<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<feed xmlns="http://www.w3.org/2005/Atom">
                        <id>https://www.sunnews24x7.com/feed/health</id>
                                <link href="https://www.sunnews24x7.com/feed/health"></link>
                                <title><![CDATA[Sunnews health Feed]]></title>
                                <description>Sunnews Latest health News Feeds</description>
                                <language>bn-BD</language>
                                <updated>Fri, 15 May 2026 11:17:56 +0000</updated>
                        <entry>
            <title><![CDATA[হাম ও উপসর্গে আরও ১২ শিশুর মৃত্যু]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/114814" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/114814</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা) দেশে আরও ১২ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে চার শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের উপসর্গ ছিল আট শিশুর।

এ সময়ে সারা দেশে আরও এক হাজার ১৯২ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১১১ শিশুর শরীরে।

শুক্রবার (১৫ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

হাম শনাক্ত হয়ে মারা যাওয়া চার শিশুর দুজন ঢাকা বিভাগের আর একজন করে রয়েছে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে। হামের উপসর্গ নিয়ে মাা যাওয়া আট শিশুর তিনজন ঢাকা বিভাগের, তিনজন চট্টগ্রাম বিভাগের আর একজন করে রয়েছে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৩৭৭ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৭৪ শিশু। মোট ৪৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৫৫ হাজার ৬১১ শিশুর। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪০ হাজার ১৭৬ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরেছে ৩৬ হাজার ৫৫ শিশু।

গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সাত হাজার ৪১৬ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

সাননিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Fri, 15 May 2026 11:17:56 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/114803" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/114803</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা) দেশে আরও সাত শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে এক শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের উপসর্গ ছিল ছয় শিশুর।

এ সময়ে সারা দেশে আরও এক হাজার ৩৬৩ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। হাম শনাক্ত হয়ে শিশুটি ঢাকায় মারা গেছে। আর হামের উপসর্গে ঢাকায় চার, চট্টগ্রামে এক ও ময়মনসিংহে এক শিশু মারা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৩৬৯ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৭০ শিশু। মোট ৪৩৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৫৪ হাজার ৪১৯ শিশুর। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৯ হাজার ১৬০ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরেছে ৩৪ হাজার ৯৬৮ শিশু।

গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে ৭ হাজার ৩০৫ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

হামের টিকার পরিবর্তে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন, তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের টিকার পরিবর্তে শিশুকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়ার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারকে অনতিবিলম্বে শিশুর যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার রুলসহ এ আদেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রিটকারীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব। তিনি বলেন, রুলে ওই শিশুর পরিবারকে কেন ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। ল&rsquo; অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের পক্ষে এ রিট দায়ের করা হয়।

প্রকাশিত খবরে বলা হয়, টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের টিকার পরিবর্তে এক মাস বয়সি শিশুকে দেওয়া হয়েছে জলাতঙ্কের (কুকুর) ভ্যাকসিন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুম ওই শিশুকে এই ভ্যাকসিন প্রদান করেন। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ রোগীর পরিবার ভুল চিকিৎসার জন্য বিচার দাবি করেছেন।

ঘটনা জানাজানির পর হাসপাতালে শিশু রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন স্থানীয়রা। কর্তৃপক্ষ বলছে, তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানা গেছে, দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার ছাব্বিশা গ্রামের মৌ খাতুন বুধবার দুপুরে তার এক মাস ৫ দিন বয়সী শিশু ফাতিহাকে হামের টিকা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিকা কেন্দ্রে নিয়ে যান। এ সময় সেখানে দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুম হামের টিকার পরিবর্তে ওই শিশুকে দুই ডোজ জলাতঙ্কের র&zwnj;্যাবিক্স ভ্যাকসিন প্রদান করেন। এর কিছুক্ষণ পর শিশুর শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় ঘটনাটি প্রকাশ পেলে স্বজনরা এর প্রতিবাদ করেন।

সাননিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 14 May 2026 17:57:02 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[হামে শিশু মৃত্যু: কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/114778" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/114778</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[হাম সংক্রমণকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে তুলনা করে, তদন্তের মাধ্যমে এই সংকটের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন।

বুধবার (১৩ মে) সকালে সচিবালয়ে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে পোলিও ভ্যাকসিন গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় আগামী জুনের মধ্যে শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাম সংক্রমণ পরিস্থিতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো হলেও, সরকার এই সংকট অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। বেশিরভাগ জেলাতেই টিকাদান শেষ হয়েছে। বাকি শিশুদেরকেও টিকার আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া, আগামী জুনের মধ্যে শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

হামের এই ভয়াবহ দুর্যোগ কাটিয়ে উঠার পর, এমন সংকটময় পরিস্থিতির পেছনে কারা দায়ী, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সরকারের টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা এবং ইপিআই কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সরকারকে তিন লাখ ৮০ হাজার ডোজ পোলিও ভ্যাকসিন অনুদান হিসেবে দিয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন।

সময়মতো টিকা না দেওয়ায় সারা দেশেই হাম সংক্রমণ বাড়ছে। এরইমধ্যে মৃত্যু ৪০০ ছাড়িয়েছে।

সাননিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 13 May 2026 07:42:47 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[হাম ও উপসর্গে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/114764" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/114764</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[হাম ও এর উপসর্গে সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৯ শিশু মারা গেছে। এই সময়ে নিশ্চিত হামে মারা গেছে তিন শিশু। আর হামের উপসর্গে মারা গেছে ছয় শিশু।

মঙ্গলবার (১২ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ১১ মে সকাল ৮টা থেকে ১২ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে এই শিশুমৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে সারা দেশে আরও এক হাজার ১০৫ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ৫১ হাজার ৫৬৭। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগী শনাক্তের সংখ্যা ৮৭। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট সাত হাজার ২৪ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৬ হাজার ৮৮১ শিশু। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৩২ হাজার ৮৭৭ শিশু। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে যে তিন শিশু মারা গেছে, তারা ঢাকা বিভাগের।

একই সময়ে হামের উপসর্গে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনায় একজন করে মোট চার জন মারা গেছে। সিলেটে এই সংখ্যা দুজন। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৩৫৬ জন। আর নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৬৮ জন। মোট মৃত্যু ৪২৪ জন।

সাননিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 12 May 2026 11:38:48 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ছাড়াল ৪০০]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/114728" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/114728</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[দেশে হামের প্রাদুর্ভাব আরও উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ৫৫ দিনে সারা দেশে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০৯ জনে। একই সময়ে নতুন করে শত শত মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং পরিস্থিতি নতুন মাত্রা পেয়েছে বয়স্কদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায়।

রাজধানীতে কিছুটা সংক্রমণ কমলেও ঢাকার বাইরে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন, টিকা না নেওয়া, রোগীকে আইসোলেশনে না রাখা এবং অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধক্ষমতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

এদিকে হামে মৃত শিশুদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। একই সঙ্গে টিকাদান কর্মসূচি চললেও সামাজিক গুজব ও ভুল ধারণার কারণে এখনো অনেক অভিভাবক সন্তানদের টিকা দিচ্ছেন না, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নতুন করে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে আরও চার শিশুর মারা গেছে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও সাতজন। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে রোববার (১০ মে) পর্যন্ত ৫৫ দিনে সারা দেশে হাম আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৪০৯ শিশুর মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বুলেটিনে বলা হয়েছে, এদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ২৮২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর নতুন এ তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

সারা দেশে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ১৩৮ জন ঢাকায় মারা গেছে; আর ৭৮ জন রাজশাহী বিভাগের। এ ছাড়া বরিশালে ২৯, চট্টগ্রামে ২৭, ময়মনসিংহে ২৬, সিলেটে ২৪, খুলনায় ১৪ ও রংপুর বিভাগে ৪ জন মারা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২০৫ জন হাম আক্রান্ত হয়েছে; এই সময়ে এক হাজার ৫০৩ জন হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে; তাদের মধ্যে এক১ হাজার ২৭৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ১৫৬ জন ভর্তি হয়েছে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে। আর সবচেয়ে কম ৪৪ জন ভর্তি হয়েছে চট্টগ্রামে।

সারাদেশে গেল ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৪৯ হাজার ১৫৯ জন। এদের মধ্যে ছয় হাজার ৮১৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

নতুন উদ্বেগ, আক্রান্ত হচ্ছেন বয়স্করাও: ঢাকার দুই সিটিতে কমতে শুরু করেছে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। রাজধানীর ডিএনসিসি হাসপাতালের গত কয়েক দিনের তথ্যে দেখা গেছে এমন চিত্র। তবে বর্তমানে আক্রান্ত ও মৃত্যু বাড়ছে ঢাকার বাইরে। আক্রান্ত হচ্ছেন পরিবারের বয়স্ক সদস্যরাও। চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুর দেহে অন্য রোগের অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না করায় বাড়ছে উদ্বেগ।

চিকিৎসকরা বলছেন, বর্তমানে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের পরিবারের অন্য শিশু আক্রান্ত হয়েছিল কিছু দিন আগে। আক্রান্ত হচ্ছেন সেসব পরিবারের বয়স্ক সদস্যরাও। সেইসঙ্গে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিসটেন্স।

ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. আসিফ হায়দার বলেন, কোনো শিশু আক্রান্ত হলে তাকে আইসোলেট করা না হলে সবাই সেটায় সংক্রমিত হয়।

তবে কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছেন ডা. আসিফ হায়দার। তিনি জানান, এ হাসপাতালের বিগত কয়েক দিনের তথ্যে দেখা যায়, কমতে শুরু করেছে ঢাকার দুই সিটির রোগীর সংখ্যা। বাড়ছে ঢাকার বাইরের রোগী। ডা. আসিফ হায়দার বলেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন থেকে রোগী আসা কমেছে।

চলমান টিকা কার্যক্রমে কোনো শিশু বাদ পড়লে দ্রুত টিকা নেয়ার পরামর্শ চিকিৎসকদের। সেইসঙ্গে গর্ভবতী মা ও শিশুদের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিতের তাগিদ চিকিৎসকদের।

জানা যায়, বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় বর্তমান সরকার জরুরি টিকাদান কর্মসূচিসহ বেশ কিছু বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। চলমান টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত সারা দেশে এক কোটি ৭২ লাখ ৬৮ হাজার ৯০৮ জন শিশু হাম-রুবেলার টিকা পেয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ৯৬ শতাংশ।

সারা দেশের প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ শিশুকে এই কার্যক্রমের আওতায় টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট: হামে মারা যাওয়া প্রতিটি শিশুর পরিবারকে ২ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়েছে।

রোববার মানবাধিকার সংস্থা ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওসার ও মো. মাকসুদুর রহমান এ রিট আবেদন করেন।

এতে দেশের প্রতিটি জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসিইউ, পিআইসিইউ ও প্রয়োজনীয় রোগনির্ণয় সুবিধাসহ বিশেষায়িত হাম চিকিৎসা ইউনিট স্থাপনের জন্য নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি, ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চের প্রতিনিধিদের নিয়ে ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদন জানানো হয়েছে রিটে।

আদালতের অনুমতি নিয়ে বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশিস রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রিট আবেদন দাখিল করা হয়।

আবেদনে আরও প্রার্থনা করা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের মধ্যে সারাদেশে হাম ও জলাতঙ্কের টিকার মজুত, সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করে একটি হলফনামা দিতে বলার জন্যও আদালতের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে রিটে।

আবেদনে বিবাদী হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও আইইডিসিআরের পরিচালকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এখনো সন্তানদের টিকা দিচ্ছেন না কোনো কোনো অভিভাবক: শিশুরা ঠিকমতো টিকা না পাওয়ায় দেশে আবার হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরিভাবে দেশব্যাপী হামের টিকা দিচ্ছে সরকার। এরপরও শিশুদের সুরক্ষায় টিকা দিতে অনীহা জানাচ্ছেন কিছু অভিভাবক। এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন একজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

রোববার রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকার ৫১৬ নম্বর গাজী বস্তিতে গিয়ে এমন কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা হয়। সানোয়ার হোসেন নামে এক অভিভাবক বলেন, &lsquo;আমি অনেকগুলো ভিডিও দেখছি মোবাইলে যে অনেক দিকে বাচ্চারা মারা গেছে। চিটাগাং, খুলনার ওই দিকে আরকি, অনেক বাচ্চা মারা গেছে, অনেক দিকেই দেখছি। এই জন্য আমি টিকাটা দিতে আগ্রহী না আরকি।&rsquo; এ কারণে সাত মাস বয়সী শিশুসন্তান আয়েশা মনিকে টিকা দেননি বলে জানালেন তিনি।

সানোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা বলা শেষ হওয়ার মুহূর্তে বাসায় আসেন তার স্ত্রী পলি আক্তার। তিনিও বলেন, সন্তান অসুস্থ হবে- এই ভয় থেকে আয়েশাকে টিকা দেননি। পলি আক্তার বলেন, &lsquo;অনেক মাইনষে কয়, টিকা দিলে বাচ্চা অসুস্থ হয়ে যায়, এ জন্য দিছি না।&rsquo;

গাজী বস্তিতে প্রায় একশ পরিবার বসবাস করে। সুমাইয়া বেগম (২০) নামে আরেক অভিভাবক বলেন, টিকা দিলে সাইড ইফেক্ট (পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া) হয়, সে জন্য নিজের দেড় বছর বয়সী সন্তান ইসরাত জাহান ও ৪ বছর বয়সী ইব্রাহিমকে হামের টিকা দেননি।

ইসরাত মাঝেমধ্যে অসুস্থ থাকায় টিকা দিতে তার বাবা জাহিদ হোসেন নিষেধ করেছেন বলেও জানান সুমাইয়া আক্তার। টিকা না পাওয়া অনেক শিশু হামে আক্তান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে- এটা জানেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে এই নারী বলেন, &lsquo;ভয় তো কিছুটা আছে। যেহেতু বাচ্চার বাবা না করতেছে, তাই এখন তো আর দিতে পারমু না। এখনো টিকা দিতে না করতাছে।&rsquo;

শিশু আদিল হাসানের (৫) শরীরে চর্মরোগ থাকায় তাকে হামের টিকা দেননি বলে জানান শিশুটির মা হালিমা বেগম। তিনি বলেন, &lsquo;ভাবছি, টিকা দিলে যদি আবার চুলকানি বেড়ে যায়। সে জন্য আর দেওয়া হয়নি।&rsquo; হামে শিশুদের মৃত্যু দেখে কোনো ভয় কাজ করছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, &lsquo;না, তেমন ভয় নেই।&rsquo;

টিকা নিয়ে তাদের এই ভুল ধারণায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন, &lsquo;টিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের ভুল ধারণা থাকাটা স্বাভাবিক। কারণ, যে অভিভাবকেরা পত্রিকা পড়েন না, টেলিভিশন দেখেন না তাঁদের না জানাটা দোষের কিছু না। সরকারের দায়িত্ব হলো জনগণকে জানানো। এই সচেতনতা তৈরির জন্য শিক্ষক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, ধর্মীয় নেতাদের দিয়ে সরকারকে প্রচারণা চালাতে হবে।&rsquo;

সাননিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 10 May 2026 17:40:52 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[হাম ও উপসর্গে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু ]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/114704" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/114704</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা) দেশে আরও নয় শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে তিন শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের উপসর্গ ছিল ছয় শিশুর। এ পর্যন্ত মোট ৩৫২টি শিশুর মৃত্যু হলো।

এ সময়ে সারা দেশে আরও ৯৪৬ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আর গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৮৯ শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৪৩৫ শিশু।

হাম শনাক্ত হয়ে বরিশালে তিন শিশু মারা গেছে। আর হামের উপসর্গে ঢাকায় তিন, খুলনায় দুই ও সিলেটে এক শিশু মারা গেছে।

শনিবার (৯ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ২৯১ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৬১ শিশু। এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৩৫২ শিশুর মৃত্যু হলো।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৪৭ হাজার ৬৫৬ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৩ হাজার ৬৩১টি শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরেছে ২৯ হাজার ৭৪৬ শিশু।

গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে ৬ হাজার ৯৭৯ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

সাননিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 09 May 2026 10:33:55 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[হাম ও এর উপসর্গে আরও ১২ শিশুর মৃত্যু]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/114668" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/114668</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা) দেশে আরও ১২ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে এক শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের উপসর্গ ছিল ১১ শিশুর।

এ সময়ে সারা দেশে আরও এক হাজার ২৩৮ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

হাম শনাক্ত হয়ে শিশুটি ঢাকায় মারা গেছে। আর হামের উপসর্গে বরিশালে একজন, ঢাকায় পাঁচ জন, খুলনায় এক জন, ময়মনসিংহে এক জন, রাজশাহীতে দুই জন ও সিলেটে এক জন মারা গেছে।

এর আগে ৪ মে হাম ও হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। বৃহস্পতিবার (৭ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ২৭৯ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৫৭ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৪৫ হাজার ৪৯৮ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩১ হাজার ৯১২ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ২৮ হাজার ২৩৮ শিশু বাড়ি ফিরেছে।

সাননিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 07 May 2026 11:40:53 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/114648" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/114648</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[দেশে হাম ও হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা এখনো বেড়েই চলেছে। সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ শিশু মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে, আর দুই শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এ নিয়ে গত ৫২ দিনে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২৪। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৬৮টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, আর ৫৬টি শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বুধবার (৬ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এই হিসাব মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল আটটা থেকে বুধবার সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ের। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে যে ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ২ শিশু চট্টগ্রাম বিভাগের, ২ রাজশাহীর। এ ছাড়া সিলেট, খুলনা ও বরিশালে একটি করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশের আট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ৫৪টি শিশু। এ সময়ে হাম শনাক্ত হয়েছে ৩৭৩টি শিশুর। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৮২টি শিশু সিলেট বিভাগের আর ১২২টি ঢাকা বিভাগের। অন্যদিকে ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৮৫৫ জন হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছে।

এদিকে, সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসসের খবরে বলা হয়েছে, হাম-রুবেলা, ওরাল পোলিওসহ ১০ ধরনের টিকার নতুন চালান দেশে পৌঁছেছে। বুধবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই নতুন চালান এসেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে টিকার এই চালান গ্রহণ করেন।

এ উপলক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের কিছু সিদ্ধান্তের কারণে ইপিআই কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বর্তমান সরকার এটি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে ভ্যাকসিন ক্রয়ের সিদ্ধান্ত বাতিল করে সরাসরি ইউনিসেফের মাধ্যমে ভ্যাকসিন সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার এরই মধ্যে ৮৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ইউনিসেফকে প্রদান করেছে, যার মাধ্যমে ১০ ধরনের প্রায় ৯৫ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হচ্ছে। ৩ মে প্রথম চালানে ১৫ লাখের বেশি আইপিভি ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছায়। ৬ মে আরও ১৫ লাখ ডোজ এমআর এবং লাখ ডোজ টিডি ভ্যাকসিন এসেছে।

এদিকে, দেশে হামের টিকা নেওয়ার উপযোগী ৮১ শতাংশের বেশি শিশুর টিকাদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, &lsquo;হামের ক্ষেত্রে আমরা ৮১ শতাংশ টিকা কভার করেছি। বাকিটাও খুব শিগগির কভার করে ফেলবো। দ্রুত আমরা শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে কাজ করছি।&rsquo;

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের বিস্তার রোধে দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা এবং আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।

সাননিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 06 May 2026 15:52:48 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[হাম বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/114624" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/114624</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাংলাদেশে হামের পরিস্থিতি খুবই নাজুক আকার নিয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। সোমবার (৪ মে) হামে এক দিনে রেকর্ড ১৭ শিশুর মৃত্যু দেখে বাংলাদেশ। এ মৃত্যু বিগত ৫০ দিনে সর্বোচ্চ। এসব শিশুর মৃত্যুর জন্য স্পষ্টভাবেই ড. ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এরই মধ্যে নতুন তথ্য উঠে এসেছে হাম নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ। একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া।

তিনি বলেন, &lsquo;১৯৭৪ সালে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) আন্তর্জাতিকভাবে চালু হওয়ার পর থেকেই ইউনিসেফ তাদের কাজের কেন্দ্রে টিকাদানকে রেখেছে। এর উদ্দেশ্য ছিল, প্রতিটি শিশু সে যেখানেই থাকুক, যেন জীবনরক্ষাকারী টিকা পায়। বাংলাদেশে ১৯৭৯ সালে ইপিআই চালুর পর থেকেই ইউনিসেফ সরকারকে ব্যাপক কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছে। ইউনিসেফ বিশ্বব্যাপী সরকারগুলোর সঙ্গে কাজ করে, যাতে প্রতিটি শিশু জীবনরক্ষাকারী টিকা পায়।&rsquo;

এর জন্য তারা বৈশ্বিক ক্রয়ক্ষমতা, কারিগরি দক্ষতা এবং কমিউনিটি সম্পৃক্ততাকে একত্র করে। বাংলাদেশে এই অংশীদারি বড় বড় সাফল্য এনে দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পোলিও নির্মূল, নতুন টিকা চালু এবং ধারাবাহিকভাবে টিকাদানের উচ্চ হার।

ইউনিসেফের সহায়তায় বাংলাদেশে পূর্ণ টিকাদান কাভারেজ ১৯৮০ সালের ২ শতাংশ থেকে ২০২৩ সালে ৮২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, &lsquo;বাংলাদেশে ইউনিসেফ পোলিও নির্মূল, মাতৃ ও নবজাতকের টিটেনাস নির্মূল, হেপাটাইটিস বি নিয়ন্ত্রণ এবং এইচপিভি ও টিসিভি টিকার মতো নতুন টিকা চালু করতে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থাকে ব্যবহার করে স্কুলভিত্তিক পুষ্টি, পানি ও স্যানিটেশন (ওয়াশ) কার্যক্রমের সঙ্গে টিকাদান যুক্ত করে সমন্বিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। সংক্ষেপে শক্তিশালী সরকারি নেতৃত্ব, তথ্যভিত্তিক কৌশল, কমিউনিটির আস্থা, ইউনিসেফসহ অংশীদারদের সমন্বিত সহায়তার ফলে বাংলাদেশ গণটিকাদান দ্রুত সম্প্রসারণ করে প্রতিটি শিশুকে সুরক্ষার আওতায় আনতে পেরেছে।&rsquo;

স্ট্যানলি গুয়াতুইয়া বলেন, &lsquo;বিশ্বব্যাপী টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় ইউনিসেফ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইউনিসেফ শতাধিক দেশে প্রায় ৪৫ শতাংশ টিকা সরবরাহ করে। বাংলাদেশ সরকার-ইউনিসেফের একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তির আওতায় এই সহায়তা দিয়ে আসছে, যার ফলে সময়মতো, সাশ্রয়ী এবং সমতাভিত্তিকভাবে টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।&rsquo;

২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার ৫০ শতাংশ টিকা ওপেন টেন্ডার মেথডে (উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি) কেনার বিষয়টি বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেয়। ইউনিসেফ ও তাদের অংশীদারেরা তখন উদ্বেগ জানায় যে এই প্রক্রিয়ায় সামগ্রিক ক্রয়প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত বিলম্বিত হতে পারে। এসব উদ্বেগ সত্ত্বেও উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে এগোনোর সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। দুঃখজনকভাবে, এ সিদ্ধান্তের ফলে টিকা সংগ্রহে বিলম্ব ঘটে। ২০২৫ সালে ইউনিসেফ আগাম অর্থায়নের ব্যবস্থা করে টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ নিশ্চিত করে, যাতে তীব্র সংকট মোকাবেলা করা যায়। এর ফলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কিছু টিকার মজুদ বজায় রাখা সম্ভব হয়।

তবে কিছু টিকার ক্ষেত্রে এর আগেই মজুদ শেষ হয়ে যায় এবং কিছু টিকার ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঘাটতি দেখা দেয়। অর্থছাড়ে বিলম্ব এবং ক্রনঃপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাবে টিকা সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হয়। কারণ, উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ সম্পন্ন করা যায়নি এবং অন্তর্বর্তী সরকার ইউনিসেফকে বরাদ্দ দেওয়া অর্থও ছাড় করতে পারেনি।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইউনিসেফ ও অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে মার্চ মাসে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি বাতিলের নির্দেশ দেন। এরপর এপ্রিলে আবার ইউনিসেফের মাধ্যমে আগের পদ্ধতিতে টিকা সংগ্রহে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

স্ট&zwj;্যানলি গুয়াকুইয়া আরও বলেন, &lsquo;সরবরাহে বিঘ্ন এড়াতে ইউনিসেফ একটি বিশেষ প্রিফাইন্যান্সিং ব্যবস্থা বজায় রাখে, যার মাধ্যমে সরকার অর্থছাড়ে বিলম্ব হলে তা সাময়িকভাবে পূরণ করা যায়। এ জন্য ইউনিসেফ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে, যাতে টিকার মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়ানো যায় এবং টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০২৫ সালে ইউনিসেফ প্রায় ১৮ মিলিয়ন (এক কোটি ৮০ লাখ) মার্কিন ডলার আগাম অর্থায়ন করেছে। এ ছাড়া ২০১৭-১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে প্রায় ২০ মিলিয়ন (দুই কোটি) ডলার ব্যয় করা হয়েছে টিকা সরবরাহ বজায় রাখতে।&rsquo;

সাম্প্রতিক হাম প্রাদুর্ভাবের সময় ইউনিসেফের সদর দপ্তর তাদের বৈশ্বিক জরুরি সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থার মাধ্যমে অতিরিক্ত কারিগরি দক্ষতা ও জরুরি তহবিল জোগাড় করে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য অংশীদার ও দাতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে জাতীয় পর্যায়ে হাম মোকাবেলা এবং এ ধরনের জরুরি পরিস্থিতির জন্য অতিরিক্ত সম্পদ নিশ্চিত করা হয়।

তিনি বলেন, ইউনিসেফ ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটসহ ইউরোপ, জাপান ও এশিয়ার বিভিন্ন প্রস্তুতকারকের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি বজায় রাখে, যারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত টিকা উৎপাদন করে। এসব ব্যবস্থার আওতায় ১৯৭৯ সালে ইপিআই কর্মসূচি শুরুর পর থেকেই ইউনিসেফ সরাসরি এসব প্রস্তুতকারকের কাছ থেকে টিকা সংগ্রহ করে আসছে, যাতে গুণগত মান, নির্ভরযোগ্যতা এবং সর্বনিম্ন দামে সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়। অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া ক্রয়সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং এয় নীতিমালা পরিবর্তনের ফলে টিকা সরবরাহব্যবস্থায় কীভাবে প্রভাব পড়ে এবং টিকার ঘাটতি তৈরি হয়, তা আগেই আমি বলেছি।

ইউনিসেফের এই প্রতিনিধি বলেন, হামের রোগীর তথ্য প্রকাশে বিলম্ব বাংলাদেশের রোগ নজরদারি প্রতিবেদনব্যবস্থার বড় দুর্বলতাটি তুলে ধরে। বর্তমান প্রাদুর্ভাবের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ক্রয়সংক্রান্ত জটিলতার কারণে টিকার ঘাটতি, রোগ নজরদারির বিলম্বিত প্রতিবেদন এবং জনগোষ্ঠীর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়া। এর সঙ্গে আরও যুক্ত হয়েছে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় ধাপ পরিচালনা করতে না পারা।

২০২৬ সালের মার্চের শেষ দিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ইউনিসেফ আনুষ্ঠানিকভাবে হাম রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির তথ্য পায়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সম্ভাব্য একটি ক্যাম্পেইনের জন্য ইউনিসেফ ২০২৫-এর সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এই হামের টিকা সংগ্রহ করে রেখেছিল। মার্চের শেষ দিকে পরিস্থিতি জানার পর ইউনিসেফ-দ্রুত এমআর (হাম-রুবেলা) ক্যাম্পেইন শুরুর পক্ষে জোরালোভাবে অবস্থান নেয়, যা শেষ পর্যন্ত গত এ এপ্রিল শুরু হয়।

ষ্ট্যানলি গুয়াভুইয়া আরো বলেন, ইউনিসেফ একাধিকবার অন্তর্বর্তী সরকারের উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছে এবং প্রতিটি বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে টিকার সম্ভাব্য ঘাটতি, রোগের প্রাদুর্ভাব, জটিলতা বৃদ্ধি এবং মৃত্যুহারের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে।

সাননিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 05 May 2026 06:14:09 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[হাম ও উপসর্গে আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/114609" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/114609</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[হাম ও হামের উপসর্গে দেশে শিশুমৃত্যু উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা গত ৫০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ নিয়ে দেড় মাসের কিছু বেশি সময়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১১-এ, যার মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মারা গেছে ৫২ শিশু এবং উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ২৫৯ শিশু। একই সময়ে হাজারের বেশি নতুন শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হওয়া এবং শত শত শিশুর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে স্পষ্ট করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কর্মসূচির ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়া, টিকা সংগ্রহে বিলম্ব, পরিকল্পনাহীন নীতিগত পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্য খাতে সমন্বয়হীনতার কারণেই এই প্রাদুর্ভাব তীব্র আকার নিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (ডব্লিউএইচও) অপর্যাপ্ত টিকাকভারেজ ও দীর্ঘদিন সম্পূরক ক্যাম্পেইন না থাকার বিষয়টিকে সংকটের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্দোলন, জরুরি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় বিশেষ ক্যাম্পেইন না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ফলে নিয়ন্ত্রণে থাকা হাম আবার মহামারি রূপে ফিরে এসে দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে।

১৭ শিশুর মধ্যে ১৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। অপর দুই শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

সোমবার (৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। এই হিসাব রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের। অবশ্য এই ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ১৫ শিশুর মধ্যে দুটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে আগের দিন।

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে যে ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ১২টি শিশুই ঢাকা বিভাগের আর পাঁচটি শিশু চট্টগ্রাম বিভাগের। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ দেখা গেছে এক হাজার ৩০২টি শিশুর মধ্যে। তাদের মধ্যে ৬১৮টি শিশুই ঢাকা বিভাগের। এরপর আছে চট্টগ্রাম (১৯২), রাজশাহী (১৬৮) ও বরিশাল (১৩৩) বিভাগ। দেশের আট বিভাগে এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ২৬ জন। হামের উপসর্গ নিয়ে আট বিভাগে ভর্তি হওয়া এক হাজার ৬১ জন গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছুটিও পেয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতায় হামের প্রাদুর্ভাব: শিশুদের নিয়ম মতো টিকা দেওয়ায় একসময় হামের সংক্রমণ বিরল হয়ে পড়েছিল। কিন্তু চলতি বছর এই রোগের সংক্রমণ যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত ও অব্যবস্থাপনার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দরিদ্র দেশগুলোর জন্য একসময় উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচি সদ্য সাবেক এই সরকারের ১৮ মাসের আমলে কার্যত ভেঙে পড়ে।

টিকা কেনার পদ্ধতি ও অর্থায়নের উৎস পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়ায় পুরো প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। যা থেকে দেখা দেয় টিকার সংকট। শেষ পর্যন্ত টিকার মজুত একেবারে তলানিতে নেমে আসে। এর ধারাবাহিকতায় শুরু হয় হামের প্রাদুর্ভাব। এর সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্দোলন এবং কয়েক দফায় কর্মবিরতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

বিশেষজ্ঞরা টিকাদান কর্মসূচির আওতা কমে যাওয়ার বিষয়ে বারবার সতর্ক করলেও অন্তর্বর্তী সরকার তাদের পুরো মেয়াদে কোনো বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেনি। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি বা শেষ দিকে একটি বিশেষ হাম টিকাদান কর্মসূচি চালানোর কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে হাম ও রুবেলা (এমআর-১ ও এমআর-২) টিকার মজুত ফুরিয়ে যাওয়া, নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি এবং ২০২০ সালের পর থেকে দেশব্যাপী সম্পূরক ক্যাম্পেইন না হওয়াকে এ সংকটের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

সংকটের শুরু: ১৯৯৮ সাল থেকে স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত কর্মসূচি (এইচপিএনএসপি) বাস্তবায়ন করে আসছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। &lsquo;অপারেশন প্ল্যান&rsquo; (ওপি) নামে পরিচিত এই কর্মসূচির আওতায় স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি, টিকাদান ও পরিবার পরিকল্পনাসহ নানা কার্যক্রম পরিচালিত হতো।

এইচপিএনএসপির চতুর্থ ধাপ শেষ হয় ২০২৪ সালের জুনে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য এক লাখ ছয় হাজার ১০০ কোটি টাকার পঞ্চম ধাপের প্রস্তাব দিয়েছিল।
নথিপত্রে দেখা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির ৬০টি বৈঠক হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, এটাই হবে এই কর্মসূচির শেষ ধাপ। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে একটি &lsquo;এক্সিট প্ল্যান&rsquo; তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়।

কিন্তু তার বদলে ২০২৫ সালের মার্চে পুরো এইচপিএনএসপি বাতিল করে দেয় মন্ত্রণালয়। সিদ্ধান্ত হয়, টিকাদানসহ সব &lsquo;ওপি&rsquo;র অধীন থাকা সেবাকে সরাসরি সরকারের নিয়মিত কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সমন্বয় বাড়ানো ও অবকাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

একই সঙ্গে চতুর্থ ধাপের অসমাপ্ত কাজ শেষ করা এবং ওষুধ, টিকা ও অন্যান্য জরুরি সরঞ্জাম সরবরাহ অব্যাহত রাখতে কয়েকটি &lsquo;ব্রিজিং প্রকল্প&rsquo; নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

তবে এসব প্রকল্প অনুমোদনে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত অনুমোদনই মেলেনি। পরে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দিতেও কেটে যায় আরও কয়েক মাস। ফলে ক্রয়প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় নানা সেবা স্থবির হয়ে পড়ে।

শুধু টিকাই নয়, ওপি বাতিলের প্রভাবে দেশের ১৪ হাজারের বেশি কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সরবরাহ কমে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো মানুষ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগীদের বিনা মূল্যে ওষুধ দেওয়ার জন্য চালু ৪৫০টি এনসিডি কর্নারেও সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়।

তহবিল সংকটে অনেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে। কারণ, জ্বালানি ও চালকদের বেতন ওই কর্মসূচির অর্থ থেকেই দেওয়া হতো।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক রোগনিয়ন্ত্রণ পরিচালক অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বলেন, বহু পরীক্ষিত এই কর্মসূচি খামখেয়ালিভাবে বন্ধ করা উচিত হয়নি। তিনি বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও সরকার চাইলে সেগুলো সমাধান করতে পারত। কিন্তু পুরো কর্মসূচি হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, &lsquo;এক্সিট প্ল্যান কোথায় ছিল? সেটা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হলে পরিস্থিতি হয়তো এতটা খারাপ হতো না।&rsquo;

এমআর নির্মূলবিষয়ক জাতীয় যাচাই কমিটির চেয়ারম্যান ও এপিডেমিওলজিস্ট অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, অপারেশন প্ল্যান স্থগিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইন ডিরেক্টর ও প্রকল্প ব্যবস্থাপকদের কার্যক্রমও থেমে যায়। এতে জনবলের বড় শূন্যতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে সদর দপ্তরে মাত্র তিনজন কর্মকর্তা ছিলেন। এটাই ছিল সমস্যার বড় কারণগুলোর একটি।

তিনি আরও জানান, অপারেশন প্ল্যান না থাকায় এই প্রকল্পসংশ্লিষ্ট অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যায়। রাজস্ব বাজেটের অর্থ ব্যবহার করে নতুন ব্যবস্থায় যাওয়ার সময় নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পুরো খাতটি অপারেশন প্ল্যাননির্ভর থাকায় নতুন ব্যবস্থায় যেতে আন্তবিভাগীয় ব্যাপক সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কিন্তু তাতে যে এত সময় লাগবে, তা অন্তর্বর্তী সরকার আগে বুঝতে পারেনি।

তিনি বলেন, কর্মকর্তারা নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে অভ্যস্ত না হওয়া এবং নতুন উদ্যোগ নিয়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণেই মূলত বিলম্ব হয়েছে।

টিকা সংগ্রহে বিলম্ব: অপারেশন প্ল্যান বাতিল এবং ব্রিজিং প্রকল্প অনুমোদনে অনেক সময় লেগে যায়। অবশেষে ২০২৫ সালের আগস্টে ৮৪২ কোটি টাকা টিকা কেনার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এর আগে ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে (ডিপিএম) টিকা কিনত বাংলাদেশ। কিন্তু সেপ্টেম্বরে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়, অর্ধেক টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে এবং বাকি অর্ধেক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কেনা হবে। এ ছাড়া ইউনিসেফের সঙ্গে টিকার মূল্য নিয়ে দর-কষাকষি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

৩০ এপ্রিল প্রকাশিত সায়েন্স ডটঅর্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউনিসেফ এ পরিবর্তনের তীব্র বিরোধিতা করেছিল। বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স সায়েন্স ডটঅর্গকে বলেন, &lsquo;বিষয়টি খুবই হতাশাজনক ছিল।&rsquo; প্রতিবেদন মতে, তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে সে সময় বলেছিলেন, &lsquo;দোহাই লাগে, এটা করবেন না!&rsquo;

অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বলেন, &lsquo;বাস্তবতা হলো- টিকা সংগ্রহে বিলম্বের কারণে টিকাদানের আওতা ঠিকভাবে বজায় রাখা যায়নি, যার ফলেই এই প্রাদুর্ভাব। দায় যদি কাউকে নিতে হয়, তাহলে তা অন্তর্বর্তী সরকারের। তারা যথাযথ টিকাদান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে হার্ড ইমিউনিটি বা সমষ্টিগত সুরক্ষা তৈরি হয়নি।&rsquo;

অধ্যাপক সায়েদুর রহমান শুক্রবার এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, দীর্ঘদিনের টিকাদান কর্মসূচিতে সরকারের নিজস্ব সক্ষমতা তৈরি করা জরুরি ছিল। বাইরের উৎসের ওপর নির্ভরতা কমাতেই প্রতিযোগিতামূলক দামে টিকা কেনার চেষ্টা হয়।

ইউনিসেফের সতর্কবার্তা তিনি পেয়েছিলেন ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর, যখন পুরো প্রক্রিয়াই প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। ফলে তখন আর তা পর্যালোচনার পর্যাপ্ত সময় ছিল না।

হয়নি বিশেষ ক্যাম্পেইন: ২৩ এপ্রিল প্রকাশিত ডব্লিউএইচওর ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে &lsquo;অপর্যাপ্ত হার্ড ইমিউনিটি&rsquo;র মধ্যে এই প্রাদুর্ভাব ঘটছে। অর্থাৎ পর্যাপ্ত সংখ্যক শিশু টিকা পায়নি।

বাংলাদেশ একসময় হাম নির্মূলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছিল। ২০০০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে প্রথম ডোজের কভারেজ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। পরে ২০১২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজের আওতাও বাড়ে। এ সময় আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল।

২০২৩ সালে এমআর-১ টিকার মোট কভারেজ (ঠিক সময়ে ও বেঠিক সময়ে উভয় হিসাব মিলিয়ে) ছিল ১০০ দশমিক এক শতাংশ। ২০২৫ সালে তা নেমে আসে ৯২ দশমিক ৭৩ শতাংশে। একই সময়ে এমআর-২ কভারেজ ৯৮ দশমিক এক শতাংশ থেকে কমে দাঁড়ায় ৯০ দশমিক ৭৮ শতাংশে।

তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, প্রকৃত হার আরও কম। কারণ, স্বাস্থ্যকর্মীদের ধর্মঘট চলাকালে মাঠপর্যায়ে অনেক টিকাদান না হয়েও কাগজে-কলমে দেখানো হয়েছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, &lsquo;টিকাদানের হার কমে যাওয়ার বিষয়ে একাধিকবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।&rsquo;

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, আমাদের দেশে গ্রামের অনেক মানুষ আছে, যারা আইসোলেশন সম্পর্কে খুব ভালো জানেন না; একটু লক্ষণ দেখা দিলেই হাসপাতালে চলে আসছেন। তাই প্রতিটি হাসপাতালের মধ্যে হামের বিশেষায়িত ইউনিট করার নির্দেশনা দিয়েছি। এমনিতে দেশের যে ঘনবসতি, তাতে কোনো শিশুর মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা দিলে তাকে আলাদা রাখতে হবে। এসব কথা ওয়ান টু ওয়ান বলা কঠিন। তবে সেবার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টাই করছি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন বলেন, হামের এই অবস্থায় দেশে স্বাস্থ্যের বিষয়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করা প্রয়োজন, যাতে সবাই সবার মতো স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারে। কিন্তু সরকারের অনেকে মনে করেন, এটি করলে হয়তো কারো কারো ক্ষমতা কমে যাবে, তাই এটি না করে অলিখিত জরুরিভাবে সব কাজ করছে। মোটাদাগে আগুন লাগার পর নেভানোর কাজ যেভাবে হয়, সেভাবে হচ্ছে। তবে কোভিড পরবর্তী সময়েও আমরা মহামারিতে কীভাবে কাজ করতে হয়, সেটি শিখলাম না।

হামের এই পরিস্থিতি যেভাবে: চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশে হামের প্রকোপ দেখা দেয়। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ১৫ মার্চ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোগটি নিয়ে পরিসংখ্যান ও তথ্যউপাত্ত সংরক্ষণ শুরু করে। ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুসারে, ২০০৫ সালে ২৫ হাজারের বেশি শিশু আক্রান্ত হয়েছিল এবং ১০০ জনের বেশি শিশু মারা গিয়েছিল। এরপর আর এত বেশি শিশু আক্রান্ত বা মৃত্যু কোনো বছরই হয়নি।

ইপিআই কর্মকর্তা, জনস্বাস্থ্যবিদ ও চিকিৎসকরা বলছেন, বিগত বছরগুলোতে পর্যাপ্ত টিকা না দেওয়া, শিশুদের মায়ের বুকের দুধ ঠিকমতো পান না করানো ও অপুষ্টির কারণেই নতুন করে হামের এ প্রকোপ দেখা দিয়েছে।

বিশেষ কমিটির সুপারিশ &lsquo;উপেক্ষা&rsquo;: হাম-রুবেলা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যে বিশেষ কমিটি রয়েছে, সেই ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কমিটি ফর মিজেলস অ্যান্ড রুবেলা এলিমিনেশন (এনভিসি) সবশেষ গঠিত হয় ২০১৭ সালে। অধ্যাপক মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বাধীন নয় সদস্যের এ কমিটি প্রাদুর্ভাবের মধ্যে গত ৮ এপ্রিল বৈঠক করে।

উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওই সভায় নেওয়া সুপারিশে বলা হয়, কোনো উপজেলায় রোগী শনাক্ত হলে সেখানে কোনো পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। বরং হামের লক্ষণ দেখা দিলে রোগীদের আইসোলেশনের ব্যবস্থা করতে হবে। সেটি প্রাথমিকভাবে বাড়িতে এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিতে হবে।

এরপর ১২ এপ্রিল এনভিসির সঙ্গে যৌথসভা করে টিকাবিষয়ক সর্বোচ্চ কারিগরি কমিটি ন্যাশনাল ইমুনাইজেশন অ্যান্ড টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজারি গ্রুপ (নাইট্যাগ)। এ সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, নাইট্যাগ চেয়ারপারসন ফিরদৌসী কাদরী।

সভায় নেওয়া দুই সুপারিশে বলা হয়, এনভিসির সুপারিশের সঙ্গে নাইট্যাগ একমত প্রকাশ করছে। অন্যটিতে বলা হয়, শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, রোগতত্ত্ববিদ, ভাইরাস বিশেষজ্ঞ, ল্যাবরেটরি বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট অন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করতে হবে। এ কমিটির কাজ হবে রোগ শনাক্তের অগ্রাধিকার ঠিক করা এবং প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নির্দেশনা দেওয়া।

এ সভার দুই সপ্তাহ পর গত ২৭ এপ্রিল বিশেষ কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে সদস্যদের এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন কমিটির একজন সদস্য।

এনভিসির চেয়ারপারসন অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, হাম মোকাবিলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টিকাদান শুরু হয়েছে। তবে টিকাদানের পাশাপাশি হাম মোকাবিলার জনস্বাস্থ্যবিধির বহুল প্রচার দরকার ছিল, সেটা হয়নি।

ইপিআই কর্মকর্তারা বলছেন, স্বাস্থ্য বিষয়ে কথা বলায় সম্প্রতি একাধিক কর্মকর্তাকে ওএসডি হয়েছে। টিকা, স্বাস্থ্যসহ সব বিষয়ে কথা বলার বিষয়ে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

শিশু হাসপাতালের পরিচালক মাহবুবুল বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসরণ করেই শিশুদের চিকিৎসা দিচ্ছি। শিশুদের ইমিউনিটি বাড়ানোর জন্য ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্টসহ অন্যান্য কিছুই দিচ্ছি।

একাধিক টিকার মজুদ শেষ: ইপিআই কর্মকর্তারা বলছেন, দুই কোটি ১৯ লাখ ডোজ হামের টিকা (এমআর) দিয়ে এবারের চলমান টিকাদান কর্মসূচি &lsquo;ভালো ভাবেই&rsquo; শেষ হবে। কারণ এক কোটি ৮০ লাখের কিছু বেশি সংখ্যক শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল রোববার বলেছেন, লক্ষ্যমাত্রার ৮১ শতাংশ শিশু হামের টিকার আওতায় এসেছে। এখন এক্ষেত্রে কোনো &lsquo;ঘাটতি&rsquo; বা &lsquo;দুর্বলতা&rsquo; নেই।

তবে এর মধ্যে বেশ কিছু টিকার মজুদ ফুরিয়ে গেছে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) গত ১৬ এপ্রিলের তথ্য অনুসারে, পেন্টাভ্যালেন্ট, ওপিভি বা ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন, পিসিভি বা নিউমোকক্কাল কনজুগেট ভ্যাকসিন, এমআর বা মিজেলস অ্যান্ড রুবেলা ভ্যাকসিন (পাঁচ ডোজ), বিসিজি বা ব্যাসিলাস ক্যালমেট-গুয়েরিন টিকা ও টিডি বা টিটেনাস অ্যান্ড ডিপথেরিয়া- এই ছয় ধরনের টিকার মধ্যে প্রথম চারটির মজুদ শূন্য। শেষ দুটিরও মজুদ একেবারেই তলানিতে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ছয় ধরনের টিকাসহ অন্তত ১০ ধরনের টিকার বড় চালান শিগগিরই আসছে। মঙ্গলবার একটি কার্গো ফ্লাইটে এসব টিকা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

সাননিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 04 May 2026 17:06:35 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[হাম ও এর উপসর্গে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/114592" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/114592</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[হাম ও এর উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা) দেশে আরও ১০ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে এক শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের উপসর্গ ছিল নয় শিশুর।

এ সময়ে সারা দেশে আরও এক হাজার ১৬৬ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। হাম শনাক্ত হয়ে শিশুটি ঢাকায় মারা গেছে। আর হামের উপসর্গে বরিশালে দুই, চট্টগ্রামে এক, ঢাকায় চার, খুলনায় এক ও সিলেটে এক শিশু মারা গেছে।

রোববার (৩ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ২৪৪ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৫০ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৪০ হাজার ৪৯১ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৭ হাজার ৮১৬ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ২৪ হাজার ৯০ শিশু বাড়ি ফিরেছে।

গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে ৫ হাজার ৩১৩ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

সাননিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 03 May 2026 11:28:51 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ইউনিসেফকে উপেক্ষা করে টিকা ক্রয় পদ্ধতি বদল অন্তর্বর্তী সরকারের]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/114568" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/114568</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাংলাদেশে টিকার সংকট ও টিকাদান কর্মসূচি ব্যাঘাতের কারণে হামের প্রকোপ হয়েছে। মার্চের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত ৩২ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এবং ২৫০ জনের বেশি মারা গেছে, যাদের অধিকাংশই শিশু।

আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব সায়েন্সের বৈজ্ঞানিক গবেষণাভিত্তিক ওয়েবসাইট সায়েন্সের এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে।

গত মার্চের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত ৩২ হাজারের বেশি আক্রান্ত হয়েছে এবং ২৫০ জনের বেশি মারা গেছে, যাদের অধিকাংশই শিশু।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে অসংখ্য শিশুকে চিকিৎসা দিতে নিয়ে যাওয়া হয়, যাদের অনেকে শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। বেডসংকট থাকায় অনেক শিশুকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাম একসময় প্রায় নির্মূল হয়ে গেছে, বিজ্ঞানীরা এটা মনে করলেও এটি আবার ফিরে আসছে। কানাডা ও বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশে সম্প্রতি তাদের &lsquo;হাম-মুক্ত&rsquo; মর্যাদা হারিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেই এ বছর এক হাজার ৭০০ জনের বেশি হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। ২০ বছর আগেও এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১০০। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকাতেও হামের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে।

সায়েন্স জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, টিকা নিতে অনীহা, করোনা মহামারির সময় টিকাদান কার্যক্রমে ব্যাঘাত ও যুদ্ধের কারণে হাম আবার ফিরে আসছে।

২০২৪ সালে বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর টিকা কেনার ক্ষেত্রে অচলাবস্থা তৈরি হয়। সেখান থেকেই হাম মহামারির ভয়াবহ বিপর্যয় শুরু হয় বলে উল্লেখ করেছে সায়েন্স জার্নাল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সময় দেশজুড়ে টিকার তীব্র সংকট তৈরি হয় এবং টিকাদানের হার কমে যায়।

অপুষ্টি ও দুর্বল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার কারণে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা আরো বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মর্মান্তিক ঘটনা তুলে ধরেছে যে জনস্বাস্থ্যের অগ্রগতি কত দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশে ৯ ও ১৫ মাস বয়সে শিশুদের হাম-রুবেলা টিকার দুটি ডোজ দেওয়া হয়। সারা দেশের ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যে প্রতি চার বছর পর পর দেশব্যাপী এ কর্মসূচি চালানো হয়।

ইউনিসেফ এই টিকা সরবরাহ করত, যার অর্থায়ন আসত মূলত বিশ্বজুড়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে পরিচালিত টিকার জোট &lsquo;গ্যাভি&rsquo; ও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে। কিন্তু টিকা সরবরাহ পদ্ধতিতে একটি &lsquo;বিতর্কিত&rsquo; পরিবর্তন এনেছিল অন্তর্বর্তী সরকার।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ বন্ধ করে দিয়ে &lsquo;উন্মুক্ত দরপত্র&rsquo; পদ্ধতি চালু করে। ইউনিসেফ এই পরিবর্তনের তীব্র বিরোধিতা করে সতর্ক করে বলেছিল, এই পদ্ধতি টিকাদান ব্যবস্থা ব্যাহত করতে পারে এবং মহামারির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স সায়েন্স জার্নালকে বলেন, বিষয়টি খুবই হতাশাজনক ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে অনুরোধ করেছিলাম যেন এটি না করা হয়।

ওই দরপত্র প্রক্রিয়া আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে যাওয়ায় টিকার মজুদ ফুরিয়ে যায় এবং নিয়মিত টিকাদান বন্ধ হয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। হাম-রুবেলা টিকাদানের সম্পূরক কর্মসূচি ২০২৪ থেকে পিছিয়ে ২০২৫ সালে নেওয়া হয়। একটি সম্পূরক কর্মসূচি বাতিলও করা হয়।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়ে তা খুবই দ্রুত ৫৪ জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। এরপর অন্তত ২১ হাজারের বেশি মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। গত ২৩ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে জানায়, মায়ানমারে যুদ্ধের কারণে টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়েছে এবং ভারতে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ার যথেষ্ট ঝুঁকি আছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, হামের এই প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশে হাম নির্মূলে আগের অর্জিত সাফল্যকে নস্যাৎ করে দিচ্ছে। সরকারের একটি গবেষণা ইনস্টিটিউট আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এএসএম আলমগীর জানান, টিকার অভাবের পাশাপাশি ভিটামিন &lsquo;এ&rsquo; বিতরণ কর্মসূচি ৩ দফা বাদ পড়ায় শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা আরো কমে গেছে।

আইইডিসিআরের উপদেষ্টা মোহাম্মদ মুশতাক হোসাইন বলেন, টিকাদান ঘাটতির বাইরেও বাংলাদেশের হাম সংকট গভীর কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক বে-নজির আহমেদ বলেন, বর্তমানে হাম যে গতিতে ছড়াচ্ছে, তাতে জরুরি কর্মসূচি দিয়েও এই প্রাদুর্ভাব ঠেকানো সম্ভব না-ও হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, বর্তমান সরকার গত এপ্রিলে পুনরায় ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা কেনার পদ্ধতি চালু করেছে এবং ৫ এপ্রিল থেকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি টিকাদান শুরু হয়েছে।

হামের এই পরিস্থিতির জন্য ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকার উভয়কেই দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনা ই-মেইলের মাধ্যমে সায়েন্স জার্নালকে জানিয়েছেন, তার ১৫ বছরের শাসনামলে টিকাদান অগ্রাধিকার ছিল এবং বড় আকারে হামের প্রাদুর্ভাব হয়নি।

এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকা কেনায় ব্যর্থতা ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বিপ্লব কুমার দাস দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সায়েদুর রহমান দাবি করেছেন, পুরনো ক্রয় ব্যবস্থা জরুরি প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল এবং এর সংশোধন প্রয়োজন ছিল।

সায়েন্স জার্নালকে পাঠানো ই-মেইলে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার চেয়েছিল এটিকে ভবিষ্যতে নিয়মিত, নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রূপান্তর করতে, যেন স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন না ওঠে বা পক্ষপাতিত্বের ধারণা তৈরি না হয়।

আগের পদ্ধতিতে কী ভুল ছিল, প্রশ্নের উত্তর না দিলেও অধ্যাপক সায়েদুর শিশুদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেছেন, হামের মতো সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য রোগে শিশুদের মৃত্যু হৃদয়বিদারক।

সাননিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 02 May 2026 09:39:01 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/114564" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/114564</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[দেশে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশু মারা গেছে। তাদের মধ্যে দুজন ঢাকা এবং দুজন সিলেট বিভাগের।

শুক্রবার (১ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, আজ সকাল আটটা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে মোট ৪৯টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ২৩১ শিশুর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১১৫টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। আর এক হাজার ১৭০টি শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৪২টি শিশু। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে ৩৭০ জনই ঢাকা বিভাগের। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ৮৯৩টি শিশু এই সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সর্বোচ্চ ঢাকা বিভাগের ৩৬৪ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা গেছে মোট ৩৮ হাজার ৩০১টি শিশুর মধ্যে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৬ হাজার ১০০ শিশু। তাদের মধ্যে পাঁচ হাজার ১৪৬ জনের হাম শনাক্ত হয়। আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া রোগীর সংখ্যা ২২ হাজার ৬৫০।

এদিকে হামে প্রান্তিক পর্যায়ে চিকিৎসা সেবার ঘাটতি থাকায় রোগীরা বড় শহরে আসছেন। এর চাপ পড়ছে ঢাকাতেও।

হাসপাতালগুলো হিমশিম খাচ্ছে হাম আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে। যদিও এর মধ্যেই সারাদেশে হামের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে।

ইতোমধ্যেই টার্গেটের প্রায় ৬১ শতাংশ টিকা দেওয়া হয়ে গেছে। কিন্তু এরপরও হামের সংক্রমণ কমছে না, মৃত্যুও থামছে না। এর পেছনে অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, যদি ভালোমতো রোগীদের ম্যানেজ করা যেত, ঠিকমতো আইসোলেশন করা যেত, তাহলে দুটো কাজ হতো। একটা হলো আমরা রোগীর সংখ্যা কমাতে পারতাম। আরেকটা হলো মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে পারতাম।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মনে করছে, রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির হার এখন স্থিতিশীল। কারণ টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে এরকম স্থিতিশীল থাকলেই যে সংক্রমণ কমতে শুরু করবে সেরকমটা মনে করছেন না ডা. বে-নজীর আহমেদ।

&lsquo;টিকা দিয়ে প্রতিরোধে তো সময় লাগে। টিকা পেলে শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে সময় লাগে। এখানে পনের দিন বা এক মাস এরকমটা সময় লাগবে,&rsquo; বলেন তিনি।

বাংলাদেশে সবগুলো বিভাগে হাম ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতিকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে। কিন্তু এর বিপরীতে দেশটির স্বাস্থ্যসেবায় নানা দুর্বলতা স্পষ্ট হচ্ছে।

যার ফলে টিকা কার্যক্রম চললেও সামনের দিনগুলোতে, বিশেষ করে, মৃত্যু বাড়বে বলে সতর্ক করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ।

বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, সামনের দিনগুলোতে হামের সংক্রমণ কমলেও মৃত্যু বেড়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে আমরা আশা করি হামের সংক্রমণ কমে যাবে। কিন্তু মৃত্যু কমতে আমাদের আরো এক মাস সময় বেশি লাগবে। কারণ ইতোমধ্যেই যারা সংক্রমিত হয়ে যাবে, যাদের মধ্যে পুষ্টি কম বা আগে থেকে অন্যান্য রোগে ভুগছে, তারা গুরুতর পর্যায়ে চলে যাবে। ফলে এখন হয়তো মৃত্যু আমরা বাড়তির দিকে দেখবো।

সংক্রমণ কমাতে সরকার ইতোমধ্যেই সারাদেশে বিশেষ টিকা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বুধবার নাগাদ এক কোটি দশ লাখের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে এটা মোট টার্গেটের ৬১ শতাংশ।

সাননিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Fri, 01 May 2026 17:21:17 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ২৫ জানুয়ারির মধ্যে শেষ করতে হবে: ধর্ম মন্ত্রণালয়]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/114145" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/114145</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে হজযাত্রীদের টিকা নেওয়ার আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নির্ধারিত ১১ ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। এসব পরীক্ষার ভিত্তিতে তাদের টিকা নিতে হবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। এবার বাংলাদেশ থেকে প্রাথমিক নিবন্ধিত সাড়ে ৭৮ হাজার হজযাত্রী হজ পালন করতে পারবেন।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় গত ৬ জানুয়ারি হজযাত্রীদের টিকা গ্রহণের পূর্বে স্বাস্থ্য পরীক্ষা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের হজযাত্রীদের টিকা গ্রহণের আগে আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করতে হবে।

রিপোর্টগুলোর মধ্যে রয়েছে- Urine R/M/E, Random Blood Sugar (RBS), X-Ray Chest P/A view (রিপোর্টসহ), ECG (রিপোর্টসহ), Serum Creatinine, Complete Blood Count (CBC with ESR) ও Blood Grouping and Rh Typing।

এছাড়াও দুরারোগ্য ব্যাধি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) নির্ণয়ের জন্য আরও কিছু পরীক্ষা সম্পন্নের কথা বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- ১। সন্দেহজনক হৃদপিন্ডের অকৃতকার্যতার পরীক্ষা- Echocrdiography। ২।কিডনি জটিলতার ক্ষেত্রে- S. Creatinine, USG of KUB। ৩। সন্দেহজনক লিভার সিরোসিস রোগের ক্ষেত্রে- USG Whole abdomen, Endoscopy of upper GIT. ৪। দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ শনাক্তকরণে-Sputum for AFB, CTScan of chest, Serum bilirubin, SGPT, Albumin Globubin ratio।

হজযাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট ও ই-হেলথ প্রোফাইল কপি টিকা কেন্দ্রে মেডিকেল টিমের কাছে দাখিল করে টিকা গ্রহণ করে স্বাস্থ্য সনদ নিতে হবে।

যে কোনো তথ্যের জন্য হজের কল সেন্টার ১৬১৩৬ নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সাননিউজ/আরআরপি]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 10 Jan 2026 08:06:49 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[দালালের খপ্পরে ভালুকা উপজেলা হাসপাতাল, বাড়তি খরচে নাজেহাল রোগীরা]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/114072" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/114072</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। এতে সরকারি হাসপাতালের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনরা। বাড়তি অর্থ খরচ করে বাধ্য হচ্ছেন প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে। কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রধান ফটক, জরুরি বিভাগসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ওত পেতে থাকেন স্থানীয় কয়েকটি প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিয়োজিত দালালরা। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে কেউ কৌশলে সরে পড়েন, আবার কেউ রোগী বা রোগীর স্বজন সেজে অবস্থান নেন।

একাধিক রোগীর স্বজন অভিযোগ করে বলেন, সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও দালালদের প্ররোচনায় তাদের বাইরে পাঠানো হচ্ছে। ফলে বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা পাওয়ার কথা, তা না পেয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে প্রাইভেট ক্লিনিকে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী সরকারি দায়িত্ব পালনের চেয়ে নিজস্ব বা চুক্তিবদ্ধ প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী পাঠাতে বেশি আগ্রহী।

অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর হাসপাতালের সেবার মান আগের তুলনায় উন্নত করার চেষ্টা চলছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে এবং বর্তমানে হাসপাতালেই বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে, যা আগে রোগীরা পেতেন না।

তবে তিনি স্বীকার করেন, এই উপজেলার বিপুল জনসংখ্যার তুলনায় হাসপাতালে যে জনবল ও সরঞ্জাম বরাদ্দ আসে, তা পর্যাপ্ত নয়। সীমিত সম্পদের মধ্যেই সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দালাল চক্র ও অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সরকারি হাসপাতালের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে। তারা বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সাননিউজ/আরআরপি]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 04 Jan 2026 08:22:14 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[দালালের খপ্পরে ভালুকা উপজেলা হাসপাতাল, বাড়তি খরচে নাজেহাল রোগীরা]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/114071" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/114071</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। এতে সরকারি হাসপাতালের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনরা। বাড়তি অর্থ খরচ করে বাধ্য হচ্ছেন প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে। কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রধান ফটক, জরুরি বিভাগসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ওত পেতে থাকেন স্থানীয় কয়েকটি প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিয়োজিত দালালরা। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে কেউ কৌশলে সরে পড়েন, আবার কেউ রোগী বা রোগীর স্বজন সেজে অবস্থান নেন।

একাধিক রোগীর স্বজন অভিযোগ করে বলেন, সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও দালালদের প্ররোচনায় তাদের বাইরে পাঠানো হচ্ছে। ফলে বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা পাওয়ার কথা, তা না পেয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে প্রাইভেট ক্লিনিকে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী সরকারি দায়িত্ব পালনের চেয়ে নিজস্ব বা চুক্তিবদ্ধ প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী পাঠাতে বেশি আগ্রহী।

অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর হাসপাতালের সেবার মান আগের তুলনায় উন্নত করার চেষ্টা চলছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে এবং বর্তমানে হাসপাতালেই বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে, যা আগে রোগীরা পেতেন না।

তবে তিনি স্বীকার করেন, এই উপজেলার বিপুল জনসংখ্যার তুলনায় হাসপাতালে যে জনবল ও সরঞ্জাম বরাদ্দ আসে, তা পর্যাপ্ত নয়। সীমিত সম্পদের মধ্যেই সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দালাল চক্র ও অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সরকারি হাসপাতালের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে। তারা বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সাননিউজ/আরআরপি]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 04 Jan 2026 08:21:36 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[পুটিখালী কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবন ভেঙে পড়ার আশঙ্কা]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/113787" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/113787</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে দশ বছর ধরে পরিত্যক্ত পুটিখালী কমিউনিটি ক্লিনিকে চলছে কার্যক্রম। ভবন ধ্বংসের আতঙ্ক নিয়ে সেবা নিচ্ছেন রোগীরা। স্থানীয়দের দাবি&mdash;নতুন ভবন নির্মাণ করে গ্রামীণ জনপদের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার পুটিখালী ইউনিয়নের গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে পুটিখালী কমিউনিটি ক্লিনিক কেন্দ্রটির ভবন ১৯৯৭ সালে নির্মিত হয়ে সেখানে চলছে প্রত্যন্ত গ্রামের সাধারণ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম।

জনগুরুত্বপূর্ণ এ কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে পুটিখালীর সীমান্তবর্তী দৈবজ্ঞহাটি ও বলইবুনিয়া&mdash;৩টি ইউনিয়নের ৮ গ্রামের প্রায় ৮/১০ হাজার মানুষ এখান থেকে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করে থাকে।

বিগত ১০ বছর ধরে ক্লিনিকের ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায়; মূল ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ে বেরিয়ে আছে পিলারের কংক্রিটের রড। ছাদে বড় বড় ফাটল ধরে সামান্য বৃষ্টিতে পানি পড়ে কেন্দ্র পরিচালক সিএইচসিপির অফিস কক্ষসহ রোগীসেবা কক্ষগুলো পানিতে তলিয়ে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা শিশু, বৃদ্ধ ও নারীরা। মূল ভবনটি এখন নিজেই রোগাক্রান্ত হয়ে কোনো মতে দাঁড়িয়ে রয়েছে জীর্ণশীর্ণভাবে। রোগীরা কেন্দ্রে সেবা নিতে এসে থাকছেন সার্বক্ষণিক ভবন ধ্বংসের আতঙ্কে। কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএইচসিপি তিনিও ঝুঁকি নিয়ে এ কেন্দ্রে সেবা দিচ্ছেন।

মঙ্গলবার এ কেন্দ্রে সেবা নিতে আসা পুটিখালী গ্রামের বৃদ্ধ বেলায়েত মাঝি, হারুন হাওলাদার, মিরাজ শেখসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, বিগত ১০ বছর ধরে ভবনটির এরকম দুরবস্থা&mdash;এর কি কোনো পরিবর্তন হবে না? এগুলো দেখার কি কেউ নেই? সরকারের কাছে দাবি&mdash;এখানে একটি নতুন ভবন নির্মাণ করে গ্রামের মানুষ যেন স্বাচ্ছন্দ্যে স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারে, তার ব্যবস্থা করা।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাসুদ আলম হাওলাদার, সাবেক মেম্বার বাচ্চু সেখ, কবির আহম্মেদ ও পুটিখালী ইউনিয়ন ইসলামী আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নান খান বলেন, এ কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনটি যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে&mdash;এর আগে স্বাস্থ্য দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজরদারিতে নিয়ে এখানে নতুন ভবন নির্মাণ করে জনগুরুত্বপূর্ণ এ কেন্দ্রটি সচল রাখার জোর দাবি জানাচ্ছি।

পুটিখালী কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএইচসিপি আল আমীন হাওলাদার বলেন, কেন্দ্রটিতে রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকি। নিজ অর্থায়নে একবার কোনো রকম সংস্কার করে কিছুদিন মূল কক্ষে বসে রোগী দেখেছি। এখন বারান্দায় বসে কার্যক্রম পরিচালনা করছি।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি বলেন, পুটিখালী কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনটি দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত&mdash;এ বিষয়টি ইতিমধ্যে জেলা সিভিল সার্জন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন দপ্তরে লিখিত চিঠির মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের পরবর্তী ব্যবস্থার অপেক্ষায় আছি।

সাননিউজ/আরপি]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 07 Dec 2025 14:43:16 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[মুন্সীগঞ্জে টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ৪ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/113746" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/113746</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[মুন্সীগঞ্জে দশম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত টানা ৪ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেছেন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা। মুন্সীগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এ কর্মবিরতি পালিত হয়।

তাদের এই কর্মবিরতির কারণে সেবা নিতে আসা হাসপাতালের রেডিওলজি, প্যাথলজি&ndash;সহ বিভিন্ন সেবায় রোগীদের লাইন দেখা যায়। সেবা না পেয়ে অনেকে পড়েন চরম ভোগান্তিতে।

মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা জানান, দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা দশম গ্রেডের দাবি করে আসছেন। কিন্তু কোনো সরকারই তাদের দাবি বাস্তবায়ন করছে না। তাই তারা কর্মবিরতিতে গেছেন। দুই&ndash;এক দিনের মধ্যে তাদের দাবি আদায় না হলে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী কর্মবিরতির পর আগামীতে লাগাতার কর্মসূচি ও কমপ্লিট শাটডাউন করবেন বলে ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মো. শহিদুল ইসলাম, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব); মো. আব্দুস সালাম, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব); মো. শুকুর মাসুদ, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওলজি); মো. শহিদুল ইসলাম (ফার্মাসিস্ট) সহ অন্যান্য সদস্যরা।

সাননিউজ/আরপি]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 04 Dec 2025 08:27:45 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ঝালকাঠিতে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক ও পরিবার কল্যাণ সহকারিদের কর্মবিরতি]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/113741" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/113741</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[নিয়োগ বিধি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে ঝালকাঠিতে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক ও পরিবার কল্যাণ সহকারিরা কর্মবিরতি ও শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

বুধবার (০৩ ডিসেম্বর) ঝালকাঠি সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সামনে সকাল ৯টা থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।

নিয়োগ বিধি বাস্তবায়ন পরিষদ ঝালকাঠি জেলা শাখার সদস্য সচিব, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মামুন সিকদার জানান, আমরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। আমাদের নিয়োগ বিধি দ্রুত বাস্তবায়ন চাই। তা না হলে আমাদের আন্দোলন চলবে।

এতে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক ও পরিবার কল্যাণ সহকারীবৃন্দ অংশ নেন। এর কারণে মাতৃত্বকালীন সেবা, ভ্রাম্যমান ক্লিনিকের সেবা এবং পরিবার পরিকল্পনা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

সাননিউজ/আরপি]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 03 Dec 2025 13:38:55 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[অতি ব্যবহারের কারণে, ৪১ শতাংশ আইসিইউ রোগীর  শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিক্রিয়াহীন]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/113633" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/health/113633</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রোগীদের ৪১ শতাংশের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকারিতা হারাচ্ছে। অতিরিক্ত ও ভুল ব্যবহারের কারণে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সর্বশেষ &lsquo;জাতীয় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স সার্ভিলেন্স&rsquo; প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত ৯৬,৪৭৭ রোগীর নমুনা পরীক্ষা করে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের মধ্যে পাঁচ ধরনের জীবাণুর বিরুদ্ধে ৭১টি অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হলে মাত্র ৫টির কার্যকারিতা ৮০ শতাংশের বেশি ছিল। এছাড়া ৪১ শতাংশ রোগীর শরীরে প্যান-ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্স (পিডিআর) উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

ওয়াচ গ্রুপের অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার ৭৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯১ শতাংশে পৌঁছেছে। এই গ্রুপের ওষুধ অতিরিক্ত ব্যবহারে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। অধ্যাপক জাকির হোসেন হাবিব বলেন, এটি আইসিইউতে বড় ধরনের হুমকি। এছাড়া মাল্টিড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট (এমডিআর) জীবাণু আইসিইউ রোগীদের মধ্যে ৮৯ শতাংশে পাওয়া গেছে।

আইইডিসিআর পরামর্শ দিয়েছে, অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার আগে অবশ্যই কালচার ও সংবেদনশীলতা পরীক্ষা করা এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে হবে। এছাড়া ওষুধ ব্যবস্থাপনায় কঠোরতা বাড়ানো এবং হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য

বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক শেখ ছাইদুল হক জানান, অনেক মানুষ নিজেরাই ওষুধ খাচ্ছেন এবং অদক্ষ চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক নিচ্ছেন, যা সমস্যা আরও বাড়াচ্ছে। ডিজিএইচএসের হাসপাতাল পরিচালক আবু হোসেন মঈনুল আহসান বলেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চাপ থাকলেও পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ চলছে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বাড়লে রোগীদের চিকিৎসায় ব্যর্থতার হার, মৃত্যুঝুঁকি এবং চিকিৎসা ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

সাননিউজ/এও]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 25 Nov 2025 07:38:15 +0000</updated>
        </entry>
    </feed>
