<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<feed xmlns="http://www.w3.org/2005/Atom">
                        <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/feed/feature</id>
                                <link href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/feed/feature"></link>
                                <title><![CDATA[Sunnews feature Feed]]></title>
                                <description>Sunnews Latest feature News Feeds</description>
                                <language>bn-BD</language>
                                <updated>Thu, 22 Oct 2026 12:36:16 +0000</updated>
                        <entry>
            <title><![CDATA[ঘরেই তৈরি করুন রকমারি সুস্বাদু নিমকি]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/119140" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/119140</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বিজয়া দশমী মানেই রসগোল্লা, সন্দেশ আর হরেক রকমের মিষ্টির সমাহার। চন্দ্রপুলি, তিলের নাড়ু কিংবা নারকেলের ছাঁচে গড়া নাড়ুর মিষ্টি স্বাদে চারপাশ ম ম করলেও, আধুনিক যান্ত্রিকতায় ও ব্যস্ততার যুগে এখন আর ঘরে ঘরে সেই সাবেকিয়ানার খাটাখাটনি করার ফুরসত কারোরই নেই।

বাধ্য হয়েই বাজারের কেনা মিষ্টি দিয়ে সারতে হয় আপ্যায়ন। কিন্তু সারাদিন মিষ্টিমুখ করতে করতে অতিথিদের মুখ যখন কিছুটা অরুচিকর হয়ে ওঠে, ঠিক তখনই জিভ চায় একটু ভিন্ন কিছু&mdash;এক চিলতে নোনতার ছোঁয়া। দেবী বিসর্জন সম্পন্ন হলেও কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা পর্যন্ত বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়ের পালা চলতে থাকে। এসময়ে অতিথি আপ্যায়নে মিষ্টির একঘেয়েমি কাটাতে নোনতা পদের জুড়ি মেলা ভার।

বিজয়ার রকমারি মিষ্টির ভিড়ে অতিথিদের পাতে এমন মুচমুচে ও সুস্বাদু ঘরের তৈরি নিমকি পরিবেশন করলে আপ্যায়নে যেমন নতুনত্ব আসবে, তেমনি আড্ডার জাদুকরি আমেজও দ্বিগুণ হয়ে যাবে।

একসময় আমাদের দাদী-নানীদের হেঁশেলে দশমীর দিনে ঘরে ঘরে ভাজা হতো মুচমুচে কুচো নিমকি। যদিও বর্তমান সময়ে সেসবের ঠাঁই হয় মুদির দোকানের বয়ামে, তবুও নিজের হাতের ছোঁয়া আর ভালোবাসায় তৈরি নিমকির স্বাদই একেবারে আলাদা। একটুখানি সময় বের করে যদি ঘরেই তৈরি করে নেওয়া যায় বাহারি স্বাদের এই স্ন্যাক্স, তবে ছোট থেকে বড়&mdash;সব বয়সি অতিথিই বেশ তৃপ্তি পাবেন।

এককালীন পরিশ্রমে তৈরি এসব নিমকি দিয়ে জমিয়ে তুলতে পারেন আপনার এবারের বিজয়ার আড্ডা।

মেথি নিমকি: সুবাস ও স্বাদের মেলবন্ধন : টাটকা মেথিশাকের সুবাস নিমকিকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যায়। তবে শরৎকালের এই সময়ে টাটকা মেথিশাক পাওয়া মুশকিল হলে ভরসা রাখতে পারেন কসৌরি মেথির ওপর।

প্রথমে পরিমাণমতো ময়দায় স্বাদমতো লবণ এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে কসৌরি মেথি মিশিয়ে নিন। যদি টাটকা মেথিশাক পেয়ে যান, তবে তা মিহি করে কুচিয়ে ময়দা মাখার সময় ব্যবহার করতে হবে। এরপর সাদা তেল কিংবা খাঁটি ঘিয়ের ময়েন দিয়ে ভালো করে ঝুরঝুরে করে মেখে সামান্য কুসুম গরম জল দিয়ে আটা বা ময়দার মতো খামির তৈরি করুন।



 

ওপরে কিছুটা তেল বুলিয়ে একটি ভেজা কাপড় বা ঢাকনা দিয়ে ২০ মিনিট ঢেকে রাখুন। এরপর পছন্দমতো তিনকোনা বা কুচো আকারে কেটে ডুবো তেলে মচমচে করে ভেজে নিন। পুরোপুরি ঠান্ডা হওয়ার পর কাচের বৈয়ামে ভরে রাখলে অনায়াসেই মাসখানেক মুচমুচে থাকবে।

খাস্তা নিমকি: স্তরে স্তরে মুচমুচে খাস্তার জাদু : এই পদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর প্রতিটি স্তর বা পরত আলাদা হয়ে থাকে। একটু সময় সাপেক্ষ হলেও এর স্বাদ অতিথিদের মন জয় করতে বাধ্য।
ময়দার সঙ্গে লবণ, সামান্য বেকিং সোডা এবং সাদা তেলের ময়েন মিশিয়ে নরম করে মেখে নিন। মাখানো হয়ে গেলে তেল মাখিয়ে একটি পাত্রে কাপড় চাপা দিয়ে কুড়ি মিনিট রেখে দিন। এর ফাঁকে এক বাটি ঘি গলিয়ে ঠান্ডা করে তার মধ্যে দুই চামচ কর্নফ্লাওয়ার ভালো করে মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। মিশ্রণটি কিছুক্ষণ রাখলেই কিছুটা জমে যাবে।

এবার ময়দা থেকে লেচি কেটে তেল দিয়ে যতটা সম্ভব পাতলা করে তিনটি গোল রুটির মতো বেলে নিন। প্রতিটি রুটির ওপর তৈরি করা ঘি-কর্নফ্লাওয়ারের মিশ্রণ ভালো করে ব্রাশ করে কিছুটা ময়দা ছড়িয়ে দিন।

 



এভাবে একটির ওপর আরেকটি করে মোট তিনটি রুটি সাজিয়ে নিন। মাঝের স্তরগুলোতেও একই নিয়মে মিশ্রণ ও ময়দা দিতে হবে। সবশেষে রুটিগুলোকে চৌকো আকরে মুড়ে কিছু সময় রেখে দিয়ে হালকা বেলুন। এবার ছুরি দিয়ে বরফি বা আয়তাকার শেপে কেটে ডুবো তেলে ভেজে নিলেই তেলতেলে খাস্তা ভাব ফুটিয়ে প্রতিটি লেয়ার আলাদা হয়ে ফুলে উঠবে।

কামরাঙা নিমকি: দেখতে সুন্দর, খেতে চমৎকার : নলকূপের ঠান্ডা জল বা চায়ের কাপে চুমুক দেওয়ার ফাঁকে কামরাঙা আকৃতির এই পেঁচানো নিমকি দারুণ মানিয়ে যায়।
ময়দায় একটু বেশি পরিমাণ ঘিয়ে ময়েন, স্বাদমতো লবণ, সামান্য চিনি আর চিমটিখানেক বেকিং সোডা দিয়ে ভালো করে ময়ান দিয়ে নিন। তেল মাখিয়ে সেই ডো বা খামিরটি কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুন কুড়ি মিনিটের জন্য।



এরপর লেচি কেটে লুচির মতো পাতলা করে বেলে নিন। গোল সেই লুচির দুই পাশের পরিধি থেকে সামান্য জায়গা ফাঁক রেখে ছুরির মাথা দিয়ে সমান মাপে লম্বালম্বি ফালি করে কেটে নিন। এবার দুই প্রান্ত ধরে কায়দা করে মুড়ে নিতে হবে&mdash;প্রথমে একপাশ, তারপর অন্যপাশ।

দুই প্রান্ত ভাজ করার পর নিমকিটিকে হালকা হাতে টুইস্ট বা প্যাঁচ দিয়ে দিলেই হুবহু কামরাঙার রূপ ধারণ করবে। গরম ডুবো তেলে সোনালী রঙ করে ভেজে তুললেই তৈরি হয়ে যাবে দারুণ আকর্ষণীয় কামরাঙা নিমকি।

সান নিউজ / রাজীব]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 22 Oct 2026 12:36:16 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[মেঘের ডানায়, সবুজের সীমানায়]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/118742" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/118742</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[﻿চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একদিকে সুউচ্চ পাহাড়, অন্যদিকে সুবিশাল সমুদ্র। প্রকৃতির এমন উদারতা দেশের আর কোথাও সচরাচর চোখে পড়ে না।

ভ্রমণপিপাসুদের জন্য চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড যেমন আকর্ষণীয় তেমনই রোমাঞ্চকর। এ কারণেই পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষস্থানে আছে সীতাকুণ্ড। সেখানে গেলে পাহাড়, সমুদ্রসৈকত, মন্দির, ঝরনা, ট্রেইল, ট্রেকিং, ঝিরিপথ, কৃত্রিম লেক প্রকৃতির সব বিস্ময়কর রূপ উপভোগ করতে পারবেন। কর্মব্যস্ত জীবনে অনেকেই বেশ কয়েক দিন হাতে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার সময় পান না। এমন মানুষ ডে লং টুর বা এক দিনেই ভ্রমণের জন্য বিভিন্ন গন্তব্যের খোঁজ করেন। তাদের জন্য চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ভ্রমণ হতে পারে সেরা বিকল্প। জেনে নিন এক দিনেই সীতাকুণ্ডের কোন তিন স্থানে ভ্রমণ করতে পারবেন

 



চন্দ্রনাথ পাহাড়

পর্যটকদের জন্য রোমাঞ্চকর এক স্থান চন্দ্রনাথ পাহাড়। এই পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা ভিড় করেন। অনেকেই বিশাল এই পাহাড়ে উঠতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে নিচে নেমে যান। আবার অনেকেই পাহাড় জয় করার আনন্দ নিয়ে সেখান থেকে ফেরেন।

চট্টগ্রাম শহর থেকে ৩৭ কিলোমিটার উত্তরে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে সাড়ে ৩ কিলোমিটার পূর্বে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের অবস্থান। এর সর্বোচ্চ চূড়ার উচ্চতা ১১৫২ ফুট বা ৩৬৫ মিটার। চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায় আছে এক শিবমন্দির। তবে মন্দির দর্শনের জন্য আপনাকে পাড়ি দিতে হবে ২২০০টিরও বেশি সিঁড়ি। কোনো কোনো স্থানের সিঁড়িগুলো এতটাই পিচ্ছিল ও সংকীর্ণ যে, ওঠা বিপজ্জনক হতে পারে। আর বুঝতেই পারছেন, সামান্য এদিক-সেদিক হলে পা পিছলে পড়বেন পাহাড়ের খাদে।

১৫ মিনিট ওঠার পর একটি ছোট ঝরনা দেখতে পাবেন। যার দুই পাশে দুটি পথ, যা উঠে গেছে একদম পাহাড়ের চূড়ায়। বামপাশের পথ দিয়ে ওঠা সহজ। ডানপাশের পথ দিয়ে নামা সহজ। তাই বামপাশের পথ ধরে ওপরে উঠতে থাকুন। প্রায় দেড় ঘণ্টা আরোহণের পর চন্দ্রনাথমন্দির পৌঁছানোর আগে বিরুপাক্ষ নামের আরেকটি মন্দির পড়বে। চাইলে সেখানে কিছু সময় বিশ্রাম নিতে পারেন। সেখান থেকে সীতাকুণ্ড শহর ও সমুদ্রের এক অদ্ভুত দৃশ্য আপনি দেখতে পাবেন। এক দিনেই যদি আপনি আরও দুটি স্থান ভ্রমণ করতে চান, তাহলে সীতাকুণ্ড পৌঁছে নাশতা সেরে আগে চন্দ্রনাথ পাহাড় দর্শনে চলে যান। সকাল ৮টা নাগাদ সেখানে পৌঁছালে ১১টার মধ্যেই পাহাড় জয় করে ফিরতে পারবেন।

কীভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের বাসে গেলে সীতাকুণ্ড নামা যায়। চট্টগ্রাম শহরের অলঙ্কার মোড় থেকেও বাসে আসা যায়। জনপ্রতি ভাড়া ৩০-৪০ টাকা। সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়েও যেতে পারেন চট্টগ্রাম শহর থেকে। ভাড়া পড়বে ৩০০-৪০০ টাকা।



 

গুলিয়াখালী সি বিচ

প্রকৃতির অপার বিস্ময় লুকিয়ে আছে স্থানটিতে। সমুদ্রসৈকতের পাশে অনেকটা সোয়াম্প ফরেস্ট ও ম্যানগ্রোভ বনের মতো স্থানটি। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, সৈকত জুড়ে সবুজ গালিচা বিছানো। সমুদ্রপাড়ের এই মনোরম সৌন্দর্য বোধহয় অন্য কোথাও দেখতে পাবেন না! এ কারণেই গুলিয়াখালী সি বিচে হাজারো পর্যটক গিয়ে ভিড় জমায়। সবুজ গালিচা বিছানো ছোট ছোট গাছের টিলার মাঝখান দিয়ে এঁকেবেঁকে গেছে সরু নালা। এই নালাগুলো জোয়ারের সময় পানিতে ভরে ওঠে।

গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকত সীতাকুণ্ড বাজার থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সেখানকার বিস্তৃত জলরাশি আর কেওড়া বন আপনাকে মুগ্ধ করবে। যদিও গুলিয়াখালী সৈকতটি এখনও সরকারিভাবে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেনি। তবে প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটে সেখানে। প্রকৃতি ও গঠনগত দিক থেকে এটি অন্যান্য সমুদ্রসৈকত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সৈকতের পশ্চিমে দিগন্তজোড়া জলরাশি, পূর্বদিকে তাকালে দেখা মেলে পাহাড়ের। এলাকায় কেওড়া বন রয়েছে। কেওড়া বনের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের চারদিকে কেওড়াগাছের শ্বাসমূল দেখা যায়। এই বন সমুদ্রের অনেকটা গভীর পর্যন্ত চলে গেছে। এর পরিবেশ সোয়াম্প ফরেস্ট ও ম্যানগ্রোভ বনের মতো। সৈকত জুড়ে সবুজ গালিচার বিস্তীর্ণ ঘাস একে অন্যান্য সমুদ্রসৈকত থেকে করেছে অনন্য। এই সবুজের মাঝ দিয়ে এঁকেবেঁকে গেছে সরু নালা। নালাগুলো জোয়ারের সময় পানিতে ভরে ওঠে। পাখি, ঢেউ আর বাতাসের মিতালির অনন্য অবস্থান দেখা যায় এই সমুদ্রসৈকতে। সৈকতের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে চন্দ্রনাথ পাহাড় ও মন্দির, বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের সহস্রধারা ও সুপ্তধারা নামের দুটি ঝরনা রয়েছে।

যে ভাবে যেতে হবে

দেশের যেকোনো স্থান থেকে প্রথমে সীতাকুণ্ড শহরে যেতে হবে। ঢাকামুখী রাস্তার বাঁ পাশ দিয়ে একটু হেঁটে নিচে নামলেই সিএনজি পাবেন। জনপ্রতি ৩০ টাকা ভাড়া নেবে। আর রিজার্ভে যেতে চাইলে ১৫০-২৫০ টাকা।

বেড়িবাঁধ এসে সিএনজি আপনাকে নামিয়ে দেবে। সেখান থেকে হেঁটে গিয়ে নৌকা বাঁধা স্থানে যেতে হবে। সাগরের বুকে ঘুরতে চাইলে জেলেদের নৌকায় ভাসতে পারেন। সুলভ মূল্যেই ঘুরতে পারবেন। আবার চাইলে হেঁটেও সমুদ্র পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন। সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট লাগবে।


 

মহামায়া লেক

গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকত দর্শনের পর যত দ্রুত সম্ভব দুপুরের খাবার শেষ করে রওনা দিতে হবে মহামায়া লেকের উদ্দেশে। দেশের অন্যতম নবীন কৃত্রিম লেক হলো মহামায়া। ১৯৯৯ সালে মহামায়া খালের ওপর স্লুইসগেট স্থাপনের মাধ্যমেই এর সৃষ্টি।

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ৮ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়নের ঠাকুরদীঘির বাজার থেকে দুই কিলোমিটার পূর্বে পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে তোলা হয়েছে মহামায়া লেক। ১১ বর্গকিলোমিটার জায়গা জুড়ে এটি অবস্থিত। মূলত এটি একটি সেচ প্রকল্প। মহামায়া প্রকল্পে আছে লেক, পাহাড়, ঝরনা ও রাবার ডেম।

চট্টগ্রাম জেলা সদর থেকে ৬০ কিলোমিটার উত্তরে মিরসরাই উপজেলায় অবস্থান। একে চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বারও বলা যায়। মিরসরাইয়ের ঠাকুরদীঘির পাড়ের ঠিক উল্টো পাশের রাস্তা রাবার ডেম থেকে সিএনজিতে করে পৌঁছাতে হবে মহামায়া ইকোপার্কের গেটে। চাইলে হেঁটেও যেতে পারেন। সময় লাগবে ১৫ মিনিট।

গেট থেকে ইকোপার্কে প্রবেশের জন্য টিকিট কাটুন। ইকোপার্কে প্রবেশ করতেই চারদিকের সবুজের নিপোবনে নিজেকে আবিষ্কার করে এক স্বর্গীয় অনুভূতি অনুভব করবেন। এর আশপাশে মাঝারি উচ্চতার পাহাড়ের দেখা মিলবে। মাঝখান দিয়ে চলে গেছে মহামায়া লেকে যাওয়ার রাস্তাটি। মহামায়া লেক দর্শনের পর সন্ধ্যা হতেই ফেরার পথ ধরুন। আর যদি রাত কাটাতে চান তাহলে সীতাকুণ্ড শহরে গিয়ে পছন্দসই কোনো হোটেলের সন্ধান করুন।

সান নিউজ/হেনা]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 12 Oct 2026 12:19:03 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[পেশাগত মানসিক চাপ: আড়ালে ক্লান্তি আর ভাঙনের গল্প]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/118646" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/118646</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[পেশাগত দায়িত্বের চাপ, কর্মক্ষেত্রের প্রতিকূলতা, আর্থিক অনিশ্চয়তা কিংবা ব্যক্তিগত ও কর্মজীবনের ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে মানসিক চাপে পড়েন বিভিন্ন পেশার মানুষ। সাংবাদিককে সামলাতে হয়কাজের চাপ ও পেশাগত নানা প্রতিকূলতা, শিক্ষককে মোকাবিলা করতে হয় প্রশাসনিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপ, আর পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে হয় নানা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে। অথচ এসব পেশার মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কর্মক্ষেত্রে কতটা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞের বক্তব্যে উঠে এসেছে, পেশাগত চাপ মোকাবিলায় ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি প্রয়োজন কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ নিশ্চিত করা।

পেশাগত চাপে বিপর্যস্ত কর্মজীবন 

পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, পেশাগত চাপ সামলাতে গিয়ে কেউ যেন মানসিকভাবে ভেঙে না পড়েন, সে বিষয়ে আমাদের তাগিদ আছে। পুলিশের ওপর হামলার মতো ঘটনাও ঘটে। এসব পরিস্থিতিতে সদস্যদের মনোবল চাঙা রাখতে সিনিয়র অফিসাররা তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে পেশাগত মানসিক চাপ সামলানোর জন্য আমাদের আলাদা কোনও কাউন্সেলর বা এ ধরনের পেশাজীবীর ব্যবস্থা নেই। উন্নত দেশগুলোতে এ ধরনের ব্যবস্থা থাকলেও আমাদের দেশে এখনও তেমন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। এমনকি আমাদের হাসপাতালগুলোতেও এ ধরনের কোনও ব্যবস্থা নেই। বিষয়টি নিয়ে এখনও চিন্তাভাবনা চলছে।

মানসিক চাপ সামলানোর বিষয়ে পুলিশের সদস্যদের কাউন্সেলিং করা হয় কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য আমাদের কোনও মেডিক্যাল কনসালট্যান্ট বা এ ধরনের পেশাজীবীর সঙ্গে আলাদা কোনও ব্যবস্থা নেই। তবে সিনিয়র অফিসাররা সাধারণত কল্যাণসভা বা বিভিন্ন সভায় সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের মনোবল চাঙা রাখার চেষ্টা করেন। এ ধরনের উদ্যোগ আগে থেকেই রয়েছে। তবে তা ব্যক্তি অনুযায়ী ভিন্ন হয়। একজন কমান্ডার হয়তো সদস্যদের কল্যাণের বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেন এবং সে অনুযায়ী উদ্যোগ নেন। আবার কোনও কোনও জায়গায় এ বিষয়ে ততটা যত্নশীল না হওয়ার কারণে বিষয়গুলো উপেক্ষিতও থাকে। এ ক্ষেত্রে কমবেশি পার্থক্য রয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সব সময়ই সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করতে, তাদের সমস্যাগুলো শুনতে এবং কল্যাণসংক্রান্ত বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিতে বলা হয়।

সাবেক অধ্যক্ষ, শিক্ষাবিদ, শিশুসাহিত্যিক ও শিক্ষাবিষয়ক নিবন্ধকার মো. রহমত উল্লাহ্ বলেন, একসময় শিক্ষকতাকে খুবই আরামদায়ক পেশা হিসেবে মনে করা হতো। শিক্ষকদের ছুটি বেশি, কর্মঘণ্টা কম, আর্থিক সুবিধাও কম। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষকতা পেশা আগের মতো আরামদায়ক ও নিরাপদ নেই। বিশেষ করে, শিক্ষকদের মানসিক চাপ এখন অনেক বেশি। প্রথমত, জবাবদিহি আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষকদের এখন অনেক বেশি তথ্যসমৃদ্ধ ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানসম্পন্ন থাকতে হচ্ছে। তৃতীয়ত, প্রশাসনিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতা থেকে মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে। যারা কিছুটা স্বস্তিতে থাকবেন ভেবে শিক্ষকতা পেশায় এসেছেন, তারা আরও বেশি মানসিক চাপ অনুভব করছেন। নতুন করে যুক্ত হয়েছে সবচেয়ে বড় একটি চাপ&mdash;শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভয়ে তটস্থ থাকা। শিক্ষার্থীদের শাসন করা তো দূরের কথা, উপদেশ দেওয়ার পরিবেশও এখন অনেক ক্ষেত্রে প্রতিকূল হয়ে পড়েছে। প্রাণ খুলে শিক্ষকতা করার পরিবেশ না থাকা একজন শিক্ষকের জন্য কতটা মানসিক চাপের, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের জন্য আরেকটি বড় মানসিক চাপ হলো, যখন যে দলীয় সরকার ক্ষমতায় আসে, সেই সরকারের মতাদর্শ অনুসারে রচিত পাঠ্যবই পড়াতে হয়। ফলে পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীরা নিচের শ্রেণিতে থাকতে যে ইতিহাস পড়িয়েছেন, সেই শিক্ষার্থীরা ওপরের শ্রেণিতে ওঠার পর তাদেরই সম্পূর্ণ বিপরীত ইতিহাস পড়াতে বেশিরভাগ শিক্ষক এসব চাপ মোকাবিলায় তেমন কোনও কার্যকর কৌশল অনুসরণ করতে পারছেন না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যখন যেমন, তখন তেমন হয়ে নিজেকে চাপমুক্ত রাখার চেষ্টা করছেন। এটিও এক ধরনের চাপ। কেউ কেউ আপসকেও চাপ মোকাবিলার উপায় হিসেবে বেছে নিয়েছেন। শিক্ষকদের এসব চাপ থেকে মুক্ত করে স্বাচ্ছন্দ্যে পাঠদানের পরিবেশ তৈরি করা সুশিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শামছুদ্দিন মাসুদ বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। এখানে শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি মানসিক চাপকেও মোকাবিলা করতে হয়। একজন শিশুকে পড়াতে হলে আপনার আচরণেও শিশুসুলভ মনোভাব তৈরি করতে হয় তা না হলে মানসিক চাপে আপনি ভেঙে পড়বেন। এই বিষয়ে বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পিটি আইগুলোতেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে। তবে এত প্রশিক্ষণ সত্ত্বেও অনেকেই এই চাপ শেষ পর্যন্ত সহ্য করতে পারেন না এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাংবাদিক বলেন, কর্মক্ষেত্রে সাংবাদিকদের অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। এসব চ্যালেঞ্জের কারণে অনেক সংবাদকর্মী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হতে পারেন। যেমন- একজন সাংবাদিককে অনুসন্ধানী বা বিশেষ প্রতিবেদন করতে হলে, সেটি সম্পন্ন না করা পর্যন্ত তার মধ্যে এক ধরনের মানসিক চাপ কাজ করে। আবার অনেক সময় নিজের নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরেও তাকে বিভিন্ন কাজ করতে হয়। এটিও মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আরেকটি বিষয় হলো, আমাদের দেশের অনেক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঠিকমতো বেতন দেওয়া হয় না। কোথাও বেতন দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে না, আবার অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকেরা তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী পারিশ্রমিক পান না। এ কারণে পরিবার-পরিজনকে নিয়ে তাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়। এ ছাড়া সাংবাদিকেরা অনেক সময় বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনকে ঠিকমতো সময় দিতে পারেন না। এমনকি পরিবারের কোনও সদস্য বা আত্মীয়স্বজন মারা গেলেও অনেক সময় তাদের পক্ষে সেখানে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

আবার সহকর্মীদের আচরণও অনেক সময় মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কোনও কোনও সহকর্মী অন্যের ভালো কাজ সহ্য করতে পারেন না। সহকর্মীদের এমন আচরণের কারণেও একজন সাংবাদিক মানসিক চাপে পড়েন। সবশেষে বলবো রাজনৈতিক কারণেও একজন সাংবাদিককে অনেক সময় দ্বিধা বা সংকোচের মধ্যে পড়তে হয়। তার চিন্তাভাবনা ও কাজের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হতে পারে। ভিন্নমতাবলম্বী সহকর্মীরা অনেক সময় তার ক্ষতি করার চেষ্টা করেন এবং বিভিন্নভাবে তাকে ছোট করার চেষ্টা করেন। আমার কাছে এগুলোই সাংবাদিকদের মানসিক চাপের অন্যতম কারণ বলে মনে হচ্ছে।

মানসিক চাপের কারণে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মানসিক চাপের মধ্যে থাকলে একটা সময় একজন মানুষ তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেন না। তার মধ্যে কর্মস্পৃহা ও উদ্যম কমে যায়। একপর্যায়ে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন এবং মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে যেতে পারেন। আবার এসব কারণে অনেক সাংবাদিক তার পেশা থেকে ছিটকে পড়েন কিংবা পছন্দের পেশা ত্যাগ করেন।

আমাদের দেশে বেশিরভাগ মিডিয়া হাউজে কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে কাউন্সিলিংয়ের কোনও ব্যবস্থা নেই। দুই একটি প্রতিষ্ঠান এটা করলেও করতে পারে। অথচ এটা একজন সাংবাদিকের জন্য অনেক জরুরি। শুধু সাংবাদিক বললে ভুল হবে এ ধরনের পেশার সবার জন্যই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করা জরুরি।

কর্মক্ষেত্রে কেন প্রয়োজন মানসিক স্বাস্থ্যসেবা

পেশাগত জীবনের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট রাউফুন নাহার বলেন, মানুষের জীবনের যেকোনও পর্যায়েই মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন হতে পারে। তাই সব বয়সেই মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব রয়েছে। এ কারণে সন্তানকে কীভাবে বড় করতে হবে, তার মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন কীভাবে নিতে হবে এবং তার বিকাশ কীভাবে নিশ্চিত করতে হবে&mdash;এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া জরুরি। উন্নত বিশ্বের স্কুলগুলোতে স্কুলে সাইকোলজিস্ট থাকেন। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়েও মনোবিজ্ঞানী থাকেন। একইভাবে, কেউ যখন পেশাগত জীবনে প্রবেশ করেন, তখন তার মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় একজন মানুষকে একদিকে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে হয়, অন্যদিকে পরিবারের সদস্য, মা-বাবা ও সন্তানদের দেখাশোনা করতে হয়। ফলে একসঙ্গে অনেক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে তার ওপর মানসিক চাপ বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সহায়তা দরকার হতে পারে। কিছু পেশায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও কাউন্সেলিংয়ের প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে বেশি। যেমন- ফ্রন্টলাইন ফাইটার বা সম্মুখসারিতে থেকে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিরা, যারা বিভিন্ন ধরনের আঘাতজনিত বা সংকটপূর্ণ ঘটনার মুখোমুখি হন। সাংবাদিক, চিকিৎসক, অগ্নিনির্বাপণকর্মী ও পুলিশ সদস্যরা এ ধরনের পেশার অন্তর্ভুক্ত। এসব পেশায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে আমরা সুপারিশ করি।

এ ছাড়া আমার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কিছু ব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় তাদের কর্মীদের জন্য স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট বা মানসিক চাপ মোকাবিলার বিষয়ে কর্মশালার আয়োজন করে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় কোনও বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক বা অন্য প্রতিষ্ঠান যদি নিজস্ব মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দল রাখার সামর্থ্য না-ও রাখে, তারপরও অন্তত দুই মাস পরপর দলগত কর্মশালার আয়োজন করতে পারে। এতে পেশাজীবীদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হবে। কাউন্সেলিং বা এ ধরনের কর্মশালা অনেকটা আয়নার মতো কাজ করে। কাউন্সেলিং বা কর্মশালার মাধ্যমে মানুষ নিজের শক্তিশালী দিক ও সীমাবদ্ধতাগুলো বুঝতে পারেন। তার জীবনে কোন বিষয়গুলো চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে এবং কোন বিষয়গুলো তাকে শক্তি জোগাচ্ছে। একই সঙ্গে নিজের সহ্যক্ষমতা সম্পর্কেও ধারণা পেতে পারেন। তাই আমি মনে করি, কোনও না কোনোভাবে পেশাজীবীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা থাকা উচিত। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য এ ধরনের সেবা নিশ্চিত করা অসম্ভব কিছু নয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান অনেক সাংবাদিক নিয়োগ দেয়। সেখানে একজন মনোবিজ্ঞানী বা কাউন্সেলর নিয়োগ করা খুব বেশি ব্যয়বহুল কিছু নয়।

কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যে নজর দেওয়া জরুরি

রাউফুন নাহার বলেন, গার্মেন্টস কারখানা থেকে শুরু করে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানসহ সব ধরনের কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হলে তা উভয়পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে। একজন মানুষ মানসিকভাবে যত সুস্থ থাকবেন, তার কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা তত বেশি থাকবে। এটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ইতিবাচক। অন্যদিকে, কর্মীরা মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। এর ফলে কর্মীদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের একটি দায়বদ্ধতাপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হবে এবং নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের মধ্যে সম্পর্ক আরও ভালো হবে।

মানসিক চাপমুক্ত থাকতে করণীয় কী

কর্মজীবনে মানসিক চাপ মুক্ত থাকা নিয়ে রাউফুন নাহার বলেন, যারা কর্মজীবনে রয়েছেন, তাদের সবার আগে নিজের সুস্থতার দিকে নজর দেওয়া জরুরি। কারণ, প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে মানুষের ওপর অনেক দায়িত্ব থাকে। একই সঙ্গে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কাজের ধরন ও প্রত্যাশাও কঠিন হয়ে উঠছে। প্রযুক্তির কারণে কর্মক্ষেত্রের প্রত্যাশা এখন আর সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

তিনি আরও বলেন, কোনও প্রতিষ্ঠান যদি একজন কর্মীর কাছে ২৪ ঘণ্টাই কাজের জন্য প্রস্তুত থাকার প্রত্যাশা করে, তাহলে ওই কর্মীর পক্ষে দীর্ঘদিন মানসম্মত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে না। এ বিষয়টি কর্মীদের যেমন বুঝতে হবে, তেমনি নিয়োগকর্তাদেরও উপলব্ধি করতে হবে। এ পরিস্থিতি সামলানোর জন্য কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে সুস্থ সীমারেখা তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে হলে কাজের ক্ষেত্রে একটি সীমা নির্ধারণ করতে হবে।

সান নিউজ/ হেনা]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 10 Oct 2026 10:48:28 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[পাহাড়ের বুকে আঁকাবাঁকা রাস্তার রহস্য]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/118573" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/118573</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[দূর পাহাড়ে তাকালেই চোখে পড়ে সাপের মতো কুণ্ডলী পাকিয়ে ওপরে উঠে যাওয়া রাস্তা। কখনো মেঘে ঢাকা চূড়ার দিকে সোজা ছুটে গেছে পথ, আবার পরক্ষণেই তীব্র বাঁক নিয়ে হারিয়ে গেছে অন্য প্রান্তে। সমতলের সোজা হাইওয়ে-এর সঙ্গে অভ্যস্ত চোখে এই আঁকাবাঁকা পথ দেখলে মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে&mdash;কেন এমন অদ্ভুত নকশা করা হয়? ইচ্ছে করেই কি তবে ঘুরিয়ে পথ দীর্ঘ করা হয়?

উত্তরটা লুকিয়ে আছে নিখুঁত প্রকৌশলবিদ্যা, পদার্থবিজ্ঞান এবং বাস্তবতার নির্মম কিছু নিয়মের মধ্যে। পাহাড়ি রাস্তায় প্রতিটি বাঁক বা পাক খাওয়ার পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ ও গভীর বৈজ্ঞানিক যুক্তি।

ঢাল সামলানোর নিপুণ কৌশল
পাহাড়ের বুকে রাস্তা বানানোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এর খাড়া ঢাল। কোনো পাহাড়ে যদি একদম লম্বালম্বি বা সোজা রাস্তা বানিয়ে দেওয়া হয়, তবে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির বিরুদ্ধে সেই চড়াই পার হওয়া যেকোনো যানের জন্যই এক অসম্ভব পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।

গাড়ি তো বটেই, সাধারণ মানুষের পক্ষেও হাঁটা কঠিন হয়ে পড়বে। এই সমস্যার সমাধান করেন প্রকৌশলীরা। তাঁরা রাস্তার পথকে কৃত্রিমভাবে লম্বা করে দেন এবং একের পর এক বাঁক তৈরি করেন। এতে গাড়ির চলাচলের ঢাল বা গ্রেডিয়েন্ট সহনীয় মাত্রায় নেমে আসে এবং সহজে ওপরে ওঠা সম্ভব হয়।

প্রাকৃতিক ভূপ্রকৃতির সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক
সব জায়গায় মাটি কেটে পাহাড় সমান করে ফেলা সম্ভব নয়। পাহাড় মানেই বিশালাকার পাথর, গভীর খাদ, নদী বা ঝরনা। পরিবেশের ওপর অতিরিক্ত আঘাত না এনে প্রকৃতির স্বাভাবিক গঠনকে বজায় রেখেই মূলত পথ তৈরি করতে হয়।

জোর করে পাহাড়ের বুক চিরে সোজা রাস্তা বানাতে গেলে যেমন প্রকৃতির রূপ নষ্ট হয়, তেমনি তা বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যকেও ধ্বংস করে দিতে পারে। তাই পাহাড়ের ভৌগোলিক গঠন মেনেই রাস্তাগুলো এমন আঁকাবাঁকা আকার নেয়।

গতি নিয়ন্ত্রণ ও দুর্ঘটনা এড়ানোর হাতিয়ার
দীর্ঘ সোজা রাস্তায় চালকেরা প্রায়শই বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাতে পছন্দ করেন, যা সমতলে একরকম হলেও পাহাড়ে মারাত্মক বিপদের কারণ হতে পারে। পাহাড়ি রাস্তায় বারবার তীব্র বাঁক থাকার কারণে চালক বাধ্য হন গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে।

ব্রেক ফেল করার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে এই বাঁকগুলো অনেক সময় প্রাকৃতিক গতিরোধক হিসেবে কাজ করে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করে।

ভূমিধস ও অতিরিক্ত ব্যয় রোধে সতর্কতা
সোজা রাস্তা মানেই দূরত্ব কম&mdash;এই হিসাব সমতলে খাটলেও পাহাড়ে তা উল্টো বিপদের কারণ হতে পারে। পাহাড় কেটে সোজা রাস্তা বানাতে গেলে বিশাল অংশ কেটে ফেলতে হয়। এর ফলে পাহাড়ি মাটির ভিত দুর্বল হয়ে যায় এবং বর্ষাকালে বা সামান্য ভূকম্পনে মারাত্মক ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়।

তা ছাড়া, মাত্রাতিরিক্ত পাহাড় কাটা মানে নির্মাণকাজের খরচ বহুগুণ বেড়ে যাওয়া। তাই পরিবেশগত নিরাপত্তা এবং আর্থিক ব্যয়ের কথা চিন্তা করেই প্রকৌশলীরা আঁকাবাঁকা পথকেই নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বেছে নেন।

প্রকৃতির প্রতিকূলতা জয় করতে গিয়ে মানুষ যে পথ তৈরি করেছে, তার প্রতিটি বাঁকই যেন বিজ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তার এক একটি নীরব সাক্ষী। তাই পাহাড়ি পথের ওই অদ্ভুত বাঁকগুলোকে আর ভুল মনে হবে না; বরং বুঝতে হবে, আমাদের নিরাপদ যাত্রার জন্যই পাহাড়ের বুকে এই সুনিপুণ প্রকৌশল গড়ে তোলা হয়েছে।

সান নিউজ / রাজীব]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 08 Oct 2026 11:44:57 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[পাঁচ দশক পেরিয়েও অপ্রতিরোধ্য এফ-১৬]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/international/118568" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/international/118568</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[প্রথম আকাশে ওড়ার দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় পার হলেও কিংবদন্তি যুদ্ধবিমান এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকনের অগ্রযাত্রা থামেনি। ১৯৭৪ সালে প্রথম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন করা এই ফাইটার জেটটি সম্প্রতি প্রযুক্তির উৎকর্ষে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। মরক্কোর বিমানবাহিনীর জন্য নির্মিত দুই আসনের সর্বাধুনিক সংস্করণ &lsquo;ব্লক ৭২&rsquo; গত ৬ অক্টোবর প্রথমবারের মতো সফলভাবে আকাশে ওড়ে। দক্ষিণ ক্যারোলিনার গ্রিনভিলে লকহিড মার্টিনের কারখানায় তৈরি এই যুদ্ধবিমানটি এখন ফ্লাইট টেস্ট বা উড্ডয়ন পরীক্ষার ধাপে প্রবেশ করেছে এবং ২০২৭ সাল থেকে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মরক্কোর সঙ্গে হওয়া ২৫টি নতুন যুদ্ধবিমানের চুক্তির পাশাপাশি তাদের পুরোনো ব্লক ৫২ বিমানগুলোকেও এই সংস্করণে আধুনিকায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রযুক্তির শীর্ষ ছোঁয়া: ব্লক ৭২-এর অসাধারণ বৈশিষ্ট্য
নতুন ব্লক ৭২ সংস্করণটিকে এখন পর্যন্ত তৈরি করা সবচেয়ে উন্নত এফ-১৬ কনফিগারেশন হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এতে যুক্ত করা হয়েছে সর্বাধুনিক অ্যাভিওনিক্স, অত্যাধুনিক এএন/এপিজি-৮৩ এএসিএসএ রাডার এবং ভাইপার শিল্ড ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুট। শক্তিশালী এই রাডার ব্যবহারের ফলে পাইলট অনেক দূর থেকে শত্রুর লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে পারেন এবং নিখুঁত তথ্য পেতে সক্ষম হন। এছাড়া ভাইপার শিল্ড সিস্টেমটি যেকোনো শত্রুর রাডার ও ইলেকট্রনিক হুমকি নিমিষেই প্রতিহত করতে পারে। ইঞ্জিনের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ বৈচিত্র্য; এই সংস্করণে প্র্যাট অ্যান্ড হুইনির শক্তিশালী ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে, যা বিভিন্ন দেশের সামরিক চাহিদা মেলাতে দারুণ কার্যকর।

ভিয়েতনাম যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে এফ-১৬-এর জন্ম
এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের পেছনের ইতিহাসটি জড়িয়ে আছে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়ের বাস্তব কিছু অভিজ্ঞতার সঙ্গে। সে সময় মার্কিন বিমানবাহিনীর পাইলটরা অনুধাবন করেছিলেন যে, শুধু ভারী ও বিশাল যুদ্ধবিমান দিয়ে আকাশযুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা সম্ভব নয়। এই প্রেক্ষাপটেই মার্কিন বিমানবাহিনীর কর্নেল জন বয়েড গণিতবিদ থমাস ক্রিস্টির সঙ্গে যৌথভাবে &lsquo;এনার্জি-ম্যানুভারেবিলিটি থিওরি&rsquo; বা শক্তি-কৌশল তত্ত্ব তৈরি করেন। তাদের মূল ভাবনা ছিল&mdash;ভবিষ্যতের যুদ্ধবিমান হতে হবে আকারে ছোট, হালকা এবং অত্যন্ত দ্রুত দিক ও গতি পরিবর্তনক্ষম, যার থ্রাস্ট-টু-ওয়েট রেশিও হবে অনেক বেশি। ভিয়েতনাম যুদ্ধের রক্তক্ষয়ী অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়া সেই পরিকল্পনা পরবর্তীতে এফ-১৬-এর নকশার মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

ফাইটার মাফিয়া ও ঐতিহাসিক নকশা দর্শন
১৯৬০-এর দশকের শেষভাগে কর্নেল বয়েডের চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দিতে এগিয়ে আসেন একদল প্রতিরক্ষা সংস্কারক, যারা পরবর্তীতে &lsquo;ফাইটার মাফিয়া&rsquo; নামে পরিচিত হন। ১৯৬৯ সালে পেন্টাগন থেকে অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত হওয়ার পর জেনারেল ডায়নামিক্স এবং নর্থরপ কোম্পানি এই বিশেষ তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে যুদ্ধবিমানের নকশা নিয়ে কাজ শুরু করে। বিমানটির ডিজাইন এমনভাবে করা হয়েছিল যাতে এটি প্রচলিত কাঠামোর বাইরে গিয়ে অসাধারণ ম্যানুভারেবিলিটি বা চটপটে গতি নিশ্চিত করতে পারে। গত পাঁচ দশক ধরে এই মূল ডিজাইনটিকে ঘষামাজা করেই আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একের পর এক উন্নত সংস্করণ তৈরি করা হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে আকাশ শাসন ও স্থায়ী প্রাসঙ্গিকতা
এফ-১৬-এর দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের সবচেয়ে বড় প্রমাণ মেলে এর আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তায়। আমেরিকার বাইরে বর্তমানে ২৬টি দেশের বিমানবাহিনী এই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে। ২০২৬ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ফিক্সড-উইং সামরিক বিমান, যার প্রায় ২ হাজার ১০২টি যুদ্ধবিমান এখনও সক্রিয়ভাবে আকাশে পাহারায় রয়েছে। বিশ্বজুড়ে মোট সক্রিয় কমব্যাট এয়ারক্রাফ্টের প্রায় ১৫ শতাংশই এই পরিবারের অন্তর্গত। স্টেলথ প্রযুক্তি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগেও হালকা ওজন, সহজে আধুনিকায়নযোগ্য এয়ারফ্রেম এবং দুর্দান্ত অভিযোজন ক্ষমতার কারণে এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন আজও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য যুদ্ধবিমান হিসেবে নিজের অবস্থান অটুট রেখেছে।

সান নিউজ / রাজীব]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 08 Oct 2026 10:20:44 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[পাহাড়ের বুকেও ফুটল ফুল]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/118172" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/118172</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[রুক্ষ পাহাড় আর শুষ্ক মরুদ্যানের পরিচিতি ভেঙে তুষারাবৃত লাদাখ এবার সেজে উঠেছে রঙের আবিরে। উচ্চতার অহংকার ভেঙে এই দুর্গম ভূখণ্ডে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হয়েছে ১৫ হাজার প্রিমিয়াম মানের &lsquo;এ-গ্রেড&rsquo; লিলিয়াম ফুল। সম্প্রতি লেহ বিমানবন্দর থেকে বিশেষ আকাশপথে এই প্রথম ভারতের দিল্লি, মুম্বাই ও চণ্ডীগড়ের প্রধান ফুল বাজারে পাঠানো হলো লাদাখের উৎপাদিত এই প্রথম চালানটি। লাল, গোলাপি, সাদা, হলুদ ও কমলার নানা রঙে রাঙানো এই ফুলগুলোর তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো সেলফ লাইফ বা স্থায়িত্ব রয়েছে প্রায় পাঁচ থেকে সাত দিন পর্যন্ত। বিশ্বের সর্বোচ্চ ফুলের ক্ষেত হিসেবে পরিচিত লাদাখের এই উদ্যোগ কেবল একটি কৃষি সাফল্যই নয়, বরং স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় এক নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে।

এই যুগান্তকারী সাফল্যের পেছনের পুরো কৃতিত্বটাই মূলত ১৫ জন স্থানীয় অদম্য নারীর। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ হাজার ৬০০ ফুট উঁচুতে চৌগলামসার নামের এক শান্ত ছোট শহরে তারা অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছেন। যেখানে সাধারণ মানুষ গাছপালা জন্মানোর কথাই ভাবতে পারত না, সেখানে এই নারীদের নিরলস পরিশ্রমে উৎপাদিত হয়েছে শীর্ষ মানের এই লিলিয়ামগুলো। প্রতিদিন ৯০০ টাকা মজুরিতে কাজ করা এই নারীরা শুধু ফুল চাষেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; সঠিক সময়ে ফসল তোলা থেকে শুরু করে বাছাই করা, গ্রেডিং করা এবং সুদূর শহরের দীর্ঘ যাত্রার জন্য নিখুঁতভাবে প্যাকেট করার মতো কঠিন কাজগুলোও তারা অত্যন্ত দক্ষ হাতে সামলেছেন। তাদের সঙ্গে এই পুরো যাত্রায় ছায়ার মতো পাশে ছিলেন এক স্থানীয় উদ্ভিদবিদ, যিনি শহুরে বড় ফুল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এই গ্রামীণ উচ্চাল্পীয় কৃষির একটি চমৎকার মেলবন্ধন তৈরি করতে বড় ভূমিকা রেখেছেন।

লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর বিনাই কুমার সাক্সেনা এই ঐতিহাসিক অর্জন সম্পর্কে বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে উল্লেখ করেন যে, চিরকাল রুক্ষ পাহাড় আর ধূসর প্রান্তরের জন্য পরিচিত লাদাখের দৃশ্যপটে এই বাণিজ্যিক ফুল চাষ এক বিশাল বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। কোটি কোটি রঙিন লিলিয়ামের উপস্থিতি এই শুষ্ক পরিবেশে যে প্রাণের ছোঁয়া এনেছে, তা যেন এক জীবন্ত রূপকথা। এখানকার প্রতিটি ফোটা ফুল মানুষের অসম্ভব মানসিক শক্তি ও টিকে থাকার লড়াইয়ের নীরব সাক্ষী, যা প্রমাণ করে যে কঠোরতম পরিবেশেও প্রাণের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা সম্ভব। এই পরীক্ষামূলক চাষের অভাবনীয় সাফল্য লাদাখের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি ইকো-টুরিজম বা পরিবেশবান্ধব পর্যটনেও এক বিরাট বিপ্লব ঘটাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই প্রথম চালানের অভাবনীয় সফলতায় দারুণ উৎসাহিত হয়ে আঞ্চলিক প্রশাসন এখন আরও বড় পরিসরে এগোার পরিকল্পনা করছে। লাদাখের অন্যান্য জেলায় বাণিজ্যিক ফুল চাষের উপযোগী নতুন জমি চিহ্নিতকরণের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। আগামী এক বছরের মধ্যে অন্তত ২০০ একর জমিতে ফুল চাষের এক বিশাল ও উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিয়েছে প্রশাসন। পাহাড়ের বুকে ডানা মেলে দেওয়া এই নতুন স্বপ্ন একদিন পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক ভাগ্য বদলে দেবে&mdash;এমনটাই এখন দৃঢ় বিশ্বাস সবার।

সান নিউজ/রাজীব]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 30 Sep 2026 08:50:31 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[১৯২৭ -২০২৭: গৌরীপুর পৌরসভা]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/117852" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/117852</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ব্রিটিশ আমলে ১৯২৭ সালের পহেলা জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌরসভা তার বর্ণাঢ্য ইতিহাসের প্রায় এক শতাব্দী পূর্ণ করতে চলেছে। ময়মনসিংহ জেলার অন্যতম প্রাচীন ও &#39;ক&#39; শ্রেণির এই পৌরসভাটি কেবল একটি প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং উত্তর-পূর্ব বাংলার জমিদারী ঐতিহ্য, রাজনীতি এবং সংস্কৃতির এক জীবন্ত দলিল। ঐতিহাসিক দলিল ও সরকারি নথিপত্র ঘেঁটে জানা যায়, ১৮৭৮ সালে মুক্তাগাছা পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর গৌরীপুর উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ১২টি জমিদারবাড়ির মধ্যে গৌরীপুর রাজবাড়ি এস্টেটের উদ্যোগেই প্রথম এখানে একটি পৌরসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে এই প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ, ১৯২৭ সালের ১ জানুয়ারি গৌরীপুর এস্টেটের নামানুসারে আনুষ্ঠানিকভাবে গৌরীপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৭৮ সালে মুক্তাগাছা পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর&mdash;অথবা তারও আগে&mdash;রামগোপালপুর, ভবানীপুর, গোলকপুর, কালীপুর, কৃষ্ণপুর, বোকাইনগর কিংবা ভালুকা এস্টেটের মতো গৌরীপুর উপজেলার অন্যান্য জমিদাররা পৃথক পৌরসভা গঠনের আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নিলেও তা শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন কারণে ব্যর্থ হয়েছিল। মূলত গৌরীপুর অঞ্চলে বিভিন্ন জমিদারদের ভিন্ন ভিন্ন নামে এস্টেট থাকায় তাদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও অনৈক্যের কারণেই সেই উদ্যোগগুলো ভেস্তে গিয়েছিল।

পরবর্তীতে মোমেনসিং পরগণার গৌরীপুর এস্টেটের জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী এই জমিদারবাড়ির আশপাশে একটি পৌরসভা স্থাপনের প্রস্তাব করেন। অন্যান্য এস্টেটের জমিদাররা এতে তীব্র আপত্তি জানালেও তৎকালীন ইংরেজ শাসকরা শেষ পর্যন্ত গৌরীপুর এস্টেট এলাকাতেই &#39;গৌরীপুর পৌরসভা&#39; পত্তন করেন। স্বাভাবিকভাবেই, গৌরীপুর এস্টেটের নামানুসারেই এই পৌরসভার নাম রাখা হয় &#39;গৌরীপুর পৌরসভা&#39; এবং বর্তমান পৌরসভার ভিতরে ৮টি জমিদারবাড়ির এলাকা নিয়ে সমগ্র অঞ্চলটি পরিচিত লাভ করে &#39;গৌরীপুর টাউন&#39; হিসেবে। তবে ইতিহাসের ধারা বিশ্লেষণ করলে বেশ কিছু সম্ভাব্য কারণ সামনে আসে, যার ফলে গৌরীপুরে পৌরসভা প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াটি অপেক্ষাকৃত দেরিতে (১৯২৭ সালে) সম্পন্ন হয়েছিল।

এক সময়ে বালুয়া নদীর তীরে গড়ে ওঠেছিল শতবর্ষী গৌরীপুর পৌরসভাঃ

১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত গৌরীপুর পৌরসভা বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন পৌরসভাগুলোর একটি। আশির দশক পর্যন্ত ময়মনসিংহ জেলায় যে মাত্র তিনটি পৌরসভা ছিল, গৌরীপুর পৌরসভা ছিল তাদের মধ্যে একটি। শতবর্ষের এই পৌরসভার বিকাশের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে এককালের খরস্রোতা বালুয়া নদী। ঐতিহাসিক সূত্র ও প্রাচীন মানচিত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, নদীটি গৌরীপুর নগরাঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, জনবসতি, বাণিজ্য এবং জমিদারি প্রশাসনের বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। সময়ের পরিক্রমায় এবং প্রকৃতির টানে সেই বালুয়া নদীর স্রোত আজ হারিয়ে গেছে; বর্তমানে যার স্মৃতি বহন করছে কিছু বিচ্ছিন্ন খাল, বিল আর নিচু ভূমি। নদীকেন্দ্রিক সভ্যতা থেকে আধুনিক নগরে রূপান্তরিত হওয়ার এই দীর্ঘ পথপরিক্রমা গৌরীপুরের ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়। এক সময়ে বালুয়া নদী দুটি শাখায় বিভক্ত ছিল। এর একটি শাখা গৌরীপুর এস্টেট এবং কালীপুর এস্টেটের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পাটবাজার ও মাঝিপাড়া ঘেঁষে পূর্বদিকে ভালকি নদীর সঙ্গে মিলিত হতো। সময়ের প্রবাহে নদীটির এই অংশ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গেছে; বর্তমানে এর চিহ্ন কেবল বিচ্ছিন্ন খাল, বিল ও নিম্নভূমিতে টিকে আছে।

অন্য শাখাটি কৃষ্ণপুর এস্টেট&mdash;যেখানে বর্তমানে গৌরীপুর সরকারি কলেজ অবস্থিত&mdash;এবং গোলকপুর এস্টেটের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পূর্বদিকে ভালকি নদীতে গিয়ে মিশত। নদীটির এই অংশ এখন আর পূর্ণাঙ্গ নদী নয়; বরং একটি বড় খালের রূপ ধারণ করেছে, যা অতীতের নদীপথের স্মৃতি বহন করছে। রেনেলের মানচিত্রে ভালুকা নদীর চিহ্নটি দেখা যায়। গবেষকদের মতে, বালুয়া নদীর বিলুপ্তি শুধু একটি নদীর হারিয়ে যাওয়া নয়; এটি গৌরীপুরের প্রাকৃতিক পরিবেশ, জলপ্রবাহ, নগরায়ণ এবং ঐতিহাসিক ভূপ্রকৃতিরও বড় ধরনের পরিবর্তনের সাক্ষ্য বহন করে। ফলে গৌরীপুর পৌরসভার শতবর্ষের ইতিহাস অনুধাবনের ক্ষেত্রে বালুয়া নদীর অতীত অবস্থান, প্রবাহপথ এবং বিলুপ্তির কারণ নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা ও সংরক্ষণ উদ্যোগ সময়ের দাবি।

একটি ঐতিহাসিক পর্যালোচনা: গৌরীপুর ও রামগোপালপুর&mdash;দুই জমিদারির সমান্তরাল ইতিহাস ও বৈষম্যের নেপথ্য কারণ

বাংলার ঔপনিবেশিক প্রশাসনিক ইতিহাসে ডাকঘর, টেলিগ্রাফ, থানা, আদালত এবং পৌরসভা ছিল কোনো জনপদের গুরুত্ব নির্ধারণের মূল সূচক। উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে বৃহত্তর ময়মনসিংহের যেসব স্থানে ডাক ও টেলিগ্রাফ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, ব্রিটিশ সরকার সেগুলোকে প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করত।

ঐতিহাসিক শ্রীকেদারনাথ মজুমদার তাঁর &quot;ময়মনসিংহের ইতিহাস&quot; এবং &quot;ময়মনসিংহের বিবরণ&quot; গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ১৮৭৯&ndash;৮০ সাল পর্যন্ত বৃহত্তর ময়মনসিংহে মোট ৫৪টি ডাকঘর ছিল। পরবর্তী সময়ে এ অঞ্চলে ৩টি প্রধান ডাকঘর, ৪৬টি সাব-ডাকঘর এবং ১৪৭টি শাখা ডাকঘর প্রতিষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে ১৯০৭ সাল নাগাদ বৃহত্তর ময়মনসিংহের ৩২টি ডাকঘরে টেলিগ্রাফ সেবা চালু ছিল। এসবের মধ্যে ময়মনসিংহ, গৌরীপুর, রামগোপালপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, আঠারবাড়ী, মুক্তাগাছা, নেত্রকোণা, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ, শেরপুর, টাঙ্গাইল, সরিষাবাড়ী ও কেন্দুয়া বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

এই তথ্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, গৌরীপুর ও রামগোপালপুর উভয়ই ঔপনিবেশিক প্রশাসনের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। এসব উদাহরণ দেখায় যে, ডাক ও টেলিগ্রাফ সুবিধা সাধারণত প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনায় প্রতিষ্ঠা করা হতো। ফলে গৌরীপুর জমিদারবাড়ি এবং রামগোপালপুর জমিদারবাড়ির প্রভাব, সম্পদ ও প্রশাসনিক গুরুত্ব যে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ছিল, তা ঐতিহাসিক তথ্য থেকেই প্রতীয়মান হয়। ঐতিহাসিক দলিল অনুযায়ী, মোমেনসিং পরগণার নেত্রকোণায় ১৮৮৭ সালে পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। এর আগে জাফরশাহী পরগণার জামালপুরে ১৮৬৯ সালে পৌরসভা গঠিত হয়েছিল। অন্যদিকে মোমেনসিং পরগণার ঈশ্বরগঞ্জে ১৮৮০ সালে চৌকি আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীকালে একই স্থানে থানায় প্রতিষ্ঠিত হয় । এসব ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করে যে, ঔপনিবেশিক সরকার প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলোর উন্নয়নে ধাপে ধাপে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। মোমেনসিং পরগণা ও জাফরশাহী পরগণার মালিক ছিলেন গৌরীপুর উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ১২টি জমিদারবাড়ির সকল জমিদারগণ। তবে ১৯১২&ndash;১৮ সালের দিকে গৌরীপুর জংশন রেলওয়ে স্টেশন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই দৃশ্যপট দ্রুত বদলাতে শুরু করে। এই রেললাইন ও জংশনের কারণে গৌরীপুর একটি প্রধান যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হয় এবং এর পরিধি ও গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এর বিপরীতে বর্তমান সময়ে রামগোপালপুর কেবল একটি ইউনিয়ন হিসেবে টিকে থাকলেও, ঐতিহাসিকভাবে গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনের সুবাদেই গৌরীপুর শহর হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করে।

এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট গৌরীপুর ও রামগোপালপুরের ইতিহাসকে নতুনভাবে পর্যালোচনার দাবি রাখে। এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি সামনে আসে&mdash;যদি গৌরীপুর ও রামগোপালপুর জমিদারি প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও যোগাযোগের দিক থেকে প্রায় সমমর্যাদাসম্পন্ন হয়ে থাকে, তবে ১৯২৭ সালে গৌরীপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হলেও রামগোপালপুরে কেন একই ধরনের পৌর প্রশাসন গড়ে ওঠেনি?

 

গৌরীপুর পৌরসভার নামকরণের ইতিহাস আজও রহস্যে ঘেরাঃ

গৌরীপুর পৌরসভার নামকরণের ইতিহাস নিয়ে আজও গবেষকদের মধ্যে নানা মত ও আলোচনা রয়েছে। বাংলা ১১৭৬ বঙ্গাব্দ ও ইংরেজি ১৭৭০ সালে মোমেনসিং ও জাফরশাহী পরগণার জায়গীরদার এবং গৌরীপুরের বারেন্দ্র ব্রাহ্মণ জমিদার বংশের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীকৃষ্ণ চৌধুরীর পুত্র কৃষ্ণগোপালের দত্তক পুত্র ও নবাব সিরাজউদ্দৌলার সহধর্মিণী আলেয়া (যিনি হীরা বা মাধুবী নামেও পরিচিত ছিলেন) এর গর্ভে জন্ম নেওয়া পুত্র সন্তান এবং পলাশীর যুদ্ধের পর তার মামা মোহনলালের আশ্রয়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহের জামালপুর জেলার জাফরশাহীর কৃষ্ণপুর জমিদারবাড়িতে হিন্দু সমাজে লালিত-পালিত যুগলকিশোর রায় চৌধুরী, মোমেনসিং পরগণার এজমালি সম্পত্তি থেকে তৎকালীন মোমেনসিং পরগণার একটি বৃহৎ অংশ নিয়ে প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে বোকাইনগরের কাছে গৌরীপুর নামক শহর বা বন্দর এবং গৌরীপুর এস্টেট নামে একটি রাজবাড়ির গোড়াপত্তন করেন। গৌরীপুর প্রতিষ্ঠার পূর্বে এ অঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক জনপদ ছিল বোকাইনগর। ময়মনসিংহের গৌরীপুর আজ একটি ঐতিহ্যবাহী উপজেলা, পৌরসভা ও গুরুত্বপূর্ণ রেল জংশন। এই জনপদের ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গৌরীপুর রাজপরিবার এবং এর প্রতিষ্ঠাতা জমিদার যুগল কিশোর রায় চৌধুরী।

গৌরীপুর নামকরণের ইতিহাস: প্রচলিত তথ্য নাকি ইতিহাসের বিভ্রান্তি?

প্রায় আড়াইশ বছরের ইতিহাস বহনকারী গৌরীপুর আজ ময়মনসিংহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পৌর শহর। এই শহরের নামে একটি উপজেলা, একটি পৌরসভা এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে জংশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয় হলো&mdash;&quot;গৌরীপুর&quot; নামটির প্রকৃত উৎস সম্পর্কে আজও ঐতিহাসিকভাবে সর্বসম্মত ও নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

সরকারি ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন প্রচলিত সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে, জমিদার শ্রীকৃষ্ণ চৌধুরীর কন্যা &quot;গৌরী&quot;-এর নামানুসারে এ জনপদের নাম &quot;গৌরীপুর&quot; রাখা হয়েছিল। কিন্তু এই দাবির পক্ষে প্রাথমিক ঐতিহাসিক দলিল বা সমসাময়িক কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সাধারণত উপস্থাপিত হয় না। অন্যদিকে, আরেকটি প্রচলিত মত হলো, হিন্দু ধর্মের দেবী গৌরীর নাম থেকেই &quot;গৌরীপুর&quot; নামের উৎপত্তি। কিন্তু এ দাবির পক্ষেও এখন পর্যন্ত কোনো সমসাময়িক জমিদারি দলিল, প্রশাসনিক নথি কিংবা প্রামাণ্য ইতিহাসগ্রন্থে সুস্পষ্ট সাক্ষ্য পাওয়া যায়নি। এখানেই বিষয়টি নতুনভাবে পর্যালোচনার দাবি রাখে। &quot;গৌরীপুর&quot; নামের উৎপত্তির সুস্পষ্ট ইতিহাস তুলে ধরার লক্ষ্যে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে অবস্থিত ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি অ্যান্ড লাইব্রেরি এবং দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর পেন অ্যাওয়ার্ড অ্যাফেয়ার্স নামে সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। ইতিহাসের অজানা অধ্যায় উন্মোচনের উদ্দেশ্যে সংগঠনগুলো অপ্রকাশিত তথ্য, জনশ্রুতি, প্রবীণ মানুষের স্মৃতিচারণ, ঝরে পড়া ইতিহাস, প্রাচীন দুর্লভ দলিল এবং মানচিত্র সংগ্রহ ও গবেষণার মাধ্যমে ইতিহাসকে হালনাগাদ করার কাজ পরিচালনা করছে। প্রামাণ্য দলিল হিসেবে এসিক এসোসিয়েশন ও ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় প্রতিবছর প্রকাশিত হয় আঞ্চলিক তথ্যবহুল স্বনামধন্য ম্যাগাজিন &lsquo;পেন অ্যাওয়ার্ড অ্যাফেয়ার্স&rsquo;। এ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত প্রায় আড়াইশ বছর আগের রেনেলের মানচিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তৎকালীন মোমেনসিং পরগণার অন্তর্গত বর্তমান গৌরীপুর উপজেলার দিকে তাকালে বোকাইনগর, সরিষাহাটি, বাশাটি ইত্যাদি নামে প্রাচীন জনপদ বা প্রসিদ্ধ স্থান হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। তখন গৌরীপুর নামটি উল্লেখ নেই যা এটি সদ্য প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে &#39;বোকাইনগর&#39; গৌরীপুর উপজেলার একটি ইউনিয়নের নাম। সরিষাহাটি ও বাশাটি দু&#39;টি গ্রামের নাম।

রামগোপালপুর জমিদার পরিবারের সদস্য ও ইতিহাসবিদ শৌরীন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী তাঁর ১৯১১ সালে প্রকাশিত &quot;ময়মনসিংহের বারেন্দ্র ব্রাহ্মণ জমিদার&quot; গ্রন্থে শ্রীকৃষ্ণ চৌধুরীর বংশলতিকা বিস্তারিতভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন। সেখানে শ্রীকৃষ্ণ চৌধুরীর কন্যাদের তালিকায় &quot;গৌরী দেবী&quot; নামে কোনো কন্যার উল্লেখ পাওয়া যায় না। ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে&mdash;যদি শ্রীকৃষ্ণ চৌধুরীর &quot;গৌরী&quot; নামে কোনো কন্যাই না থাকেন, তবে তাঁর কন্যার নামানুসারে গৌরীপুরের নামকরণের যে প্রচলিত ব্যাখ্যা দীর্ঘদিন ধরে প্রচারিত হয়ে আসছে, তার ঐতিহাসিক ভিত্তি কোথায়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে শুধু প্রচলিত বক্তব্য নয়, বরং জমিদারি বংশলতিকা, ব্রিটিশ প্রশাসনিক রেকর্ড, ভূমি-সংক্রান্ত নথি, প্রাচীন মানচিত্র এবং সমসাময়িক ঐতিহাসিক দলিলসমূহের সমন্বিত বিশ্লেষণ প্রয়োজন। গৌরীপুর নামকরণের প্রকৃত ইতিহাস উদ্ঘাটনের জন্য নতুন গবেষণার কাজ কয়েক বছর ধরে হয়েছিল। এদিকে স্থানীয় ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করা কয়েকজন গবেষক সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ঐতিহাসিক চিত্র তুলে ধরছেন। তাঁদের মতে, ১৭৭০ সালের দিকে তৎকালীন মোমেনসিং পরগণার অর্ধেক অংশ নিয়ে একটি নতুন প্রশাসনিক শহরের প্রতিষ্ঠা করা হয়, যার নাম দেওয়া হয় গৌরীপুর। এই নতুন শহরের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুগলকিশোর রায় চৌধুরীর নাম জড়িয়ে আছে বলে তাঁরা দাবি করেন। ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, বাংলা ১১৭৬ (খ্রিস্টাব্দ ১৭৭০) সালে মোমেনসিং পরগণার এজমালি সম্পত্তির একটি অংশে বালুয়া নদীর উত্তর পাড়ে যুগল কিশোর রায় চৌধুরী গৌরীপুর এস্টেট বা রাজপরিবারের ভিত্তি স্থাপন করেন। পরবর্তীকালে এই এস্টেটকে ঘিরেই গড়ে ওঠে গৌরীপুর শহর, যা ক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র ও প্রশাসনিক জনপদে পরিণত হয়। ১৯১৭ সালে প্রকাশিত Bengal District Gazetteers: Mymensingh-এফ. এ. স্যাকসি (F. A. Sachse) ১৫৬ নম্বর পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন যে: &ldquo;Of Jugal Kishor Roy Chowdhury, the founder of the Gouripur Family, Mr. Wroughton wrote thus in his report of 1788.&rdquo; এই উদ্ধৃতি থেকে স্পষ্ট হয় যে, ১৭৮৮ সালের প্রশাসনিক প্রতিবেদনে যুগল কিশোর রায় চৌধুরীকে গৌরীপুর

লেখক: সাংবাদিক, শিক্ষক, গবেষক ও ইতিহাস সন্ধানী]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 09 Sep 2026 05:43:51 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[পিরোজপুরে ৪৮০ কিমি সড়ক প্রকল্পে কাজ ছাড়াই ৯১ কোটি টাকা! ]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/bangladesh/117498" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/bangladesh/117498</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[পিরোজপুরের গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য নেওয়া ৬০০ কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্পে গুরুতর অনিয়ম ও আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় ৩১টি স্কিমে কোনো দৃশ্যমান কাজ না করেই প্রায় ৯০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ভ্যাট ও আয়কর বাদ দিলে আত্মসাতের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৭৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

পিরোজপুরের সাত উপজেলায় প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা পাকা করার লক্ষ্যে ২০২১ সালে প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। সদর, নাজিরপুর, নেছারাবাদ, ভান্ডারিয়া, কাউখালী, ইন্দুরকানি ও মঠবাড়িয়া উপজেলার দুর্গম এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করাই ছিল প্রকল্পটির প্রধান উদ্দেশ্য। প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ ছিল ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত।

তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা এবং সরকারি নথিতে দেখানো অগ্রগতির মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য পাওয়া গেছে বলে আইএমইডির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রকল্পে মোট ২১৩টি প্যাকেজের মধ্যে বেশ কয়েকটির কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। আবার ৩২টি প্যাকেজের অগ্রগতি শূন্য বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরেজমিনে কয়েকটি প্রকল্প এলাকা ঘুরে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিপিপিতে রাস্তা ও কালভার্ট নির্মাণের কথা থাকলেও বাস্তবে সেসব কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

ভান্ডারিয়া মহিলা কলেজ থেকে পূর্ব ভান্ডারিয়া মন্ত্রিবাড়ি রোড হয়ে খন্দকার বাড়ি সড়কে রাস্তা ও তিনটি আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণের কথা ছিল। কিন্তু মাঠে নির্মাণকাজের দৃশ্যমান কোনো চিহ্ন না থাকলেও ওই প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে।

একইভাবে শ্রীপুর শিকদার হাট থেকে শ্রীপুর বলগার ব্রিজ সড়ক পর্যন্ত রাস্তা ও একাধিক কালভার্ট নির্মাণের কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট এলাকা এখনও কাঁচা বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই কাজের বিপরীতেও প্রায় ৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।

মাটিভাঙ্গা-কাঠালিয়া সীমান্ত সড়কসহ আরও কয়েকটি প্রকল্পে রাস্তা ও কালভার্ট নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে কাজের অস্তিত্ব না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কোথাও সামান্য নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা হলেও পরবর্তীতে কাজ এগোয়নি। এসব প্রকল্পের বিপরীতেও কোটি কোটি টাকা পরিশোধের তথ্য প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

আইএমইডির প্রতিবেদনে প্রকল্পের আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতির হিসাব নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত প্রায় ৪৪১ কোটি টাকা ব্যয় দেখিয়ে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ৭৭.৭৭ শতাংশ দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু ভুয়া প্যাকেজে অর্থ উত্তোলন ও প্রকৃত কাজের তুলনায় অতিরিক্ত বিল পরিশোধের অভিযোগ থাকায় এই অগ্রগতির হিসাব কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

প্রকল্পের ৪৭টি প্যাকেজে বাস্তব কাজের তুলনায় ৩ থেকে ৪ গুণ পর্যন্ত বেশি বিল পরিশোধের অভিযোগও এসেছে। এসব অনিয়মের আর্থিক পরিমাণ পুরোপুরি নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকল্পের অর্থ ছাড় ও বিল পরিশোধের প্রক্রিয়াতেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের মেজারমেন্ট বুক ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়াই জেলা পর্যায় থেকে বিল অনুমোদনের অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ছাড়াই বিল প্রক্রিয়াকরণের অভিযোগ তদন্তে এসেছে। বিষয়টি বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অডিট আপত্তিতেও প্রকল্পটির বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের আর্থিক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে মোট ১২৮ কোটি ৫২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি ও অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে অনুমোদিত ডিপিপির বাইরে অতিরিক্ত বরাদ্দ, বিধিবহির্ভূত ব্যয়, ভুয়া বিল এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

প্রকল্পের নামে অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ থাকলেও অনেক এলাকার রাস্তার অবস্থা আগের মতোই নাজুক বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, বর্ষায় কাঁচা সড়ক কাদায় পরিণত হওয়ায় মানুষের চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও ভোগান্তি পোহাতে হয়।

স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের আওতায় রাস্তা ও কালভার্ট নির্মাণের কথা থাকলেও দীর্ঘ সময়েও কাজ হয়নি। কোথাও সামান্য খোয়া বা ইট ফেলে কাজ শুরুর নমুনা তৈরি করা হলেও পরবর্তীতে আর কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

নথিপত্র পর্যালোচনায় প্রকল্প পরিচালকের পদে একাধিকবার পরিবর্তনের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২১ সালে প্রকল্প অনুমোদনের পর কয়েকজন কর্মকর্তা পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের আমলে বড় অঙ্কের অর্থ ছাড় ও ব্যয় হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট সাবেক কর্মকর্তাদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, মাঠপর্যায়ের বিল প্রস্তুত ও কাজের তদারকির দায়িত্ব মূলত সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী কার্যালয়ের। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই কীভাবে অর্থ ছাড় হয়েছে, সেটিও তদন্তের বিষয় বলে তারা জানিয়েছেন।

পিরোজপুরের বিভিন্ন এলজিইডি প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে দুদক একাধিক মামলা করেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এসব মামলায় সাবেক জনপ্রতিনিধি, প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। মামলাগুলো তদন্তাধীন এবং তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা ও দায় নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

দুর্নীতি ও আইনি জটিলতার কারণে বন্ধ থাকা উন্নয়নকাজ পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অসমাপ্ত কাজের বর্তমান অবস্থা যাচাই করে নতুন প্রাক্কলন তৈরি এবং প্রয়োজন হলে নতুন দরপত্রের মাধ্যমে কাজ শেষ করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রকল্পের কাজ শেষ করলেই হবে না; সরকারি অর্থ কোথায়, কীভাবে এবং কার অনুমোদনে ব্যয় হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন। কাজ না করে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রকল্পে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Fri, 14 Aug 2026 09:17:28 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[সোনালি আঁশ ঘিরে মাঠে কর্মচাঞ্চল্য, ভালো দামের অপেক্ষায় কৃষক]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/117304" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/117304</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ভোরের আলো ফুটতেই কাস্তে হাতে মাঠে ছুটছেন মাদারীপুর জেলার ৫টি উপজেলার কৃষকেরা। কেউ গোড়া থেকে পাট কাটছেন, কেউ আঁটি বাঁধছেন। আবার কেউ কাটা পাট কাঁধে করে নিয়ে যাচ্ছেন পাশের খাল, ডোবা কিংবা জলাশয়ে। পানিতে সারি সারি পাটের আঁটি&mdash;সব মিলিয়ে মাদারীপুরের গ্রামাঞ্চলে এখন সোনালি আঁশ ঘরে তোলার ব্যস্ততা।

জেলার শিবচর, কালকিনি, রাজৈর, ডাসার ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠে পাট কাটতে দেখা গেছে কৃষকদের। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে পাট কাটা, বহন ও জাগ দেওয়ার কাজ। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি দিনমজুররাও যুক্ত হয়েছেন এ কাজে। ফলে পাট কাটার মৌসুমকে ঘিরে গ্রামীণ জনপদে বেড়েছে কর্মচাঞ্চল্য।

মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের বাহেরচর কাতলা গ্রামের কৃষক আলমগীর বাদশা জানান, কয়েক মাসের পরিচর্যার পর এখন পাট কাটার সময় এসেছে। জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, কীটনাশক, আগাছা পরিষ্কার ও সেচসহ বিভিন্ন কাজে তাদের বেশ টাকা খরচ হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে শ্রমিকের মজুরি। তাই ভালো ফলন পাওয়ার পরও বাজারদর নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না।

শিবচর উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের পাটচাষি আজমল গোমস্তা বলেন, &ldquo;এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু চাষে খরচও কম হয়নি। পাট কাটা ও জাগ দেওয়ার জন্য আলাদা শ্রমিক লাগছে। বাজারে ভালো দাম না পেলে লাভ থাকবে না।&rdquo;

অপর কৃষক হামিদ খান বলেন, ভালো মানের আঁশ পেতে জাগ দেওয়ার জন্য উপযুক্ত পানি ও সময় দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ বছর কোথাও কোথাও অতিরিক্ত পানি আবার কোথাও প্রয়োজনীয় পানির অভাব কৃষকদের ভোগান্তিতে ফেলছে। নিচু জমির কৃষকেরা দ্রুত পাট কেটে ফেলছেন। কারণ অতিরিক্ত পানিতে দীর্ঘদিন পাটগাছ ডুবে থাকলে গাছ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আঁশের মানও কমে যেতে পারে।

কালকিনির উপজেলার সাহেবরামপুর ইউনিয়নের কৃষক আনিছ সরদারের ভাষ্য, &ldquo;পাট কেটে এখন জাগ দিতে হবে। পানির ব্যবস্থা আছে বলে সুবিধা হচ্ছে। কিন্তু সব জায়গায় এমন নয়। পাটের ভালো দাম পেলে পরিশ্রমটা সার্থক হবে।&rdquo;

কৃষকদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা এখন বাজারদর ঘিরে। স্থানীয় বাজারে পাটের দর নির্ধারণে মৌসুমের শুরুতে নানা ধরনের ওঠানামা দেখা যায়। কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন খরচ বাড়লেও তারা সব সময় তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দাম পান না। মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে অনেক সময় কৃষকের কাঙ্ক্ষিত দামও পাওয়া যায় না।

রাজৈরের এক পাটচাষি বলেন, &ldquo;পাট বিক্রির সময় যেন ন্যায্য দাম পাই, সেটাই আমাদের চাওয়া। সরাসরি বাজারে বিক্রির সুযোগ থাকলে কৃষক বেশি লাভবান হবেন।&rdquo;

মাদারীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়,চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরে মাদারীপুর জেলার ৫টি উপজেলায় ৩৬ হাহার ৯শ২৫ হেক্টর জমিতে লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ৩৭ হাজার ৫৬ হেক্টর জমিতে। লক্ষ মাত্রার চেয়ে বেশি চাষ হওয়ায় ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের চোখে মুখে আনন্দের ছায়া ফুটে উঠেছে। বর্তমানে পাটে উৎপাদনে ব্যপক সম্ভাবনা থাকায় মাদারীপুরের মাঠে এখন সেই সম্ভাবনারই ছবি । কৃষকের ঘাম আর শ্রমে ধীরে ধীরে ঘরে উঠছে সোনালি আঁশ।

কৃষকের প্রত্যাশা, উৎপাদন খরচ বিবেচনায় পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে। আর কয়েক মাসের এই কঠোর পরিশ্রম শেষে পাট বিক্রির টাকায় স্বস্তি ফিরবে কৃষকের সংসারে।

সান নিউজ/ জামান]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 10 Aug 2026 10:45:59 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[হাজার কোটি টাকার প্রকল্পেও পানি সংকটে খুলনাবাসী    ]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/117191" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/117191</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[খুলনা শহরের দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনের লক্ষ্যে প্রায় ২ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্প (ফেজ-১)। প্রকল্পটি চালুর সময় প্রতিদিন ১১ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে সেই লক্ষ্যের অনেকটাই অপূর্ণ থেকে গেছে। বরং প্রকল্প চালুর কয়েক বছরের মধ্যেই কারিগরি ত্রুটি, যন্ত্রপাতি বিকল হওয়া এবং পানি অপচয়ের মতো একাধিক সমস্যা সামনে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে প্রকল্পের সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম পানি উৎপাদন হচ্ছে। ফলে নগরীর বহু এলাকায় নিয়মিত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। অনেক বাসিন্দা এখনো টিউবওয়েল বা বিকল্প পানির উৎসের ওপর নির্ভরশীল।

যেভাবে বাস্তবায়ন হয়েছিল প্রকল্প

খুলনা ওয়াসা ২০১১ সালে প্রকল্পটি হাতে নেয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বাগেরহাটের মধুমতি নদী থেকে পানি এনে পরিশোধনের মাধ্যমে নগরবাসীর কাছে সরবরাহ করা।

এই প্রকল্পের আওতায় নদী থেকে পানি সংগ্রহের ব্যবস্থা, আধুনিক পানি শোধনাগার, বড় ধারণক্ষমতার জলাধার, ৩৪ কিলোমিটারের বেশি কাঁচা পানি পরিবহন পাইপলাইন এবং নগরজুড়ে নতুন পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক নির্মাণ করা হয়। এতে অর্থায়ন করে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) এবং বাংলাদেশ সরকার।

কারিগরি ত্রুটিতে উৎপাদন কমে অর্ধেকেরও নিচে

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, পানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন স্থাপনে নির্ধারিত মান পুরোপুরি অনুসরণ করা হয়নি। বিশেষ করে কাটাখালী খাল এলাকায় পাইপ যথাযথ গভীরতায় স্থাপন না করার অভিযোগ রয়েছে, যা ভবিষ্যতে অবকাঠামোগত ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে।

অন্যদিকে পানি উত্তোলন ও শোধনাগারের একাধিক পাম্প বিকল হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইনটেক স্টেশনের একটি পাম্প দীর্ঘদিন ধরে অকেজো এবং ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের ছয়টি সাবমার্সিবল পাম্পের অর্ধেকই বর্তমানে অচল। ফলে পরিকল্পিত সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম পানি উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।

উৎপাদিত পানির বড় অংশই হারিয়ে যাচ্ছে

খুলনা ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৬ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করা হলেও এর প্রায় ২০ শতাংশ গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর আগেই সিস্টেম লস হিসেবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ লিটার পানি বিভিন্ন কারণে অপচয় হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত নগর পানি ব্যবস্থাপনায় নন-রেভিনিউ ওয়াটারের হার এক অঙ্কের মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হয়। সে তুলনায় খুলনায় পানির এই উচ্চমাত্রার ক্ষতি উদ্বেগের কারণ।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিয়মিত পানি মেলে না

নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, বছরের অধিকাংশ সময়ই পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় না। অনেক এলাকায় নির্ধারিত সময়েও সরবরাহ বন্ধ থাকে। ফলে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, এত বড় বিনিয়োগের পরও প্রত্যাশিত সেবা না পাওয়ায় সাধারণ মানুষ হতাশ।

ঋণ পরিশোধেও পিছিয়ে প্রকল্প

এই প্রকল্পের অর্থায়নে জাইকা ও এডিবির ঋণ রয়েছে, যা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করার কথা। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত ঋণের কিস্তি পরিশোধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

বর্তমানে প্রকল্প থেকে যে পরিমাণ রাজস্ব আয় হচ্ছে, তার বড় অংশই পরিচালন ব্যয় ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে চলে যাচ্ছে। ফলে ঋণ পরিশোধে আর্থিক চাপ আরও বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

সুশাসন ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিকল্পনা, তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি ছিল। এসব কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

তবে খুলনা ওয়াসার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রকল্পে অনিয়ম বা দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন কারিগরি সমস্যাও পর্যায়ক্রমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 06 Aug 2026 08:02:36 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[পানিশূন্য গাজীখালী, বাড়ছে দুর্ভোগ]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/117039" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/117039</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ভরা বর্ষা মৌসুমে যেখানে নদী থাকার কথা ছিল পানিতে থইথই, সেখানে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বর্ষার শুরুতেই পানিশূন্য হয়ে পড়েছে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক গাজীখালী নদী। কোথাও কোথাও সামান্য বৃষ্টির পানি জমে থাকলেও তা ঢেকে গেছে কচুরিপানা ও সাটুরিয়া বাজারের বর্জ্যের স্তূপে। ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এখন সম্পূর্ণ বন্ধ।


​গাজীখালীর শুকনো বুকে হেঁটে চলতে চলতে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন নদীপাড়ের কৃষক মোঃ আব্দুল। তিনি বলেন, &quot;গাঙ কাটার পর থিকা পানি আহে না। ছোটবেলায় এই নদীতে ট্রলার আর বড় বড় নৌকা চলতে দেখছি। বর্ষায় নদী ভইরা যাইত, অনেক স্রোত থাকত। কত মাছ মারতাম! কয়েক বছর আগে নদী কাটলেও ঠিকমতো কাটা হয় নাই।&quot;

সাটুরিয়া উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত গাজীখালী নদীর উৎপত্তি মূলত গোপালপুর এলাকার ধলেশ্বরী নদী থেকে। এরপর এটি ধামরাই হয়ে বংশী নদীতে গিয়ে মিশেছে। একসময় বর্ষা মৌসুমে ধলেশ্বরী থেকে বিপুল পরিমাণ পানি গাজীখালীতে প্রবেশ করত। নদীর এই পানির ওপর নির্ভর করেই স্থানীয় মানুষের কৃষিকাজ, মাছ ধরা ও জীবন-জীবিকা পরিচালিত হতো।


​স্থানীয় প্রবীণদের মতে, শত বছরেরও বেশি সময় আগে এই গাজীখালী নদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল ঐতিহ্যবাহী সাটুরিয়া বাজার। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বড় বড় নৌকায় করে ব্যবসায়ীরা আসতেন এই বাজারে। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে নদীটি এখন চরম অস্তিত্ব সংকটে। বর্তমানে গোপালপুর থেকে সাটুরিয়া বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এবং সাটুরিয়া থেকে ধামরাইয়ের বারবারিয়া এলাকা পর্যন্ত নদীপথের অধিকাংশ স্থানই প্রায় শুকিয়ে গেছে। পুরো নদীজুড়ে কচুরিপানার জট সৃষ্টি হওয়ায় পানি থাকলেও তা বোঝার উপায় নেই।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় ২০২০-২১ অর্থবছরে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া, সদর, সিঙ্গাইর এবং ঢাকার ধামরাইয়ের সীমান্তবর্তী প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ গাজীখালী নদী পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই চার অংশে নদী খননে মোট ব্যয় হয় প্রায় ৪০ কোটি টাকা।

​এর মধ্যে শুধু সাটুরিয়া অংশেই দুই দফায় নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের ব্যয় হয় প্রায় ১৬ কোটি টাকা। প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী, নদী দুই মিটার গভীর করে খনন এবং তলদেশে ২৬ মিটার ও ওপরের অংশে স্থানভেদে ৫০ থেকে ৬০ মিটার প্রশস্ত করার কথা ছিল। খননকাজে এক্সকাভেটর (ভেকু) ব্যবহারেরও নির্দেশনা ছিল।

​তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের পরও নদীর নাব্যতা ফেরেনি। একসময় সাটুরিয়া বাজারের খাদ্যগুদাম পর্যন্ত গাজীখালী নদীর বিস্তৃতি থাকলেও নদীটি এখন সংকুচিত হয়ে নালায় পরিণত হয়েছে। তাদের দাবি, নদী খননের নামে যথাযথ কাজ না করে সরকারি অর্থ লোপাট করা হয়েছে।

​সাটুরিয়া বাজারের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, &quot;ছোটবেলায় বর্ষার শুরুতেই গাজীখালীতে নতুন পানি আসত। নতুন পানিতে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত, নদীতে শুশুকও দেখতাম। কয়েক বছর আগে নদী খনন করে শুধু মাটি বিক্রি করেই অনেকে লাভবান হয়েছে, নদীর কোনো লাভ হয় নাই।&quot;


নদীর বিভিন্ন অংশে পানির প্রবাহ না থাকা এবং কচুরিপানার ঘন স্তরের কারণে নদীনির্ভর স্থানীয় জেলে পরিবারগুলো চরম সংকটে পড়েছেন। মাছ ধরতে না পেরে অনেকেই বাপ-দাদার পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন।


​উপজেলার রাধানগর মাঝিপাড়া এলাকার প্রবীণ জেলে জ্যোতিন রাজবংশী আক্ষেপ করে বলেন, &quot;আগে নদীতে যেমন পানি আইত, তেমন মাছও পাইতাম। শত শত জেলে এই নদীতে মাছ ধইরা সংসার চালাইত। এখন নদীতে পানিই নাই, মাছ মারুম কেমনে? বাধ্য হয়া অনেক জেলে এখন অন্য পেশায় চলে গেছে।&quot;


এ বিষয়ে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, &quot;আমি এই কর্মস্থলে যোগদানের আগে গাজীখালী নদীর পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাই আগের কাজের বিষয়ে মন্তব্য করতে পারব না। তবে বর্তমানে নদীতে পানি না আসার প্রধান কারণ হলো&mdash;ধলেশ্বরী নদীর গোপালপুর এলাকার উৎসমুখটি যমুনা নদীর পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। উৎসমুখটি পুনরায় খনন করা গেলে নদীতে আবারও পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।&quot;

​সাটুরিয়ার প্রাণ হিসেবে পরিচিত এই নদীটিকে পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে দ্রুত উৎসমুখ খননসহ কার্যকর টেকসই পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

 

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 03 Aug 2026 07:29:48 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[নতুনকুড়িঁ স্পোর্টসে দুই স্বর্ণ জয়, কিশোরগঞ্জের বিস্ময় বালিকা মারিয়া!]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/116858" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/116858</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[দেশের উঠতি প্রতিভাদের সেরা আসর নতুনকুড়িঁ স্পোর্টসে জাতীয়ভাবে ১০০ ও ২০০ মিটার স্প্রিন্টে দুটিতেই স্বর্ণ জিতে পুরো দেশকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে কিশোরগঞ্জের বিস্ময় বালিকা মারিয়া।

গ্রামের মেঠোপথ পেরিয়ে নতুনকুড়িঁ স্পোর্টসে ডাবল চ্যাম্পিয়ন। লাল ট্র্যাকে কিশোরগঞ্জের মারিয়ার গতির ঝড়। কিশোরগঞ্জের অজপাড়াগাঁয়ের মারিয়া আক্তার তাসপিয়া। দেশের উঠতি প্রতিভাদের সেরা আসর নতুনকুড়িঁ স্পোর্টসে জাতীয়ভাবে ১০০ ও ২০০ মিটার স্প্রিন্টে দুটিতেই স্বর্ণ জিতে পুরো দেশকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে এই বিস্ময় বালিকা।

তবে এ সাফল্যের পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। কিশোরগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সদরে এসে অনুশীলন করতে গিয়ে প্রতিদিনই সময় ও অর্থ ব্যয় হতো অনেক। দারিদ্র্যের সংসারে কৃষক বাবার পক্ষে খেলার খরচ চালানো অসম্ভব ছিল। সেখানে মারিয়ার অদম্য স্বপ্নই ছিল তার মূল শক্তি।

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াল ইউনিয়নের শেহড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক হিরণ মিয়ার ছোট মেয়ে মারিয়া। ৬ ভাইবোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ১৪ বছরের মারিয়া স্থানীয় আলহাজ ওয়াজেদুল ইসলাম খান উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

প্রশিক্ষক (কোচ) আ. জব্বারের নিবিড় পরিচর্যায় গড়ে ওঠে মারিয়া। ১০০ মিটারে ১৩.৭৫ এবং ২০০ মিটারে ২৮.৯৯ সেকেন্ডে টাইমিং করে নিজের আধিপত্য প্রমাণ করে। শীর্ষের এই কৃতিত্বে বিশ্বমঞ্চের স্বপ্ন বুনছেন স্থানীয় কোচও। মেঠোপথ পেরিয়ে লাল ট্র্যাকের ঝড়তোলা মারিয়ার গতি এখন অলিম্পিকের স্বপ্নের ডানা মেলছে। প্রয়োজন কেবল সুনির্দিষ্ট পরিচর্যা ও সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা।

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কৃতি অ্যাথলেট মারিয়া স্প্রিন্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে প্রথম স্থান অধিকার করার পর তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে পুরস্কার (স্বর্ণপদক) গ্রহণ করেন। পুরস্কার গ্রহণের সময় উপস্থিত দর্শক ও ক্রীড়া-সংশ্লিষ্টরা করতালির মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানান।

মারিয়ার এ সাফল্যে পুরো কিশোরগঞ্জে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও মারিয়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের জন্য আরও সাফল্য বয়ে আনবেন।

মারিয়া বলেন, নিয়মিত অনুশীলন, কোচের দিকনির্দেশনা এবং পরিবারের সহযোগিতায় এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। তিনি ভবিষ্যতেও দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মারিয়ার ইচ্ছা, আগামী ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জে আসলে তিনি যেন তাদের বাড়িতে বেড়াতে যান।

দেশের অ্যাথলেটিক্স অঙ্গনে নতুন সাফল্যের নজির গড়েছেন কিশোরগঞ্জের মারিয়া। স্প্রিন্ট ইভেন্টে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে স্বর্ণপদক জয় করেন তিনি।

গ্রাম থেকে উঠে এসে জাতীয় পর্যায়ে এমন কৃতিত্ব অর্জন করায় মারিয়ার এই সাফল্যে আনন্দের বন্যা বইছে কিশোরগঞ্জে। স্থানীয়রা মনে করছেন, তার এই অর্জন তরুণ-তরুণীদের খেলাধুলায় আরও উৎসাহিত করবে। মারিয়ার এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং সমগ্র এলাকার জন্যও গর্বের একটি অধ্যায়।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, নতুনকুড়িঁ প্রতিযোগিতায় স্প্রিন্টে জাতীয়ভাবে প্রথম স্থান অধিকার করেছে মারিয়া। সে এ জেলার সম্পদ। সে কারণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিকেএসপিতে ভর্তি, ক্রীড়া ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বৃত্তি, এছাড়াও এককালীন অনুদান, অনুশীলনসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হবে তাকে। এ ধরনের প্রতিভাবানদের জন্য সরকার সবসময় সকল প্রকার সহযোগিতা করবে।

সান নিউজ/ জামান]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 30 Jul 2026 10:18:10 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[গাইবান্ধার কাগজের তৈরী প্লেট ছড়িয়ে পড়ছে রাজধানীসহ সারাদেশে]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/116841" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/116841</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[প্লাস্টিক ও থার্মোকলের ক্ষতিকর ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশ সুরক্ষায় দেশজুড়ে যখন ওয়ান-টাইম পণ্যের বিকল্প খোঁজা হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে উত্তরাঞ্চলের জেলা গাইবান্ধায় গড়ে উঠেছে সম্ভাবনাময় কাগজ বা পেপার প্লেট তৈরির শিল্প। কম খরচ, আকর্ষণীয় ডিজাইন এবং স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় গাইবান্ধার তৈরি কাগজের প্লেট বা থালা এখন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরের পাইকারি বাজারে দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। পরিবেশের কথা চিন্তা না করে আধুনিকতার বেড়াজালে প্লাস্টিকের থালা হাতে নিয়ে অনুষ্ঠান শেষে যেখানে ডাস্টবিন, ড্রেন কিংবা নদীতে ফেলে দেওয়াই যেন আমাদের অভ্যাস, এমন এক পরিস্থিতিতে গাইবান্ধার এক তরুণ উদ্যোক্তা দেখাচ্ছেন ভিন্ন পথ।

কারখানাটির উদ্যোক্তা রেজাউন্নবী রাজু। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এমন একটি পণ্য তৈরির স্বপ্ন দেখছিলেন, যা একদিকে হবে পরিবেশবান্ধব, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে। সেই স্বপ্নই বাস্তবে রূপ নিয়েছে। কারখানায় উৎপাদিত হচ্ছে উন্নতমানের প্রিন্টেড ও সিলভার লেমিনেটেড পেপার প্লেট।

তিনি বিশ্বাস করেন, পরিবেশ রক্ষার লড়াই শুধু সচেতনতায় নয়, কার্যকর বিকল্প তৈরির মধ্যেই নিহিত। সেই বিশ্বাস থেকেই গাইবান্ধা পৌরসভার আদর্শপাড়ায় গড়ে তুলেছেন পরিবেশবান্ধব পেপার প্লেট তৈরির একটি ক্ষুদ্র কারখানা। গাইবান্ধা পৌরসভার আদর্শপাড়ার সরু গলির শেষপ্রান্তে ছোট্ট একটি কারখানা। বড় শিল্পকারখানার কোলাহল নেই, নেই কোন বিশাল যন্ত্রপাতির গর্জন। তবু সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছোট ছোট মেশিনের ছন্দে তৈরি হচ্ছে অসংখ্য পেপার প্লেট। প্রতিটি প্লেট যেন পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশের একেকটি প্রতিশ্রুতি।

মানসম্মত জিএসএম বোর্ড পেপার ও ফুড-গ্রেড ল্যামিনেশন ব্যবহারের কারণে গরম ভাত,তেল-ঝোল কিংবা অন্যান্য খাবার পরিবেশনেও প্লেটের গুণগত মান অটুট থাকে। ব্যবহারের পর সহজেই মাটির সঙ্গে মিশে যায় বলে পরিবেশের ওপর পড়ে না কোনো দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব।

উদ্যোক্তা রেজাউন্নবী রাজু বলেন, প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। আমরা চাই মানুষ এমন একটি বিকল্প ব্যবহার করুক, যা পরিবেশের ক্ষতি করবে না। আমাদের পেপার প্লেট যেমন মানসম্মত, তেমনি দামও সবার নাগালের মধ্যে। তাই বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, পিকনিক, রেস্তোরাঁ এবং ক্যাটারিং সেবায় এর চাহিদা বাড়ছে। শুধু পরিবেশ রক্ষাই নয়, এই উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ারও খুলে দিয়েছে। বিশেষ করে কয়েকজন নারী কারখানায় কাজ করে নিজের আয় দিয়ে পরিবারের খরচে সহযোগিতা করছেন।

একসময় যারা শুধুই গৃহস্থালির কাজে সীমাবদ্ধ ছিলেন, এখন তারা উৎপাদন ও প্যাকেজিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। এতে তাদের আত্মবিশ্বাস যেমন বেড়েছে, তেমনি পরিবারের আর্থিক অবস্থারও উন্নতি হচ্ছে।

রেজাউন্নবী রাজুর স্বপ্ন আরও বড়। তিনি বলেন, সরকারি সহযোগিতা ও সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পেলে উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব। তখন গাইবান্ধা থেকেই সারা দেশে পেপার প্লেট সরবরাহ করা যাবে। সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান, উপকৃত হবে স্থানীয় অর্থনীতি।

বিশ্বজুড়ে যখন একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কমানোর উদ্যোগ জোরদার হচ্ছে, তখন গাইবান্ধার এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী। পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পের বিকাশ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এমন উদ্যোগ আরও ছড়িয়ে পড়ুক এটাই প্রত্যাশা। আদর্শপাড়ার ছোট্ট কারখানা থেকে প্রতিদিন বের হওয়া প্রতিটি পেপার প্রেট শুধু খাবার পরিবেশনের উপকরণ নয়; এটি একটি সবুজ ভবিষ্যতের স্বপ্ন, একজন উদ্যোক্তার সাহসিকতার গল্প এবং বদলে যাওয়া বাংলাদেশের সম্ভাবনার প্রতীক।]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 30 Jul 2026 10:03:10 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[জমে উঠেছে ঝালকাঠির ভিমরুলী ভাসমান পেয়ারার হাট]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/116812" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/116812</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ঝালকাঠি, বরিশাল ও পিরোজপুরের তিন উপজেলার চারটি ইউনিয়ন জুড়ে অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ পেয়ারা বাগান এখন ফলে ফলে ভরে গেছে। প্রতিদিন ভোর হতেই চাষীরা বাগান থেকে পেয়ারা সংগ্রহ করে ছোট ছোট নৌকায় নিয়ে আসছেন এ অঞ্চলের বৃহত্তম ভাসমান হাট ভিমরুলিতে।

দূর দূরান্ত থেকে পাইকাররা এখানে এসে প্রতিদিন পেয়ারা কিনে নিয়ে যাচ্ছে ঢাকা,খুলনা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায়। চলতি মৌসুমের শুরুতে ফলন ভালো হলেও দামও চড়া। বর্তমানে মণপ্রতি ১২শো টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাগান মালিকরা বলছেন ম্রমিক মজুরী, কান্দি পদ্ধতিতে মাটি ও সার ব্যবহারে খরচ বৃদ্ধি হওয়ায় এখন আগের মতো পোষায়না।

এদিকে বাগান ও ভাসমান হাট দেখতে দেশী-বিদেশী হাজারো পর্যটকের কলরবে পেয়ারা বাগান এলাকা এখন মূখরিত। 

ঝালকাঠিতে পেয়ারার মৌসুমের শুরুতেই জমে উঠেছে এ অঞ্চলের ভাসমান ভীমরুলি হাট। ভিমরুলি খালে অবস্থিত ভাসমান এ হাটে প্রতিদিন ছোট ছোট নৌকায় করে ঘুরেবেড়ায় পর্যটকরা। সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার পর্যটকদের ভীর থাকে চোখে পড়ারমতো।

প্রতিদিন এ হাটে লক্ষ লক্ষ টাকার পেয়ারা কেনা বেচা হয়। বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি, বরিশাল ও পিরোজপুর জেলার তিন উপজেলার চারটি ইউনিয়ন জুড়ে রয়েছে প্রায় তিনশ বছরের পুরানো দেশের বৃহত্তর দেশী পেয়ারা বাগান। এ বাগানের পেয়ারা আষাঢ়, শ্রাবন এবং ভাদ্র এই তিন মাস স্থায়ী হয়। এই সময়ে প্রতিদিন বাগান থেকে পেয়ারাতুলে ছোট ছোট নৌকার করে হাটে নিয়ে যান কৃষকরা।

বাগান এলাকায় পেয়ারা বেচা কেনার বেশ কয়েকটি হাট থাকলেও সবচেয়ে বড় হাটটি হচ্ছে ঝালকাঠি সদর উপজেলার ভিমরুলিতে।

প্রাকৃতিক সৌন্দের্য্যরে অপূর্ব নিদর্শন পেয়ারা বাগান এবং ভাসমান পেয়ারার হাট দেখতে দেশ বিদেশের হাজার হাজার পর্যটক প্রতিদিন এখানে ভীড় জমাচ্ছেন। কেউ স্বপরিবারে, কেউ বন্ধুবান্ধব নিয়ে দলবদ্ধ ভাবে আবার কেউ সংগঠনগত ভাবে আসছেন। তারা এ বাগানের বিশালতা এবং সৌন্দর্য্য দেখে মুগ্ধ এবং আনন্দিত। ছোট ছোট নৌযানে বাগান ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে, রয়েছে গাছ থেকে সদ্য পাড়া টাটকা পেয়ারার স্বাদ নেয়ার সুযোগ। তবে এখানে আসা পর্যটকদের থাকা খাওয়ার সুযোগের অভাব এবং নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ে অনেকে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।

 



মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন উপ-পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর ঝালকাঠি,বলেন, এ বছর পেয়ারার দাম ভালো থাকার কারনে চাষিরা লাভবান হচ্ছে। এর মাধ্যমে এ এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজির অবস্থার উন্নয়ন ঘটছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকদের মাধ্যমে জনপ্রীয় এ ফসলটির বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।

ঝালকাঠি জেলায় চলতি মৌসুমে ৫৭০ হেক্টর জমিতে পেয়ারার আবাদ হয়েছে, যা থেকে ৫ হাজার ৭০০ মে.টন উৎপাদন লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 29 Jul 2026 11:32:03 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[বেড়েছে উৎপাদন কিন্তু সংকটে দেশের চা-শিল্প]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/116718" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/116718</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ব্রিটিশ আমল থেকে অর্থাৎ প্রায় ১৭০ বছর দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা চা-শিল্প বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। সময়ের সঙ্গে উৎপাদন বাড়লেও জ্বালানি, সার, বিদ্যুৎ ও শ্রমিক মজুরিসহ সার্বিক উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্ভাবনাময় এই শিল্প এখন আর্থিক সংকটে।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে ১০ কোটি ২ লাখ কেজি, ২০২৪ সালে ৯ কোটি ৩০ লাখ কেজি এবং ২০২৫ সালে ৯ কোটি ৪৯ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। ২০২৬ সালে ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে উৎপাদন বৃদ্ধির বিপরীতে বাড়ছে খরচ। বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রতি কেজি চা উৎপাদনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৬০ টাকা। বিপরীতে নিলামে গড় বিক্রয়মূল্য ছিল ২০৮ টাকা ৮৮ পয়সা। ফলে প্রতি কেজিতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫১ টাকা ১২ পয়সা। গত এক দশকে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে ৭৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। একই সময়ে ২০০২ সালের পর চা রপ্তানি কমেছে ৭৯ শতাংশ।

চা-বাগান মালিকদের দাবি, চা-শিল্পকে কৃষিখাতের পরিবর্তে শিল্পখাত হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করায় উচ্চ সুদে ঋণ নিতে হচ্ছে। অনেক বাগান আগের ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় নতুন ঋণও পাচ্ছে না। অন্যদিকে শ্রমিকদের দাবি, জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় তাদের মজুরি এখনও অপর্যাপ্ত।

চাতলাপুর চা-বাগানের ব্যবস্থাপক শুভঙ্কর চন্দ্র নাথ বলেন, চা উৎপাদন বাড়লেও অধিকাংশ বাগানের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক বাগান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে ভালো মানের চা উৎপাদন করতে পারলে নিলামে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া সম্ভব।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজড়া বলেন, বর্তমানে চা উৎপাদনের অবস্থা আগের তুলনায় ভালো। উৎপাদন বাড়ছে, তবে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সংকট থেকে উত্তরণে সরকারি টাস্কফোর্স আটটি অগ্রাধিকার খাতে ৫৯টি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে চা-বাগানকে কৃষিখাত হিসেবে পুনঃশ্রেণিবদ্ধ করা, ৬ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা প্রদান, ঋণ পুনর্গঠন, ভ্যাট কমানো, চা পুনরোপণ, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি।

চা-শিল্পের আর্থিক সংকট মোকাবিলায় ২ হাজার ৫০ কোটি টাকার &lsquo;টি সেক্টর অ্যাসিস্ট্যান্স ফান্ড&rsquo; গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় চা পুন:রোপণ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, জাতীয় চা ব্র্যান্ড তৈরি, জিআই স্বীকৃতি অর্জন এবং পাকিস্তান, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও রাশিয়ায় রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, রোগবালাই, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও পানিসংকটসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে চা-শিল্প এগিয়ে যাচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধি, মানোন্নয়ন এবং বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ শিল্পকে আরও শক্তিশালী করার কাজ চলছে।

উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় কমানো, ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ করা না গেলে চা-শিল্পের সংকট কাটবে না বলেই ধারণা সংশ্লিষ্টদের। তবে টাস্কফোর্সের ৫৯টি সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়ন হলে দেশের চা-শিল্প আবারও শক্তিশালী অবস্থানে ফিরতে পারে।

সান নিউজ/ হুমায়রা

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 27 Jul 2026 14:29:24 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[কিশোরগঞ্জের আমিনুল হক সাদীর অনুপ্রেরণার সাফল্যগাথা]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/116677" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/116677</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[কিশোরগঞ্জের একজন সাধারণ বেকার তরুণ থেকে জাতীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আমিনুল হক সাদী। আত্মকর্মসংস্থান, যুব উন্নয়ন, সমাজসেবা ও মানবকল্যাণে দীর্ঘদিনের নিরলস কাজের মাধ্যমে তিনি আজ কেবল একজন সফল উদ্যোক্তাই নন, বরং হাজারো তরুণ-তরুণীর অনুপ্রেরণার নাম।

২০০৪ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় কর্মসংস্থানের সন্ধানে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে যান। সেখানে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানতে পারেন, সরকার বেকার যুবকদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিচ্ছে। বিষয়টি তাঁকে গভীরভাবে আকৃষ্ট করে। পরবর্তীতে তিনি কিশোরগঞ্জ যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে গবাদিপশু পালন, হাঁস-মুরগি পালন, ডেইরি ফার্ম, কৃষি ও প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে তিন মাসব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

প্রশিক্ষণ শেষে তিনি শুধু নিজের কর্মসংস্থানের পথই তৈরি করেননি; বরং সেই অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অন্য বেকার যুবকদেরও স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেন। আত্মকর্মী হিসেবে সফল হওয়ার পর ধীরে ধীরে তিনি যুব নেতৃত্ব ও সমাজসেবায় নিজেকে সম্পৃক্ত করেন।

২০১০ সালে কিশোরগঞ্জে যুব জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন &lsquo;যুব উন্নয়ন পরিষদ&rsquo; নামে একটি সামাজিক ও যুবকল্যাণমূলক সংগঠন। সংগঠনটি যুব নেতৃত্ব, দক্ষতা উন্নয়ন, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম এবং সমাজকল্যাণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখায় ২০২০ সালে কিশোরগঞ্জ জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন লাভ করে। বর্তমানে আমিনুল হক সাদী সংগঠনটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শিক্ষাজীবনেও তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে ২০১৯ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চশিক্ষা শেষ করেও সরকারি চাকরির পেছনে না ছুটে তিনি আত্মকর্মসংস্থানকে বেছে নেন। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস থেকে প্রথম দফায় ৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন &lsquo;সাদী সমন্বিত কৃষি খামার&rsquo;। ছোট পরিসরে শুরু করা সেই উদ্যোগ বর্তমানে একটি সফল কৃষিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে তাঁর নেতৃত্বে পাঁচ শতাধিক সদস্য নিয়ে যুব উন্নয়ন পরিষদ সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। সংগঠনটি যুব নেতৃত্ব বিকাশ, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানবিক সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

দেশের বিভিন্ন দুর্যোগ ও সংকটকালেও তিনি ছিলেন মানুষের পাশে। জাতীয় যুব দিবসসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় দিবস উদযাপন এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে তাঁর নেতৃত্ব প্রশংসিত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি নিজ এলাকার ছাত্র-যুবকদের সহায়তায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পুলিশের গুলিতে পা হারানো শিক্ষার্থী জুনায়েদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি গুলিবিদ্ধ সমাজকর্মী ও যুবদল নেতা মাসুম বিল্লাহ এবং আহত জুলাই যোদ্ধা শফিকুল ইসলাম নাঈমসহ আহতদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন।

সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দিতে যুব উন্নয়ন পরিষদের উদ্যোগে এ পর্যন্ত শতাধিক গুণী ব্যক্তিকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন যুব কল্যাণ তহবিল থেকে যুব উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৩ সালে সংগঠনটি ৪০ হাজার টাকার অনুদান লাভ করে। সেই অর্থ দিয়ে সাদী তাঁর কৃষি খামারের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করেন। প্রকল্পের আওতায় মাছ চাষের পাশাপাশি পাঁচ হাজারেরও বেশি গাছের চারা বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।

আমিনুল হক সাদীর উদ্যোগে ধাপে ধাপে প্রায় তিন হাজার বেকার যুবক ও যুব নারী বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আওতায় এসেছে। তাঁদের মধ্যে তিন শতাধিক ব্যক্তি আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাঁর প্রচেষ্টায় অন্তত ১০ জন বেকার সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেয়েছেন এবং আরও ১০ জন বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ লাভ করেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত দুইজন এবং প্রকল্পভিত্তিক আরও পাঁচজনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।

করোনা মহামারির সময় তিনি এক হাজার অসচ্ছল মানুষের বিনামূল্যে করোনা টিকার নিবন্ধন সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি ১০ হাজার মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। সম্প্রতি পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকার নিবন্ধনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এছাড়া গ্রামে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে তিনি কয়েক শতাধিক দরিদ্র পরিবারকে সহায়তা দিয়েছেন। পাঁচজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার, ১০ জন নারীকে সেলাই মেশিন এবং অসহায় মানুষের মাঝে কয়েক লাখ টাকার নগদ সহায়তা প্রদান করেছেন। এছাড়া ১০ হাজার শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন।

শিক্ষা বিস্তারেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। পাঁচ শতাধিক শিশুকে বিনামূল্যে পাঠদান, যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনা, বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং ব্যক্তি উদ্যোগে একটি পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেছেন। ওই পাঠাগারে বর্তমানে প্রায় পাঁচ হাজার বই রয়েছে, যা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জ্ঞানচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

কৃষি উন্নয়নেও রয়েছে তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন &lsquo;কৃষক পার্টনার ফিল্ড স্কুল&rsquo;। এই উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষক-কৃষাণীদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের সভা, সেমিনার, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় অংশ নিয়ে তিনি শতাধিক সনদ অর্জন করেছেন। আন্তর্জাতিক যুব সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ সামিট-এর বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সদস্য হিসেবেও যুব উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন।

শিক্ষাজীবনে খেলাধুলা, বিতর্ক, সাহিত্য, রচনা প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে শতাধিক পুরস্কার ও সনদ অর্জন করেছেন আমিনুল হক সাদী। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজিত প্রতিযোগিতায় জেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করে ক্রেস্ট ও তিন হাজার টাকার প্রাইজ বন্ড লাভ করেন। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতায় প্রায় ৫০টিরও বেশি পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। যুব উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় তিনবার জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক হিসেবে সম্মানিত হয়েছেন।

আমিনুল হক সাদীর নেতৃত্বে পরিচালিত কার্যক্রম ইতোমধ্যে কিশোরগঞ্জে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাঁর সফলতা দেখে অনেক বেকার তরুণ আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার পথে এগিয়ে আসছেন।

কিশোরগঞ্জ জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম শামীম বলেন, &ldquo;আমিনুল হক সাদীর নেতৃত্বে পরিচালিত &lsquo;যুব উন্নয়ন পরিষদ&rsquo; বর্তমান যুবসমাজের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেল। তাঁর কর্মপরিকল্পনা, পাঠাগার প্রতিষ্ঠা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অসংখ্য বেকার তরুণের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। আমি তাঁর উত্তরোত্তর সাফল্য ও সার্বিক কল্যাণ কামনা করি।&rdquo;

সান নিউজ/ জামান]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 27 Jul 2026 09:16:01 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[আধুনিকতার ছোঁয়ায় ধ্বংসের পথে বাঁশ শিল্প]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/116363" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/116363</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাঁশ শিল্প এক সময়ে বাঙালির প্রাচীন ঐতিহ্য ধরে রেখেছিলো। কালের বিবর্তনে এ শিল্প আজ বিলুপ্তের পথে। পর্যাপ্ত পুঁজি সংকট, শ্রমিকের মুজুরী বৃদ্ধি, নির্বিচারে বাঁশ ধংসের কারণে বাঁশের দাম বেড়ে যাওয়া, উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া। প্লাস্টিক পণ্যের দাপট ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে খাগড়াছড়িতে ঐতিহ্যবাহী বাঁশ শিল্প এখন মুখ থুবড়ে পড়েছে।

ঐতিহ্যবাহী বাপ -দাদার এ পেশাকে ধরে রাখতে বাঁশ শিল্পকে কোনোরকম টিকিয়ে রেখেছেন কিছু কারিগর। যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে বাঁশ দিয়ে তৈরি করে চলেছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।

খাগড়াছড়িতে একসময় বাঁশ শিল্পের রমরমা অবস্থা ছিল। বাঁশ দিয়ে তৈরি হতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। এসবের মধ্যে ছিল বাঁশের চাটায়, কুলা, ডালা, চালুন, ঝুড়ি, মোড়া,খলই, ডালি, মুরগীর খাঁচা, মই, ধানের গোলা, ওড়া, মাছ ধরার ডার্কি, খেলনা ও বিভিন্ন সজ্জার সামগ্রী।

এসব পণ্যের চাহিদাও ছিল ব্যাপক, বিশেষ করে জেলা সদর, দীঘিনালা, পানছড়ি, মহালছড়ি, মাটিরাঙা, গুইমারা, রামগড়, মানিকছড়ি, লক্ষীছড়ির গ্রামীণ জনপদের হাট-বাজারগুলোতে ব্যাপকভাবে এর বিক্রি লক্ষ্য করা যেত। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় ও সহজলভ্য প্লাস্টিক পণ্যের আগমনে বাঁশের তৈরি পণ্যের বাজার সংকুচিত হয়ে পড়েছে। প্লাস্টিকের তৈরি জিনিসপত্র দামে সস্তা ও টেকসই হওয়ায় ক্রেতারা সেদিকেই বেশি ঝুঁকছেন।

বিগত কয়েক বছর ধরে বাঁশের তৈরি পণ্যের চাহিদা হ্রাস, কাঁচামালের দুষ্প্রাপ্যতা ও প্লাস্টিক পণ্যের ব্যাপক আধিপত্যের কারণে বাঁশ শিল্পের এই নাজুক পরিস্থিতি। যার ফলে খাগড়াছড়ির স্হানীয় কারিগরদের জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিসহ। এতে গ্রামীণ এই শিল্পটি তার জৌলুস হারাচ্ছে। তেমনই এ শিল্পের উপর নির্ভরশীল লোকজন বেকার হয়ে মানবেতন জীবন যাপন করছে। অনেকেই আবার এ পেশা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে অন্য পেশায়। যা এই শিল্পের ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

মাটিরাঙ্গা উপজেলার আর্দশ গ্রামের বাঁশশিল্প কারিগর মো: রহমত আলী বলেন, এমন একটা সময় ছিলো যখন বাঁশ শিল্পের প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাহাড়ের মানুষের আয়ের উৎস ছিলো। বাঁশের তৈরী সেই হস্তশিল্প বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করা অর্থ দিয়ে তাদের ছেলে-মেয়ের পড়াশুনাসহ সংসারের কাজে ব্যয় করা হতো। বর্তমানে প্লাস্টিক সামগ্রির কারনে এর চাহিদা না থাকায় ও ক্রেতার অভাবে এ পেশা ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।

বাঁশের তৈরি একটি পণ্য তৈরি করতে যে সময় ও শ্রম লাগে, তার তুলনায় তারা ন্যায্য মূল্য পান না। উপরন্তু কাঁচামাল হিসেবে বাঁশের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাহাড়ের সবজী হিসেবে ব্যবহারিত &quot;বাঁশ কোড়ল&quot; কচি বাঁশ গুলো ক্রমাগত ধংসের কারণে বাঁশ সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সময় দূরদূরান্ত থেকে চড়া দামে বাঁশ কিনতে হয়, যা উৎপাদন খরচ আরও বাড়িয়ে দেয়।

বাঁশের আসবাব পত্র বিক্রেতা শাহআলম (৬৫) নিজেই কারিগর ৪০ বছর ধরে এই পেশায় আছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আগে বাঁশের হস্তশিল্প বিক্রি করে সংসার ভালোই চলতো। এখন আর চলে না। ছেলেমেয়েরা এই কাজ শিখতে চায় না, কারণ এতে কোনো ভবিষ্যৎ নেই। বাধ্য হয়ে অন্য কাজ খুঁজতে হচ্ছে।&rsquo; তার মতো আরও অনেক কারিগর এ পেশা ছেড়ে দিয়ে এখন দিনমজুরের কাজ করছেন।

এ শিল্পের সাথে জড়িত নারী কারিগর আশা আক্তার, রহিমা বেগম, নার্গিস আক্তার, ছালেহা বেগমসহ অন্যরা বলেন, আমরা এখন অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করছি। বাঁশের তৈরি আসবাব পত্রের সল্প সংখ্যক চাহিদা থাকলেও অর্থ সংকটের কারনে তা পূরন করা সম্ভব হচ্ছে না। তারা আরোও বলেন, বাঁশ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা ও সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি সরকারি কোন পৃষ্ঠপোষকতা ও আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্হা গ্রহন করা হলে নতুন নতুন ডিজাইন ও পণ্যের বৈচিত্র এনে শহুরে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা যেত।

এক সময় গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই বাঁশের তৈরি এসব জিনিসপত্রের ব্যবহার ছিল। ৬/৭ বছর আগেও মাঝারী ধরনের একটি বাঁশের মুল্য ছিল ৩০ থেকে ৫০ টাকা। বর্তমানে সে ধরনের একটি বাঁশ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। কিন্তু সে অনুপাতে বাঁশের তৈরী এসব পন্যের মূল্য বাড়েনি। তাছাড়া বর্তমান প্লাষ্টিকের তৈরি জিনিসপত্র এসব পণ্যের স্থান দখল করে নিয়েছে। দামও কম। ফলে প্লাষ্টিকের তৈরি এসব জিনিসপত্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে মুখ থুবড়ে পড়ছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ কুটির শিল্পটি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাঁশ শিল্প শুধু একটি অর্থনৈতিক খাত নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতিরও অংশ। এই শিল্প বিলুপ্ত হলে আমরা একটি ঐতিহ্য হারাবো। তাই এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কারিগরদের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা করা জরুরি। যাতে এ শিল্পের কারিগরদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। তাহলে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে।

সান নিউজ/ জামান]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 19 Jul 2026 12:08:48 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[অবৈধ ড্রেজারে গিলছে আড়িয়াল খাঁ: ভাঙনের শিকার শত পরিবারের আর্তনাদ ]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/116161" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/feature/116161</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[মাদারীপুরে অবৈধ ড্রেজারে গিলছে আড়িয়াল খাঁ নদী। নদী ভাঙনের শিকার ঘর,জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নদী ভাঙন রোধে শত পরিবারের আর্তনাদ।

একসময় ছিল বসতভিটা, ছিল ফসলে ভরা জমি, ছিল স্বচ্ছল সংসার। আজ সেই সবকিছুই স্মৃতি। আড়িয়াল খাঁ নদীর ভয়াল ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে এখন অন্যের জমিতে আশ্রিত মো. এনামুল আকন। তাঁর মতো আরও শতাধিক পরিবার প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের পর থেকেই নদীর গতিপথ বদলে গিয়ে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে।

মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের হোগলপাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা এনামুল আকন (৪৮)। একসময় পরিবারের সঙ্গে প্রায় ১০ বিঘা আবাদি জমিতে কৃষিকাজ করতেন। ১৯৮৮ সালের বন্যার পর থেকে ধীরে ধীরে নদী গিলে খেতে শুরু করে তাদের জমি। পরে পারিবারিক ভাগে পাওয়া শেষ দুই বিঘা জমি ও বসতভিটাও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এখন পরিবার নিয়ে তিনি আশ্রয় নিয়েছেন স্থানীয় সাইফুল ইসলামের আট শতাংশ জমিতে।

চোখে জল নিয়ে এনামুল বলেন, &ldquo;যদি ড্রেজার দিয়ে বালু না তোলা হতো, তাহলে এভাবে নদী ভাঙত না। যারা এসব করছে তারা খুবই প্রভাবশালী। প্রতিবাদ করলে রাতে হামলার ভয় থাকে। তাই মুখ খুলতেও ভয় পাই। আল্লাহ ছাড়া আমাদের দেখার কেউ নেই।&rdquo;

একই গ্রামের টিটল আকনের জীবনেও নেমে এসেছে একই ট্র্যাজেডি। গোলাভরা ধান, বসতবাড়ি আর ফসলি জমি&mdash;সবই এখন নদীর তলদেশে। পরিবার নিয়ে তিনি বাধ্য হয়ে নদীর ওপারে নিজের সামান্য ছয় শতাংশ জমিতে নতুন করে ঘর তুলেছেন।

তিনি বলেন, &ldquo;আমাদের এলাকায় আগে কখনো নদীভাঙন ছিল না। ড্রেজার বসানোর পর থেকেই ভাঙন শুরু হয়েছে। যারা বালু তোলে, তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলার সাহস কারও নেই।&rdquo;

ভাঙনের মানচিত্রে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম

আড়িয়াল খাঁ নদী মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়ন এবং কালকিনি উপজেলার আলিনগর ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। হোগলপাতিয়া, চরহোগলপাতিয়া, চর কালকিনি, সস্তাল ও কাদের আকন কান্দিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা এখন নদীভাঙনের স্থায়ী ঝুঁকিতে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিবছর নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা, কমিউনিটি ক্লিনিক ও হাটবাজার। যাদের ঘর এখনো নদীর কিনারায় টিকে আছে, তারা প্রতিটি বর্ষায় নতুন আতঙ্কে দিন কাটান কখন যে নদী তাদের শেষ সম্বলটুকুও কেড়ে নেয়।

অনেকেই জানান, নাম প্রকাশ করতেও ভয় পান তারা। কারণ, প্রতিবাদ করলে হামলা কিংবা ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। একজন বৃদ্ধের কণ্ঠে ছিল দীর্ঘশ্বাস, &ldquo;সংবাদ করলে আমাদেরই বিপদ হয়। কিন্তু সমাধান আর হয় না।&rdquo;

শিক্ষা ও জনজীবনেও বিপর্যয়

নদীভাঙনের ধাক্কা শুধু বসতবাড়িতেই থেমে নেই। চরহোগলপাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও সামাজিক স্থাপনা নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। অবকাঠামো ধ্বংস হওয়ায় শিক্ষার পরিবেশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে স্কুলের শিক্ষার্থী আরিফ সরদার জানান, যেভাবে নদী ভাঙতেছে আমাদের নৌকায় উঠতে অনেক অনেক ভয় করে এ কারণে মাঝে মাঝে স্কুলে যায় না।

স্থানীয় বাসিন্দা জলিল বেপারী বলেন, &ldquo;রাতভর ড্রেজারের শব্দে ঘুমাতে পারি না। কিছু বলতে গেলে উল্টো ভয় দেখানো হয়।&rdquo;
শাহানুর আকন, সিদ্দিকী আকন, আজম হাওলাদার, রাজ্জাক হাওলাদারসহ একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলনের পর থেকেই নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অনেক পরিবার পাঁচ থেকে সাতবার পর্যন্ত ঘর সরাতে বাধ্য হয়েছে। তাদের দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা না গেলে এই জনপদ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।

মাদ্রা বাজারের বাসিন্দা বিল্লাল হোসাইন অভিযোগ করেন, অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট জড়িত। দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হবে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।

বিষয়ে ঝাউদি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম আবুল হাওলাদারের চাচাতো ভাই জাফর হাওলাদার বলেন, আমি নদীর পাড়ে একটি বরই বাগান ও আমের বাগান করেছিলাম কয়েক জনে মিলে। শামীম আকন নদীর পাড়ে মাটি ড্রেজার আলাদের কাছে বিক্রি করায় আমার সেই বাগান নদীর ভাঙ্গনে নদীর গর্ভ চলে গেছে। আমি ওরে বাধা দিলেও ও আমাকে লোক দিয়ে মারতে আসে। প্রশাসনের কাছে সাহায্য চাই।

হোগলপাতিয়া ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লোকমান বেপারী বলেন, &ldquo;তারা অনেক প্রভাবশালী। আমি প্রতিবাদ করলে আমার ওপরও হামলার আশঙ্কা আছে।&rdquo;

কালকিনি উপজেলার আলিনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহিদ পারভেজের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঝাউদি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম আবুল হাওলাদার বলেন, নদীভাঙনের বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ তাঁকে অবহিত করেননি বলে দাবি করেন।

প্রশাসনের বক্তব্য

মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সানাউল কাদের খান জানান, ঝাউদি ইউনিয়নে নদীতীর সংরক্ষণে একটি প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দলের পরিদর্শন শেষে প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু হবে।

মাদারীপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে জরিমানা ও আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে এবং এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জেলা প্রশাসক মিজ্ মর্জিনা আক্তার বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পৃথক ম্যাজিস্ট্রেট টিম নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা চলমান থাকবে।

আড়িয়াল খাঁর তীরে দাঁড়িয়ে এখন মানুষের একটাই প্রশ্ন অবৈধ ড্রেজারের গর্জন থামবে কবে? তার আগেই কি নদী গিলে খাবে এই জনপদের শেষ আশ্রয়টুকুও?

সান নিউজ/ জামান]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 13 Jul 2026 09:25:42 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[বর্ষার আগমনীতে মাদারীপুরে ব্যস্ত নৌকা কারিগররা]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/bangladesh/115965" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/bangladesh/115965</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[মাদারীপুরে বর্ষার আগমনীতে নৌকা তৈরি করতে ব্যস্ত সময় পাড় করছে মাদারীপুর জেলা র ৫ টি উপজেলার নৌকা তৈরীর কারিগররা। প্রকৃতি যেন জানান দিচ্ছে বর্ষা খুব দূরে নয়। মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর ও চরগোবিন্দপুর কাঠপট্টিতে এখন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শোনা যায় কাঠ কাটার শব্দ, হাতুড়ির ঠকঠক আর কারিগরদের ব্যস্ত পদচারণা।অপরদিকে কালকিনি উপজেলার সাহবরামপুর বাজার ও ডাসার উপজেলার শশিকর এলাকায় কারিগররা ব্যস্ত সময় পাড় করছে।

একসময় বর্ষা মানেই ছিল নৌকার রাজত্ব। এখনও জেলার অনেক নিচু ও নদীসংলগ্ন অঞ্চলের মানুষের কাছে নৌকাই ভরসার নাম। তাই বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে নতুন নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কারিগররা। পাশাপাশি হাট-বাজারেও শুরু হয়েছে নৌকা বিক্রির প্রস্তুতি।
কালকিনি, ডাসার ও শিবচর উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্রতিবছর বর্ষার পানিতে প্লাবিত হয়। শশিকর, নবগ্রাম, খাসেরহাট, মোল্লারহাট, লক্ষীপুর, কুলচরী, পিরারবাড়ি ও সিডিখানসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এসব অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে নৌকার প্রয়োজনীয়তা এখনও ফুরিয়ে যায়নি।

গোবিন্দপুরের নৌকা নির্মাতা বাদল হোসেন জানান, বছরের অধিকাংশ সময় তিনি আসবাবপত্র ও ঘরবাড়ির কাঠের কাজ করেন। তবে বর্ষা এলেই নৌকা তৈরির কাজে মনোযোগ দেন। তিনি বলেন, &ldquo;এই সময়টাতে কারিগরদের দম ফেলার সুযোগ থাকে না। একজন কারিগর দিনে একটি নৌকা তৈরি করতে পারে। মাদারীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে নৌকা কিনতে আসে। তবে আগের তুলনায় চাহিদা কিছুটা কমেছে। পানি বাড়লে বিক্রিও বাড়বে বলে আশা করছি।&rdquo;

বর্তমানে ৮ থেকে ১০ হাত দৈর্ঘ্যের একটি নৌকা ৬ থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকার ও কাঠের মান অনুযায়ী দাম আরও বাড়ে।
২৩ বছরের অভিজ্ঞ কারিগর ইয়াকুব মোল্লা জানান, পারিবারিকভাবে তারা কাঠমিস্ত্রির কাজের সঙ্গে জড়িত। বছরের অধিকাংশ সময় ঘর নির্মাণের কাজ করলেও বর্ষা মৌসুমে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, &ldquo;নৌকা বানিয়ে অন্য কাজের তুলনায় কিছুটা বেশি আয় হয়। তাই বর্ষাকালে এটি আমাদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করে।&rdquo;

নৌকা তৈরির এই মৌসুমি শিল্প শুধু ব্যবসা নয়, স্থানীয়দের জন্য এক ধরনের আকর্ষণও বটে। স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বাচ্চু বলেন, &ldquo;সারি সারি নতুন নৌকা সাজিয়ে রাখা হলে দেখতে খুব সুন্দর লাগে। অনেক মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে এগুলো দেখতে আসে। যদিও সড়ক যোগাযোগ উন্নত হওয়ায় নৌকার ব্যবহার কমেছে, তবুও বর্ষাকালে এর প্রয়োজনীয়তা এখনো রয়ে গেছে।&rdquo;

অন্যদিকে, কাঠ ব্যবসায়ী ইমরান তালুকদার আশঙ্কার কথা জানিয়ে বলেন, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হলে এবং দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হলে নৌকা ব্যবসায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে পারেন কারিগররা। তিনি বলেন, &ldquo;পানির আশায় অনেকেই আগেভাগে নৌকা তৈরি করেছেন। কিন্তু বন্যার পানি কমে গেলে সেই নৌকা বিক্রি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।&rdquo;

খোয়াজপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আজাদ তালুকদার স্মৃতিচারণ করে বলেন, &ldquo;একসময় বর্ষার বিকেল মানেই ছিল পরিবার নিয়ে নৌকাভ্রমণ। তখন নদী-খাল-বিলে নৌকার চলাচল ছিল স্বাভাবিক দৃশ্য। এখন সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নের কারণে মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে, ফলে নৌকার ওপর নির্ভরতা অনেক কমে গেছে।&rdquo;

মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব মনে করেন, নৌকা শুধু একটি বাহন নয়, এটি বাংলার ঐতিহ্যেরও অংশ। তিনি বলেন, &ldquo;গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে নৌকার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে কারিগরদের প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা প্রয়োজন।&rdquo;

সময়ের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে জীবনযাত্রা, উন্নত হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। তবুও বর্ষার জলরাশিতে ভেসে চলা নৌকা এখনও বাংলার গ্রামীণ সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রতীক। আর সেই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে মাদারীপুরের কারিগররা আজও কাঠের গায়ে স্বপ্নের জলযান গড়ে চলেছেন নিঃশব্দে।

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 04 Jul 2026 09:47:15 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[সড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ ডাম্প ট্রাক, ভোগান্তিতে পথচারী ]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/bangladesh/115859" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/index.php/news/article/bangladesh/115859</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[মাদারীপুরের শিবচরে সড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ ভাবে বালু ও মাটি ব্যবসায়ীদের অবৈধ ডাম্প ট্রাক। যার কারণে ভোগান্তিতে পথচারী ও এলাকাবাসী।

&lrm;সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কে শত শত ডাম্প ট্রাক অবাধে চলাচল করছে। উৎরাইল,থানা রোড, শিবরায়েরকান্দি, কলাতলা,শেকপুর,মাদবরেরচর, বহেরাতলা,চরশ্যামাইল,বাইপাস সড়ক,যাদুয়ারচর,ডিসি রোড, ফলে সড়কের অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটছে এবং জনদুর্ভোগ বাড়ছে।&rdquo;
&lrm;
শিবচর উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার অধিকাংশ সড়কে বালুবাহী অবৈধ ডাম্প ট্রাকের বেপরোয়া চলাচলে ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থী, পথচারী ও সাধারণ মানুষ। ভারী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক দিন দিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।&rdquo;
&lrm;
&lrm;স্থানীয়দের অভিযোগ, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কে শত শত ডাম্প ট্রাক অবাধে চলাচল করছে। ফলে সড়কের অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটছে এবং জনদুর্ভোগ বাড়ছে।&rdquo;
&lrm;
&lrm;জানা গেছে, শিবচর উপজেলায় প্রায় চার শতাধিক অবৈধ ডাম্প ট্রাক চলাচল করছে। এসব যানবাহনের অধিকাংশই অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের দ্বারা পরিচালিত। অনেক ট্রাকের ফিটনেস সার্টিফিকেট, ট্যাক্স টোকেন ও নাম্বার প্লেট নেই। খোলা ট্রাকে অতিরিক্ত বালু বহন করে বেপরোয়া গতিতে চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। একইসাথে ধুলাবালি ও শব্দদূষণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।&rdquo;
&lrm;
&lrm;বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সময় ডাম্প ট্রাকের দীর্ঘ সারির কারণে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হয়। দ্রুতগতিতে চলাচলকারী ট্রাক পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় ধুলাবালিতে রাস্তা ঢেকে যায়, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। অনেক শিক্ষার্থীকে ধুলাবালির মধ্যে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি করছে।&rdquo;
&lrm;
&lrm;স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিবচর উপজেলার বিভিন্ন বালুমহাল ও চরাঞ্চল থেকে প্রতিদিন শত শত ডাম্প ট্রাকে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয়। অধিকাংশ ট্রাক অতিরিক্ত বালু বহন করায় সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।&rdquo;
&lrm;
&lrm;এলাকাবাসীর দাবি, এসব অবৈধ ট্রাকের অধিকাংশ মালিক রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হলেও তা স্থায়ী কোনো ফল দিচ্ছে না। কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর পুনরায় ট্রাকগুলো সড়কে নেমে পড়ে।&rdquo;
&lrm;
&lrm;স্থানীয়রা জানায়, গ্রামীণ সড়কগুলো মূলত হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য নির্মিত হলেও ভারী ডাম্প ট্রাকের কারণে অনেক স্থানে ফাটল ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব সড়ক আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।&rdquo;
&lrm;
&lrm;অন্যদিকে সচেতন মহল মনে করে, অবৈধ ডাম্প ট্রাকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং অতিরিক্ত ভার বহন নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় সড়কের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি জনদুর্ভোগ আরো বৃদ্ধি পাবে।&rdquo;
&lrm;
&lrm;স্থানীয় জনগণ অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং দিনের বেলায় বালুবাহী ডাম্প ট্রাক চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত ও সড়ক রক্ষায় অবৈধ ডাম্পট্রাক নিয়ন্ত্রণ এখন সময়ের দাবি।&rdquo;
&lrm;
&lrm;এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান বলেন, &lsquo;একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছে। এসব যানবাহনের চলাচলে বিভিন্ন বিধিনিষেধ রয়েছে। দিনের বেলায় বালুবাহী ডাম্প ট্রাক চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। খুব শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।&rdquo;

সান নিউজ/ জামান]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 30 Jun 2026 10:24:55 +0000</updated>
        </entry>
    </feed>
