<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<feed xmlns="http://www.w3.org/2005/Atom">
                        <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/feed/opinion</id>
                                <link href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/feed/opinion"></link>
                                <title><![CDATA[Sunnews opinion Feed]]></title>
                                <description>Sunnews Latest opinion News Feeds</description>
                                <language>bn-BD</language>
                                <updated>Sat, 29 Aug 2026 09:32:25 +0000</updated>
                        <entry>
            <title><![CDATA[নিখোঁজ মিরাজ শেখ : গুম সংস্কৃতি ফিরে আসার আশংকা]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/117840" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/117840</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[।। এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া।।
যখন আর্ন্তজাতিক গুম দিবস পালিত হচ্ছে সারা বিশ্বের সাথে সাথে বাংলাদেশে ঠিক তখন বাগেরহাটের মোংলা থেকে কোস্টগার্ডের পরিচয়ে তুলে নেয়া মিরাজ শেখের নিখোঁজের ১৪১ দিন। প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও ওই যুবকের কোনো সন্ধান পাচ্ছে না তার পরিবার। এই ঘটনাকে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে গুমের প্রথম ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) । গুম সংস্কৃতি বলতে রাষ্টীয় বা প্রভাবশালী মহলের নির্দেশে ভিন্নমতাবলম্বী ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে গোপনে তুলে নিয়ে গিয়ে নিখোঁজ রাখা এবং এর মাধ্যমে সমাজে ভীতি সৃষ্টির অপসংস্কৃতিকে বোঝায়। বাংলাদেশে বিগত দেড় দশকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশের মাধ্যমে এই বেআইনি চর্চা ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করে, যা মানবাধিকার ও আইনের শাসনের পরিপন্থী।

অতিতের মতই বাগেরহাটের মোংলার নিখোঁজ মিরাজ শেখকে আটক, হেফাজতে নেওয়া বা গুম করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। তারা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে মিরাজ শেখকে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ করার কোনো তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে। অতিতের গুমের ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে তখনকার সময় আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী যেভাবে সংগঠিত ঘটনাগুলো অস্বীকার করতো ঠিক তেমনই অস্বীকার করছে তারা।

দীর্ঘ ফ্যাসীবাদী শাসনের অবসানের পর জনগনের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের আমলে প্রথম গুমের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা মিরাজ শেখকে জীবিত অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)। &lsquo;নতুন করে কোথায় আয়নাঘর গড়ে তোলা হয়েছে?&rsquo;&mdash;এমন প্রশ্ন তুলে দলটি অভিমত প্রকাশ করেছে যে, কোনোভাবেই বাংলাদেশে আবার গুমের সংস্কৃতি ফিরতে দেওয়া হবে না।

গণঅভ্যুত্থানের পর একটি গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে একজন নাগরিকের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুতর সতর্কবার্তা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, তারা মিরাজ শেখকে গুম করেনি। তাহলে মিরাজ শেখ কোথায়&mdash;এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে খুঁজে বের করাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব এবং এই দায়িত্বে অবহেলা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায় এড়াতে পারবে না। এই দায় বহন করতে হবে সরকারকেও।

মিরাজ শেখ গত ১০ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, কোস্টগার্ডের সদস্যরা তাঁকে নিয়ে গেছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সাম্প্রতিক অনুসন্ধানেও মিরাজকে কোস্টগার্ডের হেফাজতে নেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব সংগঠন ঘটনাটিকে বিএনপি সরকারের আমলের প্রথম গুমের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অন্যদিকে, কোস্টগার্ড মিরাজকে আটক, জিজ্ঞাসাবাদ বা হেফাজতে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অবিলম্বে এই ঘটনায় স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত করতে হবে এবং মিরাজ শেখকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।

মিরাজ শেখকে আদালতে হাজির করার জন্য হাইকোর্ট ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছিলো। ১২ জুলাই দেওয়া ওই আদেশে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তাঁকে আদালতে হাজির করতে বলা হয়। কিন্তু এরপরও তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। তাহলে কি তাঁকে নতুন কোনো আয়নাঘরে বন্দি করে রাখা হয়েছে? সেই আয়নাঘর কোথায়? এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জাতির প্রত্যাশা, তিনি অবিলম্বে মিরাজ শেখকে সুস্থভাবে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেবেন এবং তাঁর অধীনস্থ বাহিনীগুলোর মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করবেন। যদি মিরাজ শেখের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে প্রচলিত আইনের মাধ্যমে তাঁর বিচার করা হোক। আর যদি মিরাজ শেখ বেঁচে না থাকেন, তাহলেও তাঁর পরিবার ও দেশবাসীকে সত্যটি জানানো হোক। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে মানুষের জীবন নিয়ে কোনো ধরনের লুকোচুরি কাম্য হতে পারে না।

মিরাজ শেখের পরিবারের ওপরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মর্মান্তিক আচরণ করেছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিরাজ শেখের মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি পালনের জের ধরে তাঁর স্ত্রী, মা ও বোনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রচণ্ড নির্যাতনের শিকার হয়েছে। পরে তাঁদের আটক করা হয়। এরপর তাঁদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দেওয়া হয়। ওই মামলায় মিরাজের স্ত্রী, মা ও বোনকে কারাগারে পাঠানো হয়। তাঁরা প্রায় ২৭ দিন কারাগারে ছিলেন। যা অত্যান্ত দুরভাগ্যজনক।

মিরাজের স্ত্রী মুক্তা খানম অভিযোগ করেন, গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে তার স্বামীকে আটকে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, খবর পেয়ে আমি কোস্টগার্ডের পন্টুনে গিয়ে দেখি তাকে আটকে রাখা হয়েছে। সেখানে কোস্টগার্ডের পোশাকে ৮থেকে ১০ জন এবং সাদাপোশাকে আরও ছয়-সাতজন উপস্থিত ছিলেন। মিরাজকে কালো কাঁচের একটি ঘরে ঢোকানো হয়। প্রায় ৩০ মিনিট পর একটি স্পিডবোট এসে তাকে কোস্টগার্ডের হাড়বাড়িয়া ক্যাম্পের দিকে নিয়ে যায়। পরে এক ইউপি সদস্যের মাধ্যমে নম্বর জোগাড় করে হাড়বাড়িয়া কোস্টগার্ড ফাঁড়িতে ফোন করেন মুক্তা। তিনি বলেন, &lsquo;ফোন ধরে একজন জানান যে মিরাজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে। কিন্তু পরদিন সকালে মোংলার দিগরাজে কোস্টগার্ড অফিসে গেলে ডিউটিতে থাকা নতুন দল জানায়, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানে না। অতিতের গুমের ঘটনাগুলো বিশ্লেষন করলে এমনই চিত্র উঠে আসে। একই স্কিপ , একি রকম বক্তব্য। এযেন অতিতেরই পুনরাবৃত্তি।

মিরাজের মা তাসলিমা বেগম বলেন, &lsquo;আমি কোস্টগার্ডের পা ধরে বলছি, আমার ছেলেটাকে দিয়ে দেন। তারা আমাকে আর আমার ছেলের বউকে মারছে। তারপর থানায় নিয়ে মামলা দিছে। এক মাস জেলে থাকার পর বের হয়ে দেখি, গ্রামের সবাইরে মামলা দিছে, মারধর করছে, বাড়িঘর ভেঙে ফেলছে। তাদের ভয়ে সবাই রাতে পালিয়ে থাকে। আমরাও বাড়ি থাকতে পারি না তাদের জন্য।&rsquo; তিনি বলেন, &lsquo;কোস্টগার্ড আমার ছেলেকে নিয়ে গেছে, এটা সবাই দেখছে, ভিডিও আছে। এখন কোস্টগার্ডের ভয়ে কেউ কিছু বলছে না।&rsquo;

এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের উপ-পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, &lsquo;শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলে হাজার হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। এখনকার এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে সত্যিকারের সংস্কার ছাড়া এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। এটা পরিষ্কার যে বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে এই ধরনের চর্চা গেঁথে গেছে।&rsquo; &lsquo;নতুন সরকারের উচিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাঠামোগত সংস্কার ও জবাবদিহির ব্যবস্থা করা।&rsquo; বিবৃতিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার গুম প্রতিরোধ ও স্বাধীন তদন্তের লক্ষ্যে একটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। কিন্তু বর্তমান নির্বাচিত সরকার সেটি বাতিল করে নতুন একটি আইন প্রস্তাব করেছে। এই প্রস্তাবিত আইনে মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা ক্ষুন্ন হবে এবং গুমের তদন্তভার পুলিশের হাতেই থাকবে।&#39; এতের করে ন্যায় বিচারের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে।

মিরাজ শেখ নামে এক যুবক নিখোঁজ হওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, &lsquo;একজন ব্যক্তি যে কারণেই নিখোঁজ হন না কেন, তাকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব সরকারের। সরকার নিশ্চয়ই সে দায়িত্ব পালন করবে।&rsquo; এই কথার উপর আস্থা রাখতে চায় দেশবাসী। কিন্তু, সেই আস্থা কত দিন ? কত সময় রাখতে পারবে জনগন সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।

গুমের শিকার সকল নিখোঁজ মিরাজ শেখকে জরুরি ভিত্তিতে খুঁজে বের করা, প্রতিটি গুমের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন গঠন, দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গুমের শিকার ব্যক্তি ও তার পরিবারের যথাযথ পুনর্বাসন নিশ্চিত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্র ও সরকারের দায়িত্ব। রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরাগভাজন তথা নিখোঁজ হওয়ার ভয়ে মানুষ মুক্তবুদ্ধির চর্চা, মতপ্রকাশ কিংবা সরকারের বা রাষ্ট্রীয় বাহিনীর কর্মকান্ডের যে কোনও ধরনের সমালোচনা করা থেকে নিজেদের বিরত রাখে। যা প্রকৃতপক্ষে মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও সুশাসনের বিকাশে বাধাঁ। বাংলাদেশে আর যেন গুমের আতঙ্ক এখন সর্বত্র পরিব্যাপ্ত না হয় সে জন্য সরকারকেই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। গুমের মতো সমাজবিরোধী, মানবতাবিরোধী ও রাষ্ট্রবিরোধী এই অমানবিক দুষ্কর্মের অবসান ঘটানো সম্ভব কেবল ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন হবে।

মিরাজ শেখের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন গড়ে তোলা দেশের সকল রাজনৈতিক দল, জুলাইয়ের আন্দোলনের সংগঠন, বিভিন্ন সংস্থা ও অ্যাক্টিভিস্টদের গুমের ইস্যুতে সোচ্চার হওয়ার প্রয়োজন। আশা করি, হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী সরকার জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় খুঁজে বের করে অবিলম্বে মিরাজকে আদালতে হাজির করবে এবং পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। মানবাধিকার কর্মীরা দাবী করেছেন, গুম পুরোপুরি বন্ধ করতে হলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে স্বাধীনভাবে যেকোনো আটক কেন্দ্র পরিদর্শনের ক্ষমতা দিতে হবে, অন্যথায় পুরনো শাসনব্যবস্থার মতো গুমের পুনরাবৃত্তি ঘটার ঝুঁকি থেকে যাবে। এই বিষয়েও সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, মিরাজ শেখকে তারা কখনও আটক বা হেফাজতে নেয়নি। অভিযোগ পাওয়ার পর অপারেশনাল রেকর্ড, টহল কার্যক্রম ও অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান পর্যালোচনা করেও বাহিনীর সম্পৃক্ততার তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অভিযোগে উল্লেখ করা তারিখে জয়মনি এলাকায় কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাহিনীর বক্তব্য যা-ই হোক, প্রত্যেক নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা সরকারের দায়িত্ব। কোনও বাহিনী কাউকে তুলে নিয়ে গেছে কি না কিংবা একজন ব্যক্তি কেন নিখোঁজ হয়েছেন&mdash;এসব প্রশ্ন উত্থাপন এবং সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখাকে উৎসাহিত করেন। এ ধরনের প্রশ্ন ও চাপের মধ্য দিয়েই একটি গণতান্ত্রিক সমাজে &lsquo;চেক অ্যান্ড ব্যালান্স&rsquo; কার্যকর থাকে। সরকারের উচিত মানবাধিকার কমিশনের ওপর যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ দূর করা এবং গুমের ঘটনা তদন্তে তাদের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া। পুলিশের ওপর গুমের তদন্তভার ছেড়ে দিলে জবাবদিহি নিশ্চিত হবে না এবং এ ধরনের চর্চা বন্ধে প্রয়োজনীয় চাপও তৈরি হবে না।

(লেখক : রাজনীতিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলাম লেখক )
E-mail : gmbhuiyan@gmail.com

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 29 Aug 2026 09:32:25 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[একটি পরিচ্ছন্ন নান্দনিক শহরের প্রত্যাশা!]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/117832" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/117832</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[*ইদ্রাকপুর কেল্লাকে ঘিরে ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও পরিকল্পিত নগরায়ণে বদলে যেতে পারে মুন্সীগঞ্জের চিত্র

এই শহরটি আমাদের। এই শহরের আলপথ, অলিগলি, নদীর পাড় আর পুরোনো স্থাপনাগুলোর সঙ্গে মিশে আছে আমাদের পূর্বপুরুষের স্মৃতি। এই শহরের আলো-ছায়ায় আমাদের শৈশব কেটেছে, কৈশোর পেরিয়েছে, আর এখন বেড়ে উঠছে আমাদের আগামী প্রজন্ম। তাই মুন্সীগঞ্জ শুধু একটি জেলা শহর নয়&mdash;এটি আমাদের শেকড়, ইতিহাস, সংস্কৃতি, আবেগ ও অস্তিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সময় বদলেছে, বদলেছে শহরের চেহারা। বেড়েছে মানুষের সংখ্যা, বিস্তৃত হয়েছে নগরায়ণ। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে মুন্সীগঞ্জ শহর ক্রমেই তার পুরোনো সীমানা ছাড়িয়ে বিস্তৃত হতে থাকে। যে মহল্লাগুলো একসময় ছিল স্বল্পবসতিপূর্ণ, সেখানে এখন গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন ও ঘনবসতি। মানিকপুর, মাঠপাড়া, খালইস্ট, ইদ্রাকপুরসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে নগরায়ণের ছাপ এখন স্পষ্ট। কিন্তু এই পরিবর্তনের মধ্যেই প্রশ্ন উঠছে&mdash;উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কি শহরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, পরিবেশ ও নান্দনিকতাকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে?

মুন্সীগঞ্জের ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত ইদ্রাকপুর কেল্লা। শহরের প্রাণকেন্দ্রের সঙ্গে ইতিহাসের এই স্মৃতিচিহ্নের অবস্থান মুন্সীগঞ্জকে অন্য অনেক জেলা শহরের চেয়ে আলাদা পরিচয় দিয়েছে। কয়েক শতাব্দীর ইতিহাসের সাক্ষী এই কেল্লা শুধু একটি পুরোনো স্থাপনা নয়; এটি মুন্সীগঞ্জের ঐতিহাসিক পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক।

একদিকে ইদ্রাকপুর কেল্লা, অন্যদিকে ধলেশ্বরী নদী&mdash;এই দুই ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যকে কেন্দ্র করে মুন্সীগঞ্জের নগর পরিকল্পনা করা গেলে শহরটি হয়ে উঠতে পারে একটি অনন্য নান্দনিক ও পর্যটনবান্ধব নগরী। ইদ্রাকপুর কেল্লা&mdash;শহরের ইতিহাসের নীরব সাক্ষী মুন্সীগঞ্জের ব্যস্ত নগরজীবনের মাঝেও ইদ্রাকপুর কেল্লা দাঁড়িয়ে আছে অতীতের সাক্ষী হয়ে। সময়ের পরিবর্তনে চারপাশের পরিবেশ বদলে গেলেও কেল্লাটি বহন করছে ইতিহাসের দীর্ঘ স্মৃতি।

একসময় যে ভূখণ্ড ছিল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, আজ সেখানে গড়ে উঠেছে আধুনিক নগরজীবন। কিন্তু আধুনিকতার চাপে ঐতিহাসিক স্থাপনাটির চারপাশের পরিবেশ যেন হারিয়ে না যায়&mdash;এ বিষয়ে এখনই গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ইদ্রাকপুর কেল্লাকে কেন্দ্র করে একটি পরিকল্পিত ঐতিহাসিক অঞ্চল বা হেরিটেজ জোন গড়ে তোলা গেলে মুন্সীগঞ্জের পর্যটন সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়তে পারে। কেল্লার আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা, দৃষ্টিনন্দন সবুজায়ন, হাঁটার পথ, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, বসার ব্যবস্থা, তথ্যফলক এবং ঐতিহাসিক তথ্যসমৃদ্ধ উপস্থাপনা তৈরি করা গেলে এটি স্থানীয় মানুষের বিনোদনের পাশাপাশি বাইরের দর্শনার্থীদেরও আকৃষ্ট করতে পারে।

শুধু কেল্লাটি সংরক্ষণ করলেই হবে না; এর চারপাশের নগর পরিবেশও হতে হবে পরিকল্পিত ও নান্দনিক। কারণ একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা তার চারপাশের পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়।

স্মৃতির শহর থেকে বহুতল ভবনের শহর

মুন্সীগঞ্জের প্রবীণদের কাছে শহরের অতীত যেন এক অন্যরকম গল্প। একসময় শহরের মহল্লাগুলোতে মানুষ একে অপরকে চিনতেন। এক বাড়ির মানুষ অন্য বাড়ির মানুষের সুখ-দুঃখের অংশীদার ছিলেন।

কোনো একটি বাড়িতে টেলিভিশন থাকলে সন্ধ্যার পর আশপাশের মানুষজন সেখানে জড়ো হতেন। একটি উঠোনে সবাই মিলে বিটিভির অনুষ্ঠান দেখতেন। সামাজিক সম্পর্ক ছিল আন্তরিক। বিপদে-আপদে মানুষ ছুটে যেত একে অপরের পাশে।

তখন শহর হয়তো ছোট ছিল, কিন্তু মানুষের হৃদয় ছিল বড়।

আজ শহর বড় হয়েছে। মানুষের বসতি বেড়েছে। বহুতল ভবনে ছেয়ে গেছে একসময়কার অনেক খোলা জায়গা। জীবন হয়েছে দ্রুতগতির। মানুষের ব্যক্তিগত পরিসর বেড়েছে, কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ অনেক ক্ষেত্রে কমেছে। এই পরিবর্তন নগর সভ্যতার স্বাভাবিক অংশ হলেও এর সঙ্গে শহরের পরিবেশ ও নান্দনিকতা যেন হারিয়ে না যায়&mdash;সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।

নগরায়ণ হয়েছে, কিন্তু প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা

ধলেশ্বরী নদী লাগোয়া মুন্সীগঞ্জের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। ইদ্রাকপুর কেল্লার মতো ঐতিহাসিক স্থাপনা, নদী, পুরোনো মহল্লা ও স্থানীয় সংস্কৃতিকে সমন্বিত করে একটি দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনা গ্রহণ করা গেলে শহরটি হতে পারত দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় জেলা শহর।

কোথায় আবাসিক এলাকা থাকবে, কোথায় বাণিজ্যিক এলাকা, কোথায় পার্ক, কোথায় খেলার মাঠ, কোথায় উন্মুক্ত স্থান, কোথায় পার্কিং, কোথায় ফুটপাত&mdash;এসব বিষয় পরিকল্পনার আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে শহরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোকে চিহ্নিত করে সংরক্ষণ করতে হবে। উন্নয়নের নামে যেন ইতিহাস হারিয়ে না যায়, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে।

জঞ্জাল ও দখলমুক্ত শহরের প্রত্যাশা

সময়ের সঙ্গে শহরের পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে নানা নাগরিক সমস্যা। কোথাও সড়কের পাশে আবর্জনা, কোথাও ফুটপাতের ওপর দখল, কোথাও অপরিকল্পিত স্থাপনা&mdash;এসব কারণে শহরের সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একটি পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে প্রতিদিন বড় বড় অভিযান পরিচালনার চেয়ে নাগরিকদের সচেতনতা বেশি কার্যকর হতে পারে।

একজন নাগরিককে শহরের সব আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে না। শুধু নিজের ময়লাটি নির্ধারিত স্থানে ফেললেই তিনি শহর পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে অংশ নিতে পারেন। অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে প্রশাসনকে বারবার অভিযান পরিচালনা করতে হবে&mdash;এমন পরিস্থিতি তৈরি না করে নাগরিক হিসেবে সরকারি জায়গা, ফুটপাত, সড়ক কিংবা নদীর পাড় দখল না করাই দায়িত্বশীল আচরণ। আইন প্রয়োগের আগে নিজেরাই যদি আইন মানি, তাহলে শহরের অনেক সমস্যার সমাধান সহজ হয়ে যায়।

ইদ্রাকপুর কেল্লা ও ধলেশ্বরীকে ঘিরে হতে পারে নতুন পরিকল্পনা মুন্সীগঞ্জের ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনায় ইদ্রাকপুর কেল্লা ও ধলেশ্বরী নদীকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। কেল্লাকে কেন্দ্র করে একটি নান্দনিক হেরিটেজ করিডর, নদীর পাড়ে সবুজায়ন ও হাঁটার পথ, ঐতিহাসিক তথ্যসমৃদ্ধ সাইনেজ, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলা হলে পুরো শহরের সৌন্দর্য নতুন মাত্রা পেতে পারে।

এর সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে যুক্ত করা গেলে মুন্সীগঞ্জ হয়ে উঠতে পারে ইতিহাস ও আধুনিকতার এক অনন্য সমন্বিত নগরী।

দায়িত্ব শুধু প্রশাসনের নয়-

একটি সুন্দর শহর গড়ে তোলার দায়িত্ব প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের অবশ্যই রয়েছে। পরিকল্পিত উন্নয়ন, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, দখলমুক্ত পরিবেশ, সবুজায়ন, নাগরিক নিরাপত্তা এবং ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণে তাদের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। তবে নাগরিকরা যদি নিজেরাই দায়িত্বশীল না হন, তাহলে কোনো উন্নয়নই দীর্ঘস্থায়ী হবে না। ব্যবসায়ীকে দোকানের সামনে ময়লা না ফেলতে হবে। বাড়ির মালিককে নির্মাণসামগ্রী সড়কে ফেলে রাখা থেকে বিরত থাকতে হবে। পথচারীকে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধ করতে হবে। কেউ যেন ফুটপাত বা সরকারি জায়গা নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে না করেন&mdash;সেই মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

এখনো সময় আছে-

মুন্সীগঞ্জ এখনো এমন একটি পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করলে শহরকে নতুনভাবে সাজানো সম্ভব। নগরায়ণ আরও বিস্তৃত হওয়ার আগেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। দল-মত, শ্রেণি-পেশা ও ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে শহরের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সমাজ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, তরুণ প্রজন্ম এবং সাধারণ নাগরিক&mdash;সবাইকে নিয়ে একটি সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

কারণ শহর শুধু প্রশাসনের নয়, শহর নাগরিকদেরও।

আমাদের পূর্বপুরুষেরা যে শহরে বেড়ে উঠেছেন, সেই শহরের ইতিহাস যেন আগামী প্রজন্মের কাছে হারিয়ে না যায়। ইদ্রাকপুর কেল্লার মতো ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো যেন কেবল অতীতের স্মারক হয়ে না থাকে; বরং সেগুলোকে কেন্দ্র করে তৈরি হোক ভবিষ্যতের সাংস্কৃতিক ও পর্যটন সম্ভাবনা।

ধলেশ্বরীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা এই শহরটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ, নান্দনিক ও পরিকল্পিত হলে মুন্সীগঞ্জের মানুষ যেমন গর্বিত হবে, তেমনি দেশের অন্যান্য মানুষের কাছেও শহরটি হয়ে উঠতে পারে আকর্ষণের কেন্দ্র। মুন্সীগঞ্জ আমাদের। ইদ্রাকপুর কেল্লা আমাদের ইতিহাস। ধলেশ্বরী আমাদের প্রকৃতি। আর এই শহরের ভবিষ্যৎ আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।

আজ থেকেই যদি আমরা সিদ্ধান্ত নিই&mdash;

যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলব না, অবৈধ দখল করব না, আইন মানব, ঐতিহ্য সংরক্ষণ করব এবং শহরের সম্পদকে নিজেদের সম্পদ হিসেবে দেখব&mdash;তাহলে আগামী দিনের মুন্সীগঞ্জ হতে পারে আরও পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক, নিরাপদ ও বাসযোগ্য। একটি সুন্দর শহর গড়ে ওঠে শুধু ইট-পাথরে নয়; গড়ে ওঠে মানুষের দায়িত্ববোধ, ভালোবাসা ও সম্মিলিত স্বপ্নে।

সান নিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 24 Aug 2026 10:18:08 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[জলবায়ু পরিবর্তন দ্বারা সংঘটিত সংকট ও অদৃশ্য পরিণতি]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/117595" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/117595</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[জলবায়ু পরিবর্তনের কথা উঠলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে কিছু পরিচিত দৃশ্য - ভয়াবহ দাবানল, আকস্মিক বন্যা, দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ কিংবা খরায় ফেটে যাওয়া মাটি। সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং টেলিভিশনের পর্দায় এসব দৃশ্যই সবচেয়ে বেশি স্থান পায়। কারণ এগুলো তাৎক্ষণিক, দৃশ্যমান এবং উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, এগুলো জলবায়ু সংকটের কেবল দৃশ্যমান অংশ। যেমনি হিমশৈলের (Iceberg) সবচেয়ে বড় এবং গভীর অংশ লুকিয়ে থাকে পানির নিচে তেমনি জলবায়ূ পরিবর্তনের গভীর প্রভাব ও ক্ষত মিশে থাকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মাঝে যা উপর থেকে দেখা যায় না। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রকৃত ক্ষতি শুধু ঘরবাড়ি ধ্বংস বা ফসলহানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি খাদ্য নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং টেকসই উন্নয়নের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলে। এই সংকটকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে হলে আমাদের দৃশ্যমান দুর্যোগের বাইরে গিয়ে এর অন্তর্নিহিত কারণ ও সুদূরপ্রসারী প্রভাবগুলো বুঝতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

দৃশ্যমান দুর্যোগ: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রকাশ্য রূপ

বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা ও তীব্রতা ক্রমাগত বাড়ছে। অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা, দীর্ঘস্থায়ী খরা, তীব্র তাপপ্রবাহ, শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় এবং দাবানল পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে মানুষের জীবন ও জীবিকাকে বিপর্যস্ত করছে। এসব দুর্যোগ তাৎক্ষণিক প্রাণহানি, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই গণমাধ্যমের প্রধান শিরোনাম হয়। দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে সরকার ও মানবিক সংস্থাগুলো ত্রাণ ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমাদের মনোযোগ সীমাবদ্ধ থাকে তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেই, অথচ এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবগুলো অনেক বেশি গভীর এবং জটিল যা আমাদের জীবনকে দূর্বীসহ করে তোলে।

দুর্যোগের আড়ালে শুরু হয় আরেকটি সংকট

প্রতিটি জলবায়ুজনিত দুর্যোগ একটি দীর্ঘ শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়ার সূচনা করে। যখন খরায় ফসল নষ্ট হয়, তখন শুধু কৃষকের উৎপাদনই কমে না; খাদ্যের ঘাটতি দেখা দেয়, বাজারে খাদ্যের দাম বেড়ে যায় এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠী আরও বেশি খাদ্য অনিরাপত্তার মুখোমুখি হয়। কৃষক তার আয়ের উৎস হারান, পরিবারগুলো ঋণের বোঝা বহন করতে বাধ্য হয় এবং অনেক মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

একইভাবে নদী, খাল ও জলাধার শুকিয়ে গেলে শুধু পানির সংকটই সৃষ্টি হয় না; কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্যানিটেশন এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপদ পানির জন্য দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়, যা তাদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগকেও সীমিত করে।

খাদ্য নিরাপত্তার ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুতর কিন্তু কম আলোচিত প্রভাবগুলোর একটি হলো খাদ্য নিরাপত্তা। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, মাটির উর্বরতা হ্রাস, বন্যা ও খরার কারণে কৃষি উৎপাদন দিন দিন অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশের ক্ষুদ্র কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

ফসলের উৎপাদন কমে গেলে খাদ্যের দাম বেড়ে যায়। দরিদ্র পরিবারগুলো বাধ্য হয়ে কম এবং নিম্নমানের খাদ্য গ্রহণ করে। এর ফলে অপুষ্টি বৃদ্ধি পায়, বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের মধ্যে। ক্ষুধা তখন শুধু একটি মানবিক সংকট নয়; এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নেরও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা ও টেকসই খাদ্য উৎপাদনে বিনিয়োগ ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

জনস্বাস্থ্যের জন্য এক নীরব হুমকি

জলবায়ু পরিবর্তন এখন জনস্বাস্থ্যের জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অতিরিক্ত তাপপ্রবাহের কারণে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা এবং তাপজনিত অসুস্থতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন্যার কারণে নিরাপদ পানির উৎস দূষিত হয়ে কলেরা, ডায়রিয়া ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। অন্যদিকে তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে মশাবাহিত রোগ যেমন ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার বিস্তার নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অনেক হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে জরুরি চিকিৎসা প্রদান ব্যাহত হয়। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে স্বাস্থ্যখাতকে আরও শক্তিশালী ও সহনশীল করে গড়ে তোলা জরুরি।

অর্থনৈতিক ক্ষতি ও বৈষম্যের বিস্তার

জলবায়ু পরিবর্তন শুধু পরিবেশ নয়, অর্থনীতিকেও গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রতিটি দুর্যোগের পর সরকারকে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয় উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্গঠনে। ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে বিপুল বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন। তারা সঞ্চয় হারায়, ঋণগ্রস্ত হয়, অনেক ক্ষেত্রে সন্তানদের বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে দারিদ্র্যের চক্রে আটকে পড়ে। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য যেসব জনগোষ্ঠীর দায় সবচেয়ে কম, তারাই এর সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী।

বাস্তুচ্যুতি, অভিবাসন ও সামাজিক অস্থিরতা

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ তাদের বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র যেতে বাধ্য হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, উপকূলীয় লবণাক্ততা, বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে বহু এলাকা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে। ফলে জলবায়ুজনিত অভিবাসন দিন দিন বাড়ছে। অন্যদিকে সীমিত ভূমি, পানি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হওয়ায় অনেক অঞ্চলে সামাজিক উত্তেজনা, সংঘাত এবং নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তন কেবল পরিবেশগত নয়, সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু-সম্পর্কিত দুর্যোগের কারণে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ নতুন অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি ঘটেছে। ভবিষ্যতে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ এবং বৈশ্বিক অভিযোজনমূলক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু বা পরিবেশগত অভিবাসীর সংখ্যা ২ কোটি ৫০ লাখ থেকে ১০০ কোটিরও বেশি হতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে কোটি কোটি মানুষ অভ্যন্তরীণ জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হতে পারে। এর মধ্যে শুধু বাংলাদেশেই প্রায় ২ কোটি মানুষ অভ্যন্তরীণ জলবায়ু অভিবাসীতে পরিণত হতে পারে। Internal Displacement Monitoring Centre (IDMC) -এর তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে (২০১৪&ndash;২০২৩) জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ২১ কোটি ৮০ লাখ মানুষের অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি ঘটিয়েছে যা বিভিন্ন দেশে অমানবিক বিপর্যয় ডেকে আনছে।

জলবায়ু সংকট: উন্নয়নেরও বড় চ্যালেঞ্জ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রকে স্পর্শ করছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিক্ষা ব্যাহত হয়। স্বাস্থ্যসেবা দুর্বল হয়ে পড়ে। কৃষি, শিল্প ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থের একটি বড় অংশ পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনে ব্যয় করতে হয়। ফলে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন অনেক দেশের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এজন্য পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা খুবই জরুরী।

দুর্যোগের আগে বিনিয়োগই সর্বোত্তম সমাধান

জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা শুধু দুর্যোগের পর ত্রাণ বিতরণে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। প্রয়োজন জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি, নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনা, বন ও প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং কার্যকর আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা। একই সঙ্গে এমন নীতি প্রণয়ন করতে হবে, যা দুর্যোগ ঘটার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেবে এবং তাদের অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।

দৃশ্যমান ক্ষতির বাইরে তাকানোর সময় এখনই

জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি অনেক সময় চোখে দেখা যায় না। কিন্তু ধীরে ধীরে সেটিই মানুষের জীবন, জীবিকা, অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ করে। তাই শুধু বন্যা, খরা কিংবা দাবানলের ক্ষয়ক্ষতি হিসাব করলেই চলবে না। আমাদের দেখতে হবে খাদ্য সংকট, স্বাস্থ্যঝুঁকি, দারিদ্র্য, বৈষম্য, বাস্তুচ্যুতি এবং উন্নয়নের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব। এই সামগ্রিক চিত্রটি উপলব্ধি করলেই আমরা এমন নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারব, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সহনশীল, নিরাপদ এবং টেকসই পৃথিবী গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

উপসংহার: সংকটের আড়ালে গভীর সংকট

জলবায়ু পরিবর্তন কেবল একটি পরিবেশগত সংকট নয়; এটি মানবসভ্যতার অস্তিত্ব, অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য এক বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ। অতএব, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আমাদের শুধু দৃশ্যমান দুর্যোগ নয়, বরং এর অন্তর্নিহিত ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবগুলোর প্রতিও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ প্রকৃত সমাধান তখনই সম্ভব, যখন আমরা কেবল লক্ষণ নয়, সংকটের মূল কারণ এবং এর বহুমাত্রিক প্রভাব মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করব। তাহলেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সহনশীল এবং টেকসই পৃথিবী নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

লেখক: নিকোলাস বিশ্বাস একজন মিডিয়া ফ্রীল্যান্সার এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA) মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত। ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 17 Aug 2026 09:11:42 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[দেশ চালাতে প্রয়োজন গণতথ্য]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/117581" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/117581</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[সঠিক তথ্য পাওয়া আর মূল্যবান সম্পদের মালিক হওয়া একই কথা। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা রাষ্ট্র-সবার জন্যই সঠিক তথ্য অপরিহার্য, কারণ সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি হলো নির্ভরযোগ্য তথ্য। বিপরীতে, ভুল, অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে। ইতিহাস, রাজনীতি, গবেষণা, সাংবাদিকতা, ব্যবসা এবং রাষ্ট্র পরিচালনা-প্রতিটি ক্ষেত্রেই তথ্য একটি কৌশলগত সম্পদ হিসাবে বিবেচিত হয়। এ কারণেই বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বলা হয়, &lsquo;তথ্যই শক্তি&rsquo;।

তথ্যের অভাবে ঘটে যায় মহাবিপর্যয় : গোয়েন্দা সংস্থা প্রদত্ত তথ্য এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে পাওয়া তথ্যকে গুরুত্ব না দিয়ে অথবা যাচাই-বাছাই না করার কারণে বাংলাদেশে ১৯৮১ সালে মহাবিপর্যয় নেমে এসেছিল। গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট উপেক্ষা করে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও সাংগঠনিক কোন্দল নিরসন করার জন্য ১৯৮১ সালের ২৯ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীরউত্তম) চট্টগ্রামে যান। তথ্য দেওয়া হয়েছিল রাষ্ট্রপতি চট্টগ্রামে না গেলে বিএনপি ভেঙে যেতে পারে। তবে ষড়যন্ত্র আঁচ করতে পেরে গোপন রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে চট্টগ্রামে অবস্থানরত পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মনজুরকে ২৬ মের দিকে ঢাকায় কম গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি করা হয়। বদলির আদেশ পেয়ে জেনারেল মনজুর রাগে-ক্ষোভে বাঘের মতো ফুঁসতে থাকেন। বাঘের মুখে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাষ্ট্রপতি জিয়াকে ১৯৮১ সালের ২৯ মে চট্টগ্রামে কেন নেওয়া হলো, তা এখনো পর্যন্ত বড় এক এনিগমা (ধাঁধা) হয়ে আছে। পরদিন, ৩০ মে ১৯৮১-এর ভোরে রাষ্ট্রপতি জিয়ার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অবস্থানকালে ঢাকায় বদলি আদেশপ্রাপ্ত (তখনো পর্যন্ত চট্টগ্রাম সেনানিবাসে অবস্থানরত) মেজর জেনারেল আবুল মনজুরের নেতৃত্বে সংঘটিত সেনা বিদ্রোহে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শহীদ হন। প্রদত্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে চট্টগ্রামে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করলে অথবা ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিলে বাংলাদেশের ইতিহাস আজ অন্যভাবে লেখা হতো।

ইমদু উপাখ্যান : ১৯৮১ সালের ১৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জোটের প্রার্থী ড. কামাল হোসেনকে ১৯৮১ সালের ১৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পরাজিত করে বিচারপতি আবদুস সাত্তার বিজয়ী হয়ে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তার কেবিনেটের যুব প্রতিমন্ত্রী আবুল কাশেমের মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন থেকে কুখ্যাত সন্ত্রাসী ইমদাদুল হক ইমদুকে গ্রেফতার করা হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. আবদুল মতিনের নির্দেশে। ইমদু ছিলেন একাধিক হত্যা মামলার আসামি এবং সে সময়ের অন্যতম আলোচিত সন্ত্রাসী। এ ঘটনা ছিল শেষের শুরু, অর্থাৎ তৎকালীন বিএনপি সরকারের শেষ সময়। ইমদুকে খবর দেওয়া হয়, যুব প্রতিমন্ত্রী তাকে বাসায় ডেকেছেন। অথচ মন্ত্রী তখন বাসায় ছিলেন না। অল্প সময়ের মধ্যে পুলিশ এসে ইমদুকে গ্রেফতার করে। ইমদু যদি তথ্য যাচাই করতেন অথবা যুবপ্রতিমন্ত্রী আগেই তথ্য পেতেন, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতো। তবে এ ঘটনার ফলে সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা তুঙ্গে ওঠে। তিন দিন পর রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেন। এ মন্ত্রিসভায় বিতর্কিত যুব প্রতিমন্ত্রী আবুল কাশেমকে পূর্ণ মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। মন্ত্রিসভায় বাদপড়া এবং অন্তর্ভুক্তি নিয়ে রাষ্ট্রপতি সাত্তারের নেতৃত্বাধীন মূল বিএনপির সঙ্গে বিএনপির অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতার মতবিরোধ তীব্র হয়। বিক্ষুব্ধ এসব নেতা তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে সামরিক শাসন জারির জন্য গোপনে উসকানি দিতে থাকেন। দেশব্যাপী গুঞ্জন শুরু হয়ে যায়, সামরিক শাসন জারি করা হচ্ছে। সাত্তার সরকারের কাছে এ সম্পর্কিত তথ্য থাকা সত্ত্বেও তিনি অসহায় হয়ে পড়েন। কারণ, তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তিনি আগে দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি।

ষড়যন্ত্র : ১৯৯১-৯৬ সময়কালে বিএনপি ক্ষমতাসীন থাকাকালে গোপনে বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে কিছু নেতা অবস্থান নেওয়ার ফলে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল নাসিম ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে সেনা অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা করেন; যার প্রভাব নির্বাচনে পড়ে এবং আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টির সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে। বিএনপির যেসব নেতা একসময় ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছিলেন, তাদের সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য ছিল না বলে অনেকেই আবার ২০০১ সালে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।

১/১১ : ২০০৬-এর নির্বাচনের পূর্বে ক্ষমতাসীন বিএনপির কয়েকজন মন্ত্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ নেতা পার্টির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নতুন দল গঠন করলে ২০০৭ সালে ১/১১-এর কুশীলবরা দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে বিএনপিকে বিপর্যস্ত করে ফেলে। তারা বিএনপির ভেতরে একটি &lsquo;সংস্কারপন্থি&rsquo; ধারা গড়ে তোলেন। এ ধারার সঙ্গে বিএনপির দ্বন্দ্বের অবসান হলেও এর প্রভাবের কারণে বিএনপিকে ক্ষমতায় আসতে ২০ বছর সময় লেগে যায়।

গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি : ২০২৬-এ বিএনপি ক্ষমতায় আসার পাঁচ মাসের মাথায় দলের অভ্যন্তরের অবস্থা গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিনিয়ত প্রকাশিত হচ্ছে, যা শুধু অতীতকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২০২৬ সালের ৫ আগস্ট &lsquo;জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে&rsquo;র রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের &lsquo;একদফা&rsquo; ঘোষণা বিষয় নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে হট্টগোল ও উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে, তার কোনো তথ্য কেউ দিতে পারেনি সরকারের কাছে। প্রামাণ্যচিত্রে ২০২৪ সালের ৩ আগস্টের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ছাত্র-জনতার ঘোষণা করা মূল &lsquo;একদফা&rsquo; এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অবদান বাদ দিয়ে তারেক রহমানকে শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে একদফার ঘোষক হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ছাত্রনেতারা। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে এক ছাত্রনেতার ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। হট্টগোলের সময় আমন্ত্রিত বিদেশি কূটনীতিক এবং ছাত্ররা সভাস্থল ত্যাগ করলে বিষয়টি আরও জটিল আকার ধারণ করে। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন বলেন, &lsquo;ডকুমেন্টারিতে অনেক ভুল রয়েছে। প্রথম যে বিষয়টি দেখেছি, সেখানে আবু সাঈদের ছবি নেই। আবু সাঈদ এ গণ-অভ্যুত্থানের প্রতীক। তার ছবি না থাকলে এটি কোনো ডকুমেন্টারি হতে পারে না। খালেদা জিয়ার ছবিও সেখানে থাকা উচিত ছিল। বিষয়টি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এতবড় একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে কী ঘটতে যাচ্ছে অথবা কী ঘটতে পারে, তার কোনো তথ্য সরকারের কাছে কেন নেই, সে প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

উন্নয়নের স্লোগান: পুরোনো বিড়ম্বনার নতুন করে উত্থান : শুধু উন্নয়নের স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় থাকা যায় না-জেনারেল এরশাদ ৯ বছর শাসন করার পর উন্নয়নের স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় থাকতে পারেননি, শেখ হাসিনাও সাড়ে পনেরো বছর শাসন করার পর দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। কারণ তারা সঠিক রাজনীতি নির্ধারণ করতে পারেননি এবং তাদের কাছে গণতথ্য ছিল না। রাষ্ট্রপতি জিয়া জাতির সামনে সঠিক রাজনীতি নিক্ষেপ করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্নীতিমুক্ত থেকে পাঁচ বছর উন্নয়ন করেছিলেন, যা জাতি এখনো মনে রেখেছেন। একজন জাতীয়তাবাদী কখনো দুর্নীতিবাজ হতে পারে না। কারণ জাতীয় স্বার্থ মাথায় রাখলে দুর্নীতি করা যায় না। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে এবং নড়বড়ে করে দিয়ে গেছে সবকিছু। নড়বড়ে খুঁটি ধরে বর্তমান স্নায়ুযুদ্ধের টর্নেডো থেকে বাঁচা যাবে না। বাঁচতে হলে দরকার সোজা শক্ত খুঁটি-সে খুঁটি হলো নিজ দল ও বিভিন্ন দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলের নেতা, কর্মী এবং জনগণ। দেশ এবং সরকারকে বাঁচাতে হলে দেশপ্রেমিক ব্যক্তিদের থেকে তথ্য নিতে হবে, যার জন্য প্রয়োজন হয় সরকার এবং দেশপ্রেমিক ব্যক্তিদের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করা। দেশ চালাতে হয় গণতথ্যের ওপর ভিত্তি করে, যার জন্য জনগণের সঙ্গে মিশতে হয়, বন্ধুত্ব করতে হয়। চাটুকারদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে চাইলে খাদে পড়তে হয়, যার উদাহরণ হলো শেখ হাসিনা।

লেখক : মেজর (অব.) মনজুর কাদের: সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক সংসদ-সদস্য]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 16 Aug 2026 13:01:08 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ডিজিটাল লেনদেন ফ্রি করলেই মিলবে জাল ও ছেঁড়া নোটের ভোগান্তি থেকে মুক্তি]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/117356" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/117356</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[রাজধানীর একটি নামী ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে পাশের দোকানে কেনাকাটা করতে গিয়ে এক মধ্যবয়সী ভদ্রলোক চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়লেন। তাঁর হাতে থাকা এক হাজার টাকার নোটটি নিতে বিক্রেতা সাফ মানা করে দিলেন। কারণ, নোটটির এক কোণ ছেঁড়া এবং মাঝখানে স্কচটেপ লাগানো। বুথ থেকে বের হওয়া টাকা যে অচল হতে পারে, তা সাধারণ মানুষের পক্ষে ভাবা কঠিন। কিন্তু এটাই এখন দেশের নিত্যদিনের বাস্তব চিত্র। বাজারে এখন শুধু ছেঁড়া-ফাটা বা তেলচিটে নোংরা নোটের ছড়াছড়িই নয়, বরং উচ্চমূল্যের জাল নোটের উপদ্রবও আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। কাগজের টাকার এই জঞ্জাল থেকে রেহাই পেতে দেশের মানুষ যখন ডিজিটাল বা ক্যাশলেস লেনদেনের দিকে ঝুঁকতে চাইছে, তখন সেখানে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অতিরিক্ত সেবামূল্য বা ট্রানজেকশন চার্জ বা সার্ভিস চার্জ।

বর্তমানে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কাগজের টাকা ব্যবহার করা এক ধরণের মানসিক যন্ত্রণায় পরিণত হয়েছে। দশ, বিশ, পঞ্চাশ, একশ টাকার নোটগুলো হাতবদল হতে হতে এতটাই নোংরা ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে যে, সেগুলো পকেটে রাখাই অস্বস্তিকর। তার চেয়েও বড় সংকট হলো জাল নোটের বিস্তার। নিখুঁতভাবে তৈরি হওয়া এসব জাল টাকা সাধারণ মানুষের পক্ষে চেনা প্রায় অসম্ভব। ফলে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, কাগজের মুদ্রাভিত্তিক এই সনাতন লেনদেন ব্যবস্থা সাধারণ নাগরিককে প্রতিনিয়ত আর্থিক ক্ষতি ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলছে।

এই সমস্যার সমাধান কিন্তু আমাদের খুব কাছেই রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের দিকে তাকালে একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত দেখা যায়। সেখানকার একদম প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রত্যন্ত গ্রাম, ফুটপাতের চা-বিক্রেতা কিংবা সবজিওয়ালাও এখন কাগজের টাকা স্পর্শ করেন না। তাঁরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরকারি &lsquo;ইউপিআই&rsquo; প্রযুক্তির মাধ্যমে কিউআর কোড স্ক্যান করে ডিজিটাল পেমেন্ট নিচ্ছেন। এক রুপি থেকে শুরু করে যেকোনো অঙ্কের লেনদেন সেখানে একদম &#39;শূণ্য খরচে&#39; করা সম্ভব হচ্ছে। অথচ আমাদের দেশে বিকাশ বা নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং সেবাগুলো প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে গেলেও তা সাধারণ মানুষের জন্য পুরোপুরি সাশ্রয়ী হতে পারেনি। এখানে একজন গ্রাহককে এক হাজার টাকা ক্যাশ-আউট করতে সর্বনিম্ন ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি গুণতে হয়। এমনকি এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে গেলেও ফি দিতে হচ্ছে। একজন নিম্নআয়ের মানুষের কাছে এই সামান্য চার্জও অনেক বড় বোঝা। ফলে সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত খরচের ভয়ে মানুষ বাধ্য হয়ে কাগজের নোংরা ও ঝুঁকিপূর্ণ টাকা পকেটে নিয়ে ঘুরছেন।

বাংলাদেশকে যদি সত্যিকার অর্থে ক্যাশলেস বা ডিজিটাল অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে হয়, তবে এই লেনদেন প্রক্রিয়াকে সাধারণ মানুষের জন্য পুরোপুরি নিখরচায় রূপ দিতে হবে। ডিজিটাল লেনদেন ফ্রি করা হলে সরকারের নিজস্ব বড় অঙ্কের সাশ্রয় হবে। কারণ, ছেঁড়া-ফাটা ও পুরোনো নোট বাজার থেকে তুলে নিয়ে নতুন নোট ছাপাতে প্রতি বছর বাংলাদেশ ব্যাংকের শত শত কোটি টাকা ব্যয় হয়। লেনদেন পুরোপুরি ডিজিটাল হলে এই বিপুল অঙ্কের রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় বন্ধ হবে। একই সাথে, প্রতিটি লেনদেনের ডিজিটাল রেকর্ড থাকার কারণে জাল নোটের কারবার এক ধাক্কায় বন্ধ হয়ে যাবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে ইতোমধ্যে &#39;বাংলা কিউআর&#39; ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এখন প্রয়োজন এর আওতা বাড়ানো এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য একে সম্পূর্ণ ফ্রি বা চার্জমুক্ত ঘোষণা করা। প্রয়োজনে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকার থেকে নীতিগত ছাড় বা বিশেষ প্রণোদনা দিয়ে হলেও সাধারণ গ্রাহকের জন্য মার্চেন্ট পেমেন্ট এবং পার্সন-টু-পার্সন লেনদেনের খরচ শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে।

মনে রাখতে হবে, ডিজিটাল লেনদেন এখন আর কোনো বিলাসিতা বা আধুনিকতার অনুষঙ্গ নয়; এটি নাগরিক স্বস্তি, জাল নোটের অভিশাপ থেকে মুক্তি এবং একটি পরিচ্ছন্ন অর্থনীতি গড়ার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। কাগজের মুদ্রার ভোগান্তি থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে এবং স্মার্ট অর্থনীতি বিনির্মাণে ক্যাশলেস লেনদেনকে সম্পূর্ণ ফ্রি করার বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।

সাংবাদিক ও কলামিস্ট

সান নিউজ/ জামান]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 11 Aug 2026 07:25:06 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[চিকিৎসক নিরাপদ থাকলেই বদলাবে স্বাস্থ্যসেবার চিত্র]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/117241" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/117241</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। মাতৃ ও শিশুমৃত্যু কমানো, টিকাদান কর্মসূচির বিস্তার, সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং বিশেষায়িত চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে দেশ এগিয়েছে। তবে একই সময়ে জনসংখ্যার পরিবর্তন, অসংক্রামক রোগের বিস্তার, বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আধুনিক চিকিৎসার প্রতি মানুষের প্রত্যাশা স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে।

এই বিশাল ব্যবস্থার কেন্দ্রে রয়েছেন চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণির স্বাস্থ্যকর্মী। ফলে চিকিৎসকদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা কোনো নির্দিষ্ট পেশাজীবী গোষ্ঠীর দাবি-দাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছে দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার এবং স্বাস্থ্যসেবার মান।

চিকিৎসক হতে দীর্ঘ পথ, কর্মজীবনে আরও দীর্ঘ চাপ

একজন চিকিৎসক তৈরি হতে বছরের পর বছর শিক্ষা, ইন্টার্নশিপ, প্রশিক্ষণ, উচ্চতর ডিগ্রি ও ধারাবাহিক পেশাগত শিক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু কর্মজীবনে প্রবেশের পর বাস্তব পরিস্থিতি অনেক সময় তাদের প্রত্যাশার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে দাঁড়ায়।

বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হলেও চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা সেই অনুপাতে পর্যাপ্ত নয়। ফলে অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক রোগী দেখার চাপ তৈরি হয়।

একজন রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস জানা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা পর্যালোচনা করা, রোগ সম্পর্কে বোঝানো এবং চিকিৎসার সম্ভাব্য ঝুঁকি ব্যাখ্যা করার জন্য পর্যাপ্ত সময় দরকার। কিন্তু অতিরিক্ত রোগীর চাপের মধ্যে সেই সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। এর ফলে রোগীর মনে হয় চিকিৎসক তাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। অন্যদিকে চিকিৎসকও মনে করেন, সীমিত সময় ও সুযোগের মধ্যে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

এভাবেই ধীরে ধীরে চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে দূরত্ব এবং ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসক ধরে রাখা কেন কঠিন

সরকারি চিকিৎসকদের জেলা, উপজেলা ও দুর্গম এলাকায় পদায়ন করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে তাদের সেখানে দীর্ঘদিন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। বিষয়টিকে কেবল চিকিৎসকদের শহরমুখী প্রবণতা বা দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা হিসেবে দেখলে সমস্যার মূল কারণগুলো আড়ালে থেকে যায়।

দুর্গম অঞ্চলের অনেক হাসপাতালে চিকিৎসকদের জন্য মানসম্মত আবাসন নেই। সন্তানদের ভালো স্কুল, জীবনসঙ্গীর কর্মসংস্থান, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধার অভাবও একটি বড় বিষয়।

এর সঙ্গে যুক্ত হয় হাসপাতালের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। পর্যাপ্ত ওষুধ, আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা, চিকিৎসা সরঞ্জাম, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও সহায়ক কর্মী না থাকলে একজন চিকিৎসক চাইলেও নিজের দক্ষতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারেন না।

একজন সার্জনের জন্য আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, প্রশিক্ষিত নার্স ও অ্যানেসথেশিয়া টিম অপরিহার্য। একইভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ থাকা দরকার। এসব না থাকলে চিকিৎসককে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার সঙ্গেও লড়াই করতে হয়।

তাই প্রত্যন্ত অঞ্চলে শুধু চিকিৎসক পাঠালেই সমস্যার সমাধান হবে না। সেখানে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজ করার মতো পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

চিকিৎসকদেরও জবাবদিহির আওতায় থাকতে হবে

স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতিটি সমস্যার দায় সরকার, প্রশাসন কিংবা রোগীর ওপর চাপিয়ে দিলে সমাধান অসম্পূর্ণ থাকবে। চিকিৎসক সমাজেরও নিজেদের ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়ে আত্মসমালোচনা করা জরুরি।

সরকারি কর্মঘণ্টায় কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা, যথাসময়ে রোগী দেখা, পেশাগত নৈতিকতা বজায় রাখা এবং রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ একজন চিকিৎসকের মৌলিক দায়িত্ব।

সরকারি দায়িত্বের সময় ব্যক্তিগত চেম্বারে ব্যস্ত থাকা, অপ্রয়োজনীয়ভাবে রোগীকে নির্দিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া কিংবা দায়িত্ব পালনে অবহেলা&mdash;এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

অবশ্য বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা দিয়ে পুরো চিকিৎসক সমাজকে বিচার করা ঠিক নয়। তবে অল্পসংখ্যক চিকিৎসকের অনিয়মও পুরো পেশার প্রতি মানুষের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ, অভিযোগ তদন্ত এবং ন্যায্য জবাবদিহির কার্যকর ব্যবস্থা থাকা দরকার।

তবে জবাবদিহির পাশাপাশি চিকিৎসকদের জন্য ন্যায্য কর্মপরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে। দীর্ঘ সময় কাজ, রাতের ডিউটি, জরুরি সেবা ও অতিরিক্ত রোগীর চাপের মধ্যে কাজ করতে হলে ক্লান্তি ও মানসিক চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তাই চিকিৎসকদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ পেশাগত মান প্রত্যাশার পাশাপাশি তাদের বিশ্রাম, ছুটি, বেতন ও কর্মঘণ্টার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার।

আস্থার সংকটে চিকিৎসক ও রোগী উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত

চিকিৎসা বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। চিকিৎসকের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার পরও প্রতিটি রোগী সুস্থ হবে&mdash;এমন নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। রোগের জটিলতা, হাসপাতালে আসতে দেরি, বিদ্যমান স্বাস্থ্যঝুঁকি কিংবা চিকিৎসার স্বাভাবিক জটিলতার কারণেও রোগীর অবস্থার অবনতি হতে পারে।

কিন্তু রোগী ও স্বজনদের এসব বিষয় যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা না হলে তারা অনেক সময় ঘটনাটিকে চিকিৎসকের অবহেলা হিসেবে দেখতে পারেন।

আবার রোগীর সঙ্গে রূঢ় আচরণ, চিকিৎসা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা না করা কিংবা স্বজনদের প্রশ্নের উত্তর না দেওয়াও পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।

তাই চিকিৎসকদের চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাশাপাশি কার্যকর যোগাযোগ, সহমর্মিতা এবং সংকটময় পরিস্থিতিতে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন।

একই সঙ্গে রোগী ও স্বজনদেরও মনে রাখতে হবে, চিকিৎসক চিকিৎসার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে পারেন; কিন্তু প্রতিটি পরিস্থিতিতে কাঙ্ক্ষিত ফল নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

চিকিৎসককে হেনস্তা নয়, দরকার কার্যকর অভিযোগ ব্যবস্থা

হাসপাতালে চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর হামলা, হুমকি কিংবা ভাঙচুর কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারে না। এতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ে এবং ভবিষ্যতে রোগীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হন।

প্রতিটি হাসপাতালে দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা থাকা জরুরি। রোগী বা স্বজনের অভিযোগ থাকলে সেটি তদন্তের সুযোগ থাকতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের নামে চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মী যেন অযৌক্তিক হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করা দরকার।

অর্থাৎ স্বাস্থ্যসেবায় জবাবদিহি এবং নিরাপত্তা&mdash;দুটিকেই পাশাপাশি দেখতে হবে।

দরকার দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় পরিকল্পনা

দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় পরিকল্পনা প্রয়োজন।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করা চিকিৎসকদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা, নিরাপদ আবাসন, পরিবারের সদস্যদের শিক্ষা ও চিকিৎসাসুবিধা এবং নির্দিষ্ট সময় পর অগ্রাধিকারভিত্তিতে বদলির ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।

দুর্গম এলাকায় সফলভাবে দায়িত্ব পালনকারীদের উচ্চশিক্ষা, প্রশিক্ষণ, পদোন্নতি ও ফেলোশিপের ক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগ দিলে এসব এলাকায় কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়তে পারে।

তবে শুধু চিকিৎসক বাড়ালেই স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী হবে না। একটি হাসপাতাল কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য চিকিৎসকের পাশাপাশি নার্স, ফার্মাসিস্ট, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, অ্যানেসথেশিয়া টিম, বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ও প্রশাসনিক কর্মী প্রয়োজন।

প্রযুক্তি পারে স্বাস্থ্যসেবার ব্যবধান কমাতে

ডিজিটাল প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার স্বাস্থ্যসেবার অনেক সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারে। ডিজিটাল উপস্থিতি ব্যবস্থাপনা, ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড, টেলিমেডিসিন এবং কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা চিকিৎসাসেবায় স্বচ্ছতা ও ধারাবাহিকতা আনতে পারে।

দুর্গম এলাকার চিকিৎসকরা টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ পেলে অনেক রোগীকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বড় শহরের হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজন কমতে পারে।

একই সঙ্গে চিকিৎসকদের নিয়মিত কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন, পেশাগত নৈতিকতা প্রশিক্ষণ, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।

স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সবার ভূমিকা আছে

একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সরকারের একার দায়িত্ব নয়। চিকিৎসকদের দায়িত্ব হলো সততা, দক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে সেবা দেওয়া। সরকারের দায়িত্ব পর্যাপ্ত অর্থায়ন, জনবল, অবকাঠামো ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। প্রশাসনের কাজ হলো কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা।

গণমাধ্যমকেও স্বাস্থ্য খাতের সমস্যা তুলে ধরার সময় তথ্য ও প্রেক্ষাপটের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হবে। কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে পুরো চিকিৎসক সমাজের চিত্র হিসেবে উপস্থাপন করলে জনআস্থার সংকট আরও বাড়তে পারে।

অন্যদিকে নাগরিকদেরও অভিযোগ বা অসন্তোষ প্রকাশের ক্ষেত্রে আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণ পথ অনুসরণ করা উচিত।

চিকিৎসককে বাঁচানো মানে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা

একটি দক্ষ, নিরাপদ ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে চিকিৎসকদের কাজের পরিবেশকে গুরুত্ব দিতে হবে। চিকিৎসকদের জন্য নিরাপত্তা, পর্যাপ্ত জনবল, আধুনিক অবকাঠামো, ন্যায্য কর্মপরিবেশ ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়; এটি জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিনিয়োগ।

একই সঙ্গে চিকিৎসকদেরও নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব, নৈতিকতা ও জবাবদিহির মান আরও শক্তিশালী করতে হবে।

রাষ্ট্র, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও জনগণ&mdash;সব পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগেই চিকিৎসক-রোগীর আস্থা পুনর্গঠন সম্ভব। আর সেই আস্থা ফিরে এলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাও আরও দক্ষ, মানবিক, নিরাপদ ও টেকসই হয়ে উঠবে।

লেখক: ডা. আরমান রেজা চৌধুরী, সিনিয়র কনসালটেন্ট, রেডিয়েশন অনকোলজি, এভারকেয়ার হাসপাতাল, ঢাকা

সান নিউজ/ জামান]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 08 Aug 2026 07:49:18 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০২৬ : বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশে মর্যাদা ও অধিকার চাই]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/117228" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/117228</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[আদিবাসী জনগণের অধিকার সংরক্ষণ এবং তাদের নানামুখী চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছর ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়। এ দিবসটি সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, ঐতিহ্যগত জ্ঞান, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নে আদিবাসী জনগণের অসামান্য অবদানকেও স্বীকৃতি জানায়। ২০২৬ সালের জাতিসংঘের প্রতিপাদ্য : &ldquo;জীবন রক্ষা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে আদিবাসী ধাত্রীদের অনন্য অবদানকে সম্মান জানানো&rdquo; যা মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, কল্যাণ ও ঐতিহ্যগত জ্ঞানের সংরক্ষণ নিশ্চিতকরণের ওপর আলোকপাত করে।

বাংলাদেশে আদিবাসী জনগণের বর্তমান পরিস্থিতি

বাংলাদেশ তার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। এ দেশ বৈচিত্র্যময় জাতিগত ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের এক অনন্য আবাসস্থল। সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি এখানে ৫৪টিরও বেশি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস, যারা অন্তত ৩৫টি ভিন্ন ভাষায় কথা বলে। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, দেশে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ ৫০ হাজার, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ। তবে আদিবাসী সংগঠনগুলোর মতে, প্রকৃত সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখের কাছাকাছি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা, ম্রো, বম, সাঁওতাল, ওঁরাও, গারো, মাহাতো, পাংখোয়া, রাখাইন, মুন্ডা, মণিপুরীসহ বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠী যুগ-যুগ ধরে তাদের স্বতন্ত্র ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বজায় রেখে বসবাস করে আসছে।

আমাদের সংবিধান ও সমঅধিকারের অঙ্গীকার

বাংলাদেশের সংবিধান সমতা ও ন্যায়বিচারের একটি শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করেছে। সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে সকল নাগরিকের আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং আইনের সমান সুরক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। ২৮ অনুচ্ছেদে ধর্ম, বর্ণ, জাত, লিঙ্গ কিংবা জন্মস্থানের ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং জনজীবনের সকল ক্ষেত্রে নারীর সম-অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। তবে আরও স্পষ্টীকরণের জন্য সংবিধানে &lsquo;জাতিসত্তা (Ethnicity) অথবা আদিবাসী (Indigenous Peoples)&rsquo; শব্দটির অন্তর্ভুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বাংলাদেশ ১৯৭২ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) কনভেনশন নং ১০৭ অনুসমর্থন করলেও, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় এখনো উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। ২০১১ সালের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে দেশের জাতিগত বৈচিত্র্য স্বীকৃত হলেও, আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে আনুষ্ঠানিকভাবে &lsquo;আদিবাসী জনগণ (Indigenous Peoples)&rsquo; হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। যদিও কিছু সাংস্কৃতিক অধিকার স্বীকৃত হয়েছে, ভূমির মালিকানা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং অর্থনৈতিক অধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা, বিশেষ করে আইএলও -এর Committee of Experts on the Application of Conventions and Recommendations (CEACR), বার বার গুরুত্বারোপ করেছে যে, এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে; যেখানে আদিবাসী জনগণ তাদের মৌলিক অধিকার পূর্ণাঙ্গভাবে ভোগ করতে পারেন।

আদিবাসী নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা

সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, বাংলাদেশে আদিবাসী নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা এখনও একটি গুরুতর মানবাধিকার সংকট। Kapaeeng Foundation -এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৩২ জন আদিবাসী নারী ও কন্যাশিশুকে কেন্দ্র করে মোট ২৯টি সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা, হত্যা, নির্যাতন এবং যৌন হয়রানির মতো অপরাধ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব ঘটনা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আদিবাসী নারীদের চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার প্রতিফলন। তবে প্রকৃত ঘটনার সংখ্যা আরো অনেক বেশি বলে ধারণা করা হয়।

প্রতিশোধের আশঙ্কা, সামাজিক কলঙ্ক, ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা, আইনি সহায়তা ও সহায়ক সেবায় সীমিত প্রবেশাধিকার এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাহীনতার কারণে আদিবাসী নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতার বহু ঘটনাই নথিভুক্ত হয় না। এসব প্রতিবন্ধকতা শুধু ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করে না; বরং সহিংসতা, প্রান্তিকীকরণ এবং বৈষম্যের চক্রকে দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে। তাই জরুরি ভিত্তিতে আরও শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, কার্যকর বিচারিক প্রক্রিয়া, ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক সহায়তা ব্যবস্থা এবং অর্থবহ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তানা হলে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর এ অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব হবে না।

বিচার বিলম্বিত মানেই বিচার থেকে বঞ্চিত।

&ldquo;বিচার বিলম্বিত মানেই বিচার থেকে বঞ্চিত&rdquo; - এই বহুল প্রচলিত উক্তিটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এক নির্মম প্রতিচ্ছবি। সহিংসতার অসংখ্য বেঁচে থাকা মানুষের জন্য বিচার শুধু ধীরগতির নয়, অনেক ক্ষেত্রেই তা অধরাই থেকে যায়। তদন্তে বিলম্ব, দীর্ঘসূত্রিতা, পূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়া, যথাযথ প্রমাণ সংগ্রহে ব্যর্থতা, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বহু ক্ষেত্রে অপরাধীদের জবাবদিহিতার অভাব বিচারপ্রাপ্তিকে বাধাগ্রস্ত করে। এর ফলে বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি ও ভুক্তভোগীরা অভিযোগ জানাতে নিরুৎসাহিত হন। এতে দায়মুক্তির সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি : উনত্রিশ বছরের অপূর্ণ বাস্তবায়ন

১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় তিন দশক পরও এর বহু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল অধিকতর স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা, ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধের কার্যকর সমাধান এবং পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের মাধ্যমে একটি স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করা। পরবর্তী বিভিন্ন সরকার চুক্তির বিভিন্ন ধারা বাস্তবায়নে অগ্রগতির কথা উল্লেখ করলেও আদিবাসী প্রতিনিধিদের মতে, অর্থবহ বিকেন্দ্রীকরণ, কার্যকর ভূমি কমিশন প্রতিষ্ঠা এবং দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তিসহ বেশ কয়েকটি মৌলিক প্রতিশ্রুতি এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে। এই বাস্তবায়ন ঘাটতি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে অনিশ্চয়তা ও অবিশ্বাসকে আরও গভীর করেছে।

অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপের এক নতুন সুযোগ

সম্প্রতি সমতলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সংরক্ষিত মহিলা আসন ১৯ -এর সংসদ সদস্য আন্না মিনজের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি সাক্ষাতে অংশ নেয়। বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে প্রতিনিধিরা তাদের ন্যায্য দাবিসমূহ তুলে ধরে একটি সুপারিশপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন। আদিবাসী নেতৃবৃন্দের এই উদ্যোগ নতুন করে দেশের জাতীয় আলোচনায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে।

অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ নির্মাণ

সংলাপ, সহনশীলতা এবং সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ বহু জাতীয় সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করেছে। একই অঙ্গীকার এখন প্রয়োজন, যাতে আদিবাসী জনগোষ্ঠীও সংবিধানের পূর্ণ সুরক্ষা এবং অন্যান্য নাগরিকের মতো সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারে। তাদের কল্যাণে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো দ্রুত বিবেচনার দাবি রাখে :

ভূমি বিরোধের সমাধান : আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সরকারকে একটি কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একইসঙ্গে সমতলের আদিবাসীদের জন্য একটি পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করা জরুরি।

ন্যায়বিচারকে শক্তিশালী করা : আদিবাসী নারী ও কন্যাশিশুর ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত আইনি সহায়তা, সুরক্ষা, দ্রুত তদন্ত এবং কার্যকর বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তি : জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় আদিবাসী ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক সংরক্ষণ ও বিকাশ নিশ্চিত করতে হবে।

প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি : জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে এমনভাবে শক্তিশালী করতে হবে, যাতে তারা আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় মানবাধিকার পরিস্থিতির নিয়মিত ও স্বাধীন পর্যবেক্ষণ পরিচালনা করতে পারে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন : পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে, সকল অংশীজনের মধ্যে নতুন করে গঠনমূলক সংলাপ শুরু করা অপরিহার্য।

বৈচিত্র্যের মধ্য দিয়েই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ

বাংলাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠী এ দেশের বাইরের কেউ নয়, বরং তারা এই রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম অংশীদার। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বহু সদস্য, বাঙালি সহযোদ্ধাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছেন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। দেশের প্রতি তাদের এই অবদান শুধু আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির মাধ্যমে নয়, বরং তাদের অধিকার, মর্যাদা এবং সমান নাগরিকত্ব নিশ্চিতকারী নীতিমালার মাধ্যমে যথাযথভাবে মূল্যায়িত হওয়া উচিত।

বাংলাদেশের শক্তি কখনোই সাংস্কৃতিক একরূপতার ওপর নির্ভর করেনি। বরং এর প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে বৈচিত্র্যের সমৃদ্ধিতে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষায়। তাই আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি এবং পূর্বপুরুষের ভূমি রক্ষা করা কোনো সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতি দয়া প্রদর্শন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং টেকসই ভবিষ্যতের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।

উন্নয়নকর্মী এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA) মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত লেখক।

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 08 Aug 2026 05:33:37 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[৫ আগস্ট: গণঅভ্যুত্থানের বিজয়, নতুন বাংলাদেশের পথচলা ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য ]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/117105" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/117105</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কিছু দিন কেবল একটি তারিখ নয়; সেগুলো একটি জাতির সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে ওঠে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তেমনই একটি দিন, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক চাপ, নাগরিক অধিকার নিয়ে উদ্বেগ এবং রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পর্কে জনঅসন্তোষের প্রেক্ষাপটে ছাত্র-জনতার আন্দোলন এক পর্যায়ে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এই আন্দোলন শুধু একটি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ছিল না; বরং রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি, আইনের শাসন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার দাবির বহিঃপ্রকাশও ছিল।

এই আন্দোলনের সূচনা হয় ২০২৪ সালের জুন মাসে সরকারি চাকরির কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। শুরুতে এটি ছিল একটি নির্দিষ্ট দাবিকেন্দ্রিক কর্মসূচি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হতে থাকেন শিক্ষক, অভিভাবক, পেশাজীবী, শ্রমজীবীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ফলে এটি ধীরে ধীরে একটি বৃহত্তর গণআন্দোলনের রূপ লাভ করে।

জুলাই মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও আন্দোলনের গতি থেমে থাকেনি। বরং জনসম্পৃক্ততা ক্রমেই বৃদ্ধি পায়। আন্দোলনকারীরা সুশাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি সামনে নিয়ে আসেন।

এই ধারাবাহিকতার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ৫ আগস্ট ঘোষিত &lsquo;লং মার্চ টু ঢাকা&rsquo; কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ এতে অংশ নেন। দিনটির ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন বাস্তবতার সূচনা করে। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গঠনের পথ তৈরি হয় এবং রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়।

পরবর্তীকালে ৫ আগস্টকে রাষ্ট্রীয়ভাবে &lsquo;জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস&rsquo; হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আন্দোলনের ধারাবাহিকতাকে প্রতীকী অর্থে অনেকেই &lsquo;৩৬ জুলাই&rsquo; নামে অভিহিত করতে শুরু করেন। এই প্রতীকী নামটি শুধু একটি তারিখের ব্যতিক্রম নয়; বরং আন্দোলনের দীর্ঘায়িত সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার স্মারক হিসেবেও বিবেচিত হয়।

বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেক রাজনৈতিক আন্দোলন হয়েছে, কিন্তু প্রতিটি আন্দোলনের গুরুত্ব নির্ধারিত হয়েছে তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের মাধ্যমে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানও সেই অর্থে শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনা নয়; এটি রাষ্ট্র, সমাজ ও জনগণের সম্পর্ককে নতুনভাবে মূল্যায়নের একটি সুযোগ তৈরি করেছে। এই আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে, যেখানে আইনের শাসন, জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং নাগরিক অধিকার কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

তবে যে কোনো গণঅভ্যুত্থানের সাফল্য কেবল ক্ষমতার পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে সেই আন্দোলনের চেতনা কতটা রাষ্ট্র পরিচালনা, নীতিনির্ধারণ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রতিফলিত হয় তার ওপর। তাই ৫ আগস্টের তাৎপর্য মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল&mdash;কীভাবে রাষ্ট্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধার করা হবে এবং জনগণের প্রত্যাশাকে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নেওয়া হবে। এই প্রেক্ষাপটে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। তাদের ওপর অর্পিত প্রধান দায়িত্ব ছিল প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করা।

রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠন ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। সে লক্ষ্যে প্রশাসন, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকারিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা দূর করতে বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন করা হয় এবং রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে নীতিগত পরিবর্তনের প্রস্তাব সামনে আসে।

একই সময়ে জুলাই-আগস্টের সহিংস ঘটনায় নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠা এবং আইনের শাসনের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কারণ, কোনো গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত সাফল্য তখনই অর্থবহ হয়, যখন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করা যায়।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ, জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগে স্থবিরতা অর্থনীতিকে কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করায়। এই বাস্তবতায় অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার এবং বৈদেশিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রচেষ্টাও অব্যাহত থাকে।

তবে রাষ্ট্র সংস্কার কখনোই স্বল্প সময়ে সম্পন্ন হওয়ার মতো কাজ নয়। প্রশাসনিক জটিলতা, রাজনৈতিক মতপার্থক্য, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যার কারণে অনেক সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়নে সময়ের প্রয়োজন হয়। তবুও এই সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার যে আলোচনা শুরু হয়, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের পরিবেশ তৈরি হয় এবং একটি অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি এগিয়ে চলে। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে দেশে একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ সুগম হয়।
এই সময়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষা ছিল&mdash;গণঅভ্যুত্থান শুধু সরকার পরিবর্তনের ঘটনা নয়; এটি রাষ্ট্র পরিচালনার সংস্কৃতি পরিবর্তনেরও আহ্বান। জনগণ এমন একটি বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে, যেখানে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবর্তে গণতান্ত্রিক সহাবস্থান, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের পরিবর্তে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, আর দুর্নীতির পরিবর্তে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা পাবে। সেই প্রত্যাশাই নতুন সরকারের জন্য ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা হয়ে ওঠে।

অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আবারও নির্বাচিত সরকারের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করে। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া রাজনৈতিক উত্তরণের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। জনগণের প্রত্যাশা ছিল&mdash;নির্বাচনের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ফিরে এসেছে, তা যেন সুশাসন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে আরও সুদৃঢ় হয়।

নতুন সরকারের সামনে প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ ছিল অর্থনীতির গতি পুনরুদ্ধার করা। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের সংকট, বিনিয়োগে স্থবিরতা, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলেছিল। ফলে বাজার স্থিতিশীল রাখা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং উৎপাদনমুখী খাতকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

জ্বালানি নিরাপত্তাও ছিল সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। শিল্পোৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে। একই সঙ্গে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছিল জনগণের অন্যতম প্রধান প্রত্যাশা। একটি নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণে অপরাধ দমন, বিচারপ্রক্রার প্রতি জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করার বিষয়টিও রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি নতুন সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হয়ে ওঠে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের আস্থা অর্জন, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর উদ্যোগও সময়ের দাবি হয়ে ওঠে।

তবে ইতিহাসের অভিজ্ঞতা বলে, সরকার পরিবর্তন কোনো দেশের সব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান নয়। টেকসই উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে প্রয়োজন শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, কার্যকর সংসদ, দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং সচেতন নাগরিক সমাজ। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন সংলাপ, সহনশীলতা এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে&mdash;এটিই একটি পরিণত গণতন্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

পরিশেষ বলা যায়,৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের স্মারক নয়; বরং জনগণের অধিকার, অংশগ্রহণ এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশার প্রতীক। সেই প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে ক্ষমতাসীন দল, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজ&mdash;সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।নতুন বাংলাদেশের পথচলা তখনই সফল হবে, যখন উন্নয়নের পাশাপাশি গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ সমান গুরুত্ব পাবে। ৫ আগস্ট তাই শুধু অতীতের একটি স্মরণীয় দিন নয়; এটি ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনের এক স্থায়ী প্রেরণা, যেখানে রাষ্ট্র ও জনগণের সম্পর্ক হবে আরও আস্থাশীল, অংশগ্রহণমূলক এবং গণতান্ত্রিক।

লেখক : কলাম লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান : জাতীয় রোগী কল্যান সোসাইটি

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 04 Aug 2026 08:27:14 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ড. মুহাম্মদ ইউনূস: করিডোরের কৌশলগত ভবিষ্যৎ]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/116795" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/116795</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাংলাদেশের মানচিত্রের দিকে একটু ভালো করে তাকালে দেখা যায় উপরে হিমালয়ের দক্ষিণ ঢাল আর নিচে বঙ্গোপসাগরের বিপুল জলরাশি, ঠিক তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে এক টুকরো জমি। বাহ্যিকভাবে দেখে মনে হতে পারে এ যেন কেবলই নদী আর পলল মাটির দেশ। কিন্তু ভূরাজনীতির সমীকরণ বলছে অন্য কথা।

ভারত, চীন আর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ঠিক ত্রিভুজাকার মোহনায় অবস্থান হওয়ায় এই মাটির প্রতিটা সেন্টিমিটার এখন আন্তর্জাতিক শক্তির খেলায় এক একটা দাবার গুঁটি। এই যে চারপাশে করিডোর, ট্রানজিট আর সংযোগের নানা আওয়াজ উঠছে, এগুলো কি স্রেফ দুটো গাড়ির চাকা চলার রাস্তা? একদম নয়। রাস্তা বা বন্দর বানানো কোনোদিনই কেবল সিমেন্ট-কংক্রিটের হিসাব থাকে না। এর আড়ালে লুকিয়ে থাকে ক্ষমতার ভারসাম্য, গোয়েন্দা নজরদারি আর এক দেশের কাঁধে অন্য দেশের নিরাপত্তার ভার সঁপে দেওয়ার গভীর ছক। তাই করিডোর নিয়ে যখনই আমাদের দেশে তর্ক ওঠে, তখন শুধু কত টাকা লাভ হলো আর কত টাকা মাশুল পাওয়া গেল&mdash;সেসব খুচরো অঙ্কে মাপা চরম বোকামি। এটা সোজা হিসাব, ভারতের সাতটি বোন বা &lsquo;সেভেন সিস্টার্স&rsquo;কে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে দ্রুত জোড়ার জন্য ভারতের ব্যাকুলতা নতুন কিছু নয়। মাত্র ২২ কিলোমিটারের সংকীর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর বা &lsquo;চিকেনস নেক&rsquo; তাদের মাথার ওপর এক মস্ত বড় নিরাপত্তার তলোয়ার হয়ে ঝুলছে। তাই আমাদের ভেতর দিয়ে কম খরচে কম সময়ে পণ্য আর ট্রেন পৌঁছানোর চাহিদা তাদের বহুদিনের। অন্যদিকে চীন চাচ্ছে কুনমিং থেকে একদম কলকাতার বুক ছুঁয়ে যাওয়া বিসিআইএম অর্থনৈতিক করিডোরের মাধ্যমে এই অঞ্চলে নিজের পণ্যের জোয়ার ভাসিয়ে দিতে। ওদিকে আবার মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে যা চলছে, সেসবকে উসিলা করে জাতিসংঘের ছাতার তলে &lsquo;মানবিক করিডোর&rsquo; বানানোর নতুন পরিকল্পনা । রাস্তাগুলোর নাম আলাদা, উদ্দেশ্য আলাদা, কিন্তু দিনশেষে আমাদের দেশের জন্য প্রশ্নটা এক&mdash;কোনো দেশের সুবিধার্থে কি নিজের স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়া যায়?
এখানে সবচেয়ে বড় কথা হলো সার্বভৌমত্ব।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাস খুব নিষ্ঠুরভাবে আমাদের শেখায়, চমৎকার ভৌগোলিক অবস্থান যেমন একটা দেশের ভাগ্য বদলে দিতে পারে, ঠিক তেমনি তা আবার ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ দুর্যোগ। ইতিহাস খুলে দেখুন না, মধ্য এশিয়ার বিশাল সমভূমি কিংবা পূর্ব ইউরোপের ছোট ছোট দেশগুলো কীভাবে শক্তিকেন্দ্রগুলোর রেষারেষির কারণে ছারখার হয়ে গেছে। তারা করিডোর দিতে গিয়ে নিজেদের ঘরকেই পরের যুদ্ধের ময়দান বানিয়ে ফেলেছিল। বাংলাদেশের ভুল করার কোনো সুযোগ নেই। একটা চুক্তি করে সামান্য কিছু ডলার পকেটে ভরলাম, আর সেই ফাঁকে বিদেশি সৈন্য, গোয়েন্দা কিংবা নিরাপত্তা বাহিনীর আনাগোনা আমাদের ভূখণ্ডে বেড়ে গেল&mdash;এমন দেউলিয়াপনা কোনো স্বাধীন রাষ্ট্র মেনে নিতে পারে না। আন্তর্জাতিক আইনেও কিন্তু করিডোরের কোনো নির্দিষ্ট বাঁধাধরা সংজ্ঞা নেই। চুক্তিটা কীভাবে সই হচ্ছে, কাস্টমস তদারকি কার হাতে থাকছে, দেশের পুলিশ নাকি বিদেশি নিরাপত্তারক্ষীরা পাহাড়ায় থাকছে&mdash;তার ওপর নির্ভর করে সেটা কি কেবলই ব্যবসা, নাকি ফাঁদে পা দেওয়া।

অবশ্য এর মানে এই নয় যে আমরা দরজাকপাট বন্ধ করে আতঙ্কে কুঁকড়ে বসে থাকব। ভূগোলকে ভয়ের বদলে শক্তিতে রূপান্তর করার উদাহরণ দুনিয়ায় কম নেই। সিঙ্গাপুরের মতো ছোট দেশ কীভাবে নিজেদের সমুদ্রপথকে বুদ্ধি খাটিয়ে ব্যবহার করে বিশ্ব বাণিজ্যের হুকুমদাতা হয়ে বসল, তা কারোর অজানা নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত কিংবা ইউরোপের নেদারল্যান্ডসও তো এই একই পথে গিয়ে নিজেদের ভাগ্য বদলেছে। আমাদের চট্টগ্রাম, মোংলা কিংবা নির্মাণাধীন গভীর সমুদ্রবন্দরগুলোকে যদি সঠিক উপায়ে ব্যবহার করা যায়, তবে শিপিং, লজিস্টিকস, গুদামজাতকরণ আর শিল্পায়নের এক বিশাল সুযোগ উন্মোচিত হতে পারে। তবে কথা একটাই, সম্পর্ক হতে হবে সমান সমান। প্রতিবেশীর মুখে হাসি ফোটানোর জন্য নিজের ঘরে বাতি নেভানো কোনো সুস্থ পররাষ্ট্রনীতি হতে পারে না। প্রত্যেকটা চুক্তি হতে হবে পুরোপুরি স্বচ্ছ, যেখানে প্রতিটি খরচের বিপরীতে নিশ্চিত মুনাফা এবং সমতার গ্যারান্টি থাকবে।

ঠিক এই জায়গাটাতেই আমাদের দরকষাকষির মূল পরীক্ষাটা দিতে হয়। এখন ভারত আর চীনের মারামারি শুধু হিমালয়ের বরফাবৃত সীমান্তে আটকে নেই। তাদের লড়াই ঢুকে গেছে আমাদের বন্দর, রেলপথ, ডিজিটাল ক্যাবল আর পাওয়ার গ্রিডের ট্রানজিটে। ভারত চায় তার ইন্দো-প্যাসিফিক নীতির অধীনে বঙ্গোপসাগরে নিজের একচ্ছত্র প্রভাব বজায় রাখতে। অন্যদিকে চীন তার বিআরআই বা বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ হিসেবে এখানে অবকাঠামোর বন্যা বইয়ে দিতে চায়। এই দুই পরাশক্তির মল্লযুদ্ধের মাঝে বাংলাদেশের কাজটা কঠিন। কারও লেজুরবৃত্তি করা যাবে না, আবার কারও সঙ্গে সম্পর্কও নষ্ট করা চলবে না। সোজা কথায়, কোনো এক পক্ষের কৌশলগত উপগ্রহ বা &#39;স্যাটেলাইট স্টেট&#39; না হয়ে আমাদের নিজস্ব অবস্থান ধরে রাখতে হবে। আমাদের বহু পুরোনো নীতি &lsquo;সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়&rsquo;&mdash;কথাটাকে এখনকার বাস্তবতায় নতুন করে ঝালাই করে প্রয়োগ করতে হবে।


একই কথা খাটে রাখাইনকে ঘিরে যে &#39;মানবিক করিডোর&#39;-এর কথা উঠছে, তার ক্ষেত্রেও। প্রায় বারো লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বহু বছর ধরে মানবতার এক নজিরবিহীন উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। সেই জায়গা থেকে সীমান্ত পেরিয়ে খাদ্য বা ওষুধ পৌঁছানোর কথা শুনলে আবেগাক্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক। তবে আবেগ আর জাতীয় নিরাপত্তা এক জিনিস নয়। রাখাইন এখন কোনো সাধারণ এলাকা নয়; সেখানে মিয়ানমার জান্তা আর আরাকান আর্মির মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলছে, যার কোনো নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ নেই। এমন একটা অস্থির জায়গায় হুট করে নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে করিডোর খুলে দিলে নিজেদের সীমান্ত ঝুঁকিতে পড়ে যাবে। কোনো অবস্থাতেই মানবিকতাকে ঢাল বানিয়ে চরমপন্থী কিংবা আন্তর্জাতিক চক্রান্তকে আমাদের মাটিতে ঘাঁটি গাড়তে দেওয়া যাবে না। আর সবচেয়ে বড় কথা, মিয়ানমারের সঙ্গে যেকোনো আলোচনার মূল লক্ষ্য হতে হবে রোহিঙ্গাদের পূর্ণ অধিকারসহ তাদের নিজের ভিটেমাটিতে ফেরত পাঠানো। এই প্রধান দাবিকে পাশে সরিয়ে অন্য কোনো সাময়িক করিডোরের ফাদে পা দেওয়া কোনো কাজের কথা নয়।

বাস্তবতার নিরিখে কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামটাও উচ্চারণ করছেন কেউ কেউ। সংবিধান অনুযায়ী আমাদের রাষ্ট্রপতির কাজ বা একক ক্ষমতা কতটা, তা আইনি কাঠামোর ভেতর স্পষ্ট করা আছে। কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি বা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মূল কাজটা করে নির্বাচিত সরকার ও মন্ত্রিসভা। তাই এককভাবে কেউ নীতি নির্ধারণ করে ফেলবেন&mdash;এমনটা ভাবা ভুল। কিন্তু ড. ইউনূসের যে বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, পশ্চিমা বিশ্ব এবং উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সঙ্গে তাঁর যে গভীর যোগাযোগ, সেটিকে কূটনৈতিক চাল হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ অনেক। তিনি যখন কথা বলেন, বিশ্বদরবারে সেটা আলাদা ওজন তৈরি করে। এই আন্তর্জাতিক পরিচিতিকে যদি আমরা দেশের স্বার্থে, আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার কাজে লাগাতে পারি, তবে সেটা কৌশলগতভাবে বড় এক প্লাস পয়েন্ট। তবে শেষ সিদ্ধান্ত অবশ্যই আসতে হবে দেশের সংবিধান, নির্বাচিত সংসদ এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে। এখানে উল্লেখ্য, কারও কারও মতে বর্তমান সরকার চাইলেও ড: মুহাম্মদ ইউনূস কখনোই রাষ্ট্রপতি হবেন না। কারণ তিনি ইতিমধ্যে প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে সসর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। রাষ্ট্রপতি হল অলংকারিক পদ। তাই উনাকে প্রস্তাব দিলেও তিনি রাজি হবেন না বলে দাবি করছেন ওনার ঘনিষ্ঠ জনেরা।

প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে আলোচনার সময়ও আমাদের আবেগ সরিয়ে পুরোদস্তুর বাস্তববাদী ব্যবসায়ী কিংবা চতুর রাজপুত্রের মতো ভাবতে হবে। ভারত আমাদের নিকটতম বড় প্রতিবেশী, সর্ববৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার এবং ভৌগোলিক বাস্তবতার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু ভালো বন্ধুত্ব কোনোদিন একপাক্ষিক লেনদেনে টিকে থাকে না। ট্রানজিট কিংবা কানেক্টিভিটির মতো বড় বড় সুবিধা যখন আমরা আলোচনার টেবিলে তুলব, ঠিক তখনই সমান জোর দিয়ে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি, সীমান্তে প্রতিদিনের প্রাণহানি বন্ধ, অশুল্ক বাণিজ্য বাধা দূর করা আর বাণিজ্যিক ঘাটতি কমানোর দাবি আদায় করে নিতে হবে। বছরের পর বছর একতরফা ছাড় দিয়ে বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখার দিন শেষ। একইভাবে চীনের বিনিয়োগ দেখলেই অমুক &#39;ঋণের ফাদ&#39; বলে আঁতকে ওঠার কিছু নেই, আবার অন্ধের মতো সব প্রজেক্ট গিলে ফেলাও বোকামি। চীনের টাকা নেওয়ার আগে প্রকল্পের অর্থনৈতিক লাভ, সুদের হার আর এর নেপথ্য রাজনৈতিক প্রভাব নিখুঁতভাবে মেপে নিতে হবে।

বর্তমান পৃথিবী আর একক কোনো পরাশক্তির ইশারায় চলে না, এটা বহু-মেরুকেন্দ্রিক এক বিশ্বব্যবস্থা। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিংবা জাপান&mdash;সবাই নতুন নতুন সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইন তৈরি করতে ব্যস্ত। এই বিশৃঙ্খল কিন্তু সম্ভাবনাময় বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ যদি শুধু নিজের জমি আর জলসীমাকে অন্যের সুবিধার্থে ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তবে অচিরেই আমাদের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে আসবে। আর আমরা যদি সেই একই ভূগোলকে নিজেদের শিল্পায়ন, বাণিজ্য এবং মর্যাদাপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম বানাতে পারি, তবে এই মানচিত্রই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। করিডোর কোনো পিচ ঢালা সাধারণ রাস্তা নয়; এটি মূলত রাষ্ট্র পরিচালনার এক জটিল পরীক্ষা। একটি দুর্বল বা হঠকারী চুক্তি আগামী কয়েক দশকের জন্য আমাদের হাত-পা বেঁধে ফেলতে পারে। অন্যদিকে একটি প্রজ্ঞাপূর্ণ এবং দূরদর্শী সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে বদলে দিতে পারে চিরতরে। নিরপেক্ষ থাকা হয়তো কঠিন, কিন্তু নিজের ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে জানাটাই হলো প্রকৃত রাষ্ট্রনীতি। আর এই ভারসাম্যের কৌশলই ঠিক করে দেবে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে।


ভূরাজনৈতিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন কৌশল বিশ্লেষক

সান নিউজ/ এনআই

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 29 Jul 2026 06:53:18 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[রাষ্ট্রদূত : অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার অগ্রসৈনিক]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/116534" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/116534</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[একটি দেশের দূতাবাস আসলে কী? কেবল জাতীয় পতাকা ওড়ানো একটি ভবন, নাকি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্মাণের অগ্রবর্তী ঘাঁটি? প্রশ্নটি এখন আর কূটনৈতিক সৌজন্যের নয়; এটি জাতীয় সক্ষমতার প্রশ্ন। একসময় রাষ্ট্রদূতদের প্রধান কাজ ছিল রাজনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা, সংকট সামাল দেওয়া কিংবা রাষ্ট্রীয় বার্তা পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বে সেই ধারণা দ্রুত বদলে গেছে। আজ একটি দেশের প্রকৃত শক্তি অনেক সময় নির্ধারিত হয় তার দূতাবাস কতটি নতুন বাজার খুলতে পারল, কতটি শিল্প বিনিয়োগ টানতে পারল, কতজন দক্ষ কর্মীর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারল কিংবা কতটি প্রযুক্তিগত অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে পারল&mdash;তার ওপর। একটি সফল বিনিয়োগ চুক্তি বা নতুন রপ্তানি বাজারের দরজা খুলে দেওয়া অনেক সময় শত বক্তৃতা কিংবা অসংখ্য যৌথ বিবৃতির চেয়েও গভীর কূটনৈতিক প্রভাব সৃষ্টি করে।

বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলো এই সত্য অনেক আগেই বুঝেছে। চীনের রাষ্ট্রদূতেরা শুধু রাজনৈতিক প্রতিনিধি নন; তাঁরা বেইজিংয়ের শিল্পনীতি, উৎপাদনশীলতা ও বাজার সম্প্রসারণের সক্রিয় দূত। জাপানের কূটনৈতিক মিশন দীর্ঘদিন ধরে শিল্প সহযোগিতা, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং অবকাঠামো বিনিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে এসেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিদেশি মিশনও কোরীয় শিল্প, প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক প্রভাব বিস্তারের সঙ্গে অর্থনৈতিক স্বার্থকে এক সুতোয় বেঁধেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিতেও বাণিজ্য, প্রযুক্তি, সরবরাহ শৃঙ্খল ও কৌশলগত বিনিয়োগ এখন পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রীয় উপাদান। আজকের ভূরাজনীতিতে অর্থনীতি আর কূটনীতি আলাদা নদী নয়; তারা একই মোহনায় গিয়ে মিশেছে।

বাংলাদেশের সামনে বাস্তবতাও বদলাচ্ছে। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর রপ্তানি প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের পুনর্বিন্যাস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিল্প, সবুজ জ্বালানি এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে ঘিরে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। এই সময়ে আমাদের দূতাবাসগুলো যদি শুধু রাজনৈতিক যোগাযোগ রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে আমরা সুযোগের একটি বড় অংশ হারাব। প্রতিটি দূতাবাসের উচিত নিজ নিজ দেশে কোন শিল্প বাংলাদেশে আসতে পারে, কোন প্রযুক্তি যৌথভাবে উন্নয়ন করা সম্ভব, কোথায় নতুন রপ্তানি বাজার তৈরি হচ্ছে এবং কোথায় দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ছে&mdash;এসব নিয়ে নিয়মিত অর্থনৈতিক অনুসন্ধান চালানো। রাষ্ট্রদূতের টেবিলে রাজনৈতিক প্রতিবেদন যেমন থাকবে, তেমনি থাকবে বিনিয়োগ সম্ভাবনার মানচিত্র, বাজার বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তিগত অংশীদারত্বের রূপরেখাও।

বাংলাদেশ ইতিমধ্যে তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়া, জাহাজ নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পে সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এখন প্রয়োজন সেই সম্ভাবনাকে বিশ্ববাজারে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় কমেছে। এমন প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে বিনিয়োগ নিজে থেকে কোনো দেশে আসে না; তাকে বিশ্বাস, নীতি এবং সক্রিয় রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টার মাধ্যমে আকৃষ্ট করতে হয়। ঠিক এখানেই দূতাবাসগুলোর ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তারা যদি সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী, শিল্পগোষ্ঠী, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও উদ্ভাবনী কোম্পানির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ গড়ে তোলে, তবে অর্থনৈতিক কূটনীতি কাগজের শব্দ হয়ে থাকবে না; তা বাস্তব কর্মসংস্থান ও উৎপাদনে রূপ নেবে।

আরেকটি জায়গা আমরা প্রায়ই উপেক্ষা করি। দক্ষ জনশক্তির বাজার। বিশ্বের বহু উন্নত দেশে জনসংখ্যার বার্ধক্য দ্রুত বাড়ছে। স্বাস্থ্যসেবা, প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি, নির্মাণ ও পরিচর্যা খাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদাও বাড়ছে। বাংলাদেশ যদি আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভাষা প্রশিক্ষণের সঙ্গে দূতাবাসগুলোর শ্রমবাজার বিশ্লেষণকে যুক্ত করতে পারে, তবে বৈধ কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলতে পারে। এতে রেমিট্যান্স বাড়বে, আবার দেশের মানবসম্পদও আরও দক্ষ হয়ে উঠবে।

আমাদের কূটনৈতিক মূল্যায়নের মানদণ্ডও নতুন করে ভাবতে হবে। কেবল কতটি বৈঠক হলো কিংবা কতটি আনুষ্ঠানিক সফর সম্পন্ন হলো, তা দিয়ে একজন রাষ্ট্রদূতের সাফল্য মাপা যথেষ্ট নয়। বরং দেখতে হবে, তাঁর দায়িত্বকালে কতটি নতুন রপ্তানি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, কতটি শিল্প বিনিয়োগ এসেছে, কতটি গবেষণা সহযোগিতা হয়েছে এবং কতজন দক্ষ কর্মীর জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের পথ খুলেছে। রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থকে সামনে রেখে কূটনীতিকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার সময় এখনই। কারণ পতাকা বহন করা সম্মানের; কিন্তু সেই পতাকার জন্য নতুন বাজার, নতুন প্রযুক্তি, নতুন বিনিয়োগ এবং নতুন ভবিষ্যৎ অর্জন করাই একজন আধুনিক রাষ্ট্রদূতের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

ভূরাজনৈতিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন কৌশল বিশ্লেষক

সান নিউজ/ জামান]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Fri, 24 Jul 2026 07:02:55 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[দুটি ডিমের উপাখ্যান: আমাদের নৈতিক সংকটের প্রতিচ্ছবি]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/116396" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/116396</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[যেকোনো সমাজ বা রাষ্ট্রের জন্য এর চেয়ে হতাশাজনক, ক্ষোভমিশ্রিত এবং নির্মম সত্য আর কী হতে পারে? কিন্তু এই গভীর হতাশা তো কোনো আকস্মিক শূন্যতা থেকে তৈরি হয়নি। এটি আমাদের প্রতিদিনের যাপিত জীবন, আমাদের চারপাশের চেনা মানুষ এবং আমাদের নিজেদেরই তৈরি এক সম্মিলিত অবক্ষয়ের অমোঘ ফসল। আমরা প্রতিনিয়ত ক্ষমতার শীর্ষবিন্দুর মেগা-দুর্নীতি নিয়ে কথা বলি, হাজার কোটি টাকার ব্যাংক লোপাট নিয়ে টকশোতে কিংবা চায়ের কাপে ঝড় তুলি। কিন্তু আমাদের সমাজের একেবারে ভেতরটা, সাধারণ মানুষের মনস্তত্ত্ব যে কতটা জীর্ণ এবং ঘুণপোকা-ধরা হয়ে গেছে, তা আমরা কৌশলে এড়িয়ে যাই। আমরা ভাবি, দুর্নীতি কেবল ওপরের স্তরের মানুষের একচেটিয়া অধিকার। অথচ আসল সত্য হলো, ক্ষমতার ক্ষুদ্রতম সুযোগ পেলেও আমাদের সাধারণ নাগরিকের বড় অংশই সেই একই অনৈতিকতার চর্চা করে, যা বড় বড় লুটেরারা করে থাকে।

ডিম হাতিয়ে নেওয়ার উপাখ্যান, সামষ্ঠিক চরিত্রের একটি দর্পণ:

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ছোট, অথচ চরম প্রতীকী ঘটনা আমাদের এই ভেতরের কদর্য রূপটাকে নগ্নভাবে সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। ঘটনাটি স্রেফ একজন ব্যক্তির অপরাধ নয়, এটি একটি সামষ্টিক চারিত্রিক স্খলনের দলিল। একজন নারী ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে নিজের গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। একই রাস্তায় একটি পিকআপ ভ্যানে করে ডিম নিয়ে যাচ্ছিলেন এক চালক। সামনের কোনো এক যানজটে পড়ে ভ্যানটি যখনই ওই নারীর হাতের নাগালে এলো, তিনি মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ দেখে নিয়ে টুপ করে দুটি ডিম হাতিয়ে নিজের ব্যাগে রেখে দেন। কোনো দ্বিধা নেই, কোনো অপরাধবোধ নেই, যেন অতি স্বাভাবিক এক অধিকার তিনি খাটিয়ে নিলেন।

মোটা দাগে মনে হতেই পারে, এস আলমের লক্ষ কোটি টাকা ব্যাংক লোপাট কিংবা শীর্ষ আমলা ও ব্যবসায়ীদের মেগা-দুর্নীতির তুলনায় দুটি ডিম হাতিয়ে নেওয়া এমন কী বড় ঘটনা! এই তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে এত আদিখ্যেতার কী আছে? কিন্তু গভীরভাবে তলিয়ে দেখলে বোঝা যায়, এটাই আসলে সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা। ব্যাংকের টাকা চুরি বা রাষ্ট্রের সম্পদ লুট করার সুযোগ সবার হয় না; তার জন্য একটা নির্দিষ্ট ক্ষমতার স্তরে পৌঁছাতে হয়, লবিং করতে হয়, প্রভাবশালী হতে হয়। কিন্তু এই যে জ্যামে আটকে থাকা ভ্যান থেকে দুটি ডিম তুলে নেওয়া - এটি দেখায় যে, আমাদের সমাজের সাধারণ মানুষের মজ্জায় মজ্জায় এখন সততার অভাব। সুযোগের অভাবে আমরা অনেকেই হয়তো সাধু সেজে বসে আছি, কিন্তু সামান্যতম সুযোগ পেলেই নিজের নৈতিকতা বিসর্জন দিতে আমাদের এক সেকেন্ডও সময় লাগে না। এই নারীর ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে আসলে আমাদের পুরো জাতিরাষ্ট্রের চারিত্রিক স্খলন নগ্নরূপে ধরা পড়েছে। আমরা আসলে প্রায় সবাই এখন এমন হয়ে গেছি।

শৈশবের হারিয়ে যাওয়া পাঠ ও আধুনিক শিক্ষার অন্তঃসারশূন্যতা:

প্রশ্ন জাগে, আমাদের এই সামগ্রিক পতন কেন হলো? আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা, পরিবার আর সমাজ কি তবে পুরোপুরি ব্যর্থ? শৈশবে আমরা যে পাঠ্যবই পড়ে বড় হয়েছি, সেখানে অত্যন্ত সহজ ভাষায় কিছু চিরন্তন সত্য ও মূল্যবোধ শেখানো হতো। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বা মদনমোহন তর্কালঙ্কারের সেইসব অমর বাণী: &quot;পরের হিত চিন্তা করিবে&quot;, &quot;অন্যের অনিষ্ট করিবে না&quot;, &quot;সদা সত্য কথা বলিবে&quot;, &quot;মিথ্যা বলা মহাপাপ&quot;, কিংবা &quot;অকারণে গাছের পাতা ছিড়িবে না&quot;। এই আপ্তবাক্যগুলো শুধু পরীক্ষার খাতায় লিখে নম্বর পাওয়ার জন্য ছিল না; এগুলো ছিল একজন মানুষের মানবিক ও নৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার হাতিয়ার।

কিন্তু আজ আমাদের শিক্ষকরা কি আর এসব শেখান? নাকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখন কেবল জিপিএ-৫, সার্টিফিকেট আর কর্পোরেট বাজারের জন্য রোবট তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে? এখনকার জিপিএ-৫ পাওয়া মেধারী সন্তানটি যখন বড় হয়ে রাষ্ট্রের কোনো বড় পদে বসে প্রথম সুযোগেই ঘুষ খাওয়া শুরু করে, তখন বুঝতে হবে তার শৈশবের শিক্ষার বুনিয়াদেই গলদ ছিল। আমরা তাকে পরীক্ষায় প্রথম হওয়া শিখিয়েছি, কিন্তু মানুষ হওয়া শেখাইনি।

কাঠামোগত উন্নয়ন বনাম মনস্তাত্ত্বিক বিপর্যয়:

আজ আমাদের দেশে জেলায় জেলায় এত বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল, মাদ্রাসা গড়ে উঠেছে। গ্রামীণ পর্যায়েও শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়ার দাবি করা হচ্ছে। পাড়ায় পাড়ায় ঝাঁ-চকচকে আধুনিক মসজিদ ও উপাসনালয় তৈরি হচ্ছে। আর অন্যদিকে, ইন্টারনেটের যুগে ইউটিউব ও ফেসবুক জুড়ে হাজারো মোটিভেশনাল স্পিকার, ধর্মীয় বক্তা ও সুশীলদের বয়ানের খই ফুটছে। প্রযুক্তির কল্যাণে জ্ঞান, উপদেশ এবং তত্ত্বের কোনো অভাব নেই আমাদের। কিন্তু সবচেয়ে বড় ও রূঢ় প্রশ্ন হলো - সেসবের শিক্ষা আসলে কোথায় যায়?

যদি প্রতিটা গলিতে একটা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা উপাসনালয় থাকার পরেও মানুষের অবচেতন মন থেকে চুরির প্রবণতা, পরশ্রীকাতরতা, লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা না করে নিয়ম ভাঙার সংস্কৃতি এবং অনৈতিকতা দূর না হয়, তবে বুঝতে হবে এই বিশাল কাঠামোগত ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন আসলে অন্তঃসারশূন্য। শিক্ষা কেবল মাথায় তথ্যের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে এবং ডিগ্রি দিচ্ছে, কিন্তু মানুষের মন ও মননকে স্পর্শ করতে পারছে না। আমাদের সংস্কৃতি হয়ে পড়েছে কেবল উৎসব-কেন্দ্রিক ও চটকদার; জীবনের গভীরে, প্রতিদিনের আচরণে তার কোনো শিকড় বা প্রভাব নেই।

ইতিহাসের ঘূর্ণাবর্ত ও ঘুণপোকার বিস্তার:

আমরা এখন বাস করছি এক অদ্ভুত গোলকধাঁধায়। আমাদের বুদ্ধিজীবী, সমাজচিন্তক, রাজনৈতিক কর্মী এবং আমজনতার সিংহভাগই ব্যস্ত ইতিহাস চর্চার চুলচেরা বিশ্লেষণ নিয়ে। কে কোন পক্ষের আর কে বিপক্ষের, কার আদর্শ খাঁটি আর কারটা ভেজাল, কোন দল স্বাধীনতার স্বপক্ষের আর কে বিপক্ষের - এই রাজনৈতিক ও আদর্শিক দলবাজি ঠিক রাখতেই আমাদের সব মেধা ও শক্তি ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে।

ইতিহাস অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কোনো জাতির আত্মপরিচয়ের জন্য ইতিহাস জানা আবশ্যক। কিন্তু বর্তমান যখন চোখের সামনে ধসে পড়ছে, তখন কেবল অতীত নিয়ে অন্তহীন কামড়াকামড়ি করা এক ধরনের পলায়নপরতা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব।

আমরা যখন ওপরের স্তরে পক্ষ-বিপক্ষের অবিনাশী লড়াইয়ে মত্ত, তখন আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের একদম তলদেশ দিয়ে ঘুণপোকা ঢুকে সবকিছু কেটে কুটি কুটি করে দিয়ে যাচ্ছে। সেই খবর কেউ রাখছি না।

শিক্ষা ও সংস্কৃতির এই যে মৌলিক গলদ, যা প্রতিদিন একজন সাধারণ নাগরিককে চোর বা দুর্নীতিবাজ বানিয়ে তুলছে, এর মূল উৎস কোথায়, তা কেউ তলিয়ে দেখছে না। আমরা উপরিভাগের ডালপালা ছাঁটতে ব্যস্ত, অথচ গাছের গোড়ায় যে মড়ক লেগেছে, সেদিকে কারও নজর নেই।

ক্ষুদ্র অপরাধের বৃহৎ ভবিষ্যৎ:

একটি রাষ্ট্র তখনই ভেঙে পড়ে না যখন তার অর্থনীতি দুর্বল হয়; রাষ্ট্র তখনই ধ্বংসের মুখে পড়ে যখন তার নাগরিকদের নৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। আজ আমরা যে &#39;নষ্টদের অধিকারের&#39; কথা বলছি, সেই নষ্টরা কিন্তু কোনো ভিনগ্রহ থেকে রকেট বা স্পেসশিপে চড়ে আসেনি। তারা আমাদের এই সমাজ, আমাদের এই শিক্ষাব্যবস্থা এবং আমাদের এই পারিবারিক বলয় থেকেই তৈরি হয়েছে।

আজ যে নারী রিকশায় বসে স্রেফ দুটো ডিম হাতিয়ে নেওয়ার লোভ সামলাতে পারলেন না, সুযোগ ও ক্ষমতা পেলে তিনি যে ব্যাংকের ভল্ট খালি করবেন না, কিংবা কোনো সরকারি প্রজেক্টের কোটি টাকা আত্মসাৎ করবেন না - তার গ্যারান্টি কে দেবে? একইভাবে, আজ ক্ষমতার শীর্ষে বসে যারা হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছেন, তারাও হয়তো একসময় এই সমাজেরই কোনো এক স্তরে ছোটখাটো নৈতিক স্খলনের মধ্য দিয়ে, পরীক্ষার খাতায় নকল করে কিংবা ছোট-খাট কোনো চুরির মাধ্যমে তার অনৈতিকতার হাতেখড়ি করেছিলেন। ক্ষুদ্র অপরাধের এই ধারাবাহিকতাই একসময় সমাজকে বড় বড় অপরাধী ও সমাজবিরোধীদের চারণভূমিতে পরিণত করে।

উত্তরণের পথ ও আমাদের দায়:

তাই সন্তানকে কেবল ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা বিসিএস ক্যাডার বানিয়ে &#39;মানুষের মতো মানুষ&#39; করার মেকি স্বপ্ন দেখার আগে আমাদের সমাজকে নতুন করে সাজাতে হবে। কেবল কাড়ি কাড়ি টাকা উপার্জন করা, দামি গাড়ি চড়া বা বড় সামাজিক স্ট্যাটাস অর্জন করাই যদি সফলতার একমাত্র মাপকাঠি হয়, তবে এই সমাজ আরও দ্রুত গতিতে নষ্টদের দখলে চলে যাবে।

আমাদের এখন প্রয়োজন এক গভীর, আমূল শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক জাগরণ। এমন এক সামাজিক আন্দোলন, যা মানুষকে অন্যের অধিকারকে সম্মান করতে শেখাবে, যা লোভের চেয়ে আত্মমর্যাদাকে এবং অন্যায়ের প্রতি আপসহীনতাকে বড় করে দেখতে শেখাবে।

ইতিহাসের পোস্টমর্টেম ও ক্ষণস্থায়ী দলবাজির ঊর্ধ্বে উঠে যদি আমরা আমাদের প্রতিদিনের আচরণ, সততা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং ক্ষুদ্রতম নৈতিকতার চর্চাকে ফিরিয়ে আনতে না পারি, তবে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হওয়ার মতো কোনো আলো আসলেই আর অবশিষ্ট থাকবে না। আমাদের মনে রাখতে হবে, সমাজ পরিবর্তন কোনো উপরিকাঠামোর বিষয় নয়; এর শুরুটা হয় নিজের ভেতরের লোভকে নিয়ন্ত্রণ করার মধ্য দিয়ে।

উপসংহার- অন্তরের আলো ও পারিবারিক জাগরণ:

পরিশেষে বলা যায়, আমাদের চারপাশের এই তীব্র নৈতিক সংকট এবং শিক্ষা-সংস্কৃতির গলদ কাটিয়ে উঠতে হলে আমাদের দরকার সামগ্রিক চিন্তা-চেতনার আমূল পরিবর্তন। কেবল আইনের কঠোরতা কিংবা কাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে একটি ভঙ্গুর জাতিকে টেনে তোলা সম্ভব নয়।

আমাদের ভেতরকার সুপ্ত চেতনাবোধ, নীতি-নৈতিকতা, মজ্জাগত সততা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ যদি নতুন করে জাগরিত না হয়, তবে এই সমাজের রন্ধ্রে-রন্ধ্রে যে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে, তা সারানো সত্যিই অসম্ভব হয়ে উঠবে।

আমাদের দৈনন্দিন অস্থিরতা, সীমাহীন লিপ্সা, পরচর্চা আর পরনিন্দার মতো ব্যাধিগুলো প্রতিনিয়ত আমাদের সমাজকে ভেতরে-ভেতরে বিষিয়ে তুলছে। এই বিষাক্ত বৃত্ত থেকে বের হওয়ার একমাত্র উপায় হলো পরিবর্তনের সুঁই-সুতোটা নিজের ঘর থেকেই চালানো।

রাষ্ট্র বা সমাজের বড় বড় সংস্কারের আশায় বসে না থেকে, ব্যক্তি ও পারিবারিক পর্যায়ে এই মুহূর্তে নীতি-নৈতিকতাকে সবার উপরে স্থান দেওয়া দরকার। সন্তানকে জিপিএ-৫ কিংবা লোভনীয় ক্যারিয়ারের মন্ত্র গেঁলানোর আগে &#39;মানুষের মতো মানুষ&#39; হওয়ার পাঠ দিতে হবে; শেখাতে হবে অন্যের অধিকারের প্রতি সম্মানবোধ।

নতুবা এই ক্ষয়ে যাওয়া সমাজকে কোনোভাবেই পাল্টানো যাবে না। এই মহাসংকটে দাঁড়িয়ে আমাদের মনস্তাত্ত্বিক ও পারিবারিক স্তরে নিজেদের নৈতিক পরিবর্তনটি আনাই এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি।

গণমাধ্যম ফ্রীল্যান্সার, ঢাকা, বাংলাদেশ

সান নিউজ/ জামান]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 20 Jul 2026 13:50:32 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[২০৩০-এর পথে বাংলাদেশ: এসডিজি অর্জনে কতটা এগিয়েছে দেশ?]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/116364" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/116364</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[দারিদ্র্য কমেছে, নারীর ক্ষমতায়ন বেড়েছে, অবকাঠামোতে এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। তবু জলবায়ু পরিবর্তন, কর্মসংস্থান, আয় বৈষম্য ও সুশাসনের মতো চ্যালেঞ্জ এখনো বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের পথকে কঠিন করে তুলছে। ২০৩০ সালের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। এই সময়ে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের প্রকৃত অবস্থান কোথায়?

আর মাত্র কয়েক বছর, তারপর?

২০১৫ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়েছিল সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস (SDGs), সতেরোটি লক্ষ্য, ১৬৯টি টার্গেট, সময়সীমা ২০৩০ সাল। লক্ষ্য ছিল এমন একটি বিশ্ব গড়ে তোলা, যেখানে দারিদ্র্য হবে অতীত, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য হবে সবার অধিকার, আর উন্নয়ন হবে পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক।
বাংলাদেশ শুরু থেকেই এই উদ্যোগের সক্রিয় অংশীদার এবং জাতীয় পরিকল্পনার সঙ্গে এসডিজিকে সমন্বয় করে চলেছে। কিন্তু সময় যত এগোচ্ছে, ততই জোরালো হয়ে উঠছে একটি প্রশ্ন: বাংলাদেশ কি সত্যিই ২০৩০ সালের মধ্যে এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে?

সংখ্যার ভাষায় বাংলাদেশের অবস্থান

জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্ট গবেষণা সংস্থা SDSN-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ১৬৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১১৪তম, স্কোর প্রায় ৬৩ দশমিক ৯। কয়েক বছর আগেও চিত্রটা ভালো ছিল। ২০২৩ সালে ছিল ১০১তম, ২০২৪ সালে ১০৭তম, আর সবশেষ মূল্যায়নে র&zwj;্যাংকিং আরও পিছিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ভুটান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও নেপাল এখন এগিয়ে আছে; ভারত-পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে থাকলেও সেই ব্যবধান দ্রুত কমছে।

সতেরোটি লক্ষ্যের মধ্যে বাংলাদেশ পুরোপুরি অর্জন করতে পেরেছে কেবল একটি, জলবায়ু কার্যক্রম। শিক্ষার মান নিয়ে অগ্রগতি মোটামুটি সঠিক পথে থাকলেও দারিদ্র্য বিমোচন, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পানি ও জ্বালানির মতো ক্ষেত্রে অগ্রগতি হচ্ছে মাঝারি গতিতে। জেন্ডার সমতা, শোভন কর্মসংস্থান, বৈষম্য হ্রাস ও টেকসই নগরায়ণে অবস্থান কার্যত স্থবির, আর নগর ব্যবস্থাপনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার লক্ষ্য দুটিতে অগ্রগতি বরং পিছিয়েছে। বৈশ্বিকভাবেও অবশ্য একই ছবি। কোনো দেশই বর্তমান গতিতে সতেরোটি লক্ষ্যের সবগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জন করতে পারবে না, ফলে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ একক কোনো ব্যর্থতা নয়, বরং এক বৈশ্বিক বাস্তবতারই অংশ।

দারিদ্র্য হ্রাস: সবচেয়ে বড় সাফল্য

একসময় বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হলেও গত তিন দশকে সেই চিত্র বদলে গেছে। তৈরি পোশাক শিল্পের বিস্তার, প্রবাসী আয়, ক্ষুদ্রঋণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি মিলিয়ে কোটি মানুষের জীবনমান উন্নত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে একটি স্বীকৃত উদাহরণে পরিণত করেছে। তবে সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতি নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। দারিদ্র্যের হার সংখ্যায় কমলেও বাস্তব অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: অগ্রগতির পাশে নতুন চ্যালেঞ্জ

প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তি হার এখন প্রায় সর্বজনীন এবং ছেলে-মেয়ের ব্যবধানও কমেছে, কিন্তু শুধু ভর্তি বাড়লেই উন্নয়ন সম্পূর্ণ হয় না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল অর্থনীতির যুগে সনদের চেয়ে দক্ষতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, আর সেই বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এখন জরুরি। স্বাস্থ্য খাতেও একই রকম দ্বৈততা দেখা যায়। শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে, টিকাদান সফল হয়েছে, গড় আয়ু বেড়েছে, কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট, শহর-গ্রাম বৈষম্য এবং ডায়াবেটিস-হৃদরোগের মতো অসংক্রামক রোগের দ্রুত বিস্তার ভবিষ্যতের জন্য নতুন চাপ তৈরি করছে।

নারীর ক্ষমতায়ন ও জলবায়ু

পোশাক শিল্প, উদ্যোক্তা কার্যক্রম ও সেবাখাতে নারীর অংশগ্রহণ অর্থনীতিকে নতুন গতি দিয়েছে, তবে সমান মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও নেতৃত্বে প্রতিনিধিত্ব এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। জেন্ডার সমতা তাই এখনো একটি চলমান প্রক্রিয়া। অন্যদিকে জলবায়ু কার্যক্রম কাগজে-কলমে বাংলাদেশের একমাত্র পুরোপুরি অর্জিত লক্ষ্য হলেও বাস্তবতা জটিল। প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও নদীভাঙন লাখো মানুষের জীবিকা ঝুঁকিতে ফেলছে, ফলে দীর্ঘমেয়াদি অভিযোজন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এখন সময়ের অনিবার্য দাবি।

এলডিসি উত্তরণ ও সামনের পথ

এলডিসি থেকে উত্তরণ একটি ঐতিহাসিক অর্জন হলেও শুল্ক সুবিধা কমে যাওয়া ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির চাপ মোকাবিলায় উৎপাদনশীলতা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে জোর দিতে হবে, নইলে এই গর্বের অর্জনই নতুন সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ২০৩০ সালের লক্ষ্য অর্জনে তাই শুধু গতি ধরে রাখলেই হবে না, উন্নয়নের মানও নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানমুখী শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ, নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং সুশাসন শক্তিশালীকরণ, এই সবগুলো ফ্রন্টে একযোগে এগোনোর ওপরেই নির্ভর করছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।

শেষ কথা

বাংলাদেশের উন্নয়নের গল্প নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণাদায়ক, কিন্তু সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান একটি সতর্কবার্তাও দেয়। অগ্রগতির গতি থেমে গেলে অর্জিত সাফল্যও ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। এসডিজি আসলে কেবল কয়েকটি সূচকে ভালো ফল করার নাম নয়; এটি এমন এক দর্শন, যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সমান গুরুত্ব পায় সামাজিক ন্যায়বিচার, পরিবেশ সংরক্ষণ ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। আগামী কয়েক বছরই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ শুধু একটি দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে থাকবে, নাকি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বৈশ্বিক উদাহরণ হয়ে উঠবে।

শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (NSTU)]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 19 Jul 2026 14:15:24 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[গণতন্ত্র, জ্ঞানী-মানুষ ও একটি কল্যাণ রাষ্ট্রের স্বপ্ন]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/116245" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/116245</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[গ্রিক সভ্যতায় গণতন্ত্র নামক যে শাসন-ব্যবস্থার গৌরবময় ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে তা প্রথমত বিকশিত হয়েছিল এথেন্স নগরীতে। পেরিক্লিস (৪৯৫-৪২৯ খ্রীস্টপূর্বাব্দ) ছিলেন প্রাচীন গ্রিসের তথা এথেন্সের স্বর্ণযুগের সবচাইতে সফল গণতান্ত্রিক নেতা। তার কাছে জ্ঞানী-গুণী মানুষের কদর যেমন ছিল, তার পাশাপাশি কিছু চাটুকার ও আদম বেপারীর আদরও কম ছিল না। আদম বেপারী আক্ষরিক অর্থে ব্যবহার করা হচ্ছে না। গণতন্ত্রে যোগ্যতার বাছ-বিচার ছাড়াই কেবলমাত্র দলভারী করা, মিছিল-মিটিং ও ভোটদানে উপযুক্ত লোকবল যোগান দাতাদেরকেও এক ধরনের আদম ব্যবসায়ী বলা চলে। পেরিক্লিসের সময় এরকম গড়পত্তা মানুষের বড় রকম একজন যোগানদাতা ছিলেন এনিটাস। কিছুটা মাথামোটা ও বেয়াদব কিসিমের এই তরুণ লোকটাও পেরিক্লিসের মতো বিজ্ঞ নেতার আমলে তারই তত্ত&iexcl;াবধানে পাতি নেতা বনে গিয়েছিলেন। পাতি নেতা হলে কি হবে, তারই রোষাণলে পরে গ্রিসের সেই সময়কার সবচেয়ে জ্ঞানী লোকটাকেই জীবন দিতে হয়েছে। এই জ্ঞানী লোকটি হচ্ছে সক্রেটিস। জ্ঞান-প্রেমিক নির্লোভ এবং এক ধরনের বিশেষ আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের কারণে সক্রেটিস ছিলেন তৎকালীন এথেন্সের জ্ঞান পিপাসু তরুণ সমাজের অত্যন্ত প্রিয়ভাজন প্রভাবশালী মানুষ। পেরিক্লিস এবং তার সুবিজ্ঞ সহধর্মিনী আসপাসিয়ারও অতি নিকটজন হয়ে উঠেছিলেন তিনি। অন্যদিকে এনিটাস ছিলেন বৈষয়িক লাভ লোকসান নিয়েই যাদের ভাবনা-চিন্তা এমন কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষের ধূর্ত সংগঠক। ইউনিমন নামক একটি জনবহুল মহল্লায় ছিলো তার বসতবাড়ি। ভোগবাদী মানুষের সংখ্যা সব সমাজেই সাধারণত একটু বেশি থাকে। তার এলাকায়ও এ-ধরনের মানুষের কমতি ছিলো না। আর তারাই ছিল মূলত তার টার্গেট পিপল। তার এলাকার এ ধরনের সংখ্যাধিক্য মানুষকে পুঁজি করে ভোটের রাজনীতিতে এনিটাসের এগিয়ে চাওয়া অস্বাভাবিক ব্যাপার ছিলো না। সক্রেটিসকে তিনি খামাখা সন্দেহের চোখে দেখতেন। যে ধরনের মানুষের কাছে সক্রেটিস প্রিয়ভাজন তারা নিছক সংখ্যা নয়, বরং কতিপয় জ্ঞানপিপাসু মানুষ; তাই তাদের পরিমাণ বা পরিসংখ্যান এনিটাসের নিছক ভোটার নির্ভর রাজনীতিতে যে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না, এটা বোঝার মতো মগজ এই আদম বেপারীর ছিলো না। তবে হ্যাঁ, নিছক সংখ্যাগরিষ্ঠের বাছ-বিচারহীন চাহিদা ও সস্তা জনপ্রিয়তার তাগিদে নৈতিকতা বিবর্জিত অসাধু ও অদূরদর্শী নীতির পক্ষেও যারা অবস্থান নিতে পারে&Ntilde; এমন সুবিধাবাদী সমাজপতি বকধার্মিক ও তথাকথিত নেতাদের নিকট সক্রেটিস মোটেই সুবিধাজনক ব্যক্তি ছিলেন না।


এনিটাস ছিলেন মেধাহীন স্বার্থপর দুষ্ট প্রকৃতির মানুষের প্রধানতম নেতা। তাই তিনি ন্যায়বিচার, সুনীতি ও জ্ঞাননির্ভর সমাজ গঠনের স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রত্যক্ষ কারিগর সক্রেটিসকে সরিয়ে দিতে চেয়েছেন। কেবল এথেন্স বা গ্রিস থেকে নয়, একেবারে দুনিয়া থেকে। মেলিটাস নামক এক কবিকে দিয়ে, সক্রেটিসের বিরুদ্ধে কিছু মিথ্যা অভিযোগ তুলে একেবারে মামলা জুড়ে দিলেন তিনি। তৎকালীন এথেন্সের বিচারিক আদালতও ছিলো গণতান্ত্রিক অর্থাৎ ভোট নির্ভর। অনাকাক্সিক্ষত হলেও অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই আদম কারবারি এনিটাসের হাতে ছিল অধিক পরিমাণে ভোট-অস্ত্র। খুবই অল্প ভোটে সক্রেটিসের পক্ষ হেরে গেল। হেমলক পান করে মর্তলোক থেকে বিদায় নিতে হলো তাঁকে। তবে সক্রেটিসের নিকট এটাতে হারানোর কিছু ছিল না, কেননা তাঁর ভাবনায় মৃত্যু মানে ইহলোকের সংকীর্ণ জীবন থেকে মহাজীবনে গমন। আর পুণ্যবানদের জন্য সেটিই হচ্ছে আসল গন্তব্য। তিনি বলতেন, &ldquo;কোন মানুষের কাছে সাধন করার মতো মহৎ যদি কিছু থেকে থাকে, তাহলে তাঁর কাছে প্রশ্ন জীবন কিংবা মৃত্যুর নয়; বরং ইহকালীন জীবনে আপন কর্ম সম্পাদনের ক্ষেত্রে সে কোন প্রকার অন্যায়-অবিচারের আশ্রয় নিলো কিনা, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।&rdquo; তৎকালীন গ্রিসীয় গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় ট্রাজেডি বোধ হয় এই যে, তারা তার সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তানকে গণতন্ত্রের হাত দিয়েই হত্যা করেছে।


গণতন্ত্রের সূচনাপর্ব বলে সুনামধারী সেই সময়কার গ্রিক নগর রাষ্ট্রের গণতন্ত্রের সকল উৎকর্ষের মধ্যেও যেসকল মৌলিক মন্দ দিক ছিলো তার মধ্যে অন্যতম ছিলো লোকবলহীন জ্ঞানবলধারী গুণীদের অবমূল্যায়নের আশঙ্কা। গণতন্ত্রে জ্ঞানী মানুষের কদর নেই, কদর থাকে গড়পরতা মানুষের। এখানে অংকের একটি ব্যাপার আছে, ভোটের অংক। নেতাদের কদরও এখানে সংখ্যাতাত্তি&iexcl;ক। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ের নেতারা কে কত দক্ষ, বিজ্ঞ, ভালো মানুষ তার চাইতে বিবেচনার বিষয় হলো কার পিছনে কত মানুষ আছে; মানুষ মানেই ভোটার, আর ভোট মানেই গণতন্ত্রের, আর ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা অর্জনই হচ্ছে গণতন্ত্রের মূল গ্রন্থব্য।


একবিংশ শতাব্দীতে এসেও কোনো কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এই ধরনের অনাকাক্সিক্ষত বিষয় পরিলক্ষিত হয়। দারিদ্র, ব্যাপক ধণবৈষম্য, নৈতিক মূল্যবোধসমৃদ্ধ শিক্ষার অভাব, অন্ধ-সা&curren;প্রদায়িকতা এই অশুভ সম্ভাবনাকে সাধারণত বাড়িয়ে তোলে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র ঐতিহাসিকভাবেই এই রোগে আক্রান্ত। এখানে ক্ষমতাসীন দল এমনকি ক্ষমতার বাইরে থাকা অধিকাংশ দলই তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চর্চার ক্ষেত্রে মুখ্যত জনবলকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে। দলীয় পদ-পদবীকে ব্যক্তি-স্বার্থে গোষ্ঠী-স্বার্থে, ব্যবহার করার ফিন্দী-ফিকির জানে&Ntilde; তেমন কিছু তথাকথিত নেতা নানা রকম লোভ-লালসায় বেচাকিনি হয়&Ntilde; এ ধরনের লোকদের নিয়ে দলবাজিতে অনেক সময় এগিয়ে থাকে। আর বাস্তবতা হচ্ছে, স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পর্যন্ত সংখ্যাতাত্তি&iexcl;ক হিসেবের উপরেই অনেক সময় রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নেতৃত্ব ভাগাভাগি করে। এই অশুভ বাস্তবতার ফাঁদ থেকে মুক্ত হওয়ার আদর্শিক লড়াই চালিয়ে যাওয়া সকল শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষেরই দায়িত্ব। তবে বাংলাদেশের মতো কোনো ধনতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাধারী দরিদ্র দেশে উদার মানবতাবাদী এবং সর্বজনীন কল্যাণকামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আদর্শে পরিচালিত এবং সত্যিকারের জ্ঞানভিত্তিক নেতৃত্ব দ্বারা পরিচালিত কোনো দলের পক্ষে ক্ষমতার মসনদে আসীন হওয়া অনেকটাই অসম্ভব বলা চলে। যতদিন পর্যন্ত দেশে প্রজ্ঞাবান, দক্ষ, নৈতিক নেতৃত্বের আধিক্য রাজনৈতিক দলগুলোতে দেখা না যাবে, ততদিন পর্যন্ত নিছক সাংবিধানিক শুদ্ধিতা, ভোটাভুটি আর ক্ষমতার পালাবদল দিয়ে সত্যিকারের কল্যাণ রাষ্ট্রের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে না।

লেখক: অধ্যাপক, দর্শন বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
sowkot.hossain@juniv.edu

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 16 Jul 2026 07:13:29 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[জনসংখ্যা নয়, মানবসম্পদ: বাংলাদেশের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/116171" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/116171</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[সংখ্যার হিসেবে বিশ্বের অষ্টম বৃহৎ জনসংখ্যার দেশ বাংলাদেশ। একসময় জনসংখ্যাকে উন্নয়নের পথে বাঁধা হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতির অভিজ্ঞতা বলে, জনসংখ্যার আধিক্য কোনো বোঝা নয়। একটি দেশের জনসংখ্যা তখনই বোঝা হতে শুরু করে যখন মানুষ দক্ষতা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে থাকে।

আবার একই জনসংখ্যাই একটি দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদে পরিণত হয় যখন তারা জ্ঞান, দক্ষতা, প্রযুক্তি ও উৎপাদনশীলতায় যুগের সাথে মিলিয়ে এগোতে থাকে।

জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA) এর State of world population 2025 প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ধরা হয়েছে প্রায় ১৭ কোটি ৫৭ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ কর্মক্ষম বয়সের। যাদের বয়সসীমা ১৫-৬৪ বছরের মধ্যে। অর্থনীতির ভাষায় এ অবস্থাকে বলা হয় &quot; জনমিতিক সুবিধা বা Demographic Dividend.&quot;

আজ চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে একটি প্রশ্ন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক- এই বিশাল জনগোষ্ঠী কি আমাদের শক্তি, নাকি আমরা বিপুল সম্ভাবনাময় এই জনশক্তিকে অপচয় করছি?

Demographic Dividend এমন একটা অবস্থা যখন দেশে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা নির্ভরশীল মানুষের চেয়ে বেশি থাকে।ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া কিংবা সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলো এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করেছে। এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির নতুন অধ্যায় লিখেছে।

বাংলাদেশের সামনেও এখন সুবর্ণ সুযোগ। কিন্তু সুযোগ কখনো চিরস্থায়ী হয় না। UNFPA এর বিশ্লেষণ বলছে- বাংলাদেশের এই জনমিতিক সুবিধার সময়কাল দ্রুত সংকুচিত হয়ে আসছে। আগামী দশকগুলোতে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়বে, কিন্তু সেই অর্থনীতির ভার বহন করার মতো পর্যাপ্ত উৎপাদনশীল কর্মশক্তি কমতে থাকবে। অর্থাৎ এখনই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিনিয়োগ বাড়ানো না গেলে অবস্থা হয়তো আর অনুকূলে থাকবে না।

বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় সমস্যা দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) এর শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী দেশে সামগ্রিক বেকারত্বের হার তুলনামূলক কম হলেও শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার উল্লেখযোগ্য। প্রতি বছর হাজার হাজার স্নাতক পাশ শিক্ষার্থী চাকরির বাজারে প্রবেশ করছে। কিন্তু অনেক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানই তাদের অর্জিত ডিগ্রির সাথে প্রয়োজনীয় দক্ষতার সামঞ্জস্য খুঁজে পাচ্ছে না। ২০২৪ সালের লেবার ফোর্স সার্ভে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে স্নাতক পাশ বেকারের সংখ্যা ৮ লক্ষ ৮৫ হাজার।

অন্যদিকে তথ্য প্রযুক্তি, উৎপাদন শিল্প, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা আধুনিক সেবাখাতে দক্ষ দেশীয় জনবলের অভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ভর করতে হচ্ছে বিদেশি জনশক্তির ওপর। সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন তথ্যসূত্র অনুযায়ী দেশে কয়েক লক্ষ বিদেশি নাগরিক কর্মরত রয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ এর বিষয় হলো শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন। আমরা চতুর্থ শিল্পবিপ্লব এর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি। এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কালে যখন প্রতিদিন প্রযুক্তি আর জীবন বদলে যাচ্ছে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে, তখন কেবল পাঠ্যবই নির্ভর গতানুগতিক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), তথ্য বিশ্লেষণ, ডিজিটাল দক্ষতা, ইংরেজি ও যোগাযোগ ক্ষমতা, বাস্তবিক সমস্যা সমাধান এবং উদ্ভাবনী চিন্তার সমন্বয়ে শিক্ষাব্যবস্থার যুগোপযোগী সংস্কার অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

তবে দায় শুধু শিক্ষাব্যবস্থা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নয়। মানবসম্পদ উন্নয়নকে কোনো খন্ডিত বিষয় নয় বরং একটি সমন্বিত জাতীয় উন্নয়ন কৌশল হিসেবে দেখতে হবে। কারণ মানবসম্পদ গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া জন্মের পর থেকেই শুরু হয়ে যায়।

এইসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সরকার জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (NSDA)-এর মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনেছে। পাশাপাশি Technical and Vocational Education and Training (TVET) সম্প্রসারণ, Skills for Employment Investment Program (SEIP) প্রকল্পের মাধ্যমে শিল্প-উপযোগী প্রশিক্ষণ এবং Smart Bangladesh উদ্যোগে ডিজিটাল ও ভবিষ্যৎমুখী দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগ নীতিগতভাবে ইতিবাচক হলেও বাস্তবায়নের কার্যকারিতাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও কারিগরি শিক্ষার সুযোগ বাড়লেও শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও শ্রমবাজারের মধ্যে এখনো স্পষ্ট সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। ফলে প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি পেলেও মানসম্মত কর্মসংস্থান সেই হারে বাড়ছে না।

UNFPA-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে বাংলাদেশের ৪১ শতাংশ তরুণ কোনো শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত ছিল না; তরুণীদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ৬২ শতাংশ। একই সঙ্গে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ জিডিপির তুলনায় এখনো সীমিত, যা দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধকতা।

জনমিতিক সুবিধাকে কাজে লাগাতে এবং এসব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমকে শিল্প চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ এবং নারীদের শ্রমবাজারে আরো বেশি অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে কার্যকর নীতি গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

বাংলাদেশের উন্নয়নের আগামী অধ্যায় নির্ধারণ করবে বিশাল জনসংখ্যা নয়, সেই জনসংখ্যার গুণগত মান।
এখন তাই সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো প্রতিটি শিশুকে মানসম্মত শিক্ষা, প্রতিটি তরুণকে দক্ষতা এবং প্রতিটি নাগরিককে মর্যাদাপূর্ণ কাজের সুযোগ নিশ্চিত করা। কারণ একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে দক্ষ, সৃজনশীল ও উৎপাদনশীল মানবসম্পদের অবদান অনস্বীকার্য।

শিক্ষার্থী,আইন বিভাগ 

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 13 Jul 2026 12:50:20 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[দুই বাংলার দুই নতুন সরকার কি নজর দেবেন মৈত্রী-বন্ধন এবং উত্তরের মিতালী এক্সপ্রেসে? ]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/116069" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/116069</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[১৯৪৭ সালে দেশভাগ হওয়ার আগে এপার এবং ওপার বাংলার যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে খোলা ছিল কলকাতা থেকে ঢাকা সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ তথা উত্তর-পূর্ব ভারতের দিকে দেশীয় রাজ্য কোচবিহার-এর সঙ্গে বর্তমান বাংলাদেশ-এর রেল যোগাযোগের ইতিহাস ছিল সোনালী। ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত কোচবিহার স্টেট রেলওয়ে উত্তরবঙ্গকে তৎকালীন পূর্ববঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করেছিল। ১৮৯৩-৯৪ সালে দেশীয় কোচবিহারের মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণ কোচবিহার স্টেট রেলওয়ে চালু করেন। প্রথমে এই রেলপথ তোর্ষা নদীর তীর থেকে গিতালদহ পর্যন্ত নির্মিত হয়। গিতালদহ ছিল তৎকালীন ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ জংশন, যেখান থেকে সরাসরি রেলপথ গিয়েছিল লালমনিরহাট হয়ে ঢাকার দিকে। এই রেলপথের দেশভাগের আগে কোচবিহার থেকে গিতালদহ হয়ে বর্তমান বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরাসরি ট্রেন চলাচল করত। তবে দেশভাগ ও পরবর্তীতে ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান, বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধ সংঘাত ব্যাঘাত ঘটায় সেই পরিষেবায়। এরপর মাঝে কিছু মালবাহী ট্রেন লালমণিহাটের মোগলহাট হয়ে গীতালদহ দিয়ে ভারতে চলাচল করলেও নদীভাঙনে একাধিক ব্রিজ ভেঙে পড়ায় দুই দেশের উত্তরবঙ্গে একেবারেই অচল হয়ে ভারত-বাংলাদেশের রেলপরিষেবা। মোগলহাট স্টেশনটি দাঁড়িয়ে আছে ভগ্নপ্রায়। এর সুদূরপ্রসারী প্রভাবও পড়ে দুই দেশে।

এরপর তিস্তা-মেঘনা-গঙ্গা- পদ্মা দিয়ে বয়ে গিয়েছে বহু জল। জলের হিসেব তো আজো মেলেনি, কিন্তু ২০০১ সালে ভারত-বাংলাদেশের তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে প্রথম কলকাতা থেকে ঢাকার উদ্দ্যেশ্যে ট্রায়াল রান সম্পন্ন করে একটি ট্রেন। ভারত-বাংলাদেশের তৎকালীন সরকার মিলিত ভাবে যার নামকরণ করে মৈত্রী এক্সপ্রেস। ট্রেনটির আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করে ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল থেকে। ভারতে সবুজ পতাকা দেখিয়ে ট্রেনটির উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরবর্তীতে প্রথম বাঙালী ভারতীয় রাষ্টপতি প্রণব মুখার্জী। ট্রেনটি প্রথম দিকে সপ্তাহে ১ দিনের জন্যে চালু হলেও পরবর্তীতে কলকাতার চিৎপুর স্টেশন থেকে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন পর্যন্ত সপ্তাহে ৫ দিন ধরে যাতায়াত করতে শুরু করে। এই ট্রেন শুধুমাত্র দুই দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করেছিল এমনটা নয়, আন্তর্জাতিক বানিজ্যের পথও প্রসারিত করে। তৎসহ দুই প্রান্তের মানুষের চলাচলে স্মৃতির পাতা থেকে বাস্তবের ফ্রেমে উঠে আসে অনেক আবেগঘণ মুহূর্ত। ফেলে রাখা দিনের স্মৃতি ও ইতিহাস। এই উন্নয়নের পথকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে ২০১৭ সালে মৈত্রী এক্সপ্রেসে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরা ও এলএইচবি কোচের সংযোগ করা হয় ভারতীয় রেলমন্ত্রকের তরফে।

এরপর একই সূত্র ধরে ৫২ বৎসর পর কোলকাতা ও খুলনার সাথে যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে চালু হয় বন্ধন এক্সপ্রেস। বন্ধন শব্দের অর্থ হল সংযোগ। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্বের অন্যতম সংযোগকারী, এই ট্রেনের পরিষেবা চালু হয় ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর। এই ট্রেনে উভয় দেশের বগি ও ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয় যার ফলে যাত্রীদের সীমান্তে ট্রেন পরিবর্তন করতে হতো না। অতএব ইমিগ্রেশন ব্যবস্হাকে অনেক সহজ করা সম্ভব হয়। রাজনৈতিক অস্হিরতা ও নিরাপত্তাজনিত কারনে এই ট্রেনটিও ১৮ জুলাই ২০২৪ সাল থেকে বন্ধ হয়ে আছে ।

কিন্তু মৈত্রী ও বন্ধন এক্সপ্রেস কলকাতা থেকে ঢাকা পর্যন্ত চলাচল করার ফলে দুই দেশের উত্তরবঙ্গ ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকা বা বাংলাদেশের সরাসরি রেল যোগাযোগব্যবস্থা ছিল না। সীমান্ত ছাড়িয়ে বাংলা ভাষার এই বিস্তৃত জমিনে যোগাযোগের সেই প্রতিকূলতা কাটাতেই ২০২১ সালের ২৬ মার্চ আমজনতার কথা মাথায় রেখে এবং ভারত বাংলাদেশের মিত্রতাকে আরোও দৃঢ় করে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্য দিয়ে দুটি দেশেরই সীমান্তবর্তী বাণিজ্য ও ট্যুরিজমের অগ্রগতি সাধনে দুই দেশের সদিচ্ছায় এবং জনগণের কল্যাণে আরও একটি ট্রেনের উদ্বোধন হয়। যার নামকরণ করা হয় মিতালী এক্সপ্রেস। ২০২১ সালে এই ট্রেনের উদ্বোধন হলেও যাত্রা শুরু হয় ২০২২ সালের ১ জুন থেকে। এই ট্রেনটি শিলিগুড়ির নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন (এনজেপি) থেকে যাত্রা শুরু করে পৌঁছাতো ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন পর্যন্ত। শিলিগুড়ি (এনজেপি) থেকে ট্রেনটি ছাড়তো সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে আর ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে পৌঁছাতো রাত সাড়ে ১০টায়, মোট সময় লাগতো ১০ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট।

উত্তর-পূর্ব ভারতের গেটওয়ে বলে কথিত শিলিগুড়ি শহর রেল যোগাযোগ মাধ্যম একদিকে যেমন সিকিম, অসম, অরুণাচল, মেঘালয়, মিজোরাম এবং ত্রিপুরার মতো প্রতিবেশী রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত অন্যদিকে ট্রেন লাইনে যুক্ত হয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভুটানের প্রান্তদেশ পাশাকা থেকে নেপাল সীমান্তের নকশালবাড়ী পানিট্যাঙ্কি। ইদানিংকালে এই এলাকার যোগাযোগ-ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি এই এলাকার বাণিজ্যিক পরিসরের ব্যাপক উন্নতি সাধন ঘটিছে। তাই মিতালি এক্সপ্রেসের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে আক্ষরিক অর্থেই উত্তর-পূর্ব ভারতের ও তৎসংলগ্ন দেশগুলির সরাসরি সংযোগস্থাপন ঘটে। শুধুমাত্র পর্যটন নয়, এই সংযোগস্থাপন দুই দেশের স্বাস্থ্য ট্যুরিজম এমনকি আমদানী-রপ্তানী বানিজ্যের এক পথপ্রদর্শক হিসেবে ভুমিকা নিতে শুরু করে।

এই পরিবর্তনের প্রভাবে যাত্রীদের কাছে আরো জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই ট্রেন। ক্রমবর্ধমান ভাবে বাড়ে যাত্রী সংখ্যা। উন্নত চিকিৎসা, শিক্ষা, পর্যটন ও দেশি-বিদেশি নানাবিধ শহরের যোগাযোগের জন্যও অচিরেই উত্তরবঙ্গ প্রবেশের ভরসার মাধ্যম হয়ে ওঠে এই ট্রেন। এই রেল পরিষেবা চালুর সময় জরুরীকালীন পরিস্থিতিতে শিলিগুড়ি শহর (এনজেপি)- তে ২০২২ সালের ৭ এপ্রিল থেকে কার্যকরী হয় অভিবাসন দপ্তরের কাজকর্ম। তবে ২০২০ সালে করোনা পরিস্থিতিতে জনজীবন স্তব্ধ হয়ে গেলে প্রথম একবার বন্ধ রাখা হয় এই ট্রেন। ২০২২ সালে পুনরায় তা চালু হলেও বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে দুই দেশের মধ্যে এই দুই ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য।

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই পুনরায় ট্রেন দুটি চালুর বিষয়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের সাথে যোগাযোগকারী মিতালি এক্সপ্রেস ঘিরে উঠেছে গুঞ্জন ও আলোড়ন। কেননা এই এলাকার মানুষ জনের মাঝে প্রথিত রয়েছে আবেগ দেশভাগ ও ইতিহাসের এক নিবিড় সংযোগ।

সেই সূত্র ধরে ভারতীয় উত্তরবাংলার প্রান্ত থেকে বাংলাদেশে চলে যাওয়া বিশিষ্ট মানুষজনের মধ্যে সর্বাগ্রে নাম নিতে হয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি-র অন্যতম প্রধান নেতা তথা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার শেকড় উত্তরবঙ্গের সঙ্গে জড়িত। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট ব্রিটিশ ভারতের অবিভক্ত দিনাজপুরের অংশ জলপাইগুড়ি শহরে জন্মগ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। জলপাইগুড়ির নয়াবস্তি এলাকায় কেটেছে তার শৈশব। ১৯৫০-এর দশকের শুরুতে বা দেশভাগের পর, তাঁর পরিবার জলপাইগুড়ি ছেড়ে পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) দিনাজপুরে চলে যান। জলপাইগুড়ি শহরে আজও তিনি স্থানীয়দের কাছে &#39;পুতুল&#39; নামেই পরিচিত। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে তার সম্পর্ক শুধুমাত্র জন্মস্থান কিংবা শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সীমান্ত বাণিজ্য এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের আলোচনায় খালেদা জিয়ার নাম বিভিন্ন সময় উঠে এসেছে। বিশেষ করে ট্রানজিট, সীমান্ত নিরাপত্তা ও উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ইস্যুতে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান বারবার আলোচিত হয়েছে। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের পাশাপাশি এই বঙ্গেও নেমে আসে শোকের ছায়া।

অন্যদিকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা বলে পরিচিত হুসেন মহম্মদ এরশাদ এর জীবনও উত্তরবঙ্গের এর সাথে জড়িত। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাকে উত্তরবঙ্গের নেতাও বলা হত। সংস্কৃতি জগতের অন্যতম ব্যক্তিত্ব গায়ক আব্বাসউদ্দীনও ছিলেন উত্তরের বাসিন্দা। অন্যদিকে সীমানা পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর প্রান্তে চলে আসে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, সতীনাথ ভাদুড়ি, দেবেশ রায়, অমিয়ভূষণ মজুমদার, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের মতো অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব। এই তালিকা অতএব দীর্ঘ।

এইভাবে যারা দেশভাগের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরেছিলেন, তাদের জন্য সেইসব পরিবারের জন্য এইসব ট্রেন আসলে একটি আবেগের সেতুবন্ধন। তাদের মাধ্যমে দুই বাংলার মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, ভাষা ও সংস্কৃতির মিল আরও দৃঢ় হয়। পরিব্যপ্তি ঘটে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক দিক থেকে মিতালি এক্সপ্রেসের গুরুত্ব অপরিসীম। দুই বাংলার এই দুটি প্রান্ত দুই দেশের জন্যই একটি বড় ও সম্ভাবনাময় বাজার হওয়ায়, এই দুই এক্সপ্রেস ট্রেন চালু থাকলে ব্যবসায়ীদের যাতায়াত সহজ হয় এবং সীমান্ত বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে স্থানীয় ব্যবসা, পরিবহন ও লজিস্টিক খাত চাঙ্গা হয় এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। সীমান্ত অঞ্চলের উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এই ট্রেন সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। উত্তরের দিকে ভারত&ndash;বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় বিভিন্ন স্থলবন্দর ও সীমান্ত হাট রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন প্রচুর বাণিজ্যিক কার্যকলাপ হয়। এই ট্রেন দুটি চালু থাকলে মানুষের চলাচল বাড়বে, বাজার সক্রিয় হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি, নিয়মিত যোগাযোগ থাকলে সীমান্তে নিরাপত্তা ও নজরদারিও বাড়ানো সম্ভব, যা অবৈধ পাচার কমাতে সহায়ক হবে। এছাড়াও দার্জিলিং, ডুয়ার্স, কালিম্পংয়ের মতো উত্তরবঙ্গের পর্যটন কেন্দ্রগুলো বাংলাদেশী পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। ট্রেন পরিষেবা চালু থাকলে পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হবে, যার ফলে ভারতের হোটেল, পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব পরবে। এছাড়া বর্তমানে উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতে রয়েছে মনিপাল, মেদান্ত, এ্যাপেলো, টাটা গ্রুপের উন্নতমানের হাসপাতাল পরিষেবা। এই ট্রেন দুটি পুনরায় চালু হলে তার পরিষেবার পরিসর অতিসহজে পৌঁছাবে বাংলাদেশেও।

লালমনিরহাটের মোগলহাটের বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও বুড়িমারী সিএনএফ বন্ধু ট্রেডার্সের কর্নাধার শামীম হোসেন জানান, মোগলহাটের মানুষ চায় আবারও ট্রেনের সংযোগ স্হাপিত হোক কোচবিহারের সাথে। এমন মতামত পোষন করেন এমন লোকজনের সংখ্যা অসংখ্য।

ভিসা জটিলতা কেটে গেলে, এই ট্রেন পরিষেবা আবার চালু হলে সীমান্ত অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এবং ভারত&ndash;বাংলাদেশ সম্পর্কের অগ্রগতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হবে বলেই মনে করছেন দুই দেশের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সকলেই। দুই দেশের সরকার আলোচনার মাধ্যমে এবং সঠিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অতিসত্বর এই রেল পরিষেবা আবার চালু করবেন, সেই আশায় তাঁরা নিচ্ছেন আবেগের আঁচ।


লেখক জনসংযোগ বিশেষজ্ঞ।]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 08 Jul 2026 12:54:36 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[এখনই পদক্ষেপ নিন: জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/115976" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/115976</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[সোশ্যাল মিডিয়ার ফিড স্ক্রল করলেই আমাদের চোখে পড়বে ছোট ছোট কিছু ভাইরাল ভিডিও, যা দেখে মনে হয় এক অবক্ষয়ী পৃথিবী যেন নিজের ভারেই গলে যাচ্ছে। এগুলো কোনো বড় বাজেটের বা হলিউডের কোন ডিস্টোপিয়ান (দুঃস্বপ্নময় ভবিষ্যৎ) চলচ্চিত্রের অংশ নয়। এগুলো আমাদের চারিদিকে ঘটে যাওয়া চরম বাস্তবতা থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে স্মার্টফোনে ধারণ করা কিছু সুস্পষ্ট বার্তা।

 

এই ভিডিওগুলোতে দ্রুত উষ্ণ হতে থাকা পৃথিবী নামক এক গ্রহের পরিণতিগুলো স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ভিডিওগুলোতে আমরা দেখছি মানুষ সরাসরি কংক্রিটের ওপর ডিম ভেঙে দিচ্ছে এবং জ্বলন্ত সূর্যের তাপে তা মুহূর্তের মধ্যে ভাজা হয়ে যাচ্ছে। আমরা আরো দেখছি পাকা হাইওয়ের ওপর পানি বুদবুদ করে ফুটছে এবং কুচকুচে কালো পিচ নরম হয়ে আঠালো ও গলিত কাদার মতো রূপ নিচ্ছে। পথচারীরা রাস্তা পার হওয়ার সময় তাদের জুতোর তলা গলে যাওয়ার দৃশ্য ক্যামেরায় বন্দি করছেন, অন্যদিকে পথশিশু ও স্থানীয় বন্যপ্রাণীরা ছায়ার খোঁজে মরিয়া হয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছুটছে, কারণ মাটির চামড়া পুড়িয়ে দেওয়ার মত উত্তাপ তারা সহ্য করতে পারছে না।

 

এই ভাইরাল ক্লিপগুলো আসলে ডিজিটাল সতর্কবার্তা। এগুলো এক বিপজ্জনক ভবিষ্যতের একটি বাস্তব এবং অনস্বীকার্য পূর্বাভাস, যা এখন আর আমাদের দিকে ধীর পায়ে এগিয়ে আসছে না - বরং ইতিমধ্যেই আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে।

 

ডাইনোসরের সতর্কবার্তা (একটি বিলুপ্তির রূপক): অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া জলবায়ু বিষয়ক অসংখ্য কনটেন্টের মধ্যে একটি বিশেষ ভিডিও সবার নজর কেড়েছে। এতে দেখা যায়, একটি সিজিআই (কম্পিউটার-জেনারেটেড ইমেজারি) ডাইনোসর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ছে। সেই প্রাগৈতিহাসিক বিশাল জীবটি অত্যন্ত গম্ভীরভাবে করিডোর দিয়ে হেঁটে মঞ্চে ওঠে, মঞ্চের মাইক্রোফোনটি ঠিক আছে কিনা তা দেখে নেয় এবং তারপর জাতিসংঘের সমাবেশে উপস্থিত বিশ্বনেতা ও উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেয়।

 

ভাষণমঞ্চ থেকে ডাইনোসরটি গর্জে উঠে বলে: &quot;গ্রহাণুর পতন থেকে আপনারা কোনো শিক্ষা নেননি, যার কারণে আমরা ধ্বংস হয়েছিলাম এবং নির্মমভাবে মারা গিয়েছিলাম। এখন আমরা এই গ্রহে আর নেই। আপনারা কি এই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের মতো পরিণতি ভোগ করতে চান? সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। তাই আপনাদের প্রিয় প্রজন্মকে বাঁচাতে এখনই পদক্ষেপ নিন। ধন্যবাদ।&quot;

 

ভিডিওটি আমাদের মনোযোগ কাড়তে ডিজিটাল চাতুর্যের আশ্রয় নিলেও, এর পেছনের মূল যুক্তিটি শিউরে ওঠার মতো সত্য। ডাইনোসররা তাদের বিলুপ্তি নিজে থেকে বেছে নেয়নি; একটি আকস্মিক, বিপর্যয়কর মহাজাগতিক ঘটনা তাদের শেষ নির্ধারণ করেছিল। অন্যদিকে, মানবজাতি নিজেই সক্রিয়ভাবে নিজের চুড়ান্ত অধ্যায়টি লিখছে। আমরাই সেই গ্রহাণু। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর আমাদের অবিরাম নির্ভরতা, বন উজাড় এবং টেকসইহীন শিল্পায়নের মাধ্যমে আমরা জেনেশুনে, স্বেচ্ছায় এবং রিয়েল-টাইমে একটি ষষ্ঠ গণবিলুপ্তির (Sixth Mass Extinction) সূচনা করছি। বিজ্ঞানীদের মতে, আগের পাঁচটি গণবিলুপ্তির মতো এটিও একটি বৈশ্বিক বিলুপ্তির ঘটনা হবে, তবে এর প্রধান কারণ প্রাকৃতিক নয়; বরং মানুষের কর্মকাণ্ড।

 

ডাইনোসরের এই বক্তব্য আধুনিক সভ্যতার চরম পরিহাসকে তুলে ধরে: আমাদের ভবিষ্যৎ দেখার এবং নিজেদের পতন গণনা করার এক অনন্য ক্ষমতা রয়েছে, তবুও আমরা এ বিষয়ে কিছু না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে যাচ্ছি। আমরা যদি জলবায়ু নিয়ে এই নিষ্ক্রিয়তার পথে হাঁটতেই থাকি, তবে আমরা কেবল একটি মুমূর্ষু পৃথিবীই পাব না; বরং আমরা এমন এক পৃথিবী রেখে যাব যা হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বসবাসের অযোগ্য।

 

বৈশ্বিক প্রজ্ঞা (একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান): জলবায়ু পরিবর্তনের সংকটকে প্রায়শই কেবল বিজ্ঞান ও অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হয়। এই সংকট নিয়ে সাধারণত বিভিন্ন সংখ্যা এবং নীতিমালার আলোকে আলোচনা করা হয় &ndash; যেমন: বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ (পার্টস পার মিলিয়ন-পিপিএম), নবায়নযোগ্য শক্তির গিগাওয়াট এবং কার্বন ট্যাক্স। কিন্তু এই বিজ্ঞান ও অর্থনীতির গভীরে একটি বড় সত্য লুকিয়ে আছে: জলবায়ু পরিবর্তন মূলত একটি গভীর নৈতিক ও আদর্শিক ব্যর্থতা। এটি বৈশ্বিক দায়িত্ববোধের এক মারাত্মক বিপর্যয়কে নির্দেশ করে।

 

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে ২০২৫ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সম্মেলন কপ-৩০ (COP30) -এ জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়ে কোন সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এর ফলে কার্বন নিঃসরণ কমানোর বৈশ্বিক প্রচেষ্টা দারুনভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যার কারণে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন অব্যাহত থাকবে এবং এর বিরূপ প্রভাব বিশ্বজুড়ে আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এটা মানবজাতির প্রতি আমাদের দায়িত্ববোধের চরম অবহেলা; এখানে বিজ্ঞানের যৌক্তিক অবস্থানের চেয়ে অর্থনৈতিক সুবিধাকেই সমর্থন করা হয়েছে।

 

২০২৪ সালের তথ্য উল্লেখ করে যে, দেশভিত্তিক কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) নির্গমনের মোট হিসাব অনুযায়ী বিশ্বের শীর্ষ তিনটি নির্গমনকারী দেশের তালিকায় যারা রয়েছে সেগুলো হল; চীন: বৈশ্বিক কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) নির্গমনের প্রায় ৩৩% করে থাকে; যুক্তরাষ্ট্র: বৈশ্বিক কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) নির্গমনের প্রায় ১২% করে থাকে; এবং ভারত: বৈশ্বিক কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) নির্গমনের প্রায় ৮% করে থাকে। এই পরিসংখ্যানগুলো দেখায় যে, জলবায়ু সংকট পুরো বিশ্বকে প্রভাবিত করলেও, এর জবাবদিহিতার দায়ভার মূলতঃ কয়েকটি বড় দেশের ওপরই বর্তায়। কার্বন নির্গমনের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করছে বিশ্বের দরিদ্র জনগোষ্ঠী, যদিও এই সংকট সৃষ্টিতে তাদের অবদান খুবই সামান্য।

 

আমরা যদি আমাদের আধুনিক রাজনৈতিক বিভেদগুলো ভুলে মানব ইতিহাসের মৌলিক আধ্যাত্মিক গ্রন্থগুলোর দিকে তাকাই, তাহলে আমরা একটি অসাধারণ ঐক্যবদ্ধ বার্তা দেখতে পাব। বিভিন্ন যুগ, সংস্কৃতি এবং ভূগোলের সীমানা ছাড়িয়ে, বিশ্বের মহান দর্শনগুলো সবসময় আমাদের সতর্ক করেছে যে - আমাদের বর্তমান কর্মই আমাদের বেঁচে থাকা নির্ধারণ করে। কর্ম এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রচলিত কিছু মৌলিক দর্শন এখানে দেওয়া হলো:

 

&middot;বাইবেল-অনুপ্রাণিত (Bible-inspired): &ldquo;আজ আমরা যা বপন করব, আগামীকাল তারই ফসল কাটব।&rdquo;

&middot;কোরআন মতে (Qur&rsquo;anic way): &ldquo;আজ তোমরা যে প্রচেষ্টা করবে, আগামীকাল তারই মুখোমুখি হবে।&rdquo;

&middot;গীতা-অনুপ্রাণিত (Gita-inspired): &ldquo;আজ সৎকর্মে মনোনিবেশ করো; এর ওপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যৎ উন্মোচিত হবে।&rdquo;

&middot;ত্রিপিটক-শৈলী (Tripitaka-style): &ldquo;আজকের কর্মই নির্ধারণ করে আগামীকালের রূপ।&rdquo;

 

একটি শক্তিশালী অভিন্ন সূত্র এই বৈচিত্র্যময় বিশ্বাস ব্যবস্থাগুলোকে একসাথে বেঁধে রেখেছে: আজকের সিদ্ধান্তগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আন্তঃসাংস্কৃতিক এবং আধ্যাত্মিক ঐক্য প্রমাণ করে যে, জবাবদিহিতা একটি সার্বজনীন মানবীয় নিয়ম। আমরা যদি আজ পরিবেশের ক্ষতি, বাস্তুতন্ত্রের ধ্বংস এবং বিষাক্ত গ্যাস নির্গমন করি, তবে আগামীকাল আমরা স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্য এবং সমৃদ্ধির ফসল কাটার আশা করতে পারি না। অবহেলার জন্য মহাবিশ্ব কাউকে ছাড় দেয় না। ভবিষ্যৎ কোনো লটারি নয়; এটি একটি চলমান ক্যানভাস যা পুরোপুরি আমাদের বর্তমানের তুলির টানে রূপ নেয়।

 

আধুনিক সমাজের স্ফুটনাঙ্ক: পর্দায় আমরা যে গলে যাওয়া জুতো এবং ফুটন্ত রাস্তা দেখছি, তা আসলে একটি গভীর পদ্ধতিগত (Systemic) ব্যর্থতার বাস্তব লক্ষণ। তীব্র তাপ্রবাহ এখন আর কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এগুলো গ্রীষ্মকালের সাধারণ নিয়মে পরিণত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, পৃথিবীর উষ্ণায়ন রোধ করতে কার্বন নির্গমন কমানো অত্যন্ত জরুরি একটি পদক্ষেপ অথচ আমরা আমাদের দায়িত্ববোধের পরিচয় দিচ্ছি না।

 

যখন পিচঢালা রাস্তা এবং গণপরিবহন নেটওয়ার্কের অবকাঠামো গলতে শুরু করে, তখন এটি ইঙ্গিত দেয় যে, আমাদের পৃথিবী এমন একটি জলবায়ুর জন্য তৈরি করা হয়েছিল যার অস্তিত্ব এখন আর নেই; যা আমরা নিজেরাই ধ্বংস করেছি। এর অর্থনৈতিক ক্ষতি যেমন আকাশচুম্বী, তেমনি মানবিক ক্ষতি আরও অনেক গুণ বেশি। দিনমজুর, কৃষি শ্রমিক এবং শহরের দরিদ্র মানুষ - যাঁরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বুদবুদের মধ্যে আশ্রয় নিতে পারেন না - তাঁরাই এই তাপীয় আগ্রাসনের মূল শিকার হতে বাধ্য হন।

 

তাছাড়া, এই চরম উত্তাপ একটি দুষ্টচক্রের (Vicious Cycle) সূচনা করে যা হল: ১) উচ্চ তাপমাত্রার কারণে আরও বেশি এয়ার কন্ডিশনারের প্রয়োজন হয়; ২) শীতলীকরণ ব্যবস্থার বৃদ্ধি বৈদ্যুতিক গ্রিডের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং আরও বেশি জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ায়; এবং ৩) বেশি নির্গমন আরও বেশি তাপ আটকে রাখে, যা তাপমাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এই চক্রটি ভাঙতে হলে আমরা যেভাবে জীবনযাপন করি, শহর গড়ে তুলি এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা করি, সেখানে একটি বিশাল পরিবর্তন আনতে হবে।

 

সচেতনতার গণ্ডি পেরিয়ে এখন দরকার সঠিক পদক্ষেপ। কেবল সচেতনতা আর আমাদের বাঁচাতে পারবে না। আমরা হলাম মানব ইতিহাসের সবচেয়ে তথ্যসমৃদ্ধ প্রজন্ম; আমরা প্রতিদিন আমাদের ফোনে এই ধ্বংসলীলা প্রত্যক্ষ করছি। আমাদের তথ্যের কোন অভাব নেই, অভাব রয়েছে সম্মিলিত এবং আপসহীন বাস্তবায়নের। আমাদের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে এবং আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে, এই তিনটি স্তরে একযোগে কাজ করতে হবে:

 

১. পদ্ধতিগত জবাবদিহিতা ও নীতিগত রূপান্তর: ব্যক্তিগত জীবনধারার পরিবর্তন প্রশংসনীয় হলেও, শিল্পকারখানার নির্গমনের তুলনায় তা উষ্ণ হতে থাকা মহাসাগরে এক ফোঁটা পানির মতো। সরকারকে এমন আগ্রাসী নীতি কাঠামো তৈরি করতে হবে যা কার্বন উৎপাদনকে নিরুৎসাহিত করবে এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্পগুলোতে ভর্তুকি দেবে। এর অর্থ হলো জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকি বন্ধ করা, কর্পোরেশনগুলোর জন্য নেট-জিরো লক্ষ্যমাত্রা বাধ্যতামূলক করা এবং আগামী দিনের প্রতিকূল জলবায়ু সহ্য করতে পারে এমন পাবলিক অবকাঠামোতে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করা।

 

২. কর্পোরেট দায়িত্ব: বৈশ্বিক ব্যবসায়িক খাতকে পরিবেশগত স্থিতিশীলতার বিনিময়ে স্বল্পমেয়াদী মুনাফার পুরোনো মডেল থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রকৃত টেকসইতার জন্য প্রয়োজন সরবরাহ চেইনের সম্পূর্ণ সংস্কার, এমন এক ঘূর্ণায়মান অর্থনীতির (Circular Economy) দিকে যাত্রা যেখানে বর্জ্য পুরোপুরি দূর করা এবং শতভাগ নবায়নযোগ্য শক্তির উৎসের দিকে অবিলম্বে ধাবিত হওয়া। পাশাপাশি ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপন দরকার।

 

৩. নাগরিক ও সামাজিক সমাবেশ: ইতিহাস সাক্ষী দেয় যে, পরিবর্তন সবসময় তৃণমূল থেকে শুরু হয়। নাগরিক, ভোক্তা এবং ভোটার হিসেবে আমাদের হাতে বিশাল ক্ষমতা রয়েছে। আমাদের চারপাশের প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে আরও ভালো কিছু দাবি করার জন্য আমাদের কণ্ঠস্বর এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করতে হবে। আমাদের এমন নেতাদের ভোট দিতে হবে যাঁরা জলবায়ু সংকটকে জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করেন, এমন ব্যবসাকে সমর্থন করতে হবে যা পৃথিবীকে প্রাধান্য দেয় এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে টেকসই অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

 

সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে: জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়ানো সেই ভার্চুয়াল ডাইনোসর আমাদের কাছে একটি ভয়ানক প্রশ্ন রেখে গেছে: আপনারা কি আমাদের মতো পরিণতি মেনে নিতে চান? উত্তর যদি সমস্বরে &#39;না&#39; হয়, তবে আমাদের আচরণে আজই সেই সিদ্ধান্তের প্রতিফলন ঘটতে হবে। সময় এমন কোনো বিলাসিতার বস্তু নয় যা আমাদের হাতে আছে। আমরা প্রতি ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধি যতটা রোধ করতে পারব, তা লক্ষ লক্ষ জীবন বাঁচাবে, অমূল্য বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করবে এবং আমাদের সন্তানদের জন্য একটি স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে। তাই এগিয়ে আসুন; আর সঠিক পদক্ষেপ নিন।

 

আমরা মানব ইতিহাসের এক অনন্য এবং ভয়ানক মোড়ে দাঁড়িয়ে আছি। আমরাই প্রথম প্রজন্ম যারা জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র প্রভাব অনুভব করছি, এবং আমরাই শেষ প্রজন্ম যাদের হাতে এ বিষয়ে কিছু করার ক্ষমতা রয়েছে। আগামী কয়েক বছরে আমাদের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর প্রতিধ্বনি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বাজবে। আসুন আমরা নিশ্চিত করি যে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যখন এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের দিকে ফিরে তাকাবে, তখন তারা যেন আমাদের এমন এক প্রজাতি হিসেবে মনে না রাখে যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ঘর পুড়তে দেখেছে, বরং এমন এক প্রজাতি হিসেবে মনে রাখে যারা অবশেষে জেগে উঠেছিল, ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো বন্ধ করেছিল এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় পদক্ষেপ নিয়েছিল।

ফ্রিল্যান্স লেখক]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 04 Jul 2026 11:29:03 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ফুটবলপাগল বাংলাদেশ কেন বিশ্ব ফুটবলে এত পিছিয়ে?]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/115723" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/115723</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাংলাদেশ জুড়ে এখন চলছে ফুটবল উন্মাদনা। রাতভর বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার উৎসব। গোটা দেশ যেন দুই ভাগে বিভক্ত, আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিল। অবশ্য এর বাইরেও কয়েকটি দলের সমর্থকও নেহাতই কম নয়। এমবাপ্পের ফ্রান্স, রোনালদোর পর্তুগাল, হ্যারি কেইনের ইংল্যান্ড, হাকিমির মরক্কো, চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানির সমর্থক আছেন অনেক। এবারের বিশ্বকাপে দুটি ড্র করে হইচই ফেলে দেওয়া ৬ লাখ মানুষের দেশ নবাগত কেপ ভার্দের বাংলাদেশি সমর্থক নিশ্চিতভাবেই সে দেশের জনসংখ্যার চেয়ে বেশি। বাংলাদেশে শহর থেকে গ্রামে বড় স্কিনে খেলা দেখার আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ফুটবল খেলা দেখা। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলের খেলার দিন টিএসসি চত্বর যেন এক টুকরো আর্জেন্টিনা কিংবা ব্রাজিলে রূপ নেয়। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নয়, বিভিন্ন স্তরের মানুষ খেলা দেখতে আসেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। এখানে খেলা দেখতে এসে আপনি মনে করতেই পারেন হয়তো কোনো স্টেডিয়ামে খেলা দেখছেন। লিওনেল মেসির বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ড করার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হলে এসে খেলা উপভোগ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের উল্লাসের মধ্যে রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসো বলেন, &lsquo;আমি নিজের দেশের মতো অনুভব করছি। মনে হচ্ছে, আমি আর্জেন্টিনায় আছি।&rsquo; এভাবেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়। বড় পর্দায় খেলা দেখানোর ব্যবস্থা সব হলে। ঢাবি ছাড়াও সারা দেশে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিশ্বকাপ উপলক্ষে চলে জমকালো আয়োজন। শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নয়, এখন পাঁচতারকা হোটেল থেকে বিভিন্ন ক্যাফে এবং রেস্টুরেন্টে চলছে বিশ্বকাপের বিশেষ আয়োজন। বাসাবাড়িতেও বিশ্বকাপ উপলক্ষে রাত জেগে খেলা দেখার ধুম পড়েছে। তরুণ-তরুণীরা তাদের পছন্দের দলের জার্সি গায়ে খেলা উপভোগ করেন। অনেকেই পুরো বিশ্বকাপের সময় পছন্দের জার্সি পরেই থাকেন। সারা বাংলাদেশ যেন ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকায় ছেয়ে গেছে। তার ফাঁকফোকর দিয়ে কিছু ফ্রান্স, জার্মান ও পর্তুগালের পতাকা দেখা যায়। কয়েকটি গ্রাম তো আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলের পতাকার সাজে সাজানো হয়েছে। এই দুই দলের সমর্থকরা দলের বিজয়ে মিছিল করেন। নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে মিষ্টি বিতরণ করেন। অনেকে আবার খেলা উপলক্ষে গরু খাসি কোরবানি দিয়ে সমর্থকদের আপ্যায়ন করেন। দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে মারামারি এবং উত্তেজনা সৃষ্টির ঘটনাও ঘটছে। আর সোশ্যাল মিডিয়ায় তো চলছে ট্রল আর কমেন্টের প্রতিযোগিতা।

বিশ্বকাপ যেন আমাদের সব ভুলিয়ে দিয়েছে দেড় মাসের জন্য। আমাদের চারপাশে অভাব অনটন, অনিশ্চয়তা, হতাশা আর উৎকণ্ঠা পাশে রেখে আমরা মেতে উঠেছি বিশ্বকাপ উন্মাদনায়। বিশ কোটি মানুষের এই দেশে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর যিনি ফুটবল পছন্দ করেন না, কিংবা বিশ্বকাপ নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই। এদেশের মানুষ ফুটবল পাগল। এই দেশে উৎসবের উপলক্ষ খুব কম। বিশ্বকাপ ফুটবল যেন আমাদের এক মহা উৎসবের আমেজ এনে দেয়।

কিন্তু ফুটবলপাগল এই দেশটি কখনো বিশ্বকাপ খেলেনি। বিশ্বকাপ তো দূরের কথা, স্বাধীনতার পর এশিয়া কাপ ফুটবল খেলেছিল একবার ১৯৮০ সালে। এ বছর নারী ফুটবল দল নারী এশিয়া কাপ ফুটবলে অংশগ্রহণ করে। সাফ ফুটবলেও আমাদের রেকর্ড ভালো না। ২০০৩ সালে আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। তারপর এই আসরেও আমাদের সাফল্য নেই। ফিফা র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১। কোটি ভক্তের এই দেশে ফুটবলের কেন এমন করুণ দশা? ফিফার এক গবেষণায় জানা যায়, একটি দেশের ফুটবলের বিকাশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো দর্শকদের। কোনো দেশে যদি ফুটবল জনপ্রিয় হয় তাহলে সেই দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য এই গবেষণা কতটা সঠিক? বাংলাদেশে ফুটবল উন্মাদনা ইংল্যান্ড, আর্জেন্টিনা কিংবা ব্রাজিলের সঙ্গে তুলনীয়। কিন্তু তবুও কেন আমাদের ফুটবল রুগ্ণ, মৃতপ্রায়? বিশ্বকাপ নিয়ে এত উত্তেজনার মধ্যে আমাদের এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা দরকার। বাংলাদেশের ফুটবল এখনো যে টিকে আছে সেটা দেশের বৃহত্তম শিল্প গ্রুপ বসুন্ধরার অবদান। বসুন্ধরা বাংলাদেশের ফুটবলের এখন একমাত্র ভরসা।

দুনিয়াজুড়ে দেশে দেশে ফুটবল সংস্কৃতির অভিভাবক হলো ক্লাব। সেই প্রথম থেকেই ফুটবলকে লালন-পালন, নতুন প্রতিভার বিকাশ, ধারাবাহিকতার সঙ্গে খেলোয়াড় সৃষ্টি এবং খেলাকে জনপ্রিয় করার পেছনে ফুটবলের প্রাণভোমরা ক্লাবগুলোর অবদান সব সময় স্মরণীয়। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, চেলসি, রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, আর্সেনাল, ম্যানসিটি প্রভৃতি অ্যাকাডেমির কার্যক্রম তো ফুটবল দুনিয়ার আলোচিত এবং অনুকরণীয়। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে ক্লাবগুলো কখনো পরিকল্পনামাফিক একদম &lsquo;এন্ট্রি লেবেল&rsquo; থেকে খেলোয়াড় সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়নি। স্থানীয় রেডিমেড এবং বাফুফের অনুমোদিত খেলোয়াড়রাই ভরসা। এতে দেশের ফুটবল স্বাবলম্বী হতে পারেনি। গত ৫৩ বছরের ফুটবল মাঠের ছবি দেশের ফুটবলের সঙ্গে প্রতারণার দলিল। এই অবস্থার পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ শুরু করে বসুন্ধরা গ্রুপ। বসুন্ধরা কিংস প্রথম স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে পেশাদার ফুটবল ক্লাব। যারা বিশ্বে ক্লাব ফুটবলের আদলে বাংলাদেশের ফুটবল কাঠামোকে পাল্টানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ক্লাবটি দেশের ফুটবলের প্রেক্ষাপট এবং রং পাল্টে দিয়েছে। প্রথম থেকেই হেঁটেছে ফুটবলে সংস্কারের পথ ধরে। নির্দিষ্ট লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, আকাক্সক্ষা এবং স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমে ক্লাবটি দেশের মানচিত্রে সীমাবদ্ধ থাকেনি, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এবং এর বাইরে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশে একমাত্র &lsquo;সত্যিকারের পেশাজীবী&rsquo; ক্লাব হিসেবে আলোচনার জন্ম দিতে সক্ষম হয়েছে। ঘরোয়া পেশাদার ফুটবল লড়াইয়ে সাফল্যের ক্ষেত্রে অতীতের সব ধরনের রেকর্ড ভঙ্গ করে নতুন ইতিহাসের জন্ম দিয়েছে। আধুনিক চিন্তা-ভাবনায় উজ্জীবিত ক্লাবটি প্রথম থেকেই দেশের ক্লাব ফুটবলে নতুন ধারার জন্ম দিয়েছে। ক্লাবটি হতে পেরেছে অন্যান্য ক্লাবের কাছে আদর্শ। ক্লাবটি দেশের ফুটবলের প্রেক্ষাপট এবং রং পাল্টে দিয়েছে। দেশের ক্রীড়াঙ্গনের মানোন্নয়ন, ক্রীড়াচর্চাকে পৃষ্ঠপোষকতা এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার লক্ষ্যে বসুন্ধরা গ্রুপের হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের পেছনে আছে গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের খেলাধুলার প্রতি গভীর অনুরাগ এবং ভালোবাসা। কিন্তু বসুন্ধরার মতো অন্য কোনো শিল্প উদ্যোক্তা বা শিল্পগোষ্ঠী ফুটবলের মান উন্নয়নে এগিয়ে আসেনি। এটা দুঃখজনক। বসুন্ধরা কিংস ছাড়া অন্য ক্লাবগুলো এখনো পেশাদারিত্ব নিয়ে কাজ করতে পারেনি। আবাহনী, মোহামেডান কিংবা ব্রাদার্স ইউনিয়নের মতো একসময়ের জনপ্রিয় ক্লাবগুলোর নির্দিষ্ট আয়ের উৎস নেই। চাঁদা এবং ক্লাবে হাউজি খেলার টাকা দিয়ে ক্লাব কোনোরকমে চালানো যায় হয়তো কিন্তু ফুটবলের মান উন্নয়ন করা যায় না। বাংলাদেশে কমবেশি ত্রিশটির মতো বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী আছে। প্রত্যেকে যদি একটা ক্লাবের দায়িত্ব নেয়, বসুন্ধরা কিংসের আদলে ক্লাব গড়ে তোলে তাহলে আমাদের ফুটবলের সুদিন আসতে বেশি সময় লাগার কথা নয়। এজন্য শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে কথা বলতে হবে সরকারকে।
পাশাপাশি কৈশোর থেকে ফুটবলার গড়ে তোলার জন্য গড়ে তুলতে হবে ফুটবল একাডেমি। এই একাডেমি সারা দেশ থেকে ফুটবল প্রতিভা খুঁজে বের করবে। তাদের পরিপূর্ণ এবং সমন্বিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আগামী দিনের ফুটবলার হিসেবে গড়ে তুলবে। এসব একাডেমি হবে ভবিষ্যতের সেরা ফুটবলার সৃষ্টির কারখানা। বর্তমানে বাংলাদেশে বসুন্ধরা ফুটবল একাডেমি এবং বিকেএসপি ছাড়া আর কোনো একাডেমি নেই। এ ধরনের একাডেমি গড়ে তুলতে না পারলে শুধু ফুটবল নয়; কোনো খেলারই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এসব একাডেমি হবে ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিভা বিকাশের মূল ভিত্তি। এ ধরনের ক্রীড়া একাডেমি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে। যেসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ ধরনের উদ্যোগ নেবে তাদের দিতে হবে বিশেষ প্রণোদনা এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা।

বাংলাদেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাফুফে (বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন)। বাফুফেকে ফুটবলের মান উন্নয়নে দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। বিশ্বের কোনো দেশের ফুটবল রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিকশিত হয়নি। ফুটবল বিকাশের একমাত্র পরীক্ষিত উপায় হলো ক্লাব ফুটবলের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ।

বর্তমান ফুটবল যুগের সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসিকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন চলছে। এই মেসিকে কিন্তু আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন তৈরি করেনি, করেছে বার্সেলোনা। ছোটবেলায় শারীরিক বৃদ্ধি-সংক্রান্ত সমস্যায় ভোগা এক লাজুক ছেলের বিশ্বের সেরা ফুটবলার হয়ে ওঠার গল্প রূপকথাকেও হার মানায়। শৈশবে গ্রোনদোলি ও নিওয়েল&rsquo;স ওল্ড বয়েজে খেলার সময় তার গ্রোথ হরমোন সমস্যা ধরা পড়ে। চিকিৎসার খরচ বহন করতে না পারায় মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি স্পেনে পাড়ি জমান এবং বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে যোগ দেন। আজকের মেসির জন্ম হয় আসলে বার্সেলোনা ক্লাবে। শুধু মেসি নন, সব ফুটবল তারকার আসল জীবন শুরু হয় ক্লাব থেকে। বাংলাদেশের ফুটবলকে নতুন জীবন দিতে হলে ক্লাব ফুটবলের জাগরণ ঘটাতে হবে। মৃতপ্রায় ফুটবলকে বাঁচিয়ে রেখেছে বসুন্ধরা কিংস। দেশের ফুটবলের জাগরণ ঘটাতে হলে বসুন্ধরার মতো আরও পরিপূর্ণ ক্লাব গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে বাফুফে এবং সরকারকে দিতে হবে সহযোগিতা। একটি পরিকল্পনার আলোকে আমাদের ফুটবলকে ঢেলে সাজাতে হবে। নতুন খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে। আর সবচেয়ে বড় কথা খেলাধুলাকে রাজনীতিমুক্ত করতে হবে। কোটি কোটি ফুটবলভক্তের এই দেশে ফুটবল এত পিছিয়ে থাকবে, এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।

লেখক ও নাট্যকার]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 25 Jun 2026 11:36:18 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[শিল্প-সাহিত্যপ্রেমী আবদুস সাদেক ]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/115638" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/115638</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[আমি যে সময়ের কথা বলছি সে সময়ে বইমেলায় বের হতো একুশের সংকলন। এসব সংকলন বের করত মূলত স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েরা। নানান রকম সংকলন। সংকলনে বিভিন্ন ধরনের লেখা থাকত। দেশপ্রেম, একুশ, স্বাধীনতা এরকম বিষয় নিয়েই বেশি লেখা থাকত। এসব সংকলন একুশে ফেব্রুয়ারি সকালবেলা আমরা বিভিন্ন জায়গায় বিলি করতে চেষ্টা করতাম। এই সংকলনের নির্দিষ্ট কোনো দাম ছিল না। যে যা পারে সেটাই দিতেন। সংকলনগুলো প্রকাশের জন্য কিছু টাকার প্রয়োজন হতো। আর এই টাকা সংগ্রহের জন্য আমরা বিভিন্ন জায়গায় বিজ্ঞাপনের জন্য যেতাম। তখন এসব সংকলন বা একুশের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো একটা বরাদ্দ রাখত।

বিজ্ঞাপন সংগ্রহের সূত্র ধরেই আমার সঙ্গে জনাব আবদুস সাদেকের পরিচয়। আমাদের স্কুলবন্ধু হাবিবুর রহমান বাবলুর মামা হতেন। তিনি তখন একটা বড় কোম্পানির প্রধান হিসেবে কাজ করেন। এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান অফিস ছিল বগুড়ায়। গুলিস্তানে ছিল তাদের সাব অফিস। সাদেক সাহেব বসতেন গুলিস্তান অফিসে। আমি বগুড়াতেও গিয়েছি। ঢাকার অফিসে গিয়ে তাঁর সঙ্গে প্রথম আলাপ হলো। দেখেই আমি তাঁকে চিনে ফেললাম। কারণ পত্রিকায় মাঝেমধ্যে তাঁর ছবি দেখতাম। তিনি যে চেয়ারে বসতেন ঠিক তার পেছনেই একটি ছবি ছিল তিনি হকিস্টিক হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। আমি বুঝতে পারলাম বাবলুর এই মামা কোনো সাধারণ একজন মানুষ নন। তিনি যদিও এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন সঙ্গে তিনি আমাদের হকির জাতীয় দলের একজন খেলোয়াড়। হকি দলের অধিনায়কও ছিলেন। আমাদের পরম সৌভাগ্য যে সাদেক মামার মতো একজন সজ্জন ব্যক্তির সঙ্গে আমাদের জানাশোনা ছিল। তিনি আমাদের এই একুশের সংকলনে পর্যাপ্ত বিজ্ঞাপন দিয়ে সাহায্য করতেন। আবার কখনো কখনো ব্যক্তিগতভাবেও তাঁর সাহায্য পেয়েছি। তিনি যেমন খেলোয়াড় ছিলেন তেমনি ছিলেন শিল্প-সাহিত্য অনুরাগী। সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা ছিল বলেই আমরা যখনই তাঁর কাছে যেতাম তিনি আমাদের নিরাশ করতেন না। বাবলুকে সঙ্গে নিয়ে যেতাম মামার কাছে। মাঝেমধ্যে তিনি আমাদের &lsquo;খাবার দাবার&rsquo; দোকানে আসতেন। আমাকে স্নেহ করতেন। তাঁর সঙ্গে তখন আসতেন প্রতাপ শংকর হাজরা, রফিকুল ইসলাম কামালসহ আরও অনেকেই। আমরা জুনিয়র হওয়ার সুবাদে আদর করতেন। তাঁরা আমাদের খেলাধুলার প্রতি জোর দিতে বলতেন। খেলাধুলা করলে শরীর ঠিক থাকে সেটাও বলতেন। সাদেক মামা লেখাপড়া করতেন আরমানিটোলা স্কুলে। তারপর তিনি ঢাকা কলেজে ভর্তি হন। আমরা যে স্কুলে পড়তাম সেই স্কুলে মনির হোসেন নামে একজন শিক্ষক ছিলেন। মনির স্যারের সঙ্গে মাঝেমধ্যে আসতেন বিখ্যাত রেফারি ননী বসাক। তিনি প্রখ্যাত চিত্রনায়িকা শবনমের বাবা। ননী বসাক এবং মনির হোসেন স্যার খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ধীরে ধীরে বাবলুর সম্পর্কটাই আমার সঙ্গে গড়ে উঠল।

আমিও আবদুস সাদেক সাহেবকে মামা ডাকা শুরু করলাম। নানান সময়ে নানান কাজে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। এর কারণ ছিল আমাদের খাবার দাবার পিঠাঘর যেহেতু গুলিস্তানে ছিল সেই সুবাদে সাদেক মামার সঙ্গে প্রায়ই দেখা হতো আমার। খুব হাসিখুশি মানুষ ছিলেন তিনি। দেখা হলেই বলতেন স্বাস্থ্যটা ঠিক রাখো খেলাধুলা কর। বাংলাদেশে হকি স্টেডিয়াম তৈরি হয়েছিল ঢাকা স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করে গুলিস্তান এলাকাতে। হকি স্টেডিয়াম কিংবা হকির যে উন্নয়ন হয়েছিল তার কৃতিত্বের দাবিদারদের অন্যতম ছিলেন সাদেক মামা অর্থাৎ আবদুস সাদেক। ২০ জুন তাঁর চলে যাওয়ার সংবাদে মনটা ভীষণ ভারী হয়ে গেল। চোখ ছলছল করে উঠল আর চোখের সামনে ভেসে উঠল সেই পুরোনো স্মৃতি। মামার অফিসকক্ষ, হকিস্টিক হাতে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ছবি। সাদেক মামা আপনার এই চলে যাওয়ায় আমরা ব্যথিত। দেশ একজন দক্ষ সংগঠক ক্রীড়াব্যক্তিত্বকে হারাল। আপনি যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন।

লেখক : মিডিয়াব্যক্তিত্ব

সান নিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 23 Jun 2026 07:23:48 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[কড়াইয়ের ছ্যাঁকা আর এক সমাজের নীরবতা ]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/115550" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/115550</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[একটি ঘর সাধারণত নিরাপত্তার প্রতীক। কিন্তু সেই ঘরই যখন কারও জন্য নির্যাতনের জায়গায় পরিণত হয়, তখন প্রশ্ন শুধু একটি ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না&mdash; প্রশ্ন উঠে আমাদের মানবিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং ক্ষমতার ব্যবহারের ধরন নিয়ে।

খুলনার সোনাডাঙ্গায় এক কিশোরী গৃহকর্মীকে গরম কড়াই দিয়ে ছ্যাঁকা ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে&mdash; এটাই আইনের পথ। তবে ঘটনার বিবরণ যে কোনো বিবেকবান মানুষকে নাড়িয়ে দেওয়ার মতো।

অভিযোগ রয়েছে, সামান্য একটি ভুল&mdash; হাত থেকে তরকারি পড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হয় নির্যাতন। গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকা, শারীরিক আঘাত, অপমান&mdash; এসব কেবল শাস্তি নয়, এগুলো মানুষকে মানুষ হিসেবে অস্বীকার করার ভয়ংকর প্রকাশ।

আরও উদ্&zwnj;বেগের বিষয় হলো&mdash; যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। আইন প্রয়োগের দায়িত্ব যাঁদের হাতে, তাঁদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের আস্থার জায়গায় আঘাত করে। কারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন শুধু ইউনিফর্মে সীমাবদ্ধ নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আচরণ, নৈতিকতা এবং মানবিকতা।

গৃহকর্মীরা আমাদের সমাজের সবচেয়ে অরক্ষিত শ্রমজীবী মানুষের একটি বড় অংশ। তাঁদের কাজের সময় নির্দিষ্ট থাকে না, অনেকের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত হয় না, আবার অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতনের ঘটনাও নীরবে থেকে যায়। কারণ অভিযোগ করার সাহস, সুযোগ কিংবা সামাজিক অবস্থান&mdash; সবকিছুই সীমিত।

এই ঘটনায় স্থানীয়দের ভূমিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। প্রতিবেশীরা নীরব থাকেননি, খবর দিয়েছেন, উদ্ধার কার্যক্রমে ভূমিকা রেখেছেন। সমাজ তখনই সুস্থ থাকে, যখন অন্যায়ের সামনে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেয় না।

তবে এখানেই শেষ নয়। একটি মামলা হয়েছে মানেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং এমন একটি বার্তা প্রতিষ্ঠা করা&mdash; যেখানে পরিচয়, পদমর্যাদা কিংবা পেশা নয়, আইনের কাছে সবার অবস্থান সমান।

আমরা প্রায়ই বলি, শিশু ও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু নিরাপত্তা শুধু রাস্তায় নয়&mdash; ঘরের ভেতরেও নিশ্চিত করতে হবে। কারণ অনেক সময় সবচেয়ে বড় নির্যাতন ঘটে চার দেয়ালের আড়ালে।

একটি সভ্য সমাজের শক্তি বোঝা যায় দুর্বল মানুষের প্রতি তার আচরণে। খুলনার এই ঘটনা আমাদের আবারও মনে করিয়ে দিল&mdash; ক্ষমতা মানুষকে বড় করে না, মানুষকে বড় করে তার মানবিকতা।


লেখক
editor@sayalwaystruth.com

 

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 21 Jun 2026 06:57:08 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[বিশ্বকাপের খেলায় কেন হারায় বিটিভি?]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/115436" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/opinion/115436</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ফিফা বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশের কোটি ফুটবলপ্রেমীর চোখ থাকে সম্প্রচারের দিকে। বিটিভি ২০২৬ বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্ব নিয়েছে&mdash; এটি অবশ্যই ইতিবাচক খবর। কারণ দেশের বড় একটি অংশ এখনও বিনামূল্যে সম্প্রচারের ওপর নির্ভরশীল।

তবে এই আনন্দের মাঝেই একটি প্রশ্ন এখন বাস্তবভাবে সামনে এসেছে&mdash; বিটিভির অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচ দেখা যাবে কি না?

কারণ, এটি এখন আর অনুমান বা অতীতের অভিজ্ঞতার বিষয় নয়&mdash; বর্তমানে বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়েই এমনটি দেখা যাচ্ছে বলে দর্শকদের অভিযোগ রয়েছে।

সাধারণ সময়ে বিটিভির অনলাইন লাইভ প্ল্যাটফর্মে চারটি চ্যানেল দেখা যায়&mdash; বিটিভি, বিটিভি নিউজ, বিটিভি চট্টগ্রাম ও সংসদ টেলিভিশন। কিন্তু যেদিন বিশ্বকাপের ম্যাচ থাকে, সেদিন অনেক দর্শক লক্ষ্য করছেন যে মূল বিটিভি চ্যানেলটি অনলাইন তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় বা আর দেখা যায় না। অন্য তিনটি চ্যানেল চালু থাকলেও বিটিভি অনুপস্থিত থাকে। পরে ম্যাচ শেষ হলে বা অনেক ক্ষেত্রে রাতের দিকে আবার চ্যানেলটি ফিরে আসে।

এতে করে যারা টেলিভিশনের বদলে মোবাইল, ওয়েবসাইট বা অনলাইন স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে খেলা দেখতে চান&mdash; তাদের জন্য বাস্তবে ম্যাচ দেখা সম্ভব হয় না।

অবশ্য, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সম্প্রচারের ক্ষেত্রে অনেক সময় টিভি সম্প্রচারস্বত্ব এবং ডিজিটাল সম্প্রচারস্বত্ব আলাদা নিয়ম ও চুক্তির আওতায় পরিচালিত হয়। ফলে অনলাইন সম্প্রচারে সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে।

কিন্তু দর্শকের দৃষ্টিতে প্রশ্নটি সহজ&mdash; যদি সাধারণ দিনে একটি সরকারি চ্যানেল অনলাইনে দেখা যায়, তাহলে দেশের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরের সময় সেটি কেন অনুপস্থিত থাকবে?

তাই দর্শকদের জন্য পরিষ্কারভাবে জানানো প্রয়োজন&mdash; বিটিভির অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখা যাবে কি না।

কারণ সময় বদলেছে, এখন বিশ্বকাপ শুধু টিভির সামনে বসে দেখার আয়োজন নয়&mdash; এটি এখন মোবাইল, ওয়েব ও ডিজিটাল দর্শকদেরও আয়োজন। সম্প্রচারের অধিকার অর্জনের পাশাপাশি সেই সম্প্রচার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রশ্নটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

লেখক
editor@sayalwaystruth.com

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 18 Jun 2026 07:50:33 +0000</updated>
        </entry>
    </feed>
