<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<feed xmlns="http://www.w3.org/2005/Atom">
                        <id>https://www.sunnews24x7.com/feed/opinion</id>
                                <link href="https://www.sunnews24x7.com/feed/opinion"></link>
                                <title><![CDATA[Sunnews opinion Feed]]></title>
                                <description>Sunnews Latest opinion News Feeds</description>
                                <language>bn-BD</language>
                                <updated>Wed, 08 Jul 2026 12:54:36 +0000</updated>
                        <entry>
            <title><![CDATA[দুই বাংলার দুই নতুন সরকার কি নজর দেবেন মৈত্রী-বন্ধন এবং উত্তরের মিতালী এক্সপ্রেসে? ]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/116069" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/116069</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[১৯৪৭ সালে দেশভাগ হওয়ার আগে এপার এবং ওপার বাংলার যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে খোলা ছিল কলকাতা থেকে ঢাকা সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ তথা উত্তর-পূর্ব ভারতের দিকে দেশীয় রাজ্য কোচবিহার-এর সঙ্গে বর্তমান বাংলাদেশ-এর রেল যোগাযোগের ইতিহাস ছিল সোনালী। ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত কোচবিহার স্টেট রেলওয়ে উত্তরবঙ্গকে তৎকালীন পূর্ববঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করেছিল। ১৮৯৩-৯৪ সালে দেশীয় কোচবিহারের মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণ কোচবিহার স্টেট রেলওয়ে চালু করেন। প্রথমে এই রেলপথ তোর্ষা নদীর তীর থেকে গিতালদহ পর্যন্ত নির্মিত হয়। গিতালদহ ছিল তৎকালীন ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ জংশন, যেখান থেকে সরাসরি রেলপথ গিয়েছিল লালমনিরহাট হয়ে ঢাকার দিকে। এই রেলপথের দেশভাগের আগে কোচবিহার থেকে গিতালদহ হয়ে বর্তমান বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরাসরি ট্রেন চলাচল করত। তবে দেশভাগ ও পরবর্তীতে ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান, বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধ সংঘাত ব্যাঘাত ঘটায় সেই পরিষেবায়। এরপর মাঝে কিছু মালবাহী ট্রেন লালমণিহাটের মোগলহাট হয়ে গীতালদহ দিয়ে ভারতে চলাচল করলেও নদীভাঙনে একাধিক ব্রিজ ভেঙে পড়ায় দুই দেশের উত্তরবঙ্গে একেবারেই অচল হয়ে ভারত-বাংলাদেশের রেলপরিষেবা। মোগলহাট স্টেশনটি দাঁড়িয়ে আছে ভগ্নপ্রায়। এর সুদূরপ্রসারী প্রভাবও পড়ে দুই দেশে।

এরপর তিস্তা-মেঘনা-গঙ্গা- পদ্মা দিয়ে বয়ে গিয়েছে বহু জল। জলের হিসেব তো আজো মেলেনি, কিন্তু ২০০১ সালে ভারত-বাংলাদেশের তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে প্রথম কলকাতা থেকে ঢাকার উদ্দ্যেশ্যে ট্রায়াল রান সম্পন্ন করে একটি ট্রেন। ভারত-বাংলাদেশের তৎকালীন সরকার মিলিত ভাবে যার নামকরণ করে মৈত্রী এক্সপ্রেস। ট্রেনটির আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করে ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল থেকে। ভারতে সবুজ পতাকা দেখিয়ে ট্রেনটির উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরবর্তীতে প্রথম বাঙালী ভারতীয় রাষ্টপতি প্রণব মুখার্জী। ট্রেনটি প্রথম দিকে সপ্তাহে ১ দিনের জন্যে চালু হলেও পরবর্তীতে কলকাতার চিৎপুর স্টেশন থেকে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন পর্যন্ত সপ্তাহে ৫ দিন ধরে যাতায়াত করতে শুরু করে। এই ট্রেন শুধুমাত্র দুই দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করেছিল এমনটা নয়, আন্তর্জাতিক বানিজ্যের পথও প্রসারিত করে। তৎসহ দুই প্রান্তের মানুষের চলাচলে স্মৃতির পাতা থেকে বাস্তবের ফ্রেমে উঠে আসে অনেক আবেগঘণ মুহূর্ত। ফেলে রাখা দিনের স্মৃতি ও ইতিহাস। এই উন্নয়নের পথকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে ২০১৭ সালে মৈত্রী এক্সপ্রেসে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরা ও এলএইচবি কোচের সংযোগ করা হয় ভারতীয় রেলমন্ত্রকের তরফে।

এরপর একই সূত্র ধরে ৫২ বৎসর পর কোলকাতা ও খুলনার সাথে যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে চালু হয় বন্ধন এক্সপ্রেস। বন্ধন শব্দের অর্থ হল সংযোগ। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্বের অন্যতম সংযোগকারী, এই ট্রেনের পরিষেবা চালু হয় ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর। এই ট্রেনে উভয় দেশের বগি ও ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয় যার ফলে যাত্রীদের সীমান্তে ট্রেন পরিবর্তন করতে হতো না। অতএব ইমিগ্রেশন ব্যবস্হাকে অনেক সহজ করা সম্ভব হয়। রাজনৈতিক অস্হিরতা ও নিরাপত্তাজনিত কারনে এই ট্রেনটিও ১৮ জুলাই ২০২৪ সাল থেকে বন্ধ হয়ে আছে ।

কিন্তু মৈত্রী ও বন্ধন এক্সপ্রেস কলকাতা থেকে ঢাকা পর্যন্ত চলাচল করার ফলে দুই দেশের উত্তরবঙ্গ ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকা বা বাংলাদেশের সরাসরি রেল যোগাযোগব্যবস্থা ছিল না। সীমান্ত ছাড়িয়ে বাংলা ভাষার এই বিস্তৃত জমিনে যোগাযোগের সেই প্রতিকূলতা কাটাতেই ২০২১ সালের ২৬ মার্চ আমজনতার কথা মাথায় রেখে এবং ভারত বাংলাদেশের মিত্রতাকে আরোও দৃঢ় করে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্য দিয়ে দুটি দেশেরই সীমান্তবর্তী বাণিজ্য ও ট্যুরিজমের অগ্রগতি সাধনে দুই দেশের সদিচ্ছায় এবং জনগণের কল্যাণে আরও একটি ট্রেনের উদ্বোধন হয়। যার নামকরণ করা হয় মিতালী এক্সপ্রেস। ২০২১ সালে এই ট্রেনের উদ্বোধন হলেও যাত্রা শুরু হয় ২০২২ সালের ১ জুন থেকে। এই ট্রেনটি শিলিগুড়ির নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন (এনজেপি) থেকে যাত্রা শুরু করে পৌঁছাতো ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন পর্যন্ত। শিলিগুড়ি (এনজেপি) থেকে ট্রেনটি ছাড়তো সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে আর ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে পৌঁছাতো রাত সাড়ে ১০টায়, মোট সময় লাগতো ১০ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট।

উত্তর-পূর্ব ভারতের গেটওয়ে বলে কথিত শিলিগুড়ি শহর রেল যোগাযোগ মাধ্যম একদিকে যেমন সিকিম, অসম, অরুণাচল, মেঘালয়, মিজোরাম এবং ত্রিপুরার মতো প্রতিবেশী রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত অন্যদিকে ট্রেন লাইনে যুক্ত হয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভুটানের প্রান্তদেশ পাশাকা থেকে নেপাল সীমান্তের নকশালবাড়ী পানিট্যাঙ্কি। ইদানিংকালে এই এলাকার যোগাযোগ-ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি এই এলাকার বাণিজ্যিক পরিসরের ব্যাপক উন্নতি সাধন ঘটিছে। তাই মিতালি এক্সপ্রেসের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে আক্ষরিক অর্থেই উত্তর-পূর্ব ভারতের ও তৎসংলগ্ন দেশগুলির সরাসরি সংযোগস্থাপন ঘটে। শুধুমাত্র পর্যটন নয়, এই সংযোগস্থাপন দুই দেশের স্বাস্থ্য ট্যুরিজম এমনকি আমদানী-রপ্তানী বানিজ্যের এক পথপ্রদর্শক হিসেবে ভুমিকা নিতে শুরু করে।

এই পরিবর্তনের প্রভাবে যাত্রীদের কাছে আরো জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই ট্রেন। ক্রমবর্ধমান ভাবে বাড়ে যাত্রী সংখ্যা। উন্নত চিকিৎসা, শিক্ষা, পর্যটন ও দেশি-বিদেশি নানাবিধ শহরের যোগাযোগের জন্যও অচিরেই উত্তরবঙ্গ প্রবেশের ভরসার মাধ্যম হয়ে ওঠে এই ট্রেন। এই রেল পরিষেবা চালুর সময় জরুরীকালীন পরিস্থিতিতে শিলিগুড়ি শহর (এনজেপি)- তে ২০২২ সালের ৭ এপ্রিল থেকে কার্যকরী হয় অভিবাসন দপ্তরের কাজকর্ম। তবে ২০২০ সালে করোনা পরিস্থিতিতে জনজীবন স্তব্ধ হয়ে গেলে প্রথম একবার বন্ধ রাখা হয় এই ট্রেন। ২০২২ সালে পুনরায় তা চালু হলেও বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে দুই দেশের মধ্যে এই দুই ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য।

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই পুনরায় ট্রেন দুটি চালুর বিষয়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের সাথে যোগাযোগকারী মিতালি এক্সপ্রেস ঘিরে উঠেছে গুঞ্জন ও আলোড়ন। কেননা এই এলাকার মানুষ জনের মাঝে প্রথিত রয়েছে আবেগ দেশভাগ ও ইতিহাসের এক নিবিড় সংযোগ।

সেই সূত্র ধরে ভারতীয় উত্তরবাংলার প্রান্ত থেকে বাংলাদেশে চলে যাওয়া বিশিষ্ট মানুষজনের মধ্যে সর্বাগ্রে নাম নিতে হয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি-র অন্যতম প্রধান নেতা তথা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার শেকড় উত্তরবঙ্গের সঙ্গে জড়িত। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট ব্রিটিশ ভারতের অবিভক্ত দিনাজপুরের অংশ জলপাইগুড়ি শহরে জন্মগ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। জলপাইগুড়ির নয়াবস্তি এলাকায় কেটেছে তার শৈশব। ১৯৫০-এর দশকের শুরুতে বা দেশভাগের পর, তাঁর পরিবার জলপাইগুড়ি ছেড়ে পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) দিনাজপুরে চলে যান। জলপাইগুড়ি শহরে আজও তিনি স্থানীয়দের কাছে &#39;পুতুল&#39; নামেই পরিচিত। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে তার সম্পর্ক শুধুমাত্র জন্মস্থান কিংবা শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সীমান্ত বাণিজ্য এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের আলোচনায় খালেদা জিয়ার নাম বিভিন্ন সময় উঠে এসেছে। বিশেষ করে ট্রানজিট, সীমান্ত নিরাপত্তা ও উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ইস্যুতে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান বারবার আলোচিত হয়েছে। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের পাশাপাশি এই বঙ্গেও নেমে আসে শোকের ছায়া।

অন্যদিকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা বলে পরিচিত হুসেন মহম্মদ এরশাদ এর জীবনও উত্তরবঙ্গের এর সাথে জড়িত। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাকে উত্তরবঙ্গের নেতাও বলা হত। সংস্কৃতি জগতের অন্যতম ব্যক্তিত্ব গায়ক আব্বাসউদ্দীনও ছিলেন উত্তরের বাসিন্দা। অন্যদিকে সীমানা পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর প্রান্তে চলে আসে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, সতীনাথ ভাদুড়ি, দেবেশ রায়, অমিয়ভূষণ মজুমদার, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের মতো অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব। এই তালিকা অতএব দীর্ঘ।

এইভাবে যারা দেশভাগের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরেছিলেন, তাদের জন্য সেইসব পরিবারের জন্য এইসব ট্রেন আসলে একটি আবেগের সেতুবন্ধন। তাদের মাধ্যমে দুই বাংলার মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, ভাষা ও সংস্কৃতির মিল আরও দৃঢ় হয়। পরিব্যপ্তি ঘটে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক দিক থেকে মিতালি এক্সপ্রেসের গুরুত্ব অপরিসীম। দুই বাংলার এই দুটি প্রান্ত দুই দেশের জন্যই একটি বড় ও সম্ভাবনাময় বাজার হওয়ায়, এই দুই এক্সপ্রেস ট্রেন চালু থাকলে ব্যবসায়ীদের যাতায়াত সহজ হয় এবং সীমান্ত বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে স্থানীয় ব্যবসা, পরিবহন ও লজিস্টিক খাত চাঙ্গা হয় এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। সীমান্ত অঞ্চলের উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এই ট্রেন সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। উত্তরের দিকে ভারত&ndash;বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় বিভিন্ন স্থলবন্দর ও সীমান্ত হাট রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন প্রচুর বাণিজ্যিক কার্যকলাপ হয়। এই ট্রেন দুটি চালু থাকলে মানুষের চলাচল বাড়বে, বাজার সক্রিয় হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি, নিয়মিত যোগাযোগ থাকলে সীমান্তে নিরাপত্তা ও নজরদারিও বাড়ানো সম্ভব, যা অবৈধ পাচার কমাতে সহায়ক হবে। এছাড়াও দার্জিলিং, ডুয়ার্স, কালিম্পংয়ের মতো উত্তরবঙ্গের পর্যটন কেন্দ্রগুলো বাংলাদেশী পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। ট্রেন পরিষেবা চালু থাকলে পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হবে, যার ফলে ভারতের হোটেল, পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব পরবে। এছাড়া বর্তমানে উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতে রয়েছে মনিপাল, মেদান্ত, এ্যাপেলো, টাটা গ্রুপের উন্নতমানের হাসপাতাল পরিষেবা। এই ট্রেন দুটি পুনরায় চালু হলে তার পরিষেবার পরিসর অতিসহজে পৌঁছাবে বাংলাদেশেও।

লালমনিরহাটের মোগলহাটের বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও বুড়িমারী সিএনএফ বন্ধু ট্রেডার্সের কর্নাধার শামীম হোসেন জানান, মোগলহাটের মানুষ চায় আবারও ট্রেনের সংযোগ স্হাপিত হোক কোচবিহারের সাথে। এমন মতামত পোষন করেন এমন লোকজনের সংখ্যা অসংখ্য।

ভিসা জটিলতা কেটে গেলে, এই ট্রেন পরিষেবা আবার চালু হলে সীমান্ত অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এবং ভারত&ndash;বাংলাদেশ সম্পর্কের অগ্রগতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হবে বলেই মনে করছেন দুই দেশের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সকলেই। দুই দেশের সরকার আলোচনার মাধ্যমে এবং সঠিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অতিসত্বর এই রেল পরিষেবা আবার চালু করবেন, সেই আশায় তাঁরা নিচ্ছেন আবেগের আঁচ।


লেখক জনসংযোগ বিশেষজ্ঞ।]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 08 Jul 2026 12:54:36 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[এখনই পদক্ষেপ নিন: জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/115976" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/115976</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[সোশ্যাল মিডিয়ার ফিড স্ক্রল করলেই আমাদের চোখে পড়বে ছোট ছোট কিছু ভাইরাল ভিডিও, যা দেখে মনে হয় এক অবক্ষয়ী পৃথিবী যেন নিজের ভারেই গলে যাচ্ছে। এগুলো কোনো বড় বাজেটের বা হলিউডের কোন ডিস্টোপিয়ান (দুঃস্বপ্নময় ভবিষ্যৎ) চলচ্চিত্রের অংশ নয়। এগুলো আমাদের চারিদিকে ঘটে যাওয়া চরম বাস্তবতা থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে স্মার্টফোনে ধারণ করা কিছু সুস্পষ্ট বার্তা।

 

এই ভিডিওগুলোতে দ্রুত উষ্ণ হতে থাকা পৃথিবী নামক এক গ্রহের পরিণতিগুলো স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ভিডিওগুলোতে আমরা দেখছি মানুষ সরাসরি কংক্রিটের ওপর ডিম ভেঙে দিচ্ছে এবং জ্বলন্ত সূর্যের তাপে তা মুহূর্তের মধ্যে ভাজা হয়ে যাচ্ছে। আমরা আরো দেখছি পাকা হাইওয়ের ওপর পানি বুদবুদ করে ফুটছে এবং কুচকুচে কালো পিচ নরম হয়ে আঠালো ও গলিত কাদার মতো রূপ নিচ্ছে। পথচারীরা রাস্তা পার হওয়ার সময় তাদের জুতোর তলা গলে যাওয়ার দৃশ্য ক্যামেরায় বন্দি করছেন, অন্যদিকে পথশিশু ও স্থানীয় বন্যপ্রাণীরা ছায়ার খোঁজে মরিয়া হয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছুটছে, কারণ মাটির চামড়া পুড়িয়ে দেওয়ার মত উত্তাপ তারা সহ্য করতে পারছে না।

 

এই ভাইরাল ক্লিপগুলো আসলে ডিজিটাল সতর্কবার্তা। এগুলো এক বিপজ্জনক ভবিষ্যতের একটি বাস্তব এবং অনস্বীকার্য পূর্বাভাস, যা এখন আর আমাদের দিকে ধীর পায়ে এগিয়ে আসছে না - বরং ইতিমধ্যেই আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে।

 

ডাইনোসরের সতর্কবার্তা (একটি বিলুপ্তির রূপক): অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া জলবায়ু বিষয়ক অসংখ্য কনটেন্টের মধ্যে একটি বিশেষ ভিডিও সবার নজর কেড়েছে। এতে দেখা যায়, একটি সিজিআই (কম্পিউটার-জেনারেটেড ইমেজারি) ডাইনোসর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ছে। সেই প্রাগৈতিহাসিক বিশাল জীবটি অত্যন্ত গম্ভীরভাবে করিডোর দিয়ে হেঁটে মঞ্চে ওঠে, মঞ্চের মাইক্রোফোনটি ঠিক আছে কিনা তা দেখে নেয় এবং তারপর জাতিসংঘের সমাবেশে উপস্থিত বিশ্বনেতা ও উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেয়।

 

ভাষণমঞ্চ থেকে ডাইনোসরটি গর্জে উঠে বলে: &quot;গ্রহাণুর পতন থেকে আপনারা কোনো শিক্ষা নেননি, যার কারণে আমরা ধ্বংস হয়েছিলাম এবং নির্মমভাবে মারা গিয়েছিলাম। এখন আমরা এই গ্রহে আর নেই। আপনারা কি এই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের মতো পরিণতি ভোগ করতে চান? সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। তাই আপনাদের প্রিয় প্রজন্মকে বাঁচাতে এখনই পদক্ষেপ নিন। ধন্যবাদ।&quot;

 

ভিডিওটি আমাদের মনোযোগ কাড়তে ডিজিটাল চাতুর্যের আশ্রয় নিলেও, এর পেছনের মূল যুক্তিটি শিউরে ওঠার মতো সত্য। ডাইনোসররা তাদের বিলুপ্তি নিজে থেকে বেছে নেয়নি; একটি আকস্মিক, বিপর্যয়কর মহাজাগতিক ঘটনা তাদের শেষ নির্ধারণ করেছিল। অন্যদিকে, মানবজাতি নিজেই সক্রিয়ভাবে নিজের চুড়ান্ত অধ্যায়টি লিখছে। আমরাই সেই গ্রহাণু। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর আমাদের অবিরাম নির্ভরতা, বন উজাড় এবং টেকসইহীন শিল্পায়নের মাধ্যমে আমরা জেনেশুনে, স্বেচ্ছায় এবং রিয়েল-টাইমে একটি ষষ্ঠ গণবিলুপ্তির (Sixth Mass Extinction) সূচনা করছি। বিজ্ঞানীদের মতে, আগের পাঁচটি গণবিলুপ্তির মতো এটিও একটি বৈশ্বিক বিলুপ্তির ঘটনা হবে, তবে এর প্রধান কারণ প্রাকৃতিক নয়; বরং মানুষের কর্মকাণ্ড।

 

ডাইনোসরের এই বক্তব্য আধুনিক সভ্যতার চরম পরিহাসকে তুলে ধরে: আমাদের ভবিষ্যৎ দেখার এবং নিজেদের পতন গণনা করার এক অনন্য ক্ষমতা রয়েছে, তবুও আমরা এ বিষয়ে কিছু না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে যাচ্ছি। আমরা যদি জলবায়ু নিয়ে এই নিষ্ক্রিয়তার পথে হাঁটতেই থাকি, তবে আমরা কেবল একটি মুমূর্ষু পৃথিবীই পাব না; বরং আমরা এমন এক পৃথিবী রেখে যাব যা হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বসবাসের অযোগ্য।

 

বৈশ্বিক প্রজ্ঞা (একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান): জলবায়ু পরিবর্তনের সংকটকে প্রায়শই কেবল বিজ্ঞান ও অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হয়। এই সংকট নিয়ে সাধারণত বিভিন্ন সংখ্যা এবং নীতিমালার আলোকে আলোচনা করা হয় &ndash; যেমন: বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ (পার্টস পার মিলিয়ন-পিপিএম), নবায়নযোগ্য শক্তির গিগাওয়াট এবং কার্বন ট্যাক্স। কিন্তু এই বিজ্ঞান ও অর্থনীতির গভীরে একটি বড় সত্য লুকিয়ে আছে: জলবায়ু পরিবর্তন মূলত একটি গভীর নৈতিক ও আদর্শিক ব্যর্থতা। এটি বৈশ্বিক দায়িত্ববোধের এক মারাত্মক বিপর্যয়কে নির্দেশ করে।

 

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে ২০২৫ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সম্মেলন কপ-৩০ (COP30) -এ জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়ে কোন সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এর ফলে কার্বন নিঃসরণ কমানোর বৈশ্বিক প্রচেষ্টা দারুনভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যার কারণে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন অব্যাহত থাকবে এবং এর বিরূপ প্রভাব বিশ্বজুড়ে আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এটা মানবজাতির প্রতি আমাদের দায়িত্ববোধের চরম অবহেলা; এখানে বিজ্ঞানের যৌক্তিক অবস্থানের চেয়ে অর্থনৈতিক সুবিধাকেই সমর্থন করা হয়েছে।

 

২০২৪ সালের তথ্য উল্লেখ করে যে, দেশভিত্তিক কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) নির্গমনের মোট হিসাব অনুযায়ী বিশ্বের শীর্ষ তিনটি নির্গমনকারী দেশের তালিকায় যারা রয়েছে সেগুলো হল; চীন: বৈশ্বিক কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) নির্গমনের প্রায় ৩৩% করে থাকে; যুক্তরাষ্ট্র: বৈশ্বিক কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) নির্গমনের প্রায় ১২% করে থাকে; এবং ভারত: বৈশ্বিক কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) নির্গমনের প্রায় ৮% করে থাকে। এই পরিসংখ্যানগুলো দেখায় যে, জলবায়ু সংকট পুরো বিশ্বকে প্রভাবিত করলেও, এর জবাবদিহিতার দায়ভার মূলতঃ কয়েকটি বড় দেশের ওপরই বর্তায়। কার্বন নির্গমনের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করছে বিশ্বের দরিদ্র জনগোষ্ঠী, যদিও এই সংকট সৃষ্টিতে তাদের অবদান খুবই সামান্য।

 

আমরা যদি আমাদের আধুনিক রাজনৈতিক বিভেদগুলো ভুলে মানব ইতিহাসের মৌলিক আধ্যাত্মিক গ্রন্থগুলোর দিকে তাকাই, তাহলে আমরা একটি অসাধারণ ঐক্যবদ্ধ বার্তা দেখতে পাব। বিভিন্ন যুগ, সংস্কৃতি এবং ভূগোলের সীমানা ছাড়িয়ে, বিশ্বের মহান দর্শনগুলো সবসময় আমাদের সতর্ক করেছে যে - আমাদের বর্তমান কর্মই আমাদের বেঁচে থাকা নির্ধারণ করে। কর্ম এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রচলিত কিছু মৌলিক দর্শন এখানে দেওয়া হলো:

 

&middot;বাইবেল-অনুপ্রাণিত (Bible-inspired): &ldquo;আজ আমরা যা বপন করব, আগামীকাল তারই ফসল কাটব।&rdquo;

&middot;কোরআন মতে (Qur&rsquo;anic way): &ldquo;আজ তোমরা যে প্রচেষ্টা করবে, আগামীকাল তারই মুখোমুখি হবে।&rdquo;

&middot;গীতা-অনুপ্রাণিত (Gita-inspired): &ldquo;আজ সৎকর্মে মনোনিবেশ করো; এর ওপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যৎ উন্মোচিত হবে।&rdquo;

&middot;ত্রিপিটক-শৈলী (Tripitaka-style): &ldquo;আজকের কর্মই নির্ধারণ করে আগামীকালের রূপ।&rdquo;

 

একটি শক্তিশালী অভিন্ন সূত্র এই বৈচিত্র্যময় বিশ্বাস ব্যবস্থাগুলোকে একসাথে বেঁধে রেখেছে: আজকের সিদ্ধান্তগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আন্তঃসাংস্কৃতিক এবং আধ্যাত্মিক ঐক্য প্রমাণ করে যে, জবাবদিহিতা একটি সার্বজনীন মানবীয় নিয়ম। আমরা যদি আজ পরিবেশের ক্ষতি, বাস্তুতন্ত্রের ধ্বংস এবং বিষাক্ত গ্যাস নির্গমন করি, তবে আগামীকাল আমরা স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্য এবং সমৃদ্ধির ফসল কাটার আশা করতে পারি না। অবহেলার জন্য মহাবিশ্ব কাউকে ছাড় দেয় না। ভবিষ্যৎ কোনো লটারি নয়; এটি একটি চলমান ক্যানভাস যা পুরোপুরি আমাদের বর্তমানের তুলির টানে রূপ নেয়।

 

আধুনিক সমাজের স্ফুটনাঙ্ক: পর্দায় আমরা যে গলে যাওয়া জুতো এবং ফুটন্ত রাস্তা দেখছি, তা আসলে একটি গভীর পদ্ধতিগত (Systemic) ব্যর্থতার বাস্তব লক্ষণ। তীব্র তাপ্রবাহ এখন আর কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এগুলো গ্রীষ্মকালের সাধারণ নিয়মে পরিণত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, পৃথিবীর উষ্ণায়ন রোধ করতে কার্বন নির্গমন কমানো অত্যন্ত জরুরি একটি পদক্ষেপ অথচ আমরা আমাদের দায়িত্ববোধের পরিচয় দিচ্ছি না।

 

যখন পিচঢালা রাস্তা এবং গণপরিবহন নেটওয়ার্কের অবকাঠামো গলতে শুরু করে, তখন এটি ইঙ্গিত দেয় যে, আমাদের পৃথিবী এমন একটি জলবায়ুর জন্য তৈরি করা হয়েছিল যার অস্তিত্ব এখন আর নেই; যা আমরা নিজেরাই ধ্বংস করেছি। এর অর্থনৈতিক ক্ষতি যেমন আকাশচুম্বী, তেমনি মানবিক ক্ষতি আরও অনেক গুণ বেশি। দিনমজুর, কৃষি শ্রমিক এবং শহরের দরিদ্র মানুষ - যাঁরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বুদবুদের মধ্যে আশ্রয় নিতে পারেন না - তাঁরাই এই তাপীয় আগ্রাসনের মূল শিকার হতে বাধ্য হন।

 

তাছাড়া, এই চরম উত্তাপ একটি দুষ্টচক্রের (Vicious Cycle) সূচনা করে যা হল: ১) উচ্চ তাপমাত্রার কারণে আরও বেশি এয়ার কন্ডিশনারের প্রয়োজন হয়; ২) শীতলীকরণ ব্যবস্থার বৃদ্ধি বৈদ্যুতিক গ্রিডের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং আরও বেশি জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ায়; এবং ৩) বেশি নির্গমন আরও বেশি তাপ আটকে রাখে, যা তাপমাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এই চক্রটি ভাঙতে হলে আমরা যেভাবে জীবনযাপন করি, শহর গড়ে তুলি এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা করি, সেখানে একটি বিশাল পরিবর্তন আনতে হবে।

 

সচেতনতার গণ্ডি পেরিয়ে এখন দরকার সঠিক পদক্ষেপ। কেবল সচেতনতা আর আমাদের বাঁচাতে পারবে না। আমরা হলাম মানব ইতিহাসের সবচেয়ে তথ্যসমৃদ্ধ প্রজন্ম; আমরা প্রতিদিন আমাদের ফোনে এই ধ্বংসলীলা প্রত্যক্ষ করছি। আমাদের তথ্যের কোন অভাব নেই, অভাব রয়েছে সম্মিলিত এবং আপসহীন বাস্তবায়নের। আমাদের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে এবং আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে, এই তিনটি স্তরে একযোগে কাজ করতে হবে:

 

১. পদ্ধতিগত জবাবদিহিতা ও নীতিগত রূপান্তর: ব্যক্তিগত জীবনধারার পরিবর্তন প্রশংসনীয় হলেও, শিল্পকারখানার নির্গমনের তুলনায় তা উষ্ণ হতে থাকা মহাসাগরে এক ফোঁটা পানির মতো। সরকারকে এমন আগ্রাসী নীতি কাঠামো তৈরি করতে হবে যা কার্বন উৎপাদনকে নিরুৎসাহিত করবে এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্পগুলোতে ভর্তুকি দেবে। এর অর্থ হলো জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকি বন্ধ করা, কর্পোরেশনগুলোর জন্য নেট-জিরো লক্ষ্যমাত্রা বাধ্যতামূলক করা এবং আগামী দিনের প্রতিকূল জলবায়ু সহ্য করতে পারে এমন পাবলিক অবকাঠামোতে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করা।

 

২. কর্পোরেট দায়িত্ব: বৈশ্বিক ব্যবসায়িক খাতকে পরিবেশগত স্থিতিশীলতার বিনিময়ে স্বল্পমেয়াদী মুনাফার পুরোনো মডেল থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রকৃত টেকসইতার জন্য প্রয়োজন সরবরাহ চেইনের সম্পূর্ণ সংস্কার, এমন এক ঘূর্ণায়মান অর্থনীতির (Circular Economy) দিকে যাত্রা যেখানে বর্জ্য পুরোপুরি দূর করা এবং শতভাগ নবায়নযোগ্য শক্তির উৎসের দিকে অবিলম্বে ধাবিত হওয়া। পাশাপাশি ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপন দরকার।

 

৩. নাগরিক ও সামাজিক সমাবেশ: ইতিহাস সাক্ষী দেয় যে, পরিবর্তন সবসময় তৃণমূল থেকে শুরু হয়। নাগরিক, ভোক্তা এবং ভোটার হিসেবে আমাদের হাতে বিশাল ক্ষমতা রয়েছে। আমাদের চারপাশের প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে আরও ভালো কিছু দাবি করার জন্য আমাদের কণ্ঠস্বর এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করতে হবে। আমাদের এমন নেতাদের ভোট দিতে হবে যাঁরা জলবায়ু সংকটকে জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করেন, এমন ব্যবসাকে সমর্থন করতে হবে যা পৃথিবীকে প্রাধান্য দেয় এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে টেকসই অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

 

সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে: জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়ানো সেই ভার্চুয়াল ডাইনোসর আমাদের কাছে একটি ভয়ানক প্রশ্ন রেখে গেছে: আপনারা কি আমাদের মতো পরিণতি মেনে নিতে চান? উত্তর যদি সমস্বরে &#39;না&#39; হয়, তবে আমাদের আচরণে আজই সেই সিদ্ধান্তের প্রতিফলন ঘটতে হবে। সময় এমন কোনো বিলাসিতার বস্তু নয় যা আমাদের হাতে আছে। আমরা প্রতি ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধি যতটা রোধ করতে পারব, তা লক্ষ লক্ষ জীবন বাঁচাবে, অমূল্য বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করবে এবং আমাদের সন্তানদের জন্য একটি স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে। তাই এগিয়ে আসুন; আর সঠিক পদক্ষেপ নিন।

 

আমরা মানব ইতিহাসের এক অনন্য এবং ভয়ানক মোড়ে দাঁড়িয়ে আছি। আমরাই প্রথম প্রজন্ম যারা জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র প্রভাব অনুভব করছি, এবং আমরাই শেষ প্রজন্ম যাদের হাতে এ বিষয়ে কিছু করার ক্ষমতা রয়েছে। আগামী কয়েক বছরে আমাদের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর প্রতিধ্বনি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বাজবে। আসুন আমরা নিশ্চিত করি যে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যখন এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের দিকে ফিরে তাকাবে, তখন তারা যেন আমাদের এমন এক প্রজাতি হিসেবে মনে না রাখে যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ঘর পুড়তে দেখেছে, বরং এমন এক প্রজাতি হিসেবে মনে রাখে যারা অবশেষে জেগে উঠেছিল, ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো বন্ধ করেছিল এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় পদক্ষেপ নিয়েছিল।

ফ্রিল্যান্স লেখক]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 04 Jul 2026 11:29:03 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ফুটবলপাগল বাংলাদেশ কেন বিশ্ব ফুটবলে এত পিছিয়ে?]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/115723" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/115723</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাংলাদেশ জুড়ে এখন চলছে ফুটবল উন্মাদনা। রাতভর বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার উৎসব। গোটা দেশ যেন দুই ভাগে বিভক্ত, আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিল। অবশ্য এর বাইরেও কয়েকটি দলের সমর্থকও নেহাতই কম নয়। এমবাপ্পের ফ্রান্স, রোনালদোর পর্তুগাল, হ্যারি কেইনের ইংল্যান্ড, হাকিমির মরক্কো, চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানির সমর্থক আছেন অনেক। এবারের বিশ্বকাপে দুটি ড্র করে হইচই ফেলে দেওয়া ৬ লাখ মানুষের দেশ নবাগত কেপ ভার্দের বাংলাদেশি সমর্থক নিশ্চিতভাবেই সে দেশের জনসংখ্যার চেয়ে বেশি। বাংলাদেশে শহর থেকে গ্রামে বড় স্কিনে খেলা দেখার আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ফুটবল খেলা দেখা। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলের খেলার দিন টিএসসি চত্বর যেন এক টুকরো আর্জেন্টিনা কিংবা ব্রাজিলে রূপ নেয়। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নয়, বিভিন্ন স্তরের মানুষ খেলা দেখতে আসেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। এখানে খেলা দেখতে এসে আপনি মনে করতেই পারেন হয়তো কোনো স্টেডিয়ামে খেলা দেখছেন। লিওনেল মেসির বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ড করার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হলে এসে খেলা উপভোগ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের উল্লাসের মধ্যে রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসো বলেন, &lsquo;আমি নিজের দেশের মতো অনুভব করছি। মনে হচ্ছে, আমি আর্জেন্টিনায় আছি।&rsquo; এভাবেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়। বড় পর্দায় খেলা দেখানোর ব্যবস্থা সব হলে। ঢাবি ছাড়াও সারা দেশে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিশ্বকাপ উপলক্ষে চলে জমকালো আয়োজন। শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নয়, এখন পাঁচতারকা হোটেল থেকে বিভিন্ন ক্যাফে এবং রেস্টুরেন্টে চলছে বিশ্বকাপের বিশেষ আয়োজন। বাসাবাড়িতেও বিশ্বকাপ উপলক্ষে রাত জেগে খেলা দেখার ধুম পড়েছে। তরুণ-তরুণীরা তাদের পছন্দের দলের জার্সি গায়ে খেলা উপভোগ করেন। অনেকেই পুরো বিশ্বকাপের সময় পছন্দের জার্সি পরেই থাকেন। সারা বাংলাদেশ যেন ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকায় ছেয়ে গেছে। তার ফাঁকফোকর দিয়ে কিছু ফ্রান্স, জার্মান ও পর্তুগালের পতাকা দেখা যায়। কয়েকটি গ্রাম তো আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলের পতাকার সাজে সাজানো হয়েছে। এই দুই দলের সমর্থকরা দলের বিজয়ে মিছিল করেন। নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে মিষ্টি বিতরণ করেন। অনেকে আবার খেলা উপলক্ষে গরু খাসি কোরবানি দিয়ে সমর্থকদের আপ্যায়ন করেন। দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে মারামারি এবং উত্তেজনা সৃষ্টির ঘটনাও ঘটছে। আর সোশ্যাল মিডিয়ায় তো চলছে ট্রল আর কমেন্টের প্রতিযোগিতা।

বিশ্বকাপ যেন আমাদের সব ভুলিয়ে দিয়েছে দেড় মাসের জন্য। আমাদের চারপাশে অভাব অনটন, অনিশ্চয়তা, হতাশা আর উৎকণ্ঠা পাশে রেখে আমরা মেতে উঠেছি বিশ্বকাপ উন্মাদনায়। বিশ কোটি মানুষের এই দেশে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর যিনি ফুটবল পছন্দ করেন না, কিংবা বিশ্বকাপ নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই। এদেশের মানুষ ফুটবল পাগল। এই দেশে উৎসবের উপলক্ষ খুব কম। বিশ্বকাপ ফুটবল যেন আমাদের এক মহা উৎসবের আমেজ এনে দেয়।

কিন্তু ফুটবলপাগল এই দেশটি কখনো বিশ্বকাপ খেলেনি। বিশ্বকাপ তো দূরের কথা, স্বাধীনতার পর এশিয়া কাপ ফুটবল খেলেছিল একবার ১৯৮০ সালে। এ বছর নারী ফুটবল দল নারী এশিয়া কাপ ফুটবলে অংশগ্রহণ করে। সাফ ফুটবলেও আমাদের রেকর্ড ভালো না। ২০০৩ সালে আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। তারপর এই আসরেও আমাদের সাফল্য নেই। ফিফা র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১। কোটি ভক্তের এই দেশে ফুটবলের কেন এমন করুণ দশা? ফিফার এক গবেষণায় জানা যায়, একটি দেশের ফুটবলের বিকাশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো দর্শকদের। কোনো দেশে যদি ফুটবল জনপ্রিয় হয় তাহলে সেই দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য এই গবেষণা কতটা সঠিক? বাংলাদেশে ফুটবল উন্মাদনা ইংল্যান্ড, আর্জেন্টিনা কিংবা ব্রাজিলের সঙ্গে তুলনীয়। কিন্তু তবুও কেন আমাদের ফুটবল রুগ্ণ, মৃতপ্রায়? বিশ্বকাপ নিয়ে এত উত্তেজনার মধ্যে আমাদের এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা দরকার। বাংলাদেশের ফুটবল এখনো যে টিকে আছে সেটা দেশের বৃহত্তম শিল্প গ্রুপ বসুন্ধরার অবদান। বসুন্ধরা বাংলাদেশের ফুটবলের এখন একমাত্র ভরসা।

দুনিয়াজুড়ে দেশে দেশে ফুটবল সংস্কৃতির অভিভাবক হলো ক্লাব। সেই প্রথম থেকেই ফুটবলকে লালন-পালন, নতুন প্রতিভার বিকাশ, ধারাবাহিকতার সঙ্গে খেলোয়াড় সৃষ্টি এবং খেলাকে জনপ্রিয় করার পেছনে ফুটবলের প্রাণভোমরা ক্লাবগুলোর অবদান সব সময় স্মরণীয়। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, চেলসি, রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, আর্সেনাল, ম্যানসিটি প্রভৃতি অ্যাকাডেমির কার্যক্রম তো ফুটবল দুনিয়ার আলোচিত এবং অনুকরণীয়। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে ক্লাবগুলো কখনো পরিকল্পনামাফিক একদম &lsquo;এন্ট্রি লেবেল&rsquo; থেকে খেলোয়াড় সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়নি। স্থানীয় রেডিমেড এবং বাফুফের অনুমোদিত খেলোয়াড়রাই ভরসা। এতে দেশের ফুটবল স্বাবলম্বী হতে পারেনি। গত ৫৩ বছরের ফুটবল মাঠের ছবি দেশের ফুটবলের সঙ্গে প্রতারণার দলিল। এই অবস্থার পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ শুরু করে বসুন্ধরা গ্রুপ। বসুন্ধরা কিংস প্রথম স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে পেশাদার ফুটবল ক্লাব। যারা বিশ্বে ক্লাব ফুটবলের আদলে বাংলাদেশের ফুটবল কাঠামোকে পাল্টানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ক্লাবটি দেশের ফুটবলের প্রেক্ষাপট এবং রং পাল্টে দিয়েছে। প্রথম থেকেই হেঁটেছে ফুটবলে সংস্কারের পথ ধরে। নির্দিষ্ট লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, আকাক্সক্ষা এবং স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমে ক্লাবটি দেশের মানচিত্রে সীমাবদ্ধ থাকেনি, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এবং এর বাইরে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশে একমাত্র &lsquo;সত্যিকারের পেশাজীবী&rsquo; ক্লাব হিসেবে আলোচনার জন্ম দিতে সক্ষম হয়েছে। ঘরোয়া পেশাদার ফুটবল লড়াইয়ে সাফল্যের ক্ষেত্রে অতীতের সব ধরনের রেকর্ড ভঙ্গ করে নতুন ইতিহাসের জন্ম দিয়েছে। আধুনিক চিন্তা-ভাবনায় উজ্জীবিত ক্লাবটি প্রথম থেকেই দেশের ক্লাব ফুটবলে নতুন ধারার জন্ম দিয়েছে। ক্লাবটি হতে পেরেছে অন্যান্য ক্লাবের কাছে আদর্শ। ক্লাবটি দেশের ফুটবলের প্রেক্ষাপট এবং রং পাল্টে দিয়েছে। দেশের ক্রীড়াঙ্গনের মানোন্নয়ন, ক্রীড়াচর্চাকে পৃষ্ঠপোষকতা এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার লক্ষ্যে বসুন্ধরা গ্রুপের হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের পেছনে আছে গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের খেলাধুলার প্রতি গভীর অনুরাগ এবং ভালোবাসা। কিন্তু বসুন্ধরার মতো অন্য কোনো শিল্প উদ্যোক্তা বা শিল্পগোষ্ঠী ফুটবলের মান উন্নয়নে এগিয়ে আসেনি। এটা দুঃখজনক। বসুন্ধরা কিংস ছাড়া অন্য ক্লাবগুলো এখনো পেশাদারিত্ব নিয়ে কাজ করতে পারেনি। আবাহনী, মোহামেডান কিংবা ব্রাদার্স ইউনিয়নের মতো একসময়ের জনপ্রিয় ক্লাবগুলোর নির্দিষ্ট আয়ের উৎস নেই। চাঁদা এবং ক্লাবে হাউজি খেলার টাকা দিয়ে ক্লাব কোনোরকমে চালানো যায় হয়তো কিন্তু ফুটবলের মান উন্নয়ন করা যায় না। বাংলাদেশে কমবেশি ত্রিশটির মতো বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী আছে। প্রত্যেকে যদি একটা ক্লাবের দায়িত্ব নেয়, বসুন্ধরা কিংসের আদলে ক্লাব গড়ে তোলে তাহলে আমাদের ফুটবলের সুদিন আসতে বেশি সময় লাগার কথা নয়। এজন্য শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে কথা বলতে হবে সরকারকে।
পাশাপাশি কৈশোর থেকে ফুটবলার গড়ে তোলার জন্য গড়ে তুলতে হবে ফুটবল একাডেমি। এই একাডেমি সারা দেশ থেকে ফুটবল প্রতিভা খুঁজে বের করবে। তাদের পরিপূর্ণ এবং সমন্বিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আগামী দিনের ফুটবলার হিসেবে গড়ে তুলবে। এসব একাডেমি হবে ভবিষ্যতের সেরা ফুটবলার সৃষ্টির কারখানা। বর্তমানে বাংলাদেশে বসুন্ধরা ফুটবল একাডেমি এবং বিকেএসপি ছাড়া আর কোনো একাডেমি নেই। এ ধরনের একাডেমি গড়ে তুলতে না পারলে শুধু ফুটবল নয়; কোনো খেলারই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এসব একাডেমি হবে ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিভা বিকাশের মূল ভিত্তি। এ ধরনের ক্রীড়া একাডেমি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে। যেসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ ধরনের উদ্যোগ নেবে তাদের দিতে হবে বিশেষ প্রণোদনা এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা।

বাংলাদেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাফুফে (বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন)। বাফুফেকে ফুটবলের মান উন্নয়নে দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। বিশ্বের কোনো দেশের ফুটবল রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিকশিত হয়নি। ফুটবল বিকাশের একমাত্র পরীক্ষিত উপায় হলো ক্লাব ফুটবলের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ।

বর্তমান ফুটবল যুগের সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসিকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন চলছে। এই মেসিকে কিন্তু আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন তৈরি করেনি, করেছে বার্সেলোনা। ছোটবেলায় শারীরিক বৃদ্ধি-সংক্রান্ত সমস্যায় ভোগা এক লাজুক ছেলের বিশ্বের সেরা ফুটবলার হয়ে ওঠার গল্প রূপকথাকেও হার মানায়। শৈশবে গ্রোনদোলি ও নিওয়েল&rsquo;স ওল্ড বয়েজে খেলার সময় তার গ্রোথ হরমোন সমস্যা ধরা পড়ে। চিকিৎসার খরচ বহন করতে না পারায় মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি স্পেনে পাড়ি জমান এবং বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে যোগ দেন। আজকের মেসির জন্ম হয় আসলে বার্সেলোনা ক্লাবে। শুধু মেসি নন, সব ফুটবল তারকার আসল জীবন শুরু হয় ক্লাব থেকে। বাংলাদেশের ফুটবলকে নতুন জীবন দিতে হলে ক্লাব ফুটবলের জাগরণ ঘটাতে হবে। মৃতপ্রায় ফুটবলকে বাঁচিয়ে রেখেছে বসুন্ধরা কিংস। দেশের ফুটবলের জাগরণ ঘটাতে হলে বসুন্ধরার মতো আরও পরিপূর্ণ ক্লাব গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে বাফুফে এবং সরকারকে দিতে হবে সহযোগিতা। একটি পরিকল্পনার আলোকে আমাদের ফুটবলকে ঢেলে সাজাতে হবে। নতুন খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে। আর সবচেয়ে বড় কথা খেলাধুলাকে রাজনীতিমুক্ত করতে হবে। কোটি কোটি ফুটবলভক্তের এই দেশে ফুটবল এত পিছিয়ে থাকবে, এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।

লেখক ও নাট্যকার]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 25 Jun 2026 11:36:18 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[শিল্প-সাহিত্যপ্রেমী আবদুস সাদেক ]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/115638" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/115638</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[আমি যে সময়ের কথা বলছি সে সময়ে বইমেলায় বের হতো একুশের সংকলন। এসব সংকলন বের করত মূলত স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েরা। নানান রকম সংকলন। সংকলনে বিভিন্ন ধরনের লেখা থাকত। দেশপ্রেম, একুশ, স্বাধীনতা এরকম বিষয় নিয়েই বেশি লেখা থাকত। এসব সংকলন একুশে ফেব্রুয়ারি সকালবেলা আমরা বিভিন্ন জায়গায় বিলি করতে চেষ্টা করতাম। এই সংকলনের নির্দিষ্ট কোনো দাম ছিল না। যে যা পারে সেটাই দিতেন। সংকলনগুলো প্রকাশের জন্য কিছু টাকার প্রয়োজন হতো। আর এই টাকা সংগ্রহের জন্য আমরা বিভিন্ন জায়গায় বিজ্ঞাপনের জন্য যেতাম। তখন এসব সংকলন বা একুশের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো একটা বরাদ্দ রাখত।

বিজ্ঞাপন সংগ্রহের সূত্র ধরেই আমার সঙ্গে জনাব আবদুস সাদেকের পরিচয়। আমাদের স্কুলবন্ধু হাবিবুর রহমান বাবলুর মামা হতেন। তিনি তখন একটা বড় কোম্পানির প্রধান হিসেবে কাজ করেন। এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান অফিস ছিল বগুড়ায়। গুলিস্তানে ছিল তাদের সাব অফিস। সাদেক সাহেব বসতেন গুলিস্তান অফিসে। আমি বগুড়াতেও গিয়েছি। ঢাকার অফিসে গিয়ে তাঁর সঙ্গে প্রথম আলাপ হলো। দেখেই আমি তাঁকে চিনে ফেললাম। কারণ পত্রিকায় মাঝেমধ্যে তাঁর ছবি দেখতাম। তিনি যে চেয়ারে বসতেন ঠিক তার পেছনেই একটি ছবি ছিল তিনি হকিস্টিক হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। আমি বুঝতে পারলাম বাবলুর এই মামা কোনো সাধারণ একজন মানুষ নন। তিনি যদিও এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন সঙ্গে তিনি আমাদের হকির জাতীয় দলের একজন খেলোয়াড়। হকি দলের অধিনায়কও ছিলেন। আমাদের পরম সৌভাগ্য যে সাদেক মামার মতো একজন সজ্জন ব্যক্তির সঙ্গে আমাদের জানাশোনা ছিল। তিনি আমাদের এই একুশের সংকলনে পর্যাপ্ত বিজ্ঞাপন দিয়ে সাহায্য করতেন। আবার কখনো কখনো ব্যক্তিগতভাবেও তাঁর সাহায্য পেয়েছি। তিনি যেমন খেলোয়াড় ছিলেন তেমনি ছিলেন শিল্প-সাহিত্য অনুরাগী। সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা ছিল বলেই আমরা যখনই তাঁর কাছে যেতাম তিনি আমাদের নিরাশ করতেন না। বাবলুকে সঙ্গে নিয়ে যেতাম মামার কাছে। মাঝেমধ্যে তিনি আমাদের &lsquo;খাবার দাবার&rsquo; দোকানে আসতেন। আমাকে স্নেহ করতেন। তাঁর সঙ্গে তখন আসতেন প্রতাপ শংকর হাজরা, রফিকুল ইসলাম কামালসহ আরও অনেকেই। আমরা জুনিয়র হওয়ার সুবাদে আদর করতেন। তাঁরা আমাদের খেলাধুলার প্রতি জোর দিতে বলতেন। খেলাধুলা করলে শরীর ঠিক থাকে সেটাও বলতেন। সাদেক মামা লেখাপড়া করতেন আরমানিটোলা স্কুলে। তারপর তিনি ঢাকা কলেজে ভর্তি হন। আমরা যে স্কুলে পড়তাম সেই স্কুলে মনির হোসেন নামে একজন শিক্ষক ছিলেন। মনির স্যারের সঙ্গে মাঝেমধ্যে আসতেন বিখ্যাত রেফারি ননী বসাক। তিনি প্রখ্যাত চিত্রনায়িকা শবনমের বাবা। ননী বসাক এবং মনির হোসেন স্যার খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ধীরে ধীরে বাবলুর সম্পর্কটাই আমার সঙ্গে গড়ে উঠল।

আমিও আবদুস সাদেক সাহেবকে মামা ডাকা শুরু করলাম। নানান সময়ে নানান কাজে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। এর কারণ ছিল আমাদের খাবার দাবার পিঠাঘর যেহেতু গুলিস্তানে ছিল সেই সুবাদে সাদেক মামার সঙ্গে প্রায়ই দেখা হতো আমার। খুব হাসিখুশি মানুষ ছিলেন তিনি। দেখা হলেই বলতেন স্বাস্থ্যটা ঠিক রাখো খেলাধুলা কর। বাংলাদেশে হকি স্টেডিয়াম তৈরি হয়েছিল ঢাকা স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করে গুলিস্তান এলাকাতে। হকি স্টেডিয়াম কিংবা হকির যে উন্নয়ন হয়েছিল তার কৃতিত্বের দাবিদারদের অন্যতম ছিলেন সাদেক মামা অর্থাৎ আবদুস সাদেক। ২০ জুন তাঁর চলে যাওয়ার সংবাদে মনটা ভীষণ ভারী হয়ে গেল। চোখ ছলছল করে উঠল আর চোখের সামনে ভেসে উঠল সেই পুরোনো স্মৃতি। মামার অফিসকক্ষ, হকিস্টিক হাতে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ছবি। সাদেক মামা আপনার এই চলে যাওয়ায় আমরা ব্যথিত। দেশ একজন দক্ষ সংগঠক ক্রীড়াব্যক্তিত্বকে হারাল। আপনি যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন।

লেখক : মিডিয়াব্যক্তিত্ব

সান নিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 23 Jun 2026 07:23:48 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[কড়াইয়ের ছ্যাঁকা আর এক সমাজের নীরবতা ]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/115550" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/115550</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[একটি ঘর সাধারণত নিরাপত্তার প্রতীক। কিন্তু সেই ঘরই যখন কারও জন্য নির্যাতনের জায়গায় পরিণত হয়, তখন প্রশ্ন শুধু একটি ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না&mdash; প্রশ্ন উঠে আমাদের মানবিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং ক্ষমতার ব্যবহারের ধরন নিয়ে।

খুলনার সোনাডাঙ্গায় এক কিশোরী গৃহকর্মীকে গরম কড়াই দিয়ে ছ্যাঁকা ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে&mdash; এটাই আইনের পথ। তবে ঘটনার বিবরণ যে কোনো বিবেকবান মানুষকে নাড়িয়ে দেওয়ার মতো।

অভিযোগ রয়েছে, সামান্য একটি ভুল&mdash; হাত থেকে তরকারি পড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হয় নির্যাতন। গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকা, শারীরিক আঘাত, অপমান&mdash; এসব কেবল শাস্তি নয়, এগুলো মানুষকে মানুষ হিসেবে অস্বীকার করার ভয়ংকর প্রকাশ।

আরও উদ্&zwnj;বেগের বিষয় হলো&mdash; যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। আইন প্রয়োগের দায়িত্ব যাঁদের হাতে, তাঁদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের আস্থার জায়গায় আঘাত করে। কারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন শুধু ইউনিফর্মে সীমাবদ্ধ নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আচরণ, নৈতিকতা এবং মানবিকতা।

গৃহকর্মীরা আমাদের সমাজের সবচেয়ে অরক্ষিত শ্রমজীবী মানুষের একটি বড় অংশ। তাঁদের কাজের সময় নির্দিষ্ট থাকে না, অনেকের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত হয় না, আবার অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতনের ঘটনাও নীরবে থেকে যায়। কারণ অভিযোগ করার সাহস, সুযোগ কিংবা সামাজিক অবস্থান&mdash; সবকিছুই সীমিত।

এই ঘটনায় স্থানীয়দের ভূমিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। প্রতিবেশীরা নীরব থাকেননি, খবর দিয়েছেন, উদ্ধার কার্যক্রমে ভূমিকা রেখেছেন। সমাজ তখনই সুস্থ থাকে, যখন অন্যায়ের সামনে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেয় না।

তবে এখানেই শেষ নয়। একটি মামলা হয়েছে মানেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং এমন একটি বার্তা প্রতিষ্ঠা করা&mdash; যেখানে পরিচয়, পদমর্যাদা কিংবা পেশা নয়, আইনের কাছে সবার অবস্থান সমান।

আমরা প্রায়ই বলি, শিশু ও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু নিরাপত্তা শুধু রাস্তায় নয়&mdash; ঘরের ভেতরেও নিশ্চিত করতে হবে। কারণ অনেক সময় সবচেয়ে বড় নির্যাতন ঘটে চার দেয়ালের আড়ালে।

একটি সভ্য সমাজের শক্তি বোঝা যায় দুর্বল মানুষের প্রতি তার আচরণে। খুলনার এই ঘটনা আমাদের আবারও মনে করিয়ে দিল&mdash; ক্ষমতা মানুষকে বড় করে না, মানুষকে বড় করে তার মানবিকতা।


লেখক
editor@sayalwaystruth.com

 

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 21 Jun 2026 06:57:08 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[বিশ্বকাপের খেলায় কেন হারায় বিটিভি?]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/115436" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/115436</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ফিফা বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশের কোটি ফুটবলপ্রেমীর চোখ থাকে সম্প্রচারের দিকে। বিটিভি ২০২৬ বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্ব নিয়েছে&mdash; এটি অবশ্যই ইতিবাচক খবর। কারণ দেশের বড় একটি অংশ এখনও বিনামূল্যে সম্প্রচারের ওপর নির্ভরশীল।

তবে এই আনন্দের মাঝেই একটি প্রশ্ন এখন বাস্তবভাবে সামনে এসেছে&mdash; বিটিভির অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচ দেখা যাবে কি না?

কারণ, এটি এখন আর অনুমান বা অতীতের অভিজ্ঞতার বিষয় নয়&mdash; বর্তমানে বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়েই এমনটি দেখা যাচ্ছে বলে দর্শকদের অভিযোগ রয়েছে।

সাধারণ সময়ে বিটিভির অনলাইন লাইভ প্ল্যাটফর্মে চারটি চ্যানেল দেখা যায়&mdash; বিটিভি, বিটিভি নিউজ, বিটিভি চট্টগ্রাম ও সংসদ টেলিভিশন। কিন্তু যেদিন বিশ্বকাপের ম্যাচ থাকে, সেদিন অনেক দর্শক লক্ষ্য করছেন যে মূল বিটিভি চ্যানেলটি অনলাইন তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় বা আর দেখা যায় না। অন্য তিনটি চ্যানেল চালু থাকলেও বিটিভি অনুপস্থিত থাকে। পরে ম্যাচ শেষ হলে বা অনেক ক্ষেত্রে রাতের দিকে আবার চ্যানেলটি ফিরে আসে।

এতে করে যারা টেলিভিশনের বদলে মোবাইল, ওয়েবসাইট বা অনলাইন স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে খেলা দেখতে চান&mdash; তাদের জন্য বাস্তবে ম্যাচ দেখা সম্ভব হয় না।

অবশ্য, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সম্প্রচারের ক্ষেত্রে অনেক সময় টিভি সম্প্রচারস্বত্ব এবং ডিজিটাল সম্প্রচারস্বত্ব আলাদা নিয়ম ও চুক্তির আওতায় পরিচালিত হয়। ফলে অনলাইন সম্প্রচারে সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে।

কিন্তু দর্শকের দৃষ্টিতে প্রশ্নটি সহজ&mdash; যদি সাধারণ দিনে একটি সরকারি চ্যানেল অনলাইনে দেখা যায়, তাহলে দেশের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরের সময় সেটি কেন অনুপস্থিত থাকবে?

তাই দর্শকদের জন্য পরিষ্কারভাবে জানানো প্রয়োজন&mdash; বিটিভির অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখা যাবে কি না।

কারণ সময় বদলেছে, এখন বিশ্বকাপ শুধু টিভির সামনে বসে দেখার আয়োজন নয়&mdash; এটি এখন মোবাইল, ওয়েব ও ডিজিটাল দর্শকদেরও আয়োজন। সম্প্রচারের অধিকার অর্জনের পাশাপাশি সেই সম্প্রচার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রশ্নটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

লেখক
editor@sayalwaystruth.com

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 18 Jun 2026 07:50:33 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[প্রাইভেট বনাম সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা : আস্থার বাস্তবতা ও দায়বদ্ধতার প্রশ্ন]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/115411" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/115411</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় আজ এক স্পষ্ট দ্বৈত বাস্তবতা দেখা যায়&mdash; একদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, অন্যদিকে প্রাইভেট স্কুল ও কিন্ডারগার্টেন। এই দুই ধারার মধ্যে শুধু কাঠামোগত পার্থক্য নয়, বরং অভিভাবকদের আস্থা, শিক্ষার মান এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কেও একটি দৃশ্যমান ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

প্রাইভেট স্কুল ও কিন্ডারগার্টেনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হলো, সীমিত বেতন ও সীমিত সম্পদের মধ্যেও অনেক প্রতিষ্ঠান শিক্ষার মান ধরে রাখার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের অনেক প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা তুলনামূলক কম বেতনে&mdash;কখনো তিন হাজার থেকে বারো হাজার টাকার মধ্যে&mdash;কাজ করলেও তারা শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের বোঝানো এবং অনুশীলনের ওপর গুরুত্ব দেন। এই ধারাবাহিক পরিশ্রমের কারণে অনেক অভিভাবকের মধ্যে একটি আস্থা তৈরি হয়েছে যে, প্রাইভেট স্কুলগুলো অন্ততপক্ষে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা করে।

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো&mdash; প্রাইভেট শিক্ষাব্যবস্থায় শ্রেণিকক্ষকেন্দ্রিক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়ার একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকরা চেষ্টা করেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পাঠ্যবিষয় শেষ করতে এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে। ফলে অভিভাবকদের একটি বড় অংশ মনে করেন, তাদের সন্তানের প্রাথমিক ভিত্তি গঠনে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।

অন্যদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে চিত্রটি অনেক জায়গায় ভিন্ন। যদিও এখানে শিক্ষকদের বেতন ও সুবিধা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি&mdash; আঠারো হাজার থেকে চল্লিশ হাজার টাকা বা তারও বেশি&mdash;তবুও শ্রেণিকক্ষের বাস্তবতা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। অনেক বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদানের ঘাটতি, শ্রেণিকক্ষে মনোযোগের অভাব এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি যথাযথ যত্নের ঘাটতি দেখা যায়।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষকদের একটি অংশ শ্রেণিকক্ষের দায়িত্বের বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত টিউশন বা প্রাইভেট পড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগী হয়ে পড়েন। ফলে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলের শিক্ষার চেয়ে প্রাইভেট পড়ার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এই প্রবণতা শুধু একটি অর্থনৈতিক বিষয় নয়, বরং শ্রেণিকক্ষের মূল উদ্দেশ্যকে দুর্বল করে দেওয়ার একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

এমন বাস্তবতাও দেখা যায় যে, অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিজের সন্তানদের ক্ষেত্রে সরকারি বিদ্যালয়ের পরিবর্তে প্রাইভেট স্কুল বা কিন্ডারগার্টেনকে অগ্রাধিকার দেন। অর্থাৎ যে ব্যবস্থার ভেতরে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন, সেই ব্যবস্থার ওপরই তিনি নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য মনে করেন না। এই বাস্তবতা সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও গভীর প্রশ্ন তৈরি করে&mdash;যে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর নিজস্ব শিক্ষকরাই পূর্ণ আস্থা রাখেন না, সেখানে অভিভাবকদের আস্থা কতটা টিকে থাকবে?

এই পুরো পরিস্থিতি থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে ওঠে&mdash; প্রাইভেট শিক্ষাব্যবস্থা যতটা সম্ভব শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার মান ধরে রাখার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে সরকারি ব্যবস্থার ভেতরে দায়িত্ববোধ ও অগ্রাধিকারের জায়গায় একটি ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে প্রাইভেট শিক্ষার দিকে ঝুঁকছে, কারণ তারা অন্তত শ্রেণিকক্ষের ভিতরে একটি নিয়মিত শিক্ষার নিশ্চয়তা দেখতে পাচ্ছে।

সব মিলিয়ে সমস্যাটি শুধুমাত্র কাঠামোর নয়, বরং দায়িত্ববোধ এবং অগ্রাধিকারের জায়গায় একটি বড় পার্থক্য তৈরি হয়েছে। যেখানে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলো সীমিত সুযোগ নিয়েও শিক্ষার মান ধরে রাখার চেষ্টা করছে, সেখানে সরকারি ব্যবস্থায় কিছু জায়গায় শ্রেণিকক্ষের চেয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ বা বিকল্প আয়ের দিকে ঝোঁকার প্রবণতা শিক্ষাব্যবস্থার আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

এই বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কারণ প্রাথমিক শিক্ষা যদি ভিত্তি হয়, তাহলে সেই ভিত্তি দুর্বল হলে পুরো শিক্ষার কাঠামোই প্রভাবিত হবে।

সব মিলিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার এই বাস্তবতা আমাদের সামনে একটি কঠিন প্রশ্ন রেখে যায়। শিক্ষা যদি সত্যিই জাতির ভিত্তি হয়, তাহলে সেই ভিত্তির ভেতরেই এত আস্থার ঘাটতি কেন তৈরি হচ্ছে? প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান সীমিত সুযোগের মধ্যেও শ্রেণিকক্ষকে গুরুত্ব দিয়ে যখন একটি নির্দিষ্ট মান ধরে রাখার চেষ্টা করছে, তখন সরকারি ব্যবস্থার ভেতরে কোথাও কোথাও দায়িত্ব ও অগ্রাধিকারের ভারসাম্য কেন নষ্ট হচ্ছে&mdash; এই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

কারণ শেষ পর্যন্ত একটি শিশুর প্রথম শিক্ষার অভিজ্ঞতাই তার ভবিষ্যৎ চিন্তা, আত্মবিশ্বাস এবং দক্ষতার ভিত্তি তৈরি করে। সেই ভিত্তি যদি শ্রেণিকক্ষের ভেতরেই দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে পরে যতই ব্যবস্থা নেওয়া হোক না কেন, ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করা কঠিন হয়ে যায়।

তাই সময় এসেছে দায় এড়ানোর নয়, বরং দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে বাস্তব সমস্যাগুলোকে স্বীকার করে নেওয়ার। শিক্ষা ব্যবস্থা যদি সত্যিই আস্থার জায়গা হয়ে উঠতে চায়, তাহলে শ্রেণিকক্ষকে আবারও শিক্ষার মূল কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে&mdash; যেখানে শিক্ষকতা হবে দায়িত্ব, আর শিক্ষা হবে অগ্রাধিকার, কোনো বিকল্প বা পরিপূরক নয়।

লেখক
editor@sayalwaystruth.com

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 17 Jun 2026 10:19:04 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ভুক্তভোগীর পরিচয় প্রকাশে প্রশ্নবিদ্ধ সাংবাদিকতার নৈতিকতা]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/115355" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/115355</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ&mdash; এই কথাটি যতটা সত্য, তার চেয়েও বেশি সত্য হলো, এই দর্পণ যদি ভেঙে যায়, তাহলে সমাজের বিকৃত চিত্র আরও ভয়াবহভাবে প্রতিফলিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ধর্ষণসহ যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তি বা নারীর পরিচয় প্রকাশের প্রবণতা উদ্বেগ জনক ভাবে বেড়েছে। নাম, ঠিকানা, ছবি কিংবা এমন সব পারিবারিক তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে, যা সহজেই ভুক্তভোগীকে শনাক্তযোগ্য করে তোলে। এটি কেবল সাংবাদিকতার নৈতিকতার লঙ্ঘন নয়&mdash; এটি এক ধরনের পেশাগত অপরাধও বটে।

ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের শিকার ব্যক্তি যখন বিচার, চিকিৎসা ও সামাজিক পুনর্বাসনের পথে হাঁটেন, তখন তার সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হয় গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, সংবাদ প্রকাশের প্রতিযোগিতায় কিছু গণমাধ্যম সেই মৌলিক মানবিক বিবেচনাকেই উপেক্ষা করছে। &ldquo;এক্সক্লুসিভ&rdquo;, &ldquo;ফার্স্ট রিপোর্ট&rdquo; বা &ldquo;ভাইরাল কনটেন্ট&rdquo; তৈরির দৌড়ে নেমে তারা ভুক্তভোগীর পরিচয় উন্মোচন করছে&mdash; যা তাকে সমাজে নতুন করে অপমান, লজ্জা ও হয়রানির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

এটি কোনো সাধারণ ভুল নয়; বরং এটি দ্বিতীয়বারের মতো ভুক্তভোগীকে আঘাত করার শামিল। একজন ধর্ষণের শিকার ব্যক্তি ইতোমধ্যেই ভয়াবহ মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যান। সেই ক্ষত শুকানোর আগেই যদি তার পরিচয় জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়, তবে তা তার ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক সম্পর্ক এবং সামাজিক অবস্থানকে ধ্বংস করে দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীকে সামাজিকভাবে &ldquo;চিহ্নিত&rdquo; করে ফেলা হয়, যা তার পুনরুদ্ধারের পথকে আরও কঠিন করে তোলে।

সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি অত্যন্ত স্পষ্ট&mdash; ভিকটিমের পরিচয় গোপন রাখা বাধ্যতামূলক। এটি শুধু নৈতিক নির্দেশনা নয়, বরং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পেশাগত মানদণ্ড। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, কিছু ক্ষেত্রে এই নীতি উপেক্ষিত হচ্ছে, যা সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই প্রবণতা কেবল অনলাইন প্ল্যাটফর্মেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং কিছু মূলধারার গণমাধ্যমেও এর ছায়া পড়ছে। ফলে পুরো গণমাধ্যম ব্যবস্থার ওপরই সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে&mdash; সংবাদ পরিবেশন কি এখন দায়িত্বশীলতার জায়গায় আছে, নাকি প্রতিযোগিতার নামে সংবেদনশীলতা হারিয়ে ফেলেছে?

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য এখনই কঠোর নীতিগত অবস্থান প্রয়োজন। সম্পাদকীয় পর্যায়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি&mdash; ধর্ষণ বা যৌন সহিংসতার কোনো সংবাদে ভুক্তভোগীর পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না। পাশাপাশি সাংবাদিকদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও জেন্ডার সেনসিটিভ রিপোর্টিং বিষয়ে বাধ্যতামূলক কর্মশালা চালু করতে হবে। প্রয়োজনে যারা বারবার এই নীতি ভঙ্গ করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করাও সময়ের দাবি।

সাংবাদিকতা কোনো ব্যবসা নয়, এটি একটি জনসেবামূলক দায়িত্ব। সেই দায়িত্বের প্রথম শর্তই হলো মানবিকতা। ভুক্তভোগীর নাম প্রকাশ করে &ldquo;সংবাদ&rdquo; তৈরি করা সহজ হতে পারে, কিন্তু সেটি কখনোই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নয়। বরং এটি ভুক্তভোগীর প্রতি দ্বিতীয় সহিংসতা, যা কোনো সভ্য গণমাধ্যম সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

আজ প্রয়োজন একটি স্পষ্ট অবস্থান&mdash; ভুক্তভোগীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষা করা কোনো বিকল্প নয়, এটি সাংবাদিকতার অপরিহার্য শর্ত। অন্যথায় গণমাধ্যম নিজেই তার নৈতিক ভিত্তি হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।


লেখক
editor@sayalwaystruth.com]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 16 Jun 2026 07:05:24 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[সংরক্ষিত নারী আসন ও রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের সংকট]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/115317" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/115317</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[প্রাচীন গ্রিসের এথেন্স নগর-রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বিকাশের ক্ষেত্রে পেরিক্লিস অনন্য অবদান রেখেছিলেন। মার্জিত ব্যক্তিত্ব, শৈল্পিক মানসিকতা, দৃঢ় সংকল্প, দূরদর্শী চিন্তা, প্রজ্ঞানিষ্ঠ বিচক্ষণতা, বাগ্নিতা ইত্যাদি গুণাবলীর কারণে তৎকালীন এথেনীয় রাজনীতিতে এক অবিসংবাদিত গণতান্ত্রিক নেতা হিসেবে তিনি প্রভাবশালী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হন। তার ব্যক্তিত্বের মাধুর্য, বিশেষ করে কথা বলার শৈল্পিকতা সহজেই সবাইকে মুগ্ধ করতো। কাউকে বুঝিয়ে বা পটিয়ে নিজ মতে নিয়ে আসার অসাধারণ কলা-বিদ্যা তার আয়ত্তে ছিল। এই কলা কৌশলের মাত্রা এতটাই ছিল যে বৃহত্তর কোন স্বার্থে নিজের প্রথম স্ত্রীকে কৌশলে বুঝিয়ে শুনিয়ে অন্যের কাছে বিবাহ দিয়ে নিজে ভিন্ন এক নারীকে ঘরে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন। পরিবার-পরিজন, জনসাধারণ কেউই এ ব্যাপারে কোন অসন্তোষ প্রকাশ করেনি। তবে এতসব করে তিনি অন্য এক নারীকে ঘরে এনেছিলেন একান্তই নিজের স্বার্থে তা বলা চলে না। পেরিক্লিসের নেতৃত্ব এবং নবগঠিত গণতান্ত্রিক নগর রাষ্ট্রের বৃহত্তর কল্যাণও এর সাথে সংযুক্ত ছিলো। কেননা এই নারী কোনো সাধারণ নারী ছিলেন না। তিনি ছিলেন অসাধারণ বিদুষী, বিচক্ষণ কূটনীতিবিদ, সর্বোপরি বাক-কলায় পারদর্শী অসাধারণ বক্তৃতা লেখক। কেবল বৈষয়িক বা প্রায়োগিক বুদ্ধি নয়, বিমূর্ত দার্শনিক জ্ঞান ও যেকোনো যুক্তিযুক্ত তাত্তি&iexcl;ক ভাবনায় এই নারী ছিলেন তৎকালীন গ্রিসে অসাধারণভাবে অগ্রসর। এই অনন্য প্রতিভাবান নারীর নাম আসপাসিয়া। তাঁর জ্ঞান বা পাণ্ডিতের পরিধি মাপার জন্য এ কথাটাই যথেষ্ট যে, তৎকালীন গ্রিসের স্বর্ণযুগের সবচাইতে প্রতিভাবান মনীষী হিসেবে যে সক্রেটিসকে আমরা চিনি, তিনিও এই মহীয়সী নারীর একান্ত বাধ্যগত ছাত্র ছিলেন। আসপাসিয়াকে জীবন-সঙ্গী পেয়ে পেরিক্লিসের পরিস্থিতিও খানিকটা সেরকম ছিলো। আবেগ আশ্রয়ী অনলবর্ষী বক্তা হিসেবে যে পেরিক্লিস সর্বগ্রিসীয় সমাজে সুনামধারী ছিলেন, আসপাসিয়ার একান্ত সহযোগিতা পাওয়ার পর থেকে তিনিও আর কোনো রাজনৈতিক বক্তৃতায় আসপাসিয়ার লিখিত নোট ছাড়া মোটেই স্বাচ্ছন্দ বোধ করতেন না। রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ, ন্যারেটিভ নির্মাণ, কূটনৈতিক বয়ান সবকিছুতেই আসপাসিয়ার হোম-ওয়ার্ক পেরিক্লিসের স্বপ্নের কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দারুনভাবে সহায়ক ছিলো।
আসপাসিয়া এথেন্সের রাজনীতিতে এতটা সহায়ক শক্তি হলেও তাঁর স্থান থেকে গিয়েছিল অন্দরমহলে। পেরিক্লিস তাঁকে এমপি, মন্ত্রী, উপদেষ্টা কিছুই বানাননি। এটা এই মহীয়সী নারীর প্রতি পেরিক্লিসের কোনো অবিচার নয়। বরং এটা ছিলো তৎকালীন গ্রিসীয় গণতন্ত্রের অন্তর্নিহিত দুর্বলতা। কোনো নারী, দাস, এমনকি অন্য রাজ্য থেকে আসা কোনো ব্যক্তি তখন এথেন্সের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারত না। এমনকি তাদের কোনো ভোটাধিকারও ছিলো না। সার্বিকভাবে নারীদের অবস্থা ছিলো তুলনামূলকভাবে আরব্য ইতিহাসের আইয়ামে জাহেলিয়ার চাইতেও নাজুক। তৎকালীন গ্রিসের নারীরা ছিলেন একেবারেই পর্দানশীল। পুরুষের সহযোগিতা ছাড়া বিশেষ প্রয়োজনেও তারা স্বাধীনভাবে ঘরের বাইরে আসতে পারতেন না। পেরিক্লিসের আমলে খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতকেও নারীদের উপরে এধরনের গৃহবন্দী অপসংস্কৃতি আরোপিত ছিলো। এসব সত্তে&iexcl;ও কিছু নারী মাঝে মধ্যে বাইরে বের হতেন। এদের অধিকাংশকেই দুশ্চরিত্রা নারী বলে অবজ্ঞা করা হতো।

আসপাসিয়াও এই অভিযোগের অথবা অপবাদের শিকার ছিলেন। তাছাড়া তিনি ছিলেন অ-এথেন্সেনীয়, সেই সময়ের বিচারে বিদেশীনি। থাকতেন এথেন্সের শহরতলী বা আগোরা থেকে কিছুটা দূরে কেরামেকাস (Kerameikos) নামক তথাকথিত এক অভদ্র পল্লীতে। এমন এক অনাগরিক এবং অসভ্য অঞ্চলের বিতর্কিত নারীকে পেরিক্লিস অঘোষিত উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর প্রাসাদে স্থান করে দিয়েছিলেন এবং তৎকালীন অনেক বড় বড় নেতার উপরে তাঁর স্থান দিয়েছিলেন এটাই বরং তৎকালীন বিচারে বৈপ্লবিক ব্যাপার ছিলো। কোনোরকম টেকনোক্র্যাট ব্যবস্থা বা অন্ততপক্ষে নারী কোটা থাকলে পেরিক্লিস সে সুযোগ হয়তো কাজে লাগাতেন।

এথেনীয় গণতন্ত্র ঘষামাজা করে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশও গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র হিসেবে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত আছে। কিন্তু এই গণতন্ত্র কি কোনো না কোনোভাবে প্রাচীন এথেনীয় গণতন্ত্রের দুর্বল দিককে ধারণ করে চলছে? তৎকালীন গ্রিসে নারী নেতৃত্বকে যেভাবে দেখা হতো আজকের একবিংশ শতাব্দীতে তা কাম্য হতে পারে না। নারীরা এখন নিজ মেধায় চন্দ্রজয় করে চলছে, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, সাহিত্য এবং সার্বিকভাবে শিক্ষা দীক্ষায় এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশেও সে প্রবাহ যথেষ্ট বহমান। কিন্তু এসব সত্তে&iexcl;ও বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নারীর অবস্থা কোনোভাবেই কাক্সিক্ষত মাত্রায় অবস্থান করছে না; বরং বলা যায় তাদের অবস্থা নিতান্তই নাজুক। এখনো এদেশে সংসদ সদস্য হিসেবে নারীদের জন্য কোটা ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। কোটা সাধারণত দুর্বল, পিছিয়ে পড়া বা এক ধরনের দুর্দশাগ্রস্থ শ্রেণির জন্য প্রযোজ্য করা হয়। তাহলে কি দাঁড়াচ্ছে, আমাদের দেশের নারীরা কি আনুষ্ঠানিকভাবেই এধরনের সুবিধাবঞ্চিত, অসহায় অপেক্ষাকৃত কম যোগ্য অথবা সাবঅল্টার্ন হিসেবে নিজেদের মেনে নেবেন?
বাস্তবতা যাইহোক বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতা উল্টালে নারীদের যোগ্যতার প্রমাণ কিন্তু যথেষ্ট পরিমাণে বিদ্যমান। এ দেশের গৌরবজ্জ্বল স্বাধীনতা সংগ্রাম, মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০ এর গণঅভ্যুত্থান এবং সর্বশেষ জুলাই আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল ক্রমাগতভাবে অত্যন্ত প্রশংসনীয়। কিন্তু কী পেয়েছেন এদেশের নারী সমাজ? ঘটনার পরিক্রমায় বেশ কিছু নারী নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদে আসীন হলেও সংখ্যাতাত্তি&iexcl;ক বিচারে তা কি পর্যাপ্ত? যদিও সংখ্যাতাত্তি&iexcl;ক হিসাব তেমন জরুরি নয়, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যাদের যোগ্যতা আছে এবং তা প্রমাণিত এমন সব নারীদের কেবল নারী হওয়ার কারণে সুযোগ না দেওয়ার ঘটনা কি এদেশে ঘটেছে না? যোগ্যতার জেন্ডারগত কোনো তারতম্য নেই; এদেশে একজন বেগম খালেদা জিয়া হতে পারে তার সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ। বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দিকে আমরা যদি চোখ রাখি, তাহলে দেখতে পাবো যে কয়জন নারী সাংসদ সংসদ সদস্য হিসেবে ও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে কাজ করছেন তারা এখন পর্যন্ত প্রশংসনীয়ভাবেই তাদের দায়িত্ব পালন করে চলছেন। তবে এর পাশাপাশি একটি বিষয় হতাশাব্যঞ্জক তা হলো সংরক্ষিত নারী- আসনে সরকারি দল এবং বেসরকারি দল যাদেরকে মনোনয়ন দিয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকেই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত যোগ্য এবং পরীক্ষিত। এসব নেত্রীদের যদি সরাসরি নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া হতো তাহলে এদের অনেকেই হয়তো ভালো করতেন। এতে তাদের রাজনৈতিক জীবনও আরো সুন্দরভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতো। কিন্তু বর্তমান রাজনীতিক বাস্তবতায় এদেশে এখনো নারীরা তাদের নিজ নিজ দল থেকেও যথাযোগ্য মর্যাদা পাচ্ছেন বলে মনে হয় না। কোনো কোনো রাজনৈতিক দল ধর্মকে নিজস্ব মতাদর্শগত নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে দেখিয়ে নারী নেতৃত্বের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে এধরনের দলগুলোর মধ্যে অধিকাংশই আন্দোলন সংগ্রাম থেকে শুরু করে ভোটের ক্যাম্পেইনে ব্যাপকভাবে নারীদের ব্যবহার করছেন, অথচ সরাসরিভাবে নির্বাচিত করে নারী নেতৃত্বকে বিকশিত করার সুযোগ করে দিচ্ছে না। কেউ কেউ নারী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বৈধতার প্রশ্ন তুললেও সংরক্ষিত আসনে গিয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার দলীয় সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়ে সে জায়গায় নারীদেরকে ঠিকই মনোনয়ন দিচ্ছে। উদার গণতান্ত্রিক দল হিসেবে পরিচিত বিএনপি ব্যাপক সংখ্যক পরীক্ষিত নারী-নেত্রীদের ধারক হওয়া সত্বেও সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নে নারী নেতৃত্বকে যথাযোগ্য মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকাও আশাব্যঞ্জন নয়।


জুলাই আন্দোলন দানা বেঁধেছিল বৈষম্যের নিপাত ঘটাতে। নানা ধরনের কোটা সিস্টেম বন্ধ করে সব নাগরিকদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা ছিলো এই আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য। ৫ আগস্ট এর পর থেকে আজ পর্যন্ত নানাভাবে বিশেষ সুযোগ নেওয়ার প্রবণতা খোদ বিপ্লবীদের একাংশের মধ্যেই লক্ষ করা যাচ্ছে। বর্তমান সংসদ অধিবেশনগুলোতে যারা জুলাই সনদ, সংস্কার এসব নিয়ে সরব হচ্ছেন তারাও জুলাই সনদ এর নীতি অনুযায়ী নারীদের সংসদ সদস্য হিসেবে সরাসরি নির্বাচনের শর্ত মানেননি। এদিক থেকে সরকারি দল এগিয়ে থাকলেও নীতিমালা সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। তবে সরকার যেসকল নারীবান্ধব কর্মকা&ETH; শুরু করেছে তা ছোট হলেও আসার সঞ্চার করে। সমাজের প্রান্তিক পর্যায় থেকে নারীদেরকে শক্তিশালী না করা পর্যন্ত সার্বিকভাবে নারী নেতৃত্বের বিকাশ সম্ভব নয়। তাছাড়া ধর্মের ভুল ব্যাখ্যার সঠিক জবাব তুলে ধরা এবং নানা রকম অপসংস্কৃতিকে মোকাবেলা করা নারীদের নেতৃত্ব বিকাশের বিষয়টিসহ সর্বক্ষেত্রে তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পূর্ব শর্ত। প্রকৃতপক্ষে মানুষের মনোজগতে পর্যাপ্ত সংস্কার আনায়ন ছাড়া কোনো কেতাবি সংস্কার দ্বারা সমাজের কোনো কাক্সিক্ষত পরিবর্তন আসবে না।

লেখক: অধ্যাপক, দর্শন বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
sowkot.hossain@juniv.edu

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 14 Jun 2026 07:53:18 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[পোশাকের আড়ালে অপরাধ : কেবল ‘প্রত্যাহার’ই কি যথেষ্ট?]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/115314" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/115314</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১২ বছর বয়সী এক অবুঝ শিশুকে দিনের পর দিন ধর্ষণের যে ভয়ংকর অভিযোগ জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে উঠেছে, তা কেবল একটি অপরাধের খবর নয়; এটি আমাদের সমাজের রক্ষকদের নৈতিক স্খলনের এক চরম ও লজ্জাজনক দৃষ্টান্ত। যাদের ওপর সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পবিত্র দায়িত্ব, তাদেরই একজন যদি এমন
বিকৃত ও পাশবিক অপরাধে যুক্ত হন, তবে অসহায় মানুষ কার কাছে গিয়ে দাঁড়াবে?

খবর অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। তার মা ও ভাই ওই তদন্ত কেন্দ্রের মেসেই রান্নার কাজ করেন। এই অসহায়ত্ব ও দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা দিনের পর দিন শিশুটিকে নিজের বাসায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেছেন। ভয়ভীতি দেখিয়েছেন এবং টাকার লোভ দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করেছেন। এটি শুধু একটি ধর্ষণ নয়, এটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার
চরম অপব্যবহার।

আমরা দেখতে পাচ্ছি, অভিযোগ ওঠার পর অভিযুক্ত পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলমকে তার দায়িত্ব থেকে &lsquo;প্রত্যাহার&rsquo; করে নোয়াখালী পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন বলছে, তারা ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। কিন্তু এখানেই একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার তীব্র আপত্তি এবং সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি রয়ে গেছে।

তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্তকে কেন চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত বা ছুটিতে পাঠানো
হলো না?

পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা কোনো আইনি শাস্তি নয়। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা বলে, অনেক ক্ষেত্রে এটি অভিযুক্তকে জনরোষ থেকে বাঁচিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখার একটি কৌশল মাত্র। একজন পুলিশ পরিদর্শক, যার বিরুদ্ধে একজন নাবালিকাকে ধর্ষণের মতো গুরুতর, জামিন-অযোগ্য এবং জঘন্য অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তিনি কীভাবে এখনও পুলিশের ইউনিফর্ম বা পরিচয়ে বহাল তবিয়তে থাকেন?

তিনি চাকরিতে বহাল থাকা অবস্থায় তদন্ত প্রক্রিয়া কি কোনোভাবেই প্রভাবিত হবে না? তার ক্ষমতার দাপট ও প্রভাবের কারণে ভুক্তভোগী পরিবার কি সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার বদলে আরও বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে না? সাধারণ কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে পুলিশ প্রশাসন কি তাকে কেবল এক জায়গা থেকে সরিয়ে অন্য জায়গায় &lsquo;সংযুক্ত&rsquo; করে রাখত, নাকি তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি করত? অপরাধী যদি পুলিশের পোশাক পরা থাকে, তবে কি তার জন্য আইনের নিয়ম ভিন্ন হয়ে যায়?

একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত তদন্তের স্বার্থেই অভিযুক্তকে অবিলম্বে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা বা বাধ্যতামূলক ছুটিতে
পাঠানো অপরিহার্য। অভিযুক্তকে পদে বা পুলিশ লাইন্সে বহাল রেখে তদন্ত করলে সেই তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে শুরুতেই জনমনে ঘোরতর সন্দেহ তৈরি হয়।

লোক দেখানো &lsquo;প্রত্যাহার&rsquo; নয়, অবিলম্বে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে নিরপেক্ষ তদন্তের পথ সুগম করতে হবে। নিরপেক্ষ তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে ক্ষমতার চেয়ারে বসে কেউ সাধারণ মানুষের ওপর এমন পৈশাচিক নির্যাতন চালানোর সাহস না পায়। প্রশাসনকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে&mdash; অপরাধী যেই হোক না কেন, সে আইনের ঊর্ধ্বে নয়।


editor@sayalwaystruth.com
ঠিকানা:- কামাল সরদার হাউজ, হোল্ডিং নং - ১১১, রুম নং- ০১, ওয়ার্ড নং - ০২, আলাওলপুর - ৮০৫০ , গোসাইর হাট, শরীয়তপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 14 Jun 2026 07:17:09 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[অগণতান্ত্রিক ধারার গণতন্ত্র]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/114977" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/114977</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[একটি প্রশ্ন মনে প্রায়শই জাগে, বাঙালি বা বাংলাদেশি যে নামেই ডাকা হোক, তারা সত্যি কি গণতন্ত্রকে ধারণ করার অযোগ্য? হয়তো এমন প্রশ্ন হতাশা থেকেই জন্ম। ঔপনিবেশিক ইংরেজ যুগ বাদই দিলাম, পাকিস্তান কি বাংলাদেশ সবসময় ধরেই তো বাঙালির গণতন্ত্রের জন্য আক্ষেপ কিংবা লড়াই দেখতে পাই। সবই কি প্রতারণা? হয়তো তা নয়। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, এই মাটিতে গণতন্ত্রের লড়াইয়ের সবসময়ই ছদ্মবেশী প্রতারক শক্তিকে দেখা গেছে। গণমানুষের গণতন্ত্রের লড়াই চূড়ান্তপর্বে ছিনতাই হয়েছে ওইসব শক্তির দ্বারা। রাজপথ, কলকারখানা, মাঠ-জমিনসহ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের জঙ্গি লড়াইও এক সময় দেখা গেল ছিনতাই হয়ে গেছে সেই ছদ্মবেশীদের দ্বারা।

যে শ্রেণীটি বরাবরে এদেশ শাসন করে এসেছে তারাই গণতন্ত্রের হত্যা কিংবা ছিনতাইকারী। সেই পাকিস্তানের জন্মলগ্ন থেকেই পশ্চিমাংশের মতো পূর্বাংশেও যতবারই শোষিত গণমানুষের জন্য আন্দোলন করেছে গণতন্ত্রের জন্য ততবারই তা ছিনতাই হয়েছে। এ কাজটি করেছে কখনো বাকশাল, সামরিক স্বৈরাচার, কখনো সামরিক ছত্রছায়ায় বেসাময়িক স্বৈরাচার। আজ পর্যন্ত এমন দৃষ্টান্ত কেউ দিতে পারবে না যে, ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে কোনও শাসকদল জনগণের কাছে দেয়া ওয়াদার বরখেলাপ করেনি, অতীতে করেছে, চলমান সময়ে করছে, আগামীদিনেও করবে। এসব শাসকের কাছে যারা জনমঙ্গলের জন্য গণতন্ত্র আশা করেন তারা নিছক মূর্খেও রাজ্যই বসবাস করেন।

ক্ষমতায় থাকতে এসব দল জনগণের সঙ্গে যেসব অন্যায় আচরণ করে, নির্বাচন এলে তারা ক্ষমা বা দুঃখ প্রকাশের অভিনয় করে। সাধারণ মানুষ, যারা মার খেতে খেতে পিঠে চামড়া শক্ত করে ফেলেছে, তারা তাদের ক্ষমাও করে দেয়। তারপর ক্ষমতায় এসেই আসল দানবীয় রূপটি প্রকাশ করে। তখন জনগণ ভোটের জন্য হায় আফসোস করে। অর্থহীন সেই গণ-আক্ষেপ। ঘুরেফিরে তারাই পুনরায় ক্ষমতায় আসে। জনগণ যেন এসব গণতন্ত্র আর স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষাকারী প্রতারক দলের হাতে জিম্মি হয়ে আছে। এমনটা না হয়ে পারে না, কেন না তৃতীয় বিকল্পটি আবার নেই, যেখানে জনগণ আশ্রয় নিতে পারে। এর বদলে আসে কেবল কখনো চোর, কখনো বাটপার।

রাজনীতির নামে দেশ শাসনের নামে এই অপশক্তির হাতে পড়ে একাত্তরের রক্তাক্ত যুদ্ধ আর আত্মত্যাগটাই বৃথা হয়ে গেল। আর আত্মত্যাগটাই বৃথা হয়ে গেল। কেবল একাত্তর পরবর্তী নয়, সাতচল্লিশ পরবর্তী সময়ে মুক্তি, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, শান্তিজনগণকে শোষণ করেছে, অপমান পদদলিত করছে। &lsquo;ময়নামতি&rsquo;র সিনেমার সেই হ্যাবলামার্কা চরিত্র মতির মতো দশা আমাদের জনগণের। ময়নাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধান্দাবাজ পাখিভাই বোকা মতির অমৃত খেয়েই চলে। ময়না তার অধরা থেকেই যায়। ধূর্ত পাখি ভাইয়েরা গণতন্ত্র, স্বাধীনতা আর ধর্মরক্ষার নামে জনগণের কাছ থেকে ভোটের &lsquo;অমৃত&rsquo; চেটেমুখে খেয়েই যাচ্ছে স্বাধীনতার পর থেকে। লক্ষ করলে দেখা যাবে, আজতক কোনও রাজনৈতিক দলই গণতন্ত্রটা কি, গণতন্ত্রের আলোকে জনগণ কী কী পেতে পারে বা দিতে পারে সেসব বলে না। এটা মানি না, এটা চলবে না, গদিচ্যুত করতে হবে, গদিটা আমার চাই-এই নিয়ে শেয়ালের মতো চেঁচানো ছাড়া অন্য কোনও আবদার নেই। দেশ রসাতলে যাক, তাতে তাদের কিছু আসে যায় না। গদিটা চাই, জনগণের স্বার্থে নয়, লুটপাটের জন্য। দেশ হচ্ছে বাঘের কবরে পড়ে তাড়া খাওয়া হরিণ। হরিণ দখলের জন্য। পেট ভরে বাঘ চলে গেলে চলে হায়েনাদের সঙ্ঘবদ্ধ আক্রমণ এবং হরিণ দখল। এই হরিণ খাওয়ার লড়াইকে আমাদের দেশে বলা হয় স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের লড়াই।

বাংলাদেশের জনগণ সকল শাসকদের হাতে চারদিক থেকেই অবরুদ্ধ। দেশে বিদেশি শাসকচক্র, এনজিও, পুঁজিপতি শিল্পপতি লুটেরা শ্রেণীতো আছেই সঙ্গে আছে বুদ্ধিচর্চার ধূর্ত শেয়ালেরা। এরা জনগণের চেতনাকে দখলে নিয়ে ধোঁকা দেয়। এরা চেতনাকে বিশুদ্ধতার নামে নিজেদের পকেট ভারি করছে। এটা করছে চিন্তার নামে, উদারবাদ এমনকি বিকৃত সমাজতন্ত্রের নামেও। দেশি-বিদেশি পয়সা খাওয়া ভাড়াটে এসব চিন্তচর্চাকারীগণ দেশের সংস্কৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সচেষ্ট। এরা হচ্ছে তরুণ প্রজন্মের মগজ ধোলাইয়ের বিদেশি ভাড়াটে। নিজেদের মেধাকে ভাড়া দেয় তারা, বিনিময়ে ভাল খেয়েদেয়ে বেঁচেবর্তে আছে। এত হীনতা, এত স্বার্তপরতা আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। এই বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চাকারীগণ নানাভাগে বিভক্ত লাসক দলগুলোর দ্বারা লালিত পালিত। এরা একবার ভাবে না তাদের ভূমিকা কীভাবে দেশের সর্বনাম করছে। আশ্চর্য এই এরা ধর্মের ভেতরও সমাজতন্ত্র খোঁজে।

তবে এটা ঠিক নয় যে, সৎ দেশ প্রেমিক বুদ্ধিচর্চাকারীগণ নেই। এরা অবশ্যই সংখ্যায় কম এবং প্রচারবিমুখ। লুটেরা শ্রেণি নিয়ন্ত্রিত প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এদের জনগণের কাছে তুলে ধরতে ভয় পায়। এরা রাষ্ট্র থেকে কোনও সুবিধা গ্রহণ করেন না। রাষ্ট্রের সর্বসুবিধা গ্রহণকারী সুখভোগী ভুয়া আর অসৎ বুদ্ধিচর্চারীগণও তাদের এড়িয়ে চলে। তাদেরও মহান ব্যক্তিত্বের পাশে দাঁড়াতে সাহস পায় না ওই ধূর্ত শেয়ালেরা।

মোট কথা, দেশের হাল-হকিকত তাতে গণতন্ত্র যে নিরাপদে আছে এমনটা ভাবা যায় না। চারদিকে কেবলই অন্ধকার। জনগণের সামনে বসবাস জায়গাটা খুঁজে পেতে সত্যি কষ্ট হয়। বিশ্বাসের জায়গাটা ভেঙ্গে পড়ছে খুবই দ্রুত। চারদিকে কেবল কোলাহল। কাড়াকাড়ি, কামড়া-কামড়ির আর শুয়োরের ঘোঁৎ ঘোঁৎ শব্দ। উন্নয়নের টাকা নিয়ে ভাগাভাগি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি চলছে ঊর্ধ্বগতিতে। এসব কথা জনগণ শুনছে কান পেতে আর অসহায়ের মতো চেয়ে চেয়ে দেখছে। এই বুঝি তাদের ভোটের ডিজিটাল গণতন্ত্রের হাল! একদিন নয়, দু&rsquo;দিন নয়, বছরের পর বছর যুগের পর যুগ গত হলো অর্ধশতাব্দের ওপর সময় বয়ে গেল, গণতন্ত্র কী আর জানা গেল না। ধরা গেল না। পাওয়া তো দূরের কথা।

চেনা হলো না গণতন্ত্রের শক্রমিত্র। শত্রুকে মিত্র ভেবে লড়াইয়ে কাল গেল কেটে গণতন্ত্রের নাম করে বারবার রঙ বদলে আসে দেশশাসন করতে গণতন্ত্রের নাম করে বারবার রঙ বদলে আসে দেশশাসন করতে গণতন্ত্রের দুশমন। জনগণ তাদের চিনল না। ছদ্মবেশটা পারলো না খুলতে। এই দীর্ঘস্থায়ী অন্ধকারের দুঃসময়ের দিকে তাকিয়ে হাতাশাবাদীদের মতোই মনে কেবল সন্দেহ লাগে, এদেশের জনগণ কি গণতন্ত্রের অযোগ্য? আসলে অবস্থাটা সৃষ্টি করেছে গণনির্যাতনের ধরা-ছোঁয়ার মধ্যে না রেখে ভুয়া গণতন্ত্রকে সামনে তুলে ধরে। গণতন্ত্রকে ধারণ করার যোগ্যতা অবশ্যই জনগণের আছে। সে জন্য চাই সেই প্রজ্ঞা, যা ভুয়া গণতন্ত্রীদের চিহ্নিত করতে সক্ষম। জনগণের মধ্যে সেই প্রজ্ঞার আলো জ্বালাবার দায়িত্ব আত্মত্যাগি, নির্লোভ, খাঁটি দেশ প্রেমিক রাজনৈতিক দলের। সেই দলই চাই সবার আগে। সবার সামনে।

কোথায় সেই দল? দল না থাকুক, কিংবা প্রচারের বাইরে অস্পষ্ট অবস্থায় থাকুক, সৎ দেশ প্রেমিক মানুষ নিশ্চয়ই আছে। ওরা আছে দেশের এখানে ওখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে এবং অসংগঠিতভাবে। ওদের খুঁজে বের করতে হবে, একত্রিত হতে হবে, লড়াইয়ের দল বানাতে হবে। এরাই গণতন্ত্র ধারণ করার যোগ্য মানুষ, যোগ্য নাগরিক। এবার ওরাই আসুক। আর দেরি নয়, সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে খুবই দ্রুত। এ না হলেই সর্বনাশ!

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

সাননিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 24 May 2026 17:30:10 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[*জুয়ার আগুনে পুড়ছে জীবন, কার্যকর উদ্যোগ শূন্য*]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/114896" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/114896</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাংলাদেশে জুয়া এখন স্মার্টফোনের পর্দায় ছড়িয়ে পড়েছে। এর নানা ধরনের নাম থাকলেও একে সবাই অনলাইন জুয়া বলে জানে। এই জুয়া খেলে সর্বস্ব হারিয়ে আত্মহত্যা করেছেন অনেকেই।

অনলাইন জুয়া অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে (২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়) বাংলাদেশে প্রায় ৫০ লাখ (৫ মিলিয়ন) মানুষ অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। এদের সিংহভাগই তরুণ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং বেকার যুবক।

অনলাইন জুয়া ২০১৮-২০১৯ সালের দিকে শুরু হয়। ২০২০ সালে করোনা মহামারির লকডাউনের সময় মানুষ যখন ঘরে অবরুদ্ধ, সে সময়ে বৃদ্ধি পায় স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের ব্যবহার। এই অবসরে অনলাইন জুয়া ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।

এই সর্বনাশা জুয়ায় কত লোক পথে বসেছে, কত লোক নিঃস্ব হয়েছে এর সরকারি পরিসংখ্যান নেই। তবে মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন অনুসন্ধান এবং গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লক্ষাধিক মানুষ জুয়ায় হেরে সর্বস্বান্ত হয়েছেন।

মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক সংস্থাগুলোর গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুয়ায় আসক্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৩০% তীব্র মানসিক অবসাদ ও দুশ্চিন্তায় ভোগেন। অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে আইন ও পুলিশের ভূমিকা অপ্রতুল। এ পর্যন্ত ২ হাজার ৬০০-এর বেশি জুয়ার সাইট এবং অসংখ্য মোবাইল অ্যাপ ব্লক হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কক্সবাজার এবং দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে এটি মহামারির আকার ধারণ করেছে। অনেক পরিবার তাদের জমিজমা, ভিটেমাটি এবং শেষ সম্বল বিক্রি করে ঋণগ্রস্ত হয়ে সম্পূর্ণরূপে পথে বসেছেন।

একসময় জুয়া মানে ছিল তাসের আড্ডা কিংবা গোপন আসর। এখন সেই জুয়া স্মার্টফোনের পর্দায় মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে চলছে। একশ্রেণির মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে জুয়ায় জড়াচ্ছে। তারা বিকাশ-নগদের লেনদেনের মাধ্যমে তৈরি করেছে ভয়ংকর অনলাইন বেটিং সিন্ডিকেট। কিশোর থেকে বৃদ্ধ বয়সি অনেক মানুষ জড়িয়ে পড়ছে এই ভয়ংকর নেশায়। এ থেকে বাদ থাকছে না স্কুলের শিক্ষার্থীরাও। এতে কেউ হারাচ্ছেন ব্যবসার মূলধন, কেউ বসতভিটা, কেউ সর্বস্ব হারিয়ে বেছে নিচ্ছেন আত্মহত্যার পথ।

অভিযোগ রয়েছে, অনলাইন জুয়া শুধু মানুষকেই সর্বস্বান্ত করছে না, এর মাধ্যমে দেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা।

অনুসন্ধানে দেশের বিভিন্ন জেলায় অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। জুয়ার কারণে আত্মহত্যা, খুন, চুরি, ছিনতাই, ঋণগ্রস্ততা ও পারিবারিক ভাঙনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালালেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থাকছে। ফুটপাতের দোকানি, সিএনজিচালক, নির্মাণশ্রমিক, কলেজশিক্ষার্থী, গৃহপরিচারিকা থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী পর্যন্ত অনেকেই এখন নিয়মিত জড়াচ্ছেন বেটিং অ্যাপে।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, সিকে৪৪৪, সিভি৬৬৬, নগদ৮৮, ক্রিক্রিয়া, ওয়ানএক্সবেট, বাবু৮৮, লাইনবেটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বেটিং অ্যাপ ব্যবহার করে চলছে জুয়ার আসর। বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে সহজে টাকা জমা ও উত্তোলনের সুযোগ থাকায় দ্রুত বাড়ছে আসক্তি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাত্র একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন আর ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই যে কেউ জুয়ার জগতে প্রবেশ করতে পারছে। অনলাইন জুয়ায় নিঃস্ব হওয়া কক্সবাজার শহরের এক তরুণ ব্যবসায়ী বলেন, আগে ডলার দিয়ে খেলতে হতো, তাই লোক কম ছিল। এখন বিকাশে টাকা পাঠালেই খেলা যায়। সহজ হওয়ার কারণেই লোভে পড়ে সবাই জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ছে।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অনলাইন জুয়ার নেশায় পড়ে এক সরকারি চাকরিজীবী এনজিও থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নেন। পুরো টাকাই জুয়ায় হারিয়ে পারিবারিক ও অর্থনৈতিক চাপে গত ১০ ফেব্রুয়ারি আত্মহত্যা করেন। এলাকায় কলেজছাত্র হৃদয় মিয়া বন্ধুর কাছ থেকে ধার নেওয়া ২২ হাজার টাকা জুয়ায় হারিয়ে ফেলেন। সেই টাকা ফেরত না পেয়ে ক্ষুব্ধ বন্ধুরা তাকে হত্যা করে।

গত বছরের ৯ ডিসেম্বর কক্সবাজার পৌরসভার এসএম পাড়ার ইমরান (২৮) অনলাইন জুয়ার ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেন। বগুড়ায় অনলাইন জুয়াকে কেন্দ্র করে খুন, আত্মহত্যা ও পারিবারিক সহিংসতার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। যশোরেও জুয়া খেলতে গিয়ে ঋণের চাপে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বলেন, অনলাইন অপরাধ দমনে জেলার সব থানাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ ভুক্তভোগী অভিযোগ করতে চান না।

স্থানীয়রা বলছেন, অনলাইন জুয়ার কারণে চুরি, ছিনতাই, মাদকাসক্তি ও পারিবারিক কলহ বাড়ছে। অনেক তরুণ জুয়ার টাকা জোগাতে স্বর্ণালংকার বিক্রি, পরিবারের টাকা আত্মসাৎ এমনকি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ছে। একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, শুরুতে সামান্য লাভ দেখিয়ে অ্যাপগুলো ব্যবহারকারীদের আসক্ত করে তোলে। পরে বড় অঙ্কের টাকা হারিয়ে মানুষ ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে। অনেকেই বের হতে চাইলেও পারেন না। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, অনলাইন জুয়ার পেছনে রয়েছে শক্তিশালী এজেন্ট সিন্ডিকেট। মাস্টার এজেন্ট, সাব-এজেন্ট ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে পুরো নেটওয়ার্ক। খেলোয়াড় হারলে কমিশন পান এজেন্টরা। দেশের বিভিন্ন জেলায় বসে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে নতুন খেলোয়াড় সংগ্রহ করছে। এসব বিজ্ঞাপনে জনপ্রিয় সেলিব্রেটিদের এআই নির্মিত ভিডিও ব্যবহার করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, অধিকাংশ বেটিং সার্ভার বিদেশে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় মূল হোতাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সীমান্তবর্তী জেলা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি এমন এলাকাগুলোতে এ নেটওয়ার্ক বেশি সক্রিয়। কক্সবাজার, মেহেরপুর ও যশোরে বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়ার এজেন্টদের আটক করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারের পর জামিনে বেরিয়ে আবার একই কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগও রয়েছে।

মেহেরপুরে অনলাইন জুয়ার &lsquo;মাস্টারমাইন্ড&rsquo; হিসেবে পরিচিত কমরপুর গ্রামের নবাবকে একসময় গ্রেপ্তার করা হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি বিদেশে পাড়ি জমান। তার অনুপস্থিতিতে জুয়ার নেটওয়ার্কের নেতৃত্বে আসেন মোরশেদুল আলম লিপু গাজী। তিনিও গত বছর অক্টোবরে গ্রেপ্তার হন। তার বিরুদ্ধে একাধিক জেলায় অন্তত অর্ধডজন মামলা রয়েছে। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি জামিনে মুক্তি পান।

অসুসন্ধানে জানা গেছে, মেহেরপুরে অনলাইন জুয়া মহামারিতে রূপ নিয়েছে। কয়েকশ তরুণ বিভিন্ন অ্যাপের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। মুজিবনগর উপজেলায় অনলাইন জুয়ার টাকায় অনেকের জীবনযাত্রায় হঠাৎ পরিবর্তন এসেছে। কেউ দোতলা বাড়ি করেছেন, কেউ বিলাসবহুল গাড়ি কিনেছেন। অথচ তাদের দৃশ্যমান কোনো বৈধ আয় নেই। মেহেরপুর পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, প্রযুক্তির মাধ্যমে জুয়ার অ্যাপ শনাক্ত ও বন্ধ করার কাজ চলছে। তবে মূল হোতারা বিদেশে অবস্থান করায় তদন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভয়ংকর এই জুয়ার নেটওয়ার্কের বড় শক্তি হলো সহজ প্রযুক্তি ও মোবাইল ব্যাংকিং। বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হচ্ছে। একাধিক এমএফএস এজেন্ট জানিয়েছেন, অনেক গ্রাহক দিনে কয়েকবার বড় অঙ্কের টাকা ক্যাশ ইন ও ক্যাশ আউট করছেন, যা অনলাইন জুয়ার সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট বলে তাদের ধারণা। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে। ২০২২ সালে রাশিয়া থেকে পরিচালিত একটি বেটিং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ায় জড়িত থাকার অভিযোগে কক্সবাজার থেকে ৯ ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দেশের আরও অনেক জেলায় জুয়ার এজেন্টদের গ্রেপ্তারের নজির আছে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, অ্যাপগুলো বিদেশ থেকে পরিচালিত হচ্ছে। বিকাশের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশনস কর্মকর্তা শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম বলেন, অনলাইন জুয়া, হুন্ডি ও অর্থ পাচার ঠেকাতে তারা নিজেরাই প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি চালাচ্ছেন। সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হলে তারা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) প্রতিবেদন পাঠান। অনুসন্ধানে জানা গেছে, যেখানে টাকার প্রবাহ বেশি সেখানেই অনলাইন জুয়ার রমরমা কারবার। মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের হাব হওয়ায় সেখানে অনলাইনের জুয়ার হাট বেশ চাঙা। আসক্ত হয়ে পড়েছেন ওখানকার শ্রমিকরা।

পুলিশ ও সাইবার ইউনিট বলছে, অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় একাধিক মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। তবে অধিকাংশ ভুক্তভোগী সামাজিক লজ্জা বা ভয় থেকে অভিযোগ করতে চান না। ফলে মূল চক্র অনেক ক্ষেত্রেই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। সমাজবিজ্ঞানী ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক সচেতনতা ও প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে অনলাইন জুয়ার ভয়াবহতা নিয়ে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অনলাইন জুয়া দেশের জন্য বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিকসংকটে পরিণত হতে পারে।

সান নিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 19 May 2026 14:22:38 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[বিএনপি’র রবীন্দ্রনাথ ]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/114758" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/114758</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[এবার রবীন্দ্র-জয়ন্তীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাণী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা আলমগীর সাহেবের বিবৃতি আমাকে মুগ্ধ করেছে। এর বাইরে বিএনপি-জামাতপন্থী কয়েকজন লেখকের ভিডিও বিবৃতি চোখে পড়েছে, যেখানে রবীন্দ্রনাথকে হেয় করার প্রবণতা স্পষ্ট।

রবীন্দ্রনাথ ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান, এটা তাঁর দোষ হতে পারে না। তিনি জবরদস্তিমূলক ওই বিশিষ্ট পরিবারে জন্মানোর জেদ করেছিলেন বলে শোনা যায় না। অপিচ, তিনি বাংলাভাষী অঞ্চলে জন্মানোয় সবচে বেশী উপকার হয়েছে বাংলা ভাষার। জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক স্যার বলেছেন, বাংলা ভাষাটা হৃষ্টপুষ্ট হয়েছে তাঁর হাতেই।

রবীন্দ্রনাথ তাঁর জমিদারি এলাকায় স্কুল, হাসপাতাল, বৃদ্ধাশ্রম, ম্যাটার্নিটি ক্লিনিক এসব কেন করেন নাই- এগুলো নিয়েও নতুন যুগের কোনো কোনো গবেষককে কলম ধরতে দেখা যায়। তাঁর সমবায় ব্যাংকের সুদের হার কেন এত অধিক- এটাও আক্রমণের অনুষঙ্গ! ব্যাংক সেক্টরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো সফল হতে পারেননি, যাকে একালের সেইসব গবেষক তাঁর অদূরদর্শিতা বলে সিদ্ধান্ত দিয়ে দিচ্ছেন।

বাংলাদেশে এখন আজান দিয়ে রবীন্দ্র বিরোধিতা জমজমাট। বেশকিছু প্রকাশনাও বাজারে এসেছে। শুনেছি কাটতি ভালো। কাঙাল হরিনাথ এই গ্রুপের কাছে বিশাল রেফারেন্স। তিনি নাকি রবীন্দ্রনাথের প্রজাপীড়ন নিয়ে তাঁর পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন!

এই পন্থীদের কেউ কেউ নজরুলকেও টেনে এনে বলে থাকেন, নোবেল পাওয়ার কথা ছিলো নজরুলের। রবীন্দ্রনাথ ষড়যন্ত্র করে নিজে ছিনিয়ে নিয়েছেন। অথচ যে বছর রবীন্দ্রনাথ নোবেল লাভ করেন, অর্থাৎ ১৯১৩ সালে নজরুলের বয়স মাত্র ১৪! নজরুল সেসময় লেখালেখি শুরু করেছিলেন কিনা বলতে পারবো না। করার কথাও নয়।

তবে এর এক দশকের মধ্যে ননরুলকে &lsquo;বসন্ত&rsquo; নাটক উৎসর্গ করে যুগের দাবী পূরণ করেছেন এবং নজরুলকে কবি হিসেবে বরণ করে নিয়েছিলেন। বসন্ত নাটকের বিখ্যাত গান: &lsquo;যদি তারে নাই চিনি গো&rsquo; আমার অনেক প্রিয়। আরেকটি প্রিয় গান &lsquo;তোমার বাস কোথা যে পথিক।&rsquo; নজরুলও তাঁর প্রথম শ্রেষ্ঠ কবিতা সংকলন রবীন্দ্রনাথকে উৎসর্গ করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের গানের সুর অবলম্বনে নজরুল লিখেছেন অনেক গান: তৃষিত আকাশ কাঁপে রে (দারুণ অগ্নিবাণে রে), শূন্য এ বুকে (অল্প লইয়া থাকি), এল এল রে বৈশাখী ঝড় (এসো এসো হে তৃষ্ণার জল), তোমারি জেলে পালিছ ঠেলে (তোমারি গেহে পালিছ স্নেহে) ইত্যাদি। শেষের গানটি লালিকা।

২৫ খণ্ড রবীন্দ্র রচনাবলির মধ্যে মাত্র দুটো কবিতা &lsquo;হিন্দুমেলার উপহার&rsquo; এবং &lsquo;শিবাজী উৎসব&rsquo; যথাক্রমে কবির ১৪ এবং ৪৩ বছর বয়সের রচনা। দুটো কবিতাই স্বদেশী জাতীয়তাবাদী ধারার।

মহামান্য বাল গঙ্গাধর তিলক মহোদয় মুঘল বিরোধী হিন্দু নেতা শিবাজী ছেত্রপতির নামে শিবাজী উৎসব চালু করলে স্বামী বিবেকানন্দ, বিপিন চন্দ্র পাল প্রমুখ স্বদেশি চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ইংরেজ তাড়ানোর মন্ত্রে দীক্ষিত হন। রবীন্দ্রনাথের স্বদেশ পর্যায়ের বাংলা ও ইংরেজি রচনাসমূহ এই আন্দোলনের ফসল বললে অত্যুক্তি হবে না। শিবাজী উৎসব কবিতার &lsquo;এক ধর্মরাজ্য হবে ভারত&rsquo;- এটা শিবাজীর সংলাপ।

রবীন্দ্রনাথ নিজে ছিলেন ব্রাহ্ম, একেশ্বরবাদী। বঙ্কিমচন্দ্রের &lsquo;বন্দে মাতরম&rsquo; গানে সুর দেয়ার সময় দেবীবন্দনা যুক্ত বাণীগুলোতে তিনি সুরারোপ করতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি যেসব আগমনী গান লিখেছেন সেখানেও দেবী দুর্গার উপস্থিতি শূন্য। যেমন &lsquo;আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে কখন আপনি/তুমি এই অপরূপ রূপে বাহির হলে জননী!/ওগো মা, তোমায় দেখে দেখে আঁখি না ফিরে!/তোমার দুয়ার আজি খুলে গেছে সোনার মন্দিরে।&rsquo;

স্বদেশি জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক আদর্শে উদ্বুদ্ধ ছিলেন নজরুলও। তিনি লিখলেন খালেদ, খেয়াপারের তরণী, বাজলো কি রে ভোরের সানাই, আনন্দময়ীর আগমনী ইত্যাদি। বাজলো কি রে ভোরের সানাই গীতিকবিতায় তিনি ইসলামি বীরদের পূণর্জাগরণ কামনা করেছেন, যারা দিকে দিকে ইসলামের ঝাণ্ডা উড়িয়েছিল- মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ পর্যন্ত। ঠিক একই কারণে মহামান্য বাল গঙ্গাধর তিলক মারাঠি বীর শিবাজীকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেবের অনুপস্থিতিতে যিনি প্রায় দুই দশক দলের হাল ধরেছিলেন শক্ত হাতে সেই মির্জা আলমগীর সাহেব একজন বিশাল মাপের রবীন্দ্রপ্রেমী মানুষ। তাঁর কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের কবিতা শোনা গভীর আনন্দের। বর্তমান সরকার সংস্কৃতি ক্ষেত্রে জেনেবুঝেই কাজ করছেন বলেই আমার বিশ্বাস।

লেখক: কিউরেটর, বুড়িগঙ্গা আর্টস অ্যান্ড ক্র্যাফটস। এডমিন, প্রসঙ্গ নজরুল-সঙ্গীত।

সাননিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 12 May 2026 06:34:02 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ছাত্রদের হাতেই থাকতে হবে ছাত্রদলের নেতৃত্ব]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/114671" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/114671</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ৪১ বছর বয়সে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। জিয়াউর রহমানের স্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৩৮ বছর বয়সে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হন।

তিনি ৪৫ বছর বয়সে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৩৪ বছর বয়সে ২০০২ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি দলের চেয়ারম্যান ও দেশের প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপির এই তিন কাণ্ডারি গড় ৪০ বছর বয়সে দলের ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়েছেন। আর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রক্তে গড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের বয়স ৩৮ বছর। রাকিব ২০০৬-০৭ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। ২০২৪ সালের ২ মার্চ ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পান। বর্তমানে তার কোথাও কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রত্ব নেই। রাকিব ১৯৮৮ সালের ২০ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। এ হিসেবে তার বয়স ৩৮ বছর।

গত শনিবার নতুন ঘোষিত ৪৫টি ইউনিটের ছাত্রদল নেতাদের বয়স ৪০ থেকে ৪৫ বছর।

ঢাকা মহানগর উত্তরের কমিটিতে সহ-সভাপতি পদ পেয়েছেন আমার এলাকার ছোট ভাই জাকির হোসেন জাকির। শুনে ভীষণ আনন্দিত হই। সুসংবাদটি জানাতে জাকির ফোন করেছিল। তাকে অভিনন্দন জানাতেই হঠাৎ প্রশ্ন করি, বুড়ো বয়সে ছাত্রদলের নেতা হয়েছো যুবদল ও মূলদল কবে করবে? এমপি, মন্ত্রী ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিবে কবে? কিছুক্ষণ চুপ থেকে জাকির বলে, কমিটি দিবে, দিচ্ছে করে ছাত্রদল করার বয়স অনেক আগে চলে গেছে। দলের শীর্ষ নেতারা ফ্যাসিস্ট আমলে আমার ত্যাগের মূল্যায়ন করেছে। আমার কী করার আছে? ওর প্রশ্নের জবাব আমি দিতে পারিনি।

খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, জাকির ২০০২ সালে এসএসসি পাস করেছে। জাকিরের জন্ম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি। এ হিসাবে তার বর্তমান বয়স ৩৯ বছরের বেশি। ২০২০ সালে জাকির বিয়ে করেছে। জাকির এক সন্তানের জনক। অন্তত ১০ বছর আগ থেকে ব্যাংকে চাকরি করে বর্তমানে ব্যবসা করছে। কোথাও কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তার ছাত্রত্ব নেই। বর্তমানে এলাকার একটি মাদ্রাসার সভাপতি সে।

আমার এলাকার সন্তানদের যেকোনো সাফল্যে আনন্দিত হই। গর্ব করি। ফোন করে উৎসাহ দেই। জাকিরকে ছোট করতে ছাত্রদলের নেতাদের বয়সের উদাহরণটি টানিনি। দেশের এক সময়ের গৌরবময় ছাত্র সংগঠনটির করুণ চিত্র তুলে ধরতে শুধু জাকিরের উদাহরণ দিয়েছি।

গত শনিবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন স্বাক্ষরিত একযোগে ৪৫টি ইউনিট কমিটি ঘোষণা করেছে। দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ এবং জেলা ও মহানগরে এসব কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কমিটিতে জাকিরের মতো আরও অসংখ্য নেতা পদ পেয়েছে। তাদের বয়স ৩৫ থেকে ৪০ বছরের উপরে। তবে এসব কমিটিতে জায়গা হয়নি ছাত্রদল করা অনেক ত্যাগী ও নিয়মিত ছাত্রদের। ক্ষুব্ধ হয়ে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিএনপি অফিস নয়াপল্টনসহ কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ করেছেন বঞ্চিতরা। তারা স্লোগান দিয়েছেন, &lsquo;টাকা লাগলে টাকা নে, তবু নাছির নতুন কমিটি দে।&rsquo;

বঞ্চিত ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দুঃসময়ের ত্যাগী কর্মীদের পদ না দেওয়া হলেও ছাত্রলীগের নেতাদের পদ দেওয়া হয়েছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ২২ সদস্যের কমিটিতে আট জন ছাত্রলীগের পদধারী সাবেক নেতা রয়েছেন। অপর ৪৪টি ইউনিট কমিটিতেও ছাত্রলীগ ও গুপ্ত ছাত্র শিবির ঢুকে পড়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। যা ছাত্রদল তথা বিএনপির জন্য ভয়াবহ বিপদ অপেক্ষা করছে!

ছাত্রদলের প্রধান প্রতিপক্ষ কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, পদপ্রত্যাশীদের বয়স সর্বোচ্চ ২৭ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে, নিয়মিত সম্মেলন না হওয়ার কারণে বিগত কয়েকটি সম্মেলনে বয়সসীমা ২৯ বছর নির্ধারণ করে ছাড় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশীদের বয়স নির্ধারণ করতে পারেনি বিএনপির হাই কামান্ড। বয়স নির্ধারণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় নিয়মিত ছাত্ররা ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসতে পারছে না। বুড়ো ও সন্তানের পিতা-মাতারা ছাত্রদলের নেতৃত্বে। এসব পিতা-মাতারা নিয়মিত ছাত্রদের সাথে যোগাযোগ করে দলে টানতে পারছেন না। যে কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের চরম ভরাডুবি হয়েছে।

অথচ ছাত্র রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে শিক্ষা, ঐক্য ও প্রগতি-এই তিন মূলনীতিকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠা করা হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। উৎপাদনমুখী শিক্ষাব্যবস্থা ও ছাত্রসমাজের অধিকার আদায়ের লক্ষ্য সামনে রেখে ১৯৭৯ সালের ১ জানুয়ারি এই সংগঠন গঠন করেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। পরবর্তী সময়ে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিতি পায় ছাত্রদল। সূচনালগ্ন থেকে সংগঠনটি স্বৈরাচার পতন আন্দোলন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সঠিকভাবে নেতৃত্ব দিয়ে সুনাম অর্জন ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার প্রমাণ দিয়েছে। এজন্য ছাত্রদলকে বলা হত বিএনপির চালিকাশক্তি। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় ১৬ বছরের শাসনামলে হামলা-মামলা-নির্যাতনসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে গুম-খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হতে হয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাদের সঠিক মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।

শহীদ জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীরা ছাত্রদল করতো। ছাত্রজীবনে আমিও ছাত্রদল করেছি। নেতৃত্ব দিয়েছি। পাঁচ, দশ টাকার রং চা ভাগ করে খেয়ে সংগঠন করেছি। সিনেমা হলের পাস দেয়াই ছিল আমাদের সময়ে ছাত্রনেতাদের সর্বোচ্চ ক্ষমতা। কোনও নেতা টাকা আয়ের চিন্তাও করতো না। ছাত্রদলের নেতারা এখন টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে নানা কুকর্ম করছে।

আমার কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কাজী ইয়াদুল ইসলাম তুষার। জুলাই বিপ্লবের আগে সে একটি এনজিওতে স্বল্প বেতনে চাকরি করতো। শেখ হাসিনার পতনের খবর শুনে &lsquo;রাজ্য দখল&rsquo; করতে সবকিছু ফেলে দ্রুত মোটরসাইকেল চালিয়ে কলাপাড়ায় ছুটে যায়। হেলমেট পরার সময়ও তার ছিল না। চাল নেই, চুলা নেই সেই তুষার এখন কয়েক কোটি টাকার মালিক। পায়রা সমুদ্র বন্দর, পায়রা তাপবিদ্যুত কেন্দ্র, কুয়াকাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বর্তমানে তার ৩৪ কোটি টাকার কাজ চলছে। ইয়াবা ব্যবসা, ডিজেল পাচারসহ নানা কুকর্মের সাথে জড়িত বিবাহিত এই ছাত্রনেতা। শুধু আমার উপজেলার তুষার রাতারাতি কোটিপতি হয়নি; তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির ছাত্রদলের প্রায় সকল নেতারা এখন কোটি কোটি টাকার মালিক।

বর্তমানে বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেও ছাত্রদলের অতীতের গৌরব ও সুনাম ফিরিয়ে আনার কোনো উদ্যোগ নেই।

ছাত্রদলের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে হলে প্রকৃত ছাত্রদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিতে হবে। বিবাহিত ও অছাত্রদের নিয়ে গঠিত কমিটি দ্রুত ভেঙে দিতে হবে। ছাত্রদলে গুপ্ত শিবির ও ছাত্রলীগের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্রদলের নেতা নির্বাচন করতে হবে। কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ নেতা গড়ে তুলতে হবে। যারা ভবিষ্যতে বিএনপির নেতৃত্ব দিবে। বকুলের মতো ব্যক্তিদের বিএনপির নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দিতে হবে। ক্লিন ইমেজের সাবেক ছাত্রনেতাদের এ পদের দায়িত্ব দিতে হবে।

পরিশেষে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলবো, ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি তুলেছিল জামায়াত। সে দাবির প্রতি সমর্থন দিয়ে আওয়ামী লীগ সারা দেশ অচল করে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল বিএনপিকে। এবারও যে কোনো ইস্যুতে বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে মাঠে নামবে গুপ্ত জামায়াত-শিবির। তাদের সাথে যুক্ত হবে আওয়ামী লীগ। রাজপথে তাদের মোকাবেলা করতে ছাত্রদলকে সুসংগঠিত করার বিকল্প নেই।

লেখক : কানাডা প্রবাসী, সাংবাদিক।

সাননিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 07 May 2026 18:49:40 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎসের খোঁজ করতে হবে]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/114610" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/114610</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সাম্প্রতিক সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সৃষ্ট অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য এক গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর- বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতিতে।

জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্ন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি, সরবরাহ শৃঙ্খলের ভাঙন এবং মূল্যস্ফীতির চাপ একত্রে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। একই সঙ্গে দেশীয় ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, বাজার সিন্ডিকেট, প্যানিক ক্রয় এবং সীমিত মজুত সক্ষমতা সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে।

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের উচ্চমাত্রার আমদানিনির্ভরতা এবং হরমুজ প্রণালির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এই সংকটকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে বৈশ্বিক সংঘাত সরাসরি দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প কার্যক্রম, কৃষি, পরিবহন এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এমন প্রেক্ষাপটে শুধু তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সরবরাহের উৎস বহুমুখীকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কার্যকর নীতি সংস্কার গ্রহণ এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে যৌথ হামলা শুরু করে। এর জেরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও রাজনীতিতে ভয়াবহ সংকট তৈরি করেছে। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে স্বল্প ও মধ্যমআয়ের দেশগুলো। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও শিল্পের কাঁচামালের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় মূল্যস্ফীতি, সরবরাহ সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চাপ বাড়ছে। এমতাবস্থায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি সাময়িক স্থিতিশীল মনে হলেও অনিশ্চয়তা কাটেনি। এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে আরও গভীর হতে পারে।

এদিকে ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় বসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দল। এই আলোচনা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। পাকিস্তান ছেড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দল। অবশ্য পরবর্তীতে আরও আলোচনা হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে সামনে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি হবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে যুদ্ধবিরতির ওপর। যদি যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়, তাহলে পরিস্থিতি আবার খারাপ হতে পারে।

সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমানো জরুরি। নেপাল-ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি, ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন ব্যবহার এবং বিকল্প জ্বালানি উৎসে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ আসছে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে।

তাদের মতে, হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধানে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার করা জরুরি।

জ্বালানি সরবরাহে নির্ভরযোগ্য অংশীদার নিশ্চিত না করলে এবং মধ্যপ্রাচ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন অনেকে।

বলা প্রয়োজন, গত এক দশক ধরে বাংলাদেশ দ্রুত অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন করছে, যেখানে শিল্পায়ন, বাণিজ্য, রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ এবং পরিবহন সম্প্রসারণে জ্বালানি তেলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশীয় তেল উৎপাদন সীমিত হওয়ায় মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ আমদানি-নির্ভর, বিশেষ করে ডিজেল ও অকটেন। কৃষি, শিল্প, পরিবহন এবং বিদ্যুৎ খাতে ডিজেলভিত্তিক মেশিনারি ও যানবাহনের বিস্তৃত ব্যবহার অর্থনীতিকে সরবরাহের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তেলের বাজারে সংকট স্পষ্টভাবে লক্ষ করা গেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো, অনেক পাম্পে &lsquo;সোল্ড আউট&rsquo; এবং ডিজেল মজুত না থাকার খবর সাধারণ মানুষের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সরকারের বারবার &lsquo;মজুত রয়েছে&rsquo;, &lsquo;সরবরাহ বন্ধ হয়নি&rsquo; ইত্যাদি ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে বাজারে ভিড় ও হুড়োহুড়ি দেখা যায়। সর্বশেষ দেশে তেলের দাম বাড়ানো হয়। এখন অবশ্য তেলের পাম্পগুলোতে আর দীর্ঘ লাইন নেই।

বাংলাদেশে তেলের প্রধান সরবরাহকারী তিনটি সরকারি কোম্পানি পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম এবং যমুনা অয়েল কোম্পানি। তারা আনুমানিক দুই হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার ৮০০টি পাম্পে তেল বিতরণ করে। বছরে প্রায় সাড়ে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টন তেল আমদানি হয়, যার বড় অংশ পরিশোধিত। ২০ শতাংশ কাঁচা তেল দেশেই রিফাইন্ড হয়। এমনতর চাহিদার বড় অংশ হরমুজ প্রণালি পথ দিয়ে আসে। তাই হরমুজ প্রণালির অস্থিতিশীলতা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

তেলের সরবরাহ-সংকটের মূল দুই কারণ রয়েছে। প্রথমটি আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক চাপ, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালির অস্থিতিশীলতা। দ্বিতীয়টি দেশীয় ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা মার্কেট সিন্ডিকেট, প্যানিক ক্রয়, দুর্নীতি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অভাব।

বলা প্রয়োজন, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হলো হরমুজ প্রণালি। প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং ২৫ শতাংশের বেশি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় এই রুটে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি বেড়েছে এবং অনেক বিমা কোম্পানি যুদ্ধ ঝুঁকির বিমা প্রত্যাহার করেছে। এর ফলে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে এবং বিশ্ববাজারে দাম দ্রুত বাড়ছে। এরইমধ্যে লোহিত সাগর ও হরমুজ অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৃহৎ তেলবাহী ট্যাঙ্কারের ভাড়া প্রায় ৩২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এই পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি চার দশমিক সাত শতাংশ থেকে কমে দুই দশমিক পাঁচ শতাংশে নেমে আসতে পারে। একইসঙ্গে জ্বালানি দামের উল্লম্ফনে বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে।

এমন প্রেক্ষিতে দেশের অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বাংলাদেশের উচিত এ পরিস্থিতি মাথায় রেখে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া। বিশেষ করে জ্বালানি সংরক্ষণ সক্ষমতা (স্টোরেজ ক্যাপাসিটি) বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে বিকল্প জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়া।

বাংলাদেশ সরাসরি হরমুজ প্রণালির তীরবর্তী না হলেও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ফলে হরমুজ দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে গেলে তার অভিঘাত আমাদের অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা, মূল্যস্ফীতি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর পড়বে, তা প্রায় অনিবার্য।

আরো বলা প্রয়োজন, বাংলাদেশের মোট জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানিনির্ভর। অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, ডিজেল, ফার্নেস অয়েল এবং এলএনজি&Ntilde; সবকিছুর ক্ষেত্রেই আমদানি নির্ভরতা রয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহকারী। এদের বেশিরভাগ রপ্তানি পথই হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল।

যদি দীর্ঘমেয়াদে প্রণালিটি অচল হয়ে পড়ে, তবে প্রথম ধাক্কা আসবে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার মাধ্যমে। জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাবে। মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়বে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়, পরিবহন খরচ এবং শিল্প উৎপাদনে। বাংলাদেশে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি বিদ্যুতের গড় উৎপাদন ব্যয় বাড়াবে। সরকার তেলে ভর্তুকি দিচ্ছে। এতে করে বাজেটের ওপর চাপ বাড়বে- আর ভোক্তা পর্যায়ে বর্তমানে দাম বাড়ার ফলে মূল্যস্ফীতি ত্বরান্বিত হবে; এবং হচ্ছেও।

তেলের দাম বাড়লে শুধু জ্বালানি খাতেই প্রভাব পড়ে না, এটি অর্থনীতির প্রায় সব খাতেই ছড়িয়ে পড়ে। পরিবহন ব্যয় বাড়লে খাদ্যদ্রব্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়। কৃষি খাতে সেচ ও যান্ত্রিকীকরণের ব্যয় বাড়ে।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা করছে। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট হলে, তা সামষ্টিক অর্থনীতিতে নতুন অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। আমদানি ব্যয় বেড়ে গেলে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়বে, যা টাকার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।

টাকার অবমূল্যায়ন হলে আমদানিনির্ভর অন্যান্য পণ্যের দামও বাড়বে। ফলে এক ধরনের &lsquo;দ্বৈত চাপ&rsquo; তৈরি হবে। একদিকে আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধি, অপরদিকে বিনিময় হারজনিত চাপ।

অনেকের পরামর্শ, সোলার এনার্জির কথা ভাবা যেতে পারে। আরো ভাবা যেতে পারে ইলেকট্রিক যানবাহনের বিষয়টি। অর্থাৎ জ্বালানি খাতে বহুমুখীকরণ, মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এখন সময়ের দাবি।

বাংলাদেশের বাইরেও এই যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাব ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো জোটেও বিভাজন সৃষ্টি করছে।

যুদ্ধের ফলে তেল-গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং ইউরিয়া, হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের মতো কাঁচামালের ঘাটতি বিশ্ব অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে।

এদিকে বাংলাদেশকে উচ্চ দামে স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে, ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়ছে। যুদ্ধ শেষ হলেও হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপ হলে জ্বালানি আমদানি খরচ আরও বাড়বে।

কৃষি ও রপ্তানি খাতেও বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইউরিয়া ও ডিজেল সংকট খাদ্য উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে, অন্যদিকে লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের বিকল্প রুট ব্যবহারে পরিবহন খরচ ও বিমা প্রিমিয়াম বেড়ে যাচ্ছে, যা রপ্তানি প্রতিযোগিতাকে দুর্বল করছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। বিশেষ করে সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়া বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেয়, তবে এসব দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

তেলের দাম বৃদ্ধি প্রথমদিকে এসব দেশের রাজস্ব বাড়াতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সামরিক উত্তেজনা, বিনিয়োগ অনিশ্চয়তা ও বাণিজ্য বিঘ্নিত হলে শ্রমবাজার সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। সে ক্ষেত্রে রেমিট্যান্স প্রবাহেও প্রভাব পড়তে পারে।

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্প। এই খাতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি সংকট দেখা দিলে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, যা রপ্তানি আদেশ পূরণে সমস্যা তৈরি করবে।

অপরদিকে বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি ইউরোপ ও আমেরিকার ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতায়ও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দাভাব এলে পোশাকের মতো পণ্যের চাহিদা কমে যায়। ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় হ্রাসের ঝুঁকিও তৈরি হবে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বৈশ্বিক এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প টেকসই ব্যবস্থা কী হতে পারে?

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হবে জ্বালানি আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করা। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের উৎস যেমন আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বা লাতিন আমেরিকা থেকে তেল ও এলএনজি আমদানির চুক্তি বাড়ানো যেতে পারে। যদিও পরিবহন ব্যয় কিছুটা বেশি হতে পারে, তবু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় এটি কার্যকর। দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানো জরুরি। সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ালে আমদানিনির্ভরতা কমবে।

অনেক দেশ কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ গড়ে তোলে, যাতে বৈশ্বিক সংকটের সময় কয়েক মাসের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত থাকে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সক্ষমতা গড়ে তোলা জরুরি। স্বল্প মেয়াদে অন্তত ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করা গেলে আকস্মিক সরবরাহ ব্যাহত হলেও তাৎক্ষণিক সংকট এড়ানো সম্ভব।

শুধু সরবরাহ বাড়ানো নয়, চাহিদা ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ। শিল্প ও পরিবহন খাতে জ্বালানি দক্ষ প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে। বিদ্যুৎ অপচয় কমাতে স্মার্ট গ্রিড ও আধুনিক বিতরণ ব্যবস্থা জরুরি। ব্যক্তিগত পর্যায়েও গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহ, শক্তি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

দক্ষিণ এশিয়ায় জ্বালানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় পথ। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যুৎ আমদানি-রপ্তানি ও গ্যাস পাইপলাইন সংযোগ বাড়ানো গেলে বহুমাত্রিক সরবরাহ নিশ্চিত হবে। এছাড়া, বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে কোনো একক অঞ্চলের অস্থিরতা আমাদের ওপর অতিরিক্ত প্রভাব না ফেলে।

রপ্তানি বহুমুখীকরণ, প্রবাসী আয় বাড়ানোর পদক্ষেপ অর্থনীতিকে বহিরাগত ধাক্কা মোকাবিলায় সক্ষম করে। একইসঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি শক্তিশালী রাখতে হবে, যাতে মূল্যস্ফীতির অভিঘাতে নিম্নআয়ের মানুষ বিপদে না পড়ে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি প্রবাহের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ থাকলে বাংলাদেশ সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে না থেকেও অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে গভীর সংকটে পড়তে পারে। তবে সংকটের আশঙ্কাই হতে পারে নীতি সংস্কারের সুবর্ণ সুযোগ। জ্বালানি বহুমুখীকরণ, নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ, কৌশলগত মজুত এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা ইত্যাদি পদক্ষেপ এখনই গ্রহণ করতে পারলে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা মোকাবিলা করা সহজতর হবে। এখনই চাই দূরদর্শী পরিকল্পনা ও বাস্তবমুখী নীতি-পদ্ধতির প্রয়োগ।

লেখক : কবি ও সাংবাদিক।

সাননিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 04 May 2026 17:47:20 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[কেন ধানমণ্ডি লেকের নাম নজরুল লেক হওয়া উচিত]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/114576" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/114576</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[সম্প্রতি ইউটিউবে নজরুল ইন্সটিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, লেখক এবং সরকারের যুগ্ম-সচিব মো. জেহাদ উদ্দিনের একটি একটি বক্তব্য শোনার সুযোগ হয়েছে। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে নজরুল ইন্সটিটিউটের আয়োজনে তিনি প্রধান বক্তা হিসেবে কথা বলছিলেন। সেখানে বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ধানমণ্ডি লেকের নতুন নামকরণের দাবি উত্থাপন করেছেন।

ফেসবুকে একই বিষয়ে এক পোস্টে ইন্সটিটিউটের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক জানিয়েছেন যে তিনিও এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছিলেন, কিন্তু সিটি করপোরেশন কর্ণপাত করেনি।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুর ১৫ বছর পর ঢাকায় গোড়াপত্তন হয় ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকার। আর যাকে আমরা ধানমণ্ডি লেক নামে চিনি সেটি ছিলো পাণ্ডো খাল, কারওয়ান নদীর শাখা, প্রায় মৃত।

লেকটি ধানমণ্ডি ২ থেকে শুরু করে ২৭ পর্যন্ত বিস্তৃত। ৬০ দশকের শেষের দিকে ধানমণ্ডিতে বাড়ি করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। লেখক বদরুদ্দীন উমর এ প্রসঙ্গে বলেন, মুজিব বাড়ি করার পর ধানমণ্ডি আওয়ামী লীগের কলোনিতে পরিণত হয়। উল্লেখ্য, বদরুদ্দীন উমর মিরপুর রূপনগরে থাকতেন।

ধানমণ্ডিতে বিখ্যাত বাঙালিদের মধ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ পর্যন্ত বসবাস করেছেন। অর্থাৎ ১৯৫৬ সালে এই আবাসিক এলাকা শুরু হওয়ার ১৬ বছর পর নজরুল এখানে চরণ রাখেন। এ ছাড়া হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী বাড়ি করেছিলেন ৭ এ, যা পরে তার ছেলে রবার্ট এশবি (রাশেদ সোহরাওয়ার্দী) বিক্রি করে দেন। যদিও সোহরাওয়ার্দী ভবন নামেই এখনো পরিচিত বাড়িটি। সেখানে Bangladesh Institute of Law and International Affairs নামে একটি প্রতিষ্ঠান আছে।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় নজরুল গেজেটবিহীন জাতীয় কবি ছিলেন প্রায় ৫০ বছর। ইউনূসের ইনটেরিম সরকারের আমলে তিনি গেজেটভূক্ত হয়েছেন। বর্তমানে জাতীয় কবি হিসেবে তিনি সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। এর আগে ছিলেন মুখে মুখে &lsquo;জাতীয় কবি&rsquo;। এদিকে ধানমণ্ডি লেকের নাম পরিবর্তন করে নজরুলের নামে করতে হলে সিটি করপোরেশন, সার্বভৌম সংসদ এবং ঢাকা জেলা পরিষদ সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

জাতীয় কবিকে কেমন করে সম্মান জানাতে হয় সেটি কিউবা দেখিয়েছে। সেদেশের জাতীয় কবি হোসে মার্তির সমাধি একটি জাতীয় স্থাপনা, যেখানে সেনা সদস্য নিয়মিত গার্ড অফ অনার প্রদান করে থাকে।

বাংলা ভাষার জাতীয় কবি নজরুল নিজে ব্রিটিশ আর্মির সদস্য ছিলেন এবং হাবিলদার পদে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। ভারত উপমহাদেশের আর কোনো সেনা সদস্য কবি হিসেবে এমন মর্যাদায় অভিষিক্ত হননি, যা কবি নজরুলের ভাগ্যে ঘটেছে। বস্তুত এটি বিশ্বে বিরল। তার জন্ম ও মৃত্যু দিবসে গার্ড অফ অনার প্রাপ্য ছিলো।

নজরুল জাতীয় কবি। তাই তিনি সকল মানুষের কবি। সবাই তাকে নিয়ে কথা বলতে ভালোবাসেন। রুটির দোকানের কর্মী থেকে মসজিদের ইমাম পর্যন্ত তাকে নিয়ে কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে পিয়ন পর্যন্ত কথা বলেন কবিকে নিয়ে। ভালোবাসা এতো তীব্র যে ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কারকে আমরা প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলি, যখন নজরুলের বয়স মাত্র ১৪ বছর!

নজরুল ইন্সটিটিউট কবির সঙ্গীত নিয়ে যতটা নিমগ্ন, নজরুলের পুরো সৃষ্টি নিয়ে ততোটাই নির্লিপ্ত। কবির অন্যান্য রচনা নিয়ে সেখানে কোনো গঠনমূলক প্রকল্প নেই; নেই গবেষণা। নেই চিনের কনফুসিয়াস ক্লাসরুমের মতো কোনো সেল।

নজরুলের আদি রেকর্ডের শিল্পীদের মধ্যে অনেকের আলোকচিত্র আমাদের সংগ্রহে নেই। ইন্সটিটিউটের সংগ্রহে কি আছে? নজরুল তার জীবনের শেষ কয়েক বছর ধানমণ্ডিতে বাস করেছেন। যদিও বেশির ভাগ সময় পিজি হাসপাতালেই ছিলেন। সেসময় কবি ভালোমন্দ সকল কিছুর ঊর্ধ্বে। তিনি এক জীবন্মৃত অবস্থায় ছিলেন, বাকশক্তি রহিত। সাহিত্য ও সঙ্গীত সৃষ্টির ক্ষমতা হারিয়েছেন বিয়াল্লিশেই। সরকারের একজন আমলা কবির এই বাড়ি নিয়ে কী তুঘলকি কাণ্ড করেছেন সে কথা নাইবা তুললাম।

কবির সামগ্রিক রচনা এবং সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক অবদান নিয়ে বিস্তর গবেষণার সুযোগ আছে। তার উদারনৈতিক মননের উপর আরো আলোকসম্পাত করা জরুরি। নজরুল কেবল ধানমণ্ডি লেক বা ধানমণ্ডিতে সীমায়িত নন, তিনি সকল দেশের সকল যুগের এবং সকল মানুষের। ধানমণ্ডির বাসিন্দা হিসেবে এই সম্মান নজরুলের প্রাপ্য।

লেখক: নজরুল-কর্মী, কিউরেটর।

সাননিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 02 May 2026 17:23:56 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্র পরিচালনা: ব্যবধান ও সমন্বয়ের নতুন রাজনীতি]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/114554" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/114554</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[এ, কে, এম শফিউল আযম রুমি: বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে অনেক কিছুই লেখার আছে, জানানোর আছে আবার আশাও আছে। আমার যতটুকু জানা, শোনা, দেখা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক ও চাকুরী জীবনের যতটুকু অভিজ্ঞতা আছে, ততটুকু অভিজ্ঞতাকে সকলের সাথে ভাগাভাগি করা উচিত বলে মনে করি। আজ অতি গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করবো। (১) রাজনৈতিক দল বলতে আমরা কী বুঝি? (২) বর্তমানে রাজনৈতিক দল বা দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম বা দর্শন নিয়ে দলের নেতা ও কর্মীরা কি ভাবছে বা করছে?

রাজনীতি মানে হলো রাজ্য শাসনের নীতি। যেহেতু রাজা প্রথায় আমাদের বিশ্বাস উঠে গেছে সেহেতু রাজ্য শাসনের জন্য আমরা গঠন করেছি কিছু রাজনৈতিক দল যেগুলো দেশ শাসনের জন্য প্রতিযোগিতা করবে। যারা এই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে তারা নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য দেশের শাসনভার নিজের হাতে তুলে নিবে এবং তাদের নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী সরকার পরিচালনা করবে। রাজনৈতিক দল মানুষকে নিজেদের নীতিমালা এবং আদর্শ সম্পর্কে জনগনকে জানিয়ে তাদেরকে আকৃষ্ট করবে। তাদের খোজখবর নিয়ে সুখে-দুঃখে তাদের পাশে থাকবে। দেশের এবং এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে সরাসরি অংশগ্রহণ করবে এবং উন্নয়নের পথের দিশারি হবে। তারা এই সংগঠনের প্রয়োজনে জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়েও বিভিন্ন কমিটি গঠন করবে । সোজাসাপ্টা ভাবে বলতে গেলে দেশের কল্যাণে কাজ করবে, দেশ শাসন করবে। বাস্তবিক অর্থে রাজনৈতিক দল দুই রকমের। একটি &quot;কুদল&quot; আর একটা &ldquo;রাজনৈতিক দল&rdquo;। &quot;কুদল&quot; একটি রাজনীতি বিহীন দল। এর নেতা ও কর্মীরা মনে করে রাজনীতি মানে অমুক ভাই - তমুক ভাই এর পেছনে জিন্দাবাদ আর শুভেচ্ছা শ্লোগান দেওয়া । এরা শুধুমাত্র তাদের সেই দলেরই নেতা-কর্মীদের সকল সুযোগ-সুবিধার জন্যই কাজ করে। সেটির কারণে অন্য কোন নাগরিকের ক্ষতি হলেও তাদের কিছু আসে যায়না। কিন্তু আসল &ldquo;রাজনৈতিক দল&rdquo; ব্যাপক বৃহত্তর স্বার্থে গঠিত হয়। রাজনৈতিক দল জনকল্যাণে গঠিত হয়। দেশের কোন সমস্যা বা বিপদে সেই সংগঠনের নেতারা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে। রাজনৈতিক দল তার দেশের মানুষ ও সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করে। দেশের মানুষ কীভাবে ভালো থাকবে, সেটা নিয়ে কাজ করে। বর্তমানে আমাদের এইটার বেশ অভাব হয়ে গেছে। দীর্ঘ ১৭,১৮ বছর পর বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের অবসান হয়েছে। বাংলাদেশ অবশেষে একটা নির্বাচিত সরকার পেয়েছে। সেই নির্বাচিত সরকারের কাছেও আমাদের প্রত্যাশা তো অনেক। একসাথে এক্ষুনি সবকিছু পাবোনা, এটা ঠিক। কিন্তু আমাদের যদি টার্গেট ঠিক থাকে, তাহলে আমরা চলতে চলতে একদিন ঠিকই সেই টার্গেটে পৌঁছে যাবো। একটি সুষ্ঠু-অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বর্তমানে ক্ষমতায়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম-এনসিপি জোট আছে বিরোধী দল হিসেবে। বিরোধী দল গঠন মূলক সমালোচনা করবে এটিই স্বাভাবিক। বিএনপি সরকার খুবই দক্ষতার সাথে সংসদে বিরোধী দলকে সামাল দিচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে তৃণমূলে । &#39;বিএনপি&#39; দেশের সরকার এবং তাদের রাজনৈতিক দলকে একসাথে করে ফেলেছে। আমার কাছে মনে হয় যে, দেশ শাসনকে আলাদা করা প্রয়োজন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমটাকে আলাদা করা উচিত। আমরা যদি দেশ শাসনের জন্য দলের কাছে কিছু আশা করি, তাহলে জাতীয়তাবাদী দলকে দলের স্বার্থ ব্যতিরেকে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। কে আমার আত্মীয়, কে আমার দলের লোক, কে আমার দুঃসময়ে পাশে ছিল এগুলো নিয়ে থাকলে তো সার্বজনীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। বিশ্ব যেমন এগিয়ে যাচ্ছে একইসাথে আমরাও এগিয়ে যাচ্ছি। পুরোনো ধাচে না থেকে আমাদের সকলেরও চিন্তাধারা সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে । আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া সম্পর্কে যতটুকু বুঝেছি- শুনেছি-দেখেছি, তিনি ১৭ বছর বিদেশে ছিলেন। বিদেশে থাকা অবস্থায় উনি যথেষ্ট পড়াশোনা করেছেন এবং তার পিতা জিয়াউর রহমানের আদর্শ, তার রাষ্ট্রভাবনা, দেশ পরিচালনার কৌশল, বৈদেশিক কুটনীতি এসবকিছু নিয়ে বেশ চর্চা করেছেন। সেই সাথে সাথে তার মা বেগম খালেদা জিয়ার শাসন আমলে দেশনেত্রীর পাশে থেকে তার শাসনকার্য পরিচালনার হাতেখড়ি হয়েছে । একইসাথে একটা ভালো দেশে তিনি ১৭ বছর কাটিয়ে এসেছেন। সেই দেশের শাসন ব্যবস্থা, অর্থ ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা, সামাজিক অবস্থা তিনি দীর্ঘদিন যাবত দেখে এসেছেন। আমরা আশাবাদী তিনি সেইসমস্ত অভিজ্ঞতা এবং চর্চার উপরে নির্ভর করে আমাদের দেশকে পরিচালনা করবেন এবং দেশের এই জনগণকে সেবা দিবেন । তাহলে আমরা নিশ্চয়ই একটা ভালো দেশ, ভালো সমাজ পেতে পারি ।

আরেক দিক থেকে আমার একটা প্রত্যাশা থাকবে যে জাতীয়তাবাদী দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমটা আলাদা ভাবে পরিচালনা করবেন । শুধুমাত্র বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নয়, প্রতিটা রাজনৈতিক দলেরও এলাকাভিত্তিক কমিটি আছে । কমিটির সভাপতি আছে, সেক্রেটারি আছে, সাংগঠনিক সম্পাদক আছে, কৃষি সম্পাদক আছে, সমাজসেবা সম্পাদক আছে, প্রাণিসম্পদ সম্পাদক সহ বিভিন্ন সম্পাদক আছে। কিন্তু দলের কমিটিতে নামমাত্রই এই সম্পাদকগুলো আছে। সম্পাদকগন তাদের নির্দিষ্ট দ্বায়িত্ব পালন করেন না। একটা দলীয় কমিটির শুধুমাত্র তাদের সভাপতি-সেক্রেটারীর উপরেই সে দল নির্ভর করে। তাই যদি হবে, তাহলে কমিটিতে এত সম্পাদক, এত সদস্য রাখার তো কোনো প্রয়োজন হয় না। একটা দলের যে কৃষি সম্পাদক আছে, সে যদি তৃণমূল থেকে গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা পর্যায়ে তার কৃষির খবরাখবর রাখে, সুবিধা-অসুবিধা, চাহিদা-প্রয়োজন গুলি জানে এবং সে তথ্যগুলো নিয়ে যদি পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন কমিটি, উপজেলা কমিটি, জেলা কমিটিতে আলোচনা হয়, তাহলে যেটা হয় সেটা হচ্ছে সেই রাজনৈতিক দল তৃণমূল থেকে কী দেখছে আর দল সরকার পরিচালনা কীভাবে করছে দুটির মধ্যে ডাটা তুলনা করার সু্যোগ সৃষ্টি হয়। এবং তুলনা করলেই কিন্তু সরকার বুঝতে পারে যে কোথায় সরকারের ভুল আছে, আর কোথায় সঠিক আছে। সোজা কথা আমরা যে রাজনীতির চর্চা করি, সেটি দেশের কল্যাণের জন্য করি । বাংলাদেশের আপামর জনগনের জন্য কল্যাণের ভাবনাটা ভেবে যদি বর্তমান বিএনপি সরকার এবং বিএনপি রাজনৈতিক দল সমান্তরালভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং একইসাথে বিরোধী দল পজিটিভ গঠনমূলক সমালোচনা করে তবেই আমরা একটা সুন্দর দেশ গড়ে তুলতে পারবো যেখানে থাকবে না দূর্নীতি, অন্যায়, অবিচার। আশা করি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল গুলি আমাদের দেশকে একটি দূর্নীতি মুক্ত, স্বনির্ভর দেশ হিসেবে গড়ে তুলবে।

লেখক: এ, কে, এম শফিউল আযম রুমি, রাজনৈতিক বিশ্লেষক

সান নিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 19 Apr 2026 10:51:26 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[কৃষকের অধিকার ফিরবে তো কৃষক কার্ডে?]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/114540" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/114540</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত যে কৃষি এ কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, গ্রামীণ অর্থনীতি&Ntilde;সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৃষক। তবুও এক কঠিন বাস্তবতা হলো, এই কৃষক শ্রেণিই এখনো রাষ্ট্রীয় সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তা ও বঞ্চনার শিকার।

ভর্তুকি, প্রণোদনা কিংবা কৃষিঋণ এসব নীতিগত সহায়তা প্রণয়ন করা হলেও তার সুষম ও লক্ষ্যভিত্তিক বণ্টন নিশ্চিত করা যায় না। ফলে প্রকৃত কৃষক অনেক সময়ই অধিকার থেকে বঞ্চিত হন, আর সুবিধা পেয়ে যায় একটি সীমিত প্রভাবশালী গোষ্ঠী। এই প্রেক্ষাপটে &ldquo;কৃষক কার্ড&rdquo; কেবল একটি প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়; বরং এটি হতে পারে কৃষি ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করার একটি কার্যকর উপায়। বাংলাদেশে কৃষকের সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য কোনো জাতীয় ডাটাবেজ নেই এটাই মূল সমস্যার কেন্দ্র। কে প্রকৃত কৃষক, কে আংশিক কৃষি কাজ করেন, আর কে কেবল কাগজে কৃষক এই পার্থক্য স্পষ্ট না হওয়ায় নীতিনির্ধারণ থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে জটিলতা তৈরি হয়। স্থানীয় পর্যায়ে তালিকা প্রণয়ন প্রায়ই প্রভাবশালী মহলের নিয়ন্ত্রণে থাকে, যেখানে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। কৃষক কার্ড চালু হলে এই অস্বচ্ছতা অনেকাংশে দূর হতে পারে, কারণ এটি একটি যাচাইকৃত ও ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত পরিচয় ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করা গেলে কৃষি খাতে নীতিনির্ধারণ আরও তথ্যনির্ভর হবে। কোন এলাকায় কোন ফসল বেশি উৎপাদিত হচ্ছে, কোথায় কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, কোন কৃষক কতটুকু
ঝুঁকিতে আছেন এসব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ হবে দ্রুত, নির্ভুল এবং বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে ভর্তুকি ও প্রণোদনা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া গেলে মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য কমবে এবং দুর্নীতির সুযোগ সীমিত হবে।

আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও কৃষক কার্ড একটি যুগান্তকারী ভ&sbquo;মিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির একটি বড় অংশ এখনও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে। কৃষকরা প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ পেতে নানা জটিলতার মুখোমুখি হন, ফলে অনেকেই উচ্চ সুদের অনানুষ্ঠানিক ঋণের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন। কৃষক কার্ড থাকলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সহজেই একজন কৃষকের পরিচয় ও সক্ষমতা যাচাই করতে পারবে। এতে কৃষিঋণ প্রাপ্তি সহজ হবে, বিনিয়োগ বাড়বে এবং কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাংলাদেশের কৃষির জন্য একটি স্থায়ী ঝুঁকি। প্রতি বছরই কোনো না কোনোভাবে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন। কিন্তু ক্ষতিপূরণ বা সহায়তা পৌঁছাতে দেরি হওয়া, তালিকাভুক্তিতে অনিয়ম&Ntilde;এসব সমস্যা পুরোনো। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত শনাক্ত করা গেলে সহায়তা প্রদানে গতি আসবে।

এমনকি ভবিষ্যতে কৃষি বীমা ব্যবস্থার সঙ্গেও এই কার্ড যুক্ত করা সম্ভব, যা কৃষকদের জন্য একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করবে। তবে এই উদ্যোগের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিকটি অর্থনৈতিক নয়, বরং সামাজিক। আমাদের সমাজে কৃষি পেশাকে এখনও অনেক ক্ষেত্রে অবমূল্যায়ন করা হয়। শিক্ষিত তরুণরা কৃষিকে পেশা হিসেবে নিতে অনাগ্রহী, কারণ তারা এতে সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা দেখতে পান না। কৃষক কার্ড এই মানসিকতা পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হতে পারে। রাষ্ট্র যখন আনুষ্ঠানিকভাবে একজন কৃষককে স্বীকৃতি দেবে, তখন তার পেশাগত পরিচয় নতুন মর্যাদা পাবে। এটি কেবল ব্যক্তিগত আত্মবিশ্বাসই বাড়াবে না, বরং সমাজে কৃষির অবস্থানকেও দৃঢ় করবে। বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রা এই উদ্যোগকে বাস্তবায়নের জন্য একটি অনুক&sbquo;ল পরিবেশ তৈরি করেছে।

জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল ব্যাংকিং, ডিজিটাল সেবা&Ntilde;এসবের সঙ্গে কৃষক কার্ড সংযুক্ত করা গেলে একটি সমন্বিত সেবা কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। এতে সরকার ও কৃষকের মধ্যে দূরত্ব কমবে এবং সেবাপ্রদান হবে আরও কার্যকর। তবে বাস্তবতা হলো, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন সহজ নয়। গ্রামীণ অঞ্চলের অনেক কৃষক এখনও ডিজিটাল প্রযুক্তির সঙ্গে পুরোপুরি পরিচিত নন। তাদের জন্য কার্ড ব্যবহার, তথ্য হালনাগাদ রাখা বা ডিজিটাল সেবা গ্রহণ করা একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে। এছাড়া তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে পুরো উদ্যোগই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। অতীতে অনেক ভালো উদ্যোগ কেবল দুর্বল বাস্তবায়নের কারণে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি এই অভিজ্ঞতা মাথায় রাখা জরুরি।

এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ, ব্যাংকিং খাত এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অপরিহার্য। কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে একটি শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত ও প্রতিকার করা যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কৃষক কার্ডকে একটি স্বল্পমেয়াদি প্রকল্প হিসেবে দেখা যাবে না। এটি হতে হবে একটি দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত উদ্যোগ, যা কৃষি খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং কৃষকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত। রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সামাজিক অংশগ্রহণ ছাড়া এই উদ্যোগের সফলতা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ যখন উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশের পথে এগোতে চায়, তখন কৃষি খাতকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

শিল্পায়ন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে সেই উন্নয়ন টেকসই হবে না। আর এই ভিত্তির কেন্দ্রে রয়েছেন কৃষক। অতএব, সময় এসেছে কৃষকদের নতুনভাবে ভাবার তাদেরকে কেবল উৎপাদক হিসেবে নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার। কৃষক কার্ড সেই স্বীকৃতির একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে। এটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে কৃষি খাতে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা পাবে। শেষ পর্যন্ত বলা যায়, কৃষক কার্ড কোনো সাধারণ পরিচয়পত্র নয়; এটি একটি নীতিগত পরিবর্তনের সূচনা। এটি কৃষকের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার পথ খুলে দিতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা, জবাবদিহিতা এবং আন্তরিক প্রয়াস থাকলে এই উদ্যোগ বাংলাদেশে কৃষি খাতে একটি নীরব কিন্তু গভীর পরিবর্তনের ভিত্তি স্থাপন করতে সক্ষম হবে।

মোঃ শামীম মিয়া শিক্ষার্থী, ফুলছড়ি সরকারি কলেজ, আমদির পাড়া, জুমারবাড়ী, সাঘাটা,গাইবান্ধা।
ইমেইল -shamimmiabd94@gmail.com

সান নিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Fri, 10 Apr 2026 08:40:19 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ইরানে আগ্রাসন : নিরব মুসলিম বিশ্ব]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/114455" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/114455</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া: গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলছে সংঘর্ষ, সংঘাত, হামলা-পাল্টা হামলা যার জন্য মূলত দায়ী হচ্ছে &lsquo;মধ্যপ্রাচ্যের ক্যান্সার&rsquo; নামে পরিচিত ইসরাইল ও তাদের প্রধান পৃষ্টাপোষক আমেরিকা। ইরানের সার্বভৌম ভূখণ্ডে চলমান ইঙ্গ-মার্কিন হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং বিশ্ব শান্তির জন্য হুমকি। কোনো আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা করছে না দেশটি। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও ইরানের ছায়াযুদ্ধ নতুন নয়। কিন্তু গত কয়েক মাসে উত্তেজনা এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষের আশঙ্কা অস্বীকার করা যায় না। গাজা, লেবানন, সিরিয়া-প্রতিটি ফ্রন্টে আগুন জ্বলছে। আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ সহ রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের সব নীতিমালাকে পদদলিত করে ইঙ্গ-মার্কিন আগ্রাসী শক্তি মুসলিম রাষ্ট্র ইরানের উপর হামলা করে এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আওলাদে রাসুল (সা.) আয়াতুল্লাহ আলি খোমেনিকে নিজ বাসভবনে শাহাদাতের মধ্য দিয়ে পরতিষ্ঠিত বিশ্বব্যবস্থার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা, মজলুমের কণ্ঠস্বর আয়াতুল্লাহিল উজমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী-কে। তাঁর প্রয়াণে আজ গোটা বিশ্বের ইসলামী আন্দোলন ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।

রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইঙ্গ-মার্কিন অশুভ শক্তি ইরান আক্রমণের পেছনে বড় কারণ হচ্ছে, ইরানের প্রথম সারির নেতাদের হত্যা করে নেতৃত্ব শূণ্য করা। অর্থাৎ তাদের যে হিসাব সেটা হলো, ইসলামিক রিপাবলিকের বিরুদ্ধে তারা কাজ শুরু করবে এবং বড় একটা পরিবর্তন নিয়ে আসা, ইরানের ক্ষমতার রুপ পরিবর্তনে চেষ্টা করা্। এটাই হচ্ছে মূলত তাদের হিসাব-নিকাশ। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভাববার সময় এসেছে তাদের এ হিসাব আদৌ সঠিক হলো কি না ? ইরানের জনগণই বা কি সিদ্ধান্ত গ্রহন করে তাও লক্ষ্য করতে সহবে। এই হামলাকে কেন্দ্র করে ইরানের ভেতরে একটা বিভাজন বা খণ্ডযুদ্ধ বা গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরী হয় কিনা সেটাও লক্ষ্য রাখার প্রয়োজন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো ল্যান্ডফোর্স ব্যবহার করেনি। যেকোনো ক্ষমতার পটপরিবর্তন করতে হয়, যেটা আমরা ইরাকে দেখেছি, কুয়েতে দেখেছি, এমনকি আফগানিস্তানেও দেখলাম, সব জায়গায় কিন্তু আমেরিকার ট্রুপস প্রয়োজন ছিল। এখানে এখন পর্যন্ত সেটার ব্যতিক্রম দেখছি। আমরা ওই কাঠামো এখনো দেখছি না যে, তারা ল্যান্ড ট্র্যাকার নামাবে। তার মানে হচ্ছে, তাদের ধারণা ইরানের জনগণই তাদের পক্ষে চলে আসবে এবং পুরো একটা অংশ ইসলামিক রিপাবলিককে প্রত্যাখ্যান করবে। সেটা দেখতে আমাদের আরও একটু অপেক্ষা করতে হবে। এখন পর্যন্ত সে ধরনের কিছু লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বরং ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে ইরানের জনগণ আবার রাস্তায় নেমেছে।

ইরানে ইঙ্গ-মার্কিন আগ্রাসী শক্তির সরাসরি সামরিক হামলা যে ভয়াবহ পরিণতি দেখা যাচ্ছে, তা শুধু দুই রাষ্ট্রের দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি গোটা মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের ভঙ্গুর অবস্থান, কূটনৈতিক দুর্বলতা এবং নীতিহীনতার নগ্ন প্রকাশ। যখন গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন মাসের পর মাস ধরে চলছে, যখন সিরিয়ায় নাগরিকদের জীবন ছিন্নভিন্ন হয়েছে এবং যখন আজ ইরানের বিভিন্ন শহরে বোমা পড়ে মানুষ নিহত হচ্ছে- তখন মুসলিম দেশগুলোর অধিকাংশ সরকার কেবল মৌনদর্শক কিংবা দ্বিমুখী বিবৃতির আশ্রয় নিয়েছে। এই নিষ্ক্রিয়তা শুধু দুঃখজনক নয়, এটি ঐতিহাসিকভাবে মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক ব্যর্থতারই জ্বলন্ত প্রমাণ। বর্তমান পরিস্থিতি শুধু ইসরাইল ও ইরানের বিষয় নয় &ndash; এটা পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি নৈতিক ও রাজনৈতিক পরীক্ষা। কিন্তু এই পরীক্ষায় মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্ব ব্যর্থ হচ্ছে।

ইরান ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র হলেও বহু মুসলিম দেশের কাছে রাজনৈতিকভাবে একঘরে। সুন্নি-শিয়া বিভাজন, পারস্য-আরব বৈরিতা এবং ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের কৌশল তাকে এক ঘোরতর একাকীত্বে ঠেলে দিয়েছে। কিন্তু আজ যখন ইসরাইল তার মূল ভূখণ্ডে আক্রমণ করছে, তখন ইরানের প্রতিরোধচেতনা একটি বৈশ্বিক প্রতীক হয়ে উঠছে- যদিও এটি দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এই প্রতিক্রিয়া মুসলিম দেশগুলোর নয়, বরং ইরানের একক প্রতিক্রিয়া। ইরান যদি একটি পশ্চিমা মিত্র দেশ হতো, তাহলে ইসরাইলের এই হামলাকে জাতিসংঘে &lsquo;যুদ্ধাপরাধ&rsquo; হিসাবে ঘোষণা করা হতো। কিন্তু বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের নীতিমালা শুধু শক্তিশালী রাষ্ট্রের জন্য প্রযোজ্য নয়। এখানেই মুসলিম বিশ্বের দুর্ভাগ্য- তারা নিজেদের জনসংখ্যা, অর্থনীতি ও ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী এক বড় শক্তি হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিকভাবে একবারেই তুচ্ছ। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন ও ফ্রান্স ইসরাইলের পক্ষেই অবস্থান গ্রহন করেছে, যদিও ইউক্রেন যুদ্ধের সময় এরাই রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক আইন ভাঙার জন্য দায়ী করেছিল। মুসলিম রাষ্ট্রগুলো তাদের এই দ্বিচারিতা বিরুদ্ধে কথা বলতে পারছে না এবং সম্মিলিতভাবে বিশ্ব ফোরামে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিতে পারছে না।

গত শনিবার দুই দেশের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-সহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হন। এর প্রতিশোধে ইরান মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোতে মিসাইল হামলা চালানো শুরু করে। থেমে নেই ইসরায়েলও। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর স্পষ্ট হুংকার, যতদিন প্রয়োজন, ততদিন অভিযান চলবে। তবে তেহরানের এ আক্রমণ সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা করছেন, সামনের দিনগুলোতে সংঘাত আরও বিস্তৃত ও মারাত্মক আকার নিতে পারে। অন্যদিকে, খামেনির মৃত্যুর পর আরব দুনিয়ায় যে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল, তা এবার সরাসরি লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে বড়সড় সংঘাতের রূপ নিয়েছে। তেহরান খামেনির নিহত হওয়ার খবর ঘোষণা করতেই ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লা গোষ্ঠী ইসরায়েলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে শুরু করে। যদিও লেবানন সরকার এ পদক্ষেপকে কোনোভাবেই সমর্থন করেনি। এরপরই সোমবার ভোরে ওই দেশের রাজধানী বৈরুতসহ একাধিক জায়গায় হামলা চালায় ইসরায়েল।

ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের আক্রমণ শান্তিপ্রিয় মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এসব সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়াবে এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে। এই হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র আবারও তাদের আগ্রাসী মনোভাবের প্রকাশ ঘটিয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড গোটা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে। গত শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যাকান্ড মানবতা ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। আলী খোমেনিকে হত্যার মধ্য দিয়ে ইরানকে দুর্বল করে দেযার ইঙ্গ-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির চেষ্টা কি সফল হবে তার জন্য আমাদের আরো কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। আয়তুল্লাহ আলি খোমেনি ছিলেন সমকালীন বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামিক স্কলার এবং আপসহীন নেতা। এই মহান পুরুষ সারাজীবন ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের জন্য লড়ে গেছেন। শাহী শাসনের জুলুম থেকে ইরানকে মুক্ত করা এবং ইসলামি বিপ্লব পরবর্তী সময়ে বহুমুখী বৈশ্বিক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ইরানকে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার মূল কারিগর ছিলেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট&mdash;একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং মুসলিম বিশ্বের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। তিনি সর্বদা কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আত্মার উন্নতি ও মুসলিম মিল্লাতকে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার দীক্ষা দিয়েছেন। ফিলিস্তিন থেকে শুরু করে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের নিপীড়িত মানুষের পক্ষে তাঁর কণ্ঠ ছিল সর্বদা উচ্চকিত। ইরানের আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক অভিভাবক আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর শাহাদাত বরণ কেবল একটি রাষ্ট্রের নেতার মৃত্যু নয়, বরং এটি বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর হৃদপিণ্ডে একটি বিষাক্ত তীরের আঘাত। পবিত্র রমজান মাসের পবিত্রতা লঙ্ঘন করে খামেনীর শাহাদাতের পরবর্তী সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত এই বর্বরোচিত হামলা এক চরম নিষ্ঠুর ও পরিকল্পিত আগ্রাসন। এটি আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং ধর্মীয় মর্যাদার ওপর এক নগ্ন হস্তক্ষেপ। এই হামলা শুধু ইরানের সার্বভৌমত্বকে বিদ্ধ করেনি, বরং পুরো মুসলিম বিশ্বের অস্তিত্বকে আজ কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

শত্রুরা ভেবেছিল, আয়তুল্লাহ আলী খোমেনিকে হত্যা করলেই ইরান বিপ্লবের মৃত্যু হবে। কিন্তু তারা জানে না যে, একজন খামেনির রক্ত থেকে লাখ লাখ বিদ্রোহী জন্ম নেবে। তার মৃত্যুতে আজ তেহরান থেকে বাগদাদ, বৈরুত থেকে গাজা&mdash;সবখানে হাহাকার। কবির ভাষায়&mdash;&lsquo;মৃত্যু তোরে ডরাই না আমি, মৃত্যু আমার হাতছানি।&rsquo; তিনি চেয়েছিলেন লড়াই করতে করতে শহীদ হতে, আর মহান আল্লাহ তার সেই প্রার্থনা কবুল করেছেন। তার এই মহাপ্রয়াণ কেবল একটি বিয়োগান্তক ঘটনা নয়, বরং এটি একটি নতুন বিপ্লবের সূচনালগ্ন। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি চলে গেছেন সত্য, কিন্তু তিনি রেখে গেছেন এক অপরাজেয় আদর্শ এবং একটি নির্ভীক জাতি। তার মৃত্যু মুসলিম বিশ্বের জন্য এক বিরাট শিক্ষা&mdash;শত্রুর কাছে মাথা নত না করে আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচার শিক্ষা।

মুসলিম বিশ্বের নীরবতা এক কলঙ্কিত আত্মসমর্পণ। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হলো তথাকথিত &#39;মুসলিম পরাশক্তি&#39; দেশগুলোর নীরবতা। সৌদি আরব, কাতার, ওমান কিংবা কুয়েত তাদের এই নিস্পৃহতা কেবল রাজনৈতিক দ্বিধা নয়, এটি একটি চরম নৈতিক সংকট। ইতিহাস সাক্ষী, যখনই মুসলিম দেশগুলো শক্তিশালী আগ্রাসীর সামনে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে, তখনই সাম্রাজ্যবাদীরা তাদের ওপর নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দিয়েছে। এই নীরবতা আসলে আগ্রাসীদের আরও উগ্র হতে উৎসাহিত করছে। আপনারা কি সত্যিই মুসলিম? নাকি শক্তিশালী রাষ্ট্রের দাসত্বই এখন আপনাদের স্বার্থপরতার প্রধান নিদর্শন? এই মুহুর্তে আয়তুল্লাহ আলী খোমিনিকে হত্যার পর মুসলিম বিশ্বের উচিত এখনই নতুন করে চিন্তা করা। কিভাবে একটি বাস্তব ও কার্যকর মুসলিম জোট গড়ে তোলা যায় তার জন্য কায়কর পদক্ষেপ গ্রহন করা। ওআইসিকে কাগজের পুতুল না রেখে ঢেলে সাজাতে হবে, শুধুমাত্র বিবৃতিমুখী নয়, বরং সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সংগঠনে রূপ দিতে হবে। তুরস্ক, ইরান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও কাতার- এই দেশগুলো মিলে একটি বিকল্প কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক জোট গঠন করার বিষয়টি ভাবতে পারে। মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে যে কোন যুদ্ধ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত অবস্থান গ্রহন করতে হবে। বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের প্রত্যাশা, বৈশ্বিক সংকটময় পরিস্থিতি এড়াতে ইসরায়েলের মিত্র হিসেবে পরিচিত পশ্চিমা শক্তিগুলো এই যুদ্ধ বন্ধে তৎপর হবে। ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের উত্তেজনা নিরসনে তো বটেই, ফিলিস্তিন ইস্যুতেও পশ্চিমা শক্তি ইতিবাচক ভূমিকার রাখবে। তবেই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।

যদি আজ আমরা ইরানের পাশে না দাঁড়াই, তবে কাল এই আগুনের আঁচ থেকে মক্কা-মদিনা কিংবা কায়রো কোনোটিই নিরাপদ থাকবে না। সময়ের দাবি হলো সম্মিলিত রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। মুসলিম বিশ্বকে স্বরণ রাখতে হবে, ফিলিস্তিনে জাতিগত নিধন প্রায় সম্পন্ন, এবার ইরানের পালা! অথচ পাশে নেই মুসলিম বিশ্ব! বিশ্বের অশান্তিকামী গেড়াষ্টি ইরানেও কথিত পরিবর্তনে আরব বসন্তের সূচনা করার ষড়যন্ত্র করছে। ইরাক সেই কবেই হারিয়েছে তার সম্ভ্রান্ত জাতি সত্তার গৌরব। লিবিয়ার গাদ্দাফি সরব হয়েছিলেন আফ্রিকার দেশে দেশে পশ্চিমাদের সাম্রাজ্যবাদের নখর উপরে দিতে। আফ্রিকান ইউনিয়নভক্তু দেশগুলোকে নিয়ে অভিন্ন মুদ্রা &lsquo;স্বর্ণ দিনার&rsquo; চালুর কথা জোরে-শোরে ঘোষণা দিয়ে মাঠেও নামেন তিনি। যার পরিনতি তাকে ভোগ করতে হয়েছে মুসলিম বিশ্বের অসহযোগতার কারনে। সিরিয়ার ভাগ্যেও ব্যতিক্রম হয় নি। কথিত আরব বসন্তের নামে বাশার আল আসাদের ক্ষমতাচ্যুতি নিকট অতিতের ঘটনা। বাশার আল আসাদ প্রাণে বেঁচেছেন বটে। তবে সিরিয়া আজ ক্ষুধা, দারিদ্র্য আর গৃহযুদ্ধ কবলিত এক জনপদে পরিনত হয়েছে। এবার মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিধর ইরানকেও মুছে দেবার চেষ্টা চলছে। তবুও যদি মুসলিম বিশ্বের টনক না নড়ে তাহলে বিশ্বের মুসলানদের করুন পরিনতি ভোগ করতে হবে। একই সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে ভবিষ্যতে আরও কঠিন মাশুল গুনতে হবে।

(লেখক : রাজনীতিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলাম লেখক )
E-mail : gmbhuiyan@gmail.com

সান নিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 07 Mar 2026 05:59:56 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[অভ্যান্তরীন কোন্দল ও নেতৃত্বশূন্যতাই খুলনা বিএনপিকে ডুবিয়েছে!]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/politics/114403" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/politics/114403</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজনীতিতে এক সময় যে অঞ্চলটি খুলনা বিভাগ বিএনপির অঘোষিত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল, সেই মানচিত্র এবার আমূল বদলে গেছে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল, মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দলেরই অংশের অবস্থান, প্রচারণায় অনীহা, ভোটের দিন কেন্দ্রে ভোটার আনতে নিষ্ক্রিয়তা এবং প্রতিপক্ষের সঙ্গে গোপন আঁতাতের অভিযোগ&mdash;সব মিলিয়ে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

৩৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৫টিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা। বিএনপি পেয়েছে মাত্র ১১টি আসন। তৃণমূলের ভাষায়&mdash;&ldquo;এটা শুধু হার নয়, সাংগঠনিক ভেঙে পড়ার ফল।&rdquo;

জেলা-ভিত্তিক চিত্র: খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্যে দেখা যায় খুলনা জেলা: ৬টির মধ্যে ৪টিতে বিএনপি, ২টিতে জামায়াত, বাগেরহাট: ৩টি জামায়াত, ১টি বিএনপি, সাতক্ষীরা: ৪টির সবকটিতে জামায়াত, যশোর: ৫টি জামায়াত, ১টি বিএনপি, মাগুরা: ২টিতেই বিএনপি, ঝিনাইদহ: ৩টি জামায়াত, ১টি বিএনপি, মেহেরপুর: ২টিতেই জামায়াত, কুষ্টিয়া: ৩টি জামায়াত, ১টি বিএনপি, চুয়াডাঙ্গা: ২টিতেই জামায়াত, নড়াইল: ১টি বিএনপি, ১টি জামায়াত, ফলাফল বলছে, সাতক্ষীরা, যশোর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত প্রায় একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে।

অতীত বনাম বর্তমান: পাল্টে যাওয়া সমীকরণ: নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী। ১৯৯১ সালে বিএনপি ৯টি, জামায়াত ৬টি, ১৯৯৬ সালে বিএনপি ১২টি, জামায়াত ১টি, ২০০১ সালে বিএনপি ২১টি, জামায়াত ৭টি, ২০০৮ সালে বিএনপি ২টি, জামায়াত ২টি, সে তুলনায় এবারের ফলাফল জামায়াতের জন্য বড় অগ্রগতি, আর বিএনপির জন্য বড় ধাক্কা।

নেতৃত্বের শূন্যতা ও সাংগঠনিক দুর্বলতা

এক সময় খুলনায় বিএনপির নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফিজুর রহমান, সাবেক তথ্যমন্ত্রী তরিকুল ইসলাম, সাবেক স্পিকার রাজ্জাক আলী ও সাবেক মেয়র শেখ তৈয়েবুর রহমান।

বর্তমানে সেই মাপের প্রভাবশালী নেতৃত্বের অভাব প্রকট বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

কেন্দ্রীয় বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু-র পদ স্থগিত হওয়া এবং তা পুনর্বহাল না হওয়ায় সাংগঠনিক অস্থিরতা বাড়ে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

তৃণমূলের অভিযোগ&mdash;৩৬টি আসনে সমন্বিত নেতৃত্ব দেওয়ার মতো সক্ষমতা বা সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ কারও হাতে ছিল না। অধিকাংশ জেলা কমিটি নড়বড়ে, অনেক উপজেলায় কমিটি নেই বললেই চলে।

বিদ্রোহী প্রার্থী ও আঁতাতের অভিযোগ

বিভাগে অন্তত ৬ জন বিএনপি নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া এক সময়ের প্রভাবশালী নেতা এমএএইচ সেলিম বাগেরহাটের দুই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

তৃণমূলের অভিযোগ, মনোনয়ন না পাওয়া কিছু নেতা গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীদের হারাতে মাঠে নামেন। কয়েকজনের বিরুদ্ধে জামায়াত প্রার্থীদের সঙ্গে গোপন সমঝোতার অভিযোগও উঠেছে&mdash;যদিও তা প্রমাণিত নয়।

হেভিওয়েটদের হার-জিত

খুলনা-২ আসনে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর পরাজয়কে দলীয় অনৈক্যের বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মনোনয়ন পেলেও পদ পুনর্বহাল না হওয়ায় সাংগঠনিক শক্তিকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।

অন্যদিকে খুলনা-৫ আসনে ভিন্ন চিত্র। সেখানে বিএনপির প্রার্থী আলী আসগার লবি পরাজিত করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার-কে। স্থানীয়ভাবে ঐক্যবদ্ধ প্রচারণাই এ আসনে বিএনপির সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্রমায় তৃণমূল, প্রত্যাশা পুনর্গঠনের

তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভাষায়, &ldquo;এমন ফলাফল কল্পনাও করিনি।&rdquo; অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তাদের প্রত্যাশা&mdash;কেন্দ্র দ্রুত সাংগঠনিক পুনর্গঠন করবে, কোন্দল নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেবে এবং শক্ত নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করবে।

নতুন বাস্তবতা, কঠিন বার্তা

খুলনা বিভাগের ৩৬ আসনের মধ্যে ২৫টি এখন জামায়াতের দখলে, ১১টি বিএনপির।

এই ফল শুধু আসন হারানো নয়&mdash;এটি সাংগঠনিক দুর্বলতা, নেতৃত্ব সংকট ও অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কঠিন বার্তা। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন এক সমীকরণের সূচনা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়&mdash;বিএনপি কীভাবে এই ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, নাকি এই পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবতায় রূপ নেবে।

খুলনা বিভাগের ৩৬ আসনের মধ্যে ২৫টি পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আর ১১টিতে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীরা।
খুলনা-১ : আমির এজাজ খান (বিএনপি-ধানের শীষ); খুলনা-২ : শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা); খুলনা-৩ : রকিবুল ইসলাম বকুল (বিএনপি-ধানের শীষ); খুলনা-৪ : এস কে আজিজুল বারী হেলাল (বিএনপি-ধানের শীষ); খুলনা-৫ : আলি আসগার লবি (বিএনপি-ধানের শীষ); খুলনা-৬ : আবুল কালাম আজাদ (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা)।
বাগেরহাট-১ : মাওলানা মশিউর রহমান (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা); বাগেরহাট-২ : শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা); বাগেরহাট-৩ : শেখ ফরিদুল ইসলাম (বিএনপি-ধানের শীষ); বাগেরহাট-৪ : আব্দুল আলিম (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা)।
সাতক্ষীরা-১ : মোঃ ইজ্জত উল্লাহ (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা); সাতক্ষীরা-২ : আব্দুল খালেক (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা); সাতক্ষীরা-৩ : রবিউল বাসার (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা); সাতক্ষীরা-৪ : গাজী নজরুল ইসলাম (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা)।
যশোর-১ : মুহাম্মাদ আজীজুর রহমান (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা); যশোর-২ : মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দিন ফরিদ (জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা); যশোর-৩ : অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (বিএনপি-ধানের শীষ); যশোর-৪ : মোঃ গোলাম রছুল (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা); যশোর-৫ : গাজী এনামুল হক (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা); যশোর-৬ : মোঃ মোক্তার আলী (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা)।
মেহেরপুর-১ : মোঃ তাজউদ্দীন খান (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা); মেহেরপুর-২ : নাজমুল হুদা (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা)।
কুষ্টিয়া-১ : রেজা আহমেদ বাচ্চু (বিএনপি-ধানের শীষ); কুষ্টিয়া-২ : মোঃ আব্দুল গফুর (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা); কুষ্টিয়া-৩ : মুফতি আমির হামজা (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা); কুষ্টিয়া-৪ : মোঃ আফজাল হোসেন (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা)
চুয়াডাঙ্গা-১ : এড. মাসুদ পারভেজ (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা); আসন নং ৮০ : চুয়াডাঙ্গা-২ : মোঃ রুহুল আমিন (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা)।
ঝিনাইদহ-১ : মোঃ আসাদুজ্জামান (বিএনপি-ধানের শীষ); ঝিনাইদহ-২ : আলী আজম মোঃ আবু বকর (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা); ঝিনাইদহ-৩ : মতিয়ার রহমান (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা); ঝিনাইদহ-৪ : মাওলানা আবু তালিব (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা)।
মাগুরা-১ : মনোয়ার হোসেন খান (বিএনপি-ধানের শীষ); আসন নং ৯২ : মাগুরা-২ : নিতাই রায় চৌধুরী (বিএনপি-ধানের শীষ); নড়াইল-১ : বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম (বিএনপি-ধানের শীষ); নড়াইল-২ : মোঃ আতাউর রহমান (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা)।

সান নিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 17 Feb 2026 07:25:08 +0000</updated>
        </entry>
    </feed>
