বিশেষ সংবাদ

বিশেষ সংবাদ

রাজনীতি

ওবায়দুল কাদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত: কাদের মির্জা

মোহাম্মদ রুবেল : নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারে স্বার্থের সংঘাতে জড়িয়ে দলের শীর্ষনেতাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন কোন কোন নেতা। কথা বলতে গিয়ে অনেকে নিজস্ব সীমারেখা অতিক্রম করে আক্রমণ করছেন কেন্দ্রীয় শীর্ষনেতাদের। চলমান রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।

এতে একজনের প্রাণহানিসহ শতাধিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনা তৃণমূলের গন্ডিপেরিয়ে রূপ নিয়েছে জাতীয় ইস্যুতে। তাতে রাজনৈতিক অঙ্গন বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে। এ গরমের তাপে আলোচিত নায়ক এখন কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাটের মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। তিনি ক্ষমতাসীন দল আওয়মী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই।

অবশ্য, এসকল ঘটনার জন্য তিনি তার ভাই ওবায়দুল কাদেরকে দায়ী করছেন । চলমান এসব কর্মকাণ্ডে বিব্রত তার দল আওয়ামী লীগও। এর ফলে কাদের মির্জার সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের দ্বন্দ্বের পারদ দিন দিন বেড়েই চলেছে। এরপরও থামছে না কাদের মির্জার কথামালা। যদিও এসব ঘটনার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা।

আবার চলমান ঘটনার মধ্যদিয়ে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি থেকে কাদের মির্জার অব্যাহতির প্রত্যাহার নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধুম্রজাল। সম্প্রতি গণমাধ্যমকে তিনি বলছেন- ‘আমি এই অব্যাহতি মানিনা’।

শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চলমান এসব ঘটনার বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি অনলাইন নিউজ পোর্টাল সাননিউজকে জানান, সম্প্রতি ঢাকায় ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সাক্ষাতে ঘটনার পেছনের সব ঘটনা তাকে (ওবায়দুল কাদের) বিস্তারিত জানিয়ে এসেছিলাম। তিনি কথা দিয়েছিলেন একসপ্তাহের সধ্যে সমস্যা সমাধান করবেন। কিন্ত তিনি তা করেন নাই। যার ফলে নোয়খালীর চলমান সংকট থেকেই গেল।

তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আওয়ামী লীগের হাই কমান্ডের দিকে তাকিয়ে আছি। সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাচ্ছি। আমি আমার অবস্থান থেকে একটুও সরে দাড়াবোনা। ঘটনার সুষ্ঠু মিমাংসা না হওয়ার পেছনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকেই দায়ী করেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার আশ্বাসে সব কর্মসূচি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে প্রত্যাহার করেছি। নোয়াখালীর সর্বত্র অপরাজনীতি চলছে। এ অবস্থার নিরসন চায় মানুষ। আমি আমার অবস্থানে অবিচল থাকব।

উল্লেখ্য, শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে এবং ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি পূর্ব ঘোষিত সকল কর্মসূচি প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেন।
কর্মসূচি প্রত্যাহারের বিষয়ে কাদের মির্জা বলেছেন নোয়াখালীর রাজনীতির চলমান সংকট নিরসনে আমাদের সকলের আস্থার শেষ ঠিকানা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তাই তার হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আমি আশাকরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে সকল সমস্যার সমাধান অতি শীঘ্রই হবে।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেন, আমি শেখ হাসিনার রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনি যখন যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেই সিদ্ধান্ত আমি মাথা পেতে নেব। তার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।

আন্দোলন প্রত্যাহারের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল কাদের মির্জা সাননিউজকে আরও বলেন, গতমাসে ঢাকায় গিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাথে দেখা করে সকল বিষয়ে জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনও আশ্বাস না পেয়ে আমি আন্দোলন চালিয়ে গেছি। এখন সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার আশ্বাসে সব কর্মসূচি শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে প্রত্যাহার করেছি।

তিনি অভিযোগ করেন, নোয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী ও ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম হাজারী অস্ত্র সরবরাহ করেছে। অস্ত্রধারীরা বর্তমানে কোম্পানীগঞ্জে অবস্থান করছে। যে কোনো মুহূর্তে তারা বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছে।

শনিবার বিকালে জেলা আওয়ামী লীগের প্যাডে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীর স্বাক্ষরীত এক চিঠিতে আবদুল কাদের মির্জাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের জন্য সুপারিশ ও সংগঠনের সকল কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি প্রদান সংক্রান্ত চিঠি দেয়া হয়। আবার তার দুই ঘন্টার পরই অব্যাহতি স্থগিত করা হয়। এনিয়েও ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।

প্রত্যাহারের বিষয়ে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এএইচএম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম বলেন, মির্জা কাদের উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। প্রথমে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে দলীয় শান্তি বজায় রাখতে আমি সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিয়েছি। পুরো বিষয়টি কেন্দ্রের ওপর ছেড়ে দিতে চাচ্ছি।

এরপর রাত ৯টা ২৭ মিনিটে ফেসবুক লাইভে এসে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী-৪ আসনের এমপি একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সেলিম ভাই ঢাকা থেকে এসে বললেন, মির্জার বিরুদ্ধে একটা ব্যবস্থা নেয়া দরকার। সে অনুযায়ী আমরা তাকে দল থেকে অব্যাহতি দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আবার সেলিম ভাই তার অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ালেন।

একরামুল চৌধুরী বলেন, একজন লোক অপরাধী। মির্জা কাদের শুধু নোয়াখালী নয়, সারাদেশের আওয়ামী লীগকে ছোট করেছে- তাকে তো ছাড়া যায় না। তার বিরুদ্ধে আমরা অবস্থান নিয়েছি।

সাননিউজ/এমআর/টিএস/এম

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

আ.লীগ নেতার ওপর হামলার প্রতিবাদে হরতাল ও বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিনিধি, ভোলা : ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগ স...

ফরিদপুরে আগুনে দেড় কোটি টাকার ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিনিধি, ফরিদপুর : ফরিদপুরের মধুখালী পৌর সদরের কেন্...

মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১৫

নিজস্ব প্রতিনিধি, পিরোজপুর : পিরোজপুর সদর উপজেলায় ধান ভাঙানো...

চমেকে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের প...

পারটেক্সের নতুন ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ফাবিয়ানা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সম্প্রতি পারটেক...

‘প্রয়োজনে আরও টিকা কেনা হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক : সময়মতো টিকা দে...

ভোলায় গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি, ভোলা : গ্রামীণ মানুষের মধ্যে দ্রুত ন্যায়ব...

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৩

নিজস্ব প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবা উপজেল...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা