুনির্দিষ্ট করে বলতে গেলে কাঁচামালের প্রাপ্যতা এ পণ্যের বড় চ্যালেঞ্জ। নন-লেদারে আমাদের প্রধান প্রতিযোগী চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া।

এখন মিয়ানমারের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। করোনাকালেও স্নিকার্সের চাহিদা ভালো। এ পণ্যের বড় ক্রেতার মধ্যে আছে প্রাইমার্ক, এইচএন্ডএম, ডাইসম্যান, কেমার্ট, ফিলা। ভারতে স্নিকার্সের বড় বাজার আছে। দেশটিতে আমাদের রফতানি চাহিদাও বাড়ছে।

সান নিউজ/এসএ

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষে ৮ জন নিহত

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিলেট : ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রশিদপুরে এনা প...

পুলিশের কাছে অভিযোগ দেয়ায় হামলা, আহত ৫

নিজস্ব প্রতিনিধি, পিরোজপুর : পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে জমি নিয়...

লিটলম্যাগ স্টল বরাদ্দের আবেদন শুরু রোববার

হাসনাত শাহীন: বাংলা ভাষা সাহিত্যের চর্চা, বিকাশ, ব...

তরুণী মেয়েকে খুনের অভিযোগ মায়ের বিরুদ্ধে

মাসুম লুমেন, গাইবান্ধা: গাইবান্ধায় নিজের মেয়েকে ধারালো বটি দ...

মুশতাকের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রাম ব্যুরো : কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর কারণ...

বেস্ট কর্পোরেট গোল্ড অ্যাওয়ার্ড পেল ইসলামী ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক : বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক (ইসলামিক অপারেশ...

চট্টগ্রামে সবাইকে কাঁদালেন মন্ত্রী

চট্টগ্রাম ব্যূরো : স্থানীয় সরকার...

হাইতির কারাগার থেকে ৪শ’ বন্দি পালায়ন, নিহত ২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : হাইতির একটি...

ইরানকে উদ্দেশ্য করে সিরিয়ায় বিমান হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাইডেনের ক্ষম...

খাশোগি হত্যায় ৭৬ সৌদি নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা