<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<feed xmlns="http://www.w3.org/2005/Atom">
                        <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/feed/feature</id>
                                <link href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/feed/feature"></link>
                                <title><![CDATA[Sunnews feature Feed]]></title>
                                <description>Sunnews Latest feature News Feeds</description>
                                <language>bn-BD</language>
                                <updated>Fri, 14 Aug 2026 09:17:28 +0000</updated>
                        <entry>
            <title><![CDATA[পিরোজপুরে ৪৮০ কিমি সড়ক প্রকল্পে কাজ ছাড়াই ৯১ কোটি টাকা! ]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/bangladesh/117498" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/bangladesh/117498</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[পিরোজপুরের গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য নেওয়া ৬০০ কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্পে গুরুতর অনিয়ম ও আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় ৩১টি স্কিমে কোনো দৃশ্যমান কাজ না করেই প্রায় ৯০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ভ্যাট ও আয়কর বাদ দিলে আত্মসাতের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৭৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

পিরোজপুরের সাত উপজেলায় প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা পাকা করার লক্ষ্যে ২০২১ সালে প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। সদর, নাজিরপুর, নেছারাবাদ, ভান্ডারিয়া, কাউখালী, ইন্দুরকানি ও মঠবাড়িয়া উপজেলার দুর্গম এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করাই ছিল প্রকল্পটির প্রধান উদ্দেশ্য। প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ ছিল ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত।

তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা এবং সরকারি নথিতে দেখানো অগ্রগতির মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য পাওয়া গেছে বলে আইএমইডির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রকল্পে মোট ২১৩টি প্যাকেজের মধ্যে বেশ কয়েকটির কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। আবার ৩২টি প্যাকেজের অগ্রগতি শূন্য বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরেজমিনে কয়েকটি প্রকল্প এলাকা ঘুরে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিপিপিতে রাস্তা ও কালভার্ট নির্মাণের কথা থাকলেও বাস্তবে সেসব কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

ভান্ডারিয়া মহিলা কলেজ থেকে পূর্ব ভান্ডারিয়া মন্ত্রিবাড়ি রোড হয়ে খন্দকার বাড়ি সড়কে রাস্তা ও তিনটি আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণের কথা ছিল। কিন্তু মাঠে নির্মাণকাজের দৃশ্যমান কোনো চিহ্ন না থাকলেও ওই প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে।

একইভাবে শ্রীপুর শিকদার হাট থেকে শ্রীপুর বলগার ব্রিজ সড়ক পর্যন্ত রাস্তা ও একাধিক কালভার্ট নির্মাণের কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট এলাকা এখনও কাঁচা বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই কাজের বিপরীতেও প্রায় ৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।

মাটিভাঙ্গা-কাঠালিয়া সীমান্ত সড়কসহ আরও কয়েকটি প্রকল্পে রাস্তা ও কালভার্ট নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে কাজের অস্তিত্ব না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কোথাও সামান্য নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা হলেও পরবর্তীতে কাজ এগোয়নি। এসব প্রকল্পের বিপরীতেও কোটি কোটি টাকা পরিশোধের তথ্য প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

আইএমইডির প্রতিবেদনে প্রকল্পের আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতির হিসাব নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত প্রায় ৪৪১ কোটি টাকা ব্যয় দেখিয়ে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ৭৭.৭৭ শতাংশ দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু ভুয়া প্যাকেজে অর্থ উত্তোলন ও প্রকৃত কাজের তুলনায় অতিরিক্ত বিল পরিশোধের অভিযোগ থাকায় এই অগ্রগতির হিসাব কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

প্রকল্পের ৪৭টি প্যাকেজে বাস্তব কাজের তুলনায় ৩ থেকে ৪ গুণ পর্যন্ত বেশি বিল পরিশোধের অভিযোগও এসেছে। এসব অনিয়মের আর্থিক পরিমাণ পুরোপুরি নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকল্পের অর্থ ছাড় ও বিল পরিশোধের প্রক্রিয়াতেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের মেজারমেন্ট বুক ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়াই জেলা পর্যায় থেকে বিল অনুমোদনের অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ছাড়াই বিল প্রক্রিয়াকরণের অভিযোগ তদন্তে এসেছে। বিষয়টি বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অডিট আপত্তিতেও প্রকল্পটির বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের আর্থিক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে মোট ১২৮ কোটি ৫২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি ও অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে অনুমোদিত ডিপিপির বাইরে অতিরিক্ত বরাদ্দ, বিধিবহির্ভূত ব্যয়, ভুয়া বিল এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

প্রকল্পের নামে অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ থাকলেও অনেক এলাকার রাস্তার অবস্থা আগের মতোই নাজুক বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, বর্ষায় কাঁচা সড়ক কাদায় পরিণত হওয়ায় মানুষের চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও ভোগান্তি পোহাতে হয়।

স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের আওতায় রাস্তা ও কালভার্ট নির্মাণের কথা থাকলেও দীর্ঘ সময়েও কাজ হয়নি। কোথাও সামান্য খোয়া বা ইট ফেলে কাজ শুরুর নমুনা তৈরি করা হলেও পরবর্তীতে আর কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

নথিপত্র পর্যালোচনায় প্রকল্প পরিচালকের পদে একাধিকবার পরিবর্তনের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২১ সালে প্রকল্প অনুমোদনের পর কয়েকজন কর্মকর্তা পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের আমলে বড় অঙ্কের অর্থ ছাড় ও ব্যয় হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট সাবেক কর্মকর্তাদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, মাঠপর্যায়ের বিল প্রস্তুত ও কাজের তদারকির দায়িত্ব মূলত সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী কার্যালয়ের। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই কীভাবে অর্থ ছাড় হয়েছে, সেটিও তদন্তের বিষয় বলে তারা জানিয়েছেন।

পিরোজপুরের বিভিন্ন এলজিইডি প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে দুদক একাধিক মামলা করেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এসব মামলায় সাবেক জনপ্রতিনিধি, প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। মামলাগুলো তদন্তাধীন এবং তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা ও দায় নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

দুর্নীতি ও আইনি জটিলতার কারণে বন্ধ থাকা উন্নয়নকাজ পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অসমাপ্ত কাজের বর্তমান অবস্থা যাচাই করে নতুন প্রাক্কলন তৈরি এবং প্রয়োজন হলে নতুন দরপত্রের মাধ্যমে কাজ শেষ করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রকল্পের কাজ শেষ করলেই হবে না; সরকারি অর্থ কোথায়, কীভাবে এবং কার অনুমোদনে ব্যয় হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন। কাজ না করে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রকল্পে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Fri, 14 Aug 2026 09:17:28 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[সোনালি আঁশ ঘিরে মাঠে কর্মচাঞ্চল্য, ভালো দামের অপেক্ষায় কৃষক]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/117304" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/117304</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ভোরের আলো ফুটতেই কাস্তে হাতে মাঠে ছুটছেন মাদারীপুর জেলার ৫টি উপজেলার কৃষকেরা। কেউ গোড়া থেকে পাট কাটছেন, কেউ আঁটি বাঁধছেন। আবার কেউ কাটা পাট কাঁধে করে নিয়ে যাচ্ছেন পাশের খাল, ডোবা কিংবা জলাশয়ে। পানিতে সারি সারি পাটের আঁটি&mdash;সব মিলিয়ে মাদারীপুরের গ্রামাঞ্চলে এখন সোনালি আঁশ ঘরে তোলার ব্যস্ততা।

জেলার শিবচর, কালকিনি, রাজৈর, ডাসার ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠে পাট কাটতে দেখা গেছে কৃষকদের। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে পাট কাটা, বহন ও জাগ দেওয়ার কাজ। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি দিনমজুররাও যুক্ত হয়েছেন এ কাজে। ফলে পাট কাটার মৌসুমকে ঘিরে গ্রামীণ জনপদে বেড়েছে কর্মচাঞ্চল্য।

মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের বাহেরচর কাতলা গ্রামের কৃষক আলমগীর বাদশা জানান, কয়েক মাসের পরিচর্যার পর এখন পাট কাটার সময় এসেছে। জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, কীটনাশক, আগাছা পরিষ্কার ও সেচসহ বিভিন্ন কাজে তাদের বেশ টাকা খরচ হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে শ্রমিকের মজুরি। তাই ভালো ফলন পাওয়ার পরও বাজারদর নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না।

শিবচর উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের পাটচাষি আজমল গোমস্তা বলেন, &ldquo;এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু চাষে খরচও কম হয়নি। পাট কাটা ও জাগ দেওয়ার জন্য আলাদা শ্রমিক লাগছে। বাজারে ভালো দাম না পেলে লাভ থাকবে না।&rdquo;

অপর কৃষক হামিদ খান বলেন, ভালো মানের আঁশ পেতে জাগ দেওয়ার জন্য উপযুক্ত পানি ও সময় দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ বছর কোথাও কোথাও অতিরিক্ত পানি আবার কোথাও প্রয়োজনীয় পানির অভাব কৃষকদের ভোগান্তিতে ফেলছে। নিচু জমির কৃষকেরা দ্রুত পাট কেটে ফেলছেন। কারণ অতিরিক্ত পানিতে দীর্ঘদিন পাটগাছ ডুবে থাকলে গাছ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আঁশের মানও কমে যেতে পারে।

কালকিনির উপজেলার সাহেবরামপুর ইউনিয়নের কৃষক আনিছ সরদারের ভাষ্য, &ldquo;পাট কেটে এখন জাগ দিতে হবে। পানির ব্যবস্থা আছে বলে সুবিধা হচ্ছে। কিন্তু সব জায়গায় এমন নয়। পাটের ভালো দাম পেলে পরিশ্রমটা সার্থক হবে।&rdquo;

কৃষকদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা এখন বাজারদর ঘিরে। স্থানীয় বাজারে পাটের দর নির্ধারণে মৌসুমের শুরুতে নানা ধরনের ওঠানামা দেখা যায়। কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন খরচ বাড়লেও তারা সব সময় তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দাম পান না। মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে অনেক সময় কৃষকের কাঙ্ক্ষিত দামও পাওয়া যায় না।

রাজৈরের এক পাটচাষি বলেন, &ldquo;পাট বিক্রির সময় যেন ন্যায্য দাম পাই, সেটাই আমাদের চাওয়া। সরাসরি বাজারে বিক্রির সুযোগ থাকলে কৃষক বেশি লাভবান হবেন।&rdquo;

মাদারীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়,চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরে মাদারীপুর জেলার ৫টি উপজেলায় ৩৬ হাহার ৯শ২৫ হেক্টর জমিতে লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ৩৭ হাজার ৫৬ হেক্টর জমিতে। লক্ষ মাত্রার চেয়ে বেশি চাষ হওয়ায় ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের চোখে মুখে আনন্দের ছায়া ফুটে উঠেছে। বর্তমানে পাটে উৎপাদনে ব্যপক সম্ভাবনা থাকায় মাদারীপুরের মাঠে এখন সেই সম্ভাবনারই ছবি । কৃষকের ঘাম আর শ্রমে ধীরে ধীরে ঘরে উঠছে সোনালি আঁশ।

কৃষকের প্রত্যাশা, উৎপাদন খরচ বিবেচনায় পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে। আর কয়েক মাসের এই কঠোর পরিশ্রম শেষে পাট বিক্রির টাকায় স্বস্তি ফিরবে কৃষকের সংসারে।

সান নিউজ/ জামান]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 10 Aug 2026 10:45:59 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[হাজার কোটি টাকার প্রকল্পেও পানি সংকটে খুলনাবাসী    ]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/117191" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/117191</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[খুলনা শহরের দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনের লক্ষ্যে প্রায় ২ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্প (ফেজ-১)। প্রকল্পটি চালুর সময় প্রতিদিন ১১ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে সেই লক্ষ্যের অনেকটাই অপূর্ণ থেকে গেছে। বরং প্রকল্প চালুর কয়েক বছরের মধ্যেই কারিগরি ত্রুটি, যন্ত্রপাতি বিকল হওয়া এবং পানি অপচয়ের মতো একাধিক সমস্যা সামনে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে প্রকল্পের সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম পানি উৎপাদন হচ্ছে। ফলে নগরীর বহু এলাকায় নিয়মিত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। অনেক বাসিন্দা এখনো টিউবওয়েল বা বিকল্প পানির উৎসের ওপর নির্ভরশীল।

যেভাবে বাস্তবায়ন হয়েছিল প্রকল্প

খুলনা ওয়াসা ২০১১ সালে প্রকল্পটি হাতে নেয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বাগেরহাটের মধুমতি নদী থেকে পানি এনে পরিশোধনের মাধ্যমে নগরবাসীর কাছে সরবরাহ করা।

এই প্রকল্পের আওতায় নদী থেকে পানি সংগ্রহের ব্যবস্থা, আধুনিক পানি শোধনাগার, বড় ধারণক্ষমতার জলাধার, ৩৪ কিলোমিটারের বেশি কাঁচা পানি পরিবহন পাইপলাইন এবং নগরজুড়ে নতুন পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক নির্মাণ করা হয়। এতে অর্থায়ন করে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) এবং বাংলাদেশ সরকার।

কারিগরি ত্রুটিতে উৎপাদন কমে অর্ধেকেরও নিচে

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, পানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন স্থাপনে নির্ধারিত মান পুরোপুরি অনুসরণ করা হয়নি। বিশেষ করে কাটাখালী খাল এলাকায় পাইপ যথাযথ গভীরতায় স্থাপন না করার অভিযোগ রয়েছে, যা ভবিষ্যতে অবকাঠামোগত ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে।

অন্যদিকে পানি উত্তোলন ও শোধনাগারের একাধিক পাম্প বিকল হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইনটেক স্টেশনের একটি পাম্প দীর্ঘদিন ধরে অকেজো এবং ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের ছয়টি সাবমার্সিবল পাম্পের অর্ধেকই বর্তমানে অচল। ফলে পরিকল্পিত সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম পানি উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।

উৎপাদিত পানির বড় অংশই হারিয়ে যাচ্ছে

খুলনা ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৬ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করা হলেও এর প্রায় ২০ শতাংশ গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর আগেই সিস্টেম লস হিসেবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ লিটার পানি বিভিন্ন কারণে অপচয় হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত নগর পানি ব্যবস্থাপনায় নন-রেভিনিউ ওয়াটারের হার এক অঙ্কের মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হয়। সে তুলনায় খুলনায় পানির এই উচ্চমাত্রার ক্ষতি উদ্বেগের কারণ।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিয়মিত পানি মেলে না

নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, বছরের অধিকাংশ সময়ই পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় না। অনেক এলাকায় নির্ধারিত সময়েও সরবরাহ বন্ধ থাকে। ফলে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, এত বড় বিনিয়োগের পরও প্রত্যাশিত সেবা না পাওয়ায় সাধারণ মানুষ হতাশ।

ঋণ পরিশোধেও পিছিয়ে প্রকল্প

এই প্রকল্পের অর্থায়নে জাইকা ও এডিবির ঋণ রয়েছে, যা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করার কথা। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত ঋণের কিস্তি পরিশোধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

বর্তমানে প্রকল্প থেকে যে পরিমাণ রাজস্ব আয় হচ্ছে, তার বড় অংশই পরিচালন ব্যয় ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে চলে যাচ্ছে। ফলে ঋণ পরিশোধে আর্থিক চাপ আরও বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

সুশাসন ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিকল্পনা, তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি ছিল। এসব কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

তবে খুলনা ওয়াসার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রকল্পে অনিয়ম বা দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন কারিগরি সমস্যাও পর্যায়ক্রমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 06 Aug 2026 08:02:36 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[পানিশূন্য গাজীখালী, বাড়ছে দুর্ভোগ]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/117039" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/117039</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ভরা বর্ষা মৌসুমে যেখানে নদী থাকার কথা ছিল পানিতে থইথই, সেখানে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বর্ষার শুরুতেই পানিশূন্য হয়ে পড়েছে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক গাজীখালী নদী। কোথাও কোথাও সামান্য বৃষ্টির পানি জমে থাকলেও তা ঢেকে গেছে কচুরিপানা ও সাটুরিয়া বাজারের বর্জ্যের স্তূপে। ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এখন সম্পূর্ণ বন্ধ।


​গাজীখালীর শুকনো বুকে হেঁটে চলতে চলতে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন নদীপাড়ের কৃষক মোঃ আব্দুল। তিনি বলেন, &quot;গাঙ কাটার পর থিকা পানি আহে না। ছোটবেলায় এই নদীতে ট্রলার আর বড় বড় নৌকা চলতে দেখছি। বর্ষায় নদী ভইরা যাইত, অনেক স্রোত থাকত। কত মাছ মারতাম! কয়েক বছর আগে নদী কাটলেও ঠিকমতো কাটা হয় নাই।&quot;

সাটুরিয়া উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত গাজীখালী নদীর উৎপত্তি মূলত গোপালপুর এলাকার ধলেশ্বরী নদী থেকে। এরপর এটি ধামরাই হয়ে বংশী নদীতে গিয়ে মিশেছে। একসময় বর্ষা মৌসুমে ধলেশ্বরী থেকে বিপুল পরিমাণ পানি গাজীখালীতে প্রবেশ করত। নদীর এই পানির ওপর নির্ভর করেই স্থানীয় মানুষের কৃষিকাজ, মাছ ধরা ও জীবন-জীবিকা পরিচালিত হতো।


​স্থানীয় প্রবীণদের মতে, শত বছরেরও বেশি সময় আগে এই গাজীখালী নদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল ঐতিহ্যবাহী সাটুরিয়া বাজার। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বড় বড় নৌকায় করে ব্যবসায়ীরা আসতেন এই বাজারে। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে নদীটি এখন চরম অস্তিত্ব সংকটে। বর্তমানে গোপালপুর থেকে সাটুরিয়া বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এবং সাটুরিয়া থেকে ধামরাইয়ের বারবারিয়া এলাকা পর্যন্ত নদীপথের অধিকাংশ স্থানই প্রায় শুকিয়ে গেছে। পুরো নদীজুড়ে কচুরিপানার জট সৃষ্টি হওয়ায় পানি থাকলেও তা বোঝার উপায় নেই।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় ২০২০-২১ অর্থবছরে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া, সদর, সিঙ্গাইর এবং ঢাকার ধামরাইয়ের সীমান্তবর্তী প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ গাজীখালী নদী পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই চার অংশে নদী খননে মোট ব্যয় হয় প্রায় ৪০ কোটি টাকা।

​এর মধ্যে শুধু সাটুরিয়া অংশেই দুই দফায় নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের ব্যয় হয় প্রায় ১৬ কোটি টাকা। প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী, নদী দুই মিটার গভীর করে খনন এবং তলদেশে ২৬ মিটার ও ওপরের অংশে স্থানভেদে ৫০ থেকে ৬০ মিটার প্রশস্ত করার কথা ছিল। খননকাজে এক্সকাভেটর (ভেকু) ব্যবহারেরও নির্দেশনা ছিল।

​তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের পরও নদীর নাব্যতা ফেরেনি। একসময় সাটুরিয়া বাজারের খাদ্যগুদাম পর্যন্ত গাজীখালী নদীর বিস্তৃতি থাকলেও নদীটি এখন সংকুচিত হয়ে নালায় পরিণত হয়েছে। তাদের দাবি, নদী খননের নামে যথাযথ কাজ না করে সরকারি অর্থ লোপাট করা হয়েছে।

​সাটুরিয়া বাজারের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, &quot;ছোটবেলায় বর্ষার শুরুতেই গাজীখালীতে নতুন পানি আসত। নতুন পানিতে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত, নদীতে শুশুকও দেখতাম। কয়েক বছর আগে নদী খনন করে শুধু মাটি বিক্রি করেই অনেকে লাভবান হয়েছে, নদীর কোনো লাভ হয় নাই।&quot;


নদীর বিভিন্ন অংশে পানির প্রবাহ না থাকা এবং কচুরিপানার ঘন স্তরের কারণে নদীনির্ভর স্থানীয় জেলে পরিবারগুলো চরম সংকটে পড়েছেন। মাছ ধরতে না পেরে অনেকেই বাপ-দাদার পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন।


​উপজেলার রাধানগর মাঝিপাড়া এলাকার প্রবীণ জেলে জ্যোতিন রাজবংশী আক্ষেপ করে বলেন, &quot;আগে নদীতে যেমন পানি আইত, তেমন মাছও পাইতাম। শত শত জেলে এই নদীতে মাছ ধইরা সংসার চালাইত। এখন নদীতে পানিই নাই, মাছ মারুম কেমনে? বাধ্য হয়া অনেক জেলে এখন অন্য পেশায় চলে গেছে।&quot;


এ বিষয়ে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, &quot;আমি এই কর্মস্থলে যোগদানের আগে গাজীখালী নদীর পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাই আগের কাজের বিষয়ে মন্তব্য করতে পারব না। তবে বর্তমানে নদীতে পানি না আসার প্রধান কারণ হলো&mdash;ধলেশ্বরী নদীর গোপালপুর এলাকার উৎসমুখটি যমুনা নদীর পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। উৎসমুখটি পুনরায় খনন করা গেলে নদীতে আবারও পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।&quot;

​সাটুরিয়ার প্রাণ হিসেবে পরিচিত এই নদীটিকে পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে দ্রুত উৎসমুখ খননসহ কার্যকর টেকসই পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

 

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 03 Aug 2026 07:29:48 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[নতুনকুড়িঁ স্পোর্টসে দুই স্বর্ণ জয়, কিশোরগঞ্জের বিস্ময় বালিকা মারিয়া!]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/116858" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/116858</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[দেশের উঠতি প্রতিভাদের সেরা আসর নতুনকুড়িঁ স্পোর্টসে জাতীয়ভাবে ১০০ ও ২০০ মিটার স্প্রিন্টে দুটিতেই স্বর্ণ জিতে পুরো দেশকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে কিশোরগঞ্জের বিস্ময় বালিকা মারিয়া।

গ্রামের মেঠোপথ পেরিয়ে নতুনকুড়িঁ স্পোর্টসে ডাবল চ্যাম্পিয়ন। লাল ট্র্যাকে কিশোরগঞ্জের মারিয়ার গতির ঝড়। কিশোরগঞ্জের অজপাড়াগাঁয়ের মারিয়া আক্তার তাসপিয়া। দেশের উঠতি প্রতিভাদের সেরা আসর নতুনকুড়িঁ স্পোর্টসে জাতীয়ভাবে ১০০ ও ২০০ মিটার স্প্রিন্টে দুটিতেই স্বর্ণ জিতে পুরো দেশকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে এই বিস্ময় বালিকা।

তবে এ সাফল্যের পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। কিশোরগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সদরে এসে অনুশীলন করতে গিয়ে প্রতিদিনই সময় ও অর্থ ব্যয় হতো অনেক। দারিদ্র্যের সংসারে কৃষক বাবার পক্ষে খেলার খরচ চালানো অসম্ভব ছিল। সেখানে মারিয়ার অদম্য স্বপ্নই ছিল তার মূল শক্তি।

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াল ইউনিয়নের শেহড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক হিরণ মিয়ার ছোট মেয়ে মারিয়া। ৬ ভাইবোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ১৪ বছরের মারিয়া স্থানীয় আলহাজ ওয়াজেদুল ইসলাম খান উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

প্রশিক্ষক (কোচ) আ. জব্বারের নিবিড় পরিচর্যায় গড়ে ওঠে মারিয়া। ১০০ মিটারে ১৩.৭৫ এবং ২০০ মিটারে ২৮.৯৯ সেকেন্ডে টাইমিং করে নিজের আধিপত্য প্রমাণ করে। শীর্ষের এই কৃতিত্বে বিশ্বমঞ্চের স্বপ্ন বুনছেন স্থানীয় কোচও। মেঠোপথ পেরিয়ে লাল ট্র্যাকের ঝড়তোলা মারিয়ার গতি এখন অলিম্পিকের স্বপ্নের ডানা মেলছে। প্রয়োজন কেবল সুনির্দিষ্ট পরিচর্যা ও সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা।

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কৃতি অ্যাথলেট মারিয়া স্প্রিন্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে প্রথম স্থান অধিকার করার পর তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে পুরস্কার (স্বর্ণপদক) গ্রহণ করেন। পুরস্কার গ্রহণের সময় উপস্থিত দর্শক ও ক্রীড়া-সংশ্লিষ্টরা করতালির মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানান।

মারিয়ার এ সাফল্যে পুরো কিশোরগঞ্জে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও মারিয়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের জন্য আরও সাফল্য বয়ে আনবেন।

মারিয়া বলেন, নিয়মিত অনুশীলন, কোচের দিকনির্দেশনা এবং পরিবারের সহযোগিতায় এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। তিনি ভবিষ্যতেও দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মারিয়ার ইচ্ছা, আগামী ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জে আসলে তিনি যেন তাদের বাড়িতে বেড়াতে যান।

দেশের অ্যাথলেটিক্স অঙ্গনে নতুন সাফল্যের নজির গড়েছেন কিশোরগঞ্জের মারিয়া। স্প্রিন্ট ইভেন্টে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে স্বর্ণপদক জয় করেন তিনি।

গ্রাম থেকে উঠে এসে জাতীয় পর্যায়ে এমন কৃতিত্ব অর্জন করায় মারিয়ার এই সাফল্যে আনন্দের বন্যা বইছে কিশোরগঞ্জে। স্থানীয়রা মনে করছেন, তার এই অর্জন তরুণ-তরুণীদের খেলাধুলায় আরও উৎসাহিত করবে। মারিয়ার এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং সমগ্র এলাকার জন্যও গর্বের একটি অধ্যায়।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, নতুনকুড়িঁ প্রতিযোগিতায় স্প্রিন্টে জাতীয়ভাবে প্রথম স্থান অধিকার করেছে মারিয়া। সে এ জেলার সম্পদ। সে কারণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিকেএসপিতে ভর্তি, ক্রীড়া ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বৃত্তি, এছাড়াও এককালীন অনুদান, অনুশীলনসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হবে তাকে। এ ধরনের প্রতিভাবানদের জন্য সরকার সবসময় সকল প্রকার সহযোগিতা করবে।

সান নিউজ/ জামান]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 30 Jul 2026 10:18:10 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[গাইবান্ধার কাগজের তৈরী প্লেট ছড়িয়ে পড়ছে রাজধানীসহ সারাদেশে]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/116841" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/116841</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[প্লাস্টিক ও থার্মোকলের ক্ষতিকর ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশ সুরক্ষায় দেশজুড়ে যখন ওয়ান-টাইম পণ্যের বিকল্প খোঁজা হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে উত্তরাঞ্চলের জেলা গাইবান্ধায় গড়ে উঠেছে সম্ভাবনাময় কাগজ বা পেপার প্লেট তৈরির শিল্প। কম খরচ, আকর্ষণীয় ডিজাইন এবং স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় গাইবান্ধার তৈরি কাগজের প্লেট বা থালা এখন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরের পাইকারি বাজারে দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। পরিবেশের কথা চিন্তা না করে আধুনিকতার বেড়াজালে প্লাস্টিকের থালা হাতে নিয়ে অনুষ্ঠান শেষে যেখানে ডাস্টবিন, ড্রেন কিংবা নদীতে ফেলে দেওয়াই যেন আমাদের অভ্যাস, এমন এক পরিস্থিতিতে গাইবান্ধার এক তরুণ উদ্যোক্তা দেখাচ্ছেন ভিন্ন পথ।

কারখানাটির উদ্যোক্তা রেজাউন্নবী রাজু। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এমন একটি পণ্য তৈরির স্বপ্ন দেখছিলেন, যা একদিকে হবে পরিবেশবান্ধব, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে। সেই স্বপ্নই বাস্তবে রূপ নিয়েছে। কারখানায় উৎপাদিত হচ্ছে উন্নতমানের প্রিন্টেড ও সিলভার লেমিনেটেড পেপার প্লেট।

তিনি বিশ্বাস করেন, পরিবেশ রক্ষার লড়াই শুধু সচেতনতায় নয়, কার্যকর বিকল্প তৈরির মধ্যেই নিহিত। সেই বিশ্বাস থেকেই গাইবান্ধা পৌরসভার আদর্শপাড়ায় গড়ে তুলেছেন পরিবেশবান্ধব পেপার প্লেট তৈরির একটি ক্ষুদ্র কারখানা। গাইবান্ধা পৌরসভার আদর্শপাড়ার সরু গলির শেষপ্রান্তে ছোট্ট একটি কারখানা। বড় শিল্পকারখানার কোলাহল নেই, নেই কোন বিশাল যন্ত্রপাতির গর্জন। তবু সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছোট ছোট মেশিনের ছন্দে তৈরি হচ্ছে অসংখ্য পেপার প্লেট। প্রতিটি প্লেট যেন পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশের একেকটি প্রতিশ্রুতি।

মানসম্মত জিএসএম বোর্ড পেপার ও ফুড-গ্রেড ল্যামিনেশন ব্যবহারের কারণে গরম ভাত,তেল-ঝোল কিংবা অন্যান্য খাবার পরিবেশনেও প্লেটের গুণগত মান অটুট থাকে। ব্যবহারের পর সহজেই মাটির সঙ্গে মিশে যায় বলে পরিবেশের ওপর পড়ে না কোনো দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব।

উদ্যোক্তা রেজাউন্নবী রাজু বলেন, প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। আমরা চাই মানুষ এমন একটি বিকল্প ব্যবহার করুক, যা পরিবেশের ক্ষতি করবে না। আমাদের পেপার প্লেট যেমন মানসম্মত, তেমনি দামও সবার নাগালের মধ্যে। তাই বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, পিকনিক, রেস্তোরাঁ এবং ক্যাটারিং সেবায় এর চাহিদা বাড়ছে। শুধু পরিবেশ রক্ষাই নয়, এই উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ারও খুলে দিয়েছে। বিশেষ করে কয়েকজন নারী কারখানায় কাজ করে নিজের আয় দিয়ে পরিবারের খরচে সহযোগিতা করছেন।

একসময় যারা শুধুই গৃহস্থালির কাজে সীমাবদ্ধ ছিলেন, এখন তারা উৎপাদন ও প্যাকেজিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। এতে তাদের আত্মবিশ্বাস যেমন বেড়েছে, তেমনি পরিবারের আর্থিক অবস্থারও উন্নতি হচ্ছে।

রেজাউন্নবী রাজুর স্বপ্ন আরও বড়। তিনি বলেন, সরকারি সহযোগিতা ও সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পেলে উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব। তখন গাইবান্ধা থেকেই সারা দেশে পেপার প্লেট সরবরাহ করা যাবে। সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান, উপকৃত হবে স্থানীয় অর্থনীতি।

বিশ্বজুড়ে যখন একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কমানোর উদ্যোগ জোরদার হচ্ছে, তখন গাইবান্ধার এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী। পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পের বিকাশ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এমন উদ্যোগ আরও ছড়িয়ে পড়ুক এটাই প্রত্যাশা। আদর্শপাড়ার ছোট্ট কারখানা থেকে প্রতিদিন বের হওয়া প্রতিটি পেপার প্রেট শুধু খাবার পরিবেশনের উপকরণ নয়; এটি একটি সবুজ ভবিষ্যতের স্বপ্ন, একজন উদ্যোক্তার সাহসিকতার গল্প এবং বদলে যাওয়া বাংলাদেশের সম্ভাবনার প্রতীক।]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 30 Jul 2026 10:03:10 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[জমে উঠেছে ঝালকাঠির ভিমরুলী ভাসমান পেয়ারার হাট]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/116812" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/116812</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ঝালকাঠি, বরিশাল ও পিরোজপুরের তিন উপজেলার চারটি ইউনিয়ন জুড়ে অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ পেয়ারা বাগান এখন ফলে ফলে ভরে গেছে। প্রতিদিন ভোর হতেই চাষীরা বাগান থেকে পেয়ারা সংগ্রহ করে ছোট ছোট নৌকায় নিয়ে আসছেন এ অঞ্চলের বৃহত্তম ভাসমান হাট ভিমরুলিতে।

দূর দূরান্ত থেকে পাইকাররা এখানে এসে প্রতিদিন পেয়ারা কিনে নিয়ে যাচ্ছে ঢাকা,খুলনা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায়। চলতি মৌসুমের শুরুতে ফলন ভালো হলেও দামও চড়া। বর্তমানে মণপ্রতি ১২শো টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাগান মালিকরা বলছেন ম্রমিক মজুরী, কান্দি পদ্ধতিতে মাটি ও সার ব্যবহারে খরচ বৃদ্ধি হওয়ায় এখন আগের মতো পোষায়না।

এদিকে বাগান ও ভাসমান হাট দেখতে দেশী-বিদেশী হাজারো পর্যটকের কলরবে পেয়ারা বাগান এলাকা এখন মূখরিত। 

ঝালকাঠিতে পেয়ারার মৌসুমের শুরুতেই জমে উঠেছে এ অঞ্চলের ভাসমান ভীমরুলি হাট। ভিমরুলি খালে অবস্থিত ভাসমান এ হাটে প্রতিদিন ছোট ছোট নৌকায় করে ঘুরেবেড়ায় পর্যটকরা। সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার পর্যটকদের ভীর থাকে চোখে পড়ারমতো।

প্রতিদিন এ হাটে লক্ষ লক্ষ টাকার পেয়ারা কেনা বেচা হয়। বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি, বরিশাল ও পিরোজপুর জেলার তিন উপজেলার চারটি ইউনিয়ন জুড়ে রয়েছে প্রায় তিনশ বছরের পুরানো দেশের বৃহত্তর দেশী পেয়ারা বাগান। এ বাগানের পেয়ারা আষাঢ়, শ্রাবন এবং ভাদ্র এই তিন মাস স্থায়ী হয়। এই সময়ে প্রতিদিন বাগান থেকে পেয়ারাতুলে ছোট ছোট নৌকার করে হাটে নিয়ে যান কৃষকরা।

বাগান এলাকায় পেয়ারা বেচা কেনার বেশ কয়েকটি হাট থাকলেও সবচেয়ে বড় হাটটি হচ্ছে ঝালকাঠি সদর উপজেলার ভিমরুলিতে।

প্রাকৃতিক সৌন্দের্য্যরে অপূর্ব নিদর্শন পেয়ারা বাগান এবং ভাসমান পেয়ারার হাট দেখতে দেশ বিদেশের হাজার হাজার পর্যটক প্রতিদিন এখানে ভীড় জমাচ্ছেন। কেউ স্বপরিবারে, কেউ বন্ধুবান্ধব নিয়ে দলবদ্ধ ভাবে আবার কেউ সংগঠনগত ভাবে আসছেন। তারা এ বাগানের বিশালতা এবং সৌন্দর্য্য দেখে মুগ্ধ এবং আনন্দিত। ছোট ছোট নৌযানে বাগান ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে, রয়েছে গাছ থেকে সদ্য পাড়া টাটকা পেয়ারার স্বাদ নেয়ার সুযোগ। তবে এখানে আসা পর্যটকদের থাকা খাওয়ার সুযোগের অভাব এবং নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ে অনেকে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।

 



মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন উপ-পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর ঝালকাঠি,বলেন, এ বছর পেয়ারার দাম ভালো থাকার কারনে চাষিরা লাভবান হচ্ছে। এর মাধ্যমে এ এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজির অবস্থার উন্নয়ন ঘটছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকদের মাধ্যমে জনপ্রীয় এ ফসলটির বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।

ঝালকাঠি জেলায় চলতি মৌসুমে ৫৭০ হেক্টর জমিতে পেয়ারার আবাদ হয়েছে, যা থেকে ৫ হাজার ৭০০ মে.টন উৎপাদন লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 29 Jul 2026 11:32:03 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[বেড়েছে উৎপাদন কিন্তু সংকটে দেশের চা-শিল্প]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/116718" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/116718</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ব্রিটিশ আমল থেকে অর্থাৎ প্রায় ১৭০ বছর দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা চা-শিল্প বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। সময়ের সঙ্গে উৎপাদন বাড়লেও জ্বালানি, সার, বিদ্যুৎ ও শ্রমিক মজুরিসহ সার্বিক উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্ভাবনাময় এই শিল্প এখন আর্থিক সংকটে।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে ১০ কোটি ২ লাখ কেজি, ২০২৪ সালে ৯ কোটি ৩০ লাখ কেজি এবং ২০২৫ সালে ৯ কোটি ৪৯ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। ২০২৬ সালে ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে উৎপাদন বৃদ্ধির বিপরীতে বাড়ছে খরচ। বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রতি কেজি চা উৎপাদনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৬০ টাকা। বিপরীতে নিলামে গড় বিক্রয়মূল্য ছিল ২০৮ টাকা ৮৮ পয়সা। ফলে প্রতি কেজিতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫১ টাকা ১২ পয়সা। গত এক দশকে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে ৭৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। একই সময়ে ২০০২ সালের পর চা রপ্তানি কমেছে ৭৯ শতাংশ।

চা-বাগান মালিকদের দাবি, চা-শিল্পকে কৃষিখাতের পরিবর্তে শিল্পখাত হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করায় উচ্চ সুদে ঋণ নিতে হচ্ছে। অনেক বাগান আগের ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় নতুন ঋণও পাচ্ছে না। অন্যদিকে শ্রমিকদের দাবি, জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় তাদের মজুরি এখনও অপর্যাপ্ত।

চাতলাপুর চা-বাগানের ব্যবস্থাপক শুভঙ্কর চন্দ্র নাথ বলেন, চা উৎপাদন বাড়লেও অধিকাংশ বাগানের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক বাগান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে ভালো মানের চা উৎপাদন করতে পারলে নিলামে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া সম্ভব।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজড়া বলেন, বর্তমানে চা উৎপাদনের অবস্থা আগের তুলনায় ভালো। উৎপাদন বাড়ছে, তবে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সংকট থেকে উত্তরণে সরকারি টাস্কফোর্স আটটি অগ্রাধিকার খাতে ৫৯টি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে চা-বাগানকে কৃষিখাত হিসেবে পুনঃশ্রেণিবদ্ধ করা, ৬ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা প্রদান, ঋণ পুনর্গঠন, ভ্যাট কমানো, চা পুনরোপণ, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি।

চা-শিল্পের আর্থিক সংকট মোকাবিলায় ২ হাজার ৫০ কোটি টাকার &lsquo;টি সেক্টর অ্যাসিস্ট্যান্স ফান্ড&rsquo; গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় চা পুন:রোপণ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, জাতীয় চা ব্র্যান্ড তৈরি, জিআই স্বীকৃতি অর্জন এবং পাকিস্তান, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও রাশিয়ায় রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, রোগবালাই, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও পানিসংকটসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে চা-শিল্প এগিয়ে যাচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধি, মানোন্নয়ন এবং বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ শিল্পকে আরও শক্তিশালী করার কাজ চলছে।

উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় কমানো, ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ করা না গেলে চা-শিল্পের সংকট কাটবে না বলেই ধারণা সংশ্লিষ্টদের। তবে টাস্কফোর্সের ৫৯টি সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়ন হলে দেশের চা-শিল্প আবারও শক্তিশালী অবস্থানে ফিরতে পারে।

সান নিউজ/ হুমায়রা

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 27 Jul 2026 14:29:24 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[কিশোরগঞ্জের আমিনুল হক সাদীর অনুপ্রেরণার সাফল্যগাথা]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/116677" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/116677</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[কিশোরগঞ্জের একজন সাধারণ বেকার তরুণ থেকে জাতীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আমিনুল হক সাদী। আত্মকর্মসংস্থান, যুব উন্নয়ন, সমাজসেবা ও মানবকল্যাণে দীর্ঘদিনের নিরলস কাজের মাধ্যমে তিনি আজ কেবল একজন সফল উদ্যোক্তাই নন, বরং হাজারো তরুণ-তরুণীর অনুপ্রেরণার নাম।

২০০৪ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় কর্মসংস্থানের সন্ধানে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে যান। সেখানে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানতে পারেন, সরকার বেকার যুবকদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিচ্ছে। বিষয়টি তাঁকে গভীরভাবে আকৃষ্ট করে। পরবর্তীতে তিনি কিশোরগঞ্জ যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে গবাদিপশু পালন, হাঁস-মুরগি পালন, ডেইরি ফার্ম, কৃষি ও প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে তিন মাসব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

প্রশিক্ষণ শেষে তিনি শুধু নিজের কর্মসংস্থানের পথই তৈরি করেননি; বরং সেই অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অন্য বেকার যুবকদেরও স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেন। আত্মকর্মী হিসেবে সফল হওয়ার পর ধীরে ধীরে তিনি যুব নেতৃত্ব ও সমাজসেবায় নিজেকে সম্পৃক্ত করেন।

২০১০ সালে কিশোরগঞ্জে যুব জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন &lsquo;যুব উন্নয়ন পরিষদ&rsquo; নামে একটি সামাজিক ও যুবকল্যাণমূলক সংগঠন। সংগঠনটি যুব নেতৃত্ব, দক্ষতা উন্নয়ন, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম এবং সমাজকল্যাণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখায় ২০২০ সালে কিশোরগঞ্জ জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন লাভ করে। বর্তমানে আমিনুল হক সাদী সংগঠনটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শিক্ষাজীবনেও তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে ২০১৯ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চশিক্ষা শেষ করেও সরকারি চাকরির পেছনে না ছুটে তিনি আত্মকর্মসংস্থানকে বেছে নেন। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস থেকে প্রথম দফায় ৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন &lsquo;সাদী সমন্বিত কৃষি খামার&rsquo;। ছোট পরিসরে শুরু করা সেই উদ্যোগ বর্তমানে একটি সফল কৃষিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে তাঁর নেতৃত্বে পাঁচ শতাধিক সদস্য নিয়ে যুব উন্নয়ন পরিষদ সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। সংগঠনটি যুব নেতৃত্ব বিকাশ, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানবিক সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

দেশের বিভিন্ন দুর্যোগ ও সংকটকালেও তিনি ছিলেন মানুষের পাশে। জাতীয় যুব দিবসসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় দিবস উদযাপন এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে তাঁর নেতৃত্ব প্রশংসিত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি নিজ এলাকার ছাত্র-যুবকদের সহায়তায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পুলিশের গুলিতে পা হারানো শিক্ষার্থী জুনায়েদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি গুলিবিদ্ধ সমাজকর্মী ও যুবদল নেতা মাসুম বিল্লাহ এবং আহত জুলাই যোদ্ধা শফিকুল ইসলাম নাঈমসহ আহতদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন।

সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দিতে যুব উন্নয়ন পরিষদের উদ্যোগে এ পর্যন্ত শতাধিক গুণী ব্যক্তিকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন যুব কল্যাণ তহবিল থেকে যুব উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৩ সালে সংগঠনটি ৪০ হাজার টাকার অনুদান লাভ করে। সেই অর্থ দিয়ে সাদী তাঁর কৃষি খামারের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করেন। প্রকল্পের আওতায় মাছ চাষের পাশাপাশি পাঁচ হাজারেরও বেশি গাছের চারা বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।

আমিনুল হক সাদীর উদ্যোগে ধাপে ধাপে প্রায় তিন হাজার বেকার যুবক ও যুব নারী বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আওতায় এসেছে। তাঁদের মধ্যে তিন শতাধিক ব্যক্তি আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাঁর প্রচেষ্টায় অন্তত ১০ জন বেকার সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেয়েছেন এবং আরও ১০ জন বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ লাভ করেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত দুইজন এবং প্রকল্পভিত্তিক আরও পাঁচজনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।

করোনা মহামারির সময় তিনি এক হাজার অসচ্ছল মানুষের বিনামূল্যে করোনা টিকার নিবন্ধন সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি ১০ হাজার মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। সম্প্রতি পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকার নিবন্ধনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এছাড়া গ্রামে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে তিনি কয়েক শতাধিক দরিদ্র পরিবারকে সহায়তা দিয়েছেন। পাঁচজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার, ১০ জন নারীকে সেলাই মেশিন এবং অসহায় মানুষের মাঝে কয়েক লাখ টাকার নগদ সহায়তা প্রদান করেছেন। এছাড়া ১০ হাজার শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন।

শিক্ষা বিস্তারেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। পাঁচ শতাধিক শিশুকে বিনামূল্যে পাঠদান, যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনা, বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং ব্যক্তি উদ্যোগে একটি পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেছেন। ওই পাঠাগারে বর্তমানে প্রায় পাঁচ হাজার বই রয়েছে, যা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জ্ঞানচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

কৃষি উন্নয়নেও রয়েছে তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন &lsquo;কৃষক পার্টনার ফিল্ড স্কুল&rsquo;। এই উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষক-কৃষাণীদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের সভা, সেমিনার, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় অংশ নিয়ে তিনি শতাধিক সনদ অর্জন করেছেন। আন্তর্জাতিক যুব সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ সামিট-এর বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সদস্য হিসেবেও যুব উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন।

শিক্ষাজীবনে খেলাধুলা, বিতর্ক, সাহিত্য, রচনা প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে শতাধিক পুরস্কার ও সনদ অর্জন করেছেন আমিনুল হক সাদী। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজিত প্রতিযোগিতায় জেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করে ক্রেস্ট ও তিন হাজার টাকার প্রাইজ বন্ড লাভ করেন। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতায় প্রায় ৫০টিরও বেশি পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। যুব উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় তিনবার জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক হিসেবে সম্মানিত হয়েছেন।

আমিনুল হক সাদীর নেতৃত্বে পরিচালিত কার্যক্রম ইতোমধ্যে কিশোরগঞ্জে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাঁর সফলতা দেখে অনেক বেকার তরুণ আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার পথে এগিয়ে আসছেন।

কিশোরগঞ্জ জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম শামীম বলেন, &ldquo;আমিনুল হক সাদীর নেতৃত্বে পরিচালিত &lsquo;যুব উন্নয়ন পরিষদ&rsquo; বর্তমান যুবসমাজের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেল। তাঁর কর্মপরিকল্পনা, পাঠাগার প্রতিষ্ঠা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অসংখ্য বেকার তরুণের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। আমি তাঁর উত্তরোত্তর সাফল্য ও সার্বিক কল্যাণ কামনা করি।&rdquo;

সান নিউজ/ জামান]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 27 Jul 2026 09:16:01 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[আধুনিকতার ছোঁয়ায় ধ্বংসের পথে বাঁশ শিল্প]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/116363" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/116363</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাঁশ শিল্প এক সময়ে বাঙালির প্রাচীন ঐতিহ্য ধরে রেখেছিলো। কালের বিবর্তনে এ শিল্প আজ বিলুপ্তের পথে। পর্যাপ্ত পুঁজি সংকট, শ্রমিকের মুজুরী বৃদ্ধি, নির্বিচারে বাঁশ ধংসের কারণে বাঁশের দাম বেড়ে যাওয়া, উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া। প্লাস্টিক পণ্যের দাপট ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে খাগড়াছড়িতে ঐতিহ্যবাহী বাঁশ শিল্প এখন মুখ থুবড়ে পড়েছে।

ঐতিহ্যবাহী বাপ -দাদার এ পেশাকে ধরে রাখতে বাঁশ শিল্পকে কোনোরকম টিকিয়ে রেখেছেন কিছু কারিগর। যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে বাঁশ দিয়ে তৈরি করে চলেছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।

খাগড়াছড়িতে একসময় বাঁশ শিল্পের রমরমা অবস্থা ছিল। বাঁশ দিয়ে তৈরি হতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। এসবের মধ্যে ছিল বাঁশের চাটায়, কুলা, ডালা, চালুন, ঝুড়ি, মোড়া,খলই, ডালি, মুরগীর খাঁচা, মই, ধানের গোলা, ওড়া, মাছ ধরার ডার্কি, খেলনা ও বিভিন্ন সজ্জার সামগ্রী।

এসব পণ্যের চাহিদাও ছিল ব্যাপক, বিশেষ করে জেলা সদর, দীঘিনালা, পানছড়ি, মহালছড়ি, মাটিরাঙা, গুইমারা, রামগড়, মানিকছড়ি, লক্ষীছড়ির গ্রামীণ জনপদের হাট-বাজারগুলোতে ব্যাপকভাবে এর বিক্রি লক্ষ্য করা যেত। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় ও সহজলভ্য প্লাস্টিক পণ্যের আগমনে বাঁশের তৈরি পণ্যের বাজার সংকুচিত হয়ে পড়েছে। প্লাস্টিকের তৈরি জিনিসপত্র দামে সস্তা ও টেকসই হওয়ায় ক্রেতারা সেদিকেই বেশি ঝুঁকছেন।

বিগত কয়েক বছর ধরে বাঁশের তৈরি পণ্যের চাহিদা হ্রাস, কাঁচামালের দুষ্প্রাপ্যতা ও প্লাস্টিক পণ্যের ব্যাপক আধিপত্যের কারণে বাঁশ শিল্পের এই নাজুক পরিস্থিতি। যার ফলে খাগড়াছড়ির স্হানীয় কারিগরদের জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিসহ। এতে গ্রামীণ এই শিল্পটি তার জৌলুস হারাচ্ছে। তেমনই এ শিল্পের উপর নির্ভরশীল লোকজন বেকার হয়ে মানবেতন জীবন যাপন করছে। অনেকেই আবার এ পেশা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে অন্য পেশায়। যা এই শিল্পের ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

মাটিরাঙ্গা উপজেলার আর্দশ গ্রামের বাঁশশিল্প কারিগর মো: রহমত আলী বলেন, এমন একটা সময় ছিলো যখন বাঁশ শিল্পের প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাহাড়ের মানুষের আয়ের উৎস ছিলো। বাঁশের তৈরী সেই হস্তশিল্প বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করা অর্থ দিয়ে তাদের ছেলে-মেয়ের পড়াশুনাসহ সংসারের কাজে ব্যয় করা হতো। বর্তমানে প্লাস্টিক সামগ্রির কারনে এর চাহিদা না থাকায় ও ক্রেতার অভাবে এ পেশা ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।

বাঁশের তৈরি একটি পণ্য তৈরি করতে যে সময় ও শ্রম লাগে, তার তুলনায় তারা ন্যায্য মূল্য পান না। উপরন্তু কাঁচামাল হিসেবে বাঁশের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাহাড়ের সবজী হিসেবে ব্যবহারিত &quot;বাঁশ কোড়ল&quot; কচি বাঁশ গুলো ক্রমাগত ধংসের কারণে বাঁশ সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সময় দূরদূরান্ত থেকে চড়া দামে বাঁশ কিনতে হয়, যা উৎপাদন খরচ আরও বাড়িয়ে দেয়।

বাঁশের আসবাব পত্র বিক্রেতা শাহআলম (৬৫) নিজেই কারিগর ৪০ বছর ধরে এই পেশায় আছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আগে বাঁশের হস্তশিল্প বিক্রি করে সংসার ভালোই চলতো। এখন আর চলে না। ছেলেমেয়েরা এই কাজ শিখতে চায় না, কারণ এতে কোনো ভবিষ্যৎ নেই। বাধ্য হয়ে অন্য কাজ খুঁজতে হচ্ছে।&rsquo; তার মতো আরও অনেক কারিগর এ পেশা ছেড়ে দিয়ে এখন দিনমজুরের কাজ করছেন।

এ শিল্পের সাথে জড়িত নারী কারিগর আশা আক্তার, রহিমা বেগম, নার্গিস আক্তার, ছালেহা বেগমসহ অন্যরা বলেন, আমরা এখন অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করছি। বাঁশের তৈরি আসবাব পত্রের সল্প সংখ্যক চাহিদা থাকলেও অর্থ সংকটের কারনে তা পূরন করা সম্ভব হচ্ছে না। তারা আরোও বলেন, বাঁশ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা ও সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি সরকারি কোন পৃষ্ঠপোষকতা ও আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্হা গ্রহন করা হলে নতুন নতুন ডিজাইন ও পণ্যের বৈচিত্র এনে শহুরে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা যেত।

এক সময় গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই বাঁশের তৈরি এসব জিনিসপত্রের ব্যবহার ছিল। ৬/৭ বছর আগেও মাঝারী ধরনের একটি বাঁশের মুল্য ছিল ৩০ থেকে ৫০ টাকা। বর্তমানে সে ধরনের একটি বাঁশ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। কিন্তু সে অনুপাতে বাঁশের তৈরী এসব পন্যের মূল্য বাড়েনি। তাছাড়া বর্তমান প্লাষ্টিকের তৈরি জিনিসপত্র এসব পণ্যের স্থান দখল করে নিয়েছে। দামও কম। ফলে প্লাষ্টিকের তৈরি এসব জিনিসপত্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে মুখ থুবড়ে পড়ছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ কুটির শিল্পটি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাঁশ শিল্প শুধু একটি অর্থনৈতিক খাত নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতিরও অংশ। এই শিল্প বিলুপ্ত হলে আমরা একটি ঐতিহ্য হারাবো। তাই এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কারিগরদের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা করা জরুরি। যাতে এ শিল্পের কারিগরদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। তাহলে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে।

সান নিউজ/ জামান]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 19 Jul 2026 12:08:48 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[অবৈধ ড্রেজারে গিলছে আড়িয়াল খাঁ: ভাঙনের শিকার শত পরিবারের আর্তনাদ ]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/116161" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/116161</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[মাদারীপুরে অবৈধ ড্রেজারে গিলছে আড়িয়াল খাঁ নদী। নদী ভাঙনের শিকার ঘর,জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নদী ভাঙন রোধে শত পরিবারের আর্তনাদ।

একসময় ছিল বসতভিটা, ছিল ফসলে ভরা জমি, ছিল স্বচ্ছল সংসার। আজ সেই সবকিছুই স্মৃতি। আড়িয়াল খাঁ নদীর ভয়াল ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে এখন অন্যের জমিতে আশ্রিত মো. এনামুল আকন। তাঁর মতো আরও শতাধিক পরিবার প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের পর থেকেই নদীর গতিপথ বদলে গিয়ে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে।

মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের হোগলপাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা এনামুল আকন (৪৮)। একসময় পরিবারের সঙ্গে প্রায় ১০ বিঘা আবাদি জমিতে কৃষিকাজ করতেন। ১৯৮৮ সালের বন্যার পর থেকে ধীরে ধীরে নদী গিলে খেতে শুরু করে তাদের জমি। পরে পারিবারিক ভাগে পাওয়া শেষ দুই বিঘা জমি ও বসতভিটাও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এখন পরিবার নিয়ে তিনি আশ্রয় নিয়েছেন স্থানীয় সাইফুল ইসলামের আট শতাংশ জমিতে।

চোখে জল নিয়ে এনামুল বলেন, &ldquo;যদি ড্রেজার দিয়ে বালু না তোলা হতো, তাহলে এভাবে নদী ভাঙত না। যারা এসব করছে তারা খুবই প্রভাবশালী। প্রতিবাদ করলে রাতে হামলার ভয় থাকে। তাই মুখ খুলতেও ভয় পাই। আল্লাহ ছাড়া আমাদের দেখার কেউ নেই।&rdquo;

একই গ্রামের টিটল আকনের জীবনেও নেমে এসেছে একই ট্র্যাজেডি। গোলাভরা ধান, বসতবাড়ি আর ফসলি জমি&mdash;সবই এখন নদীর তলদেশে। পরিবার নিয়ে তিনি বাধ্য হয়ে নদীর ওপারে নিজের সামান্য ছয় শতাংশ জমিতে নতুন করে ঘর তুলেছেন।

তিনি বলেন, &ldquo;আমাদের এলাকায় আগে কখনো নদীভাঙন ছিল না। ড্রেজার বসানোর পর থেকেই ভাঙন শুরু হয়েছে। যারা বালু তোলে, তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলার সাহস কারও নেই।&rdquo;

ভাঙনের মানচিত্রে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম

আড়িয়াল খাঁ নদী মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়ন এবং কালকিনি উপজেলার আলিনগর ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। হোগলপাতিয়া, চরহোগলপাতিয়া, চর কালকিনি, সস্তাল ও কাদের আকন কান্দিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা এখন নদীভাঙনের স্থায়ী ঝুঁকিতে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিবছর নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা, কমিউনিটি ক্লিনিক ও হাটবাজার। যাদের ঘর এখনো নদীর কিনারায় টিকে আছে, তারা প্রতিটি বর্ষায় নতুন আতঙ্কে দিন কাটান কখন যে নদী তাদের শেষ সম্বলটুকুও কেড়ে নেয়।

অনেকেই জানান, নাম প্রকাশ করতেও ভয় পান তারা। কারণ, প্রতিবাদ করলে হামলা কিংবা ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। একজন বৃদ্ধের কণ্ঠে ছিল দীর্ঘশ্বাস, &ldquo;সংবাদ করলে আমাদেরই বিপদ হয়। কিন্তু সমাধান আর হয় না।&rdquo;

শিক্ষা ও জনজীবনেও বিপর্যয়

নদীভাঙনের ধাক্কা শুধু বসতবাড়িতেই থেমে নেই। চরহোগলপাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও সামাজিক স্থাপনা নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। অবকাঠামো ধ্বংস হওয়ায় শিক্ষার পরিবেশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে স্কুলের শিক্ষার্থী আরিফ সরদার জানান, যেভাবে নদী ভাঙতেছে আমাদের নৌকায় উঠতে অনেক অনেক ভয় করে এ কারণে মাঝে মাঝে স্কুলে যায় না।

স্থানীয় বাসিন্দা জলিল বেপারী বলেন, &ldquo;রাতভর ড্রেজারের শব্দে ঘুমাতে পারি না। কিছু বলতে গেলে উল্টো ভয় দেখানো হয়।&rdquo;
শাহানুর আকন, সিদ্দিকী আকন, আজম হাওলাদার, রাজ্জাক হাওলাদারসহ একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলনের পর থেকেই নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অনেক পরিবার পাঁচ থেকে সাতবার পর্যন্ত ঘর সরাতে বাধ্য হয়েছে। তাদের দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা না গেলে এই জনপদ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।

মাদ্রা বাজারের বাসিন্দা বিল্লাল হোসাইন অভিযোগ করেন, অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট জড়িত। দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হবে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।

বিষয়ে ঝাউদি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম আবুল হাওলাদারের চাচাতো ভাই জাফর হাওলাদার বলেন, আমি নদীর পাড়ে একটি বরই বাগান ও আমের বাগান করেছিলাম কয়েক জনে মিলে। শামীম আকন নদীর পাড়ে মাটি ড্রেজার আলাদের কাছে বিক্রি করায় আমার সেই বাগান নদীর ভাঙ্গনে নদীর গর্ভ চলে গেছে। আমি ওরে বাধা দিলেও ও আমাকে লোক দিয়ে মারতে আসে। প্রশাসনের কাছে সাহায্য চাই।

হোগলপাতিয়া ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লোকমান বেপারী বলেন, &ldquo;তারা অনেক প্রভাবশালী। আমি প্রতিবাদ করলে আমার ওপরও হামলার আশঙ্কা আছে।&rdquo;

কালকিনি উপজেলার আলিনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহিদ পারভেজের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঝাউদি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম আবুল হাওলাদার বলেন, নদীভাঙনের বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ তাঁকে অবহিত করেননি বলে দাবি করেন।

প্রশাসনের বক্তব্য

মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সানাউল কাদের খান জানান, ঝাউদি ইউনিয়নে নদীতীর সংরক্ষণে একটি প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দলের পরিদর্শন শেষে প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু হবে।

মাদারীপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে জরিমানা ও আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে এবং এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জেলা প্রশাসক মিজ্ মর্জিনা আক্তার বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পৃথক ম্যাজিস্ট্রেট টিম নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা চলমান থাকবে।

আড়িয়াল খাঁর তীরে দাঁড়িয়ে এখন মানুষের একটাই প্রশ্ন অবৈধ ড্রেজারের গর্জন থামবে কবে? তার আগেই কি নদী গিলে খাবে এই জনপদের শেষ আশ্রয়টুকুও?

সান নিউজ/ জামান]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 13 Jul 2026 09:25:42 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[বর্ষার আগমনীতে মাদারীপুরে ব্যস্ত নৌকা কারিগররা]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/bangladesh/115965" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/bangladesh/115965</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[মাদারীপুরে বর্ষার আগমনীতে নৌকা তৈরি করতে ব্যস্ত সময় পাড় করছে মাদারীপুর জেলা র ৫ টি উপজেলার নৌকা তৈরীর কারিগররা। প্রকৃতি যেন জানান দিচ্ছে বর্ষা খুব দূরে নয়। মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর ও চরগোবিন্দপুর কাঠপট্টিতে এখন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শোনা যায় কাঠ কাটার শব্দ, হাতুড়ির ঠকঠক আর কারিগরদের ব্যস্ত পদচারণা।অপরদিকে কালকিনি উপজেলার সাহবরামপুর বাজার ও ডাসার উপজেলার শশিকর এলাকায় কারিগররা ব্যস্ত সময় পাড় করছে।

একসময় বর্ষা মানেই ছিল নৌকার রাজত্ব। এখনও জেলার অনেক নিচু ও নদীসংলগ্ন অঞ্চলের মানুষের কাছে নৌকাই ভরসার নাম। তাই বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে নতুন নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কারিগররা। পাশাপাশি হাট-বাজারেও শুরু হয়েছে নৌকা বিক্রির প্রস্তুতি।
কালকিনি, ডাসার ও শিবচর উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্রতিবছর বর্ষার পানিতে প্লাবিত হয়। শশিকর, নবগ্রাম, খাসেরহাট, মোল্লারহাট, লক্ষীপুর, কুলচরী, পিরারবাড়ি ও সিডিখানসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এসব অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে নৌকার প্রয়োজনীয়তা এখনও ফুরিয়ে যায়নি।

গোবিন্দপুরের নৌকা নির্মাতা বাদল হোসেন জানান, বছরের অধিকাংশ সময় তিনি আসবাবপত্র ও ঘরবাড়ির কাঠের কাজ করেন। তবে বর্ষা এলেই নৌকা তৈরির কাজে মনোযোগ দেন। তিনি বলেন, &ldquo;এই সময়টাতে কারিগরদের দম ফেলার সুযোগ থাকে না। একজন কারিগর দিনে একটি নৌকা তৈরি করতে পারে। মাদারীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে নৌকা কিনতে আসে। তবে আগের তুলনায় চাহিদা কিছুটা কমেছে। পানি বাড়লে বিক্রিও বাড়বে বলে আশা করছি।&rdquo;

বর্তমানে ৮ থেকে ১০ হাত দৈর্ঘ্যের একটি নৌকা ৬ থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকার ও কাঠের মান অনুযায়ী দাম আরও বাড়ে।
২৩ বছরের অভিজ্ঞ কারিগর ইয়াকুব মোল্লা জানান, পারিবারিকভাবে তারা কাঠমিস্ত্রির কাজের সঙ্গে জড়িত। বছরের অধিকাংশ সময় ঘর নির্মাণের কাজ করলেও বর্ষা মৌসুমে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, &ldquo;নৌকা বানিয়ে অন্য কাজের তুলনায় কিছুটা বেশি আয় হয়। তাই বর্ষাকালে এটি আমাদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করে।&rdquo;

নৌকা তৈরির এই মৌসুমি শিল্প শুধু ব্যবসা নয়, স্থানীয়দের জন্য এক ধরনের আকর্ষণও বটে। স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বাচ্চু বলেন, &ldquo;সারি সারি নতুন নৌকা সাজিয়ে রাখা হলে দেখতে খুব সুন্দর লাগে। অনেক মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে এগুলো দেখতে আসে। যদিও সড়ক যোগাযোগ উন্নত হওয়ায় নৌকার ব্যবহার কমেছে, তবুও বর্ষাকালে এর প্রয়োজনীয়তা এখনো রয়ে গেছে।&rdquo;

অন্যদিকে, কাঠ ব্যবসায়ী ইমরান তালুকদার আশঙ্কার কথা জানিয়ে বলেন, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হলে এবং দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হলে নৌকা ব্যবসায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে পারেন কারিগররা। তিনি বলেন, &ldquo;পানির আশায় অনেকেই আগেভাগে নৌকা তৈরি করেছেন। কিন্তু বন্যার পানি কমে গেলে সেই নৌকা বিক্রি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।&rdquo;

খোয়াজপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আজাদ তালুকদার স্মৃতিচারণ করে বলেন, &ldquo;একসময় বর্ষার বিকেল মানেই ছিল পরিবার নিয়ে নৌকাভ্রমণ। তখন নদী-খাল-বিলে নৌকার চলাচল ছিল স্বাভাবিক দৃশ্য। এখন সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নের কারণে মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে, ফলে নৌকার ওপর নির্ভরতা অনেক কমে গেছে।&rdquo;

মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব মনে করেন, নৌকা শুধু একটি বাহন নয়, এটি বাংলার ঐতিহ্যেরও অংশ। তিনি বলেন, &ldquo;গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে নৌকার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে কারিগরদের প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা প্রয়োজন।&rdquo;

সময়ের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে জীবনযাত্রা, উন্নত হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। তবুও বর্ষার জলরাশিতে ভেসে চলা নৌকা এখনও বাংলার গ্রামীণ সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রতীক। আর সেই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে মাদারীপুরের কারিগররা আজও কাঠের গায়ে স্বপ্নের জলযান গড়ে চলেছেন নিঃশব্দে।

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 04 Jul 2026 09:47:15 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[সড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ ডাম্প ট্রাক, ভোগান্তিতে পথচারী ]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/bangladesh/115859" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/bangladesh/115859</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[মাদারীপুরের শিবচরে সড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ ভাবে বালু ও মাটি ব্যবসায়ীদের অবৈধ ডাম্প ট্রাক। যার কারণে ভোগান্তিতে পথচারী ও এলাকাবাসী।

&lrm;সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কে শত শত ডাম্প ট্রাক অবাধে চলাচল করছে। উৎরাইল,থানা রোড, শিবরায়েরকান্দি, কলাতলা,শেকপুর,মাদবরেরচর, বহেরাতলা,চরশ্যামাইল,বাইপাস সড়ক,যাদুয়ারচর,ডিসি রোড, ফলে সড়কের অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটছে এবং জনদুর্ভোগ বাড়ছে।&rdquo;
&lrm;
শিবচর উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার অধিকাংশ সড়কে বালুবাহী অবৈধ ডাম্প ট্রাকের বেপরোয়া চলাচলে ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থী, পথচারী ও সাধারণ মানুষ। ভারী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক দিন দিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।&rdquo;
&lrm;
&lrm;স্থানীয়দের অভিযোগ, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কে শত শত ডাম্প ট্রাক অবাধে চলাচল করছে। ফলে সড়কের অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটছে এবং জনদুর্ভোগ বাড়ছে।&rdquo;
&lrm;
&lrm;জানা গেছে, শিবচর উপজেলায় প্রায় চার শতাধিক অবৈধ ডাম্প ট্রাক চলাচল করছে। এসব যানবাহনের অধিকাংশই অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের দ্বারা পরিচালিত। অনেক ট্রাকের ফিটনেস সার্টিফিকেট, ট্যাক্স টোকেন ও নাম্বার প্লেট নেই। খোলা ট্রাকে অতিরিক্ত বালু বহন করে বেপরোয়া গতিতে চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। একইসাথে ধুলাবালি ও শব্দদূষণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।&rdquo;
&lrm;
&lrm;বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সময় ডাম্প ট্রাকের দীর্ঘ সারির কারণে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হয়। দ্রুতগতিতে চলাচলকারী ট্রাক পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় ধুলাবালিতে রাস্তা ঢেকে যায়, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। অনেক শিক্ষার্থীকে ধুলাবালির মধ্যে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি করছে।&rdquo;
&lrm;
&lrm;স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিবচর উপজেলার বিভিন্ন বালুমহাল ও চরাঞ্চল থেকে প্রতিদিন শত শত ডাম্প ট্রাকে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয়। অধিকাংশ ট্রাক অতিরিক্ত বালু বহন করায় সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।&rdquo;
&lrm;
&lrm;এলাকাবাসীর দাবি, এসব অবৈধ ট্রাকের অধিকাংশ মালিক রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হলেও তা স্থায়ী কোনো ফল দিচ্ছে না। কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর পুনরায় ট্রাকগুলো সড়কে নেমে পড়ে।&rdquo;
&lrm;
&lrm;স্থানীয়রা জানায়, গ্রামীণ সড়কগুলো মূলত হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য নির্মিত হলেও ভারী ডাম্প ট্রাকের কারণে অনেক স্থানে ফাটল ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব সড়ক আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।&rdquo;
&lrm;
&lrm;অন্যদিকে সচেতন মহল মনে করে, অবৈধ ডাম্প ট্রাকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং অতিরিক্ত ভার বহন নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় সড়কের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি জনদুর্ভোগ আরো বৃদ্ধি পাবে।&rdquo;
&lrm;
&lrm;স্থানীয় জনগণ অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং দিনের বেলায় বালুবাহী ডাম্প ট্রাক চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত ও সড়ক রক্ষায় অবৈধ ডাম্পট্রাক নিয়ন্ত্রণ এখন সময়ের দাবি।&rdquo;
&lrm;
&lrm;এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান বলেন, &lsquo;একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছে। এসব যানবাহনের চলাচলে বিভিন্ন বিধিনিষেধ রয়েছে। দিনের বেলায় বালুবাহী ডাম্প ট্রাক চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। খুব শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।&rdquo;

সান নিউজ/ জামান]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 30 Jun 2026 10:24:55 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[নোবিপ্রবির মাহামুদুল এখন অ্যামাজনের সিনিয়র ম্যানেজার ‎ ]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/115777" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/115777</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[&lrm;বিশ্ববিখ্যাত প্রযুক্তি ও রিটেইল জায়ান্ট &#39;অ্যামাজন&#39;-এর সিনিয়র ম্যানেজার (লেভেল-৬) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সাবেক শিক্ষার্থী মাহামুদুল ইসলাম খান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ম ব্যাচ এবং অর্থনীতি বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
&lrm;
&lrm;নোবিপ্রবি থেকে স্নাতক (সম্মান) সম্পন্ন করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানিতে পাড়ি জমান মাহামুদুল। সেখানে দেশটির অন্যতম প্রাচীন ও শীর্ষস্থানীয় সরকারি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় &lsquo;ফ্রেডরিখ শিলার ইউনিভার্সিটি জেনা&rsquo; থেকে &lsquo;ইকোনমিকস অ্যান্ড ইনোভেশন চেঞ্জ&rsquo; বিষয়ে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন।
&lrm;
&lrm;স্নাতকোত্তর শেষেই তিনি সরাসরি অ্যামাজনে কর্মজীবন শুরু করেন। মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের জোরে যোগদানের মাত্র ৬ মাসের মধ্যে &#39;অপারেশনস লিড&#39; (লেভেল-৩) পদে উন্নীত হন। এর পর মাত্র ৪ বছরের ব্যবধানে লেভেল-৩ থেকে সাফল্যের সঙ্গে লেভেল-৬ (সিনিয়র ম্যানেজার) পদে পদোন্নতি লাভ করেন তিনি।
&lrm;
&lrm;সাফল্যের অনুভূতি ব্যক্ত করে এক ফেসবুক পোস্টে মাহামুদুল ইসলাম খান বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, সবকিছুই আল্লাহর অশেষ রহমতে সম্ভব হয়েছে। আমাদের শুধু চেষ্টা করে যেতে হবে, বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা। ২০২২ সালের এপ্রিলে যখন অ্যামাজনে অপারেশনস লিড হিসেবে জয়েন করি, তখন ভেবেছিলাম অপারেশনস ম্যানেজার (লেভেল-৬) হতে হয়তো ১০ বছর লেগে যাবে। বিশেষ করে নন-জার্মান এবং নন-ইউরোপীয়ান হিসেবে পথটা আরও কঠিন ছিল। কিন্তু অ্যামাজন আমাকে শিখিয়েছে&mdash;এখানে পারফরম্যান্স, নেতৃত্ব আর কাজের প্রভাবই সবচেয়ে বড় যোগ্যতা।
&lrm;
&lrm;তিনি আরও যোগ করেন, অ্যামাজনের নিয়মগুলো সম্পূর্ণ ভিন্ন, আর এ কারণেই তারা বিশ্বে অনন্য। নিজের কোম্পানিতে কর্মরত থাকার পরও লেভেল-৫ থেকে লেভেল-৬-এ যাওয়ার জন্য আমাকে ৫ জন কর্মকর্তার কাছে দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা ইন্টারভিউ দিতে হয়েছে। একজন বাংলাদেশি হিসেবে বৈশ্বিক মঞ্চে দেশের সম্মান যেন বজায় রাখতে পারি, সেজন্য সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।
&lrm;
&lrm;উল্লেখ্য, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আমেরিকান বহুজাতিক প্রযুক্তি ও ই-কমার্স কোম্পানি অ্যামাজনে &#39;লেভেল-৬&#39; (L6) অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি মিড-টু-সিনিয়র স্তরের ব্যবস্থাপনা পদ। এই পদের বার্ষিক মোট বেতন (প্যাকেজ) সাধারণত ১,৮০,০০০ থেকে ৪,৫০,০০০+ মার্কিন ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি থেকে সাড়ে ৫ কোটি টাকার সমতুল্য।

সান নিউজ/ জামান]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 27 Jun 2026 11:04:22 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[মাদারীপুরের চরাঞ্চলে বাদামের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাঁসি]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/115675" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/115675</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[চলতি বছর মাদারীপুরের শিবচরের পদ্মা নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাদামের ফলন ভাল হওয়ায় কৃষকদের মনে জাগিয়েছে নতুন আশার আলো। ক্ষেত থেকে বাদাম উত্তোলন, রোদে শুকানোসহ বাদাম সংরক্ষণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক পুরুষ ও নারীরা। উৎপাদন ভালো হওয়ায় ন্যায্যমূল্য পাওয়ার প্রত্যাশায় রয়েছেন কৃষকরা।

পদ্মার চরের উর্বর বেলে মাটি ও পলি মাটি বাদাম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করেই এখানে ভালো ফলন পাওয়া যায়। শুধু নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যার মাধ্যমে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছেন। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাদামের ফলন অত্যন্ত সন্তোষজনক হয়েছে। গত বছর প্রচুর বৃষ্টিপাত ও আগাম বর্ষায় বাদামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। এ বছর ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশাবাদী কৃষকরা।

পদ্মার চরের চর জানাযাত এলাকার কৃষক হামিদ খা জানান, আমাদের পদ্মার চরের বাদামের অনেক স্বাদ, আকার ও গুণগত মান অন্যান্য এলাকার তুলনায় ভালো। বর্তমানে মাঠ থেকে বাদাম উত্তোলন প্রায় শেষ পর্যায়ে। পদ্মার চরে বাদাম উত্তোলন শেষে কৃষক ও কৃষাণীরা মাঠেই গাছের শিকড় থেকে বাদাম আলাদা করে রোদে শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আমিন উদ্দন নামের বাদাম চাষী জানান, এবছর বাজারে দাম ভাল থাকায় আগেভাগে অনেক কৃষক বিক্রিও করছেন। স্থানীয় বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় চরাঞ্চলের বাদামের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

শিবচর কৃষি সম্প্রসারণ সূত্রে জানাজায়, চলতি অর্থবছরে শিবচর উপজেলায় প্রায় ৬ শ ৯০ হেক্টর জমিতে বাদামের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু চর জানাজাত ইউনিয়নেই ১ শ ২০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার উৎপাদন বেড়েছে এবং প্রতি হেক্টরে গড়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কেজি বাদাম উৎপাদিত হয়েছে। বাজারে মণ প্রতি ৬-৮ হাজার টাকা দরে বাদাম বিক্রি হচ্ছে। চর জানাজাত ইউনিয়নের পাশাপাশি মাদবরেরচর, কাঁঠালবাড়ী, সন্ন্যাসীরচর, বন্দরখোলা, বহেরাতলা উত্তর, বহেরাতলা দক্ষিণ, নিলখী ও শিরুয়াইলসহ উপজেলার আরও কয়েকটি ইউনিয়নে ব্যাপকভাবে বাদামের চাষাবাদ হয়ে থাকে।

শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলিমুজ্জামান জানান, কৃষকদের আগ্রহ, অনুকূল আবহাওয়া এবং চরাঞ্চলের উপযোগী মাটির কারণে প্রতিবছরই এ অঞ্চলে বাদাম চাষের পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সান নিউজ/ কেএনআই

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 24 Jun 2026 08:30:14 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[রয়েল বেঙ্গল টাইগারের গলায় স্যাটেলাইট কলার]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/115646" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/115646</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকির খাল সংলগ্ন গহীন অরণ্যে হরিণ শিকারীদের পেতে রাখা ছিটকা ফাঁদে আটকে গুরুতর আহত রয়েল বেঙ্গল টাইগারটি দীর্ঘ সাড়ে ৫ মাস চিকিৎসা শেষে সম্পূর্ন সুস্থ্য হয়ে আবারও ফিরে যাচ্ছে তার আবাসস্থল সুন্দরবনে।

তবে, বন বিভাগে নজরদারিতে রাখতে প্রাপ্তবয়স্ক এই বাঘটির গলায় স্যাটেলাইট কলার লাগিয়ে বনের যে এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিলো সেখানের গহীন সুন্দরবনে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন এর দেয়া স্যাটেলাইট কলার হাতে পাওয়ার পর বাঘটিকে চলতি মাসের শেষে অথবা আগামী জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সুন্দরবনে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, গত সাড়ে পাঁচ মাসের চিকিৎসায় বাঘিনীটি এখন সম্পূর্ন সুস্থ হয়েছে। ওজন বাড়ার পাশাপাশি ক্ষিপ্রতাও বেড়েছে। মনে করা হচ্ছে বাঘিনীটি এখন শিকার ধরে খেতে পারবে।

এই অবস্থায় বাঘিনীটিকে এখন কোথায় রাখা হবে তা ঠিক করতে গত ২১ মে বন কর্মকর্তা, বাঘ গবেষক, বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বন বিভাগ সভা করেছে। সভায় বাঘিনীটিকে তার পূর্বের আবাসস্থল সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকির খাল সংলগ্ন গহীন অরণ্যে তার আপন পরিবেশ ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে একমত হন সবাই।

সুন্দরবনে বাঘটি ছাড়ার পরে নিজে শিকার করে খেতে পারে কিনা তা জানাসহ গতিবিধি পর্যবেক্ষনের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন এর সহায়তায় তার গলায় একটি স্যাটেলাইট কলার পরানোর নীতিগত সিদ্ধান্তও নেয়া হয়। বাঘটির গলায় পরানো স্যাটেলাইট কলার নির্দ্দিষ্ট সময়ের পরে গলা থেকে খুলে পড়ে যাবে বলে জানান এই বন কর্মকর্তা ।

বন বিভাগের ওই সভায় অংশ নেয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ এম এ আজিজ জানান, সুন্দরবনের একটি বাঘ ১৪ থেতে ১৫ বছর বেঁচে থাকে। সুন্দরবনে উদ্ধার করা বাঘটির বয়স প্রায় ১০ বছর। তাকে তার আপন পরিবেশ সুন্দরবনে ছেড়ে দেয়া সিদ্ধান্তটি সঠিক হয়েছে। সেক্ষেত্রে ছেড়ে দেওয়ার পরে তার গতিবিধি দেখার জন্য বাঘটির গলায় স্যাটেলাইট কলার লাগিয়ে ছাড়া হবে। ভারতের সুন্দরবন অংশে এভাবে
ছয়টি বাঘের গলায় স্যাটেলাইট কলার লাগিয়ে দেয়া হয়েছে বলেও জানান এই বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ।

বন বিভাগ সূত্রে জানাযায় ,গত ৩ জানুয়ারি সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকির খাল সংলগ্ন গহীন বনে হরিণ শিকারীদের পেতে রাখা ছিটকা ফাঁদে আটকা পড়ে প্রায় ১০ বছর বয়স্ক একটি বাঘ। আটকে পড়ার একদিন পর ট্রাঙ্কুলাইজিং বন্দুক দিয়ে গুলি করে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের সময় দেখতে পাওয়া যায় বাঘটির সামনের বাঁ পায়ে ৩ ইঞ্চির মতো জায়গায় চামড়া, মাংসপেশি ও শিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছিটকা ফাঁদের রশিতে টানাটানির কারনে ওই ক্ষত হয়ে পচন ধরে গিয়েছিল।
উদ্ধারের পর গুরুতর আহত বাঘটিকে খুলনার বয়রায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানে হয়। সেখানে বাঘটির চিকিৎসায় গঠন করা হয় পাঁচ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড।

চিকিৎসাদের নিবীড় পরিচর্যায় অ্যান্টিবায়োটিক অষুধসহ নিয়মিত ড্রেসিংয়ে বাঘটির পায়ের ঘা শুকিয়ে ধীরে ধীরে শুকাতে থাকে। এখন সম্পূর্ন সুস্থ্য থাকা বাঘটিকে তার চিরচেনা নিজস্ব আবাসস্থলের বনে ছেড়ে দেয়া হবে।

আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন এর দেয়া স্যাটেলাইট কলার চলতি সপ্তাহের মধ্যে বন বিভাগের হাতে পাওয়ার কথা রয়েছে। স্যাটেলাইট কলার হাতে পাবার পর বাঘটিকে চলতি মাসের শেষে অথবা আগামী জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সুন্দরবনে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সান নিউজ/ জামান]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 23 Jun 2026 10:48:15 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতির শিল্পী বাবুই পাখি]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/115579" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/115579</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[আবহমান কাল থেকে গ্রাম বাংলার উচু তাল গাছে দল বেধে বাসা বা্েঁধ বাবুই পাখি। এখন আর তাল গাছে সহসা দেখা মেলেনা বাবুই পাখির বাসা। চোখে পড়েনা বাবুই পাখি। গ্রাম বাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখি ও তার শৈল্পিক সৃষ্টি বাবুই পাখির বাসা। একদিকে গাছিরা বাঁশ বেধে তাল গাছের মোচা থেকে মিষ্টি রস আহরনসহ গাছ কেটে উজাড় করা, শিকারীদের অত্যাচার , খাদ্যের অভাব সহ নানা কারনে এখন আর সহসাই তাদের বাসা দেখতে পাওয়া যায় না । এভাবেই হারিযে যাচেছ শিল্পী পাখি বাবুই বলে দাবী পাখি বিশেষজ্ঞদের।


বাগেরহাটের এভারগ্রীন বার্ড পার্র্র্র্র্র্ক এর মালিক ও পাখি বিশেষজ্ঞ মোঃ ফজলুল করিম জানান,পাখি শুধু প্রকৃতির অলংকারই নয়, পাখি প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এক অতিপ্রয়োজনীয় প্রাণী। পাখিকে বাদ দিয়ে এই সবুজ পৃথিবী কল্পনা করা অসম্ভব। আমাদের দেশে নানা পাখির সমারহ রয়েছে । এদের মধ্যে বাবুই পাখি একটি আলোচিত পাখি । বাবুই পাখি দেখতে স্ত্রী চড়ুই পাখির মত। গায়ের পালকের রঙ খয়েরি। বসন্ত ঋতুতে পুরুষ বাবুই দেখলে মনে হয় একটু সাজগোজ করেছে। মনেহয় যেন গায়ে হলুদ মেখে পালকগুলো হলুদ বানিয়েছে এবং গলায় গারো রঙ মেখেছে। স্ত্রী বাবুইদের রঙ কি&scaron;&lsquo; কোন সময়েই বদলায় না। শীতকালে স্ত্রী ও পুরুষ বাবুইয়ের চেহারা একই রকম দেখতে। উপরের পালক লালচে হলুদ, তার ওপর কালচে পাটকিলের ছোটছোট টান। এই টান কোমরের কাছে এসে শেষ হয়েছে। ঘারে লালচে পালকসহ ডানা এবং লেজ গাঢ় পাটকিলে। চোখের উপরেও একটা টান। মাথা ও বুক একটু গাঢ় লালচে হলুদ। লম্বা ছয় ইঞ্চি।


বাবুই পাখির ইংরেজী নাম উইভার ( বিধাবৎ ইরৎফ)। বৈজ্ঞানিক নাম পাসিউস ফিলিপপিনাস। চড়ুই পাখিদের মত বাবুইরা ঘাসের বীজ ও শষ্যদানা খেয়ে পেট ভরে। ঠোঁটের গোড়ায় পোকা মাকড় পেলেও ছাড়ে না। ছানাদের শস্যের ক্ষতিকারক কিটপতঙ্গ খাইয়ে বড় করে।ফলে শস্য খেয়ে কৃষকের যেটুকু লোকসান করে তা শস্যের ক্ষতিকারক কিটপতঙ্গ মেরে ফেলায় পুরণ হয়ে যায়।


বাবুইকে অনেকে দেখে না চিনলেও বাবুই পাখির বাসা চেনে প্রায় সকল মানুষই। বসন্ত ঋতুতে পুরুষ বাবুই পাখি যখন হলুদ পোষাক গায়ে চাপায় তখন ছাড়া এদের দেখে মনে হয় বুঝি চড়ুই পাখির ঝাঁক। এ কারণেই মানুষের নজরে পড়ে না। ঘনজঙ্গল ওদের একদম অপছন্দের । ফসলের খেত, মাঠ অথবা একটু স্যাঁতসেঁতে জলাজমির ধারে বাবলা তাল, সুপারী খেজুর, ওমাদার গাছের উচু ডালে এরা বাসা বাঁধে। এ ছাড়া বাসা বাঁধে জলের ওপর যে গাছ ঝুলে পড়েছে সেই গাছে। না হয় যে গাছে কাঁটা আছে কিংবা সহজে যে গাছ বেয়ে ওঠে কারুর পক্ষে সম্ভব নয়। বাসা করতে পছন্দ করে সেই ডাল বা গাছ যেখানে হাওয়া বা ঝড়ের বেগ কম লাগে। বাসা দেখলে মনেহবে পাকা আবহাওয়া বিশারদের মত কাজ। যেদিক হতে বেশি ঝড় বা বাতাস বহা সম্ভব, এরা বাসার সরুমুখগুলোকে তার বিপরীত দিকে রাখে।তবে তাল গাছে বেশি বাসা বাধতে দেখা যায়। বাবুইদের বাসা দেখতে যেন জল রাখার ছোট কুজোর মত। কুজোর গলা নিচের দিক করে ঝুলালে যে রকম দেখায়, বাবুইদের বাসা যেন সেই রকম। তাল, নারিকেল ও খেজুর গাছের আঁশ দিয়ে বাবুইয়া বাসাগুলোকে এমন সুন্দরভাবে তৈরি করে যে তা দেখলে অবাক হতে হয়। একজন কারু শিল্পীর পক্ষে এই রকম নিপুণ কাজ অসম্ভব। বাসা তৈরির সময় গরমকাল থেকে বর্ষাকাল। এই সময় বাবুইরা মাঠে কিংবা জঙ্গলেগিয়ে ঠোঁট দিয়ে তাল-খেজুরের আঁশ যোগার করে আনে। এই আঁশ প্রথমে গাছের ডালে আটকিয়ে বাসা ঝুলাবার দড়ি তৈরি করে। দড়ি ঝুলানোর কাজ শেষ হলে বাবুইরা আসল বাসা বাঁধতে শুর&ldquo; করে। প্রথমে বাসার চেহারা হয় দড়িতে ঝুলানো একটা ঘন্টা বা ছাতার মত। এই ঘন্টার নিচে এক গাছি শক্ত খড়ের দড়ি দাঁড়ের মত লাগানো দেখা যায়। বাবুইরা কাজের ফাঁকে ফাঁকে সেই ছাতার এলাকার দড়িতে ঝুলে বিশ্রাম করে এবং গান গেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে। অনেকের ধারণা স্ত্রী বাবুই যখন মন দিয়ে বাসা বোনে, তখন মিয়া সাহেব দোল খেয়ে গান শুনিয়ে বউয়ের মন খুশি রাখে।


বাবুইরা ভারী ষ্ফূর্তিবাজ পাখি। বাসা তৈরি শেষ হয়ে গেলে এদের আনন্দের আর সিমা থাকে না। তখন তারা কি করবে ভেবে না পেয়ে উড়ে উড়ে শূন্যে ডিগবাজি খেতে আরম্ভ করে কখনও বা আনন্দে পরষ্পর কামড়া কামড়ি আরম্ভ করে। অন্য পাখিরা যেমন বাসায় যেতে প্রথমে উড়ে এসে বাসার কাছের একটি ডালে বসে এবং তারপর ধীরে সুয়ে বাসার ভিতর যায়। বাবুইরা তা করে না। এরা উড়তে উড়তে বাসার তলার শুঁড়ের মত পথ দিয়ে ভিতরে ঢুকে যায়। অন্য কোন পাখির পক্ষে এটা সম্ভব নয়।


কখনও কখনও বাবুই পাখি জোনাকী পোকা ধরে এনে ঘরে আলো জ্বালে । বাসা মনের মত না হলে নতুন বাসা তৈরি করে। বাবুইদের বাসা গাছ থেকে পড়ে গেলে, বাসার সরু খড়কুটো দিয়ে লোকে বালিশ তৈরি করে। এ বালিশ তুলো ভরা বালিশের মতই নরম হয়। স্ত্রীবাবুই পাখির আধিক্যের জন্যেই হয়ত বাবুই বংশ বিস্তার রক্ষা পায়। স্ত্রী বাবুই ডিম পাড়ে দুটি বা তিনটি। ডিমে তা দেয়া এবং ছানাদের যত্ন তাকেই করতে হয়।

মানুষের অত্যাচার আর অনাচার থেকে রক্ষাপেতে লোকালয় ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে দেখা যা&rdquo;েছ অনেক বাবুইদের । বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন হিরণ পয়েন্টে ট্যুরিজম এলাকার প্রতিটি তালগাছে শ&rsquo;শ বাবুই পাখি বাসা বাধে। সেখানে নৌবাহিনী অফিসের বাম পাশের গেট দিয়ে মংলা বন্দর রেষ্ট হাউজ এলাকায় ঢুকতে চোখে পড়ে তাল গাছের প্রতিটি পাতায় জড়িয়ে আছে বাবুই পাখির বাসা। এখানে নিরাপদ আশ্রয় মনে করে বাবুই পাখিরা বাসা বাধে বলে ধারণা করা হয় ।

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 21 Jun 2026 18:28:59 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[জলাবদ্ধতার শঙ্কায় ঢাকা]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/115571" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/115571</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[গত ১৬ বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় এবং ওয়াসা থেকে দুই সিটি কর্পোরেশনের কাছে নালা ও খাল হস্তান্তর করেও কাটেনি ঢাকার জলাবদ্ধতা সংকট। বর্ষা শুরুর আগেই সামান্য বৃষ্টিতে নাকাল হচ্ছে নগরবাসী। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানালেও, একদিকে অকেজো পাম্প স্টেশন ও স্লুইসগেট, অন্যদিকে অবৈধ দখল ও প্লাস্টিক বর্জ্যে ভরাট হওয়া খালের কারণে এবারের আষাঢ়-শ্রাবণেও রাজধানীতে তীব্র জলজটের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


নগর পরিকল্পনাবিদরা জানিয়েছেন, মূলত পাঁচ স্তরের সংকট একসঙ্গে জেঁকে বসেছে ঢাকার বুকে। প্রথমত, সড়কের ক্যাচপিটের ছিদ্রগুলো আবর্জনায় বন্ধ; দ্বিতীয়ত, ড্রেনগুলো পলি ও কাদায় ভরা; তৃতীয়ত, অবৈধ দখলে হারিয়ে গেছে প্রধান খালগুলো; চতুর্থত, পাম্পিং স্টেশনগুলো অকেজো আর পঞ্চমত, চারপাশের নদনদীগুলো ভরাট হয়ে হারিয়েছে পানি ধারণের সক্ষমতা। ফলে বৃষ্টির পানি ক্যাচপিট থেকে ড্রেনে, ড্রেন থেকে খালে এবং খাল হয়ে নদীতে যাওয়ার প্রতিটি ধাপেই অচল হয়ে পড়ে। প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয়, দফায় দফায় সভা আর প্রতিশ্রুতির বন্যা বয়ে গেলেও সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান হয় না। সমস্যার গভীরে হাত না দিয়ে বারবার উপরিভাগে প্রলেপ দেওয়ার কারণেই প্রতি বর্ষায় ঢাকা ফিরে যায় তার সেই চেনা ও চরম ভোগান্তির রূপে।


সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের পর রাজধানীর নিউমার্কেট, আজিমপুর, নীলক্ষেত, বকশিবাজার, মালিবাগ, শান্তিনগর, সায়েদাবাদ, শনির আখড়া, পুরান ঢাকা, বংশাল, নাজিমুদ্দিন রোড, ধানমন্ডি, মিরপুর, শেওড়াপাড়া, আরামবাগ, মতিঝিল, বনানী, খিলক্ষেত, উত্তরার কিছু অংশ, কারওয়ান বাজার, বিজয় সরণি, মিরপুর ১৩, হাতিরঝিলের কিছু অংশ, আগারগাঁও থেকে জাহাঙ্গীর গেট যাওয়ার নতুন রাস্তা, খামারবাড়ি থেকে ফার্মগেট, ফার্মগেট-তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা, মোহাম্মদপুরের কিছু অংশ, মেরুল বাড্ডা ও ডিআইটি প্রজেক্টসহ বিভিন্ন প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে নিয়মিত জলাবদ্ধতা তৈরি হতে দেখা গেছে।
জলাবদ্ধতার এই স্পটগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হলেও দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী সমাধানের কোনো কার্যকর উদ্যোগ এখনও নিতে পারেনি ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন। ফলে এবারের বর্ষাতেও ঢাকা শহর তীব্র জলজটের কবলে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রকৌশল বিভাগ জলাবদ্ধতা নিরসনে অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করতে গিয়ে সম্প্রতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ২৯টি হটস্পট চিহ্নিত করেছে। এই তালিকায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে, পশ্চিম মালিবাগ, খিলগাঁও ফ্লাইওভার থেকে মালিবাগ কমিউনিটি সেন্টার, মানিকনগর টিটিপাড়া পাম্পের সামনে, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা, কমলাপুর রেলস্টেশন, শাপলা চত্বর, নটর ডেম কলেজ এলাকা, পল্টন, দৈনিক বাংলা, ফকিরাপুল, ধানমন্ডি-২৭, গ্রিন রোড, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, নায়েম রোড, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, পলাশী এস এম হলের সামনে, সাকুরা মার্কেট এলাকা, মোকাররম ভবনের সামনে, চানমারির মোড়, শান্তিবাগ, আলমবাগ, পশ্চিম জুরাইন এবং সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল সংলগ্ন সড়ক।


ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার টন বর্জ্য উৎপাদিত হয়, যার মধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশই প্লাস্টিক বর্জ্য। এসব প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য সরাসরি ঢাকার ড্রেন, নালা আর খালে গিয়ে পড়ছে এবং সেখানে আটকে থেকে পানি নিষ্কাশনের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিচ্ছে। এর ওপর কিছু খাল এখনও অবৈধ দখলে রয়েছে, আর বাকি খালগুলো যেভাবে সংকুচিত করা হয়েছে, তা দিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ফলে বর্ষায় সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিতে নিমজ্জিত হচ্ছে রাজধানী ঢাকা
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) সূত্র জানিয়েছে, নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ডিএসসিসি স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি বহুমুখী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি কার্যক্রমের আওতায় নর্দমা, বক্স-কালভার্ট ও খাল থেকে পলি ও বর্জ্য অপসারণ, ভারী বর্ষণের সময় পোর্টেবল পাম্পের সাহায্যে দ্রুত পানি সরিয়ে নেওয়া, বিদ্যমান পাম্প স্টেশনগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ওয়ার্ডভিত্তিক জরুরি প্রতিক্রিয়া (ইমার্জেন্সি রেসপন্স) দল গঠন করা হচ্ছে। এছাড়া দক্ষিণ সিটির ৫৭টি ওয়ার্ডে একটি সমন্বিত ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রয়েছে খাল পুনরুদ্ধার ও সংস্কার, নতুন আউটলেট নির্মাণ, ড্রেনেজ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং পাম্প স্টেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি। বিশেষ করে জিয়া সরণি খাল ও শ্যামপুর খালের পানি সরাসরি বুড়িগঙ্গা নদীতে নিষ্কাশনের জন্য নতুন আউটলেট নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বিদ্যমান নর্দমা সংস্কার, ব্লকেজ অপসারণ, খোলা ও সবুজ এলাকা বৃদ্ধি, জলাভূমি সংরক্ষণ, খাল ও ড্রেনে বর্জ্য ফেলা বন্ধে জনসচেতনতা তৈরি এবং সেপটিক ট্যাংক নির্মাণের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, রাজধানীর পানি মূলত পাম্প স্টেশন, স্লুইসগেট ও খালের মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমানে বেশ কয়েকটি পাম্প স্টেশন নষ্ট এবং একইভাবে স্লুইসগেটগুলোও অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অন্যদিকে খালগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক; এগুলো পানি প্রবাহের জন্য মোটেও উপযুক্ত নয়। অবৈধ দখলের পাশাপাশি নানা ধরনের বর্জ্য জমে খালগুলোতে তৈরি হয়েছে কয়েক স্তরের প্রতিবন্ধকতা।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার টন বর্জ্য উৎপাদিত হয়, যার মধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশই প্লাস্টিক বর্জ্য। এসব প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য সরাসরি ঢাকার ড্রেন, নালা আর খালে গিয়ে পড়ছে এবং সেখানে আটকে থেকে পানি নিষ্কাশনের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিচ্ছে। এর ওপর কিছু খাল এখনও অবৈধ দখলে রয়েছে, আর বাকি খালগুলো যেভাবে সংকুচিত করা হয়েছে, তা দিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ফলে বর্ষায় সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিতে নিমজ্জিত হচ্ছে রাজধানী ঢাকা।
এদিকে পাম্পিং স্টেশনের সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি বড় জটিলতা রয়েছে পানি নিষ্কাশনের শেষ স্তর অর্থাৎ ঢাকার চারপাশের নদনদীগুলোতে। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী নানা কারণে ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষায় এগুলো আর বেশি পানি ধারণ করতে পারছে না। নদীগুলোর নাব্যতা সংকটের কারণে বিগত বছরগুলোতেও স্লুইসগেট দিয়ে পানি নিষ্কাশন করা যায়নি। এবারও ঠিক একই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


নিউমার্কেটের দোকানি হাবিবুর রহমান বলেন, একটু বেশি বৃষ্টি হলেই প্রতিবার আমাদের দোকানগুলো ডুবে যায়। দোকানের মধ্যে হাঁটু সমান পানি জমে লাখ লাখ টাকার মালামাল নষ্ট হয়। বারবার সিটি কর্পোরেশনের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ জানিয়ে সমাধানের দাবি করলেও তারা কোনো স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে মনে হচ্ছে আমরা আবারও সেই একই ক্ষতির সম্মুখীন হবো। একটি রাজধানী শহরের প্রধান ও ঐতিহ্যবাহী নিউমার্কেটের দোকান যদি মালামালসহ বারবার এভাবে পানিতে ডুবে যায়, তাহলে শহরের অন্য এলাকার বর্ষার অবস্থা কী দাঁড়ায়, তা সবাই অনুমান করতে পারে। বছরের পর বছর ধরে এমনটা চললেও সিটি কর্পোরেশন আমাদের কোনো সমাধান দিতে পারছে না; আমরা বারবার কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হারাচ্ছি

আসন্ন বর্ষাকে সামনে রেখে মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি ও উদ্যোগের বাস্তব চিত্র জানতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিএসসিসির বর্তমান আয়তন ও ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী যেখানে অন্তত ১০টি পানি নিষ্কাশন পাম্পিং স্টেশন প্রয়োজন, সেখানে আছে মাত্র ৩টি। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই ৩টির মধ্যে আবার হাতিরঝিলের গুরুত্বপূর্ণ পাম্পিং স্টেশনটি বর্তমানে অকেজো বা নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে পর্যাপ্ত পাম্পিং সক্ষমতা না থাকায় এবারও বর্ষায় ঢাকার দক্ষিণ অংশে চরম জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) সূত্রে জানা গেছে, বর্ষার প্রস্তুতি হিসেবে ডিএনসিসি ইতোমধ্যে ২২১.৮৫ কিলোমিটার স্টর্ম ওয়াটার ড্রেন এবং ১.৫৪৭ কিলোমিটার বক্স কালভার্ট পরিষ্কার করেছে। পাশাপাশি নগরীর অবকাঠামোগত উন্নয়নে ১১০.৯৩ কিলোমিটার রাস্তা ও ১০৫.৮৯ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হয়েছে। ডিএনসিসির আওতাধীন ২৯টি খালের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৮ কিলোমিটার; যার মধ্যে বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ২৪ কিলোমিটার খাল পরিষ্কার ও খনন করা হয়েছে।
ডিএনসিসির প্রকৌশল বিভাগের একজন কর্মকর্তা তাদের সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে জানান, উত্তর সিটির অধীনে মোট ৫টি পাম্পিং স্টেশন রয়েছে, যার মধ্যে ৩টি বড় এবং ২টি ছোট আকারের। বর্তমানে এই পাম্পিং স্টেশনগুলোর কার্যক্ষমতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া কল্যাণপুর রিটেনশন পন্ড (জলাধার) থেকে প্রায় ১.১২ লাখ ঘনমিটার স্লাজ বা কাদা-বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে।


ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, আমাদের মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতির কাজ নিয়মিত চলছে। তবে সার্বিক বিষয়ে স্থায়ী সমাধানের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন এবং তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত জলাবদ্ধতা সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।
সম্ভাব্য জলাবদ্ধতার স্থানগুলো (হটস্পট) সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকার এয়ারপোর্ট রোড ও মিরপুরসহ যেসব এলাকায় বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতার তীব্র আশঙ্কা রয়েছে, সেসব অঞ্চলে ড্রেন ও খালের পানিপ্রবাহ শতভাগ সচল রাখা হবে। এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী এবং প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে

এই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজধানীর নিউমার্কেটের এক দোকানি হাবিবুর রহমান বলেন, একটু বেশি বৃষ্টি হলেই প্রতিবার আমাদের দোকানগুলো ডুবে যায়। দোকানের মধ্যে হাঁটু সমান পানি জমে লাখ লাখ টাকার মালামাল নষ্ট হয়। বারবার সিটি কর্পোরেশনের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ জানিয়ে সমাধানের দাবি করলেও তারা কোনো স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে মনে হচ্ছে আমরা আবারও সেই একই ক্ষতির সম্মুখীন হবো। একটি রাজধানী শহরের প্রধান ও ঐতিহ্যবাহী নিউমার্কেটের দোকান যদি মালামালসহ বারবার এভাবে পানিতে ডুবে যায়, তাহলে শহরের অন্য এলাকার বর্ষার অবস্থা কী দাঁড়ায়, তা সবাই অনুমান করতে পারে। বছরের পর বছর ধরে এমনটা চললেও সিটি কর্পোরেশন আমাদের কোনো সমাধান দিতে পারছে না; আমরা বারবার কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হারাচ্ছি।


একই ধরনের ক্ষোভ ও আশঙ্কা প্রকাশ করে মিরপুরের কাজীপাড়ার বাসিন্দা মাসুম আহমেদ রনি বলেন, বৃষ্টি হলেই যেন মিরপুরের এই এলাকাগুলো ডুবে যায়। এবারও নিশ্চিত করে বলা যায়, বর্ষা এলেই আমাদের এলাকা আবারও প্লাবিত হবে এবং হাঁটু পানি ভেঙে আমাদের চলাচল করতে হবে। প্রতি বছর যদি একই সমস্যা ফিরে আসে, তাহলে সিটি কর্পোরেশন কেন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে না? রাজধানীর কোথায় কোথায় জলাবদ্ধতা হয় তা আমরাসহ সংশ্লিষ্ট সবাই জানে, তার পরও কেন এর কোনো স্থায়ী সমাধান করছে না সিটি কর্পোরেশন?

গত ১৬ জুন জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, স্বল্পমেয়াদি কার্যক্রমের আওতায় বর্তমানে নর্দমা, বক্স-কালভার্ট ও খালসমূহ হতে পলি ও বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। ভারী বর্ষণের সময় জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলো থেকে পোর্টেবল পাম্পের মাধ্যমে এবং বিদ্যমান স্থায়ী পাম্প স্টেশনের সাহায্যে দ্রুত বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যাচপিট ও লোহার গ্রেটিংস স্থাপন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পানি প্রবাহের বাধা (ব্লকেজ) নিরসন এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠন করা হচ্ছে।
মধ্যমেয়াদি কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি বলেন, খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৪টি বৃহৎ খালের উন্নয়ন কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। এছাড়া জিয়া সরণি খাল ও শ্যামপুর খালের পানি নিকটবর্তী বুড়িগঙ্গা নদীতে নিষ্কাশনের জন্য নতুন আউটলেট নির্মাণের কাজ চলছে। একই সঙ্গে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে নতুন নর্দমা নির্মাণ এবং বিদ্যমান নর্দমা সংস্কার ও মেরামতের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।


সবশেষে দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রমের আওতায় গৃহীত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, জিয়া সরণি খাল, কাজলা খাল ও মৃধাবাড়ি খালসহ অন্যান্য খালের প্রায় ৫০ কিলোমিটার অংশ উন্নয়নের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ঢাকার দুই সিটির সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হওয়া অবহেলিত এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সড়ক উন্নয়নের মহাপরিকল্পনাও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।


ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুরবস্থা এবং যত্রতত্র ম্যানহোলে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণেই মূলত পানি নিষ্কাশনে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়। তবে আসন্ন বর্ষার প্রস্তুতি হিসেবে আগে থেকেই আমাদের সব ড্রেন ও নর্দমা পরিষ্কারের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে এই কার্যক্রম নিয়মিত তদারকিও করা হচ্ছে।


ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, সম্ভাব্য জলাবদ্ধতার স্থানগুলো (হটস্পট) সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকার এয়ারপোর্ট রোড ও মিরপুরসহ যেসব এলাকায় বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতার তীব্র আশঙ্কা রয়েছে, সেসব অঞ্চলে ড্রেন ও খালের পানিপ্রবাহ শতভাগ সচল রাখা হবে। এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী এবং প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার জলাবদ্ধতা সংকটের সার্বিক বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নগর পরিকল্পনাবিদ এবং ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, সমস্যা চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী কাজ করলে সমাধান মিলবে। অন্যথায় শুধু টাকা খরচই হবে, কোনো সুফল পাওয়া যাবে না। তাই জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি এবং ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনকে এটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে করতে হবে। কিন্তু ঢাকার জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে এখনও কোনো কাজ দৃশ্যমান নয়।
সান নিউজ/আরাফাত]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 21 Jun 2026 11:57:52 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[এক নজরে ২০ জুন: ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য অধ্যায়গুলো]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/115514" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/115514</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ইতিহাস কেবল অতীতের ঘটনাপঞ্জি নয়; এটি আমাদের চিন্তা, চেতনা ও প্রেরণার এক অনন্ত উৎস। যুগে যুগে বিশ্বের নানা প্রান্তে সংঘটিত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, জ্ঞানী-গুণীদের অবদান এবং স্মরণীয় অর্জন মানবসভ্যতার পথচলাকে করেছে সমৃদ্ধ। আজ শনিবার, ২০ জুন ২০২৬। বছরের এই দিনে জন্ম নিয়েছেন বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি, আবার অনেক গুণীজন পৃথিবী থেকে বিদায়ও নিয়েছেন। পাশাপাশি ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছে নানা তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ২০ জুনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি, জন্ম-মৃত্যুদিন এবং আজকের দিনের বিশেষ কিছু তথ্য।

ঘটনাবলিঃ

৬৩৮ - মসজিদ-এ নববীর প্রথম সম্প্রসারণ।
১৭০২ - মুহাম্মদ বিন কাশিম সিন্ধু প্রদেশের রওয়ার আক্রমণ করেন এবং রাজা দাহির নিহত হন।
১৭৫৬ - অন্ধকূপ হত্যা সংঘটিত হয়।
১৭৫৬ - নওয়াব সিরাজদ্দৌলার বাহিনী একটি ব্রিটিশ গ্যারিসনের সেনাদের একটি বদ্ধ ঘরে আবদ্ধ করে। সে ঘরে
১৪৬ জনের মধ্যে ১২৩ জন মারা যায়।
১৭৫৬ - ইংরেজদের কাছ থেকে নবাব সিরাজউদ্দৌলার কলকাতা পুনরুদ্ধার।
১৮৩৭ - রানি ভিক্টোরিয়ার সিংহাসনে আরোহণ।
১৮৫৮ - গোয়ালিয়র দুর্গ ব্রিটিশের দখলে গেলে সিপাহি বিদ্রোহের অবসান ঘটে।
১৮৭৫ - জাপান প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত ওকিনাওয়া দ্বীপ দখল করে।
১৯১২ - পোলান্ডের বিজ্ঞানী ড. কাসিমির ফুনক প্রথম ভিটামিন আবিষ্কার করতে সক্ষম হন।
১৯৪৭ - বঙ্গ আইন সভায় বাংলা ভাগের প্রস্তাব গৃহীত হয়।
১৯৭৬ - ইউরোপীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের মুকুট জয় করেছিল চেকোস্লোভিয়া।
১৯৮১ - ইরানের প্রখ্যাত চিন্তাবিদ ও মুজাহিদ কমান্ডার ড. মোস্তফা চামরান আগ্রাসী ইরাকি সেনাদের সঙ্গে যুদ্ধে মৃত্যুবরণ করেন।
১৯৯০ - ইরানের উত্তর ও উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিতি গিলান ও জানযন শহরে সাত দশমিক তিন মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৫০ হাজারেরও বেশি ইরানি প্রাণ হারান।
১৯৯১ - জার্মানির আইনসভায় রাজধানী বন থেকে বার্লিনে স্থানান্তরের ভোটগ্রহণ করা হয়।
১৯৯১ - পাকিস্তানি তরুণ প্রকৌশলী শাকিল হানাফি পৃথিবীতে সবচেয়ে হালকা বিমান প্রদর্শনের কৃতিত্ব অর্জন করেন।

জন্ম
১৮৬০ - জ্যাক ওরেল, অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও অস্ট্রেলীয় রুলস ফুটবলার।
১৮৬১ - ফ্রেডরিখ গোল্যান্ড হপকিন্স, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ইংরেজ প্রাণরসায়নবিদ।
১৯০৯ - লেখক ও রাজনীতিবিদ পূর্ণেন্দু দস্তিদার।
১৯১১ - সুফিয়া কামাল, বাংলাদেশের প্রথিতযশা কবি, লেখিকা, নারীবাদী ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
১৯১৭ - হেলেনা রাসিওয়া, পোলিশ গণিতবিদ।
১৯২৩ - প্রথিতযশা ভারতীয় বাঙালি সাংবাদিক ও সাহিত্যিক গৌরকিশোর ঘোষ।
১৯২৮ - মার্টিন ল্যান্ডাউ, একজন মার্কিন অভিনেতা, অভিনয়ের কোচ, প্রযোজক ও সম্পাদকীয় কার্টুনিস্ট।
১৯২৯ - অ্যান ওয়েয়ালে, ইংরেজ সাংবাদিক ও লেখক।
১৯৩১ - অলিম্পিয়া ডুকাকিস, গ্রিক মার্কিন অভিনেত্রী।
১৯৩৩ - ড্যানি আয়েলো, মার্কিন অভিনেতা।
১৯৩৯ - রমাকান্ত দেসাই, ভারতীয় ক্রিকেটার।
১৯৪৯ - লিওনেল রিচি, খ্যাতনামা মার্কিন সংগীতশিল্পী, গীতিকার, সুরকার, রেকর্ড প্রযোজক এবং অভিনেতা।
১৯৫০ - নুরি আল-মালিকি, ইরাকি রাজনীতিবিদ ও ৭৬তম প্রধানমন্ত্রী।
১৯৫৪ - অ্যালান ল্যাম্ব, দক্ষিণ আফ্রিকা-ইংলিশ ক্রিকেটার।
১৯৬৭ - নিকোল কিডম্যান, অস্ট্রেলীয় অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র প্রযোজক ও গায়িকা।
১৯৬৯ - পাওলো বেন্ট, পর্তুগিজ সাবেক ফুটবলার ও ম্যানেজার।
১৯৭১ - জোশ লুকাস, মার্কিন অভিনেতা ও প্রযোজক।
১৯৭২ - ভারতীয় অভিনেতা রাহুল খান্না।
১৯৭৮ - ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড, ইংলিশ ফুটবলার।
১৯৮৭ - আসমির বেগভিক, বসনীয় ফুটবলার।
১৯৮৯ - হাভিয়ের পাস্তোরে, আর্জেন্টিনার ফুটবলার।
১৯৯১ - কালিদু কুলিবালি, সেনেগালিজ ফুটবলার।

মৃত্যু
১৬৬০ - বিখ্যাত ইংরেজ লেখক ড্যানিয়েল ডিফো লন্ডন।
১৮২০ - ম্যানুয়েল বেলগ্রানো, আর্জেন্টিনার অর্থনীতিবিদ ও রাজনীতিবিদ।
১৮৭০ - জুল ডি গনকউরট, ফরাসি লেখক।
১৮৮৫ - সংস্কৃত ভাষার সুপণ্ডিত তারানাথ তর্কবাচস্পতি।
১৯০৬ - জন ক্লেটন অ্যাডামস, ইংরেজ চিত্রশিল্পী।
১৯৪৩ - দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, ভারতীয় বাঙালি অভিনেতা।
১৯৫০ - অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেটার কদ জেনিংস।
১৯৫৮ - কার্ট আল্ডের, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জার্মান রসায়নবিদ।
১৯৬৬ - জর্জ ল্যমেত্র্&zwnj;, বিখ্যাত বেলজীয় বিশ্বতত্ত্ববিদ।
১৯৮৭ - প্রাণিতত্ত্ববিদ ও পক্ষীবিশারদ সালিম আলি।
১৯৯৯ - ক্লিফটন ফাডিমান, মার্কিন লেখক।
২০০০ - চঞ্চল কুমার মজুমদার, শান্তিস্বরূপ ভটনাগর পুরস্কারে সম্মানিত ভারতীয় পদার্থবিজ্ঞানী। বসন্ত চৌধুরী, বাঙালি যুক্তিবাদী সুপণ্ডিত চলচ্চিত্রাভিনেতা।
২০০৫ - জ্যাক সেন্ট ক্লেয়ার কিলবি, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী।
২০১০ - রবার্টো রসাটো, ইতালীয় ফুটবলার।
২০১৩ - জন ডেভিড উইলসন, ইংরেজ অ্যানিমেটোর ও প্রযোজক।
২০২০ - কামাল লোহানী, বাংলাদেশি সাংবাদিক ও সাহিত্যজন, শিল্পকলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক।
সান নিউজ/আরাফাত]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 20 Jun 2026 07:07:29 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[মহররম মাসে জীবনের জন্য ৫ শিক্ষা]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/115511" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/115511</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[পবিত্র কুরআনে মহররমকে চারটি সম্মানিত মাসের অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।হাদিসে এ মাসকে &lsquo;শাহরুল্লাহ&rsquo; বা &lsquo;আল্লাহর মাস&rsquo; বলা হয়েছে, যা এর বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলতের প্রমাণ বহন করে।
মহররমের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আশুরার ঐতিহাসিক ঘটনা, কারবালার ত্যাগ, ধৈর্য, সত্যের প্রতি অবিচলতা এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাই এ মাস কেবল ইতিহাস স্মরণ করার সময় নয়; বরং নিজের জীবনকে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে নতুনভাবে গড়ে তোলারও এক অনন্য সুযোগ। মহররম আমাদের এমন কিছু শিক্ষা দেয়, যা একজন মুমিনের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক জীবনকে সমৃদ্ধ করতে পারে। সেসব গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পাঁচটি হলো:-

১. ধৈর্য, ত্যাগ ও সহনশীলতার অনুশীলন
মহররম আমাদের জীবনের কঠিন পরীক্ষাগুলো ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর ভরসার মাধ্যমে মোকাবিলা করতে শেখায়। মানুষের জীবন নানা পরীক্ষা ও সংকটে পরিপূর্ণ। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেই একজন মানুষের ঈমান, চরিত্র ও মানসিক দৃঢ়তার প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ পায়। কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনা এবং আশুরার স্মৃতিবিজড়িত ইতিহাস ধৈর্য, ত্যাগ ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সবকিছু বিসর্জন দেওয়ার উজ্জ্বল শিক্ষা বহন করে।

২. জুলুমের বিরুদ্ধে ন্যায়ভিত্তিক সচেতনতা
মহররম আমাদের অন্যায়, জুলুম ও অবিচারের বিরুদ্ধে সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার শিক্ষা দেয়। ইসলাম কখনো জুলুমকে সমর্থন করে না; বরং ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং অবিচারের বিরোধিতা করার নির্দেশ দেয়। কারবালার ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, অন্যায়ের সামনে নীরব থাকা একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। তবে ইসলামের শিক্ষা হলো, প্রতিবাদ হতে হবে জ্ঞান, প্রজ্ঞা, ধৈর্য এবং শরিয়তের নির্দেশনার আলোকে, যাতে তা বিশৃঙ্খলা, ফিতনা বা আরও বড় ক্ষতির কারণ না হয়।

৩. সত্য ও ন্যায়ের প্রশ্নে আপসহীন থাকার শিক্ষা
মহররমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করা। কারবালার ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে ত্যাগ, আদর্শ ও নৈতিক দৃঢ়তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। হজরত হোসাইন (রা.) এমন এক সময়ে সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, যখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা ছিল অত্যন্ত কঠিন। তিনি ক্ষমতা, নিরাপত্তা কিংবা পার্থিব স্বার্থের বিনিময়ে নিজের আদর্শ বিসর্জন দেননি। এ ঘটনা আমাদের শেখায়, একজন মুমিনের মর্যাদা সত্যকে ধারণ করা, ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো এবং আদর্শের প্রশ্নে কখনো আপস না করার মধ্যেই নিহিত।

৪. নতুন বছরের শুরুতে আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধি
মহররম একজন মুমিনকে নিজের জীবন নতুনভাবে মূল্যায়নের সুযোগ করে দেয়। একটি বছর শেষ হয়ে আরেকটি বছরের সূচনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে জীবন থেকে আরও একটি বছর কমে গেল এবং আমরা আখিরাতের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলাম। তাই এ সময় বিগত বছরের আমল, সফলতা ও ব্যর্থতার হিসাব নেওয়া, ভুল-ত্রুটির জন্য আল্লাহর কাছে তওবা করা এবং আগামী দিনগুলোকে আরও সুন্দর ও কল্যাণময় করে গড়ে তোলার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করা একজন সচেতন মুসলমানের দায়িত্ব।

৫.আল্লাহর নির্দেশের প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য
মহররম আমাদের শেখায়, আল্লাহর আদেশের প্রতি নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণই প্রকৃত ঈমানের পরিচয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ মাসকে &lsquo;শাহরুল্লাহ&rsquo; বা &lsquo;আল্লাহর মাস&rsquo; বলে অভিহিত করেছেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬৩)
যখন একজন মুমিন উপলব্ধি করেন যে আল্লাহ নিজেই এ মাসকে বিশেষ সম্মান দান করেছেন, তখন তাঁর অন্তরে এ মাসের প্রতি শ্রদ্ধা ও ইবাদতের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পায়। তাই মহররম আমাদের বেশি বেশি নফল রোজা, তওবা, ইস্তিগফার, জিকির এবং নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের আহ্বান জানায়।
সান নিউজ/ আরাফাত]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 20 Jun 2026 06:16:38 +0000</updated>
        </entry>
    </feed>
