<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<feed xmlns="http://www.w3.org/2005/Atom">
                        <id>https://www.sunnews24x7.com/feed/feature</id>
                                <link href="https://www.sunnews24x7.com/feed/feature"></link>
                                <title><![CDATA[Sunnews feature Feed]]></title>
                                <description>Sunnews Latest feature News Feeds</description>
                                <language>bn-BD</language>
                                <updated>Thu, 14 May 2026 17:26:44 +0000</updated>
                        <entry>
            <title><![CDATA[সূর্য থেকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী শিখা]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/114801" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/114801</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[সূর্য থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী সৌর শিখা পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। শক্তিশালী এই সৌর শিখার প্রভাবে উত্তর গোলার্ধের বিভিন্ন অংশে বেতার যোগাযোগে বিঘ্ন ও আকাশে চোখধাঁধানো মেরুজ্যোতি বা অরোরা দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই সৌর শিখার উৎস হলো সূর্যের এআর৪৪৩৬ নামক একটি সক্রিয় সানস্পট বা সৌর কলঙ্ক অঞ্চল। এই অঞ্চল বর্তমানে ঘূর্ণন প্রক্রিয়ায় সরাসরি পৃথিবীর দিকে মুখ করে অবস্থান করছে।

শক্তিশালী সৌর শিখার পাশাপাশি সূর্য থেকে একটি করোনাল মাস ইজেকশন নামের চার্জিত কণার মেঘও মহাশূন্যে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এই কণার মেঘটি পৃথিবীর পাশ দিয়ে আংশিকভাবে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবু এর সামান্য সংস্পর্শও পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে। সৌর শিখাটি মহাকাশ বিজ্ঞানের ভাষায় মাঝারি থেকে শক্তিশালী পর্যায়ের। সৌর শিখা থেকে নির্গত তড়িৎ-চুম্বকীয় বিকিরণ আলোর গতিতে ভ্রমণ করে থাকে।

সূর্য থেকে নির্গত হওয়া বিশাল চৌম্বকীয় কণার মেঘ বা সিএমই বর্তমানে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার বেগে মহাশূন্যে ছুটে চলছে। নাসার বিজ্ঞানীদের মতে, এই মেঘের বড় অংশটি হয়তো পৃথিবীর কক্ষপথের পেছন দিয়ে চলে যাবে। তবে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের সঙ্গে মেঘটির সংঘর্ষের আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদি এই কণাগুলো পৃথিবীর চৌম্বক মণ্ডলে আঘাত হানে, তবে তা ভূচৌম্বকীয় অস্থিরতা তৈরি করবে, যার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে মেরুজ্যোতির মাধ্যমে।

বিশাল চৌম্বকীয় কণার মেঘ যদি পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রকে স্পর্শ করে, তবে মেরুজ্যোতি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষিণ দিকে দৃশ্যমান হতে পারে। যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আকাশ পরিষ্কার থাকলে উত্তর স্কটল্যান্ডসহ যুক্তরাজ্যের উত্তরাঞ্চলে অরোরা দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও উত্তরের রাজ্যগুলোয় আবছা মেরুজ্যোতি দেখা যেতে পারে। বায়ুমণ্ডলে এই কণাগুলোর মিথষ্ক্রিয়ার ফলে আকাশে নরম সবুজ বা লাল রঙের ঢেউয়ের মতো আলো খেলা করতে পারে।

বর্তমানে বিভিন্ন দেশের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা চৌম্বকীয় কণার মেঘটির গতিপথ পর্যবেক্ষণ করছে। বর্তমান মডেল অনুযায়ী, খুব ভয়াবহ কোনো ভূচৌম্বকীয় ঝড়ের আশঙ্কা নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, সূর্য নিয়মিতভাবে এ ধরনের শক্তি নির্গত করে এবং পৃথিবী মাঝেমধ্যে সেই শক্তির পথেই অবস্থান করে। আপাতত বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই, তবে বেতার যোগাযোগে সামান্য গোলযোগ বা হালকা মেরুজ্যোতির ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

সাননিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 14 May 2026 17:26:44 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ভারতে বিরল ছত্রাক ‘আর্থ ম্যাঙ্গো’কে ঘিরে কৌতূহল]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/114722" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/114722</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ভারতের কেরলের পালক্কাদ জেলায় মাটির নিচে মাশরুমসদৃশ অদ্ভুত কাঠামোর সন্ধান পাওয়া গেছে। বর্তমানে বিজ্ঞানী, জীববৈচিত্র্য গবেষক ও ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায় আগ্রহীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে তা।

জেলার কারাকুরুসি গ্রামে চাষাবাদের জন্য মাটি খোঁড়ার সময় এক কৃষক মাটির নিচে মাশরুমসদৃশ অস্বাভাবিক কাঠামোগুলো খুঁজে পান। প্রাথমিকভাবে এগুলোকে খুব সাধারণ মনে হলেও, গবেষকেরা এগুলোকে স্ক্লেরোটিয়াম স্টিপিট্যাটাম নামের বিরল ভূগর্ভস্থ ছত্রাক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। স্থানীয় ভাষায় এটি নিলামাঙা বা আর্থ ম্যাঙ্গো নামে পরিচিত।

আর্থ ম্যাঙ্গো নামটি শুনলে মনে হতে পারে মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা কোনো হারানো ফল। কিন্তু বাস্তবে এটি একটি বিরল ছত্রাক যা মাটির পৃষ্ঠের নিচে গোপনে বৃদ্ধি পায়, বিশেষ করে উঁইপোকার ঢিবি বা উঁইপোকা সমৃদ্ধ এলাকায়। গবেষকদের মতে, ভারতে ভূগর্ভস্থ ছত্রাক নিয়ে খুব কম গবেষণা হওয়ায় এ ধরনের আবিষ্কার এখন বেশ বিরল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাধারণ মাশরুম মাটির ওপরে দৃশ্যমান হলেও, এই ছত্রাক মাটির নিচেই বিকশিত হয়। আর তাই ছত্রাকটি শনাক্ত করার পাশাপাশি প্রাকৃতিক অবস্থায় গবেষণা করা কঠিন। কেরলের বিভিন্ন অংশে ছত্রাকটি নিলামাঙা এবং চিতলকিঝাঙ্গু নামে পরিচিত। তবে এর আকৃতি ও মাটির নিচের অবস্থানের কারণেই একে মাটির আম বলা হয়। প্রকৃত আমের সঙ্গে এর কোনো উদ্ভিদতাত্ত্বিক সম্পর্ক নেই।

স্থানীয় লোকজ বা ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায় ছত্রাকটির ওষুধি গুণের কথা প্রচলিত থাকায় এটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ওই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের বিশ্বাস, এটি কাশি, সর্দি, পেটের সমস্যা, জন্ডিস, কানের ব্যথা ও শরীরের ব্যথার প্রতিকার হিসেবে কাজ করে।

তবে গবেষকেরা এই দাবিগুলোর বিষয়ে সতর্ক করেছেন। বর্তমানে এই ছত্রাক কোনো নির্দিষ্ট রোগ নিরাময় করতে পারে এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ অত্যন্ত সীমিত। তবু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছত্রাক অনেক সময় এমন জৈব-সক্রিয় উপাদান ধারণ করে, যা ওষুধশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পেনিসিলিনের মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিবায়োটিক মূলত ছত্রাক গবেষণা থেকেই এসেছে। সেই সম্ভাবনা থেকেই স্ক্লেরোটিয়াম স্টিপিট্যাটামের মতো বিরল প্রজাতি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষকদের মতে, এই ছত্রাকের সঙ্গে উঁইপোকাসমৃদ্ধ মাটির একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এটি এমন এলাকায় জন্মে যেখানে উঁইপোকার সক্রিয়তা বেশি। আর তাই ধারণা করা হচ্ছে, উঁইপোকা সম্ভবত ছত্রাক বৃদ্ধির জন্য উপযোগী মাটির পরিবেশ তৈরি করে অথবা ছত্রাকটি উঁইপোকার কলোনিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ভূগর্ভস্থ বাস্তুসংস্থানের ওপর কোনোভাবে নির্ভরশীল। এ ছাড়া কেরলের বর্ষা ও পরবর্তী সময়ে মাটির আর্দ্রতা এই ছত্রাকের বিকাশে বড় ভূমিকা পালন করে। প্রতিবছর পরিবেশগত অবস্থার পরিবর্তনের কারণে এই ছত্রাকের উপস্থিতি আগে থেকে অনুমান করা বা কৃত্রিমভাবে চাষ করা অত্যন্ত দুরূহ।

সাননিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 10 May 2026 07:51:38 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ত্যাগের আলোয় গড়া সফল মা নাসিমা নাসরিন]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/114711" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/114711</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[নিজের স্বপ্নকে বিসর্জন দিয়ে সন্তানের স্বপ্ন গড়ার নামই যেন মা। সেই সত্যের এক জীবন্ত উদাহরণ নাসিমা নাসরিন&mdash; একজন সংগ্রামী মা; যিনি অবিচল সাহস, ধৈর্য আর অগাধ ভালোবাসা দিয়ে গড়ে তুলেছেন তার দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ।

অভাব-অনটনে ঘেরা সংসার। প্রতিদিনের হিসাব মেলানোই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তবু সন্তানের পড়াশোনার ব্যাপারে কখনো আপস করেননি তিনি। মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে একসময় নিজের প্রিয় সোনার গয়না পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছে। সেই গয়না ছিল তার জীবনের স্মৃতি, ভালোবাসা&mdash; তবু সন্তানের ভবিষ্যতের কাছে সবকিছুই তুচ্ছ হয়ে যায় তার কাছে।

মায়ের সেই ত্যাগ আর অনুপ্রেরণায় মেয়ে অন্যা এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ অর্জন করে। এরপর ধাপে ধাপে এগিয়ে গিয়ে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে মাস্টার্স সম্পন্ন করে এবং বর্তমানে সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত।

অন্যদিকে, ছেলে অতনুও উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে নিজের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন।

এই দীর্ঘ পথচলায় নাসিমা নাসরিনকে পাড়ি দিতে হয়েছে অসংখ্য বাধা। সংসারের চাপ, আর্থিক সংকট, সমাজের কটু কথা&mdash;সবকিছুই ছিল তার নিত্যসঙ্গী। আমাদের এই অবস্থানে নিয়ে আসতে গিয়ে তিনি অনেক সময় নিজের সম্মানও বিসর্জন দিয়েছেন, তবু কখনো পিছু হটেননি। কারণ তার কাছে সবার আগে ছিল তার সন্তানদের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ&mdash;নিজের সব শখ-আহ্লাদ তিনি ত্যাগ করেছেন তাদের জন্য।

আজ তিনি গর্ব করে বলেন&mdash; তিনি সফল। কারণ তার দুই সন্তানই গ্র্যাজুয়েট, নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।

অসংখ্য দুঃখ-কষ্ট আর ত্যাগের আগুন পেরিয়ে আজ নাসিমা নাসরিন শুধু একজন মা নন&mdash;তিনি এক অনুপ্রেরণার নাম, এক অদম্য নারীর প্রতিচ্ছবি।

মায়ের ত্যাগ কখনো হারিয়ে যায় না&mdash;সন্তানের সাফল্যের মাঝেই তার প্রতিফলন ঘটে। সন্তানের স্বপ্ন পূরণেই যার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি&mdash; তিনি নাসিমা নাসরিন।

লেখক: সাংবাদিক।

সাননিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 10 May 2026 04:02:33 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[উট যেভাবে গরমেও বাঁচে ]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/114650" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/114650</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ সাধারণ ঘটনায় পরিণত হচ্ছে। এর মাঝেও মরুভূমির জাহাজখ্যাত উট প্রচণ্ড উত্তাপেও বেঁচে থাকে। এটি কীভাবে সম্ভব হয়; সেই প্রশ্ন অনেকের।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা আটলান্টিক ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা কোষীয় পর্যায়ে উটের এই তাপসহনশীলতার রহস্য উন্মোচন করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের তুলনায় উটের কোষ উচ্চ তাপমাত্রায় অনেক বেশি নমনীয় এবং স্থিতিশীল প্রতিক্রিয়া দেখায়।

বিএমসি জিনোমিক্স জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা ফলাফলে দেখা গেছে, স্বাভাবিক তাপমাত্রা এবং চরম তাপমাত্রা উভয় ক্ষেত্রেই মানুষের চেয়ে উটের কোষীয় সুস্থতার মান অনেক বেশি। মানুষের কোষগুলো তাপের প্রতি অত্যন্ত কঠোর এবং নিয়ন্ত্রিত প্রতিক্রিয়া দেখায়, যা প্রতিকূল অবস্থায় তাদের অভিযোজন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। অন্যদিকে উটের কোষীয় প্রতিক্রিয়া অনেক বেশি নমনীয় এবং সমন্বিত। এই নমনীয়তাই উটকে উচ্চ তাপমাত্রায় স্থির থাকতে সাহায্য করে। এ বিষয়ে বিজ্ঞানী ভ্যালারি ফোর্বস বলেন, গবেষণাটি জৈবিক ব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা সম্পর্কে আমাদের মৌলিক ধারণা বদলে দিয়েছে। জিনের অভিব্যক্তির পরিবর্তনশীলতা লক্ষ্য করে আমরা বুঝতে পারি, কেন কিছু প্রজাতি চরম প্রতিকূলতাতেও স্থির থাকে আর কেউ কেউ অসহায় হয়ে পড়ে।

প্রকৃতিতে টিকে থাকার জন্য প্রতিটি জীবকেই তার পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হয়। তাপমাত্রা এ ক্ষেত্রে একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। সামান্য তাপমাত্রার হেরফের কোষের ভিতরে থাকা জিনের কার্যক্রম এবং টিস্যুর সংবেদনশীলতাকে ওলটপালট করে দিতে পারে। এই প্রতিকূলতার মধ্যেও শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য রক্ষা করার ক্ষমতাকে বলা হয় হোমিওস্ট্যাসিস। বিজ্ঞানীরা উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে পাওয়া এক কুঁজবিশিষ্ট উট এবং মানুষের ওপর তুলনামূলক গবেষণা চালান। তারা মূলত স্কিন ফাইব্রোব্লাস্ট নামক কোষ নিয়ে কাজ করেন, যা টিস্যুর গঠন ঠিক রাখতে সাহায্য করে। গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল ভিন্ন ভিন্ন তাপমাত্রায় উট ও মানুষের জিনের কার্যকলাপে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা পর্যবেক্ষণ করা।

সাধারণত জিনের কার্যক্রম পরিবর্তনের গবেষণায় বিশাল ডেটাসেট এবং পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সীমিত নমুনা দিয়ে নিখুঁত ফলাফল পাওয়া কঠিন। এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে বিজ্ঞানীরা একটি নতুন মডেল তৈরি করেছেন। তারা কেবল জিনের কাজের উত্থান-পতন না দেখে, প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে সেই জিনের প্রতিক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বা সামঞ্জস্যতা লক্ষ করেছেন। যেসব জিন প্রতিকূল পরিবেশে স্থির থাকে বা আরও বেশি সমন্বিতভাবে কাজ করে, সেগুলোকেই শরীরের ভারসাম্য রক্ষার মূল কারিগর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্তন্যপায়ী প্রাণীদের তাপ মোকাবিলায় তিনটি প্রধান জিন গোষ্ঠীর অস্তিত্ব রয়েছে। কিছু জিন স্থিতিশীল থেকে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে, কিছু জিন বিশেষ পরিস্থিতিতে সক্রিয় হয় এবং তৃতীয় একটি দল বিশৃঙ্খল আচরণ করে, যা সিস্টেমের ওপর চাপের প্রতিফলন ঘটায়।

সাননিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 06 May 2026 17:34:52 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[সাগরের তলদেশে ভিডিও ধারণে খেলেন ‘কচ্ছপের চড়’]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/114612" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/114612</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[সমুদ্রের গভীরে অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন ভ্রমণবিষয়ক কনটেন্ট ক্রিয়েটর ক্রিস্টোফার চ্যাং। ভিডিও করার সময় তিনি একটি &lsquo;বেয়ারা&rsquo; কচ্ছপের মুখোমুখি হয়েছিলেন। চ্যাংয়ের ভাষায়, কচ্ছপটি এক পর্যায়ে তাকে হালকা করে &lsquo;চড়&rsquo; দেয়, তারপর শান্তভাবে চলে যায়। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে (ভাইরাল) পড়েছে।

চ্যাং বলেন, ভ্রমণের শুরুটা ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু হঠাৎ কোথা থেকে যেন একটি কচ্ছপ এসে আমার পিছু নেয়। সাধারণত সাগরের তলদেশে কচ্ছপকে আপন মনে সাঁতরে বেড়াতে দেখা গেলেও কচ্ছপটি ছিল ব্যতিক্রম। এটি বারবার আমার আশপাশে ঘুর ঘুর করছিল, যেন কিছু বলতে চায়।

চ্যাং প্রথমে ভেবেছিলেন এটি স্বাভাবিক আচরণ। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই বিষয়টি অদ্ভুত মনে হতে থাকে। কচ্ছপটি বারবার তার দিকে এগিয়ে আসছিল এবং দূর থেকে তাকিয়ে থাকছিল, যেন তাকে পর্যবেক্ষণ করছে। চ্যাংয়ের ভাষায়, কচ্ছপটি এক পর্যায়ে আমাকে হালকা করে &lsquo;চড়&rsquo; দেয়, তারপর শান্তভাবে চলে যায়।

চ্যাংয়ের মতে, সাগরতলে ভ্রমণের সময় বহুবার কচ্ছপের মুখোমুখি হলেও এমন আচরণ কখনো দেখেননি। এটা একেবারেই আলাদা ছিল।

ঘটনার ভিডিওটি ইতোমধ্যে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওর শিরোনামে লেখা হয়েছে, &lsquo;আমি কচ্ছপের চড় খেয়েছি।&rsquo;

ভিডিওর নিচে অনেকে মন্তব্য করেছেন। কেউ লিখেছেন, &lsquo;এটা তার জগৎ, আপনি বেশি শব্দ করছিলেন!&rsquo;

কচ্ছপের অনুমতি ছাড়া ভিডিও করায় সে বিরক্ত হয়েছে উল্লেখ করে আরেকজন লিখেছেন, এটা করার অধিকার তার আছে!

অপর এক মন্তব্যকারী নিজের একটি অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। তিনি লিখেন, &lsquo;আমি যখন সার্ফবোর্ডে প্যাডেল করে যাচ্ছিলাম, তখন একটা ছোট স্টিংরে মাছ হঠাৎ লাফিয়ে আমার বোর্ডে উঠে পড়ে এবং মাথার পেছনে আমাকে জোরে আঘাত করে। খুবই ব্যথা পেয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল কেউ শক্ত করে ফ্রিসবির মতো কিছু ছুড়ে মেরেছে। তারপর আবার যখন সেটা আমার পিঠে লাফিয়ে উঠল এবং ছটফট করতে লাগল, তখনই বুঝতে পারলাম এটা আসলে একটা স্টিংরে মাছ।&rsquo;

সাননিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 04 May 2026 17:46:28 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[বিশ্ব নারী দিবসে ভোলার  নারী জেলেরা ]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/114458" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/114458</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ 

জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে নদীতে মাছ স্বীকার করলেও সরকারি তালিকায় জেলে হিসেবে স্বীকৃতি না থাকায় সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপকূলীয় জেলা ভোলার কয়েক হাজার নারী জেলে।

নারী জেলেদের অভিযোগ, পুরুষতাৃন্ত্রিক প্রথা ও তালিকার অসংগতির কারণে বছরের পর বছর অবহেলিতই থেকে যাচ্ছেন তারা। তাই পুরুষদের পাশাপাশি নারী জেলেদেরও জেলে হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে জেলে কার্ড দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নারী জেলেদের ।এদিকে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত নারী জেলেদের জেলে হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নদী ও সাগর বেষ্টিত দ্বীপজেলা ভোলা। এই জেলার একটি বড় অংশই পেশায় জেলে। জেলেদের মধ্যে নারী জেলে যারা উপকূল অঞ্চলের নারী মৎস্যজীবি। তাদের শ্রম আছে, ঘাম আছে, জীবন ঝুঁকি রয়েছে তবুও তাদের নেই কোনো সরকারি পরিচয়, নেই কোনো স্বীকৃতি।

হাজারো নারী জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নদীতে মাছ ধরছেন।



তবে সরকারি তালিকায় জেলে হিসেবে স্বীকৃতি না থাকায় বিভিন্ন সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। নারী হওয়ায় নাম লেখাতে পারছেনা জেলে তালিকায়। তাই পুরুষদের মতো নারী জেলেদেরও সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে জেলে কার্ড দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তেমনি একজন নারী জেলে কুলসুম বেগম। বয়স ৬০ পেরিয়ে গেছে। জীবিকার তাগিদে স্বামী কে নিয়ে নদীতে থাকে মাছ ধরে জীবীকা নির্বাহ করে। কিন্তু এতো বছর পেরিয়ে গেলেও সরকারি সহযোগিতা খাতায় তার নাম নেই। অনেকটা কষ্ট নিয়ে বলেন আর কত বয়স হলে জেলে কার্ড পামু সরকারি সহযোগিতা পামু। এই বয়সে নদীতে না গিয়ে ইকটু ঘর করে উপরে থাকতে চাই। রোদে পুরি বৃষ্টি তে ভেজি। এখন সরকার যদি আমাদের ইকটু খোঁজে খবর নিতো তাহলে ভালো হতো।

ভোলা সদর রাজাপুর জোরখাল এলার নৌকায় থেকে মাছ ধরে রাশিদা বেগম বয়স (৫৫) জানান,আমাগো জন্ম হইছে নৌকার মধ্যে। ছোট বেলা থেকে নৌকায় তাহি মাছ ধরে সংসার চালাই। অথচ আমাগো কোন নাম নাই। সরকার আমাগোরে কোন জেলেকার্ড দেয়না। সরকার বাড়িদেয় ঘর দেয় কলনী দেয়। অথচ আমরা কিছু পাইনা। আমরা নদীতে নদীতে পোলাই লোয়া বাস করি। এই বাস করতে করতে বুড়ার বাগী হইছি ( বুড়া হইছি) সরকার অহন পর্যন্ত কিছুই দেয়ানা। নতুন সরকার কে আমরা আশাকরে ভোট দিছি। আশাকরছি তারেক জিয়া যদি সরকার হয় আমাগোদিক চাইবে।

এখন তারেক জিয়া যদি আমাগো দিক চায় তাইলে বাড়ি ঘর কোন হানে লাইন করে দেয় তাহলে আমরা জেলে কার্ডপামু,ঘর পামু।



আরেক মহিলা জেলে রোজিনা বলেন, আমরা নদীর মধ্যে থাকি পোলান ছায়ন (ছেলে-সন্তান) নিয়ে অনেক কষ্ট করি। এমনকি পুরুষের থেকে আমরা মহিলারা অনেক কষ্ট করি। মাথার গাম পায় পড়ে। নদীতে মাছ ধরে দুই হাজার টাকার মাছ বেচলে তিন হাজার টাকা বাহি থাকে। ঠিক মতো চাল, তেল কিনলে বাকি সদায় করতে পারিনা। এখন আমাগো জেলেকার্ড কিংবা সরকার কইছে ফ্যামিলি কার্ড দিবো। সেটা থাকলে ভালো হইতো।

সংগ্রামী এই নারীদের জেলে হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মৎস্য জীবী নেতারাও। ভোলা জেলা ক্ষুদ্র মৎস্য জীবী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ এরশাদ উল্ল্যাহ জানান, ভোলাতে পুরুষের পাশাপাশি দুই থেকে তিন হাজার নারী রয়েছে যারা মৎস্য জীবী পেশার সাথে জড়িত। এই মহিলার সরকারের জেলে নিবন্ধনের আওতায় এখনও আনা হয়নি। নিবন্ধন না থাকায় সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমি সরকারের কাছে দাবি জানাই পুরুষ জেলেদের পাশাপাশি মহিলা জেলেদেরও যেন নিবন্ধন আওতায় আনা হয়। তারা পুরুষের পাশাপাশি অনেক কষ্ট করে মাছ ধরে। তাদের বাহির রাখলে দেশ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। পাশাপাশি তাদের সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা আওতায় আনার দাবি জানান।

এদিকে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত নারী জেলেদের জেলে হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা মৎস কর্মকর্তা ও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন,আমরা সামনে যে জেলে নিবন্ধন করা হবে সেখানে আমরা বেদে নারী জেলেদের অগ্রাধিকার দিবো। তবে তাদের স্বস্ব উপজেলা ও জেলার নাগরিক হতে হবে। তাদের সুর্নিদিষ্ট স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত করার কথা জানান। এছাড়াও এবছর জেলেদের বিশেষ খাদ্য বরাদ্দ মধ্যে ৪০০ পরিবারকে আমরা সহযোগিতা করবো বলে জানান এই মৎস্য কর্মকর্তা।

ভোলা সদর।উপজেলা নির্বাহী অফিসার

মো :আরিফুজ্জামান জানান,সরকার যখন নতুন করে তালিকা করবে তখন মানতা সম্প্রদায়ের নারী জেলেদের নিবন্ধন আওতায় নিয়ে আসবো।পাশাপাশি সরকার সকল ধরনের সহযোগিতা আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেওয়া জন্য আমরা বদ্ধ পরিকর।

৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এই সময়ে নারী জেলেরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেনা তাদের। জেলেয়া প্রায় ২ হাজার মতো নারী সদস্য রয়েছে মাছ ধরা পেশার সাথে জড়িত।

সান নিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 09 Mar 2026 04:08:24 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[সৌন্দর্যের লীলাভূমি ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/112927" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/112927</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[অপার প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর সুন্দরবন যারা দেখেননি তারা ছুটিতে বেড়িয়ে যেতে পারেন এই সুন্দরী ম্যানগ্রোভ বন।নদীর স্রোত কেটে নৌকা এগোচ্ছে, চারপাশে ছমছমে সবুজ! পানির ধারে দাঁড়িয়ে আছে ম্যানগ্রোভ গাছের জটিল শেকড়। হঠাৎ কোথাও বানরের হুল্লোড়, কোথাও হরিণের নীরব পদচারণা। কোথাও লোনা পানির কুমিরের ধীরগতির সাঁতার। হঠাৎ দূর থেকে ভেসে আসে গভীর গর্জন! হ্যাঁ, সেটা বাঘের। ঠিক ধরেছেন। স্বাগতম, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনভূমি সুন্দরবনে।
প্রায় ১০ হাজার বর্গকিলোমিটারের সুন্দরবনের প্রায় ৬,৫১৭ বর্গকিলোমিটার পড়েছে আমাদের দেশে। যা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলাকে আচ্ছাদিত করেছে। বনটি ইউনেস্কো ১৯৮৭ সালে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। শুধু গাছপালা নয়, এখানকার প্রাণী, মানুষ ও প্রাকৃতিক পরিবেশের অনন্য সমন্বয় সুন্দরবনকে করে তুলেছে আমাদের দেশের অমূল্য সম্পদ।
সুন্দরবনে পাওয়া যায় বিভিন্ন ধরনের গাছ। যেমন সুন্দরী, গরান, কেওড়া ও গোলপাতা অন্যতম। গাছগুলো লবণাক্ত মাটিকে ধরে রাখে এবং জলবায়ুর প্রতিকূল প্রভাব থেকে উপকূলবর্তী মানুষকে রক্ষা করে। এ বন কেবল সৌন্দর্যের জন্য নয়; প্রাকৃতিক সুরক্ষার জন্য&zwnj;ও ঢাল হয়ে কাজ করে।
সুন্দরবনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ রয়েল বেঙ্গল টাইগার। বন বিভাগের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাঘের সংখ্যা বাংলাদেশ অংশে ১২৫টি। এ ছাড়া রয়েছে স্পটেড ডিয়ার, বন্যশূকর, ম্যানগ্রোভ ওটার, লোনা পানির কুমির, ফিশিং ক্যাট, অজগর এবং আরও অসংখ্য প্রাণীর সমাহার। প্রতিটি ভ্রমণকারীর আশা থাকে এই প্রাণীর প্রকৃত পরিবেশে দেখা পাওয়ার।
সুন্দরবনের সৌন্দর্য পুরোপুরি উপলব্ধি করতে হলে নৌকা ভ্রমণ অপরিহার্য। সরু খাল ও বিস্তৃত নদীর মধ্যে ভেসে চলা নৌকা যেন এক জীবন্ত চিত্রকর্ম। অনেক সময় খালের ভেতরে ঢুকে গেলে প্রকৃতির সবুজের মাঝে চলে আসা যায় একেবারে কাছাকাছি। ছোট ছোট ডিঙি নৌকা বা ট্রলার ব্যবহার করে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সত্যিই মনোমুগ্ধকর।বাংলাদেশ অংশের ৬০১৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই বনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও দর্শনীয় স্থান হলো পূর্ব বনবিভাগের বাগেরহাটের শরণখোলা রেঞ্জ।
দু&rsquo;ধারে ঘন জঙ্গলের মাঝ থেকে বয়ে চলা এখানকা আকাবাঁকা নদী-খাল আর বন্যপ্রাণির অবাধ বিচরণ দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সব সময়ই আকৃষ্ট করে। তাই তারা দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে ছুঁটে আসেন এখানে।

শরণখোলার এই বনের কটকা, কচিখালী, সুপতি, দুবলা, আলোরকোল, কোকিলমণি, টিয়ারচরসহ আছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান। শরণখোলা থেকে সহজ পথে খুব কম খরচে ও অল্প সময়ে এসব দর্শনীয় স্থান ঘুরে আসা যায়।

অথচ সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের অভাবে ও প্রচার-প্রচারণা না থাকায় পর্যটন শিল্প বিকাশের এই অপার সম্ভাবনাময় খাতটি পেছনে পড়ে আছে।

সুন্দরবন ভ্রমণের এই সহজ রুট সম্পর্কে ব্যাপক পরিচিতি না থাকায় পর্যটকরা অধিক সময় ও অর্থ খরচ করে খুলনা ও মোংলা রুট দিয়ে শরণখোলার বনে প্রবেশ করে। শরণখোলা রেঞ্জের আকর্ষণীয় ও দর্শনীয় স্থানসমূহ সম্পর্কে জেনে নিন-

কটকা
সুন্দরবনের আকর্ষণীয় সব স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি স্পট হলো শরণখোলা রেঞ্জের কটকা বনাঞ্চল। বন্য জীবজন্তু, মৎস্য ও জলজ প্রাণীর প্রজননের জন্য এটি অভযারণ্য হিসেবে ঘোষিত। এখানকার জামতলায় আছে একটি ওয়াচ টাওয়ার। টাওয়ার থেকে দেখা যায়, বনের উপরিভাগের বিশাল সবুজ ঘন জঙ্গল।
ভাগ্য প্রসন্ন হলে দেখা মিলতে পারে রাজকীয় ভঙ্গিতে ডোরাকাটা রয়েল বেঙ্গলের শরীর দুলিয়ে হেঁটে চলা। জামতলার পাশেই আছে বিশাল সি বিচ। এই বিচেই আছড়ে পড়ে বঙ্গোপসাগরের বড় বড় ঢেউ। যেখানে একই সঙ্গে উপভোগ করা যায় কক্সবাজার ও কুয়াকাটা সৈকতের আনন্দ আর সুন্দরবনের সৌন্দর্য।
কটকা বনঅফিসের আশপাশে মায়াবি চিত্রল হরিণের অবাধ বিচরণ, বানরে ছুঁটোছুঁটি সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দেবে। অফিসের পেছনে আছে প্রায় ২০০ মিটার দীর্ঘ একটি ফুটট্রেইল। ট্রেইলের মাথায় গেলেই খুব কাছ থেকে দেখা যাবে হরিণের মেলা।
ইচ্ছে করলে হরিণের সঙ্গে সেলফিও তোলা সম্ভব। পর্যটকদের রাত্রিযাপনের জন্য বনবিভাগের একটি রেস্টহাউজও আছে। যেখানে নিরাপদে থাকার সুব্যবস্থাও পাবেন। তবে থাকতে হলে বনবিভাগের পূর্ব অনুমোতি নিতে হবে।

কচিখালী
কটকার মতো কচিখালীতেও আছে একটি রেস্টহাউজ। এই রেস্টহাউজে বসেই উপভোগ করা যায় সাগরের ঢেউয়ের মূর্ছনা, বণ্য পাখপাখালির কোলাহল, হরিণ-বানরের সখ্যতা।

সেখানে আরও আছে বিশাল সনের (সন ঘাস) বাগান। ঘন ঘাষে বাতাস হৃদয় জুড়ানো ঢেউ খেলে যায়। এই সন বাগান বাঘ, হরিণসহ বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র। এখানেও আছে বিশাল সি বিচ।

সুপতি
এটিও অভয়ারণ্য এলাকা। এখানের নদীতে দুর্লভ প্রজাতির ইরাবতী ডলফিনের দেখা মেলে। ছোট ছোট খালের দুই পাশে সারিবদ্ধ গোলপাতার বন পর্যকদের আকৃষ্ট করে। নিরাপত্তার জন্য বনবিভাগ ও কোস্টগার্ডের ক্যাম্প রয়েছে। এখানকার সৌন্দর্য উপভোগ করে দিনে দিনে ফিরে আসা যায়।

দুবলা ও আলোর কোল
শুঁটকি পল্লীর জন্য বিখ্যাত এই স্থান। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা দুবলার জেলে পল্লীর অধীনে ছোট-বড় ৮টি চরেই শুঁটকি উৎপাদন হয়। প্রতিবছর অক্টোবর-মার্চ এই ৫ মাস চলে শুঁটকি প্রক্রিয়ার কাজ।
প্রতিবছর রাস পূর্ণিমায় আলোরকোলে জমে ওঠে রাস উৎসব। এ উৎসবে দেশি-বিদেশি লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটে। এখানকার বিশাল সি-বিচ থেকে সূর্য ওঠা ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। অসংখ্য গাঙচিলের কলকাকলিতে সারাক্ষণ মূখর থাকে পরিবেশ।
আর যেতে যেতে দেখা মিলবে সাগরে অসংখ্য জেলি ফিশের। দুবলাতে বনবিভাগের পাশাপাশি র্যাব ও কোস্টগার্ডের ক্যাম্প আছে। ওখানে রাত্রিযাপন করতে হলে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় থাকতে হবে।

কোকিলমণি ও টিয়ারচর
এই স্থান দুটি হলো সুন্দরবনের সবচেয়ে গভীরতম স্থান। বন্যপ্রাণির অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র। কোকিলমণিতে আছে স্বচ্ছ ও মিষ্টি পানির এক বিশাল দীঘি। নোনা পানি বিধৌত এ সুন্দরবনের মধ্যে মিষ্টি পানিতে পর্যটকরা ইচ্ছে করলে অবসাদ ও ক্লান্তি দূর করার জন্য গোসল সেরে নিতে পারেন।
এখানে নিরাপত্তার জন্য বনবিভাগ ও কোস্টগার্ডে অফিস রয়েছে। টিয়ারচরের হরিণের অবাধ বিচরণ দেখা যায়। এছাড়া বনমোরগ, শুকর, গুঁইসাপ, মদনটাক, বাজপাখিসহ অসংখ্য সরিসৃপের দেখা মেলে।

সুন্দরবন ভ্রমণে কীভাবে যাবেন?
শরণখোলায় আসতে হলে প্রথমে ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে আসতে হবে। সেখান থেকে বিভিন্ন কোম্পানির বিলাশবহুল সব বাস আছে। এসব পরিবহনে টিকিট কেটে সরাসরি শরণখোলা উপজেলা সদর রায়েন্দায় পৌঁছানো যায়।
চাইলে প্রাইভেট গাড়িতেও যেতে পারেন যে কেউ। আপনি চাইলে ট্রেনে খুলনা, তারপর বাগেরহাটের রায়েন্দা হয়ে শরণখোলা রেঞ্জে আসতে পারেন।

সুন্দরবনে কোথায় থাকবেন?
রায়েন্দাতে রাত্রিযাপনের জন্য সরকারি ডাকবাংলো, আবাসিক হোটেল রূপসী রায়েন্দা, সুন্দরবন অবকাশ, পিংকিসহ বেসরকারি বেশ কয়েকটি রেস্ট হাউজ আছে।
এগুলোর মধ্যে কিছু শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষও আছে। তাছাড়া রায়েন্দা থেকে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার বা লঞ্চে করে সীমিত ভাড়ায় সুন্দরবনের এসব এলাকা ভ্রমণ করা যায়।
সুন্দরবনের অন্যতম আকর্ষণ ডুবলার চর। প্রতি বছর কার্তিক মাসে অনুষ্ঠিত হয় রাস মেলা। মৎস্যজীবী সম্প্রদায় ও ভক্তরা এখানে মিলিত হয়ে উৎসব পালন করেন। অন্যদিকে পুটনী দ্বীপ নতুন করে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এখানকার লাল কাঁকড়ার পদচারণা ও সমুদ্রবালির বিস্তৃতি পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
ঢাকা থেকে সুন্দরবন ভ্রমণের সবচেয়ে জনপ্রিয় পথ হলো খুলনা বা মংলা হয়ে প্রবেশ। ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন বা লঞ্চে খুলনা যাওয়া যায়। এরপর ট্রলার বা লঞ্চে করে সুন্দরবনের বিভিন্ন স্পটে প্রবেশ করা যায়। চাইলে সাতক্ষীরার শ্যামনগর দিয়েও নৌপথে সুন্দরবনে যাওয়া সম্ভব। অনেক ট্যুর অপারেটর ঢাকা থেকে প্যাকেজ ট্যুর আয়োজন করে। যেখানে ৩ দিন ২ রাতের খরচ পড়ে প্রায় ৭-৯ হাজার টাকা।
বাংলাদেশের সুন্দরবন শুধু পর্যটনের কেন্দ্র নয় বরং উপকূলীয় মানুষের জন্য প্রাকৃতিক সুরক্ষার ঢাল। ঝড়, জলোচ্ছ্বাসের সময় বন উপকূলের জীবন বাঁচায়। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও অবৈধ কার্যক্রম সুন্দরবনকে হুমকির মুখে ফেলেছে। পরিবেশবিদদের মতে, স্থানীয়দের বিকল্প জীবিকা নিশ্চিত না করলে বন সংরক্ষণ কঠিন হয়ে যাবে।]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 17 Sep 2025 11:23:38 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[চাকরি হারিয়ে জি-নাইন কলা চাষে ভাগ্যবদল  ]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/112925" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/112925</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাগেরহাটের ফকিরহাটে জি-নাইন (গ্রান্ড নাইন) জাতের কলা চাষ করে আলোচনায় এসেছেন স্থানীয় যুবক মনিরুজ্জামান। একসময় চাকরি হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। হতাশার সেই সময়ে উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় নিয়মিত প্রশিক্ষিত হন। সেখান থেকেই শুরু হয় তার নতুন যাত্রা। জি-নাইন কলা চাষের মাধ্যমে হতাশা কাটিয়ে এখন সফল উদ্যোক্তা মনিরুজ্জামান। মনিরুজ্জামানের এই সাফল্য দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন আরও অনেক তরুণ-যুবক।
চাষি মনিরুজ্জামান জানান, তিনি ৫০ শতক জমিতে ৩৭৫টি জি-নাইন কলার চারা রোপণ করেছেন। শুরুতে খরচ হয় প্রায় ৯০ হাজার টাকা। প্রথম বছরেই যে ফলন পাওয়ায় গেছে তাতে তিন গুণ লাভের আশা করছেন তিনি। ইতোমধ্যে প্রায় সব গাছে কলা ধরেছে। বিক্রিও করছেন প্রতিদিন। প্রতি ছড়ায় (কাঁধি) প্রায় ২২০ থেকে ২৮০টি কলা হচ্ছে। কলার আকার যেমন বড় তেমনি খেতেও সুস্বাদু হওয়ায় পাইকার ও খুচরা ক্রেতারা ভিড় করেন। বাগান থেকে একটি কলা ৬ টাকা দরে প্রতি কাঁধি কলা ৮০০ থেকে ১২শ&rsquo; টাকায় বিক্রি হচ্ছে যা সাধারণ কলার চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি। যে মনিরুজ্জামান একসময় চাকরি হারিয়ে হতাশ ছিলেন, আজ তিনি অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন গ্রামের শ&rsquo; শ&rsquo; কৃষকের কাছে।
আরেক চাষি শহীদুল আব্দুল্লাহ জানান, &lsquo;আগে আমি বেগুন, পটোলসহ নানা সবজি চাষ করতাম। এখন কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে জি-নাইন কলা চাষ শুরু করেছি। আমার বাগানের কলার চাহিদা অনেক। ভালো লাভের আশা করছি।&rsquo; স্থানীয় কৃষক শরীফ শেখ জানান, কাঁধিতে এত কলা তিনি আগে কখনো দেখেননি। সামনের বছর তিনিও জমিতে এই জাতের কলা চাষ করবেন বলে জানান। উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, বর্তমানে ফকিরহাটে প্রায় ৫০০ শতক জমিতে জি-নাইন কলার চাষ হয়েছে। পঞ্চাশজন কৃষক এই জাতের কলার চাষ করেছেন। এ ছাড়া অনেকে শখেরবশেও জি-নাইন কলা চাষ করছে। এই জাতের কলায় রোগ কম হওয়ায় খরচও কম হয়ে থাকে। অনেকেই ইতোমধ্যে জমি প্রস্তুত করেছেন জি-নাইন কলা চাষের জন্য।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ সাখাওয়াত হোসেন জানান, বাজারে সচারাচর যেসব কলা পাওয়া যায় তার প্রতি কাঁধিতে ৮০ থেকে ১৪০টি কলা হয়ে থাকে। কিন্তু জি-নাইন গাছে কলার সংখ্যা ২২০ থেকে ২৮০টি পর্যন্ত হয়ে থাকে। আবার কলা উৎপাদন সময়কালও কম। যার কারণে কৃষক অধিক লাভবান হন। এ ছাড়া কলার পুষ্টিগুণ বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের চাহিদাও বেশি।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোতাহার হোসেন জানান, টিস্যু কালচারের মাধ্যমে গ্রান্ড নাইন জাতের কলার চারা উৎপাদন করা হয়। এই কলা চাষের ভালো দিক হলো, রোগব্যাধি কম, উৎপাদন বেশি, কলার ফলন কাল কম, বাজারে চাহিদা ও দাম বেশি। ফলে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশে থাইল্যান্ড থেকে অর্গানিক ব্যানানা চিপস আমদানি করা হয়। অথচ জি-নাইন কলা থেকে এই অর্গানিক ব্যানানা চিপস বানানো যায়। এতে কৃত্রিম চিপসের ওপর মানুষের নির্ভরতা কমবে। ফলে শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি হ্রাস পাবে। জি-নাইন কলার চাষ বৃদ্ধিতে কৃষি বিভাগ সহায়তা করছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

সান নিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 17 Sep 2025 10:18:06 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[তপু ও ধলা পাহাড়ের হৃদয়স্পর্শী সম্পর্ক]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/112494" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/112494</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (র:) মাজারের দিঘিতে থাকা কুমিরের সম্পর্কে। মাজারের দিঘীর পাশেই বসবাস করে তপু নামের এক যুবক নিয়মিত কুমিরের খোঁজখবর নেয়, ডাকে, খাওয়ায় এবং কুমিরও তার ডাকে সাড়া দেয়।হাজারো মানুষ যেখানে ভয়ে কুমির থেকে দূরে থাকে, সেখানে এক যুবক গড়ে তুলেছেন ভালোবাসার অনন্য নজির কুমির দেখলে যেখানে মানুষ দৌড়ে পালায়, সেখানে কিনা কুমিরের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন বাগেরহাটের মেহেদী হাসান তপু নামের এক যুবক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুমিরের সাথে তপুর খুনসুটির ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তা সকলের নজরে আসে। মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিওটি। বলছিলাম

ভিডিওতে দেখা যায়, পানিতে থাকা ধলা পাহাড় নামের কুমির টি কে শান্তভাবে হাত দিয়ে স্পর্শ করছেন। কুমিরটিকে থামতে এবং চলতে আদেশ করছেন। কুমিরটিও তপুর কথা মতো পানি দিয়ে চলছে, থামছে এবং এগিয়ে যাচ্ছে। মাথা উঁচু করছে, মুরগি খাচ্ছে, উপরে উঠতে বললে উঠছে। তবে অনেকে তার এ কাজের প্রশংসা করেছে। আবার কেউ কেউ খুবই বিপদজ্জনক বলে সমালোচনা করেছেন।

স্থানীয়রা জানান ,তপু ছোটবেলা থেকেই মাজার এলাকায় বড় হয়েছে। তার কুমিরের প্রতি একটা আলাদা টান রয়েছে। প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে সে মাজারে গিয়ে ধলাপাহাড় নামে পরিচিত কুমিরদের ডাক দেয়। তপুর ডাক শুনলেই কুমিরগুলো পানির উপর ভেসে উঠে, এমনকি তপুর হাতে খাবার খেতেও এগিয়ে আসে। এভাবেই এই কুমিরের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে গড়ে তুলেছেন তপু।

স্থানীয় বাসিন্দা হালিমা বেগম বলেন, ছোটবেলা থেকে দিঘির কুমির দেখে আসছি। আমরা কখনো ভাবিনি কেউ এত কাছ থেকে কুমিরের সঙ্গে এমন সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবে। তপুর সাহস আর মমতা দেখে মুগ্ধ আমরা সবাই মুগ্ধ হয়ে গেছি ওর কথা শুনে চলে এই ধলা পাহাড় কুমির।

তুষার ফকির বলেন, মেহেদী হাসান তপু ভাই যে সাহসিকতা ও ভালোবাসা দেখাচ্ছে, তা আমাদের গর্বিত করছে। কুমিরের মতো ভয়ংকর প্রাণীর সঙ্গে এমন বন্ধুত্ব সত্যিই আসলে দেখা যায় না। আমার মাজারের পাশে বাড়ি কিন্তু আমি কখনো এতো সাহস করে কাছে গিয়ে খাবার দিতে পারি নাই। কাছে গেলে মনে হয় কখন জানি কামড়ে ধরে মনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করে।

খুলনা থেকে আসা শুভ দাস বলেন, আমি ইন্টারনেটে ভিডিওটি দেখে কৌতূহল নিয়ে আসলাম। নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। এটা শুধু একটা ভিডিও না, বরং প্রাণীর সাথে এতো টা বন্ধুত্বের সম্পর্ক হতে পারে। আসলে না আসলে বুঝতে পারতাম না।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক সাজিদুর রহমান বলেন, আমার ছেলেকে নিয়ে এসেছি। ও কুমির দেখে খুবই উৎসাহী। তপুকে দেখে বোঝা যায় ভালোবাসা দিয়ে সবকিছু জয় করা যায়। আমার ছেলে দেখে খুব খুশি হয়েছে। এতো কাছ থেকে । আমি একটা মুরগি কিনে দিয়ে ছিলাম সুন্দর করে খেয়ে ফেললো।

মেহেদী হাসান তপু বলেন, আমি ছোট বেলা থেকেই খান জাহান আলী মাজারের কুমির দেখাশোনা করে আসছি। সেই থেকেই কুমিরের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।কুমির টি অনেক বার এই দিঘীর বাইরে চলে গেছে আমি আর আমার ছোট মামা ধরে এনে আবার দিঘীতে ছেড়ে দিয়েছি । প্রতি দিন বিকাল হলে ধলা পাহাড় মাজারের ঘাটে চলে আসে। দেখতে মানুষের ভিড় করে। আমি এই ধলা পাহাড় কুমিরের সাথে খেলা করি কখনো কখনো চুমু খায় সে আবার আমার কথা শুনে চলে এই মাদার কুমির। খান জাহান আলী মাজারের রেখে যাওয়া পীর সাহেব এর সেই ধলা পাহাড় এবং কালা পাহাড় না। এইটা ইন্ডিয়া থেকে ২০০৫ সালে ছয়টি কুমির আনা হয়েছিল তার একটি অবশিষ্ট । আর কালা পাহাড় ২০২৩ সালে মারা যায়।

আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি মাদি কুমিরকে বলা হয় ধলা পাহাড় আর পুরুষ কুমির কে বলা হয় কালা পাহাড়।ও হচ্ছে মাদি কুমির ওকে আমরা ধলা পাহাড় বলে ডাকি ডাকলেই চলে আসে। এই কুমিরের সাথেই আমার বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে উঠেছে ।আপনারা দেখতে পাচ্ছেন আমি ডাক দিলেই ও চলে আসছে। প্রতি দিন এই মাজারের হাজার হাজার মানুষের ঢল দেখা যায়। কেউ মাজারে এসে মনের আশা পূরণের জন্য মানদ করে । কেউ কেউ আবার কুমির কে মুরগি খাওয়ানোর জন্য মুরগি নিয়ে আসে। আমি ধলা পাহাড় কে নিজের বন্ধু ভাবি। অনেক সময় ওরা আমাকে চিনে আসে, এটা দেখে ভালো লাগে।

খান জানান আলী মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তরিকুল ইসলাম বলেন, তপুর মতো একজন যুবক কুমিরের সঙ্গে এমন বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছে, এটা সত্যিই অবাক করার মতো। তপু তার নিয়মিত খাওয়ায়, কুমিরের সাথে খেলা করে, ওর ডাকে ছুটে চলে আসে, ছোট বেলা থেকেই তপুর কুমির প্রতি টান রয়েছে।আর যখন এই ধলা পাহাড় নামের কুমির টিকে দিঘীতে ছাড়া হয়েছিল এইটা ইন্ডিয়া থেকে ২০০৫ সালে ছয়টি কুমির আনা হয়েছিল তার একটি অবশিষ্ট । আর কালা পাহাড় ২০২৩ সালে মারা যায়।তখন থেকেই ওর সাথে কেমন জানি বন্ধু হয়ে গেছে তপুর।এই বন্ধুত্বের দেখে অনেক পর্যটক এখন দিঘির পাশে ভিড় করে। অনেকে বলছে, কুমিরের মতো হিংস্র প্রাণীর সঙ্গে মানুষের এমন সম্পর্ক সত্যিই দেখা যায় না।এখন সবাই বলে মানুষ আর কুমিরের মাঝেও বন্ধুত্ব হতে পারে, তার প্রমাণ তপু।

সান নিউজ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 15 Jul 2025 09:46:46 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[আজ অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউম-এর জন্মদিন]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/112235" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/112235</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউম (জুন ৪, ১৮২৯ &ndash; জুলাই ৩১, ১৯১২) ব্রিটিশ ভারতের একজন বেসামরিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক সংস্কারক এবং শখের পক্ষীবিদ ও উদ্যানতত্ত্ববিদ। তিনি ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে একজন। ভারতের পক্ষীবিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক ইতিহাসে তার অবদানের জন্য তাকে &quot;ভারতীয় পক্ষীবিদ্যার জনক&quot; আখ্যা দেওয়া হয়। অবশ্য এ বিষয়ে তার কর্তৃত্বপূর্ণ স্বভাবের জন্য তিনি যথেষ্ট সমালোচিত এবং তার সমালোচকদের কাছে তিনি &quot;ভারতীয় পক্ষীবিদ্যার পোপ&quot; নামে পরিচিত।

ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মজীবন

হিউমের জন্ম ইংল্যান্ডের কেন্টে, ১৮২৯ খ্রিষ্টাব্দে। তার পিতা জোসেফ হিউম ছিলেন একজন র&zwj;্যাডিকেল সংসদ সদস্য। তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কলেজ ও ইউনিভার্সিটি কলেজ হসপিটালে মেডিসিন ও সার্জারি বিষয়ে অধ্যয়ন করেন। ১৮৪৯ সালে তিনি ভারত গমন করেন এবং বেঙ্গল সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। বর্তমান উত্তর প্রদেশের (নর্থ-ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স) ইতওয়াতে ছিল তার প্রথম কর্মক্ষেত্র। এছাড়া বেসামরিক কর্মকর্তা হিসেবে ১৮৪৯ থেকে ১৮৬৭ সাল পর্যন্ত জেলা কর্মকর্তা, ১৮৬৭ থেকে ১৮৭০ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বিভাগের প্রধান এবং ১৮৭০ থেকে ১৮৭৯ সাল পর্যন্ত সরকারি সচিব হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন।

ভারতে আগমনের মাত্র নয় বছর পর হিউম ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ প্রত্যক্ষ করেন। বিদ্রোহ দমনে তিনি বেশ কয়েকটি সেনা অভিযানে অংশগ্রহণ করেন এবং বিদ্রোহ দমনে তার সাফল্যের জন্য ১৮৬০ সালে তিনি অর্ডার অফ দ্যা বাথ পদকে ভূষিত হন। হিউমের কর্মস্থল ইতওয়া বিদ্রোহের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু মিরাটের বেশ কাছাকাছি হলেও প্রথম দিকে তিনি বেশ নিরাপদেই ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ছয় মাসের জন্য আগ্রা দুর্গে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। ১৮৫৮ সালে তিনি যখন পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন একজন ভারতীয় কর্মকর্তা ছাড়া আর কেউই তার অণুগত ছিলেন না। তিনি অণুগত ভারতীয় সেনাদের নিয়ে ৬৫০ সদস্যবিশিষ্ট একটি আধাসামরিক বাহিনী গঠন করেন এবং তাদের নিয়ে কাজে নামেন। বিদ্রোহ দমনে ব্রিটিশদের অদক্ষতা এবং তাদের &lsquo;ক্ষমা ও সহিষ্ণুতার নীতি&rsquo;র ব্যাপক সমালোচনা করেন।

জেলা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বপালনকালে শুরুর দিকে তিনি অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা চালু করার চেষ্টা করেন। এছাড়া তিনি &quot;লোকমিত্র&quot; নামে স্থানীয় একটি পত্রিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেন।

১৮৫৩ সালে তিনি মেরি অ্যান গ্রিন্ডালের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯১২ সালের ৩১ জুলাই তিনি মারা যান।

 

সাননিউজ/ইউকে]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 04 Jun 2025 07:09:24 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[আজ ইংরেজ সাহিত্যিক টমাস হার্ডির জন্মদিন]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/112204" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/112204</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[টমাস হার্ডি, অর্ডার অব মেরিট (ইংরেজি Thomas Hardy, ২ জুন ১৮৪০ - ১১ জানুয়ারি ১৯২৮) একজন ইংরেজ সাহিত্যিক। রোমান্টিসিজম ঘরানার এই কবি ও ঔপন্যাসিক উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ ও চার্লস ডিকেন্স এর দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। ডিকেন্সের মতো তার লেখাও ভিক্টোরিয়ান সোসাইটিতে সমালোচিত হয়েছিল। যদিও হার্ডি তার লেখায় তৎকালিন ক্ষয়িষ্ণু গ্রাম্য সমাজের দিকে বেশি আলোকপাত করেছিলেন। টমাস হার্ডি প্রথম দিকে নিজেকে একজন কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। পরে অবশ্য একজন ঔপন্যাসিক হিসেবেও তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান।

তার লেখালেখির শুরুটা খুব অল্প বয়সে হলেও ১৮৭০ সালের পূর্বে তার কোন লেখা প্রকাশিত হয়নি। টেস অব দ্যা ড&rsquo;আরবারভিলস (১৮৯১), ফার ফ্রম দ্যা ম্যডিং ক্রাউড (১৮৭৪), দ্যা মেয়র অব কাস্টারব্রিজ (১৯৮৬), জুড দ্যা অবসকিউর (১৮৯৫) তার জনপ্রিয় উপন্যাস।

শৈশব ও যৌবন

টমাস হার্ডি ১৮৪০ সালে পূর্ব ডচেষ্টারশায়ারের হায়ার বকহ্যাম্পটন নামে একটি পল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা টমাস (১৮১১-১৮৯২) ছিলেন একজন রাজমিস্ত্রী। হার্ডির মা জেমিমা হার্ডি (১৮১৩-১৯০৪ যার বিবাহপূর্ব নাম ছিল জেমিমা হ্যান্ড) একজন বিদূষী মহিলা ছিলেন এবং হার্ডির বয়স আট বছর হওয়া পর্যন্ত তিনি তাকে বাড়িতে শিক্ষা দেন। এরপর হার্ডিকে বকহ্যাম্পটনের স্কুলে ভর্তি করা হয়। হার্ডির পরিবার খুব সচ্ছল ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ার আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় মাত্র ষোল বছর বয়সে তাকে পড়ালেখা ছেড়ে দিতে হয়। এরপর তিনি জেমস হিক্&zwnj;স নামের স্থানীয় এক স্থপতির কাছে শিক্ষানবীশি হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৬২ সালে হার্ডি লন্ডনের কিংস কলেজে ভর্তি হন। ইতমধ্যে তিনি একজন স্থপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। রয়্যাল ইন্সটিটিউট অব ব্রিটিশ আর্কিটেক্টস এবং আর্কিটেক্টারাল এ্যাসোসিয়েশন থেকে তিনি পুরস্কার লাভ করনে। ১৮৭০ সালে কর্নওয়ালের একটি প্রাচীন গীর্জার স্থাপত্য নিয়ে কাজ করার সময় এমা লাভিনিয়া গিফোর্ড এর সাথে তার পরিচয় হয়। ১৮৭৪ সালে তারা বিয়ে করেন।

সাহিত্যিক জীবন

টমাস হার্ডির লেখা প্রথম উপন্যাসের নাম &rsquo;দ্যা পুওর ম্যান এন্ড দ্যা লেডি&rsquo;। এটি লেখা&zwnj; শেষ হয় ১৮৬৭ সালে। লেখাটি প্রকাশ করার জন্য কোন প্রকাশক আগ্রহী হননি। তার এক বন্ধু, কবি ও ঔপন্যাসিক জন মেরেডিথ এর পরামর্শে তিনি পরে আর এই লেখা প্রকাশের চেষ্টা করেননি। মেরেডিথের মতে লেখাটির মধ্যে অনেক বিতর্কিত রাজনৈতিক বিষয় ছিল যা ছাপা হলে হার্ডিকে পরবর্তিতে সমস্যায় ফেলত। হার্ডি এই উপন্যাসের পান্ডুলিপিটি নষ্ট করে ফেলেছিলেন।

এরপর টমাস হার্ডি লেখেন ডেসপাটে রেমেডিস (১৮৭১) ও আন্ডার দ্যা গ্রিন উড ট্রিজ (১৮৭২), এই দুটি লেখাই বেনামে প্রকাশিত হয়। ১৮৭৩ সালে প্রকাশিত হয় এ পেয়ার অব ব্লু আইজ। ১৮৭৪ সালে প্রকাশিত হয় ফার ফ্রম দ্যা ম্যাডিং ক্রাউড।

মৃত্যু

টমাস হার্ডি ১৯২৮ সালে মারা যান। তার মৃতদেহ দাহ করা হয়। তার দেহাবশেষ ওয়েষ্ট মিনিস্টার এ্যাবের পোয়েটস কর্ণারে রাখা হয়েছে। দাহ করার আগে তার মৃতদেহ থেকে হৃদপিন্ডটি স্টিনসফোর্ড গীর্জার সমাধিক্ষেত্রে তার পূর্ব পুরুষদের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।

সাননিউজ/ইউকে

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 02 Jun 2025 06:31:31 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[আজ মার্কিন অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোর জন্মদিন]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/112189" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/112189</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[মনরো ১৯২৬ সালের ১ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন। তার আসল নাম ছিল নর্মা জিন মর্টেনসন। তিনি গ্লাডিস পার্ল বেকারের (প্রদত্ত নাম মনরো, ১৯০২-১৯৮৪) তৃতীয় সন্তান। গ্লাডিস কনসলিডেটেড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ফিল্ম নেগেটিভ কাটার হিসেবে কাজ করতেন। গ্লাডিস পনের বছর বয়সে তার চেয়ে নয় বছরের বড় জন নিউটন বেকারকে বিয়ে করেন। তাদের দুই সন্তান রবার্ট (১৯১৭-১৯৩৩) এবং বার্নিস (জন্মঃ ১৯১৯)। ১৯২১ সালে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয় এবং বেকার তার সন্তানদের নিয়ে কেন্টাকি চলে যায়। মনরো তার ভাই বোনদের কথা জানতে পারে এবং তার বড় বোনের সাথে সাক্ষাৎ হয় তার ১২ বছর বয়সে। ১৯২৪ সালে গ্লাডিস তার দ্বিতীয় স্বামী মার্টিন এডওয়ার্ড মর্টেনসনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু মনরো যখন গ্লাডিসের পেটে তখন তা অন্য কারো সন্তান জানতে পেরে মার্টিন ১৯২৮ সালে তাকে তালাক দেন। মনরোর পিতার পরিচয় অজ্ঞাত এবং বেকারই তার উপনাম হিসেবে ব্যবহৃত হত।

১৯৪২ সালের ১৯ জুন তার ১৬তম জন্মদিনের কয়েকদিন পরে তিনি তার প্রতিবেশীর পুত্র এয়ার ক্রাফট প্লান্টের একজন চাকরিজীবী জেমস &quot;জিম&quot; ডগার্থিকে বিয়ে করেন। মনরো স্কুল থেকে ড্রপ আউট হয়ে যান এবং গৃহিণী হয়ে যান। পরে তিনি এই প্রসঙ্গে বলেন, &quot;বিয়ের ফলে অখুশিও হয়নি আবার সুখীও হয় নি। আমার স্বামী এবং আমি খুব কমই একে অপরের সাথে কথা বলতাম। এটা আমরা একে অপরের উপর রাগান্বিত ছিলাম সে জন্য নয়। আমাদের কথা বলার কিছু ছিল না। ফলে আমি অস্বস্তিতে ছিলাম।&quot;

মনরোর অভিনয় জীবন শুরু হয় মডেলিং দিয়ে ১৯৪৬ সালে। এখানেই মনরো বাদামি বা ব্রাউনিস কালার চুল কে প্লাটিনাম হোয়াইটের এক আভা আনেন যা তার ট্রেডমার্ক বলা চলে। আর তার নামের পরিবর্তে নতুন নাম হয় মেরিলিন মনরো। ১৯৪৭ সালে টুয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি ফক্স স্টুডিওর সাথে চুক্তিবদ্ধ হন মনরো এবং দুটি মুভিতে তাকে প্রথমবারের মত দেখা যায়। ১৯৪৯ সালে মনরো আবার মডেলিংয়ে ফিরে আসেন।

১৯৫০ সালে অল অ্যাবাউট ইভ নামে চলচ্চিত্রে প্রথম অভিনয় করেন। ১৯৫৭ সালে মুক্তি পায় বিখ্যাত ছবি দ্য সেভেন ইয়ার ইচ। এছাড়াও হাউ টু মেরি আ মিলিয়নিয়ার, দ্য প্রিন্স অ্যান্ড দ্য শোগার্ল প্রভৃতি ছবিতে অভিনয় করে তিনি বিশ্বকে মন্ত্রমুগ্ধ করেন। সাম লাইক ইট হট ছবিতে অভিনয় করে তিনি শ্রেষ্ঠ সঙ্গীতধর্মী বা কমেডি অভিনেত্রী হিসেবে গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৬২ সালের ৪ আগস্ট লস অ্যাঞ্জেলেসের ব্রেন্টউডে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন মনরো। ধারণা করা হয়, মাত্রাতিরিক্ত ট্যাবলেট খেয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন।

সূত্র: উইকিপিডিয়া

সাননিউজ/ইউকে

 

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 01 Jun 2025 08:05:28 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[আজ মুঘল সম্রাজ্ঞী নূর জাহান- এর জন্মদিন]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/112173" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/112173</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[নূর জাহান (১৫৭৭ - ১৬৪৫) একজন মুঘল সম্রাজ্ঞী যাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল মেহের উন নিসা । ইনি মুঘল সম্রাজ্ঞী ও সম্রাট জাহাঙ্গীরের প্রধান মহিষী (স্ত্রী) ছিলেন। একজন বলিষ্ঠ, সম্মোহনী ও উচ্চশিক্ষিতা নারী হওয়ায় তাকে ১৭শ শতাব্দীর সবচেয়ে প্রভাবশালী নারী ভাবা হয় । ইনি সম্রাট জাহাঙ্গীরের বিশতম ও সর্বাপেক্ষা প্রিয়া স্ত্রী ছিলেন যিনি মুঘল সাম্রাজ্যের সর্বোৎকৃষ্ট পর্যায়ে রাজত্ব করেন। সম্রাট জাহাঙ্গীর ছিলেন তাঁর দ্বিতীয় স্বামী। তাদের ভালোবাসা অনেক কিংবদন্তির (প্রায়শ প্রশ্নসাপেক্ষ) জন্ম দিয়েছে ।

তাঁর দ্বিতীয় স্বামী সম্রাট জাহাঙ্গীরের মদ্য ও আফিমের প্রতি তীব্র আসক্তি থাকায় নূর জাহান একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজকীয় ভূমিকা পালন করেন, যাকে সিংহাসনের পেছনের মূল শক্তি ধরা হয় । তিনি শুধু ঐতিহাসিকভাবে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারিণীই ছিলেন না সেই সাথে ভারতীয় সংস্কৃতি, দাতব্য কাজ, বৈদেশিক বাণিজ্য ও লৌহমানবীর ন্যায় ক্ষমতা পালনের জন্য বিখ্যাত ছিলেন । তিনি সম্রাজ্ঞী মমতাজ মহলের ফুফু ছিলেন, যাঁর জন্য সম্রাট শাহজাহান তাজমহল তৈরি করেন। এছাড়াও তিনিই একমাত্র মুঘল সম্রাজ্ঞী, যাঁর নাম রৌপ্যমুদ্রায় অঙ্কিত আছে ।

নুরজাহান বা জগতের আলো(জন্মঃ ৩১ মে, ১৫৭৭ &ndash; মৃত্যুঃ ১৭ ডিসেম্বর, ১৬৪৫) হচ্ছে সম্রাট জাহাঙ্গীর এর দেয়া নাম। তার আসল নাম ছিল মেহেরুন্নিসা। মেহেরের বাবা ছিলেন গিয়াস বেগ। তার বাবা ইতিমাদ দৌলা ও মা যখন তেহেরান থেকে ভাগ্যের সন্ধানে হিন্দুস্তান আসছিলেন তখন পথের মধ্যেই নির্জন মরু প্রান্তে এক বাবলা গাছের তলায় জন্ম হয় মেহেরুন্নিসার। গল্প আছে যে এই সময় গিয়াস বেগ ও তার পত্নী এমন দুর্দশায় পরেছিলেন যে মেয়ে কে বাঁচাবার কোন উপায় না পেয়ে তারা পথের মাঝেই কচি মেয়েকে শুইয়ে রেখে রওয়ানা হন। আশা ছিল কোন সহৃদয় ব্যক্তি যদি তাকে পায় নিয়ে আশ্রয় দিবে। কিছুদূর যাবার পর ই শিশু কন্যার কান্না শুনে তারা আর থাকতে পারলেন না। ফিরে এসে মেয়েকে বুকে চেপে নিঃসহায়, নিঃসম্বল গিয়াস বেগ এসে পৌঁছালেন লাহোরে। এবার তার ভাগ্য পরিবর্তন হল। আকবর বাদশার সুনজরে পরলেন তিনি, আর ছোট মেয়ে মেহেরের স্থান হল হেরেমে।

নূরজাহান শারীরিকভাবে শক্তিশালী ছিলেন। তিনি প্রায়ই সম্রাটের সাথে বাঘ শিকারে জেতেন।শক্তিশালী বাঘ শিকারি হিসেবে তার খ্যাতি ছিল। কথিত আছে তিনি ৬ টি গুলি দিয়ে ৪ টি বাঘ শিকার করেছিলেন। তার বীরত্বের কবিতাও লিখেছেন অনেক কবি।

ইংরেজ দূত টমাস রো লিখে গেছেন মেহের আসলে দেশ শাসন করত। জাহাঙ্গীর ছিল নাম কেওয়াস্তে সম্রাট। সেই সময়কার মুদ্রাতে জাহাঙ্গীর এর সঙ্গে নুরজাহানের ছবিও ছাপা হত। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে রাজ্য পরিচালনা করতেন। জাহাঙ্গীর এর রাজত্তের শেষ দিকে যখন তার ছেলে খুররম ও সেনাপতি মহাব্বত খা বিদ্রোহ করেন তখন বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেন নুরজাহান।

মেহেরের বিয়ে ঠিক হয় তুর্কিস্তানের শের আলি কুলি বেগ এর সঙ্গে। আলি কুলি ছিলেন অত্যন্ত সাহসী, নির্ভীক ও সচ্চরিত্র যুবক। একলা খালি হাতে বাঘ মারার জন্য তার নাম হয় শের আফগান। শোনা যায় মেহের একবার যুবরাজ সেলিমের নজরে পড়ে জান। সেলিম ও অমনি খেপে উঠলো মেহের কে বিয়ে করার জন্য। বাদশাহ আকবর এর কাছে আর্জি পউছে গেলো তার বিয়ের। কিন্তু নিজের বংশ মর্যাদার কথা ভেবে সেলিমকে নিষেধ করে আলি কুলির সঙ্গে মেহেরের বিয়ে দেন। মেহেরের বয়স তখন ষোল। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে চলে যান বর্ধমান।

 

শেরের মৃত্যুর পর মেহেরকে আগ্রাতে নিয়ে আসা হয়। তখন মেহেরের বয়স তেত্রিশ। ওই বয়সেও তিনি অপূর্ব রূপসী ছিলেন। মোঘল হেরেমে থেকেও দীর্ঘ চার বছর সম্রাটকে দেখেননি। তারপর আর পারলেন না সম্রাটকে ফেরাতে। সাইত্রিশ বছর বয়সে বিয়ে (২৫ মে, ১৬১১ খ্রিষ্টাব্দ) করেন জাহাঙ্গীরকে। জাহাঙ্গীর তার নাম দিলেন নুরজাহান বা জগতের আলো।

নূরজাহানের শেষ জীবন সুখের হয় নি। তার বিরাট উচ্চাকাঙ্ক্ষাই ছিল দায়ি। জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর পর নূরজাহানও লাহোরেই থেকে যান শেষ পর্যন্ত। অবশেষে বাহাত্তর বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ওই লাহোরেই। তার কবরের গাঁয়ে তার রচিত দুটি লাইন দেখতে পাওয়া যায়, ফারসিতে লেখা। কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলায় অনুবাদ করেন:

&quot;গরীব গোরে দ্বীপ জেলো না,

ফুল দিও না কেউ ভুলে, শ্যামা পোকার না পোড়ে পাখ,

দাগা না পায় বুলবুলে।&quot;

সূত্র: উইকিপিডিয়া

সাননিউজ/ইউকে]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 31 May 2025 09:59:51 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[অভিনেতা হুমায়ূন ফরীদির জন্মদিন আজ]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/112157" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/112157</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[হুমায়ূন ফরীদি (২৯ মে ১৯৫২ - ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২) ছিলেন একজন বাংলাদেশী অভিনেতা। তিনি মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ফরীদি চলচ্চিত্র জগতে আগমন করেন। তাকে বাংলা চলচ্চিত্রের একজন কিংবদন্তি অভিনেতা হিসেবে বিভিন্ন মাধ্যমে উল্লেখ করা হয়। তিনি মাতৃত্ব চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করেন। তিনি বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা অভিনেতা হিসেবে অধিক গ্রহণযোগ্য।

জন্ম ও শিক্ষাজীবন

হুমায়ূন ফরীদি ১৯৫২ সালের ২৯ মে গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার তুমুলিয়া ইউনিয়নের চুয়ারিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম এটিএম নূরুল ইসলাম ও মা বেগম ফরিদা ইসলাম। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তিনি ১৯৬৫ সালে পিতার চাকুরীর সুবাদে মাদারীপুরের ইউনাইটেড ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এ সময় মাদারীপুর থেকেই নাট্য জগতে প্রবেশ করেন। তার নাট্যঙ্গনের গুরু বাশার মাহমুদ। তখন নাট্যকার বাশার মাহমুদের শিল্পী নাট্যগোষ্ঠী নামের একটি সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে কল্যাণ মিত্রের &#39;ত্রিরত্ন&#39; নাটকে &#39;রত্ন&#39; চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি সর্বপ্রথম দর্শকদের সামনে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর এই সংগঠনের সদস্য হয়ে &#39;টাকা আনা পাই&#39;, &#39;দায়ী কে&#39;, &#39;সমাপ্তি&#39;, &#39;অবিচার&#39;সহ ৬টি মঞ্চ নাটকে অংশ নেন।

অবশেষে ১৯৬৮ সালে মাধ্যমিক স্তর উত্তীর্ণের পর পিতার চাকুরীর সুবাদে চাঁদপুর সরকারি কলেজে পড়াশোনা করেন। উচ্চ মাধ্যমিক শেষে ওই বছরেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈব-রসায়ন বিভাগে ভর্তি হন। যদিও ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায় এবং শিক্ষা অসমাপ্ত রেখেই মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধের পর ফিরে এসে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান), স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি আল-বেরুনী হলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি বিশিষ্ট নাট্যকার সেলিম আল দীনের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন।

কর্মজীবন

১৯৭৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত নাট্য উৎসবে তিনি অন্যতম সংগঠক ছিলেন। মূলতঃ এ উৎসবের মাধ্যমেই তিনি নাট্যাঙ্গনে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থাতেই তিনি ঢাকা থিয়েটারের সদস্যপদ লাভ করেন।

ফরীদি ১৯৮৪ সালে তানভীর মোকাম্মেলের হুলিয়া স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে তার অভিষেক ঘটে শেখ নিয়ামত আলীর দহন (১৯৮৫) চলচ্চিত্র দিয়ে। এই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেন। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত বিখ্যাত সংশপ্তক নাটকে &#39;কানকাটা রমজান&#39; চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বিখ্যাত হয়েছিলেন।

২০০৪ সালে ফরীদি দুটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন, সেগুলো হল হুমায়ূন আহমেদের শ্যামল ছায়া ও তৌকীর আহমেদের জয়যাত্রা। এই বছর তিনি মাতৃত্ব চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

ব্যক্তিগত জীবন ও মৃত্যু

ব্যক্তিগত জীবনে হুমায়ূন ফরীদি দুবার বিয়ে করেন। প্রথম বিয়ে করেন ১৯৮০&#39;র দশকে। শারারাত ইসলাম দেবযানী নামের তার এক মেয়ে রয়েছে এ সংসারে। পরবর্তীতে অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফাকে বিয়ে করেন। ২০০৮ সালে তাদের মধ্যে বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে।

তিনি ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ধানমন্ডিতে তার নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। এর পূর্বে তার রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যাওয়ায় তাকে ঢাকার মডার্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে আসার পর তিনি ১৩ ফেব্রুয়ারি বাথরুমে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান। এই আঘাতেই তার মৃত্যু হয়্য

সূত্র: উইকিপিডিয়া

সাননিউজ/ইউকে

 

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 29 May 2025 07:24:43 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[আজ মার্কিন অভিনেত্রী ক্যারল বেকার- এর জন্মদিন]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/112138" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/112138</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ক্যারল বেকার (ইংরেজি: Carroll Baker; জন্ম: ২৮শে মে ১৯৩১) হলেন একজন অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন অভিনেত্রী। তিনি ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে চলচ্চিত্র, মঞ্চ ও টেলিভিশনে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন। অ্যাক্টরস স্টুডিওতে লি স্ট্রাসবার্গের অধীনে পাঠ গ্রহণের পর তিনি ১৯৫৪ সালে থেকে ব্রডওয়ে মঞ্চে কাজ শুরু করেন। সেখান থেকে ১৯৫৬ সালে এলিয়া কাজান তাকে টেনেসি উইলিয়ামসের বেবি ডল (১৯৫৬) চলচ্চিত্রে সুযোগ দেন। এই চলচ্চিত্রে তার কাজের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে একাডেমি পুরস্কার, গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার ও বাফটা পুরস্কারে মনোনীত হন এবং শ্রেষ্ঠ সম্ভাবনাময় নবাগত বিভাগে গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার লাভ করেন।

পুরস্কার ও সম্মাননা

১৯৫৭: শ্রেষ্ঠ সম্ভাবনাময় নবাগত বিভাগে গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার

১৯৫৭: হাস্টি পুডিং পুরস্কার &quot;বর্ষসেরা নারী&quot;

১৯৬৫: নাট্যধর্মী নারী অভিনয়শিল্পী বিভাগে লরেল পুরস্কার - দ্য কার্পেটব্যাগারস (২য় স্থান)

মনোনীত

১৯৫৭: শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে একাডেমি পুরস্কার - বেবি ডল

১৯৫৭: শ্রেষ্ঠ নাট্য চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিভাগে গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার - বেবি ডল

১৯৫৭: শ্রেষ্ঠ বিদেশি অভিনেত্রী বিভাগে বাফটা পুরস্কার - বেবি ডল

১৯৬৪: শীর্ষ নারী তারকা বিভাগে লরেল পুরস্কার

১৯৬৫: শীর্ষ নারী তারকা বিভাগে লরেল পুরস্কার

সূত্র: উইকিপিডিয়া

 

সাননিউজ/ইউকে]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 28 May 2025 08:36:14 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[আজ ইবনে খালদুন- এর জন্মদিন]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/112124" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/112124</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ইবনে খালদুন ( মে ২৭, ১৩৩২ খ্রিষ্টাব্দ /৭৩২ হিজরি &ndash; মার্চ ১৯, ১৪০৬ খ্রিষ্টাব্দ/৮০৮ হিজরি) ছিলেন একজন আরব মুসলিম পণ্ডিত। আধুনিক সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাস ও অর্থনীতি শাস্ত্রের জনকদের মধ্যে তিনি অন্যতম বিবেচিত হন।

তবে ইবনে খালদুন তাঁর বই মুকাদ্দিমার জন্য অধিক পরিচিত। এই বই ১৭ শতকের উসমানীয় ইতিহাসবিদ কাতিপ চেলেবি ও মোস্তফা নাইমাকে প্রভাবিত করে। তাঁরা উসমানীয় সাম্রাজ্যের উত্থান ও পতন বিশ্লেষণ করার ক্ষেত্রে এই বইয়ের তত্ত্ব ব্যবহার করেন। ১৯ শতকের ইউরোপীয় পণ্ডিতরা এই বইয়ের গুরুত্ব স্বীকার করেন এবং ইবনে খালদুনকে মুসলিম বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দার্শনিকদের অন্যতম হিসেবে গণ্য করেন।

ইবনে খালদুনের জীবন তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে নথিভুক্ত, কারণ তিনি একটি আত্মজীবনী লিখেছেন &quot;প্রেজেন্টিং ইবন এবং পশ্চিম খালদুন&quot; যার মধ্যে তাঁর জীবন সম্পর্কিত অসংখ্য নথি শব্দে শব্দে উদ্ধৃত হয়েছে।

আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন জাবির বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন আব্দুর রহমান বিন ইবন খালদুন আল-হাদরামি, যিনি একজন দূরবর্তী পূর্বপুরুষের পরে সাধারণত &quot;ইবন খালদুন&quot; নামে পরিচিত, তিউনিসে ১৩৩২ খ্রিস্টাব্দে (৭৩২ হিজরি) জন্মগ্রহণ করেন। আরব বংশোদ্ভূত একটি উচ্চ-শ্রেণীর আন্দালুসিয়ান পরিবার, এই পরিবারের পূর্বপুরুষ ছিলেন একজন হাধরামি যিনি ইসলামি নবী মুহাম্মদের একজন সহচর ওয়াইল ইবনে হুজরের সাথে আত্মীয়তা ভাগ করে নিয়েছিলেন। তার পরিবার, যারা আল-আন্দালুসে অনেক উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত ছিল, ১২৪৮ খ্রিস্টাব্দে সেভিলের পতনের পর তিউনিসিয়ায় চলে যায়। তার পিতা এবং পিতামহ, তবে, রাজনৈতিক জীবন থেকে সরে এসে একটি রহস্যময় আদেশে যোগ দেন।

তার ভাই ইয়াহিয়া খালদুনও একজন ইতিহাসবিদ ছিলেন যিনি আবদালওয়াদিদ রাজবংশের উপর একটি বই লিখেছিলেন এবং আদালতের সরকারী ইতিহাসবিদ হওয়ার কারণে একজন প্রতিদ্বন্দ্বী দ্বারা তাকে হত্যা করা হয়েছিল। তার আত্মজীবনীতে, খালদুন একজন আরবের মাধ্যমে মুহাম্মদের সময় থেকে তার বংশধরের সন্ধান করেছেন। ইয়েমেনের উপজাতি, বিশেষ করে হাদরামাউত, যেটি ৮ম শতাব্দীতে আইবেরিয়ান উপদ্বীপে এসেছিল, ইসলামিক বিজয়ের শুরুতে: &quot;এবং আমাদের পূর্বপুরুষ হাদরামাউত থেকে এসেছে, ইয়েমেনের আরবদের কাছ থেকে, ওয়াইল ইবনে হুজর হয়েও পরিচিত। হুজর ইবনে আদী, আরবদের মধ্যে সেরা, সুপরিচিত এবং সম্মানিত।&quot;

যাইহোক, আধুনিক জীবনীকার মোহাম্মদ এনান ইবনে খালদুনের অস্পষ্ট উত্সের উপর জোর দিয়েছিলেন যে আরবদের সম্পর্কে ইবনে খালদুনের সমালোচনা তার আরব উত্স সম্পর্কে সন্দেহ জাগানোর একটি বৈধ কারণ হতে পারে। যদিও বারবার রাজবংশের আধিপত্যের সময়ে আরব বংশের দাবির প্রতি ইবনে খালদুনের জোরাজুরি এবং সংযুক্তিও তার দাবি বিশ্বাস করার একটি বৈধ কারণ।

তার পরিবারের উচ্চ পদমর্যাদা ইবনে খালদুনকে মাগরেবে বিশিষ্ট শিক্ষকদের সাথে পড়াশোনা করতে সক্ষম করেছিল। তিনি একটি ধ্রুপদী ইসলামী শিক্ষা লাভ করেন, কুরআন অধ্যয়ন করেন, যা তিনি হৃদয় দিয়ে মুখস্থ করেছিলেন, আরবি ভাষাবিদ্যা; কোরান, হাদিস, শরিয়া (আইন) এবং ফিকাহ (আইনশাস্ত্র) বোঝার ভিত্তি। তিনি ঐ সকল বিষয়ের জন্য সনদ (ইজাযাহ) পেয়েছিলেন। টেমসেনের গণিতবিদ এবং দার্শনিক আল-আবিলি তাকে গণিত, যুক্তিবিদ্যা এবং দর্শনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন এবং তিনি বিশেষ করে অ্যাভেরোস, ইবনে সিনা, রাজি এবং তুসির কাজ অধ্যয়ন করেন। ১৭ বছর বয়সে, ইবনে খালদুন তার পিতামাতা উভয়কেই ব্ল্যাক ডেথের কাছে হারান, প্লেগের একটি আন্তঃমহাদেশীয় মহামারি যা ১৩৪৮-১৩৪৯ সালে তিউনিসে আঘাত করেছিল। পারিবারিক ঐতিহ্য অনুসরণ করে, তিনি একটি রাজনৈতিক কর্মজীবনের জন্য প্রচেষ্টা করেছিলেন। উত্তর আফ্রিকার একটি টালমাটাল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখে, সেই সময়ের স্বল্পস্থায়ী শাসনব্যবস্থার সাথে পতন এড়াতে বিচক্ষণতার সাথে জোট গঠন এবং বাদ দেওয়ার জন্য উচ্চ মাত্রার দক্ষতার প্রয়োজন ছিল। ইবনে খালদুনের আত্মজীবনী একটি দুঃসাহসিক কাজের গল্প, যেখানে তিনি কারাগারে সময় কাটান, সর্বোচ্চ পদে পৌঁছান এবং আবার নির্বাসনে পতিত হন।

পরবর্তী জীবন: ইবনে খালদুন মিশর সম্পর্কে বলেছেন, &quot;যে এটা দেখেনি সে ইসলামের শক্তি জানে না।&quot; অন্যান্য ইসলামিক অঞ্চলে সীমান্ত যুদ্ধ এবং অভ্যন্তরীণ কলহ মোকাবেলা করার সময়, মামলুক মিশর সমৃদ্ধি এবং উচ্চ সংস্কৃতি উপভোগ করেছিল। ১৩৮৪ সালে, মিশরীয় সুলতান, আল-মালিক উধ-দাহির বারকুক, খালদুনকে কামহিয়া মাদ্রাসার অধ্যাপক এবং মালিকি স্কুল অফ ফিকহের গ্র্যান্ড কাদি (চারটি স্কুলের মধ্যে একটি, মালিকি স্কুলটি প্রাথমিকভাবে পশ্চিম আফ্রিকায় ব্যাপক ছিল) নিযুক্ত করেন। সংস্কারে তার প্রচেষ্টা প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়, এবং এক বছরের মধ্যে তাকে তার বিচারক পদ থেকে পদত্যাগ করতে হয়। এছাড়াও ১৩৮৪ সালে, খালদুনের স্ত্রী এবং সন্তানদের বহনকারী একটি জাহাজ আলেকজান্দ্রিয়া থেকে ডুবে যায়।

১৩৮৮ সালের মে মাসে মক্কায় তীর্থযাত্রা থেকে ফিরে আসার পর, ইবনে খালদুন কায়রোর বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষাদানে মনোনিবেশ করেন। মামলুক আদালতে তিনি সমর্থন থেকে পড়ে যান কারণ বারকুকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সময়, তিনি স্পষ্টতই কায়রোর অন্যান্য আইনবিদদের সাথে বারকুকের বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছিলেন। পরে বারকুকের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং তাকে আবার মালিকি কাদি বলা হয়। সব মিলিয়ে, তাকে ছয়বার ডাকা হয়েছিল সেই উচ্চপদে, যেটা, বিভিন্ন কারণে, তিনি কখনোই বেশিদিন ধরে রাখতে পারেননি।

ইবনে খালদুন পরবর্তীতে কায়রোতে তার আত্মজীবনী এবং তার বিশ্বের ইতিহাস সম্পূর্ণ করতে এবং শিক্ষক ও বিচারক হিসেবে কাজ করেন। ইতোমধ্যে, তিনি রিজাল হাওয়া রিজাল নামে একটি আন্ডারগ্রাউন্ড পার্টিতে যোগদান করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছিল, যার সংস্কার-ভিত্তিক ধারণা স্থানীয় রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। বৃদ্ধ ইবনে খালদুনকে গ্রেফতার করা হয়। মালিকি কাদি (বিচারক) পদে ষষ্ঠ নির্বাচনের এক মাস পর ১৪০৬ সালের ১৭ মার্চ তিনি মারা যান।

সাননিউজ/ইউকে]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 27 May 2025 07:13:53 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিন]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/112104" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/112104</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম; যার গান কবিতা গল্পে বার বার উঠে এসেছে বিদ্রোহের সুর এবং মেহনতি মানুষের আর্তনাত। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালের ২৪শে মে ব্রিটিশ ভারতবর্ষের বাংলা প্রেসিডেন্সির চুরুলিয়া গ্রামে (বর্তমান ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার জামুরিয়া ব্লকের চুরুলিয়া গ্রাম) জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন কাজী ফকির আহম্মেদ ও জাহেদা খাতুনের ষষ্ঠ সন্তান। বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলাম এলাকায় &lsquo;দুখু মিয়া&rsquo; নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন।

শৈশবে প্রারম্ভিক শিক্ষা শুরু করলেও ১৯০৮ সালে মাত্র ৯ বছর বয়সে কাজী নজরুল ইসলাম পিতৃহারা হলে অভাব অনটনের বশবর্তী হয়ে তার শিক্ষাগ্রহণে ভাটা পড়ে। এই সময় কাজী বজলে করীম চাচার অধীনে কিছুদিন লেখাপড়া শেখেন পরে স্থানীয় মক্তবে কুরআন, ইসলাম ধর্ম, দর্শন, ইসলামী ধর্মতত্ত্ব অধ্যায়ন শুরু করেন। এসময় মক্তবে নিম্ন মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উক্ত মোক্তবেই শিক্ষকতার কাজ শুরু করেন।

পিতার মৃত্যুর পর পারিবারিক অভাব-অনটনে শিক্ষাজীবন বাঁধাগ্রস্থ হয়ে মাত্র দশ বছর বয়সেই কর্মজীবন শুরু করতে বাধ্য হন। মক্তবে শিক্ষকতার কাজ শুরু করার পাশাপাশি হাজী পালোয়ানের কবরের সেবক ও মসজিদের মুয়ানযিন হিসেবে কাজ শুরু করেন। এসব কাজের মধ্য থেকেই পরবর্তীকালে সাহিত্য কর্মে বিপুলভাবে আকৃষ্ঠ হয়ে পড়েন। তবে বাল্য বয়সের স্থানীয় লোকসঙ্গীতের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার বশবর্তী হয়েই লেটো (ভাম্রমান নাট্য দল) দলে যোগদান করেন। তারপর প্রথম বিশ্বযুদ্ধ প্রাককালে সৈন্যদলে যোগদান করেন। এছাড়া মোক্তবে শিক্ষকতার কাজের পাশাপাশি সাংবাদিকতাও করেন।

সমসাময়িক পেক্ষাপট- বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রাকপালে তার মনকে ভারাক্রান্ত না করে সকল মানবজাতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত থেকে নিজস্ব স্বাধীন মতবাদকে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। তার &lsquo;আমার কৈফিয়ৎ&rsquo; কবিতা তারই ফলশ্রুতি। তিনি সদাসর্বদা মানুষের সমান অধিকার ও সম্ভবনা, মানুষের চিরন্তন আশা, সুখ-দুঃখ, প্রেম-প্রীতি, বীর-বীরত্বের প্রতি জোর দিয়ে একের পর এক কবিতা রচনা করে গেছেন। তাই তাকে &lsquo;মানুষের কবি&rsquo; বলেও আখ্যায়িত করা হয়।

মানবিক গুনসম্পন্ন কবিচিত্ত মানুষের উপরে নির্যাতন, শোষণ ও অবিচারের প্রতিবাদ করেছেন তার প্রতিবাদের সুর লেখনীর মাধ্যমে। তিনি অরাজনৈতিক ভাবেই বিদ্রোহের উচ্চকণ্ঠে জাগরিত হয়ে মানুষের মনে প্রতিবাদের জয়গান জাগিয়ে তুলতে চেয়েছেন। অগ্নিবীর (১৯২২), ভাঙার গান (১৯২৪) ও বিষের বাঁশি&rsquo;র (১৩৩১) মতো লেখনী তারই ফলশ্রুতি।

ঠিক রবির কিরণ যখন মধ্য গগনে তখন রবি তাপে হারিয়ে না গিয়ে বিদ্রোহীর বার্তা উঁচিয়ে লেখনীর মধ্যে নিয়ে এলেন অপ্রতিম প্রতিভা। যার সাহিত্য কৃতি দুই বাংলার মানুষকে দিয়েছেন অনাবিল প্রেম-প্রীতি, সাম্যবাদী নজরুল গীতি। দোলনচাঁপা (১৯২৭), চক্রবাক (১৯২৯), সিন্ধু হিল্লোল (১৯২৭), অগ্নিবীণা (১৯২২)-র মতো রচনা সংকলন ছাড়াও ১৯২২ সালের ব্যথার দান, যুগবাণীর মতো গল্প সংকলন প্রভূত খ্যাতি এনে দিয়েছিল।

নজরুল ইসলাম &lsquo;ধুপছায়া&rsquo; নামে একটি চলচ্চিত্র পরিচালনাও করেন। এছাড়া পাতালপুরী, গোরা, রজতজয়ন্তী, সাপুড়ে, নন্দিনী, অভিনয় -এর মতো কয়েকটি নামকরা চলচ্চিত্রের গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন। বলাবাহুল্য চৌরঙ্গী হিন্দিতে নির্মিত হলেও সেটার জন্য তিনি ৭টি হিন্দি গানও লেখেন।

১৯৪৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃক বাংলা সাহিত্যর &lsquo;জগত্তারিণী স্বর্ণপদক&rsquo; পাওয়ার পর ১৯৬০ সালে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মভূষণে ভূষিত হন। এছাড়া ২০১২ সালে আসানসোলে কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে, তার নামকে গুরুত্ব দিয়ে দুর্গাপুরে &lsquo;কাজী নজরুল ইসলাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর&rsquo; নামকরণ করা হয়েছে। তার পাশাপাশি কাজী নজরুল ইসলাম সরণী ও মেট্রো স্টেশনেরও নামকরণ করা হয়েছে।

১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ রাষ্ট্র নজরুলকে দেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে &lsquo;একুশে পদকে&rsquo; ভূষিত করে। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাহাকে সাম্মানিক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করেন। এছাড়া নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। ২০০৫ সালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেন।

শেষ বয়সে দীর্ঘদিন বাকরুদ্ধ অবস্থায় অনেক কষ্টে দিনপাত করতে করতে বুকে তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে ঢাকার পিজি হাসপাতালে ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দের ২৯শে আগস্ট পরলোক গমন করেন।

সাননিউজ/ইউকে

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 25 May 2025 09:12:18 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[সমাজ সংস্কারক রাজা রামমোহন রায়ের জন্মদিন আজ]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/112093" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/112093</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[রাজা রামমোহন রায় (২২ মে ১৭৭২ &ndash; ২৭ সেপ্টেম্বর ১৮৩৩) একজন ভারতীয় সমাজ সংস্কারক। তিনি ১৮২৮ সালে ভারতীয় উপমহাদেশের একটি সামাজিক-ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন ব্রাহ্মসভার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর তাকে রাজা উপাধি দিয়েছিলেন। রাজনীতি, জনপ্রশাসন, শিক্ষা ও ধর্মের ক্ষেত্রে তার প্রভাব ছিল স্পষ্ট। তিনি সতীদাহ প্রথা এবং বাল্যবিবাহ বাতিলের প্রচেষ্টার জন্য পরিচিত ছিলেন। অনেক ইতিহাসবিদ রামমোহন রায় কে &quot;ভারতীয় রেনেসাঁর জনক&quot; বলে মনে করেন।

২০০৪ সালে, বিবিসির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির জরিপে রামমোহন ১০ম স্থানে ছিলেন।

১৭৭২ সালের ২২ মে হুগলি জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ব্রাহ্মণ পরিবারে রামমোহন রায়ের জন্ম হয়েছিল। তার পিতা রামকান্ত ছিলেন একজন বৈষ্ণব, তার মা ফুলঠাকুরানী দেবী ছিলেন শৈব পরিবারের। তিনি সংস্কৃত, ফার্সি এবং ইংরেজি ভাষার একজন মহান পণ্ডিত ছিলেন এবং আরবি, ল্যাটিন এবং গ্রীক ভাষাও জানতেন।

পনেরো-ষোলো বছর বয়সে তিনি গৃহত্যাগ করে নানা স্থান ভ্রমণ করেন। কাশীতে ও পাটনায় কিছুকাল অবস্থান করেন। এছাড়া তিনি নেপালে গিয়েছিলেন। এর আগে তার সঙ্গে তন্ত্রশাস্ত্রবেত্তা সুপণ্ডিত নন্দকুমার বিদ্যালঙ্কারের (পরে হরিহরানন্দ তীর্থস্বামী কুলাবধূত নামে পরিচিত) যোগাযোগ হয়। নন্দকুমারের সহযোগিতায় রামমোহনের সংস্কৃত ভাষায় পাণ্ডিত্য হয়, তার বেদান্তে অনুরাগ জন্মে। ব্রাহ্ম উপাসনালয় প্রতিষ্ঠায় হরিহরানন্দই তার দক্ষিণ-হস্ত ছিলেন। বারাণসী থেকে সংস্কৃত ভাষা শিক্ষার পর তিনি পাটনা থেকে আরবি ও ফারসি ভাষা শেখেন। পরে তিনি ইংরেজি, গ্রিক ও হিব্রু ভাষাও শেখেন।

তরুণ বয়সে তিনি কলকাতায় মহাজনের কাজ করতেন। ১৭৯৬ সালে রামমোহন অর্থোপার্জন শুরু করেন। ১৮০৩ থেকে ১৮১৪ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারী ছিলেন। কলকাতায় প্রায়ই আসতেন এবং কোম্পানির নবাগত অসামরিক কর্মচারীদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে তাদের নানা বিষয়ে সাহায্য করতেন। এই সুযোগে ভালো করে ইংরেজি শিখে নেন।

১৮১৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে রামমোহন কলকাতার স্থায়ী বাসিন্দা হন, তখন থেকেই প্রকাশ্যে তার সংস্কার-প্রচেষ্টার শুরু। তার প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ ফারসি ভাষায় লেখা তুহফাতুল মুহাহহিদিন। বইটিতে একেশ্বরবাদের সমর্থন আছে। এরপর একেশ্বরবাদ (বা ব্রহ্মবাদ) প্রতিষ্ঠা করার জন্য বেদান্ত-সূত্র ও তার সমর্থক উপনিষদগুলি বাংলায় অনুবাদ করে প্রচার করতে থাকেন। ১৮১৫ থেকে ১৮১৯ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে প্রকাশিত হয় বেদান্তগ্রন্থ, বেদান্তসার, কেনোপনিষদ, ঈশোপনিষদ, কঠোপনিষদ, মাণ্ডূক্যোপনিষদ ও মুণ্ডকোপনিষদ। রক্ষণশীল ব্যক্তিরা তার এ কাজের প্রতিবাদ করেন। &#39;বেদান্ত গ্রন্থ&#39; প্রকাশের সঙ্গে তিনি ব্রহ্মনিষ্ঠ একেশ্বর উপাসনার পথ দেখালেন আত্মীয় সভা প্রতিষ্ঠা করে। এই আত্মীয় সভাকেই পরে তিনি ব্রাহ্মসমাজ নাম ও রূপ দেন। সাহেবদের বাংলা শেখানোর জন্য তিনি বাংলা ও ইংরেজিতে ব্যাকরণ রচনা করেন।

বেদান্ত-উপনিষদগুলি বের করবার সময়ই তিনি সতীদাহ অশাস্ত্রীয় এবং নীতিবিগর্হিত প্রমাণ করে পুস্তিকা লিখলেন &#39;প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ&#39;। প্রতিবাদে পুস্তিকা বের হল &#39;বিধায়ক নিষেধকের সম্বাদ&#39;। তার প্রতিবাদে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুস্তিকা বের হয়। এই বছরেই ডিসেম্বর মাসে আইন করে সহমরণ-রীতি নিষিদ্ধ করা হয়। তবুও গোঁড়ারা চেষ্টা করতে লাগল যাতে পার্লামেন্টে বিষয়টি পুনর্বিবেচিত হয়। এই চেষ্টায় বাধা দেওয়ার জন্য রামমোহন বিলেত যেতে প্রস্তুত হলেন। এ ব্যাপারে তাকে আর্থিক সহায়তা দান করেন প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। মোঘল সম্রাট ২য় আকবর তার দাবি ব্রিটিশ সরকারের কাছে পেশ করার জন্য ১৮৩০ সালে রামমোহনকে বিলেত পাঠান, তিনি রামমোহনকে রাজা উপাধি দেন।

বেদান্তচন্দ্রিকার প্রতিবাদে রামমোহন ভট্টাচার্যের সঙ্গে বিচার লিখে প্রতিবাদীদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। বেদান্ত গ্রন্থ প্রকাশের সঙ্গে তিনি ব্রহ্মনিষ্ঠ একেশ্বর উপাসনার পথ দেখান আত্মীয় সভা প্রতিষ্ঠা করে। এই আত্মীয় সভাকেই পরে তিনি ব্রাহ্মসমাজ নামে নতুন রূপ দেন।

১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ নভেম্বর তিনি কলকাতা থেকে বিলেত যাত্রা করেন। দিল্লির বাদশাহ দ্বিতীয় আকবর তাকে &#39;রাজা&#39; উপাধি দেন। ১৮৩২ খ্রিষ্টাব্দের শেষের দিকে কিছুদিনের জন্য তিনি ফ্রান্সেও গিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন আধুনিক ভারতের সমাজ সংস্কারের অন্যতম পথিকৃৎ।

রামমোহন রায় সামাজিক কুফলগুলির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য এবং ভারতে সামাজিক ও শিক্ষাগত সংস্কার প্রচারের জন্য আত্মীয় সভা এবং একতাবাদী সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

১৮২৮ সালে, তিনি ব্রাহ্ম সভা স্থাপন করেন, সামাজিক মন্দের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সংস্কারবাদী বাঙালি ব্রাহ্মণদের একটি আন্দোলন।

রামমোহন রায় বিশ্বাস করতেন শিক্ষা সমাজ সংস্কারের একটি বাস্তবসম্মত হাতিয়ার। ১৮১৭ সালে, ডেভিড হেয়ারের সহযোগিতায় তিনি কলকাতায় হিন্দু কলেজ স্থাপন করেন। ১৮২২ সালে অ্যাংলো-হিন্দু স্কুলের চার বছর পরে (১৮২৬) বেদান্ত কলেজে; তিনি জোর দিয়েছিলেন যে তার একেশ্বরবাদী মতবাদের শিক্ষাগুলি &quot;আধুনিক, পাশ্চাত্য পাঠ্যক্রম&quot; এর সাথে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ১৮৩০ সালে, তিনি রেভারেন্ড আলেকজান্ডার ডাফকে সাধারণ পরিষদের ইনস্টিটিউশন (বর্তমানে স্কটিশ চার্চ কলেজ নামে পরিচিত) প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করেছিলেন। তিনি ভারতীয় শিক্ষায় পাশ্চাত্য শিক্ষার অন্তর্ভুক্তি সমর্থন করেন। তিনি পাশ্চাত্য ও ভারতীয় শিক্ষার সংশ্লেষণ হিসেবে কোর্স অফার করে বেদান্ত কলেজও স্থাপন করেন।

তার সবচেয়ে জনপ্রিয় পত্রিকা ছিল সংবাদ কৌমুদী। এটি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, ভারতীয়দের চাকরির উচ্চ পদে অন্তর্ভুক্ত করা এবং নির্বাহী ও বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের মতো বিষয়গুলিকে কভার করে।

ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যখন সংবাদমাধ্যমে মুখ থুবড়ে পড়ে, তখন রাম মোহন যথাক্রমে ১৮২৯ এবং ১৮৩০ সালে এর বিরুদ্ধে দুটি স্মারক রচনা করেন।

১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ নভেম্বর তিনি কলকাতা থেকে বিলেত যাত্রা করেন। ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দের ৮ এপ্রিল রামমোহন লিভারপুলে পৌঁছান। ১৮৩২ খ্রিষ্টাব্দের শেষের দিকে কিছুদিনের জন্য তিনি ফ্রান্সেও গিয়েছিলেন। সেখানে ফরাসি সম্রাট লুই ফিলিপ কর্তৃক তিনি সংবর্ধিত হন। সেখান থেকে ফিরে এসে তিনি ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে বসবাস করতে থাকেন। ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে মেনিনজাইটিস রোগে আক্রান্ত হন এবং প্রায় ৮ দিন জ্বরে ভুগে ২৭ সেপ্টেম্বর মৃত্যবরণ করেন। তার মৃত্যুর দশ বৎসর পর দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর &#39;আনসার ডেল&#39; নামক স্থানে তার সমাধিস্থ করে একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করে দেন। ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দে মধ্য ব্রিস্টলে তার একটি মূর্তি স্থাপন করা হয়।

সূত্র: উইকিপিডিয়া

সাননিউজ/ইউকে

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 22 May 2025 07:20:51 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[আজ ইংরেজ কবি আলেকজেন্ডার পোপের জন্মদিন]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/112081" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/112081</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[আলেকজেন্ডার পোপ (২১ মে ১৬৮৮ &ndash; ৩০ মে ১৭৪৪) অষ্টাদশ শতকের একজন ইংরেজ কবি। ব্যঙ্গাত্মক ও প্রহসনমূলক লেখার জন্য তিনি জনপ্রিয়। ইংরেজি সাহিত্যের হিরোয়িক কাপলেট ধাঁচের লেখার জন্য তিনি বিখ্যাত। &lsquo;দ্যা অক্সফোর্ড ডিকশনারি অব কোটেশানে&rsquo; সেক্সপিয়ারের পর সবচেয়ে বেশি সংখ্যক কোটেশান তার লেখা থেকে নেয়া হয়েছে। তিনিই প্রথম মহাকাব্য ইলিয়াডের ইংরেজিতে অনুবাদ করেন।

আলেকজেন্ডার পোপের পিতার নাম আলেকজেন্ডার পোপ সিনিয়র (১৬৪৬ &ndash; ১৭১৭)। তিনি ছিলেন একজন কাপড় ব্যবসায়ী। লন্ডনের লম্বার্ড স্ট্রীটে তার দোকান ছিল। তার মাতার নাম এডিথ (নি টার্ণার) (১৬৪৩-১৭৩৩)। তারা দুজনেই ছিলেন রোমান ক্যাথলিক। সেই সময় ক্যাথলিকদের উপর আরোপিত টেস্ট এ্যাক্ট এর কারণে শৈশবে পোপের লেখাপড়া ব্যাহত হয়। সেই সময়ে এই আইনের আওতায় ক্যাথলিকদের জন্য শিক্ষকতা, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, ভোটপ্রদান অথবা জনপ্রতিনিধি হওয়ার অধিকার রহিত করা হয়। পোপ এই সময় তার মাসির কাছে লেখাপড়া শুরু করেন। পরে তিনি দুইটি ক্যাথলিক স্কুলে পড়াশোনা করেন। অবৈধ হলেও লন্ডনের কিছু কিছু জায়গায় এ ধরনের স্কুল ছিল। সেই সময় সমগ্র ইংল্যান্ড জুড়ে ক্যাথলিক বিদ্বেষ দানা বেঁধে উঠেছিল। প্রোটেস্ট্যান্টরা লন্ডন বা ওয়েস্ট মিনিস্টার শহরের ১৬ কি.মি. এর মধ্যে ক্যাথলিক বসতি স্থাপনের বিরোধিতা করত। এই কারণে ১৭০০ সালে পরিবারের সাথে তিনি রয়েল উইন্ডফরেস্ট এর কাছে বিনফিল্ড এর পোপসউড এ চলে আসেন। গ্রামাঞ্চলের- তার নতুন আবাস্থলের বর্ণনা তার &lsquo;উইন্ডসর ফরেস্ট&rsquo; কবিতায় পাওয়া যায়। বিনফিল্ডে আসার পর তার আনুষ্ঠানিক শিক্ষা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন সাহিত্যের ক্লাসিক লেখাগুলো পড়তে শুরু করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন জিফরি চসার, উইলিয়াম সেক্সপিয়ার, হোমার, ভার্জিল, হোরাক ও জুভেনাল। বিনফিল্ডে তার প্রচুর বন্ধু ও শুভাকাঙ্খি তৈরী হয়। যারা পরবর্তিতে তার জীবনে বিভিন্নভাব অবদান রেখেছিলেন। জন ক্যারিল ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি পোপের চেয়ে ২০ বছর বড় ছিলেন। তরুণ পোপকে তিনি নাট্যকার উইলিয়াম উইচারলি এবং কবি উইলিয়াম ওয়ালস এর সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। পোপের প্রথম এবং গুরুত্বপূর্ণ লেখাটি তারা সম্পাদনা করেছিলেন।

১৭০৯ সালের মে মাসে তার লেখা প্যাস্টোরালস্ প্রকাশিত হয়। এই লেখা রাতারাতি তাকে খ্যাতি এনে দেয়। ১৭১১ সালে প্রকাশিত হয় এসে অন ক্রিটিসিজম। এই লেখাটিও সমানভাবে সমাদৃত হয়।

১৭১১ সালের দিকে জন গে, জোনাথন সুইফট, থমাস পার্ণেল এবং জন আরবাটনট কে সাথে নিয়ে গড়ে তোলেন স্ক্রিবিলারুস ক্লাব। ব্যঙ্গাত্মক সাহিত্যে এই ক্লাবের সদস্যদের অবদান ছিল। এরপর তিনি গ্রিক মহাকাব্য হোমারের ইলিয়াড এর ইংরেজি অনুবাদের কাজে হাত দেন। পরিশ্রমসাধ্য এই কাজটি তিনি শুরু করেন ১৭১৫ সালে এবং শেষ করেন ১৭২০ সালে। হোমারের অনুবাদকর্ম থেকে তার কিছু অর্থ সমাগম হয়। সেই টাকা দিয়ে তিনি ১৭১৯ সালে টুইকেনহামে &lsquo;গ্রটো এন্ড গার্ডেন&rsquo; নামে সুড়ঙ্গ এবং বাগানসহ একটি দৃষ্টি নন্দন ভিলা নির্মাণ করেন। সুদৃশ্য মার্বেল পাথর ও স্ফটিক দিয়ে সাজানো হয়েছিল এই প্র&zwnj;মোদ ভিলাটি। বাগান আর বাড়িটি পুরোপুরি ধ্বংস হলেও সুরঙ্গটি র&zwnj;্যাডনর হাউজ ইনডিপেনডেন্ট কো-এড স্কুলের নিচে এর অস্তিত্ব এখনও আছে। মাঝে মাঝে স্থান&zwnj;টি দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হয়। পোপের সর্বাধিক জনপ্রিয় কবিতা হল &lsquo;দ্যা রেপ অব দ্যা লক&rsquo; প্রথম প্রকাশিত হয় ১৭১২ সালে। এটি একটি ব্যঙ্গাত্মক লেখা। উচ্চবংশীয়দের মধ্যে কলহ-বিবাদ ছিল এই কাব্যের মূল উপজিব্য। তার আর একটি রচনা, &lsquo;এসে অন ম্যান&rsquo; একটি দার্শনিক কাব্য। প্রকাশিত হয় ১৭৩২ থেকে ১৭৩৪ সালের মধ্যে।

১৭৪৪ সালের ৩০ শে মে টুইকেনহামের নিজ ভিলায় তিনি মারা যান। টুইকেনহামের চার্চ অব ইংল্যান্ডের সেন্ট মেরী দ্যা ভর্জিন এর সমাধিক্ষেত্রে তাকে সমাধিস্থ করা হয়।

সূত্র: উইকিপিপিডিয়া

সাননিউজ/ইউকে

 

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 21 May 2025 07:14:47 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[আজ জন স্টুয়ার্ট মিলের জন্মদিন]]></title>
            <link rel="alternate" href="https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/112066" />
            <id>https://www.sunnews24x7.com/news/article/feature/112066</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Sunnews Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[জন স্টুয়ার্ট মিল (জন্ম: ২০ মে, ১৮০৬ - মৃত্যু: ৮ মে, ১৮৭৩) ছিলেন একজন ইংরেজ দার্শনিক, রাজনীতিক, অর্থনীতিবিদ এবং সরকারী চাকরিজীবী। উদারনীতিবাদের ইতিহাসের ক্ষেত্রে অন্যতম মহা-প্রভাবশালী চিন্তাবিদ, তিনি সামাজিক তত্ত্ব, রাজনৈতিক তত্ত্ব এবং রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ্যাতে বড় অবদান রেখেছেন। তাকে ঊনবিংশ শতকের সবচেয়ে প্রভাববিস্তারকারী ইংরেজিভাষী দার্শনিকরূপে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। মিলের স্বাধীনতাবিষয়ক মতবাদটিতে অসীম রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বিপক্ষে ব্যক্তির স্বাধীনসত্ত্বাকে প্রাগ্রাধিকারের ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

মিল ছিলেন উপযোগবাদের প্রবক্তা, একটি নৈতিক তত্ত্ব যেটি তার পূর্বসুরী দার্শনিক জেরেমি বেন্থাম উন্নত করেন, তিনি জেরেমি বেন্থাম এর নীতিগত তত্ত্ব উপযোগবাদের উন্নয়নে অগ্রসর হয়েছিলেন।

তিনি ছিলেন &#39;লিবারেল পার্টি&#39; নামক রাজনৈতিক দলের একজন সংসদ-সদস্য এবং তিনি দ্বিতীয় ব্যক্তি যে নারীদের জন্য ভোটাধিকার চান। হেনরি হান্ট ছিলেন প্রথম ব্যক্তি। মিল একজন অজ্ঞেয়বাদী ছিলেন।

লন্ডনের পেনটোনভিলে এলাকার রডনী স্ট্রীটে জন স্টুয়ার্ট মিল জন্মগ্রহণ করেন। স্কটিশ দার্শনিক, ইতিহাসবিদ এবং অর্থনীতিবিদ জেমস মিল এবং হ্যারিয়েট বুরো দম্পতির জ্যেষ্ঠ সন্তান ছিলেন তিনি। পিতার তত্ত্বাবধানে তিনি শিক্ষাগ্রহণ করেন। পিতার কঠোর শাসনের মধ্য দিয়ে তার বাল্য ও কৈশোর কাটে। মাত্র তিন বৎসর বয়সে তিনি গ্রিক ভাষা শিখতে শুরু করেন, তিন থেকে আট বৎসর বয়সে গ্রিক ও লাতিন ভাষা আয়ত্ত করা ছাড়াও উভয় ভাষায় লিখিত একাধিক গ্রন্থ পাঠ করেন। যে বয়সে অন্যান্য শিশুদের বিদ্যালয়ে পদচারণ শুরু হয় তিনি সে বয়সে এরূপ অসাধারণ কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। বারো বৎসর বয়সে তিনি গণিতের অন্তরকলন শিক্ষা ছাড়াও গবেষণামূলক বিজ্ঞান, সভ্যতার ইতিহাস, অর্থনীতি ও ইংরেজি সাহিত্যের ওপর অনেক গ্রন্থ অধ্যয়ন করেন। এছাড়া, জেরেমি বেন্থাম এবং ফ্রান্সিস প্ল্যাসের পরামর্শ ও সহযোগিতা তাঁর শিক্ষাজীবনে প্রভাব বিস্তার করে।

পিতা তার অসাধারণ প্রতিভা ও বুদ্ধিমত্তার স্ফূরণ দেখতে পান শৈশবকালেই। উপযোগবাদে তার ও বেন্থামের ভূমিকা উভয়ের মৃত্যু পরবর্তীকালে ব্যাপক প্রয়োগ ও প্রভাব বিস্তার করতে দেখা যায়। শৈশবেই অকালপক্ক চিন্তা-চেতনার জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন। আত্মজীবনীতে তার শিক্ষাজীবন সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন। তিন বছর বয়সে প্রাচীন গ্রীক ভাষা শিখেন। ৮ বছরের মধ্যেই এশপের উপকথা, জিনোফোনের আনাব্যাসিস, হিরোডোটাস সমগ্র সম্পন্ন করেন। এছাড়াও তিনি ইংরেজির ইতিহাস এবং অঙ্কশাস্ত্র শিখেন। তাকে ল্যাটিন ভাষা, ইউক্লিড এবং বীজগণিত শেখার জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষককে নিয়োগ দেয়া হয়।

১৮৬৫ থেকে ১৮৬৮ সালের মধ্যে স্টুয়ার্ট মিল সেন্ট এন্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লর্ড রেক্টররূপে দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে অর্থাৎ ১৮৬৫ থেকে ১৮৬৮ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের সিটি এন্ড ওয়েস্টমিনিস্টার এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাকে লিবারেল পার্টির সাথে প্রায়শঃই সম্পৃক্ত হতে দেখা যায়। এমপি থাকাকালীন মিল আয়ারল্যান্ড প্রসঙ্গে যথেষ্ট সোচ্চার ছিলেন।

১৮৬৬ সালে মিল যুক্তরাজ্যের সংসদের ইতিহাসে প্রথম সদস্যরূপে নারীর ভোটাধিকারের স্বপক্ষে প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। স্বাভাবিকভাবেই এ প্রস্তাবনায় ব্যাপক ও ধারাবাহিকভাবে বিতর্ক চলতে থাকে। এছাড়াও মিল শ্রমিক সংগঠন এবং খামার সমবায় সমিতির সামাজিক পুণর্গঠনের পক্ষে জোড়ালো ভূমিকা গ্রহণ করেন।

তিনি বিখ্যাত দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের গডফাদার ছিলেন।

মিল দেখতে পান যে, নারীসংক্রান্ত বিষয়াবলী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তিনি নারীদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে লিখতে শুরু করেন। এ প্রেক্ষিতে তিনি প্রারম্ভিক নারীবাদী হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। ১৮৬১ সালে লিখিত ও ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত দ্য সাবজেকশন অব উইমেন শীর্ষক নিবন্ধে নারীদের বৈধভাবে বশীভূতকরণ বিষয়ে ভুল প্রমাণের চেষ্টা করেন। এর ফলে তা সঠিকভাবে সমতাবিধান থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে।

বিবাহে নারীর ভূমিকা সম্বন্ধে কথা বলেন এবং এ সম্পর্কে সম্যক অবগত হয়ে তিনি এর পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। সেখানে নারীর জীবনধারণে তিনি তিনটি প্রধান দিকের কথা তুলে ধরেন। সেগুলো হলো- সমাজ ব্যবস্থা ও লিঙ্গভেদ, শিক্ষা এবং বিবাহ। নারীদের অধিকার আদায়ে তার ভূমিকা ও সমর্থন ছিল প্রচণ্ড যা তাকে নারীবাদের শুরুর দিকে বিখ্যাত করে তোলে। দ্য সাবজেকশন অব উইমেন বইটি ছিল শুরুর দিকে লেখা কোন পুরুষ লেখকের বই।

সূত্র: উইকিপিডিয়া

সাননিউজ/ইউকে]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 20 May 2025 08:38:34 +0000</updated>
        </entry>
    </feed>
