<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<feed xmlns="http://www.w3.org/2005/Atom">
                        <id>https://www.sunnews24x7.com/feed/opinion</id>
                                <link href="https://www.sunnews24x7.com/feed/opinion"></link>
                                <title><![CDATA[Sunnews opinion Feed]]></title>
                                <description>Sunnews Latest opinion News Feeds</description>
                                <language>bn-BD</language>
                                <updated>Tue, 12 May 2026 06:34:02 +0000</updated>
                        <entry>
            <title><![CDATA[বিএনপি’র রবীন্দ্রনাথ ]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/114758" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/114758</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[এবার রবীন্দ্র-জয়ন্তীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাণী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা আলমগীর সাহেবের বিবৃতি আমাকে মুগ্ধ করেছে। এর বাইরে বিএনপি-জামাতপন্থী কয়েকজন লেখকের ভিডিও বিবৃতি চোখে পড়েছে, যেখানে রবীন্দ্রনাথকে হেয় করার প্রবণতা স্পষ্ট।

রবীন্দ্রনাথ ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান, এটা তাঁর দোষ হতে পারে না। তিনি জবরদস্তিমূলক ওই বিশিষ্ট পরিবারে জন্মানোর জেদ করেছিলেন বলে শোনা যায় না। অপিচ, তিনি বাংলাভাষী অঞ্চলে জন্মানোয় সবচে বেশী উপকার হয়েছে বাংলা ভাষার। জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক স্যার বলেছেন, বাংলা ভাষাটা হৃষ্টপুষ্ট হয়েছে তাঁর হাতেই।

রবীন্দ্রনাথ তাঁর জমিদারি এলাকায় স্কুল, হাসপাতাল, বৃদ্ধাশ্রম, ম্যাটার্নিটি ক্লিনিক এসব কেন করেন নাই- এগুলো নিয়েও নতুন যুগের কোনো কোনো গবেষককে কলম ধরতে দেখা যায়। তাঁর সমবায় ব্যাংকের সুদের হার কেন এত অধিক- এটাও আক্রমণের অনুষঙ্গ! ব্যাংক সেক্টরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো সফল হতে পারেননি, যাকে একালের সেইসব গবেষক তাঁর অদূরদর্শিতা বলে সিদ্ধান্ত দিয়ে দিচ্ছেন।

বাংলাদেশে এখন আজান দিয়ে রবীন্দ্র বিরোধিতা জমজমাট। বেশকিছু প্রকাশনাও বাজারে এসেছে। শুনেছি কাটতি ভালো। কাঙাল হরিনাথ এই গ্রুপের কাছে বিশাল রেফারেন্স। তিনি নাকি রবীন্দ্রনাথের প্রজাপীড়ন নিয়ে তাঁর পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন!

এই পন্থীদের কেউ কেউ নজরুলকেও টেনে এনে বলে থাকেন, নোবেল পাওয়ার কথা ছিলো নজরুলের। রবীন্দ্রনাথ ষড়যন্ত্র করে নিজে ছিনিয়ে নিয়েছেন। অথচ যে বছর রবীন্দ্রনাথ নোবেল লাভ করেন, অর্থাৎ ১৯১৩ সালে নজরুলের বয়স মাত্র ১৪! নজরুল সেসময় লেখালেখি শুরু করেছিলেন কিনা বলতে পারবো না। করার কথাও নয়।

তবে এর এক দশকের মধ্যে ননরুলকে &lsquo;বসন্ত&rsquo; নাটক উৎসর্গ করে যুগের দাবী পূরণ করেছেন এবং নজরুলকে কবি হিসেবে বরণ করে নিয়েছিলেন। বসন্ত নাটকের বিখ্যাত গান: &lsquo;যদি তারে নাই চিনি গো&rsquo; আমার অনেক প্রিয়। আরেকটি প্রিয় গান &lsquo;তোমার বাস কোথা যে পথিক।&rsquo; নজরুলও তাঁর প্রথম শ্রেষ্ঠ কবিতা সংকলন রবীন্দ্রনাথকে উৎসর্গ করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের গানের সুর অবলম্বনে নজরুল লিখেছেন অনেক গান: তৃষিত আকাশ কাঁপে রে (দারুণ অগ্নিবাণে রে), শূন্য এ বুকে (অল্প লইয়া থাকি), এল এল রে বৈশাখী ঝড় (এসো এসো হে তৃষ্ণার জল), তোমারি জেলে পালিছ ঠেলে (তোমারি গেহে পালিছ স্নেহে) ইত্যাদি। শেষের গানটি লালিকা।

২৫ খণ্ড রবীন্দ্র রচনাবলির মধ্যে মাত্র দুটো কবিতা &lsquo;হিন্দুমেলার উপহার&rsquo; এবং &lsquo;শিবাজী উৎসব&rsquo; যথাক্রমে কবির ১৪ এবং ৪৩ বছর বয়সের রচনা। দুটো কবিতাই স্বদেশী জাতীয়তাবাদী ধারার।

মহামান্য বাল গঙ্গাধর তিলক মহোদয় মুঘল বিরোধী হিন্দু নেতা শিবাজী ছেত্রপতির নামে শিবাজী উৎসব চালু করলে স্বামী বিবেকানন্দ, বিপিন চন্দ্র পাল প্রমুখ স্বদেশি চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ইংরেজ তাড়ানোর মন্ত্রে দীক্ষিত হন। রবীন্দ্রনাথের স্বদেশ পর্যায়ের বাংলা ও ইংরেজি রচনাসমূহ এই আন্দোলনের ফসল বললে অত্যুক্তি হবে না। শিবাজী উৎসব কবিতার &lsquo;এক ধর্মরাজ্য হবে ভারত&rsquo;- এটা শিবাজীর সংলাপ।

রবীন্দ্রনাথ নিজে ছিলেন ব্রাহ্ম, একেশ্বরবাদী। বঙ্কিমচন্দ্রের &lsquo;বন্দে মাতরম&rsquo; গানে সুর দেয়ার সময় দেবীবন্দনা যুক্ত বাণীগুলোতে তিনি সুরারোপ করতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি যেসব আগমনী গান লিখেছেন সেখানেও দেবী দুর্গার উপস্থিতি শূন্য। যেমন &lsquo;আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে কখন আপনি/তুমি এই অপরূপ রূপে বাহির হলে জননী!/ওগো মা, তোমায় দেখে দেখে আঁখি না ফিরে!/তোমার দুয়ার আজি খুলে গেছে সোনার মন্দিরে।&rsquo;

স্বদেশি জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক আদর্শে উদ্বুদ্ধ ছিলেন নজরুলও। তিনি লিখলেন খালেদ, খেয়াপারের তরণী, বাজলো কি রে ভোরের সানাই, আনন্দময়ীর আগমনী ইত্যাদি। বাজলো কি রে ভোরের সানাই গীতিকবিতায় তিনি ইসলামি বীরদের পূণর্জাগরণ কামনা করেছেন, যারা দিকে দিকে ইসলামের ঝাণ্ডা উড়িয়েছিল- মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ পর্যন্ত। ঠিক একই কারণে মহামান্য বাল গঙ্গাধর তিলক মারাঠি বীর শিবাজীকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেবের অনুপস্থিতিতে যিনি প্রায় দুই দশক দলের হাল ধরেছিলেন শক্ত হাতে সেই মির্জা আলমগীর সাহেব একজন বিশাল মাপের রবীন্দ্রপ্রেমী মানুষ। তাঁর কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের কবিতা শোনা গভীর আনন্দের। বর্তমান সরকার সংস্কৃতি ক্ষেত্রে জেনেবুঝেই কাজ করছেন বলেই আমার বিশ্বাস।

লেখক: কিউরেটর, বুড়িগঙ্গা আর্টস অ্যান্ড ক্র্যাফটস। এডমিন, প্রসঙ্গ নজরুল-সঙ্গীত।

সাননিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 12 May 2026 06:34:02 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ছাত্রদের হাতেই থাকতে হবে ছাত্রদলের নেতৃত্ব]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/114671" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/114671</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ৪১ বছর বয়সে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। জিয়াউর রহমানের স্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৩৮ বছর বয়সে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হন।

তিনি ৪৫ বছর বয়সে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৩৪ বছর বয়সে ২০০২ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি দলের চেয়ারম্যান ও দেশের প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপির এই তিন কাণ্ডারি গড় ৪০ বছর বয়সে দলের ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়েছেন। আর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রক্তে গড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের বয়স ৩৮ বছর। রাকিব ২০০৬-০৭ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। ২০২৪ সালের ২ মার্চ ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পান। বর্তমানে তার কোথাও কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রত্ব নেই। রাকিব ১৯৮৮ সালের ২০ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। এ হিসেবে তার বয়স ৩৮ বছর।

গত শনিবার নতুন ঘোষিত ৪৫টি ইউনিটের ছাত্রদল নেতাদের বয়স ৪০ থেকে ৪৫ বছর।

ঢাকা মহানগর উত্তরের কমিটিতে সহ-সভাপতি পদ পেয়েছেন আমার এলাকার ছোট ভাই জাকির হোসেন জাকির। শুনে ভীষণ আনন্দিত হই। সুসংবাদটি জানাতে জাকির ফোন করেছিল। তাকে অভিনন্দন জানাতেই হঠাৎ প্রশ্ন করি, বুড়ো বয়সে ছাত্রদলের নেতা হয়েছো যুবদল ও মূলদল কবে করবে? এমপি, মন্ত্রী ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিবে কবে? কিছুক্ষণ চুপ থেকে জাকির বলে, কমিটি দিবে, দিচ্ছে করে ছাত্রদল করার বয়স অনেক আগে চলে গেছে। দলের শীর্ষ নেতারা ফ্যাসিস্ট আমলে আমার ত্যাগের মূল্যায়ন করেছে। আমার কী করার আছে? ওর প্রশ্নের জবাব আমি দিতে পারিনি।

খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, জাকির ২০০২ সালে এসএসসি পাস করেছে। জাকিরের জন্ম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি। এ হিসাবে তার বর্তমান বয়স ৩৯ বছরের বেশি। ২০২০ সালে জাকির বিয়ে করেছে। জাকির এক সন্তানের জনক। অন্তত ১০ বছর আগ থেকে ব্যাংকে চাকরি করে বর্তমানে ব্যবসা করছে। কোথাও কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তার ছাত্রত্ব নেই। বর্তমানে এলাকার একটি মাদ্রাসার সভাপতি সে।

আমার এলাকার সন্তানদের যেকোনো সাফল্যে আনন্দিত হই। গর্ব করি। ফোন করে উৎসাহ দেই। জাকিরকে ছোট করতে ছাত্রদলের নেতাদের বয়সের উদাহরণটি টানিনি। দেশের এক সময়ের গৌরবময় ছাত্র সংগঠনটির করুণ চিত্র তুলে ধরতে শুধু জাকিরের উদাহরণ দিয়েছি।

গত শনিবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন স্বাক্ষরিত একযোগে ৪৫টি ইউনিট কমিটি ঘোষণা করেছে। দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ এবং জেলা ও মহানগরে এসব কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কমিটিতে জাকিরের মতো আরও অসংখ্য নেতা পদ পেয়েছে। তাদের বয়স ৩৫ থেকে ৪০ বছরের উপরে। তবে এসব কমিটিতে জায়গা হয়নি ছাত্রদল করা অনেক ত্যাগী ও নিয়মিত ছাত্রদের। ক্ষুব্ধ হয়ে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিএনপি অফিস নয়াপল্টনসহ কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ করেছেন বঞ্চিতরা। তারা স্লোগান দিয়েছেন, &lsquo;টাকা লাগলে টাকা নে, তবু নাছির নতুন কমিটি দে।&rsquo;

বঞ্চিত ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দুঃসময়ের ত্যাগী কর্মীদের পদ না দেওয়া হলেও ছাত্রলীগের নেতাদের পদ দেওয়া হয়েছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ২২ সদস্যের কমিটিতে আট জন ছাত্রলীগের পদধারী সাবেক নেতা রয়েছেন। অপর ৪৪টি ইউনিট কমিটিতেও ছাত্রলীগ ও গুপ্ত ছাত্র শিবির ঢুকে পড়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। যা ছাত্রদল তথা বিএনপির জন্য ভয়াবহ বিপদ অপেক্ষা করছে!

ছাত্রদলের প্রধান প্রতিপক্ষ কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, পদপ্রত্যাশীদের বয়স সর্বোচ্চ ২৭ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে, নিয়মিত সম্মেলন না হওয়ার কারণে বিগত কয়েকটি সম্মেলনে বয়সসীমা ২৯ বছর নির্ধারণ করে ছাড় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশীদের বয়স নির্ধারণ করতে পারেনি বিএনপির হাই কামান্ড। বয়স নির্ধারণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় নিয়মিত ছাত্ররা ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসতে পারছে না। বুড়ো ও সন্তানের পিতা-মাতারা ছাত্রদলের নেতৃত্বে। এসব পিতা-মাতারা নিয়মিত ছাত্রদের সাথে যোগাযোগ করে দলে টানতে পারছেন না। যে কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের চরম ভরাডুবি হয়েছে।

অথচ ছাত্র রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে শিক্ষা, ঐক্য ও প্রগতি-এই তিন মূলনীতিকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠা করা হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। উৎপাদনমুখী শিক্ষাব্যবস্থা ও ছাত্রসমাজের অধিকার আদায়ের লক্ষ্য সামনে রেখে ১৯৭৯ সালের ১ জানুয়ারি এই সংগঠন গঠন করেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। পরবর্তী সময়ে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিতি পায় ছাত্রদল। সূচনালগ্ন থেকে সংগঠনটি স্বৈরাচার পতন আন্দোলন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সঠিকভাবে নেতৃত্ব দিয়ে সুনাম অর্জন ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার প্রমাণ দিয়েছে। এজন্য ছাত্রদলকে বলা হত বিএনপির চালিকাশক্তি। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় ১৬ বছরের শাসনামলে হামলা-মামলা-নির্যাতনসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে গুম-খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হতে হয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাদের সঠিক মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।

শহীদ জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীরা ছাত্রদল করতো। ছাত্রজীবনে আমিও ছাত্রদল করেছি। নেতৃত্ব দিয়েছি। পাঁচ, দশ টাকার রং চা ভাগ করে খেয়ে সংগঠন করেছি। সিনেমা হলের পাস দেয়াই ছিল আমাদের সময়ে ছাত্রনেতাদের সর্বোচ্চ ক্ষমতা। কোনও নেতা টাকা আয়ের চিন্তাও করতো না। ছাত্রদলের নেতারা এখন টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে নানা কুকর্ম করছে।

আমার কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কাজী ইয়াদুল ইসলাম তুষার। জুলাই বিপ্লবের আগে সে একটি এনজিওতে স্বল্প বেতনে চাকরি করতো। শেখ হাসিনার পতনের খবর শুনে &lsquo;রাজ্য দখল&rsquo; করতে সবকিছু ফেলে দ্রুত মোটরসাইকেল চালিয়ে কলাপাড়ায় ছুটে যায়। হেলমেট পরার সময়ও তার ছিল না। চাল নেই, চুলা নেই সেই তুষার এখন কয়েক কোটি টাকার মালিক। পায়রা সমুদ্র বন্দর, পায়রা তাপবিদ্যুত কেন্দ্র, কুয়াকাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বর্তমানে তার ৩৪ কোটি টাকার কাজ চলছে। ইয়াবা ব্যবসা, ডিজেল পাচারসহ নানা কুকর্মের সাথে জড়িত বিবাহিত এই ছাত্রনেতা। শুধু আমার উপজেলার তুষার রাতারাতি কোটিপতি হয়নি; তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির ছাত্রদলের প্রায় সকল নেতারা এখন কোটি কোটি টাকার মালিক।

বর্তমানে বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেও ছাত্রদলের অতীতের গৌরব ও সুনাম ফিরিয়ে আনার কোনো উদ্যোগ নেই।

ছাত্রদলের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে হলে প্রকৃত ছাত্রদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিতে হবে। বিবাহিত ও অছাত্রদের নিয়ে গঠিত কমিটি দ্রুত ভেঙে দিতে হবে। ছাত্রদলে গুপ্ত শিবির ও ছাত্রলীগের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্রদলের নেতা নির্বাচন করতে হবে। কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ নেতা গড়ে তুলতে হবে। যারা ভবিষ্যতে বিএনপির নেতৃত্ব দিবে। বকুলের মতো ব্যক্তিদের বিএনপির নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দিতে হবে। ক্লিন ইমেজের সাবেক ছাত্রনেতাদের এ পদের দায়িত্ব দিতে হবে।

পরিশেষে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলবো, ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি তুলেছিল জামায়াত। সে দাবির প্রতি সমর্থন দিয়ে আওয়ামী লীগ সারা দেশ অচল করে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল বিএনপিকে। এবারও যে কোনো ইস্যুতে বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে মাঠে নামবে গুপ্ত জামায়াত-শিবির। তাদের সাথে যুক্ত হবে আওয়ামী লীগ। রাজপথে তাদের মোকাবেলা করতে ছাত্রদলকে সুসংগঠিত করার বিকল্প নেই।

লেখক : কানাডা প্রবাসী, সাংবাদিক।

সাননিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 07 May 2026 18:49:40 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎসের খোঁজ করতে হবে]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/114610" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/114610</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সাম্প্রতিক সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সৃষ্ট অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য এক গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর- বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতিতে।

জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্ন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি, সরবরাহ শৃঙ্খলের ভাঙন এবং মূল্যস্ফীতির চাপ একত্রে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। একই সঙ্গে দেশীয় ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, বাজার সিন্ডিকেট, প্যানিক ক্রয় এবং সীমিত মজুত সক্ষমতা সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে।

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের উচ্চমাত্রার আমদানিনির্ভরতা এবং হরমুজ প্রণালির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এই সংকটকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে বৈশ্বিক সংঘাত সরাসরি দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প কার্যক্রম, কৃষি, পরিবহন এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এমন প্রেক্ষাপটে শুধু তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সরবরাহের উৎস বহুমুখীকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কার্যকর নীতি সংস্কার গ্রহণ এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে যৌথ হামলা শুরু করে। এর জেরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও রাজনীতিতে ভয়াবহ সংকট তৈরি করেছে। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে স্বল্প ও মধ্যমআয়ের দেশগুলো। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও শিল্পের কাঁচামালের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় মূল্যস্ফীতি, সরবরাহ সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চাপ বাড়ছে। এমতাবস্থায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি সাময়িক স্থিতিশীল মনে হলেও অনিশ্চয়তা কাটেনি। এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে আরও গভীর হতে পারে।

এদিকে ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় বসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দল। এই আলোচনা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। পাকিস্তান ছেড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দল। অবশ্য পরবর্তীতে আরও আলোচনা হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে সামনে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি হবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে যুদ্ধবিরতির ওপর। যদি যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়, তাহলে পরিস্থিতি আবার খারাপ হতে পারে।

সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমানো জরুরি। নেপাল-ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি, ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন ব্যবহার এবং বিকল্প জ্বালানি উৎসে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ আসছে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে।

তাদের মতে, হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধানে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার করা জরুরি।

জ্বালানি সরবরাহে নির্ভরযোগ্য অংশীদার নিশ্চিত না করলে এবং মধ্যপ্রাচ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন অনেকে।

বলা প্রয়োজন, গত এক দশক ধরে বাংলাদেশ দ্রুত অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন করছে, যেখানে শিল্পায়ন, বাণিজ্য, রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ এবং পরিবহন সম্প্রসারণে জ্বালানি তেলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশীয় তেল উৎপাদন সীমিত হওয়ায় মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ আমদানি-নির্ভর, বিশেষ করে ডিজেল ও অকটেন। কৃষি, শিল্প, পরিবহন এবং বিদ্যুৎ খাতে ডিজেলভিত্তিক মেশিনারি ও যানবাহনের বিস্তৃত ব্যবহার অর্থনীতিকে সরবরাহের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তেলের বাজারে সংকট স্পষ্টভাবে লক্ষ করা গেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো, অনেক পাম্পে &lsquo;সোল্ড আউট&rsquo; এবং ডিজেল মজুত না থাকার খবর সাধারণ মানুষের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সরকারের বারবার &lsquo;মজুত রয়েছে&rsquo;, &lsquo;সরবরাহ বন্ধ হয়নি&rsquo; ইত্যাদি ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে বাজারে ভিড় ও হুড়োহুড়ি দেখা যায়। সর্বশেষ দেশে তেলের দাম বাড়ানো হয়। এখন অবশ্য তেলের পাম্পগুলোতে আর দীর্ঘ লাইন নেই।

বাংলাদেশে তেলের প্রধান সরবরাহকারী তিনটি সরকারি কোম্পানি পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম এবং যমুনা অয়েল কোম্পানি। তারা আনুমানিক দুই হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার ৮০০টি পাম্পে তেল বিতরণ করে। বছরে প্রায় সাড়ে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টন তেল আমদানি হয়, যার বড় অংশ পরিশোধিত। ২০ শতাংশ কাঁচা তেল দেশেই রিফাইন্ড হয়। এমনতর চাহিদার বড় অংশ হরমুজ প্রণালি পথ দিয়ে আসে। তাই হরমুজ প্রণালির অস্থিতিশীলতা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

তেলের সরবরাহ-সংকটের মূল দুই কারণ রয়েছে। প্রথমটি আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক চাপ, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালির অস্থিতিশীলতা। দ্বিতীয়টি দেশীয় ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা মার্কেট সিন্ডিকেট, প্যানিক ক্রয়, দুর্নীতি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অভাব।

বলা প্রয়োজন, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হলো হরমুজ প্রণালি। প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং ২৫ শতাংশের বেশি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় এই রুটে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি বেড়েছে এবং অনেক বিমা কোম্পানি যুদ্ধ ঝুঁকির বিমা প্রত্যাহার করেছে। এর ফলে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে এবং বিশ্ববাজারে দাম দ্রুত বাড়ছে। এরইমধ্যে লোহিত সাগর ও হরমুজ অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৃহৎ তেলবাহী ট্যাঙ্কারের ভাড়া প্রায় ৩২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এই পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি চার দশমিক সাত শতাংশ থেকে কমে দুই দশমিক পাঁচ শতাংশে নেমে আসতে পারে। একইসঙ্গে জ্বালানি দামের উল্লম্ফনে বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে।

এমন প্রেক্ষিতে দেশের অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বাংলাদেশের উচিত এ পরিস্থিতি মাথায় রেখে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া। বিশেষ করে জ্বালানি সংরক্ষণ সক্ষমতা (স্টোরেজ ক্যাপাসিটি) বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে বিকল্প জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়া।

বাংলাদেশ সরাসরি হরমুজ প্রণালির তীরবর্তী না হলেও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ফলে হরমুজ দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে গেলে তার অভিঘাত আমাদের অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা, মূল্যস্ফীতি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর পড়বে, তা প্রায় অনিবার্য।

আরো বলা প্রয়োজন, বাংলাদেশের মোট জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানিনির্ভর। অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, ডিজেল, ফার্নেস অয়েল এবং এলএনজি&Ntilde; সবকিছুর ক্ষেত্রেই আমদানি নির্ভরতা রয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহকারী। এদের বেশিরভাগ রপ্তানি পথই হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল।

যদি দীর্ঘমেয়াদে প্রণালিটি অচল হয়ে পড়ে, তবে প্রথম ধাক্কা আসবে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার মাধ্যমে। জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাবে। মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়বে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়, পরিবহন খরচ এবং শিল্প উৎপাদনে। বাংলাদেশে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি বিদ্যুতের গড় উৎপাদন ব্যয় বাড়াবে। সরকার তেলে ভর্তুকি দিচ্ছে। এতে করে বাজেটের ওপর চাপ বাড়বে- আর ভোক্তা পর্যায়ে বর্তমানে দাম বাড়ার ফলে মূল্যস্ফীতি ত্বরান্বিত হবে; এবং হচ্ছেও।

তেলের দাম বাড়লে শুধু জ্বালানি খাতেই প্রভাব পড়ে না, এটি অর্থনীতির প্রায় সব খাতেই ছড়িয়ে পড়ে। পরিবহন ব্যয় বাড়লে খাদ্যদ্রব্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়। কৃষি খাতে সেচ ও যান্ত্রিকীকরণের ব্যয় বাড়ে।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা করছে। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট হলে, তা সামষ্টিক অর্থনীতিতে নতুন অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। আমদানি ব্যয় বেড়ে গেলে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়বে, যা টাকার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।

টাকার অবমূল্যায়ন হলে আমদানিনির্ভর অন্যান্য পণ্যের দামও বাড়বে। ফলে এক ধরনের &lsquo;দ্বৈত চাপ&rsquo; তৈরি হবে। একদিকে আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধি, অপরদিকে বিনিময় হারজনিত চাপ।

অনেকের পরামর্শ, সোলার এনার্জির কথা ভাবা যেতে পারে। আরো ভাবা যেতে পারে ইলেকট্রিক যানবাহনের বিষয়টি। অর্থাৎ জ্বালানি খাতে বহুমুখীকরণ, মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এখন সময়ের দাবি।

বাংলাদেশের বাইরেও এই যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাব ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো জোটেও বিভাজন সৃষ্টি করছে।

যুদ্ধের ফলে তেল-গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং ইউরিয়া, হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের মতো কাঁচামালের ঘাটতি বিশ্ব অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে।

এদিকে বাংলাদেশকে উচ্চ দামে স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে, ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়ছে। যুদ্ধ শেষ হলেও হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপ হলে জ্বালানি আমদানি খরচ আরও বাড়বে।

কৃষি ও রপ্তানি খাতেও বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইউরিয়া ও ডিজেল সংকট খাদ্য উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে, অন্যদিকে লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের বিকল্প রুট ব্যবহারে পরিবহন খরচ ও বিমা প্রিমিয়াম বেড়ে যাচ্ছে, যা রপ্তানি প্রতিযোগিতাকে দুর্বল করছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। বিশেষ করে সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়া বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেয়, তবে এসব দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

তেলের দাম বৃদ্ধি প্রথমদিকে এসব দেশের রাজস্ব বাড়াতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সামরিক উত্তেজনা, বিনিয়োগ অনিশ্চয়তা ও বাণিজ্য বিঘ্নিত হলে শ্রমবাজার সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। সে ক্ষেত্রে রেমিট্যান্স প্রবাহেও প্রভাব পড়তে পারে।

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্প। এই খাতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি সংকট দেখা দিলে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, যা রপ্তানি আদেশ পূরণে সমস্যা তৈরি করবে।

অপরদিকে বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি ইউরোপ ও আমেরিকার ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতায়ও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দাভাব এলে পোশাকের মতো পণ্যের চাহিদা কমে যায়। ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় হ্রাসের ঝুঁকিও তৈরি হবে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বৈশ্বিক এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প টেকসই ব্যবস্থা কী হতে পারে?

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হবে জ্বালানি আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করা। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের উৎস যেমন আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বা লাতিন আমেরিকা থেকে তেল ও এলএনজি আমদানির চুক্তি বাড়ানো যেতে পারে। যদিও পরিবহন ব্যয় কিছুটা বেশি হতে পারে, তবু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় এটি কার্যকর। দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানো জরুরি। সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ালে আমদানিনির্ভরতা কমবে।

অনেক দেশ কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ গড়ে তোলে, যাতে বৈশ্বিক সংকটের সময় কয়েক মাসের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত থাকে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সক্ষমতা গড়ে তোলা জরুরি। স্বল্প মেয়াদে অন্তত ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করা গেলে আকস্মিক সরবরাহ ব্যাহত হলেও তাৎক্ষণিক সংকট এড়ানো সম্ভব।

শুধু সরবরাহ বাড়ানো নয়, চাহিদা ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ। শিল্প ও পরিবহন খাতে জ্বালানি দক্ষ প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে। বিদ্যুৎ অপচয় কমাতে স্মার্ট গ্রিড ও আধুনিক বিতরণ ব্যবস্থা জরুরি। ব্যক্তিগত পর্যায়েও গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহ, শক্তি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

দক্ষিণ এশিয়ায় জ্বালানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় পথ। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যুৎ আমদানি-রপ্তানি ও গ্যাস পাইপলাইন সংযোগ বাড়ানো গেলে বহুমাত্রিক সরবরাহ নিশ্চিত হবে। এছাড়া, বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে কোনো একক অঞ্চলের অস্থিরতা আমাদের ওপর অতিরিক্ত প্রভাব না ফেলে।

রপ্তানি বহুমুখীকরণ, প্রবাসী আয় বাড়ানোর পদক্ষেপ অর্থনীতিকে বহিরাগত ধাক্কা মোকাবিলায় সক্ষম করে। একইসঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি শক্তিশালী রাখতে হবে, যাতে মূল্যস্ফীতির অভিঘাতে নিম্নআয়ের মানুষ বিপদে না পড়ে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি প্রবাহের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ থাকলে বাংলাদেশ সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে না থেকেও অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে গভীর সংকটে পড়তে পারে। তবে সংকটের আশঙ্কাই হতে পারে নীতি সংস্কারের সুবর্ণ সুযোগ। জ্বালানি বহুমুখীকরণ, নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ, কৌশলগত মজুত এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা ইত্যাদি পদক্ষেপ এখনই গ্রহণ করতে পারলে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা মোকাবিলা করা সহজতর হবে। এখনই চাই দূরদর্শী পরিকল্পনা ও বাস্তবমুখী নীতি-পদ্ধতির প্রয়োগ।

লেখক : কবি ও সাংবাদিক।

সাননিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 04 May 2026 17:47:20 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[কেন ধানমণ্ডি লেকের নাম নজরুল লেক হওয়া উচিত]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/114576" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/114576</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[সম্প্রতি ইউটিউবে নজরুল ইন্সটিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, লেখক এবং সরকারের যুগ্ম-সচিব মো. জেহাদ উদ্দিনের একটি একটি বক্তব্য শোনার সুযোগ হয়েছে। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে নজরুল ইন্সটিটিউটের আয়োজনে তিনি প্রধান বক্তা হিসেবে কথা বলছিলেন। সেখানে বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ধানমণ্ডি লেকের নতুন নামকরণের দাবি উত্থাপন করেছেন।

ফেসবুকে একই বিষয়ে এক পোস্টে ইন্সটিটিউটের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক জানিয়েছেন যে তিনিও এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছিলেন, কিন্তু সিটি করপোরেশন কর্ণপাত করেনি।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুর ১৫ বছর পর ঢাকায় গোড়াপত্তন হয় ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকার। আর যাকে আমরা ধানমণ্ডি লেক নামে চিনি সেটি ছিলো পাণ্ডো খাল, কারওয়ান নদীর শাখা, প্রায় মৃত।

লেকটি ধানমণ্ডি ২ থেকে শুরু করে ২৭ পর্যন্ত বিস্তৃত। ৬০ দশকের শেষের দিকে ধানমণ্ডিতে বাড়ি করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। লেখক বদরুদ্দীন উমর এ প্রসঙ্গে বলেন, মুজিব বাড়ি করার পর ধানমণ্ডি আওয়ামী লীগের কলোনিতে পরিণত হয়। উল্লেখ্য, বদরুদ্দীন উমর মিরপুর রূপনগরে থাকতেন।

ধানমণ্ডিতে বিখ্যাত বাঙালিদের মধ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ পর্যন্ত বসবাস করেছেন। অর্থাৎ ১৯৫৬ সালে এই আবাসিক এলাকা শুরু হওয়ার ১৬ বছর পর নজরুল এখানে চরণ রাখেন। এ ছাড়া হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী বাড়ি করেছিলেন ৭ এ, যা পরে তার ছেলে রবার্ট এশবি (রাশেদ সোহরাওয়ার্দী) বিক্রি করে দেন। যদিও সোহরাওয়ার্দী ভবন নামেই এখনো পরিচিত বাড়িটি। সেখানে Bangladesh Institute of Law and International Affairs নামে একটি প্রতিষ্ঠান আছে।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় নজরুল গেজেটবিহীন জাতীয় কবি ছিলেন প্রায় ৫০ বছর। ইউনূসের ইনটেরিম সরকারের আমলে তিনি গেজেটভূক্ত হয়েছেন। বর্তমানে জাতীয় কবি হিসেবে তিনি সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। এর আগে ছিলেন মুখে মুখে &lsquo;জাতীয় কবি&rsquo;। এদিকে ধানমণ্ডি লেকের নাম পরিবর্তন করে নজরুলের নামে করতে হলে সিটি করপোরেশন, সার্বভৌম সংসদ এবং ঢাকা জেলা পরিষদ সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

জাতীয় কবিকে কেমন করে সম্মান জানাতে হয় সেটি কিউবা দেখিয়েছে। সেদেশের জাতীয় কবি হোসে মার্তির সমাধি একটি জাতীয় স্থাপনা, যেখানে সেনা সদস্য নিয়মিত গার্ড অফ অনার প্রদান করে থাকে।

বাংলা ভাষার জাতীয় কবি নজরুল নিজে ব্রিটিশ আর্মির সদস্য ছিলেন এবং হাবিলদার পদে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। ভারত উপমহাদেশের আর কোনো সেনা সদস্য কবি হিসেবে এমন মর্যাদায় অভিষিক্ত হননি, যা কবি নজরুলের ভাগ্যে ঘটেছে। বস্তুত এটি বিশ্বে বিরল। তার জন্ম ও মৃত্যু দিবসে গার্ড অফ অনার প্রাপ্য ছিলো।

নজরুল জাতীয় কবি। তাই তিনি সকল মানুষের কবি। সবাই তাকে নিয়ে কথা বলতে ভালোবাসেন। রুটির দোকানের কর্মী থেকে মসজিদের ইমাম পর্যন্ত তাকে নিয়ে কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে পিয়ন পর্যন্ত কথা বলেন কবিকে নিয়ে। ভালোবাসা এতো তীব্র যে ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কারকে আমরা প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলি, যখন নজরুলের বয়স মাত্র ১৪ বছর!

নজরুল ইন্সটিটিউট কবির সঙ্গীত নিয়ে যতটা নিমগ্ন, নজরুলের পুরো সৃষ্টি নিয়ে ততোটাই নির্লিপ্ত। কবির অন্যান্য রচনা নিয়ে সেখানে কোনো গঠনমূলক প্রকল্প নেই; নেই গবেষণা। নেই চিনের কনফুসিয়াস ক্লাসরুমের মতো কোনো সেল।

নজরুলের আদি রেকর্ডের শিল্পীদের মধ্যে অনেকের আলোকচিত্র আমাদের সংগ্রহে নেই। ইন্সটিটিউটের সংগ্রহে কি আছে? নজরুল তার জীবনের শেষ কয়েক বছর ধানমণ্ডিতে বাস করেছেন। যদিও বেশির ভাগ সময় পিজি হাসপাতালেই ছিলেন। সেসময় কবি ভালোমন্দ সকল কিছুর ঊর্ধ্বে। তিনি এক জীবন্মৃত অবস্থায় ছিলেন, বাকশক্তি রহিত। সাহিত্য ও সঙ্গীত সৃষ্টির ক্ষমতা হারিয়েছেন বিয়াল্লিশেই। সরকারের একজন আমলা কবির এই বাড়ি নিয়ে কী তুঘলকি কাণ্ড করেছেন সে কথা নাইবা তুললাম।

কবির সামগ্রিক রচনা এবং সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক অবদান নিয়ে বিস্তর গবেষণার সুযোগ আছে। তার উদারনৈতিক মননের উপর আরো আলোকসম্পাত করা জরুরি। নজরুল কেবল ধানমণ্ডি লেক বা ধানমণ্ডিতে সীমায়িত নন, তিনি সকল দেশের সকল যুগের এবং সকল মানুষের। ধানমণ্ডির বাসিন্দা হিসেবে এই সম্মান নজরুলের প্রাপ্য।

লেখক: নজরুল-কর্মী, কিউরেটর।

সাননিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 02 May 2026 17:23:56 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্র পরিচালনা: ব্যবধান ও সমন্বয়ের নতুন রাজনীতি]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/114554" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/114554</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[এ, কে, এম শফিউল আযম রুমি: বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে অনেক কিছুই লেখার আছে, জানানোর আছে আবার আশাও আছে। আমার যতটুকু জানা, শোনা, দেখা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক ও চাকুরী জীবনের যতটুকু অভিজ্ঞতা আছে, ততটুকু অভিজ্ঞতাকে সকলের সাথে ভাগাভাগি করা উচিত বলে মনে করি। আজ অতি গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করবো। (১) রাজনৈতিক দল বলতে আমরা কী বুঝি? (২) বর্তমানে রাজনৈতিক দল বা দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম বা দর্শন নিয়ে দলের নেতা ও কর্মীরা কি ভাবছে বা করছে?

রাজনীতি মানে হলো রাজ্য শাসনের নীতি। যেহেতু রাজা প্রথায় আমাদের বিশ্বাস উঠে গেছে সেহেতু রাজ্য শাসনের জন্য আমরা গঠন করেছি কিছু রাজনৈতিক দল যেগুলো দেশ শাসনের জন্য প্রতিযোগিতা করবে। যারা এই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে তারা নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য দেশের শাসনভার নিজের হাতে তুলে নিবে এবং তাদের নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী সরকার পরিচালনা করবে। রাজনৈতিক দল মানুষকে নিজেদের নীতিমালা এবং আদর্শ সম্পর্কে জনগনকে জানিয়ে তাদেরকে আকৃষ্ট করবে। তাদের খোজখবর নিয়ে সুখে-দুঃখে তাদের পাশে থাকবে। দেশের এবং এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে সরাসরি অংশগ্রহণ করবে এবং উন্নয়নের পথের দিশারি হবে। তারা এই সংগঠনের প্রয়োজনে জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়েও বিভিন্ন কমিটি গঠন করবে । সোজাসাপ্টা ভাবে বলতে গেলে দেশের কল্যাণে কাজ করবে, দেশ শাসন করবে। বাস্তবিক অর্থে রাজনৈতিক দল দুই রকমের। একটি &quot;কুদল&quot; আর একটা &ldquo;রাজনৈতিক দল&rdquo;। &quot;কুদল&quot; একটি রাজনীতি বিহীন দল। এর নেতা ও কর্মীরা মনে করে রাজনীতি মানে অমুক ভাই - তমুক ভাই এর পেছনে জিন্দাবাদ আর শুভেচ্ছা শ্লোগান দেওয়া । এরা শুধুমাত্র তাদের সেই দলেরই নেতা-কর্মীদের সকল সুযোগ-সুবিধার জন্যই কাজ করে। সেটির কারণে অন্য কোন নাগরিকের ক্ষতি হলেও তাদের কিছু আসে যায়না। কিন্তু আসল &ldquo;রাজনৈতিক দল&rdquo; ব্যাপক বৃহত্তর স্বার্থে গঠিত হয়। রাজনৈতিক দল জনকল্যাণে গঠিত হয়। দেশের কোন সমস্যা বা বিপদে সেই সংগঠনের নেতারা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে। রাজনৈতিক দল তার দেশের মানুষ ও সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করে। দেশের মানুষ কীভাবে ভালো থাকবে, সেটা নিয়ে কাজ করে। বর্তমানে আমাদের এইটার বেশ অভাব হয়ে গেছে। দীর্ঘ ১৭,১৮ বছর পর বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের অবসান হয়েছে। বাংলাদেশ অবশেষে একটা নির্বাচিত সরকার পেয়েছে। সেই নির্বাচিত সরকারের কাছেও আমাদের প্রত্যাশা তো অনেক। একসাথে এক্ষুনি সবকিছু পাবোনা, এটা ঠিক। কিন্তু আমাদের যদি টার্গেট ঠিক থাকে, তাহলে আমরা চলতে চলতে একদিন ঠিকই সেই টার্গেটে পৌঁছে যাবো। একটি সুষ্ঠু-অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বর্তমানে ক্ষমতায়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম-এনসিপি জোট আছে বিরোধী দল হিসেবে। বিরোধী দল গঠন মূলক সমালোচনা করবে এটিই স্বাভাবিক। বিএনপি সরকার খুবই দক্ষতার সাথে সংসদে বিরোধী দলকে সামাল দিচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে তৃণমূলে । &#39;বিএনপি&#39; দেশের সরকার এবং তাদের রাজনৈতিক দলকে একসাথে করে ফেলেছে। আমার কাছে মনে হয় যে, দেশ শাসনকে আলাদা করা প্রয়োজন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমটাকে আলাদা করা উচিত। আমরা যদি দেশ শাসনের জন্য দলের কাছে কিছু আশা করি, তাহলে জাতীয়তাবাদী দলকে দলের স্বার্থ ব্যতিরেকে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। কে আমার আত্মীয়, কে আমার দলের লোক, কে আমার দুঃসময়ে পাশে ছিল এগুলো নিয়ে থাকলে তো সার্বজনীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। বিশ্ব যেমন এগিয়ে যাচ্ছে একইসাথে আমরাও এগিয়ে যাচ্ছি। পুরোনো ধাচে না থেকে আমাদের সকলেরও চিন্তাধারা সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে । আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া সম্পর্কে যতটুকু বুঝেছি- শুনেছি-দেখেছি, তিনি ১৭ বছর বিদেশে ছিলেন। বিদেশে থাকা অবস্থায় উনি যথেষ্ট পড়াশোনা করেছেন এবং তার পিতা জিয়াউর রহমানের আদর্শ, তার রাষ্ট্রভাবনা, দেশ পরিচালনার কৌশল, বৈদেশিক কুটনীতি এসবকিছু নিয়ে বেশ চর্চা করেছেন। সেই সাথে সাথে তার মা বেগম খালেদা জিয়ার শাসন আমলে দেশনেত্রীর পাশে থেকে তার শাসনকার্য পরিচালনার হাতেখড়ি হয়েছে । একইসাথে একটা ভালো দেশে তিনি ১৭ বছর কাটিয়ে এসেছেন। সেই দেশের শাসন ব্যবস্থা, অর্থ ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা, সামাজিক অবস্থা তিনি দীর্ঘদিন যাবত দেখে এসেছেন। আমরা আশাবাদী তিনি সেইসমস্ত অভিজ্ঞতা এবং চর্চার উপরে নির্ভর করে আমাদের দেশকে পরিচালনা করবেন এবং দেশের এই জনগণকে সেবা দিবেন । তাহলে আমরা নিশ্চয়ই একটা ভালো দেশ, ভালো সমাজ পেতে পারি ।

আরেক দিক থেকে আমার একটা প্রত্যাশা থাকবে যে জাতীয়তাবাদী দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমটা আলাদা ভাবে পরিচালনা করবেন । শুধুমাত্র বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নয়, প্রতিটা রাজনৈতিক দলেরও এলাকাভিত্তিক কমিটি আছে । কমিটির সভাপতি আছে, সেক্রেটারি আছে, সাংগঠনিক সম্পাদক আছে, কৃষি সম্পাদক আছে, সমাজসেবা সম্পাদক আছে, প্রাণিসম্পদ সম্পাদক সহ বিভিন্ন সম্পাদক আছে। কিন্তু দলের কমিটিতে নামমাত্রই এই সম্পাদকগুলো আছে। সম্পাদকগন তাদের নির্দিষ্ট দ্বায়িত্ব পালন করেন না। একটা দলীয় কমিটির শুধুমাত্র তাদের সভাপতি-সেক্রেটারীর উপরেই সে দল নির্ভর করে। তাই যদি হবে, তাহলে কমিটিতে এত সম্পাদক, এত সদস্য রাখার তো কোনো প্রয়োজন হয় না। একটা দলের যে কৃষি সম্পাদক আছে, সে যদি তৃণমূল থেকে গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা পর্যায়ে তার কৃষির খবরাখবর রাখে, সুবিধা-অসুবিধা, চাহিদা-প্রয়োজন গুলি জানে এবং সে তথ্যগুলো নিয়ে যদি পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন কমিটি, উপজেলা কমিটি, জেলা কমিটিতে আলোচনা হয়, তাহলে যেটা হয় সেটা হচ্ছে সেই রাজনৈতিক দল তৃণমূল থেকে কী দেখছে আর দল সরকার পরিচালনা কীভাবে করছে দুটির মধ্যে ডাটা তুলনা করার সু্যোগ সৃষ্টি হয়। এবং তুলনা করলেই কিন্তু সরকার বুঝতে পারে যে কোথায় সরকারের ভুল আছে, আর কোথায় সঠিক আছে। সোজা কথা আমরা যে রাজনীতির চর্চা করি, সেটি দেশের কল্যাণের জন্য করি । বাংলাদেশের আপামর জনগনের জন্য কল্যাণের ভাবনাটা ভেবে যদি বর্তমান বিএনপি সরকার এবং বিএনপি রাজনৈতিক দল সমান্তরালভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং একইসাথে বিরোধী দল পজিটিভ গঠনমূলক সমালোচনা করে তবেই আমরা একটা সুন্দর দেশ গড়ে তুলতে পারবো যেখানে থাকবে না দূর্নীতি, অন্যায়, অবিচার। আশা করি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল গুলি আমাদের দেশকে একটি দূর্নীতি মুক্ত, স্বনির্ভর দেশ হিসেবে গড়ে তুলবে।

লেখক: এ, কে, এম শফিউল আযম রুমি, রাজনৈতিক বিশ্লেষক

সান নিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 19 Apr 2026 10:51:26 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[কৃষকের অধিকার ফিরবে তো কৃষক কার্ডে?]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/114540" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/114540</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত যে কৃষি এ কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, গ্রামীণ অর্থনীতি&Ntilde;সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৃষক। তবুও এক কঠিন বাস্তবতা হলো, এই কৃষক শ্রেণিই এখনো রাষ্ট্রীয় সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তা ও বঞ্চনার শিকার।

ভর্তুকি, প্রণোদনা কিংবা কৃষিঋণ এসব নীতিগত সহায়তা প্রণয়ন করা হলেও তার সুষম ও লক্ষ্যভিত্তিক বণ্টন নিশ্চিত করা যায় না। ফলে প্রকৃত কৃষক অনেক সময়ই অধিকার থেকে বঞ্চিত হন, আর সুবিধা পেয়ে যায় একটি সীমিত প্রভাবশালী গোষ্ঠী। এই প্রেক্ষাপটে &ldquo;কৃষক কার্ড&rdquo; কেবল একটি প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়; বরং এটি হতে পারে কৃষি ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করার একটি কার্যকর উপায়। বাংলাদেশে কৃষকের সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য কোনো জাতীয় ডাটাবেজ নেই এটাই মূল সমস্যার কেন্দ্র। কে প্রকৃত কৃষক, কে আংশিক কৃষি কাজ করেন, আর কে কেবল কাগজে কৃষক এই পার্থক্য স্পষ্ট না হওয়ায় নীতিনির্ধারণ থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে জটিলতা তৈরি হয়। স্থানীয় পর্যায়ে তালিকা প্রণয়ন প্রায়ই প্রভাবশালী মহলের নিয়ন্ত্রণে থাকে, যেখানে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। কৃষক কার্ড চালু হলে এই অস্বচ্ছতা অনেকাংশে দূর হতে পারে, কারণ এটি একটি যাচাইকৃত ও ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত পরিচয় ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করা গেলে কৃষি খাতে নীতিনির্ধারণ আরও তথ্যনির্ভর হবে। কোন এলাকায় কোন ফসল বেশি উৎপাদিত হচ্ছে, কোথায় কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, কোন কৃষক কতটুকু
ঝুঁকিতে আছেন এসব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ হবে দ্রুত, নির্ভুল এবং বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে ভর্তুকি ও প্রণোদনা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া গেলে মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য কমবে এবং দুর্নীতির সুযোগ সীমিত হবে।

আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও কৃষক কার্ড একটি যুগান্তকারী ভ&sbquo;মিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির একটি বড় অংশ এখনও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে। কৃষকরা প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ পেতে নানা জটিলতার মুখোমুখি হন, ফলে অনেকেই উচ্চ সুদের অনানুষ্ঠানিক ঋণের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন। কৃষক কার্ড থাকলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সহজেই একজন কৃষকের পরিচয় ও সক্ষমতা যাচাই করতে পারবে। এতে কৃষিঋণ প্রাপ্তি সহজ হবে, বিনিয়োগ বাড়বে এবং কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাংলাদেশের কৃষির জন্য একটি স্থায়ী ঝুঁকি। প্রতি বছরই কোনো না কোনোভাবে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন। কিন্তু ক্ষতিপূরণ বা সহায়তা পৌঁছাতে দেরি হওয়া, তালিকাভুক্তিতে অনিয়ম&Ntilde;এসব সমস্যা পুরোনো। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত শনাক্ত করা গেলে সহায়তা প্রদানে গতি আসবে।

এমনকি ভবিষ্যতে কৃষি বীমা ব্যবস্থার সঙ্গেও এই কার্ড যুক্ত করা সম্ভব, যা কৃষকদের জন্য একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করবে। তবে এই উদ্যোগের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিকটি অর্থনৈতিক নয়, বরং সামাজিক। আমাদের সমাজে কৃষি পেশাকে এখনও অনেক ক্ষেত্রে অবমূল্যায়ন করা হয়। শিক্ষিত তরুণরা কৃষিকে পেশা হিসেবে নিতে অনাগ্রহী, কারণ তারা এতে সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা দেখতে পান না। কৃষক কার্ড এই মানসিকতা পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হতে পারে। রাষ্ট্র যখন আনুষ্ঠানিকভাবে একজন কৃষককে স্বীকৃতি দেবে, তখন তার পেশাগত পরিচয় নতুন মর্যাদা পাবে। এটি কেবল ব্যক্তিগত আত্মবিশ্বাসই বাড়াবে না, বরং সমাজে কৃষির অবস্থানকেও দৃঢ় করবে। বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রা এই উদ্যোগকে বাস্তবায়নের জন্য একটি অনুক&sbquo;ল পরিবেশ তৈরি করেছে।

জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল ব্যাংকিং, ডিজিটাল সেবা&Ntilde;এসবের সঙ্গে কৃষক কার্ড সংযুক্ত করা গেলে একটি সমন্বিত সেবা কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। এতে সরকার ও কৃষকের মধ্যে দূরত্ব কমবে এবং সেবাপ্রদান হবে আরও কার্যকর। তবে বাস্তবতা হলো, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন সহজ নয়। গ্রামীণ অঞ্চলের অনেক কৃষক এখনও ডিজিটাল প্রযুক্তির সঙ্গে পুরোপুরি পরিচিত নন। তাদের জন্য কার্ড ব্যবহার, তথ্য হালনাগাদ রাখা বা ডিজিটাল সেবা গ্রহণ করা একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে। এছাড়া তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে পুরো উদ্যোগই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। অতীতে অনেক ভালো উদ্যোগ কেবল দুর্বল বাস্তবায়নের কারণে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি এই অভিজ্ঞতা মাথায় রাখা জরুরি।

এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ, ব্যাংকিং খাত এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অপরিহার্য। কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে একটি শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত ও প্রতিকার করা যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কৃষক কার্ডকে একটি স্বল্পমেয়াদি প্রকল্প হিসেবে দেখা যাবে না। এটি হতে হবে একটি দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত উদ্যোগ, যা কৃষি খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং কৃষকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত। রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সামাজিক অংশগ্রহণ ছাড়া এই উদ্যোগের সফলতা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ যখন উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশের পথে এগোতে চায়, তখন কৃষি খাতকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

শিল্পায়ন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে সেই উন্নয়ন টেকসই হবে না। আর এই ভিত্তির কেন্দ্রে রয়েছেন কৃষক। অতএব, সময় এসেছে কৃষকদের নতুনভাবে ভাবার তাদেরকে কেবল উৎপাদক হিসেবে নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার। কৃষক কার্ড সেই স্বীকৃতির একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে। এটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে কৃষি খাতে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা পাবে। শেষ পর্যন্ত বলা যায়, কৃষক কার্ড কোনো সাধারণ পরিচয়পত্র নয়; এটি একটি নীতিগত পরিবর্তনের সূচনা। এটি কৃষকের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার পথ খুলে দিতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা, জবাবদিহিতা এবং আন্তরিক প্রয়াস থাকলে এই উদ্যোগ বাংলাদেশে কৃষি খাতে একটি নীরব কিন্তু গভীর পরিবর্তনের ভিত্তি স্থাপন করতে সক্ষম হবে।

মোঃ শামীম মিয়া শিক্ষার্থী, ফুলছড়ি সরকারি কলেজ, আমদির পাড়া, জুমারবাড়ী, সাঘাটা,গাইবান্ধা।
ইমেইল -shamimmiabd94@gmail.com

সান নিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Fri, 10 Apr 2026 08:40:19 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ইরানে আগ্রাসন : নিরব মুসলিম বিশ্ব]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/114455" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/114455</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া: গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলছে সংঘর্ষ, সংঘাত, হামলা-পাল্টা হামলা যার জন্য মূলত দায়ী হচ্ছে &lsquo;মধ্যপ্রাচ্যের ক্যান্সার&rsquo; নামে পরিচিত ইসরাইল ও তাদের প্রধান পৃষ্টাপোষক আমেরিকা। ইরানের সার্বভৌম ভূখণ্ডে চলমান ইঙ্গ-মার্কিন হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং বিশ্ব শান্তির জন্য হুমকি। কোনো আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা করছে না দেশটি। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও ইরানের ছায়াযুদ্ধ নতুন নয়। কিন্তু গত কয়েক মাসে উত্তেজনা এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষের আশঙ্কা অস্বীকার করা যায় না। গাজা, লেবানন, সিরিয়া-প্রতিটি ফ্রন্টে আগুন জ্বলছে। আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ সহ রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের সব নীতিমালাকে পদদলিত করে ইঙ্গ-মার্কিন আগ্রাসী শক্তি মুসলিম রাষ্ট্র ইরানের উপর হামলা করে এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আওলাদে রাসুল (সা.) আয়াতুল্লাহ আলি খোমেনিকে নিজ বাসভবনে শাহাদাতের মধ্য দিয়ে পরতিষ্ঠিত বিশ্বব্যবস্থার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা, মজলুমের কণ্ঠস্বর আয়াতুল্লাহিল উজমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী-কে। তাঁর প্রয়াণে আজ গোটা বিশ্বের ইসলামী আন্দোলন ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।

রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইঙ্গ-মার্কিন অশুভ শক্তি ইরান আক্রমণের পেছনে বড় কারণ হচ্ছে, ইরানের প্রথম সারির নেতাদের হত্যা করে নেতৃত্ব শূণ্য করা। অর্থাৎ তাদের যে হিসাব সেটা হলো, ইসলামিক রিপাবলিকের বিরুদ্ধে তারা কাজ শুরু করবে এবং বড় একটা পরিবর্তন নিয়ে আসা, ইরানের ক্ষমতার রুপ পরিবর্তনে চেষ্টা করা্। এটাই হচ্ছে মূলত তাদের হিসাব-নিকাশ। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভাববার সময় এসেছে তাদের এ হিসাব আদৌ সঠিক হলো কি না ? ইরানের জনগণই বা কি সিদ্ধান্ত গ্রহন করে তাও লক্ষ্য করতে সহবে। এই হামলাকে কেন্দ্র করে ইরানের ভেতরে একটা বিভাজন বা খণ্ডযুদ্ধ বা গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরী হয় কিনা সেটাও লক্ষ্য রাখার প্রয়োজন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো ল্যান্ডফোর্স ব্যবহার করেনি। যেকোনো ক্ষমতার পটপরিবর্তন করতে হয়, যেটা আমরা ইরাকে দেখেছি, কুয়েতে দেখেছি, এমনকি আফগানিস্তানেও দেখলাম, সব জায়গায় কিন্তু আমেরিকার ট্রুপস প্রয়োজন ছিল। এখানে এখন পর্যন্ত সেটার ব্যতিক্রম দেখছি। আমরা ওই কাঠামো এখনো দেখছি না যে, তারা ল্যান্ড ট্র্যাকার নামাবে। তার মানে হচ্ছে, তাদের ধারণা ইরানের জনগণই তাদের পক্ষে চলে আসবে এবং পুরো একটা অংশ ইসলামিক রিপাবলিককে প্রত্যাখ্যান করবে। সেটা দেখতে আমাদের আরও একটু অপেক্ষা করতে হবে। এখন পর্যন্ত সে ধরনের কিছু লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বরং ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে ইরানের জনগণ আবার রাস্তায় নেমেছে।

ইরানে ইঙ্গ-মার্কিন আগ্রাসী শক্তির সরাসরি সামরিক হামলা যে ভয়াবহ পরিণতি দেখা যাচ্ছে, তা শুধু দুই রাষ্ট্রের দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি গোটা মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের ভঙ্গুর অবস্থান, কূটনৈতিক দুর্বলতা এবং নীতিহীনতার নগ্ন প্রকাশ। যখন গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন মাসের পর মাস ধরে চলছে, যখন সিরিয়ায় নাগরিকদের জীবন ছিন্নভিন্ন হয়েছে এবং যখন আজ ইরানের বিভিন্ন শহরে বোমা পড়ে মানুষ নিহত হচ্ছে- তখন মুসলিম দেশগুলোর অধিকাংশ সরকার কেবল মৌনদর্শক কিংবা দ্বিমুখী বিবৃতির আশ্রয় নিয়েছে। এই নিষ্ক্রিয়তা শুধু দুঃখজনক নয়, এটি ঐতিহাসিকভাবে মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক ব্যর্থতারই জ্বলন্ত প্রমাণ। বর্তমান পরিস্থিতি শুধু ইসরাইল ও ইরানের বিষয় নয় &ndash; এটা পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি নৈতিক ও রাজনৈতিক পরীক্ষা। কিন্তু এই পরীক্ষায় মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্ব ব্যর্থ হচ্ছে।

ইরান ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র হলেও বহু মুসলিম দেশের কাছে রাজনৈতিকভাবে একঘরে। সুন্নি-শিয়া বিভাজন, পারস্য-আরব বৈরিতা এবং ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের কৌশল তাকে এক ঘোরতর একাকীত্বে ঠেলে দিয়েছে। কিন্তু আজ যখন ইসরাইল তার মূল ভূখণ্ডে আক্রমণ করছে, তখন ইরানের প্রতিরোধচেতনা একটি বৈশ্বিক প্রতীক হয়ে উঠছে- যদিও এটি দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এই প্রতিক্রিয়া মুসলিম দেশগুলোর নয়, বরং ইরানের একক প্রতিক্রিয়া। ইরান যদি একটি পশ্চিমা মিত্র দেশ হতো, তাহলে ইসরাইলের এই হামলাকে জাতিসংঘে &lsquo;যুদ্ধাপরাধ&rsquo; হিসাবে ঘোষণা করা হতো। কিন্তু বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের নীতিমালা শুধু শক্তিশালী রাষ্ট্রের জন্য প্রযোজ্য নয়। এখানেই মুসলিম বিশ্বের দুর্ভাগ্য- তারা নিজেদের জনসংখ্যা, অর্থনীতি ও ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী এক বড় শক্তি হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিকভাবে একবারেই তুচ্ছ। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন ও ফ্রান্স ইসরাইলের পক্ষেই অবস্থান গ্রহন করেছে, যদিও ইউক্রেন যুদ্ধের সময় এরাই রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক আইন ভাঙার জন্য দায়ী করেছিল। মুসলিম রাষ্ট্রগুলো তাদের এই দ্বিচারিতা বিরুদ্ধে কথা বলতে পারছে না এবং সম্মিলিতভাবে বিশ্ব ফোরামে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিতে পারছে না।

গত শনিবার দুই দেশের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-সহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হন। এর প্রতিশোধে ইরান মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোতে মিসাইল হামলা চালানো শুরু করে। থেমে নেই ইসরায়েলও। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর স্পষ্ট হুংকার, যতদিন প্রয়োজন, ততদিন অভিযান চলবে। তবে তেহরানের এ আক্রমণ সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা করছেন, সামনের দিনগুলোতে সংঘাত আরও বিস্তৃত ও মারাত্মক আকার নিতে পারে। অন্যদিকে, খামেনির মৃত্যুর পর আরব দুনিয়ায় যে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল, তা এবার সরাসরি লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে বড়সড় সংঘাতের রূপ নিয়েছে। তেহরান খামেনির নিহত হওয়ার খবর ঘোষণা করতেই ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লা গোষ্ঠী ইসরায়েলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে শুরু করে। যদিও লেবানন সরকার এ পদক্ষেপকে কোনোভাবেই সমর্থন করেনি। এরপরই সোমবার ভোরে ওই দেশের রাজধানী বৈরুতসহ একাধিক জায়গায় হামলা চালায় ইসরায়েল।

ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের আক্রমণ শান্তিপ্রিয় মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এসব সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়াবে এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে। এই হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র আবারও তাদের আগ্রাসী মনোভাবের প্রকাশ ঘটিয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড গোটা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে। গত শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যাকান্ড মানবতা ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। আলী খোমেনিকে হত্যার মধ্য দিয়ে ইরানকে দুর্বল করে দেযার ইঙ্গ-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির চেষ্টা কি সফল হবে তার জন্য আমাদের আরো কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। আয়তুল্লাহ আলি খোমেনি ছিলেন সমকালীন বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামিক স্কলার এবং আপসহীন নেতা। এই মহান পুরুষ সারাজীবন ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের জন্য লড়ে গেছেন। শাহী শাসনের জুলুম থেকে ইরানকে মুক্ত করা এবং ইসলামি বিপ্লব পরবর্তী সময়ে বহুমুখী বৈশ্বিক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ইরানকে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার মূল কারিগর ছিলেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট&mdash;একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং মুসলিম বিশ্বের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। তিনি সর্বদা কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আত্মার উন্নতি ও মুসলিম মিল্লাতকে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার দীক্ষা দিয়েছেন। ফিলিস্তিন থেকে শুরু করে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের নিপীড়িত মানুষের পক্ষে তাঁর কণ্ঠ ছিল সর্বদা উচ্চকিত। ইরানের আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক অভিভাবক আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর শাহাদাত বরণ কেবল একটি রাষ্ট্রের নেতার মৃত্যু নয়, বরং এটি বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর হৃদপিণ্ডে একটি বিষাক্ত তীরের আঘাত। পবিত্র রমজান মাসের পবিত্রতা লঙ্ঘন করে খামেনীর শাহাদাতের পরবর্তী সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত এই বর্বরোচিত হামলা এক চরম নিষ্ঠুর ও পরিকল্পিত আগ্রাসন। এটি আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং ধর্মীয় মর্যাদার ওপর এক নগ্ন হস্তক্ষেপ। এই হামলা শুধু ইরানের সার্বভৌমত্বকে বিদ্ধ করেনি, বরং পুরো মুসলিম বিশ্বের অস্তিত্বকে আজ কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

শত্রুরা ভেবেছিল, আয়তুল্লাহ আলী খোমেনিকে হত্যা করলেই ইরান বিপ্লবের মৃত্যু হবে। কিন্তু তারা জানে না যে, একজন খামেনির রক্ত থেকে লাখ লাখ বিদ্রোহী জন্ম নেবে। তার মৃত্যুতে আজ তেহরান থেকে বাগদাদ, বৈরুত থেকে গাজা&mdash;সবখানে হাহাকার। কবির ভাষায়&mdash;&lsquo;মৃত্যু তোরে ডরাই না আমি, মৃত্যু আমার হাতছানি।&rsquo; তিনি চেয়েছিলেন লড়াই করতে করতে শহীদ হতে, আর মহান আল্লাহ তার সেই প্রার্থনা কবুল করেছেন। তার এই মহাপ্রয়াণ কেবল একটি বিয়োগান্তক ঘটনা নয়, বরং এটি একটি নতুন বিপ্লবের সূচনালগ্ন। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি চলে গেছেন সত্য, কিন্তু তিনি রেখে গেছেন এক অপরাজেয় আদর্শ এবং একটি নির্ভীক জাতি। তার মৃত্যু মুসলিম বিশ্বের জন্য এক বিরাট শিক্ষা&mdash;শত্রুর কাছে মাথা নত না করে আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচার শিক্ষা।

মুসলিম বিশ্বের নীরবতা এক কলঙ্কিত আত্মসমর্পণ। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হলো তথাকথিত &#39;মুসলিম পরাশক্তি&#39; দেশগুলোর নীরবতা। সৌদি আরব, কাতার, ওমান কিংবা কুয়েত তাদের এই নিস্পৃহতা কেবল রাজনৈতিক দ্বিধা নয়, এটি একটি চরম নৈতিক সংকট। ইতিহাস সাক্ষী, যখনই মুসলিম দেশগুলো শক্তিশালী আগ্রাসীর সামনে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে, তখনই সাম্রাজ্যবাদীরা তাদের ওপর নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দিয়েছে। এই নীরবতা আসলে আগ্রাসীদের আরও উগ্র হতে উৎসাহিত করছে। আপনারা কি সত্যিই মুসলিম? নাকি শক্তিশালী রাষ্ট্রের দাসত্বই এখন আপনাদের স্বার্থপরতার প্রধান নিদর্শন? এই মুহুর্তে আয়তুল্লাহ আলী খোমিনিকে হত্যার পর মুসলিম বিশ্বের উচিত এখনই নতুন করে চিন্তা করা। কিভাবে একটি বাস্তব ও কার্যকর মুসলিম জোট গড়ে তোলা যায় তার জন্য কায়কর পদক্ষেপ গ্রহন করা। ওআইসিকে কাগজের পুতুল না রেখে ঢেলে সাজাতে হবে, শুধুমাত্র বিবৃতিমুখী নয়, বরং সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সংগঠনে রূপ দিতে হবে। তুরস্ক, ইরান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও কাতার- এই দেশগুলো মিলে একটি বিকল্প কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক জোট গঠন করার বিষয়টি ভাবতে পারে। মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে যে কোন যুদ্ধ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত অবস্থান গ্রহন করতে হবে। বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের প্রত্যাশা, বৈশ্বিক সংকটময় পরিস্থিতি এড়াতে ইসরায়েলের মিত্র হিসেবে পরিচিত পশ্চিমা শক্তিগুলো এই যুদ্ধ বন্ধে তৎপর হবে। ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের উত্তেজনা নিরসনে তো বটেই, ফিলিস্তিন ইস্যুতেও পশ্চিমা শক্তি ইতিবাচক ভূমিকার রাখবে। তবেই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।

যদি আজ আমরা ইরানের পাশে না দাঁড়াই, তবে কাল এই আগুনের আঁচ থেকে মক্কা-মদিনা কিংবা কায়রো কোনোটিই নিরাপদ থাকবে না। সময়ের দাবি হলো সম্মিলিত রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। মুসলিম বিশ্বকে স্বরণ রাখতে হবে, ফিলিস্তিনে জাতিগত নিধন প্রায় সম্পন্ন, এবার ইরানের পালা! অথচ পাশে নেই মুসলিম বিশ্ব! বিশ্বের অশান্তিকামী গেড়াষ্টি ইরানেও কথিত পরিবর্তনে আরব বসন্তের সূচনা করার ষড়যন্ত্র করছে। ইরাক সেই কবেই হারিয়েছে তার সম্ভ্রান্ত জাতি সত্তার গৌরব। লিবিয়ার গাদ্দাফি সরব হয়েছিলেন আফ্রিকার দেশে দেশে পশ্চিমাদের সাম্রাজ্যবাদের নখর উপরে দিতে। আফ্রিকান ইউনিয়নভক্তু দেশগুলোকে নিয়ে অভিন্ন মুদ্রা &lsquo;স্বর্ণ দিনার&rsquo; চালুর কথা জোরে-শোরে ঘোষণা দিয়ে মাঠেও নামেন তিনি। যার পরিনতি তাকে ভোগ করতে হয়েছে মুসলিম বিশ্বের অসহযোগতার কারনে। সিরিয়ার ভাগ্যেও ব্যতিক্রম হয় নি। কথিত আরব বসন্তের নামে বাশার আল আসাদের ক্ষমতাচ্যুতি নিকট অতিতের ঘটনা। বাশার আল আসাদ প্রাণে বেঁচেছেন বটে। তবে সিরিয়া আজ ক্ষুধা, দারিদ্র্য আর গৃহযুদ্ধ কবলিত এক জনপদে পরিনত হয়েছে। এবার মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিধর ইরানকেও মুছে দেবার চেষ্টা চলছে। তবুও যদি মুসলিম বিশ্বের টনক না নড়ে তাহলে বিশ্বের মুসলানদের করুন পরিনতি ভোগ করতে হবে। একই সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে ভবিষ্যতে আরও কঠিন মাশুল গুনতে হবে।

(লেখক : রাজনীতিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলাম লেখক )
E-mail : gmbhuiyan@gmail.com

সান নিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 07 Mar 2026 05:59:56 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[অভ্যান্তরীন কোন্দল ও নেতৃত্বশূন্যতাই খুলনা বিএনপিকে ডুবিয়েছে!]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/politics/114403" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/politics/114403</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজনীতিতে এক সময় যে অঞ্চলটি খুলনা বিভাগ বিএনপির অঘোষিত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল, সেই মানচিত্র এবার আমূল বদলে গেছে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল, মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দলেরই অংশের অবস্থান, প্রচারণায় অনীহা, ভোটের দিন কেন্দ্রে ভোটার আনতে নিষ্ক্রিয়তা এবং প্রতিপক্ষের সঙ্গে গোপন আঁতাতের অভিযোগ&mdash;সব মিলিয়ে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

৩৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৫টিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা। বিএনপি পেয়েছে মাত্র ১১টি আসন। তৃণমূলের ভাষায়&mdash;&ldquo;এটা শুধু হার নয়, সাংগঠনিক ভেঙে পড়ার ফল।&rdquo;

জেলা-ভিত্তিক চিত্র: খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্যে দেখা যায় খুলনা জেলা: ৬টির মধ্যে ৪টিতে বিএনপি, ২টিতে জামায়াত, বাগেরহাট: ৩টি জামায়াত, ১টি বিএনপি, সাতক্ষীরা: ৪টির সবকটিতে জামায়াত, যশোর: ৫টি জামায়াত, ১টি বিএনপি, মাগুরা: ২টিতেই বিএনপি, ঝিনাইদহ: ৩টি জামায়াত, ১টি বিএনপি, মেহেরপুর: ২টিতেই জামায়াত, কুষ্টিয়া: ৩টি জামায়াত, ১টি বিএনপি, চুয়াডাঙ্গা: ২টিতেই জামায়াত, নড়াইল: ১টি বিএনপি, ১টি জামায়াত, ফলাফল বলছে, সাতক্ষীরা, যশোর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত প্রায় একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে।

অতীত বনাম বর্তমান: পাল্টে যাওয়া সমীকরণ: নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী। ১৯৯১ সালে বিএনপি ৯টি, জামায়াত ৬টি, ১৯৯৬ সালে বিএনপি ১২টি, জামায়াত ১টি, ২০০১ সালে বিএনপি ২১টি, জামায়াত ৭টি, ২০০৮ সালে বিএনপি ২টি, জামায়াত ২টি, সে তুলনায় এবারের ফলাফল জামায়াতের জন্য বড় অগ্রগতি, আর বিএনপির জন্য বড় ধাক্কা।

নেতৃত্বের শূন্যতা ও সাংগঠনিক দুর্বলতা

এক সময় খুলনায় বিএনপির নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফিজুর রহমান, সাবেক তথ্যমন্ত্রী তরিকুল ইসলাম, সাবেক স্পিকার রাজ্জাক আলী ও সাবেক মেয়র শেখ তৈয়েবুর রহমান।

বর্তমানে সেই মাপের প্রভাবশালী নেতৃত্বের অভাব প্রকট বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

কেন্দ্রীয় বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু-র পদ স্থগিত হওয়া এবং তা পুনর্বহাল না হওয়ায় সাংগঠনিক অস্থিরতা বাড়ে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

তৃণমূলের অভিযোগ&mdash;৩৬টি আসনে সমন্বিত নেতৃত্ব দেওয়ার মতো সক্ষমতা বা সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ কারও হাতে ছিল না। অধিকাংশ জেলা কমিটি নড়বড়ে, অনেক উপজেলায় কমিটি নেই বললেই চলে।

বিদ্রোহী প্রার্থী ও আঁতাতের অভিযোগ

বিভাগে অন্তত ৬ জন বিএনপি নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া এক সময়ের প্রভাবশালী নেতা এমএএইচ সেলিম বাগেরহাটের দুই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

তৃণমূলের অভিযোগ, মনোনয়ন না পাওয়া কিছু নেতা গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীদের হারাতে মাঠে নামেন। কয়েকজনের বিরুদ্ধে জামায়াত প্রার্থীদের সঙ্গে গোপন সমঝোতার অভিযোগও উঠেছে&mdash;যদিও তা প্রমাণিত নয়।

হেভিওয়েটদের হার-জিত

খুলনা-২ আসনে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর পরাজয়কে দলীয় অনৈক্যের বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মনোনয়ন পেলেও পদ পুনর্বহাল না হওয়ায় সাংগঠনিক শক্তিকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।

অন্যদিকে খুলনা-৫ আসনে ভিন্ন চিত্র। সেখানে বিএনপির প্রার্থী আলী আসগার লবি পরাজিত করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার-কে। স্থানীয়ভাবে ঐক্যবদ্ধ প্রচারণাই এ আসনে বিএনপির সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্রমায় তৃণমূল, প্রত্যাশা পুনর্গঠনের

তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভাষায়, &ldquo;এমন ফলাফল কল্পনাও করিনি।&rdquo; অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তাদের প্রত্যাশা&mdash;কেন্দ্র দ্রুত সাংগঠনিক পুনর্গঠন করবে, কোন্দল নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেবে এবং শক্ত নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করবে।

নতুন বাস্তবতা, কঠিন বার্তা

খুলনা বিভাগের ৩৬ আসনের মধ্যে ২৫টি এখন জামায়াতের দখলে, ১১টি বিএনপির।

এই ফল শুধু আসন হারানো নয়&mdash;এটি সাংগঠনিক দুর্বলতা, নেতৃত্ব সংকট ও অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কঠিন বার্তা। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন এক সমীকরণের সূচনা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়&mdash;বিএনপি কীভাবে এই ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, নাকি এই পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবতায় রূপ নেবে।

খুলনা বিভাগের ৩৬ আসনের মধ্যে ২৫টি পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আর ১১টিতে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীরা।
খুলনা-১ : আমির এজাজ খান (বিএনপি-ধানের শীষ); খুলনা-২ : শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা); খুলনা-৩ : রকিবুল ইসলাম বকুল (বিএনপি-ধানের শীষ); খুলনা-৪ : এস কে আজিজুল বারী হেলাল (বিএনপি-ধানের শীষ); খুলনা-৫ : আলি আসগার লবি (বিএনপি-ধানের শীষ); খুলনা-৬ : আবুল কালাম আজাদ (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা)।
বাগেরহাট-১ : মাওলানা মশিউর রহমান (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা); বাগেরহাট-২ : শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা); বাগেরহাট-৩ : শেখ ফরিদুল ইসলাম (বিএনপি-ধানের শীষ); বাগেরহাট-৪ : আব্দুল আলিম (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা)।
সাতক্ষীরা-১ : মোঃ ইজ্জত উল্লাহ (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা); সাতক্ষীরা-২ : আব্দুল খালেক (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা); সাতক্ষীরা-৩ : রবিউল বাসার (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা); সাতক্ষীরা-৪ : গাজী নজরুল ইসলাম (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা)।
যশোর-১ : মুহাম্মাদ আজীজুর রহমান (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা); যশোর-২ : মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দিন ফরিদ (জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা); যশোর-৩ : অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (বিএনপি-ধানের শীষ); যশোর-৪ : মোঃ গোলাম রছুল (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা); যশোর-৫ : গাজী এনামুল হক (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা); যশোর-৬ : মোঃ মোক্তার আলী (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা)।
মেহেরপুর-১ : মোঃ তাজউদ্দীন খান (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা); মেহেরপুর-২ : নাজমুল হুদা (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা)।
কুষ্টিয়া-১ : রেজা আহমেদ বাচ্চু (বিএনপি-ধানের শীষ); কুষ্টিয়া-২ : মোঃ আব্দুল গফুর (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা); কুষ্টিয়া-৩ : মুফতি আমির হামজা (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা); কুষ্টিয়া-৪ : মোঃ আফজাল হোসেন (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা)
চুয়াডাঙ্গা-১ : এড. মাসুদ পারভেজ (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা); আসন নং ৮০ : চুয়াডাঙ্গা-২ : মোঃ রুহুল আমিন (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা)।
ঝিনাইদহ-১ : মোঃ আসাদুজ্জামান (বিএনপি-ধানের শীষ); ঝিনাইদহ-২ : আলী আজম মোঃ আবু বকর (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা); ঝিনাইদহ-৩ : মতিয়ার রহমান (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা); ঝিনাইদহ-৪ : মাওলানা আবু তালিব (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা)।
মাগুরা-১ : মনোয়ার হোসেন খান (বিএনপি-ধানের শীষ); আসন নং ৯২ : মাগুরা-২ : নিতাই রায় চৌধুরী (বিএনপি-ধানের শীষ); নড়াইল-১ : বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম (বিএনপি-ধানের শীষ); নড়াইল-২ : মোঃ আতাউর রহমান (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা)।

সান নিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 17 Feb 2026 07:25:08 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[বিএনপির বহিষ্কারের রাজনীতি: নিছক কৌশল নাকি আমূল পরিবর্তন?]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/114297" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/114297</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যে নির্বাচনকালীন বহিষ্কারাদেশ জারি করেছে, সেটিকে নিছক কোনো সাময়িক বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখার সুযোগ আর নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব বহিষ্কার স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে-দল এবার এমন এক আপসহীন অবস্থানে দাঁড়িয়েছে, যেখান থেকে পিছু হটার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। বিএনপির ইতিহাসে শৃঙ্খলার প্রশ্নে কঠোরতা নতুন নয়, কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতা একেবারেই ভিন্নতর। এটি কেবল একটি নির্বাচনী কৌশল নয়; বরং দলীয় অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দর্শন রক্ষার একটি চূড়ান্ত পরীক্ষা।

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন কিংবা দলের অবস্থানের বাইরে গিয়ে কার্যক্রম চালিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে বিএনপি আসলে একটি দীর্ঘমেয়াদী বার্তা দিতে চেয়েছে। এই বার্তাটি মূলত দলের ভেতরে ও বাইরে এক প্রকার &lsquo;রাজনৈতিক সার্জারি&rsquo;র সংকেত। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এখন আর ব্যক্তি-কেন্দ্রিক রাজনীতির ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। দলের সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে উঠে কেউ নিজের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করতে চাইলে তার পরিণতি যে &lsquo;বহিষ্কার&rsquo;-এবার সেটি কথার লড়াই ছাড়িয়ে বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে।

অনেকেই মনে করছেন, নির্বাচন-উত্তর রাজনীতিতে পরিস্থিতি বিবেচনায় এসব বহিষ্কারাদেশ হয়তো প্রত্যাহার করা হবে। কিন্তু গভীর বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই ধারণা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিএনপি বর্তমানে যে ধরনের রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেখানে শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের পুনর্বাসন করা মানে হবে দলের মূল ভিত্তিকে দুর্বল করা। তৃণমূলের যেসব নেতাকর্মী হামলা-মামলা ও জেল-জুলুম উপেক্ষা করে দলের সিদ্ধান্তের প্রতি অনুগত রয়েছেন, বিদ্রোহীদের পুনরায় &lsquo;আদর করে&rsquo; ফিরিয়ে আনা হবে তাদের ত্যাগের প্রতি চরম অবজ্ঞা। দলীয় নেতৃত্ব সম্ভবত অনুধাবন করছে যে, এই মুহূর্তে নমনীয়তা দেখানো হবে আত্মঘাতী।

এখানে একটি কঠিন সত্য নিহিত-রাজনীতিতে ব্যক্তি কখনোই অপরিহার্য নয়। একটি দল টিকে থাকে তার আদর্শ, সুদৃঢ় সাংগঠনিক কাঠামো এবং নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যের ওপর ভিত্তি করে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এখন একটি সুশৃঙ্খল &lsquo;চেইন অফ কমান্ড&rsquo; প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তারা প্রমাণ করতে চাইছে যে, &lsquo;দল মানেই শৃঙ্খলা, দল মানেই সিদ্ধান্তের প্রতি বিনম্র আনুগত্য&rsquo;। যারা এই কাঠামোর বাইরে গিয়ে ব্যক্তিস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, তাদের জন্য ভবিষ্যতে বিএনপির রাজনীতিতে জায়গা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে-এটাই স্বাভাবিক রাজনৈতিক বিবর্তন।

বিদ্রোহী প্রার্থীরা মনে করেছিলেন তাদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা হয়তো দলের প্রতীক বা সিদ্ধান্তের চেয়ে বড়। কিন্তু বিএনপি এবার সেই &lsquo;ব্যক্তি-ইমেজ&rsquo; ভেঙে &lsquo;দলীয় সত্তা&rsquo;কে ঊর্ধ্বে তুলে ধরার নীতি নিয়েছে। এই শুদ্ধি অভিযান কেবল নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য নয়, বরং আগামী এক দশকের জন্য একটি সংহত ও আধুনিক রাজনৈতিক শক্তির রূপরেখা তৈরির প্রক্রিয়া।

সবশেষে বলা যায়, নির্বাচনকালীন এই বহিষ্কারগুলো বিএনপির জন্য কোনো সাময়িক অধ্যায় নয়; এটি একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা। এই বাস্তবতায় তথাকথিত &lsquo;বিদ্রোহী রাজনীতি&rsquo;র কোনো স্থান নেই, আর ফেরার পথও আগের মতো মসৃণ নয়। শৃঙ্খলার এই নতুন দেয়াল টপকানো বিদ্রোহীদের জন্য কঠিন হবে। বিএনপি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে-এবার শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো &lsquo;কম্প্রোমাইজ&rsquo; নয়। এই অনড় অবস্থানই সম্ভবত আগামী দিনের রাজনীতিতে বিএনপির নতুন পরিচয় হয়ে উঠবে।

লেখক: এ.আর. ইমরান, কলামিষ্ট

সান নিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 25 Jan 2026 14:44:55 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[পার্বত্য চট্টগ্রামে চুক্তির পরও শান্তি রয়ে গেছে অধরায়]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/113767" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/113767</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[পার্বত্য চট্টগ্রামে চুক্তির পরও শান্তি রয়ে গেছে অধরায়। গত ২রা ডিসেম্বর ছিল পার্বত্য শান্তি চুক্তি তথা কালো চুক্তির ২৮ বছর পূর্তি। এই ২৮ বছর পরও পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বরং পার্বত্য অঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করে নতুন কোন রাষ্ট্র নির্মাণের ষড়যন্ত্র চলছে।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ও বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তিকে দেশপ্রেমিক জনগোষ্ঠি কালো চুক্তি হিসাবেই অভিহিত করে থাকে। এই চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলে শুধু মাত্র একটি গোষ্ঠির স্বার্থ রক্ষা হলেও বাঙালি জনগোষ্ঠির স্বার্থ ক্ষুন্ন করা হয়েছে।

এই চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও উন্নয়ন নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও আলোচনা এখনো চলমান। চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে দুই পক্ষই একে অপরের প্রতি অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে ব্যস্ত। আর সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কতিপয় ধারা সংশোধন করে পার্বত্য চুক্তি পুনঃমূল্যায়নের দাবি তুলে ধরা হচ্ছে গত ২৮ বছর যাবতই।

বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে সন্ত্রাস ও হত্যার ইতিহাস দীর্ঘ এবং বেদনাদায়ক। খাগড়াছড়িতে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী ঘটনা তারই অংশ। ব্রিটিশ শাসনের সময় এই অঞ্চল সরাসরি ব্রিটিশ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। তখন স্থানীয় পাহাড়ি রাজা ও সম্প্রদায়কে আঞ্চলিক শাসনের অধিকার দেওয়া হয় এবং জমির মালিকানা ও প্রশাসনিক ক্ষমতা মূলত উপজাতীয় সমাজের হাতে রাখা হয়, ফলে তাদের সামাজিক কাঠামো ও স্বায়ত্তশাসন মজবুত ছিল।

পাকিস্তান আমলেও পার্বত্যাঞ্চল অবহেলার শিকার হয়। সে সময় কেন্দ্রীয় শাসন স্থানীয় অধিবাসী ও বাঙালিদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে &lsquo;বিভক্ত করো ও শাসন করো&rsquo; নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। এর ফলে জমি দখল, প্রশাসনিক নিপীড়ন ইত্যাদির কারণে সামাজিক অস্থিরতা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর উত্থান ঘটে; তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষা অথবা বাইরের রাজনৈতিক প্রভাবে হত্যা, অপহরণ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।

এক দশমাংশ পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকেই বেশিরভাগ সময় ধরে চলে রক্তক্ষয়ী সংঘাত। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালিন আওয়ামী লীগ সরকার আর পার্বত্য চট্টগ্রামের জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) মধ্যে সম্পাদিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি। এটি শান্তি চুক্তি নামেই বেশি পরিচিত। তৎকালীন সরকারের পক্ষে সংসদের চিফ হুইপ আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ ও পাহাড়িদের পক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় ওরফে সন্তু লারমা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

এই চুক্তির লক্ষ্য পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা থাকলেও আজও সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন হয়নি। চুক্তির পর কেটে যায় ২৮ বছর। পাহাড়ে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হলেও কাঙ্ক্ষিত শান্তির দেখা পাননি পার্বত্যবাসী। অস্ত্র সমর্পণ করে চুক্তি সম্পাদন করা হলেও পাহাড়ে এখনও অবৈধ অস্ত্র নিয়ে বিচরণ করছে পাহাড়িদের অন্তত ছয়টি গ্রুপ। অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, অপহরণ, খুন ও চাঁদাবাজির কারণে অস্থির পার্বত্য চট্টগ্রাম। চুক্তির পরও পাহাড়ে অস্ত্রের ঝনঝনানি থামেনি। ফলে উন্নয়ন কাজে পাহাড়ের প্রতি স্তরে চাঁদা দিতে হচ্ছে।

এদিকে চুক্তির পর পাহাড়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত আছে। বাঙালি জনগোষ্ঠির মতে, পার্বত্য চুক্তিতে সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে তাদের। শান্তি চুক্তি হচ্ছে পার্বত্য এলাকার জন্য একটি কালো চুক্তি। এ চুক্তির ফলে এক পক্ষ লাভবান ও অন্যপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু ধারা পাহাড়ি-বাঙালিদের মধ্যে সাংঘর্ষিক বলেও মনে করেন তারা।

স্থানীয়দের ধারণা, পাহাড়ে প্রকৃত শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৯২ সালের মধ্যে পার্বত্য জেলাগুলোতে শান্তিবাহিনী ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সংঘর্ষে প্রায় ৪০০ সেনা ও ৩০ হাজার বাঙালি নিহত হয়&mdash;শত শত পরিবার বাস্তুচ্যুত ও সম্পদ ধ্বংসের শিকার হয় এবং নিরাপত্তাহীনতা দীর্ঘস্থায়ী হয়।

এই সময়ে তথাকথিত মানবাধিকারকর্মী, বামপন্থি ও ভারতপন্থি বুদ্ধিজীবীদের নীরবতা ও কখনো কখনো উসকানিমূলক ভূমিকার অভিযোগও ওঠে; ফলে সংঘাত আরও জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী রূপ নেয়। ১৯৯৬-৯৭ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হলে সংঘাত কমার বদলে নতুন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। সংগঠিত ঘটনাবলির পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবে স্থায়ী সমাধান আনতে ব্যর্থ হয়েছে; বরং কিছু ক্ষেত্রে এটি প্রশাসনিক বিভাজন, ঘরবাড়ি ভাঙচুর, সম্পদ লুণ্ঠন ও হত্যাকাণ্ডকে থামাতে পারেনি এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বজায় রাখতে সাহায্য করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

চুক্তির প্রক্রিয়ায় ইউপিডিএফ ও জেএসএসকে আত্মনিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটাকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে থাকেন। পার্বত্য চুক্তির ২৮ বছরেও চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠির তুলনায় ইসলাম ধর্মের বাঙালি, বড়ুয়া, তনচঙ্গা, সাঁওতাল, অহমিয়া, গুর্খা, কুকি, পাংখোয়া, লুসাই (মিজু), চাক, খুমি, খিয়াং ও ম্রো জনগোষ্ঠীর সদস্যরা ২৮ বছরে অনেক বেশি পিছিয়ে পড়েছে।

কেউ স্বীকার করুক বা না করুক এটাই সত্য। পার্বত্য অঞ্চলের বসবাসরত অধিবাসীদের যে রাজনৈতিক অধিকার ছিল চুক্তির পর ২৮ বছরেও আদৌ তার অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে ব্যর্থ হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে: উগ্র সম্প্রদায়িকতা, বৈষম্য ও সীমাহীন ক্ষমতার লোভ। পার্বত্য অঞ্চলে ৯০% রাষ্ট্রীয় সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে থাকে তিনটি জনগোষ্ঠীর লোকজন। বাকি ১০% বাঙালি, বড়ুয়া, তনচঙ্গা, সাঁওতাল, অহমিয়া, গুর্খা, কুকি, পাংখোয়া, লুসাই (মিজু), চাক, খুমি, খিয়াং ও ম্রো জনগোষ্ঠীর লোকজন, বিশাল ধরনের বৈষম্যে এ অঞ্চলে চলমান।

যার কারণে সহজ-সরল জনগোষ্ঠীর লোকজন ছোট-ছোট গ্রুপে ভাগ হয়ে তারা অস্ত্র হাতে তুলে নিচ্ছে। আগামীতে আরও কয়েকটি জনগোষ্ঠীর লোকজন অস্ত্র হাতে তুলে নেবেনা তার কোন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে বলে মনে হয় না।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চুক্তি সম্পাদনের পর থেকে এই অঞ্চলের রাজনীতি অনেকটাই বদলে গেছে। পার্বত্য চুক্তির এক বছরের মধ্যেই চুক্তির পক্ষের পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস-মুল) সঙ্গে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-মুল), রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়, যা এখনো চলমান। ২০০৭ সালে পিসিজেএসএস-মুল ভেঙে গঠিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস-সংস্কারপন্থি বা এমএন লারমা) নামের নতুন রাজনৈতিক দল। ২০১৭ সালে খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের মধ্যে ভাঙন সৃষ্টি হয়। ওই বছরের ১৫ নভেম্বর তপন জ্যোতি চাকমার নেতৃত্বে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক নামের নতুন দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে এই চারটি উপদল বা গ্রুপের বাইরেও আরও কয়েকটি গ্রুপ বা উপদল সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে আরাকান লিবারেশন পার্টি (এএলপি) অন্যতম। এই দলের সদস্যদের অবস্থান বান্দরবানের গহিনে। ২০১৮ সালে এএলপি ভেঙে গঠিত হয় মগ পার্টি ও কুকি চীন ন্যাশনাল ফ্রন্ট ইত্যাদির জন্ম হয়। তাদের অবস্থানও বান্দরবানে। তবে এই তিন দলের অবস্থান শুধু বান্দরবান, রাঙামাটি কিংবা খাগড়াছড়িতে এদের কোনো তৎপরতা নেই।

বাংলাদেশ সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট বা কেএনএফকে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন হিসেবে অভিহিত করলেও সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, দাবি তারা বাংলাদেশের কোন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন নয়। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, তাদের ভাষায়, &ldquo;সুবিধা বঞ্চিত কুকি-চিন জনগোষ্ঠীর জন্য স্বশাসিত বা পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন ক্ষমতাসহ একটি ছোট রাজ্য&rdquo; চাইলেও তারা কোনো স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়নি।

তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানা যায়, কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের অস্ত্রধারী সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মি ভারতের মিজোরাম প্রদেশে ৩ হাজার অস্ত্রদারী সামরিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মির সদস্যদের র&zwj;্যাব বাহিনী গ্রেফতার করে রাঙামাটি কারাগারে আটক রেখেছেন। এদের নিয়ে পার্বত্য অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করতে একটি মহলের ষড়যন্ত্র চলছে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা।

তিন পার্বত্য জেলায় প্রায় ১৪ লাখ মানুষের মধ্যে আনুমানিক ৫৯% বাঙালি ও ৪১% পাহাড়ি বলে মনে করা হয়। তবে এটা দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, বাঙালি ও পাহাড়ি উভয়ের উপস্থিতি গঠনগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। হাজার হাজার নিরীহ মানুষের হত্যার বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরো সাহসী হয়ে ওঠে এবং কিছু ক্ষেত্রে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো রাষ্ট্রীয় আশ্রয়ও পেয়েছে, যা দেশের জন্য লজ্জাজনক।

একই সঙ্গে শিক্ষাগত দিক থেকেও কিছু পার্থক্য রয়েছে; বলা হয়, চাকমা জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষিতের হার তুলনামূলকভাবে বেশি এবং চাকমা নারীদের মধ্যে শিক্ষকতা পেশায় অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে কয়েকটি এলাকার বাঙালি জনগোষ্ঠীর শিক্ষাগত হার কমে আসছে। এসব পার্থক্য প্রশাসনিক নীতিতে এবং উন্নয়ন উদ্যোগের বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলে যেখানে কখনো বাঙালির দুরবস্থা উপেক্ষিত থেকে যায়।

পাশাপাশি কিছু পাহাড়ি এলাকায় জমি লিজ দেওয়া ও পরিচালনার প্রক্রিয়াও প্রশ্নবিদ্ধ, যা রাষ্ট্রীয় ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকারের দিক থেকে বিতর্কিত। একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র তখনই অর্থবহ হয় যখন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কার্যকলাপ স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয়। স্বাধীনতার পর দেশের অগ্রগতির পথে বাধা হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা জটিল হয়ে দেখা দিয়েছিল।

পার্বত্য চুক্তির পর পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত স্ব-স্ব জনগোষ্ঠীর মধ্যে সামাজিক উন্নয়ন বৃদ্ধি পাওয়ার কথা থাকলেও ২৮ বছরে সামাজিক অধিকারের ক্ষেত্রে বরঞ্চ সংঘাত, গুম, খুন-হানাহানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার পার্বত্য অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করে একজন নাগরিকের জন্মগত মৌলিক অধিকার ৫টির মধ্যে অন্যতম শিক্ষার অধিকার স্থানীয়দের হাতে ন্যস্ত করে পার্বত্যাঞ্চলের বসবাসরত অধিবাসীদের শিক্ষা ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।

২৮ বছরে শিক্ষার মেরুদণ্ড ভেঙে পড়েছে। পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের উপস্থিতি নেই। একটি বিদ্যালয়ে ৫ জন শিক্ষক মিলে একজন বর্গা শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে রেখেছেন, আর জেলা পরিষদ সমূহ ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে যাদের শিক্ষক পদে নিয়োগ দিয়ে থাকে তারা কখনো নিজেদের কর্মস্থলে উপস্থিত হন না।

পার্বত্য অঞ্চলে শিক্ষা খাতে যে বরাদ্দ রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে ব্যয় করা হয় তা কেবল অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা সামগ্রী ক্রয়, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ইত্যাদি ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ। কিন্তু এসবের সুবিধাভোগী শিক্ষার্থীরা কোন ধরনের সুযোগ সুবিধা পায় না।

বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হুমকি হচ্ছে, আরাকান আর্মি পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু উপজাতি যুবককে প্রশিক্ষণ দেয়ার সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে এবং তারা অস্ত্র নিয়ে বাংলাদেশের পাহাড়ি এলাকায় অবাধে বিচরণ করছে। আরাকান আর্মির সদস্যদের অনেক আত্মীয়স্বজন রয়েছে বাংলাদেশের মাটিতে। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, পার্বত্য অঞ্চলের প্রায় ছয় হাজার যুবক সক্রিয়ভাবে কাজ করছে যারা আরাকান আর্মির কাছ থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ ও অস্ত্রশস্ত্র পেয়েছে। আরাকান আর্মি চাইলে তাদের দিয়ে সর্বাত্মক গেরিলা যুদ্ধ শুরু করতে পারে। বান্দরবানের গহিন জঙ্গলের অনেক স্থানে এরা অবস্থান করছে। রাঙামাটি এমনকি খাগড়াছড়িতেও তাদের অবস্থানের সংবাদ পাওয়া যায়।

এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য সত্যিকার অর্থেই ভীতিকর। বিশেষত তাদের সাথে একটি বৃহৎ শক্তির সংবেদনশীল সম্পর্ক থাকায় বাংলাদেশের জন্য নিরাপত্তা উদ্বেগ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

১৯৯৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়িতে সন্তু লারমা দলের ৭৩৯ জন অকেজো কিছু অস্ত্রসহ কথিত আত্মসমর্পণ করে। প্রায় ৬৪ হাজার শরণার্থী দেশে ফিরে আসে।

অবশ্য এই পার্বত্য চুক্তির ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ পুরস্কার পেয়েছে। যেমন, &lsquo;ওয়াশিংটন পোস্ট&rsquo; পত্রিকা মন্তব্য করে, &ldquo;এই চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের একটি বিদ্রোহের অবসান ঘটিয়েছে।&rdquo; ইউনেস্কো বাংলাদেশের এই পার্বত্য চুক্তি সম্পাদনের জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে স্বীকৃতিস্বরূপ শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করেছে।

কিন্তু চুক্তির মৌলিক প্রধান শর্ত ছিল, অবৈধ অস্ত্র পরিহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা। দুঃখজনক যে, চুক্তির ২৮ বছর পেরিয়েও সন্তু লারমার জেএসএস সম্পূর্ণ অবৈধ অস্ত্র সরকারের নিকট আত্মসমর্পণ করেনি।

পার্বত্য শান্তি চুক্তির পর অনেক জায়গায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো স্থানীয় রাজনীতি ও প্রশাসনে প্রভাব বিস্তার করেছে; চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক দখলদারির ঘটনা নিত্যসংবাদে পরিণত হয়। একদিকে প্রশাসনিক উপস্থিতি দুর্বল হয়ে পড়ায় জনগণের নিরাপত্তা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অন্যদিকে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শ বা বাইরের প্রভাব চুক্তিকে ব্যবহার করে স্বার্থসিদ্ধিতে লিপ্ত রয়েছে&mdash;এগুলো সব মিলিয়ে জনমানসে আস্থা হ্রাস করেছে।

ফলে পার্বত্য অঞ্চলে বাস্তব উন্নয়ন কাজে বাধা এসেছে; যদিও সরকারি নীতিতে প্রায়ই &lsquo;পাহাড়িদের উন্নয়ন&rsquo;কে গুরুত্ব দেওয়া হয়, স্থানীয় বাঙালিদের দুরবস্থার বিষয়টি নানাবিধ কারণে উপেক্ষিত থেকে যায়।

বর্তমানে খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থিতিশীলতা হ্রাস ও নিয়ন্ত্রণ করতে সেনা ক্যাম্প ও ক্যান্টনমেন্ট বৃদ্ধির প্রস্তাব উঠেছে; বিশেষত কিছু সম্ভাব্য সুপারিশে খাগড়াছড়িতে ক্যাম্প সংখ্যা ২৫০-তে উন্নীত করার কথা বলা হচ্ছে। ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তির পরে সেনা ক্যাম্প কমানো হয়েছিল, যা নিরাপত্তাহীনতার প্রশস্তির ভাব প্রকাশ করেছে বলে মনে করা হয়; যদিও অধিকাংশ মানুষ মনে করেন সেনা উপস্থিতি বাড়লেই নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে, অন্যরা আশঙ্কা করেন এতে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হতে পারে। তাই সেনা ক্যাম্প এবং সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় স্থানীয় মতামত, নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও মানবাধিকার বিবেচনা করে আসন্ন নীতি গ্রহণ করা উচিত।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যার মূলে আছে বহুমুখী ও জটিল ভূ-রাজনৈতিক অনুষঙ্গ। এই সঙ্কটকে কেবল জাতিগত বা ধর্মীয় দ্বন্দ হিসেবে দেখলে তাতে বাস্তব সমাধান মিলবে না; এটি মূলত রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও অংশগ্রহণমূলক নীতি-নির্ধারণের প্রশ্ন। বাংলাদেশের সংবিধানে পার্বত্যাঞ্চলকে ভিন্ন আইনি পরিচয়ে ভাগ করা হয়নি, সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। তাই সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত পুরো দেশের মানুষের সার্বিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। মনে রাখতে হবে, তথা কথিত পার্বত্য শান্তি চুক্তির সাথে যেহেতু বাংলাদেশ সংবিধানের সাংঘর্ষিক অবস্থান রয়েছে তাই, সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ধারা সংবলিত চুক্তি সংশোধন করা উচিত এবং চুক্তির বৈষম্যমূলক ধারা-উপধারায় পার্বত্য বাঙালিরা পিছিয়ে পড়েছে। চুক্তিতে বাঙালিদের জন্যও সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এবং পাহাড়ের সকল পক্ষের সাথে বৃহত্তর আলোচনা করা প্রয়োজন সরকারের। এছাড়াও প্রত্যাহারকৃত সেনা ক্যাম্পগুলো দ্রুত স্থাপন করা প্রয়োজন।

লেখক: রাজনীতিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলাম লেখক।

সাননিউজ/আরআরপি]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 05 Jan 2026 08:43:23 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[বিপ্লবী হাদি বেঁচে থাকবেন গণমানুষের মনিকোঠায় : বাংলাদেশ ন্যাপ]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/113911" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/113911</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[&lsquo;জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বীর সেনানী শরীফ ওসমান হাদির ইন্তেকালে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে রুহের মাগফেরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন&rsquo; করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ&rsquo;র শীর্ষ নেতৃদ্বয় বলেন, &lsquo;বিপ্লবীদের মৃত্যু নাই, বিপ্লবীরা বেঁচে থাকে, যুগ যুগান্তরে। আকাশের নক্ষত্র হয়ে। পথ প্রদর্শক হিসেবে। ওসমান হাদি বেঁচে থাকবেন আগামী দিনের গণমানুষের মনি কোঠায়।&rsquo;

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এসব কথা বলেন।

তারা বলেন, &lsquo;যখনই গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন গড়ে উঠবে তখনই হাদির সংগ্রামী জীবন ও আত্মত্যাগ আমাদের আলো দেখাবে, সঠিক পথের সন্ধ্যান দিবে। ওসমান হাদির হত্যাকারীদের এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করতে না পারা বর্তমান সরকারের চরম গাফিলতি ও ব্যার্থতার প্রমান বহন করে। একজন বিপ্লবী ও সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর জীবনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ সরকার একটি সুষ্ঠু ও গস্খহনযোগ্য নির্বাচনের আয়োজন করতে সক্ষম হবে বলে দেশবাসী বিশ্বাস করতে পারছে না।&rsquo;

নেতৃদ্বয় বলেন, &lsquo;হাদির শাহাদাতের মধ্য দিয়ে আমরা শুধু একজন মানুষকে হারাইনি, হারিয়েছি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকা এক অদম্য কণ্ঠ, হারিয়েছি মাথা নত না করা এক সংগ্রামী সৈনিক, হারিয়েছি ইনকিলাবের এক জীবন্ত প্রতীককে। যে মানুষটি ভয়কে অগ্রাহ্য করে সত্য বলেছিলেন, যে মানুষটি তরুণদের চোখে স্বপ্ন আর হাতে প্রতিবাদের পতাকা তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, সংগ্রামী মানুষরা কখনো মরেন না, তাঁরা রক্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়েন আদর্শের মাটিতে, আর সেই মাটি থেকেই জন্ম নেয় নতুন নতুন প্রতিরোধ।&rsquo;

তারা বলেন, &lsquo;ওসমান হাদির আত্মত্যাগ তখনই সফল হবে যখন নয়া রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। আধিপত্যবাদ ও সামরাজ্যবাদ বিরোধী লড়াইয়ে চূড়ান্ত বিজয় হবে আমাদের। ওসমান হাদির অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নে নয়া রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়বার শপথ নিতে হবে জাতিকে। শুধুই ক্ষমতার পালাবদল নয়, দেশ ও জাতির কল্যানে সংস্কার বাস্তবায়নের সংগ্রামে বিজয়ী হতে হবে।&rsquo;

সম্পাদক নুরুল কবির, প্রথম আলো ও ডেইলী ষ্টার অফিসে হামলায় বাংলাদেশ ন্যাপ&#39;র উদ্বেগ

শহীদ শরীফ ওসমান হাদির জন্য সারাদেশ কাঁদছিলো তখন সাহসী সম্পাদক নুরুল কবির, দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলী ষ্টার কার্যালয়ে হামলা, ভাঙ্গচূর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানিয়ে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ নেতৃদ্বয় মন্তব্য করেছেন যে, &lsquo;যারা এই সহিংস ঘটনার সাথে জড়িত তারা শহীদ ওসমান হাদির শোকে যায়নি; গেছে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে।&rsquo;

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এসব কথা বলেন।

তারা বলেন, &lsquo;নুরুল কবির শুধু মাত্র একজন সম্পাদক বা সাংবাদিক নন, তিনি একজন সাহসী ও প্রতিবাদী মানুষ। তাঁর কন্ঠ সকল সময় সত্য উচ্চারণ করে। সেই ১/১১ থেকে শুরু করে ফ্যাসীবাদী শেখ হাসিনার আমলে চরম প্রতিকূলতার মধ্যে তিনি সত্য বলেছেন, কলম তাঁর চলেছে। অন্যায়ের সমালোচন করতে এতটুকু পিছ পা হন নাই। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টির পেছনে তাঁর অবদানকে ছোট করে দেখা চরম হিণমন্যতা।&rsquo;

নেতৃদ্বয় বলেন, &lsquo;তার মতো সত্য বলা মানুষ, উচ্চকিত কন্ঠস্বরের মানুষকে ডেইলি স্টার কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগ বলে গালি-গালাজ করলো কারা? আসলে এরা কারা? কি চায় এরা? এদের আসল উদ্দেশ্য কি? হাদির শাহাদাতের শোক-ক্ষোভকে ধ্বংসযজ্ঞে ব্যববহার করে কোন গোষ্টি নির্বাচন ভন্ডুল করতে চাওয়া উগ্রবাদী মানুষ দেশটাকে আসলে কোথায় নিয়ে যেতে চায়?&rsquo;

তারা বলেন, &lsquo;বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দৈনিক আমার দেশ, সংগ্রাম, নয়া দিগন্তে একাধিকবার হামলা-আগুন যেমন নিন্দনীয় ছিল ঠিক তেমনি প্রথম আলো, ডেইলি স্টারসহ অন্য যে কোন সংবাদমাধ্যমের ওপর আক্রমণ সমান নিন্দাযোগ্য।

সান নিউজ/আরএ

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 20 Dec 2025 14:38:10 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[দুর্ঘটনা না পরিকল্পিত রূপান্তরের ছায়া?]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/113653" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/113653</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ঢাকার হৃদয়ে অবস্থিত কড়াইল বস্তিতে আবারও আগুন। মঙ্গলবার বিকেলে শুরু হওয়া অগ্নিকাণ্ড কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই ঘরবাড়ি, দোকান, ছোট ব্যবসা সবকিছু পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও সংকীর্ণ পথ, পানির সীমাবদ্ধতা, এবং ঘরগুলোর কাছাকাছি অবস্থানের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অন্ধকার নামার সাথে সাথে পরিষ্কার হয়- শত শত পরিবার রাতটা আর নিজেদের ঘরে ফিরতে পারছে না।

ঢাকা শহর এমন আগুন নতুন দেখেনি; কড়াইলসহ বেশ কিছু বস্তি এলাকায় প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটে। তবে প্রতিটি অগ্নিকাণ্ডের পরই একদল মানুষ একই প্রশ্ন তোলে: &ldquo;এটা কি কেবল আগুন? নাকি অন্য কিছু ঘটছে?&rdquo; এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
ঘটনার পর কিছুক্ষণের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, স্থানীয় মানুষের মন্তব্য, এমনকি বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়ায় একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে- মানুষ সন্দেহ করছে। সন্দেহের কেন্দ্রীয় উপাদানটি হলো সম্ভাব্য হাইটেক পার্ক নির্মাণ। বহু বছর ধরেই কড়াইল বস্তি ঢাকা শহরের অন্যতম মূল্যবান এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় সেখানে জমি-স্বার্থ, পুনর্বিন্যাস পরিকল্পনা, এবং বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কথা শোনা যায়।এই আগুনের পর কিছু বাসিন্দা বলেন, আগেই নাকি ছোট ছোট বৈঠকে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল- এলাকা &ldquo;খালি রাখতে হবে&rdquo;, &ldquo;পরিবর্তনের সময় এসেছে&rdquo;, এমনকি &ldquo;পুনঃবিন্যাস হবে&rdquo; এই ধরনের কথাবার্তা। আবার কেউ কেউ দাবি করেন, কয়েকজন অচেনা ব্যক্তি আগুনের আগের সপ্তাহে এসে &ldquo;ঘর সরানোর নির্দেশনামূলক মন্তব্য&rdquo; করেছেন। যদিও এসবই মৌখিক তথ্য; এর সমর্থনে কোনো সরকারি নথি বা স্বীকৃত সিদ্ধান্ত এখনো পাওয়া যায়নি।তবুও জনমনে প্রশ্ন থেকেই যায়&mdash;সন্দেহ কি ভিত্তিহীন? নাকি কোনো চাপের প্রতিধ্বনি?

সরকার এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব গুঞ্জন সরাসরি নাকচ করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস বলেছে, আগুনের কারণ এখনো নিশ্চিত নয়; বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে শুরু করে গ্যাসের চুলা- যে কোনো উৎস হতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, নাশকতার কোনো প্রাথমিক প্রমাণ তাদের হাতে নেই।সরকারি কর্মকর্তারা আরও একটি বিষয় পরিষ্কার করেছেন, হাইটেক পার্ক নির্মাণের মতো বড় প্রকল্প কোথাও হলে তাকে ঘিরে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া থাকে: ভূমি অধিগ্রহণ, বাজেট অনুমোদন, উন্নয়ন সংস্থার সম্পৃক্ততা, প্রজ্ঞাপন ইত্যাদি। তারা বলছেন, &ldquo;কড়াইলে এমন কোনো প্রক্রিয়া চলমান নেই,&rdquo; এবং আগুনকে কেন্দ্র করে অপপ্রচার ছড়ানো হলে তদন্তের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

সুশীল সমাজের বহু প্রতিনিধির মন্তব্য হলো, &ldquo;সন্দেহের উৎস ভুল নয়, তবে প্রমাণ ছাড়া সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও ঠিক নয়।&rdquo; তাদের বক্তব্য, ঢাকার বস্তিগুলোর ইতিহাসই এমন যে প্রতিটি বড় অগ্নিকাণ্ডের পরই পুনর্বাসনহীন উচ্ছেদ, জমি নিয়ে প্রতিযোগিতা, অথবা বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের গুজব ছড়িয়ে পড়ে।নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, কড়াইল বস্তি দীর্ঘদিন থেকেই শহর পরিকল্পনার একটি &lsquo;গ্রে জোন&rsquo;। এখানে ঘনবসতি, অস্থায়ী আবাসন, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ, পানি সংকট- সব মিলেই আগুনের ঝুঁকি খুব বেশি। তাদের যুক্তি, এই ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে বারবার একই ঘটনা পুনরাবৃত্তি ঘটছে।তবে বিশেষজ্ঞদের আরেকটি পর্যবেক্ষণ হলো, প্রতিটি তদন্ত দীর্ঘায়িত হয়, প্রতিবেদন প্রকাশ পায় না, দায়ী কেউ চিহ্নিত হয় না। ফলে মানুষের মনে সন্দেহ স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, আগুন দুর্ঘটনা হোক বা পরিকল্পনা- ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এখন সবচেয়ে জরুরি। একই সঙ্গে তারা দাবি তুলছে, স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে, যেখানে সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নাগরিক প্রতিনিধি, গবেষক ও মানবাধিকার আইনজীবীরা থাকবেন।তারা আরও প্রশ্ন তুলছে, &ldquo;কেন বারবার সবচেয়ে মূল্যবান জমির বস্তিগুলোতেই বড় আগুন লাগে? কেন তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় না? এভাবে কি মানুষের আস্থা ফিরে আসবে?&rdquo;তাদের বক্তব্য, আগুন নিভে যাওয়ার পর মূল সত্য আরও অদৃশ্য হয়ে যায়&mdash;এটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক।

কড়াইলের আগুন মানুষের ঘর পুড়িয়েছে, কিন্তু তার চেয়েও বড় ক্ষতি করেছে তাদের নিরাপত্তাবোধে। আগুন নিভে গেলেও যে প্রশ্নগুলো দাউ দাউ করে জ্বলছে- সেগুলো এখনো অমীমাংসিত।এই অগ্নিকাণ্ড কি সত্যিই একটি দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা- নাকি শহরের জমি-রাজনীতির অদৃশ্য খাতায় নতুন কোনো পরিকল্পনার মাত্র প্রথম পৃষ্ঠা? তদন্ত হয়তো তথ্য দেবে। কিন্তু শহরের রাজনীতিতে সব তথ্য কি কখনো প্রকাশ পায়?

এই প্রশ্নই কড়াইলের ধোঁয়ার মতো&mdash;আকাশে মিলিয়ে যায় না।]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 26 Nov 2025 13:02:58 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ঐক্যের দায় কার?]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/113380" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/113380</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[
এস.এম হাসানুজ্জামান: বাংলাদেশের রাজনীতি আবারও এক জটিল মোড়ে দাঁড়িয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ও মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে, তা কেবল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অচলাবস্থা নয় বরং রাষ্ট্রীয় দিকনির্দেশনার ওপরও গভীর প্রশ্ন তুলেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ রাজনৈতিক দলগুলোকে সাত দিনের সময় দিয়েছে এই সময়ের মধ্যে আলোচনায় বসে একটি ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে হবে। নইলে সরকার নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে। শুনতে যেমন দৃঢ় মনে হয়, বাস্তবে এটি এক গভীর রাজনৈতিক জটিলতার প্রতিফলন। কারণ সাত দিনের মধ্যে কোনো চমক ঘটানো সম্ভব নয় যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা অনুপস্থিত থাকে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনাস্থা, অবিশ্বাস এবং প্রতিদ্ব সংস্কৃতি বছরের পর বছর ধরে প্রাতিষ্ঠানিক হয়ে গেছে। সেই পরিবেশে ঐক্যমত্য খুঁজে পাওয়া নিছক স্বপ্নের মতো। রাষ্ট্র এখন যেখানে দাঁড়িয়েছে, সেখানে সংলাপ ও ঐক্য ছাড়া বিকল্প নেই।
জুলাই সনদ মূলত সংবিধান সংস্কার, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং রাজনৈতিক কাঠামোর সংস্কার নিয়ে। এটি একটি অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। জনগণ ভেবেছিল, সব দল একত্রিত হয়ে একটি নতুন সামাজিক চুক্তি গড়ে তুলবে, যেখানে গণতন্ত্র শুধু ভোটে সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং নীতি, মূল্যবোধ এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতাতেও প্রতিফলিত হবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সেই আশার প্রদীপ ক্রমেই নিভে যাচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের অবস্থান থেকে এক চুলও সরছে না। প্রত্যেকেই অন্যপক্ষকে দায়ী মনে করছে। অথচ গণতন্ত্রে দায় সবসময়ই যৌথ; কেউ এককভাবে মুক্ত নয়।
অন্তর্বর্তী সরকার একদিকে রাজনৈতিক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। তারা কোনো দলের প্রতিনিধি নয় বরং অন্তর্বর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতীক। কিন্তু সরকারেরও সীমাবদ্ধতা আছে। তারা চাইলে দলগুলোকে টেবিলে বসাতে পারে না। যদি দলগুলো নিজেই সংলাপের জায়গা তৈরি না করে, সরকারি আহ্বান নিস্ফল হবে। &ldquo;দলগুলো সাত দিনের মধ্যে ঐক্যমত্যে পৌঁছাবে&rdquo; শোনাতে দৃঢ় মনে হলেও, বাস্তবে এটি সময় কেনার মতো। সরকার আশা করতে পারে রাজনৈতিক চাপের মুখে দলগুলো নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করবে। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় রাজনৈতিক অবস্থান আলোচনা দিয়ে নয় বরং পরিস্থিতির চাপ, আন্দোলন বা আন্তর্জাতিক চাপের কারণে বদলায়।
এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর। এই অনিশ্চয়তার জন্ম তাদের অনড় অবস্থান থেকেই। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধিতা মানে বিকল্প ধারণা প্রদান; কিন্তু বাংলাদেশে বিরোধিতা মানে প্রতিপক্ষকে অস্বীকার করা এবং তাকে রাষ্ট্রের শত্রু হিসেবে চিত্রিত করা। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নেও সেই প্রবণতা দেখা দিয়েছে। বিএনপি, জামায়াত ও কিছু ইসলামপন্থী দল বলছে নির্বাচনের আগে কোনো গণভোট বা সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া যাবে না। তারা মনে করছে, এটি নির্বাচনী প্রস্তুতিকে জটিল করবে। অন্যদিকে সংস্কারমুখী দলগুলো বলছে জুলাই সনদ জাতীয় ঐকমত্যের নথি, এটি বাস্তবায়ন না করলে নির্বাচন অর্থহীন হবে। এই দ্বিমুখী অবস্থান রাষ্ট্রকে অনিশ্চিত অবস্থায় দাঁড় করিয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যুক্ত ঐকমত্য কমিশন সুপারিশ দিয়েছে যা রাজনৈতিকভাবে প্রশংসনীয়। কমিশন প্রস্তাব করেছে, বিশেষ আদেশের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন এবং গণভোট আয়োজন করা হোক। অনুমোদন পেলে নতুন সংসদ ২৭০ দিনের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করবে। কিন্তু আইনি বিতর্কও দেখা দিয়েছে। সংবিধানে গণভোটের বিধান থাকলেও তা সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযোজ্য নয়। বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন, এমন পদক্ষেপের সাংবিধানিক বৈধতা কতটা দৃঢ় হবে। তবুও রাজনৈতিক জট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আইনি সীমাবদ্ধতা দেখিয়ে হাত গুটিয়ে বসা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের সংকট কখনো কেবল আইনের ফ্রেমে সমাধান হয়নি বরং রাজনৈতিক সমঝোতা ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হয়েছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো জুলাই সনদের মাধ্যমে আমরা আসলে কী চাইছি? নতুন সামাজিক চুক্তি নাকি ক্ষমতার ভারসাম্য পুনর্বিন্যাস? বিশ্লেষকরা বলছেন, সনদ রাজনৈতিক সংস্কার ও স্বচ্ছতার সুযোগ এনে দিতে পারত, যদি এটি দলীয় প্রতিযোগিতার বিষয় না হতো। কিন্তু দুর্ভাগ্য, সনদ এখন এক দলীয় প্রতীকে পরিণত হয়েছে। কেউ একে আশার প্রতীক মনে করছে, কেউ ষড়যন্ত্রের হাতিয়ার। ফলে জাতীয় প্রয়াস কেবল পার্টি পলিটিক্সের যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। জনগণ ক্লান্ত। তাদের চোখে রাজনীতি মানে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, কাদা ছোড়া, অচলাবস্থা। তারা আশা করেছিল, জুলাই সনদ রাজনীতিকে নতুন ধারায় প্রবাহিত করবে। এখন তাদের মনে একটাই প্রশ্ন এই সনদ যদি বিভাজন সৃষ্টি করে, তাহলে এর প্রয়োজন কী? জনগণ ভোট, স্থিতি, নীতি চায়। তারা চায় না দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় দেশকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলা হোক। অর্থনীতি রাজনীতির ছায়ায় ক্লান্ত। বিনিয়োগ থেমে আছে, বাজারে অনিশ্চয়তা, চাকরির বাজারে স্থবিরতা। রাজনৈতিক স্থিতি ছাড়া অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার অসম্ভব। দলগুলো যদি আরও বিতর্কে লিপ্ত থাকে, তার সরাসরি প্রভাব পড়বে অর্থনীতিতে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষা করছে রাজনৈতিক স্থিতি ফিরে আসে কিনা। কিন্তু তারা দেখছে, দলগুলো নিজেদের অবস্থান নিয়ে ব্যস্ত, জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে নয়। অন্তর্বর্তী সরকারও চাপের মুখে। তারা শুধু নির্বাচনের প্রস্তুতি নয়, রাজনৈতিক সংকট ব্যবস্থাপনার কাজও করছে। কিন্তু এটি একক সরকারের দায়িত্ব নয়। যদি রাজনীতি সংলাপবিমুখ হয়, প্রশাসনিক উদ্যোগ ব্যর্থ হবে। সাত দিনের সময় সীমা রাজনৈতিক বার্তা &ldquo;সমঝোতা না হলে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।&rdquo; তবে একতরফা সিদ্ধান্তও নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করবে।
এখন প্রয়োজন যৌথ উদ্যোগ সরকার শুধু মধ্যস্থতাকারী নয়, ঐক্যের কাঠামো তৈরি করবে। গণভোটও অনিশ্চিত। এটি গণতন্ত্রের মহৎ উপায়, কিন্তু ভুল ব্যবহারে বিভ্রান্তি ও বিপর্যয় ডেকে আনে। জনগণ যদি প্রকৃত তথ্য না পায়, যদি গণভোট রাজনৈতিক প্রচারণার শিকার হয়, তাহলে এটি হবে আরেকটি বিভাজনের উৎস। সচেতন জনগণ, অংশগ্রহণ রাজি দল, নিরপেক্ষ প্রশাসন এই তিন শর্ত না থাকলে ফল ইতিবাচক হবে না।বাংলাদেশের ইতিহাস বলে, সংকটের সময়ে নেতৃত্ব ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। যারা নেতৃত্বে আছেন, তারা যদি মনে করেন জনগণকে অন্ধকারে রেখে দলীয় স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে, তারা ভুল করছেন। সময় বদলেছে, প্রযুক্তি বদলেছে, জনগণ সচেতন। তারা প্রশ্ন করে, যুক্তি খোঁজে, সমালোচনা করে। রাজনীতি যদি জবাবদিহিতে সক্ষম না হয়, গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঢেকে যাবে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে যেমন রাজনৈতিক ঐক্য প্রয়োজন, তেমনি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতিও দরকার। সংলাপভিত্তিক, সহনশীল, দায়িত্বশীল সংস্কৃতি। ক্ষমতা নয়, দায়িত্ব মুখ্য। রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য মানে দলীয় স্বার্থ বিসর্জন নয়; বরং জনগণের স্বার্থে নিজেকে সীমিত করা। নেতারা রাষ্ট্রকে ক্ষমতার কেন্দ্রে দেখেন, নাগরিককে নয়। জুলাই সনদ ঠিক এই চিন্তাধারাকে বদলাতে পারত যদি দলীয় সমীকরণের বাইরে বাস্তবায়ন হতো। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ নতুন সামাজিক চুক্তির সন্ধিক্ষণে। এই চুক্তি হতে হবে জনগণ, সরকার ও দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসের। জুলাই সনদ সেই বিশ্বাস পুনর্গঠনের সুযোগ ছিল। যদি হাতছাড়া হয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একে হারানো সম্ভাবনা মনে রাখবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত দলগুলোকে আলোচনায় ফিরিয়ে আনা, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী সংগঠন, শিক্ষাবিদ ও বিশ্লেষকদের অন্তর্ভুক্ত করে বিস্তৃত জাতীয় সংলাপ আয়োজন। রাজনৈতিক সমাধান শুধু রাজনীতিবিদদের মধ্যে সীমাবদ্ধ হলে তা দোদুল্যমান হবে। জনগণের অংশগ্রহণই প্রক্রিয়াকে বৈধতা দেয়। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি স্পষ্ট জুলাই সনদ বাস্তবায়ন কেবল রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, নৈতিক পরীক্ষা। ব্যর্থতা মানে শুধু রাজনৈতিক পরাজয় নয়; এটি গণতান্ত্রিক যাত্রার ব্যর্থতা। সাত দিনের সময় সীমিত, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে দিগন্ত নির্ধারণী মুহূর্ত। যদি দলগুলো সংলাপের দরজা খোলে, তা হবে সাফল্য। রাজনৈতিক সমঝোতা একদিনে হয় না; এটি ধীরে ধীরে বিশ্বাসের দেয়াল গড়ে তোলে।
আজকের মানুষ নির্বাচন, স্থিতি, শান্তি চায়।তারা চায় রাজনীতি দায়িত্বশীল, প্রতিশ্রুতিশীল, উন্নয়নমুখী। জুলাই সনদ সেই প্রত্যাশার প্রতীক হতে পারত, যদি সবাই তা নিজেদের অর্জন মনে করত, কারও দখলদারিত্ব নয়। এখনো সময় আছে। দলগুলো যদি অতীত ভুল থেকে শিক্ষা নেয়, ক্ষমতার চেয়ে রাষ্ট্রের স্থিতিকে বড় বোঝে, সনদ হতে পারে নতুন আশার আলো। ব্যর্থ হলে, এটি প্রমাণ হবে বাংলাদেশের রাজনীতি এখনো বড়ভাবে ভাবতে শেখেনি। জুলাই সনদ ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, কিন্তু আশাহীন নয়। যতদিন জনগণ গণতন্ত্রে আস্থা রাখে, আলো জ্বলে। দায়িত্ব এখন সরকারের, রাজনৈতিক দলগুলোর এবং সর্বোপরি সবার এই আলো নিভে যেতে দেওয়া যাবে না।

এসএম হাসানুজ্জামান অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কলাম লেখক, রংপুর সদর রংপুর।

সান নিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 06 Nov 2025 09:12:17 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[জনগণের সিদ্ধান্ত নাকি রাজনীতির সাজানো সম্মতি?]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/113288" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/113288</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[গণভোট হলো জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণের একটি পদ্ধতি, যেখানে একটি নির্দিষ্ট বিষয় বা সিদ্ধান্তে ভোটাররা &ldquo;হ্যাঁ&rdquo; বা &ldquo;না&rdquo; বলে নিজেদের মতামত জানান। সাধারণভাবে এটি এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সরকার বা কর্তৃপক্ষ কোনো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, সাংবিধানিক বা নীতিগত প্রশ্নের ওপর জনগণের সম্মতি যাচাই করে। অর্থাৎ, সংসদ বা প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নয়, সরাসরি জনগণ নিজের মতামত জানায়। কিন্তু গণভোটের এই সহজ চেহারার আড়ালে থাকা নীতি, প্রক্রিয়া এবং ফলাফলের প্রভাব অত্যন্ত জটিল। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যখন &lsquo;জুলাই সনদ&rsquo;- অর্থাৎ ক্ষমতা কাঠামো ও প্রশাসনিক ভারসাম্য পুনর্গঠনের প্রস্তাবনা- বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তন নিয়ে গণভোটের কথা আসে, তখন প্রশ্ন উঠছে, এটি কি দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান হতে পারে, নাকি রাজনৈতিক উত্তাপে আরও বিভাজন সৃষ্টি করবে?

বাংলাদেশে এখন গণভোট নিয়ে আলোচনা আবার সামনে এসেছে মূলত রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও জনগণের মত প্রকাশের দাবি ঘিরে। এতদিন বড় বড় সিদ্ধান্ত যেমন সংবিধান পরিবর্তন, নির্বাচন পদ্ধতি বা বিচার বিভাগের সংস্কার, এসব হয়েছে দলীয় সিদ্ধান্তে, সাধারণ মানুষকে না জড়িয়ে। তাই অনেকে মনে করছেন, এখন সময় এসেছে জনগণকে সরাসরি মত জানানোর সুযোগ দেওয়ার। এই কারণেই গণভোটের প্রসঙ্গ উঠেছে।

গণভোট কেন করা হয়, সেই যুক্তি ও উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা জরুরি। টেকসই সংস্কার চায় যারা, তাদের মতে, গণভোট জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ায়, রূপান্তরকে বৈধতা দেয় এবং বিতর্কিত বিষয়গুলোতে রাজনীতিবিদদের ক্ষমতা সীমিত করে। সংবিধানিক পরিবর্তন বা গুরুত্বপূর্ণ নীতিতে সরাসরি জনমতের অনুমোদন থাকলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয় এবং বিরোধী দলীয় আধ্যাত্মিকতা কমে। অপরদিকে, গণভোটকে পছন্দ করে এমনরা এটিকে রাজনৈতিক সংকটের দ্রুত সমাধান হিসেবে দেখেন, বিশেষত যখন সংসদীয় রাজনৈতিক প্রক্রিয়া টুকরো বিতর্কে আটকে পড়ে।

কিন্তু গণভোট সবসময় কার্যকর বা ন্যায়সঙ্গত না হওয়ার পেছনে কয়েকটি বাস্তবগত বাধা আছে। প্রথমত, প্রশ্নের রূপকরণ বা প্রশ্ন তৈরির ধরন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি জটিল সাংবিধানিক সংস্কারের বহু উপাদানকে &lsquo;হ্যাঁ&rsquo; বা &lsquo;না&rsquo;তে সীমিত করলে জনগণ বিভ্রান্ত হতে পারে বা সংক্ষিপ্ত বাছাইয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারে। দ্বিতীয়ত, গণভোটের সময়কাল, তথ্যপ্রচারণা ও জনসচেতনতা, এই তিনটি না থাকলে ফলাফল জনপ্রতিনিধিত্ব ও বৈধতা হারাতে পারে। তৃতীয়ত, গণভোট সহজেই একটি প্রচারণামূলক অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। শক্তিধারীরা প্রচার, মিডিয়া কন্ট্রোল বা আর্থিক সুবিধা ব্যবহার করে ন্যারেটিভ গড়ে তুললে সাধারণ মানুষের মত প্রভাবিত হয়। চতুর্থত, সংখ্যালঘু অধিকার ও মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্ন। গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সিদ্ধান্ত সংখ্যালঘুদের মৌলিক অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করলে সেটি সংবিধানগত ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ন করবে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করলে গণভোট প্রয়োগের কিছু নির্দিষ্ট শর্ত থাকা আবশ্যক। প্রথমত, প্রশ্নটি কেবল &ldquo;স্বীকৃতি&rdquo; ধরনের নয়, এটি স্পষ্টভাবে বিভক্ত ও ধাপে ধাপে উপস্থাপন করতে হবে, কোন পরিবর্তন আদেশে জারি হবে, কোনগুলো দীর্ঘমেয়াদি সংবিধান সংশোধনী হিসেবে গণভোটে যাবে। দ্বিতীয়ত, গণভোটের আগে একটি বিস্তৃত এবং নিরপেক্ষ জনশিক্ষা অভিযান গ্রহণ করতে হবে, সরল ভাষায় কাগজপত্র, পথসভা, টেলিভিশন ও অনলাইন ব্যাখ্যা এবং তরজমাগুলো যেন জনগণ সহজে বুঝে। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক, ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছ পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, গণভোটে নির্ধারিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও কোয়োরাম নিয়ে আগে থেকেই পরিষ্কার নিয়ম থাকা উচিত, যেমন কেবল ৫০%+1 নয়, গুরুত্বপূর্ণ সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে উচ্চতর ভোটার উপস্থিতি বা উচ্চতর অনুশীলনী নির্ধারণ করা যেতে পারে। পঞ্চমত, ফলাফল চ্যালেঞ্জের জন্য একটি দ্রুততর ও নিরপেক্ষ বিচারপথ হওয়া দরকার, যাতে ফলাফল অবিচ্ছিন্ন ও আইনি দিক থেকে চূড়ান্ত হয়।

গণভোটের সার্থকতা নির্ভর করবে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, তথ্যপ্রচারের নিরপেক্ষতা, সংখ্যালঘু অধিকার সুরক্ষা এবং রাজনৈতিক পক্ষগুলোর স্বচ্ছ অংশগ্রহণে। যদি এসব নিশ্চিত করা হয়, তাহলে গণভোট একটি শক্তিশালী জনগণসঙ্গত গ্রহণযোগ্যতা আনতে পারে এবং তা দীর্ঘমেয়াদে রাজনীতির ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এতে নীতিনির্ধারণে জনমত ও অংশগ্রহণের বৃদ্ধি, প্রশাসনিক জবাবদিহি বাড়ানো এবং সংবিধানিক বৈধতা প্রতিষ্ঠা পাবে। কিন্তু যদি গণভোট সংগঠিত হয় তাড়াহুড়ো করে, বা মিডিয়া প্রচার ও অর্থের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে, তাহলে তা বিভাজন বাড়াতে এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। তখন গণভোটের নামেই নতুন বিতর্ক ও বেআইনি ফলাফল দেখা দেবে।

সর্বপরি সাধারণ মানুষ কী পাবে? সফল ও স্বচ্ছ গণভোট হলে মানুষের আস্থা বাড়বে। তারা নিজেরাই সিদ্ধান্তে অংশ নেবে এবং পরিবর্তনের প্রভাব সহজে উপলব্ধ হবে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার বাড়লে দৈনন্দিন জীবনে সুবিধা আসতে পারে। অন্যদিকে, তড়িঘড়ি ও অনির্বাচিত গণভোট হলে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে, আর্থিক ব্যয়, সামাজিক বিভাজন ও মানবাধিকার ক্ষতি বাড়তে পারে।

শেষ কথা, বাংলাদেশে গণভোটের সম্ভাবনা বাস্তব, কারণ জনগণের অংশগ্রহণের আকাঙ্ক্ষা এখন আর রাজনৈতিক স্লোগানে সীমাবদ্ধ নেই, এটি নাগরিক চেতনার মৌলিক দাবি। কিন্তু গণভোটকে প্রয়োগ করতে হলে তা হতে হবে দায়িত্বশীল, ধাপে ধাপে, আইনি কাঠামো ও সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার ভেতর দিয়ে। এটি কেবল &lsquo;হ্যাঁ&rsquo; বা &lsquo;না&rsquo; বলার প্রক্রিয়া নয়, বরং একটি রাজনৈতিক ও নৈতিক পরিশুদ্ধির অনুশীলন, যেখানে শিক্ষা, তথ্যপ্রবাহ, নিরপেক্ষ তদারকি, আইনি সুরক্ষা ও সংখ্যালঘু অধিকার সমানভাবে সংরক্ষিত থাকবে।

অন্যথায় গণভোট গণতন্ত্রের বিকাশ নয়, বিভাজনের নতুন হাতিয়ারে পরিণত হবে। এখন সময় এসেছে প্রশ্ন করার- বাংলাদেশ কি গণভোটের মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়ন ঘটাবে, নাকি এটিও হয়ে উঠবে আরেকটি রাজনৈতিক প্রপাগান্ডা, যা কেবল আস্থাহীনতার দেয়াল উঁচু করবে?
উত্তর নির্ধারণ করবে, গণতন্ত্র এখানে নতুন জীবন পাবে, না তার ছায়া হয়ে বেঁচে থাকবে।]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 30 Oct 2025 13:49:51 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[বাংলাদেশের বাস্তবতায় জুলাই সনদের হিসাব–নিকাশ]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/113269" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/113269</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জুলাই সনদ এক নতুন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। স্বাধীনতার পর থেকে রাষ্ট্রের কাঠামো ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। নানা সময়ে সামরিক শাসন, দলীয় কর্তৃত্ব, সাংবিধানিক সংশোধন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশের জনগণের আস্থা ক্ষয় করেছে। এমন বাস্তবতায় জুলাই সনদকে অনেকে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এটি আরেকটি রাজনৈতিক দলিল হয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হতে পারে।

জুলাই সনদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে রাজনীতিতে জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কাঠামোকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও আধুনিক করে গড়া। এতে প্রস্তাব করা হয়েছে প্রশাসনিক সংস্কার, সাংবিধানিক পুনর্গঠন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নির্বাচন কমিশনের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন, এবং নাগরিক মতামত সংগ্রহের জন্য গণভোট বা জনগণপরামর্শ ব্যবস্থার প্রবর্তন। এই প্রস্তাবগুলো নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষিতে একটি ইতিবাচক চিন্তা।

তবে বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এখনও ব্যক্তি ও দলকেন্দ্রিক। নীতির চেয়ে আনুগত্য, এবং জনগণের চেয়ে দলীয় স্বার্থ এখানে প্রাধান্য পেয়ে থাকে। এমন এক প্রেক্ষাপটে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন সহজ হবে না। এটি কেবল একটি প্রস্তাব বা সনদ নয়; এটি কার্যকর করতে হলে দরকার রাজনৈতিক ঐকমত্য, প্রশাসনিক সদিচ্ছা এবং জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ। ইতিহাস বলছে, দেশের প্রায় সব সংস্কারই ব্যর্থ হয়েছে যখন তা কেবল একপক্ষের স্বার্থে পরিচালিত হয়েছে।

জুলাই সনদের একটি বড় শক্তি হলো এর অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র। এতে দল, নাগরিক সংগঠন, শিক্ষাবিদ ও তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণের কথা বলা হয়েছে। এটি যদি সত্যিকার অর্থে উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে গৃহীত হয়, তবে দেশের গণতন্ত্র আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে পারে। নাগরিকরা নিজেদের মতামত প্রকাশে সাহসী হবে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সরাসরি সম্পৃক্ত হতে পারবে। ফলে রাজনীতি আর কেবল রাজনীতিবিদদের হাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি হবে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া।

তবে বিপরীত দিকও আছে। সংবিধান সংশোধন বা প্রশাসনিক কাঠামো বদলানোর মতো সংবেদনশীল প্রক্রিয়া সঠিক প্রস্তুতি ও ঐকমত্য ছাড়া শুরু হলে তা নতুন সংকট তৈরি করতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অবিশ্বাস ও প্রতিযোগিতার পরিবেশে এমন কোনো উদ্যোগ যদি একপক্ষীয়ভাবে চালানো হয়, তাহলে তা সংস্কারের পরিবর্তে বিভক্তি বাড়াতে পারে। ইতিহাসে এমন উদাহরণ রয়েছে, সংস্কারের নামে নানা সময় ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়েছে, স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়েছে। তাই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মূল শর্ত হওয়া উচিত স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ।

এছাড়া সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের অধিকাংশ নাগরিক এখনো রাজনীতির জটিল ভাষা ও আইনি কাঠামো সম্পর্কে অবহিত নন। যদি তারা না জানেন জুলাই সনদে কী পরিবর্তন আসছে, তাহলে তা জনসমর্থন পাবে না। সংস্কার তখনই সফল হবে, যখন মানুষ বুঝবে এটি তাদের জীবনে কী পরিবর্তন আনবে। যেমন, নির্বাচনে প্রভাব কমবে কি না, প্রশাসনের জবাবদিহি বাড়বে কি না, দুর্নীতি কমবে কি না- এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দিতে না পারলে সনদের প্রতি আস্থা তৈরি হবে না।

তবে আশার বিষয় হচ্ছে, এই সনদ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন জনগণ পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আস্থাহীনতা, প্রশাসনিক জটিলতা ও অর্থনৈতিক বৈষম্য মানুষকে ভাবাচ্ছে। তারা চায় এমন একটি কাঠামো, যেখানে সিদ্ধান্তের ক্ষমতা সত্যিই জনগণের হাতে থাকবে। জুলাই সনদ সেই আশার প্রতীক হতে পারে, যদি তা কোনো দলের নয়, রাষ্ট্রের জন্য হয়।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সনদের বাস্তবায়নে যেন আইন ও সংবিধানের সীমা অতিক্রম না করা হয়। বিচার বিভাগ ও সংসদ- এই দুই প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা বজায় রেখেই সংস্কার করতে হবে। যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার হাতিয়ার হিসেবে সনদটি ব্যবহৃত হয়, তাহলে তা উল্টো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে। জনগণ তখন এটিকে আরেকটি রাজনৈতিক নাটক হিসেবে দেখবে, এবং পরিবর্তনের আশা আবারও ভেঙে পড়বে।

সবশেষে বলা যায়, জুলাই সনদ একটি সুযোগ, কিন্তু সেটি ব্যবহারের দায়িত্ব রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সচেতন নাগরিক সমাজের হাতে। এটি বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনের সংস্কার সম্ভব, জবাবদিহি বাড়বে, এবং গণতন্ত্র আরও শক্ত হবে। জনগণ তখন রাজনীতির দর্শক নয়, অংশীদার হবে। কিন্তু যদি এটি কেবল নতুন স্লোগান বা দলীয় প্রচারণার হাতিয়ার হয়ে পড়ে, তবে এর কোনো স্থায়ী প্রভাব থাকবে না।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই সনদ সফল হওয়ার সবচেয়ে বড় শর্ত হলো পারস্পরিক আস্থা ও সত্যিকারের গণতান্ত্রিক মানসিকতা। যদি সব পক্ষ বুঝতে পারে যে পরিবর্তন মানে জয়-পরাজয় নয়, বরং নতুন সূচনা, তাহলে জুলাই সনদ ইতিহাসে একটি ইতিবাচক মোড় আনতে পারে। কিন্তু যদি এটি কেবল ক্ষমতার নতুন কৌশল হয়ে ওঠে, তবে এটি কেবল আরেকটি হারানো সম্ভাবনার গল্প হিসেবেই রয়ে যাবে।]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 29 Oct 2025 11:22:32 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ক্যাঙারু কোর্ট’: বিচার না নাটক?]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/113256" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/113256</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[রাজনীতিতে বা বিচারব্যবস্থায় যখন কোনো রায় বা প্রক্রিয়া নিয়ে ন্যায়বিচার প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তখনই আলোচনায় আসে &lsquo;ক্যাঙারু কোর্ট&rsquo; শব্দটি। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে ঘিরে শেখ হাসিনার রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেনের এক মন্তব্যের পর এই শব্দগুচ্ছ আবারও আলোচনায় এসেছে।

২৮ অক্টোবর রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেনকে দেখা যায় এক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে হাসতে। সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে কেউ কেউ &lsquo;ক্যাঙারু কোর্ট&rsquo; বলে আখ্যা দিচ্ছেন, এ বিষয়ে তাঁর মতামত কী। জবাবে তিনি বলেন, &ldquo;যারা ক্যাঙারু কোর্ট মনে করে সেটা তাদের ব্যাপার। আমি মনে করি না কোনো অস্বচ্ছতার কিছু আছে। আদালতে কেউ আমাকে কখনও কোনো চাপ দেয়নি।&rdquo;

প্রশ্ন ওঠে- আদালতের সঙ্গে একটি প্রাণীর নাম কেন যুক্ত হলো?

&lsquo;ক্যাঙারু কোর্ট&rsquo; শব্দগুচ্ছ এসেছে অস্ট্রেলিয়ার প্রাণী ক্যাঙারুর নাম থেকে। ক্যাঙারু যেমন এক লাফে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যায়, তেমনি তাড়াহুড়া করে বিচার সম্পন্ন করা আদালতকেও রূপকভাবে বলা হয় &lsquo;ক্যাঙারু কোর্ট&rsquo;। হার্ভার্ড ল রিভিউ ও ব্ল্যাক&rsquo;স ল ডিকশনারির সংজ্ঞায়, এটি এমন এক স্বঘোষিত বা প্রহসনমূলক আদালত, যেখানে ন্যায়বিচারের নীতি উপেক্ষা করা হয়, কিংবা রায় আগেই নির্ধারিত থাকে।

আইনজীবীদের মতে, ক্যাঙারু কোর্ট মূলত এমন বিচার প্রক্রিয়া, যেখানে ন্যায্য শুনানির সুযোগ নেই, প্রতিরক্ষার অধিকার খর্ব করা হয়, অথবা বিচার কার্যত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়।

শব্দটির উৎপত্তি উনিশ শতকে যুক্তরাষ্ট্রে। সে সময় সীমান্ত অঞ্চলের ঘুরে বেড়ানো বিচারকেরা দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি করতেন, অনেক সময় যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে। তারা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় &lsquo;লাফিয়ে&rsquo; বিচার করতেন, এই আচরণ থেকেই &ldquo;ক্যাঙারু কোর্ট&rdquo; শব্দের জন্ম

শুধু বাংলাদেশ নয়, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও &lsquo;ক্যাঙারু কোর্ট&rsquo; শব্দটি বহুল আলোচিত। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হলে কংগ্রেসের তদন্ত কমিটিকে &ldquo;ক্যাঙারু কোর্ট&rdquo; বলে সমালোচনা করেন। একইভাবে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও পার্লামেন্টারি তদন্ত প্রক্রিয়াকে একসময় এই শব্দে উল্লেখ করেছিলেন। ভারতে গণমাধ্যমের পক্ষপাতমূলক আচরণের সমালোচনাতেও এ শব্দ ব্যবহার করেছেন দেশটির তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এন ভি রমণ।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও &lsquo;ক্যাঙারু কোর্ট&rsquo; শব্দটি রাজনৈতিক ভাষ্যে ফিরে এসেছে। ২০২৩ সালে নুরুল হক নুর গণঅধিকার পরিষদের নিবন্ধন না পাওয়ার পর মন্তব্য করেন, &ldquo;আওয়ামী লীগ নিয়ন্ত্রিত ক্যাঙারু কোর্টে ন্যায়বিচার পাওয়া যায় না।&rdquo; সম্প্রতি মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও &lsquo;ক্যাঙারু কোর্ট&rsquo; শব্দ ব্যবহার করা হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ আছে।

বিচারিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বারবার ফিরে আসা এই শব্দগুচ্ছ এখন হয়ে উঠেছে ন্যায়বিচারের প্রশ্নে এক প্রতীকী প্রতিবাদ। অনেকের মতে, &lsquo;ক্যাঙারু কোর্ট&rsquo; শুধু একটি শব্দ নয়, এটি ন্যায়, স্বচ্ছতা ও বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থার সূচকও বটে।]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 28 Oct 2025 10:21:27 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[হঠাৎ বিতর্কে উপদেষ্টারা, নিরপেক্ষতার সংকট ও ক্ষমতার মনোবিজ্ঞান]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/113212" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/113212</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাংলাদেশের রাজনীতির মঞ্চে হঠাৎই যেন এক অদৃশ্য ঝড় বইছে। জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্য, ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচন এবং তার আগেই উপদেষ্টামণ্ডলীকে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া বিতর্ক&mdash;সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে।

রাজনীতি, প্রশাসন, গণমাধ্যম&mdash;এমনকি নাগরিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুও এখন এই প্রশ্ন: অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা আসলে কারা? তারা কতটা নিরপেক্ষ? এবং তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা দেশের আসন্ন গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য কতটা হুমকিস্বরূপ? প্রশ্নগুলোর উত্তর যতটা অস্পষ্ট, তার চেয়েও বেশি গভীর এদের অন্তর্নিহিত অর্থ। কারণ, যখন ক্ষমতার ভারসাম্য অস্থির থাকে, তখন প্রতিটি পদ, প্রতিটি ব্যক্তি হয়ে ওঠে একটি রাজনৈতিক সংকেত&mdash;একটি দিকনির্দেশনা, যার ব্যাখ্যা নির্ভর করে কে সেটা দেখছে এবং কোন অবস্থান থেকে দেখছে।

এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল একেবারে নীরবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বলেন, জুলাই সনদ স্বাক্ষরের পর থেকেই অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা একধরনের প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেন। কারও সঙ্গে কারও রাজনৈতিক অতীত, কারও সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগ বা নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু অনানুষ্ঠানিক যোগসূত্র&mdash;সব মিলিয়ে এক অস্বস্তিকর সন্দেহ তৈরি হয়।

যদিও সরকারিভাবে কোনো নাম প্রকাশ হয়নি, কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো খোলামেলাভাবে ইঙ্গিত দিতে শুরু করে। এমনকি কেউ কেউ সরাসরি হুমকিও দেন&mdash;&ldquo;নাম চাইলে আমরা প্রকাশ করব।&rdquo; এই অবস্থায় জনগণের চোখে সরকার ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এক অনিশ্চয়তার ঘেরে পড়ে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে উপদেষ্টা পদ কখনোই নিছক প্রশাসনিক দায়িত্ব ছিল না। ১৯৯০-এর পর থেকে যতবারই অন্তর্বর্তী বা তত্ত্বাবধায়ক ধাঁচের সরকার গঠিত হয়েছে, উপদেষ্টারা সবসময়ই থেকে গেছেন ক্ষমতার অক্ষের কেন্দ্রে। তারা যেমন নীতি নির্ধারণ করেন, তেমনি নির্বাচন প্রক্রিয়া, প্রশাসনিক নিয়োগ এবং কখনো কখনো বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনাতেও অংশ নেন। ফলে এই পদে থাকা ব্যক্তিরা শুধু প্রশাসনিক নয়&mdash;নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থাকার দায়িত্ব বহন করেন। কিন্তু ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, এ নিরপেক্ষতা সহজে রক্ষা করা যায় না। কারণ, ক্ষমতার নিকটে গেলে নিরপেক্ষতাও রাজনীতির এক প্রকার মুদ্রা হয়ে ওঠে&mdash;যা কেউ ভাঙায়, কেউ লুকিয়ে রাখে, আবার কেউ তা দিয়ে প্রভাবের দাম মেটায়।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি একযোগে যেভাবে উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে, তা কোনো সাধারণ রাজনৈতিক কৌশল নয়। এই তিনটি দলই শুরুতে অন্তর্বর্তী সরকারকে স্বাগত জানিয়েছিল। তারা দাবি করেছিল, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি নিরপেক্ষ প্রশাসন দেশের রাজনীতিতে আস্থা ফিরিয়ে আনবে। কিন্তু কয়েক মাস যেতে না যেতেই তারা বলছে, সরকারের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক পক্ষপাত কাজ করছে। কেউ বলছে&mdash;উপদেষ্টারা রাষ্ট্রসংস্কারের অজুহাতে নির্বাচন বিলম্বিত করতে চান; কেউ বলছে&mdash;তারা নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রাখছেন; আবার কেউ বলছে&mdash;নির্বাচন বানচালের জন্য প্রশাসনের অংশবিশেষকে নিজেদের প্রভাববলয়ে এনেছেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে&mdash;এই অভিযোগগুলো কি শুধুই রাজনীতির নাট্যরূপ, নাকি সত্যিই এর ভেতরে লুকিয়ে আছে ক্ষমতার পুনর্বিন্যাসের গোপন পরিকল্পনা?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এ ধরনের বিতর্কের জন্ম একধরনের কৌশলও হতে পারে। নির্বাচনের প্রাক্কালে যেকোনো সরকারকেই বিরোধী দলগুলো সন্দেহের চোখে দেখে, কারণ এটাই রাজনৈতিক চর্চার অংশ। কিন্তু এবার পার্থক্য হলো&mdash;সরকারের ভেতর থেকেই বিতর্কের জন্ম হয়েছে। উপদেষ্টারা সরাসরি কোনো দলভুক্ত না হলেও, তাদের মধ্যে কয়েকজনের অতীত পরিচয়, ব্যবসায়িক পৃষ্ঠপোষকতা কিংবা সামাজিক সংযোগ রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট বলে গণ্য হচ্ছে। ফলে জনগণের মনে প্রশ্ন&mdash;যদি উপদেষ্টারা নিজেরাই বিতর্কিত হন, তবে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত কাকে বিশ্বাস করা যায়? রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা এ প্রসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করেন&mdash;রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতা মূলত ব্যক্তির নিরপেক্ষতার ওপর নির্ভর করে না, বরং কাঠামোর নিরপেক্ষতার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাঠামো এমন যে, উপদেষ্টারা নিজেরাই প্রশাসনের নিয়ন্ত্রক এবং একই সঙ্গে নীতি নির্ধারক। ফলে তারা কাঠামোর অংশও, নিয়ামকও। এই দ্বৈত অবস্থান থেকেই সমস্যা শুরু হয়। কোনো একটি পদক্ষেপ যদি জনগণ বা রাজনৈতিক দল বিশেষের স্বার্থে মনে হয়, তবে তার দায় গোটা সরকারের ওপর বর্তায়। ফলে এক বা দুইজন উপদেষ্টার বিতর্কই সরকারকে সম্পূর্ণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলতে পারে।

বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে আরও কিছু অভিযোগ। যেমন&mdash;প্রশাসনে ডিসি ও এসপি পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়োগে রাজনৈতিক কোটা কার্যকর হচ্ছে, নির্বাচনী প্রস্তুতির জন্য কিছু দল প্রশাসনের তালিকা তৈরি করছে, এমনকি উপদেষ্টাদের মাধ্যমে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার হচ্ছে। এসব অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়নি, কিন্তু গণবিশ্বাসের ক্ষতি ইতিমধ্যে হয়েছে।

প্রধান দলগুলোর কেউ কেউ বলছে, সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতিতে নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখছে না; কেউ বলছে, কিছু উপদেষ্টা গোপনে নির্বাচনের সময় বাড়াতে চাইছেন; আবার কেউ বলছে, প্রশাসনের ভাগবাঁটোয়ারা হচ্ছে রাজনৈতিক দলের স্বার্থে। অন্যদিকে সরকার বা প্রধান উপদেষ্টা এসব বিষয়ে নীরব। এই নীরবতাই এখন হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় বিতর্ক।

রাজনীতিতে নীরবতা কখনো কখনো অভিযোগের চেয়েও শক্তিশালী সংকেত দেয়। ইতিহাস বলছে, ক্ষমতাসীন যেকোনো প্রশাসন যখন অভিযোগের মুখে নীরব থাকে, তখন জনগণ ধরে নেয়&mdash;অভিযোগে অন্তত কিছু সত্য আছে। উপদেষ্টাদের ক্ষেত্রে সেই সন্দেহ আরও তীব্র, কারণ তারা সরাসরি নির্বাচিত নয়, বরং নিযুক্ত। ফলে জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহিতা প্রশাসনিক নয়, নৈতিক। আর সেই নৈতিক বিশ্বাসটাই এখন টলে গেছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক নুরুল আমিন বেপারী এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, &ldquo;উপদেষ্টাদের মধ্যে কয়েকজনের কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এবং সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। তাদের অবিলম্বে সরানো না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।&rdquo; এই মন্তব্যের ভেতরেই লুকিয়ে আছে রাজনৈতিক বাস্তবতার কঠিন সত্য&mdash;সরকারের নিরপেক্ষতা যতটা প্রশাসনিক নয়, তার চেয়ে বেশি প্রতীকী। এবং সেই প্রতীকী আস্থা ভেঙে গেলে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা আর থাকে না।

অন্যদিকে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, &ldquo;বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির অভিযোগগুলো পুরোপুরি অমূলক নয়; কিছু ক্ষেত্রে পাল্টা কৌশল হিসেবেও বিতর্ক সৃষ্টি করা হয়েছে।&rdquo; অর্থাৎ, রাজনীতিতে কখনো কখনো অভিযোগই হয়ে ওঠে প্রতিরক্ষার অস্ত্র। যে যত বেশি অভিযোগ তুলবে, সে তত বেশি নিজেকে নিরপেক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবে। কিন্তু এর ফলে জনগণ বিভ্রান্ত হয় এবং আস্থা হারায় গণতন্ত্রের ওপর।

বর্তমান পরিস্থিতি এমন যে, রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের অবস্থান রক্ষায় একে অপরকে সন্দেহ করছে এবং সেই সন্দেহের বলি হচ্ছে রাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা। একদিকে সরকার বলছে, নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই হবে; অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে, নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রসংস্কারের প্রশ্ন সমাধান না হলে নির্বাচন হবে না। এই দুই মেরুর টানাপোড়েনে দাঁড়িয়ে আছেন উপদেষ্টারা&mdash;যারা নীতিগতভাবে নিরপেক্ষ, কিন্তু বাস্তবে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কেন্দ্রবিন্দু।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই বিতর্কে লাভ কার? কেউ কেউ বলছেন, এটা সরকারের জন্য ক্ষতিকর, কারণ নিরপেক্ষতার ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। আবার কেউ বলছেন, এটা সরকারেরই কৌশল&mdash;বিতর্ক সৃষ্টি করে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে বিভাজন বাড়ানো। কারণ, যখন বিরোধীরা একে অপরকে সন্দেহ করতে শুরু করে, তখন সরকারের জন্য নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। কিন্তু এই রাজনীতি টেকসই নয়।

বাংলাদেশের রাজনীতি এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বে ভুগছে। এখানে প্রতিটি দল অন্য দলের চেয়ে বেশি দেশপ্রেমিক প্রমাণ করতে চায়, প্রতিটি রাজনীতিবিদ নিজেকে বেশি নিরপেক্ষ দেখাতে চায়। অথচ নিরপেক্ষতা কোনো কৌশল নয়&mdash;এটি একধরনের মূল্যবোধ। উপদেষ্টারা সেই মূল্যবোধের প্রতীক হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তারা এখন নিজেরাই রাজনীতির চরিত্রে পরিণত হয়েছেন।

জনগণ এখন যে প্রশ্ন করছে, তা কেবল কারো পদত্যাগ নয়&mdash;রাষ্ট্রের নৈতিক কাঠামো আসলে কতটা টেকসই। যদি উপদেষ্টা পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাব প্রবেশ করতে পারে, তাহলে প্রশাসনের নিচের স্তরে কী ঘটছে, তা অনুমান করাই যায়। গণতন্ত্রের শত্রু কখনো প্রকাশ্য নয়; সে আসে অভ্যন্তরীণ আপসের মুখোশ পরে। আর সেই আপসের মূলে থাকে ক্ষমতা&mdash;যা কেউ ছাড়তে চায় না, কেউ হারাতে ভয় পায়।

এই মুহূর্তে বাংলাদেশের রাজনীতি এক সংকটজনক সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে আছে। সামনে নির্বাচন, পিছনে গণআন্দোলনের স্মৃতি, মাঝখানে সন্দেহ, সংশয় ও বিতর্কের ঘূর্ণি।

উপদেষ্টাদের নিরপেক্ষতা রক্ষা করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়&mdash;এটা জাতীয় সনদের নৈতিক শর্ত। কারণ, জুলাই সনদের মূল আত্মা ছিল গণতন্ত্রে আস্থা ফিরিয়ে আনা। কিন্তু আজ সেই সনদই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে তাদের কারণে, যাদের ওপর জনগণ আস্থা রেখেছিল। ইতিহাস বলছে, কোনো অন্তর্বর্তী সরকারই দীর্ঘস্থায়ী হয় না; তার টিকে থাকার কারণ কেবল বিশ্বাস। যদি সেই বিশ্বাস ভেঙে যায়, তবে ক্ষমতার ভারসাম্য এক মুহূর্তেই ভেঙে পড়তে পারে। এই কারণেই উপদেষ্টাদের বিতর্ক কেবল ব্যক্তি বা প্রশাসনিক বিষয় নয়&mdash;এটি রাষ্ট্রের নৈতিক পরীক্ষাও বটে।

যদি তারা নিজেদের নিরপেক্ষ প্রমাণে ব্যর্থ হন, তাহলে নির্বাচনের ফল যাই হোক না কেন, জনগণের মনে সন্দেহ থেকে যাবে। একটি রাষ্ট্র তখনই শক্তিশালী হয়, যখন তার মানুষ বিশ্বাস করে যে আইন, নির্বাচন ও প্রশাসন সবার জন্য সমান। কিন্তু আজকের বিতর্ক সেই বিশ্বাসকে নড়বড়ে করে দিচ্ছে। উপদেষ্টারা যদি নিজেদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পরিষ্কার না করেন, তাহলে এই সন্দেহ দীর্ঘমেয়াদে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ভেঙে ফেলবে। আর একবার আস্থা ভাঙলে, তা পুনর্গঠনে লাগে বছরের পর বছর।

আজ বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সামনে যে চ্যালেঞ্জ, তা কেবল নির্বাচন নয়&mdash;এটি আস্থার পুনর্গঠন। জুলাই সনদের আদর্শ, অন্তর্বর্তী সরকারের অঙ্গীকার, জনগণের প্রত্যাশা&mdash;সবকিছু এখন নির্ভর করছে কয়েকজন উপদেষ্টার আচরণের ওপর। তারা যদি স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার পথে হাঁটেন, তবে এই সংকট অতিক্রম করা সম্ভব; কিন্তু যদি তারা নীরবতার আড়ালে নিজেদের অবস্থান গোপন রাখতে চান, তবে ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না।

শেষ পর্যন্ত এই বিতর্ক আমাদের এক গভীর সত্য মনে করিয়ে দিচ্ছে&mdash;গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো গোপন পক্ষপাত, এবং তার আশ্রয়স্থল সবসময় থাকে ক্ষমতার কাছাকাছি। উপদেষ্টারা যদি সত্যিই নিরপেক্ষ হন, তবে তাদের দায়িত্ব হলো জনগণের সামনে নিজেদের ব্যাখ্যা দেওয়া। কারণ, নীরবতা কখনো কখনো দোষের চেয়েও বড় অপরাধ হয়ে ওঠে। আর এই সময়ের বাংলাদেশে, যেখানে প্রতিটি দিনই রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে একটিমাত্র নীরবতাই অনেক সময় ইতিহাস বদলে দেয়।

লেখক: সম্পাদক, মাসিক সরল কণ্ঠ (সাহিত্য পত্রিকা) জুমারবাড়ি, সাঘাটা, গাইবান্ধা।
শিক্ষার্থী, ফুলছড়ি সরকারি কলেজ ও কলামিস্ট।

সাননিউজ/আরপি]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 26 Oct 2025 11:22:48 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[সাংবাদিকতার টেবিলে নীতির চা ঠান্ডা হয়ে গেছে]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/113162" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/113162</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[এক সময় এই পেশা ছিল সমাজের বিবেক। সত্যের কণ্ঠস্বর, ন্যায়ের হাতিয়ার। সাংবাদিকতা মানেই ছিল দায়বদ্ধতা, সততা আর সাহস। আজ নিউজরুম এর ভেতরে ঢুকলে দেখা যায়, সেই নীতির চা ঠান্ডা হয়ে আছে। টেবিলের কোণে রাখা কাপটা যেন প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে সাংবাদিকতার ভেতরের শীতলতার।

পেশার প্রতি দায়বোধ কমে যাচ্ছে , এখন অনেক তরুণ সাংবাদিক কয়েক মাস কাজ শিখেই অন্য হাউজে চলে যাচ্ছেন, ভালো অফার, বড় ব্র্যান্ড, কিংবা একটু বেশি টাকা। এটা স্বাভাবিক ক্যারিয়ার উন্নতি বলা যেতে পারে, কিন্তু সমস্যা তখনই, যখন সেই বিদায়ের পথে থেকে যায় অপেশাদারিত্ব ও দায়িত্বহীনতা।
কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সময় যে বিশ্বাস, সময় ও অর্থনৈতিক ইনভেস্টমেন্ট প্রতিষ্ঠানটি করে, তা যেন কারও কাছে আর দায়বদ্ধতার বিষয় নয়। আজকাল &ldquo;জব&rdquo; আছে, &ldquo;প্রফেশন&rdquo; আছে, কিন্তু &ldquo;প্যাশন&rdquo; হারিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানের নীরব ক্ষত, একজন সাংবাদিক যখন হাউজ ছেড়ে চলে যান, তখন শুধু একটা চেয়ার ফাঁকা হয় না, নষ্ট হয় একটি টিমের কাঠামো, ভেঙে পড়ে ধারাবাহিকতা। নতুন করে কাউকে ট্রেইনিং দিতে হয়, নেটওয়ার্ক গড়তে হয়, অথচ সেই ক্ষতির মূল্য কেউ বোঝে না।
অনেকে আবার কাজ করতে করতেই, ব্যক্তিগত স্বার্থে কাজ ফেলে রাখেন বা অন্য হাউজে পার্ট-টাইম কাজ করেন, এমনও আছেন যারা হাউজের ইনভেস্টমেন্টে হাউজের কাজ না করে নিজস্ব অনলাইন মিডিয়া দাঁড় করাতে কাজ করেন। এতে শুধু প্রজেক্টই নয়, প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর যে মিডিয়া জনগণের বিশ্বাসে টিকে থাকে, তার ভেতরের এই বিশ্বাসঘাতকতা পুরো পেশাটাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।

নীতি এখন &lsquo;ব্রেকিং নিউজ&rsquo;-এর নিচে চাপা, গণমাধ্যম একসময় ছিল &ldquo;মানুষের কণ্ঠস্বর&rdquo;, এখন অনেক ক্ষেত্রে তা &ldquo;ক্লিকের কণ্ঠস্বর&rdquo; হয়ে যাচ্ছে। স্পিড, ভিউ, শেয়ার এগুলোর দৌড়ে সত্যতা ও মানবিকতা পিছিয়ে পড়ছে। নিউজরুম এ আর নীতি নিয়ে আলোচনা হয় না, হয় ট্রেন্ড নিয়ে, হয় রিচ নিয়ে।
ফলাফল, সাংবাদিকতা এখন শুধু পেশা নয়, অনেকের কাছে এটি একটি সিঁড়ি। আর সেই সিঁড়ি বেয়ে উঠতে গিয়ে কেউ ভাবছে না নিচে পড়ে থাকা নীতির কাপের চা কবে গরম হবে।

সাংবাদিকতা মানে শুধু রিপোর্ট লেখা নয়, সাংবাদিকতা মানে হলো দায়িত্ববোধ, যে সংবাদ জনগণের সামনে যাবে, তার সামাজিক প্রভাব কী হতে পারে, তা বোঝা।
একজন সংবাদকর্মী শুধু প্রতিষ্ঠানের নয়, পাঠকেরও কাছে দায়বদ্ধ। তার চলে যাওয়া মানে একটি আস্থার ভাঙন। তাই প্রতিষ্ঠান যেমন কর্মীর শ্রমের মূল্য দিতে হবে, তেমনি সাংবাদিককেও ভাবতে হবে- তার সততা, সময় ও নীতি কারও ইনভেস্টমেন্টের অংশ।

প্রয়োজন নীতি পুনর্জাগরণের - আমরা হয়তো এখনো সময়ের সন্ধিক্ষণে আছি। পেশাটিকে বাঁচাতে হলে প্রথমেই ফিরিয়ে আনতে হবে নৈতিকতার উষ্ণতা। নিউজরুম এর টেবিলে নীতির চা আবার গরম করতে হবে- সততা, দায়বোধ আর পেশাদারিত্বের আগুনে।

কারণ দিনের শেষে সাংবাদিকতা শুধু একটা পেশা নয়, এটা মানুষের প্রতি দায়, সময়ের প্রতি প্রতিশ্রুতি, এবং সমাজের প্রতি নৈতিক দায়িত্ব। যখন আমরা সেই দায় ভুলে যাই, তখন সত্যিই মনে হয়, সাংবাদিকতার টেবিলে নীতির চা ঠান্ডা হয়ে গেছে।]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 21 Oct 2025 12:45:27 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[গাজার আর্তনাদ: ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অন্ধ আনুগত্য]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/113137" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/113137</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[গাজার আকাশে এখন কোনো শব্দ নেই&mdash;না বোমার, না ড্রোনের, না আর্তনাদের। কিন্তু এই নীরবতা শান্তি নয়; এটি এক গোপন শ্বাসরুদ্ধ নীরবতা, যেন মৃত মানুষের শহরে সাময়িক বিরতির মতো। শিশুরা আজও ঘুমাতে ভয় পায়, হাসপাতালগুলো এখনও ওষুধহীন, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা মানুষের গন্ধ এখনো বাতাসে ভেসে বেড়ায়। যুদ্ধ থেমে গেছে&mdash;কিন্তু অন্য এক যুদ্ধ, রাজনৈতিক ও নৈতিক যুদ্ধ, এখনো চলছে; সেই যুদ্ধের মূলে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্ধ ইসরায়েলপ্রীতি।

ট্রাম্পের ভাষায়, &ldquo;মধ্যপ্রাচ্যের নতুন ভোর&rdquo;&mdash;এ এক রাজনৈতিক কবিতা মাত্র। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এমন ভোর বারবার এসেছে, কিন্তু সূর্য ওঠার আগেই রক্তে ডুবে গেছে দিগন্ত। ১৯৫৬, ১৯৬৭, ১৯৭৩ সালের যুদ্ধ, অসলো চুক্তি, ক্যাম্প ডেভিড, আনাপোলিস&mdash;সবই প্রমাণ করে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যত চুক্তি হয়েছে, তার কোনোটিই টেকসই শান্তি এনে দিতে পারেনি। কারণ প্রতিবারই ন্যায়ের পরিবর্তে রাজনীতি, মানবাধিকারের পরিবর্তে কৌশল, এবং মানবতার পরিবর্তে মিত্রস্বার্থ প্রাধান্য পেয়েছে।

ইসরায়েল&mdash;মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের &ldquo;কৌশলগত সন্তান&rdquo;। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র বুঝেছিল, তেলসমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার করতে হলে দরকার একটি শক্তিশালী ঘাঁটি&mdash;যেখানে পশ্চিমা মূল্যবোধের ছদ্মাবরণে তারা সামরিক, অর্থনৈতিক ও গোয়েন্দা আধিপত্য বজায় রাখতে পারবে। সেই ঘাঁটিই হলো ইসরায়েল। জন্মলগ্ন থেকেই ইসরায়েল ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক প্রকল্প&mdash;একটি সামরিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরীক্ষাগার, যা আরব জাতীয়তাবাদ ও সোভিয়েত প্রভাবের বিরুদ্ধে পশ্চিমা প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে এই সম্পর্ক পরিণত হয় অন্ধ আসক্তিতে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইসরায়েল হয়ে ওঠে &ldquo;অস্পৃশ্য পবিত্র গরু&rdquo;&mdash;যাকে সমালোচনা করা মানে আত্মহনন। রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাট&mdash;কেউই সেই ঝুঁকি নেয় না। ইসরায়েলি লবি, বিশেষ করে এআইপ্যাক (AIPAC), মার্কিন রাজনীতিকে এমনভাবে জড়িয়ে ফেলেছে যে, আজ কংগ্রেসের অর্ধেক সদস্যই ইসরায়েল নীতির সমালোচনায় মুখ খুলতে ভয় পান।

ধর্মীয় রাজনীতির ছায়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নীতি
ইভানজেলিকাল খ্রিস্টান গোষ্ঠী বিশ্বাস করে&mdash;ইসরায়েল হলো বাইবেলীয় ভবিষ্যদ্বাণীর অংশ। &ldquo;হোলি ল্যান্ড&rdquo;-এর নিয়ন্ত্রণ তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল ভোটশক্তির মালিক। রিপাবলিকান দল তাদের ওপর নির্ভরশীল। ফলে, যে প্রশাসনই ক্ষমতায় আসুক, ইসরায়েলের প্রতি অন্ধ সমর্থন তার রাজনৈতিক বেঁচে থাকার শর্তে পরিণত হয়।

এই অন্ধ সমর্থন শুধু ধর্মীয় বা নৈতিক নয়&mdash;এটি অর্থনৈতিকও। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর ইসরায়েলকে দেয় প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা, যা ২০২৪ সালের গাজা যুদ্ধ চলাকালে বেড়ে দাঁড়ায় ২২ বিলিয়ন ডলারে। এই অর্থের একটি অংশ ব্যবহৃত হয়েছে সেই বোমা তৈরি করতে, যা গাজার শিশুদের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।

মানবাধিকার ও বাস্তবতার দ্বৈত মানদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকে শেখায় মানবাধিকার, গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। কিন্তু যখন ইসরায়েল হাসপাতালে বোমা মারে, সাংবাদিক হত্যা করে, বা জাতিসংঘের স্কুলে আশ্রয় নেওয়া শিশুদের ওপর মিসাইল ছোড়ে&mdash;তখন যুক্তরাষ্ট্রের কণ্ঠ নীরব হয়ে যায়। বরং তারা বলে, &ldquo;ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে।&rdquo; প্রশ্ন হলো&mdash;ফিলিস্তিনিদের কি কোনো আত্মরক্ষার অধিকার নেই?

এই দ্বৈত মানদণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থানকে ভঙ্গুর করে দিয়েছে। আজ মধ্যপ্রাচ্যের মানুষ যুক্তরাষ্ট্রকে আর মানবতার রক্ষাকর্তা হিসেবে দেখে না; দেখে এক দ্বিমুখী শক্তি হিসেবে, যে স্বাধীনতার ভাষায় দখলদারকে রক্ষা করে।

ট্রাম্প প্রশাসন: উপনিবেশবাদের নব সংস্করণ
ট্রাম্প প্রশাসনের &ldquo;শান্তিচুক্তি&rdquo; মূলত একটি রাজনৈতিক প্রহসন। এটি ফিলিস্তিনিদের জন্য নয়, বরং ইসরায়েলের বিজয়পত্র। হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, সুড়ঙ্গ ধ্বংস, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিষিদ্ধকরণ&mdash;সবকিছুই একতরফা শর্ত। পশ্চিম তীরের দখল বা জেরুজালেমের মর্যাদা নিয়ে একটিও বাস্তব আলোচনা হয়নি।

এর চেয়েও ভয়াবহ হলো, এই চুক্তি কার্যকর করার জন্য গঠিত হয়েছে একটি &ldquo;বোর্ড&rdquo;, যার নেতৃত্বে রয়েছেন ট্রাম্প নিজেই। এই বোর্ডের নৈতিক বা আন্তর্জাতিক বৈধতা নেই, কিন্তু তারাই নিয়ন্ত্রণ করছে ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ। এটি আধুনিক উপনিবেশবাদের এক পরিশীলিত সংস্করণ&mdash;যেখানে বন্দুকের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয় কূটনীতি, আর লুণ্ঠনের পরিবর্তে &ldquo;শান্তি প্রক্রিয়া&rdquo; নামের মুখোশ।

ইসরায়েল: উন্মাদ রাষ্ট্রের বাস্তবতা
আজকের ইসরায়েল এক নিরাপত্তাহীন রাষ্ট্র নয়; বরং এটি ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ, বর্ণবাদ ও সামরিক গর্বে উন্মত্ত এক শক্তি। তাদের রাজনৈতিক দর্শন এখন &ldquo;দখলই নিরাপত্তা&rdquo;&mdash;যা ইতিহাসের প্রতিটি উপনিবেশবাদী শক্তির নীতি ছিল। গাজার ওপর ধারাবাহিক বোমাবর্ষণ, পশ্চিম তীরে নতুন বসতি নির্মাণ, ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের হত্যা&mdash;সবই সেই দর্শনের বহিঃপ্রকাশ।

তবুও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অটুট। কারণ, ইসরায়েল কেবল মধ্যপ্রাচ্যে নয়, আমেরিকার অভ্যন্তরেও একটি প্রতীক&mdash;&ldquo;আমাদের ছোট ভাই&rdquo;, &ldquo;আমাদের গণতান্ত্রিক দুর্গ&rdquo;, &ldquo;আমাদের ঈশ্বরের প্রতিশ্রুত ভূমি।&rdquo; এই ধর্মীয় ও রাজনৈতিক রোমান্টিসিজম যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তিবাদী পররাষ্ট্রনীতিকে ক্ষতবিক্ষত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে বিরোধী স্রোত
তবে সব আমেরিকান এক নয়। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৪১% নাগরিক ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে &ldquo;গণহত্যার কাছাকাছি&rdquo; মনে করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে, রাস্তায়, সংবাদমাধ্যমে&mdash;ফিলিস্তিনের পক্ষে এক নতুন তরঙ্গ উঠছে। তরুণ প্রজন্ম বিশেষভাবে সমালোচনামুখর।

কিন্তু প্রশাসন এই আন্দোলনগুলোকে দমন করছে &ldquo;ইহুদিবিদ্বেষ&rdquo; অভিযোগে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও একাডেমিক স্বাধীনতা আজ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই সংকুচিত। গাজা যুদ্ধের সময় শত শত অধ্যাপক ও সাংবাদিক চাকরি হারিয়েছেন শুধু ইসরায়েলবিরোধী মন্তব্য করার কারণে। &ldquo;স্বাধীন আমেরিকা&rdquo; আজ পরিণত হয়েছে ভয়ের আমেরিকায়&mdash;যেখানে সত্য বলা মানেই রাষ্ট্রীয় শত্রুতে পরিণত হওয়া।

বিশ্বজনমতের পালাবদল
তবে বিশ্ব এখন দ্রুত বদলাচ্ছে। ব্রিটেন, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড, কানাডা, নরওয়ে&mdash;অনেকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। জাতিসংঘেও ফিলিস্তিনপন্থী প্রস্তাবের পক্ষে ভোট বাড়ছে। এমনকি কিছু আরব রাষ্ট্র, যারা &ldquo;আব্রাহাম চুক্তি&rdquo;-র মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছিল, তারাও এখন নীরবে পিছিয়ে আসছে।

এই পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রকে একা করে দিচ্ছে। তাদের নীতির নৈতিক ভিত্তি হারাচ্ছে। ওয়াশিংটন এখন আর মধ্যপ্রাচ্যের &ldquo;শান্তির দূত&rdquo; নয়; বরং দখলদারির সহযোগী হিসেবে পরিচিত।

দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান: এখনো প্রাসঙ্গিক?
দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় &ldquo;দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান&rdquo;&mdash;ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র&mdash;কে শান্তির একমাত্র পথ হিসেবে দেখেছে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, ইসরায়েল নিজেই সেই সম্ভাবনা নষ্ট করছে। বসতি সম্প্রসারণ, জেরুজালেম দখল, গাজা অবরোধ&mdash;সবকিছুই ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভূগোলকে খণ্ডিত করেছে।

বাইরের শক্তির চাপ ছাড়া ইসরায়েল কখনোই ন্যায্য সমাধানে রাজি হবে না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অন্ধ সমর্থন সেই চাপ সৃষ্টি হতে দিচ্ছে না। এর ফলে, শান্তির প্রতিটি প্রচেষ্টা শুরু হওয়ার আগেই মৃত হয়ে যাচ্ছে।

নৈতিকতা ও কৌশলের সংঘাত
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এখন নৈতিকতার চেয়ে কৌশলনির্ভর। তারা ভাবে, ইসরায়েলকে সমর্থন করা মানে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাব টিকিয়ে রাখা। কিন্তু বাস্তবতা উল্টো। এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রকে এক নৈতিক মরুভূমিতে পরিণত করছে। মুসলিম বিশ্বে তাদের প্রতি আস্থা কমছে, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায় তারা হারাচ্ছে নৈতিক নেতৃত্ব। একসময় যে দেশ বিশ্বকে গণতন্ত্র শেখাত, আজ সেই দেশই দখলদারের সহচর। এটি শুধু ফিলিস্তিনের জন্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিজের অস্তিত্বের জন্যও আত্মবিধ্বংসী।

শান্তির প্রকৃত শর্ত: ন্যায়
গাজায় স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়, যতদিন না ন্যায়ের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। যুদ্ধবিরতি কোনো সমাধান নয়, যদি তার পেছনে অন্যায়ের বৈধতা থাকে। যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই শান্তি চায়, তবে তাদের ইসরায়েলের সঙ্গে &ldquo;বিশেষ সম্পর্ক&rdquo; নয়, &ldquo;স্বাভাবিক সম্পর্ক&rdquo; গড়ে তুলতে হবে। অর্থাৎ, ইসরায়েল ন্যায্য আচরণ করলে সহায়তা, অন্যথায় প্রতিবাদ। এটি শুধু নৈতিক নয়, বাস্তব কৌশলও।

কারণ, মধ্যপ্রাচ্যে যতক্ষণ ফিলিস্তিনের ক্ষোভ জ্বলবে, ততক্ষণ চরমপন্থা, সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা থামবে না। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক স্বার্থও তখন বিপন্ন হবে।

মানবতার পরীক্ষা
গাজার বাস্তবতা কোনো আঞ্চলিক সংকট নয়; এটি একটি সভ্যতার নৈতিক পরীক্ষা। সেখানে প্রতিদিন মানবতা নিহত হচ্ছে রাজনীতির ছুরিতে। শিশুদের ক্ষুধা, পানির অভাব, হাসপাতালের ধ্বংস&mdash;এসব কেবল পরিসংখ্যান নয়, এটি মানবতার পতনের প্রতীক। জাতিসংঘের ভাষায়, &ldquo;গাজা এখন বাসযোগ্য নয়।&rdquo;

অথচ যুক্তরাষ্ট্র, যে দেশ মানবাধিকারের বিশ্বনেতা দাবি করে, তারা এই বাস্তবতা জেনেও চোখ বন্ধ রাখছে। তাদের কাছে যুদ্ধবিরতি মানে কৌশলগত বিরতি, মানবতা নয়।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
বিশ্ব এখন ক্রমে দুই ভাগে বিভক্ত&mdash;একদিকে দখলদারের সহচর রাষ্ট্র, অন্যদিকে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো মানুষ। প্রযুক্তির যুগে তথ্য আর লুকানো যায় না। গাজার শিশুর কান্না আজ বিশ্বজুড়ে মানুষের বিবেককে নাড়া দিচ্ছে। তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে, &ldquo;বয়কট, ডাইভেস্টমেন্ট, স্যাংশনস (BDS)&rdquo; আন্দোলনের মাধ্যমে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে এক নীরব বিপ্লব গড়ে তুলছে।

এই আন্দোলন ধীরে ধীরে রাষ্ট্রীয় নীতিকেও প্রভাবিত করবে।

নীরবতার ভেতর বিস্ফোরণ
গাজার নীরবতা একদিন আবার ভেঙে পড়বে&mdash;এটি সময়ের প্রশ্ন। কারণ, যে অন্যায় চাপা থাকে, সে একদিন বিস্ফোরিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অন্ধ ইসরায়েলপ্রীতি শুধু গাজার শান্তিকে বাধাগ্রস্ত করছে না; এটি যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তিকেও ধ্বংস করছে।

টেকসই শান্তি তখনই সম্ভব, যখন ফিলিস্তিনিদের অধিকার স্বীকৃত হবে, ইসরায়েল তার দখলনীতি পরিত্যাগ করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র মানবতার পক্ষে দাঁড়াবে। ন্যায়ের ভিত্তি ছাড়া শান্তি কেবল যুদ্ধের অন্তর্বিরতি মাত্র।

আজ মানবতা দাঁড়িয়ে আছে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে&mdash;একদিকে অন্যায়কে মেনে নেওয়ার সহজ পথ, অন্যদিকে সত্য ও ন্যায়ের কঠিন পথ। যুক্তরাষ্ট্র কোন পথে যাবে, সেটিই নির্ধারণ করবে শুধু গাজার নয়, সমগ্র সভ্যতার ভবিষ্যৎ।

লেখক: অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কলাম লেখক

সাননিউজ/আরআরপি]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 19 Oct 2025 09:50:58 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[জাতীয় প্রতীকের দখলযুদ্ধ, থামাবে কে?]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/113033" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/opinion/113033</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[এসএম হাসানুজ্জামান: বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতীক মানে কেবল একটি চিহ্ন নয়, এটি এক ধরনের অস্তিত্বের ঘোষণা, আত্মপরিচয়ের প্রতিমূর্তি, এবং ক্ষমতার প্রতীকী অনুবাদ। রাষ্ট্র ও দল, জনগণ ও নেতৃত্ব এই চার উপাদানের মধ্যে যোগাযোগের যে সেতু, সেই সেতুর স্তম্ভ গড়ে ওঠে প্রতীকের ওপর। নির্বাচন কমিশনের দরজায় নিবন্ধনপ্রত্যাশী দলগুলোর ভিড় যেমন রাজনৈতিক পুনর্জন্মের আকাঙ্খা, তেমনি প্রতীকের জন্য তীব্র আকুতি প্রকাশ করে রাজনৈতিক অস্তিত্বের নিরাপত্তাহীনতাকেও। আর এই প্রেক্ষাপটে &lsquo;শাপলা&rsquo; নামক প্রতীকের চারপাশে যে তর্ক, তীব্রতা ও তত্ত্ব-রাজনীতি জড়িয়ে পড়েছে, তা কেবল কোনো দলের প্রতীক চাওয়ার কাহিনি নয়, এটি রাষ্ট্রের প্রতীক ব্যবহারের নৈতিক সীমানা, সাংবিধানিক সংযম এবং রাজনৈতিক রুচির এক সম্মিলিত পরীক্ষা।
প্রতীকের দার্শনিক ব্যাখ্যা
প্রতীক রাজনীতিতে যেমন পরিচয়ের বাহন, তেমনি গণমনে আস্থার ভরসাও। কোনো প্রতীক যখন দলীয় পতাকার মতো জাতিসত্তার সঙ্গে মিলিত হয়, তখন সেটি এক ধরনের আবেগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। বাংলাদেশে ভোটারদের বড় অংশ এখনো প্রতীককেন্দ্রিক,দলের নাম নয়, তারা ভোট দেয় &lsquo;ধানের শীষ&rsquo;, &lsquo;নৌকা&rsquo;, &lsquo;লাঙ্গল&rsquo; বা &lsquo;ট্রাক&rsquo;-এ। তবে এই প্রতীকগুলির গভীরে থাকে দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস, আদর্শের চিহ্ন এবং ক্ষমতার বীজ। একজন বিশ্লেষকের ভাষায় প্রতীক হচ্ছে সেই নিরব ভাষা, যার মাধ্যমে রাজনীতি জনগণের সঙ্গে কথা বলে। কিন্তু যখন সেই ভাষা নিয়ে লড়াই শুরু হয়, তখন রাজনীতি আর জনতার মধ্যকার সম্পর্ক রূপ নেয় এক প্রকার বিশ্বাসঘাতকতায়।
শাপলা বিতর্কের সাংবিধানিক পরিধি
বাংলাদেশের সংবিধান প্রতীকের মর্যাদা নিয়ে নির্দিষ্ট বিধান রেখেছে। রাষ্ট্রীয় প্রতীক হিসেবে &lsquo;পানিতে ভাসমান শাপলা&rsquo; কেবল একটি ফুল নয়, এটি মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর বাংলাদেশের পুনর্জাগরণের প্রতীক, জাতীয় জীবনের এক বিমূর্ত রূপ। এই প্রতীকের চারপাশে ধানের শীষ, পাটগাছের পাতা ও তারকা মিলিত হয়ে তৈরি করেছে জাতির ভিজ্যুয়াল পরিচয়, যার মধ্যে নিহিত আছে উৎপাদন, শ্রম, স্বপ্ন ও শান্তির প্রতীকী অনুষঙ্গ। অতএব, কোনো রাজনৈতিক দল যদি এই জাতীয় প্রতীককে নিজের দলীয় পরিচয়ে রূপ দিতে চায়, সেটি কেবল প্রশাসনিক আপত্তির বিষয় নয়,এটি এক ধরনের সাংবিধানিক অবমাননা এবং জাতীয় প্রতীক আত্মসাতের প্রচেষ্টা। তবু নতুন প্রজন্মের দল এনসিপি যখন ঘোষণা দেয়, &ldquo;শাপলাই চাই, অন্য কিছু নয়,&rdquo; তখন বিষয়টি কেবল প্রতীকের দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি পরিণত হয় প্রতীকী প্রতিরোধে। এনসিপি মনে করে, জাতীয় প্রতীক ব্যবহারে কোনো আইনগত বাধা নেই, এ এক রাজনৈতিক কৌশল, যার মাধ্যমে তারা নিজেদের &lsquo;জাতীয়তাবাদী উত্তরাধিকার&rsquo;-এর দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কিন্তু এই অবস্থান রাষ্ট্রীয় প্রতীককে দলীয় সীমানায় টেনে আনার এক বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করছে।
ধানের শীষ ও লাঙ্গলের ঐতিহাসিক আবর্ত
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধানের শীষ যেমন ক্ষমতার রূপক, তেমনি লাঙ্গল ইতিহাসের কৃষিজীবী সমাজের প্রতীক। ধানের শীষ এক সময় ভাসানী ন্যাপের হাতে ছিল একটি আন্দোলন নির্ভর দল, যারা জাতীয়তাবাদের আদর্শিক কাঠামো তৈরি করেছিল। স্বাধীনতার পর এই প্রতীক চলে যায় বিএনপির হাতে, জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক পুনর্গঠনের হাত ধরে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধানের শীষ হয়ে ওঠে বিরোধিতার প্রতীক, আপোসহীনতার ভাষা। অন্যদিকে, লাঙ্গল, যা একদা শেরেবাংলা ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টির পরিচায়ক ছিল, এরশাদের হাতে এসে হয়ে যায় জাতীয় পার্টির প্রতীক। কৃষক রাজনীতির ঐতিহ্য বদলে তা রূপ নেয় ক্ষমতাকেন্দ্রিক প্রতীকে। এখন যখন জাতীয় লীগ দাবি করছে, লাঙ্গল তাদের ঐতিহ্যগত সম্পদ, তখন বিষয়টি কেবল প্রতীক পুনরুদ্ধারের নয়, এটি রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের বৈধতা প্রতিষ্ঠার প্রশ্নও। এই দন্ধগুলো আসলে প্রতীকের সীমারেখায় দলীয় ইতিহাসের সংঘর্ষকেই প্রতিফলিত করে যেখানে প্রতীক শুধু পরিচয়ের বাহন নয়, বরং ইতিহাসের স্মারক হয়ে ওঠে।
প্রতীকের মালিকানা ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা
বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন ২০০৮ সালে দলীয় নিবন্ধন পদ্ধতি চালু করে। সেই থেকে প্রতীক হয়ে ওঠে দলীয় স্বত্বাধিকারভুক্ত একটি আইনি সম্পদ। একবার কোনো প্রতীক বরাদ্দ হলে, সেটি অন্য দলের জন্য উন্মুক্ত থাকে না। তবে এই নিয়মের আগে প্রতীক ব্যবহারে কোনো বাধা না থাকায় ইতিহাসে দেখা গেছে, একই প্রতীক বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলের হাতে ঘুরে বেড়িয়েছে, আনারস, বাইসাইকেল, গোলাপ ফুল কিংবা ধানের শীষ, সবই কখনো না কখনো অন্য দলের পক্ষে ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু আধুনিক রাজনীতিতে প্রতীকের এই ঘুরপাক আর সহজ নয়। এখন এটি এক ধরনের আইনি একচেটিয়া অধিকার। সুতরাং, এনসিপি যখন দাবি তোলে যে নির্বাচন কমিশন &ldquo;ইচ্ছাকৃতভাবে শাপলাকে প্রতীকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেনি,&rdquo; তখন তারা আসলে এই আইনি প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তবে নির্বাচন কমিশনেরও দায়িত্ব ছিল শুরু থেকেই বিষয়টি স্বচ্ছভাবে ব্যাখ্যা করা জাতীয় প্রতীক কোনো দলের প্রতীক হতে পারবে না, এই নীতিগত অবস্থান যদি স্পষ্টভাবে জানানো হতো, তাহলে বিতর্কটি এই পর্যায়ে আসত না। আজ ইসিকে কেবল প্রশাসনিক সংস্থা নয়, বরং গণতন্ত্রের প্রতীকী ন্যায্যতার রক্ষাকবচ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার সিদ্ধান্ত যদি স্বচ্ছতার ঘাটতিতে ভোগে, তাহলে তা শুধু এক দলের নয়, পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট করে।
প্রতীক ও জনপ্রিয়তার ভ্রান্ত ধারণা
রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়ই মনে করে প্রতীকই জনপ্রিয়তার মূল উৎস। অথচ বাস্তবতা ভিন্ন। প্রতীকের সৌন্দর্য বা জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে তার মিল দলকে জনপ্রিয় করে তোলে না। উদাহরণস্বরূপ, গোলাপ ফুলের মতো নান্দনিক প্রতীক ধারণ করেও কোনো দল জাতীয় রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। কারণ ভোটাররা শেষ পর্যন্ত দল নয়, বিশ্বাসযোগ্যতা, আদর্শ ও নেতৃত্বকেই বিচার করে। তবু প্রতীকের প্রতি অতিরিক্ত অনুরাগ এক ধরনের রাজনৈতিক মনোবিকার সৃষ্টি করে, যেখানে প্রতীকই হয়ে ওঠে অস্তিত্বের একমাত্র প্রমাণ, আর আদর্শ, নীতি, কর্মসূচি হয়ে পড়ে গৌণ। এনসিপি যে দৃঢ়ভাবে বলছে &ldquo;শাপলা না পেলে আন্দোলন,&rdquo; সেটি প্রতীকের প্রতি অতি-নির্ভরতারই প্রতিফলন।
প্রতীক রাজনীতি বনাম আদর্শ রাজনীতি
বাংলাদেশের রাজনীতি ক্রমে প্রতীকের রাজনীতিতে পরিণত হচ্ছে। একদিকে নৌকা, অন্যদিকে ধানের শীষ ইত্যাদি এই প্রতীকবাদের মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে বাস্তব রাজনৈতিক কর্মসূচি, নৈতিকতা ও আদর্শ। নতুন প্রজন্মের দলগুলো, বিশেষ করে এনসিপির মতো সংগঠনগুলো, যদি একই পথ অনুসরণ করে, তবে তাদের ভবিষ্যৎও হবে পুরনো দলগুলোর প্রতীকী ছায়ার পুনরাবৃত্তি।
রাজনীতির ইতিহাসে দেখা গেছে, প্রতীক তখনই শক্তিশালী হয় যখন সেটি জনমানসে নির্দিষ্ট কোনো মূল্যবোধ বা সংগ্রামী অর্থ বহন করে। ধানের শীষ টিকে গেছে কারণ এটি এক সময় স্বৈরাচারবিরোধী প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠেছিল; লাঙ্গল টিকে গেছে কারণ এটি কৃষক রাজনীতির সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। শাপলা যদি সত্যিই জনগণের হৃদয়ে জায়গা করতে চায়, তাহলে সেটিকে প্রতীকের সৌন্দর্য নয়, রাজনৈতিক দর্শনের প্রতীক হিসেবে দাঁড় করাতে হবে।
জাতীয় প্রতীকের পবিত্রতা ও রাজনৈতিক দায়িত্ব
রাষ্ট্রের প্রতীক হলো জাতির অভিন্ন ঐক্যের প্রতীক। এটি কোনো দল, মত বা ব্যক্তির সম্পত্তি নয়। জাতীয় প্রতীকের সঙ্গে দলীয় প্রতীকের সম্পর্ক যত ঘনিষ্ঠ হয়, রাষ্ট্রীয় পরিচয় তত বিভক্ত হয়ে পড়ে। ইতিহাসে আমরা দেখেছি, রাষ্ট্রীয় প্রতীককে দলীয় সীমানায় টেনে আনা মানেই জাতীয় চেতনাকে সংকুচিত করা। এমন উদাহরণ পাকিস্তানের রাজনীতিতে যেমন দেখা গেছে&Ntilde;চাঁদ-তারা প্রতীকের অপব্যবহার এক সময় ধর্মীয় একচ্ছত্রতার প্রতীক হয়ে উঠেছিল&Ntilde;তেমনি ভারতের কিছু আঞ্চলিক রাজনীতিতেও জাতীয় প্রতীককে দলীয় প্রচারণার অংশ বানানো হয়েছে, যার ফলাফল হয়েছে সাংবিধানিক সংকট। বাংলাদেশে শাপলাকে কেন্দ্র করে যদি একই ধরনের প্রতীকি রাজনীতি শুরু হয়, তবে এটি ভবিষ্যতের জন্য বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করবে। কারণ একবার জাতীয় প্রতীক দলীয় প্রতীকে পরিণত হলে, রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতার নৈতিক ভিত্তি নষ্ট হয়।
প্রতীক ও গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতা
গণতন্ত্রের সৌন্দর্য প্রতীকের বৈচিত্র্েয নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ন্যায্যতায়। যে দেশে প্রতীকের জন্য আন্দোলন হয়, অথচ আদর্শ ও কর্মসূচি অনুপস্থিত থাকে, সেই দেশে গণতন্ত্র কেবল আনুষ্ঠানিকতার রূপ নেয়। আজ যখন এনসিপি শাপলার জন্য হুমকি-ধমকি দিচ্ছে, তখন প্রশ্ন উঠছে, তাদের আসল লড়াই কি প্রতীকের, নাকি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের? প্রতীক যদি গণতন্ত্রের চাবিকাঠি হতো, তবে গোলাপ, আনারস, রকেট বা ফুলকপির দলগুলোও আজ প্রধানধারার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকত। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, প্রতীক যতই আকর্ষণীয় হোক, আদর্শহীন রাজনীতি শূন্যই থেকে যায়।
নির্বাচন কমিশনের নৈতিক দায়িত্ব
এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের ভ&sbquo;মিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসিকে শুধু আইনি ব্যাখ্যা নয়, নৈতিক নেতৃত্বও প্রদর্শন করতে হবে। তারা যদি কোনো দলকে জাতীয় প্রতীক ব্যবহারে বাধা দেয়, সেটি আইনি কর্তব্য; কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের ভাষা ও প্রক্রিয়া যদি অস্পষ্ট হয়, তবে জনগণের চোখে তাদের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। ইসি এখন শুধু প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং গণতন্ত্রের আস্থার প্রতীক। তাদের প্রতিটি সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা, ব্যাখ্যা ও আইনি দৃঢ়তা থাকা আবশ্যক&Ntilde;যাতে কেউ বলতে না পারে, কোনো প্রতীকের নিষেধাজ্ঞার আড়ালে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে।
প্রতীকের সীমা ও রাজনীতির লক্ষ্য
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আজ এক অদ্ভুত প্রবণতা তৈরি হয়েছে, দলগুলো প্রতীকের জন্য যুদ্ধ করে, কিন্তু দর্শনের জন্য নয়। প্রতীক হয়ে গেছে অস্তিত্বের প্রতিরূপ, অথচ রাজনীতি হারিয়েছে তার নৈতিক অন্তঃসত্তা। শাপলা, ধানের শীষ, লাঙ্গল সব প্রতীকই এক সময় মানুষের স্বপ্ন, পরিশ্রম ও সংগ্রামের ভাষা ছিল। কিন্তু এখন সেগুলো হয়ে উঠেছে ক্ষমতার প্রতীকী তাবিজ, যার মাধ্যমে দলগুলো নিজেদের বৈধতা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করে প্রতীকের চেয়ে শক্তিশালী হলো কর্মসূচি, নীতি ও নেতৃত্বের সততা। একটি দল যদি জনগণের বিশ্বাস অর্জন করতে পারে, তবে তার প্রতীক যাই হোক ফুল, কলম বা কেটলি তাতে কিছু যায় আসে না।

উপসংহার: প্রতীকের গন্ডি পেরিয়ে নতুন রাজনীতির আহবান
বাংলাদেশ এখন এক নতুন রাজনৈতিক যুগে প্রবেশ করছে, যেখানে পুরনো দলগুলোর প্রতীকী আধিপত্য ভেঙে নতুন দলগুলো আত্মপ্রকাশ করছে। কিন্তু যদি নতুন প্রজন্মের এই দলগুলোও প্রতীকের রাজনীতিতেই আটকে যায়, তবে তাদের ভবিষ্যৎ পুরনোদের মতোই নিষ্ফল হবে। প্রতীককে ভালোবাসা দোষের নয়, কিন্তু প্রতীকের জন্য অন্ধ লড়াই গণতন্ত্রের পরিপন্থী। রাজনীতি তখনই অর্থবহ হয়, যখন প্রতীক হয়ে ওঠে জনকল্যাণের প্রতীক, নৈতিকতার প্রতিফলন শুধু নির্বাচনী মার্কা নয়। এনসিপি যদি সত্যিই জনগণের মন জয় করতে চায়, তবে তাদের প্রথম কর্তব্য হবে জাতীয় প্রতীকের প্রতি শ্রদ্ধা, রাজনৈতিক শালীনতার অনুশীলন এবং গণতন্ত্রের প্রতি অবিচল বিশ্বাস। শাপলা, ধানের শীষ, লাঙ্গল সবই আমাদের ইতিহাসের অংশ। কিন্তু ইতিহাসের মালিকানা প্রতীকের নয়, যারা জনগণের পাশে দাঁড়ায় তাদেরই। একদিন হয়তো শাপলা আবারও ফুটবে, কিন্তু সেটি কোনো দলের হাতে নয়&Ntilde;জনগণের আস্থার প্রতীকে।

লেখক: এসএম হাসানুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কলামিস্ট, রংপুর।

smhashanuzzaman@gmail.com

সান নিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Fri, 10 Oct 2025 16:27:13 +0000</updated>
        </entry>
    </feed>
